পটিয়া আওয়ামী লীগ নিয়ে তৃণমূলে ক্ষোভ, ভেঙে দেওয়া কমিটি পুনর্বহালের দাবি

অনলাইন ডেস্ক

পটিয়া আওয়ামী লীগ নিয়ে তৃণমূলে ক্ষোভ, ভেঙে দেওয়া কমিটি পুনর্বহালের দাবি

জাতীয় সংসদের হুইপ সামশুল হক চৌধুরীর জুলুম-নির্যাতনের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেছেন পটিয়া আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতারা। তিনি তার বশংবদ ‘এমপি লীগ’ প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে দলের নির্বাচিত কমিটি ভেঙে দিয়ে জামায়াত-হাইব্রিড-অনুপ্রবেশকারীদের ঠাঁই দিচ্ছেন। তার বিরুদ্ধে কেন্দ্রে অভিযোগের পাহাড় জমা পড়ছে। প্রভাব খাটিয়ে যেসব নেতাকে বাদ দেওয়া হয়েছে তাদের পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন তৃণমূল নেতারা।

গত সোমবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে পটিয়া উপজেলার ১৪ ইউনিয়নের পক্ষ থেকে একটি অভিযোগপত্র কেন্দ্রীয় নেতাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এতে নেতাদের স্বাক্ষর রয়েছে। 

এতে বলা হয়, ‘আমরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কাউন্সিলরদের প্রত্যক্ষ ভোটে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হই। নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে সাংগঠনিক নিয়মে গঠনতন্ত্র অনুসারে সাংগঠনিক এবং দলীয় সব কর্মকাণ্ড সুচারুরূপে পরিচালনা করে আসছি। পরিতাপের বিষয়, সম্প্রতি কোনো প্রকার সভা, সম্মেলন না করে এবং আমাদের কোনোরূপ চিঠি বা মৌখিকভাবে অবগত না করে উপজেলা আওয়ামী লীগ হঠাৎ করে অগঠনতান্ত্রিকভাবে পটিয়া উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়। আরও দুঃখের বিষয়, বিভিন্ন দল থেকে আগত অনুপ্রবেশকারী, পারিবারিকভাবে আওয়ামী লীগবিদ্বেষী, কট্টর সাম্প্রদায়িক ও অসাংগঠনিক ব্যক্তিদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক করে অন্যায়ভাবে কমিটি ঘোষণা করা হয়। যার দরুণ দলীয় ভাবমূর্তি ভীষণভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে।’

সূত্রমতে, পটিয়া উপজেলার ১৪ নম্বর ভাটিখাইন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন সন্তোষ কুমার বড়ুয়া। ৭৪ বছর বয়সী এই সাবেক স্কুলশিক্ষক কয়েক দশক ধরে আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত। তিনি স্থানীয় নলিনীকান্ত মেমোরিয়াল উচ্চবিদ্যালয়ে শিক্ষকতার পাশাপাশি আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করতে কাজ করতেন। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ভাটিখাইন ইউনিয়নে হাতে গোনা যে দু-চার জন আওয়ামী লীগকে টিকিয়ে রেখেছিলেন তার অন্যতম সন্তোষ কুমার বড়ুয়া। সম্মেলনের মধ্য দিয়ে নির্বাচিত প্রবীণ এই নেতাকে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি পদ থেকে সরিয়ে জাতীয় পার্টি থেকে আসা এক নেতাকে পদায়ন করা হয়েছে। শুধু সন্তোষ কুমার বড়ুয়াই নন, চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ১৪ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কমিটি সাংগঠনিক নিয়মবহির্ভূতভাবে ভেঙে দিয়ে বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জামায়াত থেকে আসা অনেক নেতাকে নিয়ে নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুকে হারানোর শোকের মাস আগস্টে আওয়ামী লীগের কোনো স্তরেই কমিটি গঠনের রেওয়াজ না থাকলেও পটিয়ায় এমনটাই করা হয়েছে। সম্মেলনের মধ্য দিয়ে গঠিত ১৪টি ইউনিয়ন কমিটি ২০১৯ সালের আগস্টে ভেঙে দিয়ে নতুন কমিটি ঘোষণা হয়। এমন কাণ্ডের পেছনের ব্যক্তিটি হলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ সামশুল হক চৌধুরী।

হুইপ সামশুল, তার দুই ভাই ও এক ছেলের বিরুদ্ধে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের অভিযোগের অন্ত নেই। মতের অমিল হলেই পুরনো ত্যাগী আওয়ামী লীগ নেতাদের নির্যাতন ও অপমান, জবরদখল, দলীয় পদ বাণিজ্য, অনিয়ম-দুর্নীতির বহু অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে। সোমবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে পটিয়া আওয়ামী লীগের নেতারা নানা অভিযোগ তুলে ধরেন। ১৪ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপনের কাছে লিখিত অভিযোগও দেন। জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেন, ‘কিছু অভিযোগ পেয়েছি। আমরা তদন্ত করছি। তদন্তের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সামশুল হকের সঙ্গে মতের অমিল হওয়ায় পটিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে যোগসাজশে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা উপেক্ষা করে ১৪ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়। ২০১৯ সালের আগস্টে এ কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন কমিটি গঠন করা হয়। যদিও আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের কোনো পর্যায়ের কমিটিই শোকের মাস আগস্টে গঠন করা হয় না। নতুন গঠিত এসব কমিটিতে বিএনপি, জামায়াত ও জাতীয় পার্টি থেকে আসা অনেক নেতাকে গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হয়। অসাংগঠনিকভাবে কমিটি ভেঙে দেওয়া ও অনুপ্রবেশকারীদের কমিটিতে স্থান দেওয়ার বিষয়টি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের কাছে বিভিন্ন সময়ে জানিয়েছেন তৃণমূল নেতারা।

কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে পাঠানো অভিযোগপত্রে পটিয়ার বিভিন্ন ইউনিয়নের ১৩ জন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষর রয়েছে। এর মধ্যে বেশ কজনের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তারা জানান, কেন্দ্রীয় নেতারা অভিযোগগুলো আমলে নিয়েছেন। তারা সম্মেলনের মাধ্যমে নির্বাচিত কমিটি পুনর্বহাল হবে বলে জানিয়েছেন। সামশুল হকের অনুসারীদের নিয়ে গঠিত কমিটিগুলো ভেঙে দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতারা।

কমিটি ভেঙে দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে কোলাগাঁও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভেঙে দেওয়া কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ হারুন বলেন, ‘পুরনো ও ত্যাগী আওয়ামী লীগের নেতারা টাকাপয়সার লোভ করেন না। তারা দল নিয়ে ভাবেন, দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় কাজ করেন। টানা তিন মেয়াদে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকায় সুবিধাবাদী লোক ঢুকে গেছে। তারা আমাদের মতো পুরনো নেতাদের কারণে অপকর্ম করতে পারেন না। সেজন্য আমাদের বাদ দিয়ে নতুন কমিটি গঠন করেছিল।’

কমিটি ভেঙে দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে খেপে যান হুইপ সামশুল হকের ঘনিষ্ঠ সহযোগী পটিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আ ক ম শামসুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘এটা আপনার জানার প্রয়োজন কী? এখানে আমার দলের ভালোমন্দ আমি বুঝতেছি। যেটা ভালো সেটা করতেছি।’

সোমবার দুপুরে সার্কিট হাউসে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে হুইপ সামশুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে ধরেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক দিদারুল আলম চৌধুরী। প্রবীণ এই নেতা বলেন, ‘সামশুল হক চৌধুরী নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ড করে দলকে বিতর্কিত করছে। তার কর্মকাণ্ডে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে।’

এ সময় তিনি সামশুল হকের নানা অপকর্মের কথা তুলে ধরতে চাইলে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন তাকে থামিয়ে দেন। সভায় আরও কয়েকজন নেতা সামশুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ধরতে চেয়েছিলেন। কিন্তু দিদারুল আলমকে থামিয়ে দেওয়ায় অন্যরা আর কথা বলেননি। তবে ১৪ ইউনিয়নের সম্মেলনের মাধ্যমে নির্বাচিত আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপনের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন।

news24bd.tv / তৌহিদ

পরবর্তী খবর

শোকাবহ আগস্টের প্রথম প্রহরে সেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের মোমবাতি প্রজ্জালন

অনলাইন ডেস্ক

শোকাবহ আগস্টের প্রথম প্রহরে সেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের মোমবাতি প্রজ্জালন

শোকাবহ আগস্টের প্রথম প্রহরে (১২টা ১ মিনিটে) জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, মোমবাতি প্রজ্জ্বলন ও আলোর মিছিল করেছে আওয়ামী সেচ্ছাসেবক লীগ ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। প্রতি বছরের মতো এবারও ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে ১৫ আগস্টে নিহত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুসহ সকল শহিদের স্মরণে এই কর্মসূচি পালন করেছে সংগঠন দুটির নেতাকর্মীরা।

সেচ্ছাসেবক লীগের অনুষ্ঠানে নেতৃত্ব দেন সংগঠনের সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ ও সাধারণ সম্পাদক এ কে এম আফজালুর রহমান বাবু। এ সময় সহ-সভাপতি গাজী মেজবাহুর হোসেন সাচ্ছু, ঢাকা মহনগর দক্ষিণ সেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি কামরুল হাসান রিপন, সাধারণ সম্পাদক তারিক সাইদসহ কেন্দ্রীয় নগরের নেতারক উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:


বিএনপি-জামায়াত-হেফাজত করোনার মতো বারবার রূপ পরিবর্তন করছে: বাহাউদ্দিন নাছিম

টিকা নেয়ার পরেও করোনা পজিটিভ ফারুকী

স্বামীর পর্নকাণ্ড: মানহানির মামলা নিয়ে শিল্পাকে আদালতের ভর্ৎসনা


 

অন্যদিকে ছাত্রলীগের কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন সংগঠনের সভাপিত আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারন সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য। এ সময় ছাত্রলীগর কেন্দ্রীয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

মির্জা ফখরুলরা দেশের কোন উন্নয়ন চোখে দেখতে পায় না : নানক

নিজস্ব প্রতিবেদক

মির্জা ফখরুলরা দেশের কোন উন্নয়ন চোখে দেখতে পায় না : নানক

বিএনপি নেতাের বক্তব্যের সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট  জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেছেন, মির্জা ফখরুলরা যখন বলে দেশে অর্থনৈতিক ভাবে লুটপাট হচ্ছে, তখন আমার কাছে মনে হয় ভুতের মুখে রামনাম।  

শনিবার (৩১ জুলাই) বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপকমিটি আয়োজিত চট্টগ্রামে করোনা রোগী ও মরদেহ পরিবহনের জন্য গাউসিয়া কমিটির কাছে এম্বুলেন্স হস্তান্তর এবং করোনা সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি তার সরকারি বাসভবন থেকে যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন।     

জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, আজকে বিএনপি নেতারা বড় বড় কথা বলে, তারা দেশে একটা লুটের রামরাজ্য কায়েম করেছিল। সেই লুটেরারা বাংলাদেশকে সুখি- সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে দেখতে পাবে না। তাদের অন্ধচোখে তারা দেখতে পায় না। তারা লুটপাট করে দেশকে ধ্বংস করে দিয়ে গিয়েছিল। সেই দেশ জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আজকে অর্থনৈতিক ভাবে উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। মির্জা ফখরুলরা বাংলাদেশের কোনো উন্নয়ন চোখে দেখতে পায় না। 

তিনি বলেন, আজকে সারাবিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশও করোনায় আক্রান্ত। বাংলাদেশ কোনো বিচ্ছিন্ন দ্বীপ নয়, বাংলাদেশও করোনা আক্রমণ করছে। আল্লাহ তায়ালার অসীম কৃপায়, দেশের নেতৃত্বে রয়েছেন বঙ্গবন্ধুর কন্যা দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ জীবন ও জীবিকার উভয় একটা স্থিতিশীলতা রক্ষা করতে পেরেছে। সমস্ত উন্নত দেশগুলো যখন মুখ থুবড়ে পড়েছে, স্বাস্থ্যখাত যখন হতবিহ্বল হয়ে পড়েছে, সেই মূহুর্তে বাংলাদেশ জীবন ও জীবিকা উভয়ই স্থিতিশীল রেখে দেশ পরিচালনা করে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। অর্থনৈতিক প্রবাহ ঠিক রাখার জন্য একটি স্বাভাবিক পর্যায়ে লকডাউন দিয়ে চলছে দেশ। 

নানাক আরও বলেন, গত বছরের মার্চের মাঝামাঝিতে যখন বাংলাদেশ করোনা আঘাত হানে তখন থেকে আওয়ামী লীগ জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে সারাদেশের দুস্থ মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। লকডাউন পরিস্থিতিতেও আওয়ামী লীগের সকল সহযোগী সংগঠন মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। লকডাউনে কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষকে খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়েছে। বাড়িতে বাড়িতে খাদ্য পৌঁছে দিয়েছে। এমন কি মধ্যবৃত্ত শ্রেণি, নিম্ন মধ্যবৃত্ত শ্রেণির লোকজন রয়েছেন, যারা লাইনে এসে হাত পাততে পারে না মানবতার নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশ দিলেন রাতের অন্ধকারে তাদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিতে হবে। এই দুঃসাধ্য কাজও আওয়ামী লীগ দায়িত্বের সঙ্গে পালন করেছে।  

দলের সহযোগী সংগঠনের মানবিক কার্যক্রমের প্রশংসা করে যুবলীগের সাবেক এই চেয়ারম্যান আরও বলেন, গত বছর যখন ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল, লকডাউনে সারাদেশে যখন স্থবির হয়ে গিয়েছিল যখন কৃষক ধান কাটার কোনো শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছিল না, তখন মাননীয় নেত্রী শেখ হাসিনা এই দল ও এই দলের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছিলেন, মাঠ থেকে ধান কেটে কৃষকের গোলায় পৌঁছে দিতে হবে। এই কাজেও বাংলাদেশ কৃষক লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ দায়িত্ব পালন করেছে। 

করোনার ছোবলে মায়ের মৃত্যুতে সন্তান যখন কাছে যায় না, পিতার মৃত্যুতে সন্তান যখন কাছে যায় না তখন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সেই মরদেহ দাফন-কাফনের দায়িত্ব পালন করেছে বলেও যোগ করেন তিনি।

ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দীর পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল হোসেন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য অ্যাডভোকেট এবিএম রিয়াজুল কবির কাওছার, সৈয়দ আব্দুল আউয়াল শামীম। আরও উপস্থিত ছিলেন, উপকমিটির সদস্য ডা. হেদায়েতুল ইসলাম বাদল, আখলাকুর রহমান মাইনু, হাসিবুর রহমান বিজন, হারুনর রশীদ, আব্দুল বারেক,  মাহবুবুর রশীদ, আরিফুল্লাহ সরকার, আকাশ জয়ন্ত, ইঞ্জিনিয়ার আবুল কাশেম সিমান্ত, রাশেদুল ইসলাম, ঈদ্রিস আহমেদ মল্লিক, আমিনুল ইসলাম মাতুব্বর, তাজুল ইসলাম, ইমরান সোনার,  ফারুকুজ্জামানসহ অনেকে।

আরও পড়ুন:


জলাবদ্ধতার সাথে মশা, ব্যাঙ বিষাক্ত প্রাণীর সাথে বসবাস

দক্ষিণের পথে পথে ঢাকামুখি মানুষের স্রোত

বগুড়ায় করোনা ও উপসর্গে ৯ জনের মৃত্যু

বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর ১২ দিন পর চালু


news24bd.tv / কামরুল 

পরবর্তী খবর

বিএনপি এখন অপপ্রচার পার্টিতে রূপ নিয়েছে: কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপি এখন অপপ্রচার পার্টিতে রূপ নিয়েছে: কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি এখন অপপ্রচার পার্টিতে রূপ নিয়েছে। তারা অসহায় মানুষের পাশে না দাঁড়ানোর অক্ষমতা ঢাকতে মিথ্যাচার আর সরকারের বিরুদ্ধে অব্যাহত বিষোদগারকেই হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছে।

আজ সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। ওবায়দুল কাদের তার সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।

আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপকমিটি আয়োজিত চট্টগ্রামে করোনা রোগী ও মরদেহ পরিবহনের জন্য গাউসিয়া কমিটির কাছে অ্যাম্বুলেন্স হস্তান্তর এবং করোনা সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। 

ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি তাদের সংবিধান থেকে ৭ ধারা বাদ দিয়ে প্রমাণ করেছে আত্মস্বীকৃত দুর্নীতিবাজদের সংগঠন হচ্ছে বিএনপি। আর এই আপাদমস্তক দুর্নীতিগ্রস্ত বিএনপি যখন দুর্নীতি নিয়ে কথা বলে তখন মানুষের মুখে হাসি পায়। আত্মস্বীকৃত দুর্নীতিবাজ দলের এসব মুখরোচক কথার নৈতিক মানদণ্ড নিয়েও মানুষ পরিহাস করে।

বিএনপি নেতাদের কাছে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, তাদের শাসনামলে তারা কোনও স্বীকৃত দুর্নীতিবাজ নেতা-এমপি-মন্ত্রীর বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেওয়ার সাহস দেখাতে পেরেছিল? অন্যদিকে শেখ হাসিনার সে সৎসাহস আছে এবং তা করে দেখিয়েছেন। 

কাদের বলেন, অনিয়মকারী ও অপকর্মকারী যত বড়ই হন, শেখ হাসিনা সরকার কাউকে ছাড় দেয়নি। দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনা সরকারের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। যা ইতোমধ্যেই তিনি প্রমাণ করেছেন। 

তিনি বলেন, অন্যদিকে বিএনপির সময়ে দুর্নীতি আর অপকর্ম দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়েছিল। বিএনপির ছিল দুর্নীতি তোষণ নীতি আর দলীয়ভাবেই করা হতো দুর্নীতিবাজদের পৃষ্ঠপোষকতা। তাদের শাসনামল আর দুর্নীতি সমার্থক হয়ে গিয়েছিল।

আওয়ামী লীগের এই শীর্ষ নেতা বলেন, মেগা-প্রকল্প বাস্তবায়নে যাদের কোনও সাহস ও সক্ষমতা ছিল না তাদের মেগাপ্রকল্প দেখে ঈর্ষায় কাতর হওয়াই স্বাভাবিক। বড় প্রকল্প নিতে সাহস লাগে, লাগে সক্ষমতা এবং প্রয়োজন হয় দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন ও ভিশন।‌‌ বিএনপির ভিশন ছিল ক্ষমতার বিকল্প কেন্দ্র হাওয়া ভবন তৈরি করে চাঁদাবাজি আর লুটপাট করা।  

ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপ-কমিটিকে এ উদ্যোগ গ্রহণের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, আসুন সবাই মিলে একজন মানবিক ও দূরদর্শী নেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে করোনা মহামারি থেকে দেশবাসীর সুরক্ষায় দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, শোকাবহ আগস্টে দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে সারাদেশে অসহায় ও খেটে খাওয়া মানুষের পাশে দাঁড়ালে বঙ্গবন্ধুর আত্মা শান্তি পাবে। এই মহাদুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত, অসহায় ও ভাসমান মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে।

করোনার পাশাপাশি ডেঙ্গুও এখন সমস্যা হয়ে পড়েছে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি। 

আরও পড়ুন:


বিএনপি-জামায়াত-হেফাজত করোনার মতো বারবার রূপ পরিবর্তন করছে: বাহাউদ্দিন নাছিম

টিকা নেয়ার পরেও করোনা পজিটিভ ফারুকী

স্বামীর পর্নকাণ্ড: মানহানির মামলা নিয়ে শিল্পাকে আদালতের ভর্ৎসনা


আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানকের সভাপতিত্বে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, কেন্দ্রীয় কার্যকরী সদস্য রিয়াজুল কবির কাউছার ও সৈয়দ আবদুল আউয়াল শামীম প্রমুখ। 

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমানসহ গাউসিয়া কমিটির নেতৃবৃন্দ ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন।

পরে সর্বসাধারণের মাঝে করোনা সুরক্ষা সামগ্রী ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে লিফলেট বিতরণ করেন নেতৃবৃন্দ।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

বিএনপি-জামায়াত-হেফাজত করোনার মতো বারবার রূপ পরিবর্তন করছে: বাহাউদ্দিন নাছিম

নিজস্ব প্রতিবেদক


বিএনপি-জামায়াত-হেফাজত করোনার মতো বারবার রূপ পরিবর্তন করছে: বাহাউদ্দিন নাছিম

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেছেন, করোনাভাইরাস যেমন মিউটেশন করে বারবার রূপ পরিবর্তন করে, বিএনপি-জামায়াত-হেফাজতও তেমনই বারবার নিজেদের রূপ পরিবর্তন করছে। 

তিনি বলেন, এদের সুর নিয়মিত পরিবর্তন হয়। একই মানুষ একই মুখে ছয় থেকে বারো রকমের কথা বলেন। কখনো ভ্যাকসিন নিয়ে অপপ্রচারে ব্যস্ত, কখনো মাস্ক পরিধান নিয়ে বিভ্রান্ত করতে ব্যস্ত। লকডাউন নিয়ে তারা এক এক সময় এক এক কথা বলেন। আমাদের করোনা থেকে যেমন মুক্তি পেতে হবে, তেমন এই সাম্প্রদায়িক অপরাজনীতিবিদদের কাছ থেকে সচেতন থাকতে হবে।

আজ সকালে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে অসহায় দু:স্থ, দিনমজুরের মধ্যে বঙ্গবন্ধু কৃষিবিদ পরিষদের উদ্যোগে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

 প্রধান অতিথির বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু কৃষিবিদ পরিষদের মহাসচিব বলেন, যারা মানুষের জন্য রাজনীতি করে না, মানুষকে ভালোবাসে না, তারা গুজবের ফ্যাক্টরিতে বসে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে ব্যস্ত। তারা মাস্ক ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে, ভ্যাকসিন নিয়ে, লকডাউন নিয়ে অপপ্রচার করছে। তারা ভ্যাকসিন নিয়ে প্রথমে অপপ্রচারে ব্যস্ত ছিল, তারপর নিজেরাই ভ্যাকসিন নিয়েছে। বিভ্রান্তি আর গুজব ছড়ানোই তাদের রাজনীতি। যারা দুর্নীতিতে বিশ্ব খেতাবধারী তারা সত্যের পাশে যেতে পারেনি। তাদের সত্য বলার আহ্বান জানাই। করোনা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য সবার স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা উচিত, মাস্ক যথাযথভাবে পরা উচিত।

বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, করোনাভাইরাসের শুরু থেকেই বঙ্গবন্ধু কৃষিবিদ পরিষদ নানাবিধ কর্মসূচি পালন করে আসছে। করোনার প্রথম থেকেই আমাদের সম্মানিত সদস্যরা নিজেদের ফান্ডে মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। আমরা সাধ্যমতো মানুষের পাশে থাকবো। 

আরও পড়ুন


যেসব মারাত্মক ভুলে ছেলেদের চুল পড়ে

ফল খাওয়ার উপযুক্ত সময় কোনটি জেনে নিন

জাহাজে হামলার ঘটনায় ইরানকে দায়ী করল ইসরায়েল

নওগাঁয় হাত-পা বেঁধে নির্যাতনের শিকার প্রতিবন্ধী শিশুটির দায়িত্ব নিলেন পুলিশ সুপার


খাদ্য বিতরণের এ অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু কৃষিবিদ পরিষদের যুগ্ম মহাসচিব এম আমিনুল ইসলাম, কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনের মহাসচিব মো. খায়রুল আলম প্রিন্স, দপ্তর সম্পাদক এম মিজানুর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব মাকসুদ আলম মুকুট, কৃষিশিল্প ও বাণিজ্য সম্পাদক দেবাশীষ ভৌমিক, কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন ঢাকা মেট্রোর সাধরণ সম্পাদক তাসদিকুর রহমান সনেট প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। 

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

বিএসএমএমইউ’র সিসিইউতে সম্রাটের অবস্থার অবনতি

অনলাইন ডেস্ক

বিএসএমএমইউ’র সিসিইউতে সম্রাটের অবস্থার অবনতি

সিসিইউতে চিকিৎসাধীন যুবলীগ নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের অবস্থার অবনতি হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে বুকে তীব্র ব্যাথার সাথে তার হার্টের বিট অনেক দ্রুত ও অনিয়মিত হচ্ছে। সেটা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে। বর্তমানে বন্দী অবস্থায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিসিইউতে চিকিৎসাধীন আছের সম্রাট।

বিএসএমএমইউ’র একাধিক চিকিৎসক জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন সিসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট। কিছুদিন হলো বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিজন সেলে রাখা হয়েছিল। কিন্তু হৃদকম্পন দ্রুত ও অনিয়মিত হওয়ায় কিছুদিন হলো তাকে পুনরায় সিসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।

আরও পড়ুন:


বিট লবনের যত উপকার

ধানখেতে ৮ ফুট অজগর

সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের ম্যুরাল ভাঙচুরকারীদের গ্রেপ্তার দাবি হানিফের


 

এদিকে সম্রাটের পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন বন্দী থাকায় উন্নত চিকিৎসা না পেয়ে মৃত্যুর দিকে ধাবিত হচ্ছেন যুবলীগের এই নেতা।

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর