প্রস্রাবের ইনফেকশন কমান ঘরোয়াভাবে

অনলাইন ডেস্ক

প্রস্রাবের ইনফেকশন কমান ঘরোয়াভাবে

সারা দিনে আমরা যত পানি খাই তা আমাদের কিডনির মাধ্যমে ছেঁকে মূত্রনালি দিয়ে মূত্র হিসেবে বেরিয়ে যায়। প্রস্রাবের ইনফেকশনের কথা আমরা কম বেশি সবাই জানি। কিন্তু যাদের এই ইনফেকশন আছে তারা  জানে কি যন্ত্রণাদায়ক এই রোগ। এই সমস্যাটিকে ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন (ইউটিআই) বলা হয়। প্রস্রাবের ইনফেকশন হলে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। নারীদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। অনেকেই আবার প্রায়ই প্রস্রাবের ইনফেকশনে ভোগেন।

দীর্ঘ সময় এই স্বাস্থ্য সমস্যা থাকলে কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াসহ বেশ কিছু শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। ঘন ঘন ওষুধ না খেয়ে বরং ঘরোয়াভাবে এই সমস্যা সমাধান করার চেষ্টা করুন। প্রচুর পানি পান করার পাশাপাশি এমন কিছু খাবার খান যেগুলো প্রস্রাবের ইনফেকশন কমাবে।

পেঁপে
ভিটামিন সি সমৃদ্ধ এই ফলটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি প্রস্রাবে অ্যাসিডিটি বাড়ায়। ফলে ইনফেকশন তৈরিতে দায়ী ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে না।

ব্রোকলি
ব্রোকলিতে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন সি যা প্রস্রাবকে অ্যাসিডিক করে ইনফেকশনের জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে বাধা দেয়। পাশাপাশি এটি দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে ইনফেকশন থেকে মুক্তি মেলায়।

ক্রেনবেরি জুস
লাল রঙা জাম জাতীয় এই ফল প্রস্রাবের ইনফেকশন দূর করতে সাহায্য করে। এটি শরীর থেকে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া বের করে দেয়। ক্রেনবেরিতে বেটা ক্যারোটিন, লাইকোপেন ও অ্যান্টি অক্সিডেন্ট থাকে যা শরীরের জন্য উপকারী।

দারুচিনি
অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদানের কারণে শত শত বছর ধরেই সমাদৃত দারুচিনি। এটি শরীরে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া বেড়ে উঠতে বাধা দেয়। একটি গবেষণায় জানা গেছে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ইউরিন ইনফেকশন হওয়ার জন্য দায়ী ই. কোলি ভাইরাসকে প্রতিরোধ করে দারুচিনি।

মেনে চলুন কিছু বিষয়
প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। এতে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া শরীর থেকে বের হয়ে যাবে।

ইউরিন ইনফেকশন সেরে না উঠা পর্যন্ত চা-কফি, ক্যাফেইন বা অ্যালকোহল পান করবেন না। কারণ এগুলো মূত্রথলির আরো ক্ষতি করতে পারে।

জাম জাতীয় ক্রেনবেরি ছাড়াও ব্লু বেরি ফল পেলে খাবেন, এসব ফল প্রস্রাব ইনফেকশন দূর করতে উপকারি।

মসলাযুক্ত খাবার খাবেন না।

প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ খাবার যেমন দই খেলে উপকার পাবেন।

প্রস্রাবের ইনফেকশনের সময় অ্যাসিডিক ফল (লেবু, কমলালেবু) বেশি খেলে পরিস্থিতি আরো বিগড়ে যেতে পারে।

ডাক্তার প্রেসক্রাইব করলে অ্যান্টিবায়োটিক কোর্স পুরো শেষ করুন। ভালো বোধ করলেও অ্যান্টিবায়োটিক কোর্স শেষ করা জরুরি।

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

করোনাকালে ইমিউনিটি বাড়াবে মৌরি চা

অনলাইন ডেস্ক

করোনাকালে ইমিউনিটি বাড়াবে মৌরি চা

চায়ের কতই না বাহার। ব্ল্যাক টি, হোয়াইট টি, গ্রিন টি, ইয়েলো টি, মশলা চা, বিভিন্ন হার্বাল টি ও আরও কত কি! প্রত্যেকটি চায়ের মধ্যেই নিজস্ব গুণাগুণ বর্তমান। এর মধ্যে অন্যতম হল মৌরি চা। মৌরি চা কেবলমাত্র স্বাদেই ভাল নয়, পাশাপাশি এর মধ্যে অনেক ঔষধিগুণও বর্তমান। তাই, মৌরি চা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারি।

তাহলে দেখে নেওয়া যাক, কীভাবে মৌরি চা বানাবেন এবং এর উপকারিতা কী।

উপকরণ

১) পরিমাণমতো গরম জল ২) ১-২ চামচ মৌরি ৩) ১ চা চামচ মধু (অপশনাল)

মৌরি চা তৈরির পদ্ধতি

১) প্রথমে মৌরি হামানদিস্তা অথবা শিলনোড়া দিয়ে একটু গুঁড়ো করে নিন। ২) একটা বড় মগে গুঁড়ো করা মৌরি ঢেলে নিন। ৩) তারপর সেই মগে গরম জল ঢেলে ১০ মিনিট ঢাকা দিয়ে রাখুন, যাতে মৌরির নির্যাস ভালভাবে জলের মধ্যে মিশে যায়। ৪) তারপর সেই জল ছেঁকে নিন এবং ঈষদুষ্ণ অবস্থায় পান করুন। স্বাদ বাড়াতে এতে মধুও মিশ্রিত করা যেতে পারে

মৌরি চা এর উপকারিতা

১) হজমে সাহায্য করে এবং অম্বলের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দেয় মৌরি চা অম্বলের সমস্যা দূর করতে পারে। 

আরও পড়ুন:


এবার তিউনিসিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে বহিষ্কার করলেন প্রেসিডেন্ট

আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে যেসব কাজে প্রতিযোগিতা করা উচিত

ফজিলতপূর্ণ সূরা আল নাস

টি-স্পোর্টসে আজকের খেলা

২) অনাক্রম্যতা বৃদ্ধি করে মৌরি চায়ে শক্তিশালী অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল, অ্যান্টিসেপটিক এবং অ্যান্টিফাঙ্গাল বৈশিষ্ট্য বর্তমান, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে তুলতে সাহায্য করে। নিয়মিত মৌরি চা পান করলে ঠান্ডা লাগা, ফ্লু-এর হাত থেকে রক্ষা করতে পারে।

৩) শরীর ডিটক্সিফাই করে মৌরি চা কিডনি এবং লিভার সুস্থ রাখে, রক্ত পরিষ্কার করে এবং সম্ভাব্য মূত্রবর্ধক হিসেবেও কাজ করে। এটি রক্ত এবং কিডনি থেকে নিষ্কাশিত অতিরিক্ত টক্সিন শরীর থেকে বের করে দেয়। এমনকি মৌরি চা কিডনি স্টোনের, প্রাকৃতিক প্রতিকার হিসেবেও কাজ করে।

news24bd.tv রিমু 

 

পরবর্তী খবর

দাঁতের ব্যথার ঘরোয়া চিকিৎসা

অনলাইন ডেস্ক

দাঁতের ব্যথার ঘরোয়া চিকিৎসা

অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক ও প্রচলিত একটি ব্যথার নাম দাঁতে ব্যথা। এতে দাঁত ও চোয়াল উভয় অংশেই ব্যথা করে। দাঁতের ক্ষয়, সংক্রমণ, মাড়ির রোগ, জয়েন্টে সমস্যা ইত্যাদি বিভিন্ন কারণে দাঁত ব্যথা হয়। দাঁত ব্যথা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। পাশাপাশি ব্যথা কমাতে কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি মেনে চলতে পারেন।

লবণ ও গোলমরিচ
লবণ ও গোলমরিচ সম পরিমাণে মিশিয়ে পানি দিয়ে পেস্ট তৈরি করে নিন। দাঁতের ওপর এই পেস্ট লাগিয়ে কয়েক মিনিট রাখুন। দাঁতে ব্যথা কমে গেলেও এটা কয়েক দিন করে গেলে আরাম পাবেন।

লবণ গরম পানি
দাঁত, মাড়ি, গলায় ব্যথা কমাতে খুব ভাল কাজ করে লবণ মিশ্রিত গরম পানি। এক গ্লাস গরম পানিতে এক চা চামচ লবণ মিশিয়ে কুলকুচি করুন। এতে যেকোনও সংক্রমণ সেরে যাবে।

রসুন
এক কোয়া রসুন থেঁতলে অল্প লবণের সঙ্গে মিশিয়ে দাঁতে লাগিয়ে রাখুন। খুব বেশি যন্ত্রণা হলে এক কোয়া রসুন চিবিয়ে খান। যন্ত্রণা কমে যাবে।

লবঙ্গ
দুটো লবঙ্গ থেঁতলে নিয়ে কয়েক ফোঁটা অলিভ অয়েলের সঙ্গে মিশিয়ে পেস্টটা দাঁতে লাগান।

আদা
এক টুকরো আদা কেটে নিন এবং যে দাঁতে ব্যথা করছে সে দাঁত দিয়ে চিবাতে থাকুন। যদি চিবাতে বেশি ব্যথা লাগে তাহলে অন্য পাশের দাঁত দিয়ে চিবিয়ে যে রস এবং আদার পেস্ট তৈরি হবে সেটা ওই আক্রান্ত দাঁতের কাছে নিয়ে যান। জিভ দিয়ে একটু চেপে রাখুন দাঁতের কাছে। কিছুক্ষণের মাঝেই ব্যথা চলে যাবে।

বেকিং সোডা
একটা কটন বাড একটু পানিতে ভিজিয়ে নিন। এর মাথায় অনেকটা বেকিং সোডা লাগিয়ে নিয়ে ব্যাথা হওয়া দাঁতের ওপরে দিন। অন্যভাবেও বেকিং সোডা ব্যবহার করা যায়। এক চামচ বেকিং সোডা এক গ্লাস গরম পানিতে গুলে সেটা দিয়ে কুলকুচি করুন।

আরও পড়ুনঃ


দ. কোরিয়ার কোন গালিও দেয়া চলবে না উত্তর কোরিয়ায়

তালেবানের হাত থেকে ২৪ জেলা পুনরুদ্ধারের দাবি

কাছাকাছি আসা ঠেকাতে টোকিও অলিম্পিকে বিশেষ ব্যবস্থা


 

দূর্বা ঘাসের রস
এছাড়া দূর্ব ঘাসের রসও দাঁতের ব্যথা কমাতে পারে। এটা দাঁতের স্বাস্থ্য ভাল রাখতেও সহায়তা করে। 

তবে মনে রাখবেন, আপনার দাঁত ব্যথা করছে তার মানে নিশ্চয়ই দাঁতের ভেতরে কোনও সমস্যা আছে এবং অবশ্যই ডেন্টিস্টের সাহায্য ছাড়া সে সমস্যার থেকে মুক্ত হওয়া যাবে না।

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

জ্বর আসার পর এক মুহুর্ত দেরী না করে চিকিৎসক এর পরামর্শ নিন: ডা. নিশম সরকার

অনলাইন ডেস্ক

জ্বর আসার পর এক মুহুর্ত দেরী না করে চিকিৎসক এর পরামর্শ নিন: ডা. নিশম সরকার

আপনার ধরুন জ্বর এসেছে ১২ তারিখে। আপনি ডাক্তার দেখতে গেলেন আলসেমি করে ১৪তারিখে। অর্থাৎ জ্বরের তৃতীয় দিনে। ডাক্তার যখন দেখলো যে আপনি জ্বরের তৃতীয় দিনে গিয়েছেন, তিনি আপনাকে Dengue NS1 antigen test করতে দিলো, সাথে Complete Blood Count (CBC) ও করতে দিলো।

আপনি করলেন কি যে, আজকে তো টাকা নেই, ২দিন পরে করবো নে। সেই টেস্ট আপনি করলেন ২দিন পরে, অর্থাৎ ১৬ তারিখে। সেদিন হলো জ্বরের ৫ম দিন। আপনার ডেংগু টেস্ট এ রেজাল্ট আসলো ডেঙ্গু নেগেটিভ। আপনি মহান আল্লাহ্‌ পাকের দরবারে খুশিতে শুকরিয়া আদায় করতে লাগলেন। ওদিকে সিবিসিতে প্লেটলেট ৩০-৩৫হাজার/কিউমিমি, হেমাটোক্রিট ৪৫%। ডাক্তারের মাথায় হাত! আপনি তো বলবেন, টাকা খরচ করে টেস্ট করলাম, ডেংগু নেগেটিভ আসলো, ডাক্তার তাইলে ভয় দেখায় কেনো! আপনি ডাক্তারকে দিলেন দুই ঘা বসিয়ে, আর নাইলে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভাংচুর করতে গেলেন, কারণ আপনার ইয়েতে অনেক কারেন্ট।

ঘটনা হচ্ছে, দোষটা আপনার। Dengue NS1 Antigen পরীক্ষা জ্বরের প্রথম ৩দিন এর মধ্যে পজেটিভ আসে(১)। এরপরে আপনার যদি ডেঙ্গু হয়েও থাকে, তাও সেটি নেগেটিভ আসতে পারে, এবং আসেও। আমি নিজে এই সোমবার এমন রোগী পেয়েছি যার ডেংগু NS1 নেগেটিভ দেখে সে হেলতে দুলতে এসেছে রিপোর্ট পাওয়ারও দুইদিন পরে। সে টেস্ট করিয়েছে জ্বরের ৫ম দিনে। অর্থাৎ ৭ম দিনে সে রিপোর্ট দেখাতে এসেছে কারণ তার ডেংগু নেগেটিভ তার ভয়ের কিছু নেই। ২দিন আগেই তার প্লেটলেট ছিলো ৩২হাজার/কিউমিমি, হেমাটোক্রিট ৪৭%।

তাহলে কি করবেন?

১) আপনার চিকিৎসককে একদম এগজ্যাক্ট হিসেব বলবেন যে আপনার জ্বর কয়দিনের, পারলে কতো তারিখে কখন সেটাও জানাবেন। তিনিই আপনাকে জানাবেন যে আপনার কোন টেস্ট করাতে হবে।

২) ৫ম/৬ষ্ঠ দিন হতে Dengue IgG & IgM পরীক্ষা করাতে হবে(২)। যেহেতু এই পরীক্ষাটি Dengue NS1 পরীক্ষার তুলনায় কিছুটা মুল্য বেশী, তাই জ্বর আসবার সাথে সাথেই এক মুহুর্ত দেরী না করে চিকিৎসক এর পরামর্শ নিন।

৩) ডেংগু নিশ্চিত হলে, চিকিৎসক এর পরামর্শ মতো নিয়মিত CBC পরীক্ষা করাতে হবে। এ ক্ষেত্রে রিপোর্ট দেখাতে আসবার পাশাপাশি রোগীকে নিয়ে আসতে হবে। শুধু রিপোর্ট দেখে রোগীর শারীরিক অবস্থা বোঝা সম্ভব নয়।

৪) আপনার চিকিৎসক যদি CBC এবং ডেংগু পরীক্ষার পরে লিভার ফাংশন টেস্ট সহ, ইসিজি, বুকের এক্সরে সহ অন্য পরীক্ষা করতে পরামর্শ দেয়, আগেই ধরে নিয়েন না যে তিনি টাকা খাওয়ার ধান্ধায় পরীক্ষা দিয়েছেন। এ ধরণের চিন্তা করবার প্রবনতা আমাদের মধ্যে রয়েছে বলেই বললাম। ডেংগু শক সিন্ড্রোম/ এক্সপ্যান্ডেড ডেংগু সিন্ড্রোম থেকে খুব সহজেই অরগান ফেইলার ডেভেলপ করছে। প্লেটলেট কমে রক্তক্ষরন হয়ে মৃত্যুর সেইদিন গত হয়েছে, ডেংগু এখন এসেছে নতুন রুপে।

লিভার ফেইলার, কিডনি ফেইলার, একিউট রেস্পিরেটরি সিন্ড্রোম, প্লুরাল ইফিউশন সহ বিভিন্ন ধরণের নিউরোলজিকেল সিম্পটমও দেখা যাচ্ছে এবার(৩)। রোগী পয়সা খরচ করতে চায় না বলে অনেক চিকিৎসক বাধ্য হয়ে টোটাল সিবিসি রিপিট না করিয়ে শুধু প্লেটলেট কাউন্ট রিপিট করাচ্ছেন। মনে রাখবেন, রোগীর কিছু টাকা হয়তো সেভ হচ্ছে, কিন্তু আল্টিমেটলি ১০জনের মধ্যে ১জনও যদি খারাপ হয়ে যায়, সেই দায় আপনার উপরেই আসবে। আপনাকে হেমাটোক্রিট ও দেখতে হবে। এমন কি, পেশেন্ট শকে চলে গেলে তো ঘন্টায় ঘন্টায় হেমাটোক্রিট করবার নির্দেশনাও গাইডলাইনে আছে (৪)।

৫) সর্বোপরী, আপনার চিকিতসককে সহায়তা করুন। এই মহামারিতেও পার্শ্ববর্তী যে কোন দেশের তুলনায় ডেংগুতে মৃত্যুহার ঈর্ষনীয়ভাবে কম আমাদের। এই কৃতিত্ব আমি আমাদের বড় স্যারদের কে না, এবারের মতো আমাদের মিডলেভেল ডক্টর, নার্সদের দিতে চাই।

সবাই সাবধানে থাকুন। এখনও সময় আছে। বাড়িতে কিংবা বাড়ির পাশে পরিষ্কার রাখুন, পানি জমতে দিবেন না। মশারি টাংগিয়ে ঘুমাবেন। শিশুদের দিকে বিশেষ করে খেয়াল রাখুন। আর জ্বর আসলে সেটা ১দিনের জ্বর হলেও দেরী না করে চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন। সবার সুস্থ্যতা কামনা করছি।

-ডা. নিশম সরকার
এমবিবিএস, ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ডিএমসি)

news24bd.tv/এমিজান্নাত

পরবর্তী খবর

ডিহাইড্রেশন থেকে বাঁচতে যা করবেন

অনলাইন ডেস্ক

ডিহাইড্রেশন থেকে বাঁচতে যা করবেন

সুস্থ থাকতে অনেক কিছুই করতে হয়। তবে এর মধ্যে একটি বিষয় নিশ্চিত করতে হবে। তা হলো, দেহে যেন পানিশূন্যতা দেখা না দেয়। তৃষ্ণার অপেক্ষায় না থেকে সারাদিন এক দুই চুমক পানি মুখে দিতে হবে। নয়তো দেহে ডিহাইড্রেশন দেখা দেবে। এতে অবসাদ হয়ে পড়ে দেহ।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ডিহাইড্রেশন শরীরের প্রধান অঙ্গগুলোতে খুব খারাপ প্রভাব ফেলে। চলুন জেনে নেওয়া যাক ডিহাইড্রেশন কীভাবে আমাদের শরীরের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। 

ডিহাইড্রেশনের কারণে, ইলেক্ট্রোলাইটের স্তর খুব কমে যেতে পারে, যা মস্তিষ্কে সমস্যা তৈরি করে। ইলেক্ট্রোলাইটগুলো খুব কম হয় তবে এ কোষগুলোয় কোনো সঙ্কেত পাঠাতে পারবে না। 

ফলে পেশিতে স্ট্রেন থেকে শুরু করে খিচুনি পর্যন্ত হতে পারে। শরীরে পানির অভাব দেখা দিলে, কোষগুলো মস্তিষ্কে তৃষ্ণার সঙ্কেত পাঠায়। তবে ডিহাইড্রেশন মস্তিষ্ককে অন্যান্য উপায়ে প্রভাবিত করে। ডিহাইড্রেশনের সঙ্গে মন মেজাজ সরাসরি সম্পর্কিত। আমেরিকান কলেজ অব নিউট্রিশনের ম্যাগাজিন অনুসারে, ডিহাইড্রেশনের প্রভাবে কোনো কাজ ২ শতাংশ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। ডিহাইড্রেশন স্মৃতিশক্তিকেও প্রভাবিত করে।

শরীরে পানির অভাব দেখা দিলে কোষগুলো হাইপোথ্যালামাসে একটি সঙ্কেত প্রেরণ করে, যা ভ্যাসোপ্রেসিন নামক হরমোন নিঃসরণ করে। রক্ত তৈরি করতে শরীরের তরল প্রয়োজন হয়। শরীরে পানির অভাব দেখা দিলে রক্তের স্তরও হ্রাস পায়। শরীরে পানির অভাবের কারণে হাইপোটেনশন বা নিম্ন রক্তচাপ হতে পারে। এই কারণে ওই ব্যক্তি অজ্ঞানও হয়ে যেতে পারে আর যা থেকে মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, চোখে চাপ, ঘুমের মতো সমস্যা হতে পারে।

আরও পড়ুন:

চীনে গুদামে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৪

এনএসও'র দাবি পেগাসাস স্পাইওয়্যার ব্যবহারে বিশ্বের লাখো মানুষ ঘুমাতে পারছে

পিএসজির সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ বাড়ল পচেত্তিনোর


 

হজম প্রক্রিয়ার ওপর প্রভাব হজম সিস্টেম সঠিকভাবে কাজ করার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি প্রয়োজন। বর্জ্য পদার্থগুলো শুধু পানির মাধ্যমে শরীর থেকে বের হয় এবং হজম ব্যবস্থা ঠিক থাকে। পানির অভাব সরাসরি ত্বকেও প্রভাব ফেলে। ফলে ত্বক শুকিয়ে যেতে শুরু করে। অনেক সময় ঠোঁট ফাটতে শুরু করে। এ জন্য কমপক্ষে ২ লিটার পানি আপনাকে পান করতেই হবে। সুস্থ ত্বকের জন্য প্রচুর পরিমাণে পানি খাওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

ডিহাইড্রেশন প্রতিরোধে 
সব সময় তৃষ্ণার্ত থাকা ডিহাইড্রেশনের অন্যতম লক্ষণ। তাই পানি এবং পানিপূর্ণ ফল খেতে হবে। গরমের দিনে ডাবের পানি বা লেবুর শরবতের মতো ঠাণ্ডা বেভারেজও উপকার দেবে। এ ছাড়া স্যুপ, সালাদ, দইসহ অন্যান্য পানিপূর্ণ ফল ও খাবারে ডিহাইড্রেশন থেকে মুক্তি মিলবে। বাইরে গেলে সব সময় বোতলে করে পানি নিন।

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

ডেঙ্গু প্রতিরোধে যা যা করবেন

অনলাইন ডেস্ক

ডেঙ্গু প্রতিরোধে যা যা করবেন

করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যেই নতুন আতঙ্ক হিসেবে হাজির হচ্ছে ডেঙ্গু। এডিস মশাবাহী এই ভাইরাস জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা সম্প্রতি বেড়েই চলেছে।

ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধির মধ্যেই জুন মাসে ২৭২ জনের আক্রান্ত হওয়ার খবর দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। আর জুলাই মাসে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন এক হাজারেরও বেশি মানুষ।

তাই পূর্ব সতর্কতা হিসেবে ডেঙ্গু প্রতিরোধে কিছু নিয়ম অবশ্যই সবার মেনে চলা প্রয়োজন। এক নজরে সেই উপায়গুলো দেখে নেয়া যাক-

 

- বাড়ির আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখুন। ফুলের টব, মাটি বা প্লাস্টিকের পাত্র ও ফুলদানিতে কয়েকদিনের বাসি পানি যেন না জমে।

- শিশুদের ফুলহাতা জামা ও ফুলপ্যান্ট পরাবেন। সাদা কাপড় পরা ভালো। দিনের বেলায় ঘুমালে মশারি টানানো উচিত। শরীরে উন্মুক্ত স্থানে মশা প্রতিরোধক ক্রিম লাগাতে পারেন।

- দিন ও রাতে ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহার করুন।

- ঘরে যেন মশা ঢুকতে না পারে এজন্য জানালাসহ বারান্ডার গ্রিলেও নেট লাগাতে পারেন।

- এডিস মশার জন্ম হয় পাত্রে জমে থাকা পানিতে। তাই সপ্তাহে অন্তত একদিন আপনার বাড়ি এবং তার চারদিকে ঘুরে দেখুন কোথাও কোনো পাত্রে পানি জমে আছে কি-না। থাকলে ফেলে দিন বা পরিষ্কার করুন।

- যদি কোনো পাত্রের পানি ফেলে দেওয়া না যায়; তাহলে সেখানে ব্লিচিং পাউডার বা লবণ দিন।

- গাড়ির অব্যবহৃত টায়ার ঘরে রাখবেন না, কারণ সেখানে এডিস মশার জন্ম হতে পারে।

- কোনো খাবারের কৌটা বাইরে ফেলবেন না। এসব পাত্রেও পানি জমে থাকতে পারে।

- বাথরুমে যদি পানি ধরে রাখতে হয় তাহলে পানির পাত্র সপ্তাহে অন্তত একবার ব্লিচিং পাউডার দিয়ে ভালো করে ধুয়ে আবার পানি ভর্তি করুন।

- এডিস মশা পানির পাত্রের কিনারে ডিম পাড়ে এবং পাত্রের গায়ে আটকে থাকে, যে কারণে পানি ফেলে দিলেও ডিম যায় না। তাই এটিকে ব্লিচিং পাউডার দিয়ে ভালোভাবে ঘষে পরিষ্কারের প্রয়োজন পড়ে।


আরও পড়ুন:

মেঘনা নদীতে ঈদ আনন্দ ভ্রমণে অস্ত্রসহ ৪৬ কিশোর আটক

এনএসও'র দাবি পেগাসাস স্পাইওয়্যার ব্যবহারে বিশ্বের লাখো মানুষ ঘুমাতে পারছে

পিএসজির সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ বাড়ল পচেত্তিনোর

হাইতি প্রেসিডেন্টের সৎকার অনুষ্ঠান থেকে পালিয়েছে মার্কিন প্রতিনিধিদল


- বাড়ির পাশে কোনো নির্মাণাধীন ভবন থাকলে, এটির লিফটের গর্ত, ইট ভেজানোর চৌবাচ্চা, ড্রাম পরীক্ষা করুন। যদি এসব জায়গায় জমে থাকা পানিতে ছোট ছোট পোকা দেখতে পান, তাহলে বুঝবেন সেটি এডিস মশার লার্ভা বা বাচ্চা।

- বাড়ির আশপাশে যদি কোনো সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা থাকে মশা জন্মানোর মতো, তাহলে কর্তৃপক্ষকে জানান। বাড়ির আশপাশে গাছের গর্ত বা কাটা বাঁশের গোড়া মাটি দিয়ে বন্ধ করে দিন।

news24bd.tv/ নকিব

পরবর্তী খবর