ফরজ নামাজের পর যে আমল জান্নাতের পথ সুগম করবে

অনলাইন ডেস্ক

ফরজ নামাজের পর যে আমল জান্নাতের পথ সুগম করবে

আল্লাহ তার বান্দাদের জান্নাতে প্রবেশের অনেক উপায় দেখিয়ে দিয়েছেন। বান্দাদের শুধু সে অনুযায়ী আমল করা। পবিত্র কুরআনুল কারিমে এমন মর্যাদাপূর্ণ অনেক আয়াত আছে। এক একটি আয়াতুল কুরসি। এ আয়াতের অনেক ফজিলত হাদিসের একাধিক বর্ণনায় এসেছে। তবে ফরজ নামাজের পর রয়েছে এ আয়াতের নিয়মিত আমল। যা মানুষকে জান্নাতে পৌঁছাতে মৃত্যুই শুধু বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়।

প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর কুরআনুল কারিমের মর্যাদাপূর্ণ আয়াত ‘আয়াতুল কুরসি’ পাঠ করা সুন্নাত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিয়মিত এ আমল করতেন।

আয়াতুল কুরসিতে তাওহিদের শ্রেষ্ঠ ঘোষণাগুলো তেলাওয়াত করা হয়। আর এতেই এর তেলাওয়াতকারীর মর্যাদা আল্লাহর কাছে অনেক বেশি। সে কারণেই যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর ‘আয়াতুল কুরসি’ পড়ে, ওই ব্যক্তি ও জান্নাতের মাঝে এতোটুকু দূরত্ব থাকে যে, সে যেন শুধুমাত্র মৃত্যুবরণ করেনি বলেই (কবরে) জান্নাতের নেয়ামতগুলো উপভোগ করতে পারছে না। হাদিসে পাকে এসেছে-
হজরত আবু উমামাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে কেউ প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি তেলাওয়াত করে; তার মৃত্যুই তার জন্য জান্নাতে প্রবেশ করার জন্য বাধা হয়ে থাকে।’ (নাসাঈ, ইবনু হিব্বান, বুলুগুল মারাম)

যদিও ইমাম তাবারানি তার বর্ণননায় (এ সুরাটি) বাড়িয়েছেন। তাহলো- ‘কুল হুয়াল্লাহু আহাদ।’ (বুলুগুল মারাম)

উচ্চারণ ও অর্থসহ আয়াতুল কুরসি
اللّهُ لاَ إِلَـهَ إِلاَّ هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ لاَ تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلاَ نَوْمٌ لَّهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الأَرْضِ مَن ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلاَّ بِإِذْنِهِ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلاَ يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِّنْ عِلْمِهِ إِلاَّ بِمَا شَاء وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ وَلاَ يَؤُودُهُ حِفْظُهُمَا وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ

উচ্চারণ- আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল ক্বাইয়্যুম। লা তাঅ খুযুহু সিনাতুঁও ওয়া লা নাওম। লাহু মা ফিস্ সামাওয়াতি ওয়া মা ফিল আরদ্বি। মাং জাল্লাজি ইয়াশফাউ ইংদাহু ইল্লা বি-ইজনিহি। ইয়ালামু মা বাইনা আইদিহিম ওয়া মা খালফাহুম, ওয়া লা ইউহিতুনা বিশাইয়্যিম্ মিন ইলমিহি ইল্লা বিমা শাআ ওয়াসিআ কুরসিইয়্যুহুস্ সামাওয়াতি ওয়াল আরদ্বি, ওয়া লা ইয়াউদুহু হিফজুহুমা ওয়া হুওয়াল ‘আলিয়্যুল আজিম।’ (উচ্চারণটি কোনো কুরআন বিশেষজ্ঞের কাছে বিশুদ্ধভাবে পড়ে নেয়া জরুরি)

অর্থ: (তিনিই) আল্লাহ, যিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। তিনি জীবিত, সবকিছুর ধারক। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না এবং ঘুমও নয়। সবই তাঁর, আসমান ও জমিনের মধ্যে যা কিছু রয়েছে। কে আছ এমন- যে সুপারিশ করবে তাঁর কাছে তাঁর অনুমতি ছাড়া? (চোখের সামনে কিংবা পিছনে যা কিছু রয়েছে সে সবই তিনি জানেন। তাঁর জ্ঞানের সীমা থেকে কোনো কিছুকেই তারা পরিবেষ্টিত করতে পারবে না, কিন্তু ‘হ্যাঁ’, তিনি যতটুকু ইচ্ছা করেন তা ছাড়া। সমগ্র আসমান এবং জমিনকে পরিবেষ্টিত করে আছে তাঁর সিংহাসন। আর সেগুলোকে ধারণ (নিয়ন্ত্রণ) করা তাঁর জন্য কঠিন নয়। তিনিই সর্বোচ্চ এবং সর্বাপেক্ষা মহান।’

আরও পড়ুন


সূরা ইয়াসিন: আয়াত ৩৬-৪৪, সৃষ্টিজগতের অন্যতম মৌলিক বিধান

পটিয়া আওয়ামী লীগ নিয়ে তৃণমূলে ক্ষোভ, ভেঙে দেওয়া কমিটি পুনর্বহালের দাবি

ভারতকে উড়িয়ে টেস্টের রাজা নিউজিল্যান্ড

আ.লীগের ওপর যতবার আঘাত এসেছে, ততবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে: প্রধানমন্ত্রী


সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর সুন্নাতের অনুসরণে নিয়মিত আয়াতুল কুরসির আমল করা। হাদিসে ঘোষিত ফজিলত ও বৈশিষ্ট্যগুলো অর্জনের চেষ্টা করা।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে আয়াতুল কুরসির নিয়মত আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর

ফজিলতপূর্ণ সূরা আল নাস

অনলাইন ডেস্ক

ফজিলতপূর্ণ সূরা আল নাস

পবিত্র কোরআন শরীফের সর্বশেষ সূরা আল নাস। এই সূরার আয়াত সংখ্যা ৬, এতে রুকু আছে ১টি। সূরা আল নাস মদিনায় অবতীর্ণ হয়। 

হাদিস শরীফে সূরা নাস ও সূরা ফালাক বারবার পড়ার জন্যে তাগিদ দিয়েছে। এই দুই সূরাকে এক সঙ্গে মুআওবিযাতাইন বলা হয়। 

মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘এ দুইটি সূরা তোমরা পড়তে থাক। কেননা, এ দুইটি সূরার মতো কোনো সূরা তোমরা কোনো দিন পাবে না।’ (মুসলিম ৮১৪)

ফজর আর মাগরিবে এই দুই ওয়াক্তে ফরজ সালাতের পর সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস প্রতিটি সূরা তিন বার করে পড়া সুন্নত। অন্যান্য ফরজ সালাতের আদায় করে একবার করে এই তিন সূরা পড়তে হবে। (আবু দাউদ হা: ১৩৬৩)

আরও পড়ুন:


এবার তিউনিসিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে বহিষ্কার করলেন প্রেসিডেন্ট

আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে যেসব কাজে প্রতিযোগিতা করা উচিত

সূরা নাস পড়লে শয়তানের অনিষ্ট ও যাদু থেকে হেফাজতে থাকা যায়। হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যা সূরা ইখলাস ও এই দুই সূরা ( সূরা ফালাক ও সূরা নাস) পড়বে সে সকল বিপদ-আপদ থেকে নিরাপদ থাকবে।’ (জামে তিরমিযী, হাদীস: ২৯০৩)

মহান আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে নেক আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন। 

news24bd.tv রিমু 

পরবর্তী খবর

আয়াতুল কুরসির ফজিলত

অনলাইন ডেস্ক

আয়াতুল কুরসির ফজিলত

পবিত্র কোরআন মাজীদের সুরা আল বাকারার ২৫৫তম আয়াত হলো আয়াতুল কুরসি। এ আয়াতটিতে ১০টি বাক্য রয়েছে। যার প্রত্যেকটিতে আল্লাহর ক্ষমতার কথা বর্ণনা করা হয়েছে। আয়াতুল কুরসি পাঠ করলে মানব জাতির অনেক কল্যাণ সাধিত হয়, বিভিন্ন বিপদ আপদ থেকে বাঁচা যায়।

এই আয়াতটিকে রাসুলুল্লাহ (সা.) কোরআনের শ্রেষ্ঠ আয়াত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। উবাই বিন কাব (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) উবাই বিন কাবকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, তোমার দৃষ্টিতে কোরআন মাজিদের কোন আয়াতটি সর্ব শ্রেষ্ঠ? তিনি বলেছিলেন, আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুআল হাইয়্যুল কাইয়্যুম তথা আয়াতুল কুরসি। তারপর রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজ হাত দিয়ে তাঁর বুকে মৃদু আঘাত করে বলেন, আবুল মুনজির! এই জ্ঞানের কারণে তোমাকে মোবারকবাদ।  (মুসলিম, হাদিস : ১৩৯৬)

আরও পড়ুন:


এবার তিউনিসিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে বহিষ্কার করলেন প্রেসিডেন্ট

মাহফুজ আনামের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে সম্পাদক পরিষদ থেকে নঈম নিজামের পদত্যাগ


পবিত্র কোরআনের এই আয়াতটি এতই বরকতপূর্ণ যে রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রতি নামাজের পর এই আয়াত পড়বে, সে তার জান্নাতে যেতে মৃত্যু ছাড়া আর কোনো বাধা থাকবে না।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, সূরা বাকারার মধ্যে এমন একটি আয়াত রয়েছে, যে আয়াতটি পুরো কোরআনের নেতাস্বরূপ। তা পড়ে ঘরে প্রবেশ করলে শয়তান বের হয়ে যায়। তা হলো- ‘আয়াতুল কুরসি’।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে যেসব কাজে প্রতিযোগিতা করা উচিত

মুফতি মুহাম্মদ মর্তুজা

আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে যেসব কাজে প্রতিযোগিতা করা উচিত

নেক কাজের মাধ্যমে মানুষের আমলের পাল্লা ভারী হয়, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন হয়। তাই নেক কাজ করার সুযোগ থাকলেই তা আত্মনিয়োগ করার চেষ্টা করা আবশ্যক। বিশেষ করে যেসব কাজের ব্যাপারে প্রিয় নবী (সা.) বিশেষভাবে উৎসাহ দিয়েছেন, সেগুলো আত্মনিয়োগ করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করা উচিত। নিম্নে এমন চারটি কাজ তুলে ধরা হলো;

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আজান ও প্রথম কাতারের মর্যাদা মানুষ যদি জানত আর কুর‘আ নিক্ষেপ (সমঅধিকারী একাধিক প্রার্থী থাকলে, সেখান থেকে একজনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য তৎকালে প্রচলিত একধরনের লটারি) ব্যতীত সে সুযোগ তারা না পেত, তাহলে কুর‘আ নিক্ষেপ করত, তেমনি আগেভাগে জামাতে শরিক হওয়ার মর্যাদা যদি তারা জানত, তাহলে তারা সেদিকে ছুটে যেত। তেমনি এশা ও ফজরের জামাতে হাজির হওয়ার মর্যাদা যদি তারা জানত তাহলে হামাগুঁড়ি দিয়ে হলেও তারা তাতে হাজির হতো। (বুখারি, হাদিস : ২৬৮৯)

হাদিসের বর্ণনা দ্বারা বোঝা যায় যে উল্লিখিত আমলগুলো অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। তাই রাসুল (সা.) তাঁর প্রিয় উম্মতদের এই আমলগুলোর প্রতি বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেছেন। নিম্নে হাদিসের আলোকে এই আমলগুলোর কিছু ফজিলত তুলে ধরা হলো;
আজান দেওয়ার ফজিলত : আজান দেওয়ার মাধ্যমে মানুষকে আল্লাহর ঘরের দিকে আহ্বান করা অত্যন্ত সৌভাগ্যের কাজ। কারণ কিয়ামতের দিন মুয়াজ্জিনদের বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হবে। রাসুল (সা.) বলেছেন, কিয়ামতের দিন মুয়াজ্জিনগণ লোকদের মাঝে সুদীর্ঘ ঘাড়বিশিষ্ট হবে। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৭২৫)

অর্থাৎ কিয়ামতের দিন তারা মর্যাদায় উচ্চ হবে। শুধু তাই নয়, কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহর বহু মাখলুক তাদের পক্ষে সাক্ষ্য দেবে। আবদুর রহমান বিন আবু সাসাআহ থেকে বর্ণিত, আবু সাঈদ (রা.) আমাকে বলেছেন, যখন তুমি গ্রামে বা বন-জঙ্গলে থাকবে, তখন উচ্চৈঃস্বরে আজান দেবে। কেননা আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, জিন, মানুষ, বৃক্ষলতা ও পাথর যে-ই এই আজান শুনবে, সে তাঁর জন্য (আখিরাতে) সাক্ষ্য দেবে। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৭২৩)

প্রথম কাতারে নামাজ পড়ার ফজিলত : জামাতের সহিত নামাজ পড়া অত্যন্ত সওয়াবের। তার মধ্যে বেশি সওয়াবের হলো, প্রথম কাতারে নামাজ পড়া। কারণ প্রথম কাতারে নামাজ পড়লে আল্লাহর রহমত, ফেরেশতাদের দোয়া পাওয়া যায়। রাসুল (সা.) নিজেও প্রথম কাতারের মুসল্লিদের জন্য বিশেষভাবে দোয়া করেছেন। বারা ইবনে আজিব (রা.) থেকে বর্ণিত,...রাসুল (সা.) বলতেন, আল্লাহ প্রথম কাতারের প্রতি অনুগ্রহ করেন এবং তাঁর ফেরেশতাগণও প্রথম কাতারের জন্য অনুগ্রহ প্রার্থনা করেন। (নাসায়ি, হাদিস : ৮১১)

ইরবাদ বিন সারিয়া (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) প্রথম কাতারের লোকের জন্য তিনবার ক্ষমা প্রার্থনা করতেন এবং দ্বিতীয় কাতারের লোকের জন্য একবার। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৯৯৬)

আগে আগে জামাতে শরিক হওয়া : আগেভাগে মসজিদে যাওয়া, নামাজের জন্য অপেক্ষা করাও অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ কাজ। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমাদের কেউ নামাজ আদায় করে যতক্ষণ মুসাল্লায় বসে থাকে, ততক্ষণ পর্যন্ত ফেরেশতারা তার জন্য নিম্নরূপ দোয়া করতে থাকেন, (অর্থ : হে আল্লাহ, তাকে ক্ষমা করে দিন, হে আল্লাহ তার প্রতি দয়া করুন), যতক্ষণ না তার অজু ভঙ্গ হয়। (নাসায়ি, হাদিস : ৭৩৩)

অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, যে ব্যক্তি মসজিদে নামাজের অপেক্ষায় থাকে, সে যেন নামাজের মধ্যে থাকে। (নাসায়ি, হাদিস : ৭৩৪)

এশা ও ফজরের নামাজ জামাতে পড়া : সাধারণত মানুষ এই দুটি ওয়াক্ত মসজিদে গিয়ে জামাতের সহিত আদায় করার ব্যাপারে অলসতা করে। অথচ এই দুটি ওয়াক্ত জামাতের সহিত আদায় করলে সারা রাত নামাজ পড়ার সওয়াব পাওয়া যায়। আবদুর রহমান ইবনে আবু আমরাহ (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন মাগরিবের নামাজের পর উসমান ইবনু আফফান মসজিদে এসে একাকী এক জায়গায় বসলেন। তখন আমি তার কাছে গিয়ে বসলাম। তিনি আমাকে বললেন, ভাতিজা, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি জামাতের সঙ্গে এশার নামাজ আদায় করল সে যেন অর্ধেক রাত পর্যন্ত নামাজ আদায় করল। আর যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করল সে যেন সারা রাত জেগে নামাজ আদায় করল। (মুসলিম, হাদিস : ১৩৭৭)।

মহান আল্লাহ সকলকে আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

news24bd.tv রিমু 

পরবর্তী খবর

ইসলামে মিসওয়াকের গুরুত্ব ও ফজিলত

অনলাইন ডেস্ক

ইসলামে মিসওয়াকের গুরুত্ব ও ফজিলত

পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতার ইসলামী পদ্ধতিগুলোর একটি হলো মিসওয়াক। মিসওয়াক পবিত্রতা ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের মাধ্যম। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘মিসওয়াক মুখের পবিত্রতার মাধ্যম ও আল্লাহর সন্তুষ্টির উপায়।’ নাসায়ি। 

রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিয়মিত মিসওয়াক করে তাঁর দাঁতগুলো পরিষ্কার রাখতেন। তাঁর দাঁতগুলো এতটাই ঝকঝকে রাখতেন যে, তিনি কথাবার্তা বললে মনে হতো যেন দাঁত থেকে আলো বিচ্ছুরিত হচ্ছে। হুজাইফা (রা.) বলেন, ‘রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ঘুম থেকে উঠতেন তখন মিসওয়াক করে নিতেন।’ বুখারি।

মিসওয়াক করার ফজিলত:

হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহিস সালাম বলেন, মিসওয়াক করে যে নামাজ আদায় করা হয়, সে নামাজে মিসওয়াকবিহীন নামাজের তুলনায় সত্তরগুণ বেশি ফজিলত রয়েছে। (বায়হাকি)

মিসওয়াকে আল্লাহর রিজামন্দি হাসিল হয়।

দারিদ্র্যতা দূর হয়ে সচ্ছলতা আসে এবং উপার্জন বাড়ে।

পাকস্থলী ঠিক থাকে ও শরীর শক্তিশালী হয়।

স্মরণশক্তি ও জ্ঞান বাড়ে, অন্তর পবিত্র হয়, সৌন্দর্য বাড়ে।

ফিরিশতা তার সঙ্গে মুসাফাহা করেন, নামাজে বের হলে সম্মান করেন, নামাজ আদায় করে বের হলে আরশ বহনকারী ফিরিশতারা তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

শয়তান অসন্তুষ্ট হয়।

ফুলসিরাত বিজলীর ন্যায় দ্রুত পার হবেন এবং ডান হাতে আমলনামা পাবেন, ইবাদতে শক্তি পাবে।

মৃত্যুর সময় কালিমা নসিব হবে, জান্নাতের দরজা খুলে দেয়া হবে এবং জাহান্নামের দরজা বন্ধ করা হবে। পূত-পবিত্র হয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় নিবে।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

পবিত্র কোরআনুল কারিমে বর্ণিত নবীজির নামসমূহ

সাআদ তাশফিন

পবিত্র কোরআনুল কারিমে বর্ণিত নবীজির নামসমূহ

মহান আল্লাহ তার প্রিয় বন্ধুকে ‘রহমত’ বলে সম্বোধন করেছেন। ইরশাদ হয়েছে, আমি তোমাকে (রাহমাতান লিল আলামিন) বিশ্ববাসীর জন্য রহমত হিসেবেই প্রেরণ করেছি। (সুরা আম্বিয়া, আয়াত : ১০৭)

মহান আল্লাহ তাঁর প্রিয় বন্ধুকে আমাদের জন্য পাঠিয়েছেন নিয়ামতস্বরূপ। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘ওয়াজকুরু নিমাতাল্লাহি আলাইকুম’ তোমরা তোমাদের ওপর আল্লাহর নিয়ামতকে স্মরণ করো। (সুরা আলে ইমরান, আয়াত : ১০৩)

কিছু কিছু তাফসিরবিদের মতে, এখানে ‘নিয়ামত’ দ্বারা রাসুল (সা.)-এর কথা বলা হয়েছে। 
অন্য আয়াতে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, হে নবী, আমি আপনাকে পাঠিয়েছি, ‘শাহেদ’ সাক্ষ্যদাতা, ‘মুবাশশির’ সুসংবাদদাতা ও ‘নাজির’ সতর্ককারীরূপে। (সুরা আহজাব, আয়াত : ৪৫)

ওই আয়াতে মহান আল্লাহ তাঁর প্রিয় বন্ধুকে তিনটি নামে সম্বোধন করেছেন। শাহেদ, মুবাশশির ও নাজির।

এর পরের আয়াতেই মহান আল্লাহ তাঁর প্রিয় বন্ধুকে আরো দুটি নামে সম্বোধন করেন। ১. ‘দায়ি ইলাল্লাহ’। ২. ‘সিরাজাম মুনিরা’। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর আল্লাহর অনুমতিক্রমে (দায়ি ইলাল্লাহ) তাঁর দিকে আহ্বানকারী ও (সিরাজাম মুনিরা) উজ্জ্বল প্রদীপরূপে। (সুরা আহজাব, আয়াত : ৪৬)

আন নাবিয়্যুল উম্মি : ইরশাদ হয়েছে, যারা অনুসরণ করে রাসুলের। যিনি উম্মি নবী। (সুরা আরাফ, আয়াত : ১৫৭) এই আয়াতে মহান নবী (সা.)-কে ‘আন নাবিয়্যুল উম্মি’ বলে সম্বোধন করেছেন।

কখনো মহান আল্লাহ তাঁর প্রিয় বন্ধুকে মুজ্জাম্মিল বলে সম্বোধন করেছেন। ‘মুজ্জাম্মিল’ মানে হলো, চাদরে আবৃত ব্যক্তি। একবার রাসুল (সা.) চাদরে আবৃত ছিলেন। সেই সময় আয়াত নাজিল হলো, ‘ইয়া আইয়ুহাল মুজ্জাম্মিল’ হে বস্ত্রাবৃত, (সুরা মুজ্জাম্মিল, আয়াত : ১)

আবার কখনো সম্বোধন করেছেন ‘মুদ্দাসসির’ বলে। যার অর্থ হলো বস্ত্রাবৃত। ইরশাদ হয়েছে, ‘ইয়া আইয়ুহাল মুদ্দাসসির’ হে বস্ত্রাবৃত, (সুরা মুদ্দাসসির, আয়াত : ১)

আরও পড়ুন:

শিল্পকারখানা খুললে আইনানুগ ব্যবস্থা

আবারও মুখোমুখি হতে পারে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল

কখনো সম্বোধন করেছেন, ‘আমিন’ বলে, যার অর্থ : বিশ্বস্ত। ইরশাদ হয়েছে। নিশ্চয়ই কোরআন সম্মানিত রাসুলের আনিত বাণী। যে শক্তিশালী আরশের মালিক, আল্লাহর নিকট মর্যাদাসম্পন্ন। মান্যবর ও বিশ্বাসভাজন। (সুরা তাকভির, আয়াত : ১৯-২১)

এ ছাড়া মহান আল্লাহ তাঁর প্রিয় নবীকে ‘হাদি’, ‘খাতামুন নাবিয়্যিন’ প্রভৃতি নামে সম্বোধন করেছেন।

news24bd.tv রিমু

পরবর্তী খবর