প্রাথমিক শিক্ষাটা হলো সময় জ্ঞান!

সাখাওয়াত টিপু

প্রাথমিক শিক্ষাটা হলো সময় জ্ঞান!

নোম চমস্কি থেকে কি শিখবেন? প্রাথমিক শিক্ষাটা হলো সময় জ্ঞান! দ্বিতীয় হচ্ছে কমিটমেন্ট! এই দুটো জিনিস, আমাদের দেশের লেখক বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে অভাব আছে। পশ্চিমা জগতে যাদের দুয়েকদানা লেখা প্রকাশিত হয়েছে, তারা হাড়ে হাড়ে টের পাবেন এটা। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে দুটো ঘটনার কথা বলি! 

পশ্চিমা কোনো পত্রিকায় যখন কোনো লেখা রিবিয়ুর পর নির্বাচিত হয়, তখন তারা প্রকাশের একটা সিডিউল ঠিক করেন। তার থেকে এক সেকেন্ড আগে কিংবা পরে হয় না, ঠিক সময়ে লেখাটা প্রকাশিত হয়। অনেকেই বলেন এটাই প্রফেশনালিজম! আরেকটা অভিজ্ঞতার বলি, আজকের কাগজে আহমদ ছফা নিয়মিত লিখতেন।

একবার আমার এসাইনমেন্ট হয় ছফা ভাইয়ের লেখা জোগাড় করার। তিনি আমাকে সময় দেন সকাল ১০ টায়। আমি ঐদিন ১০ টা বাজার ৫ মিনিট পরে ছফা ভাইয়ের বাসায় হাজির হই। কিন্তু যখন সেখানে কলবেল দেই, ছফা ভাই ভেতর বলেন, কে? আমি নাম বললাম! কিন্তু তিনি আর দরজা খোলেন না। আমি ঠিক ৫ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকলাম। তারপর অনেক অনুনয় বিনয়ের পর দরজা খুললেন। 

আমি বললাম, ছফা ভাই দুঃখিত! ছফা ভাই বললেন, আপনার সময়ের মূল্য আছে, আমার সময়ের মূল্য নাই! আপনি আমাকে ৫ মিনিট বসিয়ে রাখলেন কেন? আমি অনেক বোঝানোর পর উনি শান্ত হলেন! তারপর উনি বললেন, আমি লিখলাম! ছফা ভাই বললেন, জীবন হচ্ছে মুহূর্ত যাপন! এটা ধরতে না পারলে আপনি কোথাও দাঁড়াতে পারবেন না!

সাখাওয়াত টিপু লেখক, কবি, সাহিত্যিক। ফেসবুক থেকে।

আরও পড়ুন:


ভরাট গলায় ভাব নিয়ে ফোন, অবশেষে ধরা ভুয়া এমপি

নুসরাতের ‘প্রাক্তন স্বামী’ নিখিলের সঙ্গে দুই নায়িকার প্রেমের গুঞ্জন

'কৃষ ফোর' ঋত্বিকের বিপরীতে থাকতে পারে ক্যাটরিনা!

রহস্যের জট খুলছে, একাই বাবা-মা-বোনকে হত্যা করে মেহজাবিন‍!


news24bd.tv / কামরুল 

পরবর্তী খবর

কর্মজীবী সব মানুষের টিকা পাওয়া নিশ্চিত করতে হবে

শওগাত আলী সাগর

কর্মজীবী সব মানুষের টিকা পাওয়া নিশ্চিত করতে হবে

শওগাত আলী সাগর

ভ্যাকসিন পাসপোর্ট নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কথাবার্তা হচ্ছে।বাংলাদেশি সেটি কার্যকরের ঘোষনা দিয়ে ফেলেছে। করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকশেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক সাংবাদিকদের যে ব্রিফিং দিয়েছেন তাতে বলা হয়েছে, টিকা না নিয়ে কেউ কোনো কর্মস্থলে আসতে পারবেন না।

কর্মস্থলে আসার জন্য টিকা বাধ্যতামূলক (বিভিন্নদেশে এটিকে ভ্যাকসিন পাসপোর্ট হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।) করা হলে কর্মজীবী সব মানুষের টিকা পাওয়া নিশ্চিত করতে হবে।টিকা পাওয়া নিশ্চিত করার আগে ‘ভ্যাকসিন পাসপোর্ট’ চালুর ঘোষনা বাস্তবসম্মত নয়।

ইউরোপ আমেরিকা আর বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতি এক নয়। কাজেই পশ্চিমাদের সিদ্ধান্ত পদক্ষেপ হুবহু অনুকরণ করার সুযোগ নাই। নিজেদের পরিস্থিতি বিবেচনা

লেখাটি শওগাত আলী সাগর- এর ফেসবুক থেকে নেওয়া (সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv/এমিজান্নাত 

পরবর্তী খবর

শাহজাহান চেয়েছিলেন বড় ছেলে দারা শিকোহ তাঁর উত্তরাধিকারী হোক

শান্তা আনোয়ার

শাহজাহান চেয়েছিলেন বড় ছেলে দারা শিকোহ তাঁর উত্তরাধিকারী হোক

শান্তা আনোয়ার

১৬৫৮ সালের ৩১ শে জুলাই সম্রাট আওরঙ্গজেব মোঘল সাম্রাজ্যের সিংহাসন আরোহণ করেন।  তিনি বাদশাহ আলমগীর নামেও পরিচিত ছিলেন। তার জীবদ্দশায়, দক্ষিণ ভারত বিজয় মুঘল সাম্রাজ্যকে ৪ মিলিয়ন বর্গমাইল পর্যন্ত বিস্তৃত করে এবং আনুমানিক ১৫৮  মিলিয়ন মানুষকে মোঘল সাম্রাজ্যের প্রত্যক্ষ শাসনে নিয়ে আসে।

সেই সময় মোঘল সাম্রাজ্যের  বার্ষিক রাজস্ব আয় ছিলো ৪৫০ মিলিয়ন ডলারের সমতুল্য সেই সময় ফ্রান্সের সম্রাট চতুর্দশ লুইয়ের রাজস্ব আয়ের চাইতে বাদশাহ আলমগিরের রাজস্ব আয় ছিলো দশগুণ বেশি।  তার শাসনামলে, মুঘল সাম্রাজ্য চীনকে ছাড়িয়ে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিনত হয় যার মুল্য ছিলো ৯০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি, ১৭০০ সালে বিশ্বের জিডিপির প্রায় এক চতুর্থাংশ ছিলো মোঘল সাম্রাজ্যের।

বাদশা আলমগীর ১৬১৮ সালের ৪ নভেম্বর গুজরাটের দহোদ শহরে জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলা থেকেই তিনি মহত প্রাণ এবং গৌরবদীপ্ত ছিলেন এছাড়াও তিনি ছিলেন এক দুর্দান্ত ও সাহসী অশ্বারোহী।
তিনি জ্ঞান এবং ধর্মকে ভালোবাসার মধ্যে দিয়ে বয়োপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। এমনকি ছোটবেলায়, তিনি বিলাসবহুল জীবন থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করতেন। তিনি দ্রুত ভারতের মধ্যবর্তী অঞ্চলে তাঁর শাসিত প্রদেশ -দাক্ষিণাত্য রাজ্য পরিচালনার প্রত্যক্ষ জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।

তিনি তার জীবনের ৫২ বছরই যুদ্ধ করে কাটিয়েছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত না তার শাসনামলে মোঘল সাম্রাজ্য উল্লেখযোগ্যভাবে প্রসারিত হয়। তার শাসনামলে মুঘলরা ৩০০ টিরও বেশি যুদ্ধ করেছে যার মধ্যে ১১ টি যুদ্ধ আওরঙ্গজেবের ব্যক্তিগত ও প্রত্যক্ষ কমান্ডে করা হয়েছিল, তিনি যুদ্ধক্ষেত্রে স্বশরীরে উপস্থিত থেকে সৈন্য পরিচালনা করেছিলেন।

আওরঙ্গজেবের একক নেতৃত্বে ভারতীয় উপমহাদেশকে মুসলিম মুঘল প্রদেশে রূপান্তরিত করতে সফল হন। তিনি তার শাসনামলে ইসলামী ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং ৮০ টি কর বাতিল করেন এবং অমুসলিমদের উপর জিজিয়া কর আরোপ করেন যা তাঁর পূর্বপুরুষরা বাতিল করেছিলো।

উনার শাসনামলে মঠ, স্কুল, মসজিদ, স্নানাগার অসংখ্য বাগান গড়েছিলেন এবং হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি লাহোর শহরে বাদশাহি মসজিদ নামে অপরুপ এক মসজিদ নির্মান করেছিলেন। সম্রাট আওরঙ্গজেব সম্পর্কেও মন্দির ধংসের অপবাদ শোনা যায়। এখানেও বিস্ময়কর ভাবে কারণটা রাজনৈতিক। আওরঙ্গজেব রাজপুতদের মন্দির ভেঙ্গেছিলেন, যেই রাজপুত মোঘলদের অনুগত ছিল কিন্তু আওরঙ্গজেবের আনুগত্য মানতে অস্বীকার করে বিদ্রোহ করে। সেই বিদ্রোহ দমনের পরে মন্দির গুলো ভাঙা হয়।

রিচার্ড এম ইটন লিখেছেন, বাঙলায় সম্রাট আওরঙ্গজেব যে কোন মোঘল শাসকদের চেয়ে বেশী মন্দির নির্মাণ করে দিয়েছিলেন। মার্কিন ইতিহাসবিদ অড্রে ট্রাশকা তাঁর বই 'আওরঙ্গজেব - দ্যা ম্যান অ্যান্ড দ্যা মিথ' বইয়ে লিখেছেন যে আওরঙ্গজেব হিন্দুদের ঘৃণা করতেন আর তাই মন্দির ধ্বংস করেছেন বলে যে দাবী করা হয়, তা ভুল।

ব্রিটিশদের শাসনের সময় তাদের 'ডিভাইড অ্যান্ড রুল' অর্থাৎ জনগোষ্ঠীকে 'বিভাজন আর শাসন করো' নীতির আওতায় ভারতে হিন্দু বর্ণবাদী ধারণা উস্কে দেয়ার কাজটি করেছিলেন যেসব ইতিহাসবিদরা, তারাই মূলত: আওরঙ্গজেবের এমন একটি ইমেজ তৈরির জন্য দায়ী। ট্রাশকার মতে, "এটা একটা ভুল ধারণা যে আওরঙ্গজেব হাজার হাজার হিন্দু মন্দির ধ্বংস করেছিলেন। ডজনখানের মতো মন্দির তাঁর সরাসরি আদেশে ভাঙ্গা হয়েছিল। তাঁর সময়ে এমন কোন ঘটনা ঘটেনি যাকে হিন্দুদের গণহত্যা হিসেবে বর্ণনা করা যেতে পারে। সত্যিকার অর্থে আওরঙ্গজেব হিন্দুদেরকে সরকারের অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়েছিলেন।”

আওরঙ্গজেবকে নিষ্ঠুর আর ভাতৃহন্তারক হিসেবেও ধরা হয়। এমনকি এটাও বলা হয় সিংহাসনের লোভে পিতা সম্রাট শাহজাহানকে বন্দি করার মতো হৃদয়হীন কাজও তিনি করেছেন। কিন্তু আদতে, একেবারে তরুণ বয়স থেকে শাহ জাহানের চার ছেলেই মুঘল সাম্রাজ্যের সিংহাসনে বসার চেষ্টা চালাচ্ছিলেন। মুঘলরা মধ্য এশিয়ার ওই প্রথায় বিশ্বাস করতেন যে রাজনৈতিক ক্ষমতা পাওয়ার ক্ষেত্রে সব ভাইদেরই সমান অধিকার রয়েছে। আওরঙ্গজেবের সিংহাসনে স্বাভাবিক অধিকার ছিলো। 

দারা শিকোহ আওরঙ্গজেবকে খুব অপছন্দ করতেন। একবার দারা শিকোহর সামনে এক মত্ত হাতি আওরঙ্গজেবকে পিষে মারা চেষ্টা করলেও দারা তার ভাইকে বাচাতে বিন্দুমাত্র চেষ্টা করেনি। দারা ছিলো ভয়ানক প্রতিহিংসাপরায়ন। যেদিন দারা মারা গেলেন, সেদিন আওরঙ্গজেব তাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন যে যদি নিয়তি উল্টোটা হতো, তাহলে ঠিক কী ঘটতো? দারার উত্তর ছিল যে তিনি আওরঙ্গজেবের শরীরকে চার ভাগ করে একেকটি ভাগ দিল্লির প্রধান চার সিংহ-দরজায় ঝুলিয়ে রাখতেন। 

শাহজাহান চেয়েছিলেন বড় ছেলে দারা শিকোহ তাঁর উত্তরাধিকারী হোক। কিন্তু আওরঙ্গজেব বিশ্বাস করতেন মুঘল সালতানাতে তাঁর চেয়ে যোগ্য আর কেউ নেই। ভারতীয় ইতিহাসের একটি বড় প্রশ্ন হলো কট্টর আওরঙ্গজেবের বদলে যদি উদারপন্থী দারা শিকোহ ৬ষ্ঠ মুঘল সম্রাট হতেন, তাহলে কী হতো?

বাস্তবতা হলো মুঘল সাম্রাজ্য চালানো কিংবা জয় করার ক্ষমতা দারা শিকোহ'র ছিলো না। ভারতের সিংহাসন নিয়ে চার ভাইয়ের মধ্যে যখন প্রতিযোগিতা চলছিলো, তখন অসুস্থ্য সম্রাটের সমর্থন ছিলো দারার প্রতি। কিন্তু আওরঙ্গজেবের মতো রাজনৈতিক প্রজ্ঞা তাঁর ছিলো না।

আওরঙ্গজেব ছিলেন একজন নিষ্ঠাবান মুসলিম, তিনি নিয়মিত রোজা রাখতেন, নিয়মিত মসজিদে নামাজ পড়তেন এবং কোরআন তেলাওয়াতও করতেন। আওরঙ্গজেবের প্রিয় খাবারের মধ্যে  ছিলো আম।  কয়েকটা আমের হিন্দি নামকরণও করেছিলেন তিনি, যেমন সুধারস আর রসনাবিলাস।

তিনি এমন কর্মী সদস্যদের নিযুক্ত করেন যারা মানবসম্পদ নিয়ে গবেষণা করেন। তিনি তাঁর দরবারে দিনে তিনবার কোন প্রহরী ছাড়াই বসতেন এবং সরাসরি মানুষের সমস্যা শুনতেন। তিনিই প্রথম রাজা যিনি আইনের উৎস হিসেবে ব্যবহারের জন্য পাণ্ডুলিপিতে ইসলামী আদেশ লিপিবদ্ধ করেন।

যখন তিনি মৃত্যু শয্যায়, তখন তিনি নির্দেশ দিয়েছিলেন যে তার কফিনের দাম যেন ৫ টাকার বেশি না হয় 

১৭০৭ সালের মার্চ মাসের ৩ তারিখ বাদশাহ আওরঙ্গজেব ৫২ বছর ভারত শাসন করার পর মারা যান; মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৯০ বছর। আওরঙ্গজেবকে দাফন করা হয়েছিল মহারাষ্ট্রের খুলদাবাদে একটি কাঁচা কবরে, সেটাই তার শেষ  ইচ্ছা ছিলো। তার মৃত্যুর পর ভারতের মহৎ ইসলামী সাম্রাজ্যেরও অবসান ঘটে। এর পরেই আসে দুর্বল শাসক, তার পরে ব্রিটিশরা।

লেখাটি শান্তা আনোয়ার- এর ফেসবুক থেকে নেওয়া (সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv/এমিজান্নাত 

পরবর্তী খবর

টিউশনির টাকা না দিলে মামলা করার সুযোগ থাকা উচিত

রউফুল আলম

টিউশনির টাকা না দিলে মামলা করার সুযোগ থাকা উচিত

টিউশনি পেয়েছি এক সপ্তাহ হয়েছে। ছাত্রীকে উচ্চমাধ‍্যমিক রসায়ন পড়ানোর কথা। তিনদিন পড়িয়েছি।

দ্বিতীয় সপ্তাহে দেখি স্টুডেন্ট বায়োলজি বই নিয়ে আসছে। একটু অবাক হলাম। পড়ানোর কথা কেমেস্ট্রি। এখন দেখি বায়োলজিও পড়াতে হবে। না ও করতে পারছি না। শাড়ি কিনলে ব্লাউজের কাপড় ফ্রি—এ ধরণের অফার তো আমি দেইনি।

প্রথমবার পড়িয়ে দিলাম। অন‍্যদিন আবার নিয়ে আসলো। বললাম, দেখো কেমেস্ট্রি বইয়ের মধ‍্যে যদি বায়োলজি বই ঢুকিয়ে স‍্যান্ডউইচ বানাতে চাও, সেটা তোমার ব‍্যাপার। তবে সেই স‍্যান্ডইউচ নিয়ে আমার মোটেও আগ্রহ নেই। এই কথা শুনে, দুই চোখ বড়ো করে সে আমার দিকে উচ্চমাধ‍্যমিক একটা লুক দিলো।

দুই সপ্তাহ পড়ানো হলো। তৃতীয় সপ্তাহে একদিন আমি গিয়ে বসে আসি। স্টুডেন্টের খবর নেই। প্রায় আধঘণ্টা পড় এসে বলে, স‍্যার আসেন। সে ঘুম থেকে উঠে, প্রস্তুত হয়ে হেলে দুলে এসেছে! যথারীতি আমার মেজাজ গরম! মেজাজ গরম নিয়ে তো আর তাপউৎপাদী বিক্রিয়া (Exothermic reaction) পড়ানো যায় না! বললাম, আজকে তোমাকে শুধু তাপহারী বিক্রিয়া পড়াবো। স্টুডেন্ট বলে উঠলো—মানে!

দুদিন পর আবারো দেরি। অন‍্য টিচারের কাছে পড়তে গিয়েছে। সেখান থেকে আসতে আসেত আধঘন্টা দেরি। আর আমি লিভিং রুমে বসে বসে পত্রিকা মুখস্থ করছিলাম। সে সময় স্মার্টফোন ছিলো না। থাকলে হয়তো সঙ্গীত অজ্ঞ মাহফুজ স‍্যারের গান উপভোগ করতে পারতাম।

আমি পরে বাসায় এসে স্টুডেন্টকে ফোন করলাম। বললাম তোমাকে আর পড়াবো না। যার সময়জ্ঞান নেই, তাকে অন‍্যজ্ঞান দেয়ার কোন ইচ্ছে আমার নেই। আমার তিন সপ্তাহের টাকা, চেক বা মানি অর্ডার করে (তখন বিকাশ ছিলো না) পাঠিয়ে দিও। ঠিকানা দিয়ে দিলাম। এও বললাম, যদি টাকা না পাঠাও আমি কিন্তু থানায় যাবো।

আরও পড়ুন:

বাড়ানো হয়েছে লঞ্চ চলাচলের সময়

এবার পর্নোগ্রাফি শুটিংয়ের অভিযোগে অভিনেত্রী গ্রেপ্তার

সাকিবের সামনে রেকর্ড গড়ার হাতছানি, যেখানে তিনিই হবেন প্রথম

চিত্রনায়িকা একার বিরুদ্ধে হাতিরঝিল থানায় দুই মামলা


টাকা পাঠায়নি। পড়ে আমি থানায় গিয়েছিলাম। থানায় গিয়ে পরিচয় হয় ইউনিভার্সিটির এক বড়ো ভাইয়ের সাথে। বললাম একটা মামলা করবো। টাকা আদায়ের লক্ষ‍্যে। তিনি আমার ঘটনা শুনে অনেক্ষন হাসলেন। বিষয়টা উনার কাছে হাসির হলেও, আমার কাছে মোটেও হাসির ছিলো না। মামলা করতে পারিনি। এ ধরণের মামলা নাকি করা যায় না।

পাওনা টাকা আদায়ের জন‍্য বাংলাদেশ পুলিশ আইনে সুষ্পষ্ট কোন এক্ট আছে কিনা তখন জানা ছিলো না। এখনো জানা নেই।

তবে এই বিষয়ে কঠোর আইন হওয়া উচিত। মামলার সুযোগ থাকা উচিত।

news24bd.tv/ নকিব

পরবর্তী খবর

হেলেনা জাহাঙ্গীর আওয়ামী লীগ 'নেত্রী' ছিলেন না

আশরাফুল আলম খোকন

হেলেনা জাহাঙ্গীর আওয়ামী লীগ 'নেত্রী' ছিলেন না

হেলেনা জাহাঙ্গীর কখনো আওয়ামীলীগ “নেত্রী” ছিলেন না। ঢাকা শহর ব্যাপী রং বেরঙের পোস্টার ছাপিয়ে আর ফেসবুকে উদ্ভট লাইভ করে তিনি অনেক আগেই আলোচিত।

বছর দুয়েক হলো আওয়ামীলীগের উপ কমিটিতে হয়তো কোনো কায়দা কানুন(!) করে তিনি ঢুকেছেন। এর মানে কি হেলেনা জাহাঙ্গীর “নেত্রী” হয়ে গেলেন? উনি রাজনীতি কবে কোথায় করেছেন? তিনি নিজেও দাবী করেন, তিনি সোশ্যাল ওয়ার্ক করতেন।
 
“নেত্রী” অনেক বড় ও ওজনদার শব্দ। সুতরাং কেউ যদি সংবাদে কিংবা লেখায় সাবেক আওয়ামীলীগ “নেত্রী” লিখেন একটু সিক্সথ সেন্স কাজ করানো উচিত। কেউ লটারিতে অনেক অনেক টাকা পেয়ে গেলে যেমন আমরা তাকে ব্যবসায়ী বলিনা, ভাগ্যবান বলি। ঠিক তেমনি কোন অনুকম্পায় হঠাৎ মন্ত্রী এমপি কিংবা পদপদবী পেয়ে গেলেই তিনি “নেতা কিংবা নেত্রী” হবেন না। “নেতা-নেত্রী” খেতাব অনেক সাধনার ফসল। হুদাই লিখে লিখে কাউকে এই খেতাব দিয়েন না।

আরও পড়ুন


ক্ষমতার দাপট ও ফেরাউনের শেষ পরিণতি

স্বামীর পর্নকাণ্ড: এবার শিল্পা শেঠির সমর্থনে বলি-অভিনেত্রী

ফল খাওয়ার উপযুক্ত সময় কোনটি জেনে নিন

যাকে তাকে নেতা-নেত্রী বানিয়ে প্রকৃত নেতা নেত্রীকে ছোট করা হয়।

লেখাটি আশরাফুল আলম খকন- এর ফেসবুক থেকে নেওয়া (সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv রিমু 

পরবর্তী খবর

বেশিরভাগ অনলাইন টিভির মালিক তথাকথিত কিছু মহিলা উদ্যোক্তা

আশরাফুল আলম খোকন

বেশিরভাগ অনলাইন টিভির মালিক তথাকথিত কিছু মহিলা উদ্যোক্তা

মূলধারার পত্রিকা কিংবা টেলিভিশন এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে তাদের দেখা যেত না। কিন্তু নাম সর্বস্ব এবং অনুমতিবিহীন এইসব অনলাইন টিভির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে তাদের সরব উপস্থিতি থাকে। এই “তাদের” বলতে যাদের বুঝিয়েছি তারা বিভিন্ন পেশার হোমরা চোমরা। আর এই বেশির ভাগ অনলাইন টিভির মালিক হচ্ছে নামিদামি তথাকথিত কিছু মহিলা উদ্যোক্তা(!)। অনেক ছেলে উদ্যোক্তাও এই অনলাইন টিভি করেছেন। কিন্তু তাদের টিভির কোন অনুষ্ঠানে এইসব হোমরা চোমরাদের দেখা যায়না।

যেখানে একটি টিভি চ্যানেল চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন মূলধারার টিভি চ্যানেল এর মালিকরা সেখানে এই নামসর্বস্বরা নামীদামী হোটেলে জমকালো অনুষ্ঠান করে। তাদের আয়ের উৎস কি কেউ জানেনা। ঐসব অনুষ্ঠানে ফুল নিয়ে সেজেগুজে হোমরা চোমরা’রা হাজির হয়ে যান। দেখলে মনে হয় বিয়ে বাড়িতে আসছেন।

আরও পড়ুন:

বাংলাদেশসহ চার দেশে দুবাইগামী ফ্লাইট বন্ধ ৭ আগস্ট পর্যন্ত

স্বামীর পর্নকাণ্ড: মানহানির মামলা নিয়ে শিল্পাকে আদালতের ভর্ৎসনা

হেলেনাকে সম্মানের সঙ্গে ছাড়তে বললেন সেফুদা

সেনাবাহিনীতে বিভিন্ন বেসামরিক পদে ছয় শতাধিক নিয়োগ


হেলেনা জাহাঙ্গীরের টিভির মতো এমন অবৈধ ভুঁইফোড় অনেক অনলাইন টিভি আছে। মাননীয় তথ্যমন্ত্রী বললেন, এর সবই অবৈধ। এটা বন্ধ হলে ওই অবৈধগুলোও বন্ধ হওয়া উচিত। অধিকাংশের কাজই হচ্ছে কোন না কোন ঝান্ধা আর ব্ল্যকমেইল করা।

news24bd.tv/ নকিব

পরবর্তী খবর