কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটির দুই বাংলাদেশি পেলেন ডায়ানা অ্যাওয়ার্ড

অনলাইন ডেস্ক

কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটির দুই বাংলাদেশি পেলেন ডায়ানা অ্যাওয়ার্ড

কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটির দুই বাংলাদেশি পেয়েছেন ডায়ানা অ্যাওয়ার্ড। অনন্য এই স্বীকৃতি উদযাপনে গতকাল দুপুরে কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের উদ্যোগে নিজস্ব ক্যাম্পাসে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

ডায়ানা অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক উপমা আহমেদ এবং শিক্ষার্থী মো. জহিরুল ইসলামের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান, বোর্ড অব ট্রাস্টিজ ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত। সামাজিক পরিবর্তনে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ডায়ানা অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন তারা। 
 
উপমা আহমেদ যুব সংগঠন ‘ইভোলিউশন ৩৬০’ এর মাধ্যমে সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য আন্তর্জাতিক এই স্বীকৃতি পেয়েছেন। অন্যদিকে দৈনন্দিন কাজের বাইরে গিয়ে সামাজিক পরিবর্তন এবং উন্নতিতে ভূমিকা রাখায় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছেন জহিরুল ইসলাম। 

আরও পড়ুন:


ই-কমার্স কেনাকাটায় নতুন মাত্রা নিয়ে ইভ্যালির টি ১০

উন্নয়ন প্রকল্প’র কারণে ঢাকায় জলাবদ্ধতা: মেয়র তাপস

লকডাউনে যা করা যাবে, যা যাবে না !

কোভিড: দেশে ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার আরও বেড়েছে


ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত বলেন, কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ সবসময় সেরা শিক্ষকদের নেয়, এটা আবার প্রমাণ হলো। আমাদের সেরা ছাত্র অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে। তাদের নিয়ে আমরা গর্বিত। আমরা আশা করছি, আগামী বছর আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নতুন কেউ এই অ্যাওয়ার্ড নিয়ে আসবে।

অনুষ্ঠানে কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের ট্রাস্টি বোর্ডের সিনিয়র অ্যাডভাইজর প্রফেসর ড. এইচ এম জহিরুল হক, ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাহফুজুল ইসলাম, রেজিস্ট্রার দিলদার আহমেদ, সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুলের ডিন (ভারপ্রাপ্ত) ড. মো. শাহরুখ আদনান খান, বিজনেস স্কুল বিভাগের প্রধান এস এম আরিফুজ্জামান, মারুফ এইচ খান প্রধান নির্বাহী, আরবিএমকো লি. টিমকো এনভি উপস্থিত ছিলেন।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

৪ মাস পর কাপ্তাই হ্রদে মাছ আহরণ

ফাতেমা জান্নাত মুমু, রাঙামাটি

৪ মাস পর কাপ্তাই হ্রদে মাছ আহরণ

দীর্ঘ ৪ মাস পর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সর্ববৃহৎ কৃত্রিম জলধারা ও বাংলাদেশের প্রধান মৎস্য উৎপাদন কেন্দ্র কাপ্তাই হ্রদে মাছ আহরণের উপরে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।

মঙ্গলবার রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর রাঙামাটি কাপ্তাই হ্রদে আনুষ্ঠানিকভাবে মাছ আহরণ শুরু করবে মৎস্যজীবীরা। এ তথ্য জানান বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফডিসি) রাঙামাটি কাপ্তাই হ্রদ মৎস্য উন্নয়ন ও বিপণন কেন্দ্র ব্যবস্থাপক লে. কর্ণেল মো. তৌহিদুল ইসলাম।

রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, চলতি বছর ১মে থেকে রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে মাছের সুষ্ঠু ও প্রাকৃতিক প্রজনন, বংশ বৃদ্ধি এবং উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে মাছধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। বন্ধকালীন সময় কাপ্তাই হ্রদে এলাকায় সকল প্রকার মৎস্য আহরণ, সংরক্ষণ বাজারজাতকরণ, শুকানো ও পরিবহণ সম্পন্ন নিষিদ্ধ ছিল।
যাতে হ্রদে মাছের প্রাকৃতিক প্রজননের ব্যাঘাত না ঘটে। তবে বন্ধকালীন সময় কাপ্তাই হ্রদে ৪৬ মেট্রিক টন কার্প জাতীয় মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়। এ পোনা মাছগুলো ৪ মাসে মধ্যে আহরণ করার মতো বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া কাপ্তাই হ্রদে মাছ আহরণ বন্ধকালীন সময় বেকার মৎস্যজীবীদেরও পর্যাপ্ত খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। যাতে তারা বেকার সময় দুঃখ কষ্টে না থাকে।

মাছ শিকার শুরু হলেও নির্ধারিত অভায়শ্রম রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের বাংলো ঘাট, রাজবন বিহার ঘাট, লংগদু উপজেলা ইউএনও অফিস ঘাট এবং নানিয়ারচর ছয় কুড়ি বিল সব সময়ের জন্য মৎস আহরণ পূর্বের মতোই বন্ধ থাকবে।

বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফডিসি) রাঙামাটি কাপ্তাই হ্রদ মৎস্য উন্নয়ন ও বিপণন কেন্দ্র ব্যবস্থাপক লে. কর্ণেল মো. তৌহিদুল ইসলাম জানান, রাঙামাটি কাপ্তাই হ্রদ দেশের কার্প জাতীয় মাছের প্রাকৃতিক প্রজননের একটি অন্যতম স্থান। এ হ্রদে প্রতি বছর প্রাকৃতিক প্রজনন কৃত মাছের মধ্যে শতকরা ৩১ ভাগ কাতাল, ১২ ভাগ রুই, শতকরা ৭ ভাগ মৃগেল ও ৫১ ভাগ কালি বাউশের প্রজনন হয়। যা দেশের সামগ্রিক মৎস্য সম্পদের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে আসছে। দেশের রাজস্ব আয়ের বিরাট একটি অংশ হিসেবে কাজ করে। আশা করি বন্ধকালীন সময় কাপ্তাই হ্রদে ব্যাপক প্রজনন হয়েছে মাছের।

আরও পড়ুন:


রাঙামাটিতে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের গুলিতে বৃদ্ধ নিহত


news24bd.tv তৌহিদ

পরবর্তী খবর

জামালপুর-বগুড়ায় ফেরি চালু ১২ আগস্ট থেকে

তানভীর আজাদ মামুন, জামালপুর

জামালপুর-বগুড়ায় ফেরি চালু ১২ আগস্ট থেকে

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বগুড়ার সারিয়াকান্দি খেয়াঘাট থেকে জামালপুরের মাদারগঞ্জে নৌপথে চালু হচ্ছে  ফেরি সার্ভিস। এতে পথ দিয়ে নৌকায় প্রতিদিন হাজারো মানুষ যাতায়াত করে। মানুষের দীর্ঘ দিনের প্রত্যাশা পূরণে বিআইডব্লিউ টিএ এর ফেরি সার্ভিস আগামী ১২ আগস্ট চালু করবে। এতে দুই পাড়ের হাজারে মানুষ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে।

বগুড়া সারিয়াকান্দি থেকে জামালপুর মাদারগঞ্জ উপজেলার জামথল পথে যমুনা নদীর দুই পাড়ের মানুষের দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ১২ আগস্ট থেকে চালু হতে যাচ্ছে ফেরি সার্ভিস।

এতে করে মানুষের দীর্ঘ দিনের ভোগান্তির সমাপ্তি ঘটবে। মাদারগঞ্জ, দেওয়ানগঞ্জ ও কাজলাঘাট এবং অন্য পাড়ে বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার কালীতলা ও মথুরাপাড়া এ দুই নৌঘাট দিয়ে নৌকায় প্রতিদিন হাজারো মানুষ যাতায়াত করে। প্রত্যাশিত ফেরি চালু হবার সাথে এই অঞ্চলের উন্নত হবে মানুষের জীবন-জীবিকার মান। তেমনি বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা হয়ে ঢাকার সাথে দূরত্ব কমে যাবে ৯০ কিলোমিটার। সেই সাথে কমে যাবে যমুনা সেতুর উপর চাপ।

যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেক সাশ্রয় হবে। বেড়ে যাবে ব্যবসা বাণিজ্য, বিভিন্ন ধরনের মালাপত্রের পারাপার, কৃষি সরঞ্জাম ও হালকা যন্ত্রাংশ, যাত্রী পারাপারে কমবে খরচ।

এ পথে চলাচলে নৌকায় কালীতলাঘাট থেকে মাদারগঞ্জ তিন ঘণ্টা সময় লাগে ভাড়া জনপ্রতি ৬০-৮০ টাকা। ফেরি সার্ভিস চালুর প্রস্ততি শেষ। ফেরি সার্ভিস উদ্বোধন করবে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম এমপি জানান, জামালপুর মাদারগঞ্জ থেকে জামথল পর্যন্ত এলজিইডির ১২ ফুট সড়ক ২৪ ফুটে উন্নীত করতে সড়ক ও জনপথ বিভাগে হস্তান্তর করা হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি পেলেই কাজ শুরু হয়ে যাবে। দুইপারের মানুষের দুঃখ-দুর্দশার দিন কেটে যাবে ফেরি সংযোগের সাথে সাথে মানুষের সামাজিক সম্প্রতি বৃদ্ধি পাবে
এবং অর্থনৈতিকভাবে আরো সমৃদ্ধি হবে।

তিস্তামুখ-বাহাদুরাবাদ নৌপথে ১৯৩৮ সালে বাহাদুরাবাদ রেল ফেরিঘাট চালু হয়। ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং বৃহত্তর ময়মনসিংহের জামালপুর, শেরপুর, নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের বৃহত্তর রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী ও বগুড়া থেকে যাত্রী-মালামাল নিয়ে পারাপার হওয়া যেত এই পথে।

আরও পড়ুন: 


সেপ্টেম্বরে ‘খুলছে’ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

পরীমনির বিরুদ্ধে মামলা করবে নাসিরের পরিবার 

আবারও আসতে পারে ‘কঠোর লকডাউন’: ওবায়দুল কাদের


 

news24bd.tv তৌহিদ

পরবর্তী খবর

পদ্মা সেতুতে রেলপথের স্ল্যাব বসানো সম্পন্ন

অনলাইন ডেস্ক

পদ্মা সেতুতে রেলপথের স্ল্যাব বসানো সম্পন্ন

সেতুর রেল অংশ ২ হাজার ৯৫৯টি কংক্রিট স্ল্যাবের মাধ্যমে জোড়া দেওয়া হয়েছে। রোববার মূল পদ্মা সেতুর রেলপথের ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার অংশের সমপূর্ণ স্ল্যাব বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। ডিসেম্বরের মধ্যেই মূল সেতুতে রেল লাইন বসানোর কাজ শুরু হবে। 

গত ৩ মে পদ্মা মূল সেতুর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রেলের ২১ কিলোমিটারের এলিভেটেড অংশ। এপ্রিল পর্যন্ত পদ্মা সেতুর রেল সংযোগ প্রকল্পের অগ্রগতি হয়েছে ৪১ দশমিক ৫০ শতাংশ আর আর্থিক অগ্রগতি ৪২ দশমিক ৯০ শতাংশ। 

পদ্মা সেতু বহুমুখী প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান মো. আবদুল কাদের বলেন, ‘আজ রবিবার পদ্মা মূল সেতুতে স্ল্যাব বসানর কাজ পুরপুরি শেষ হলো। আর কিছুটা কাজ আগানোর পর সেতুর এই অংশটি রেলের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’

পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের পরিচালক গোলাম ফখরুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘আমরা এখনও মূল সেতু থেকে রেলপথের অংশ বুঝে পাইনি। তাদের কাজ প্রায় শেষের পথে। মাওয়া প্রান্ত থেকে এরই মধ্যে রেলের লাইন বসানোর কাজ শুরু হয়েছে। আশা করছি দ্রুতই আমরা মূল সেতুর রেল অংশ বুঝে পাবো। ডিসেম্বরের দিকে মূল সেতুর রেলপথে র্ট্যাক বসানোর কাজ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’ 

আরও পড়ুন:


ইরানের নতুন প্রেসিডেন্টের সংবাদ সম্মেলন কাল

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল পরীক্ষা স্থগিত

‘ড্যাব’কে অনুরোধ জানাব ফখরুলের মানসিক পরীক্ষা করাতে: তথ্যমন্ত্রী


news24bd.tv / কামরুল

পরবর্তী খবর

বিশেষ ট্রেন চালু, মাত্র এক ঘণ্টাতেই ঢাকা-গাজীপুর

অনলাইন ডেস্ক

বিশেষ ট্রেন চালু, মাত্র এক ঘণ্টাতেই ঢাকা-গাজীপুর

ঢাকা-গাজীপুর আসা-যাওয়া করতে পারছেন ৩-৪ ঘণ্টার পরিবর্তে মাত্র এক ঘণ্টাতেই যাত্রীরা। আজ রোববার (২০ জুন) থেকে ঢাকা-গাজীপুর রুটে চলাচল শুরু করেছে তিন জোড়া বিশেষ ট্রেন। অনেকদিন ধরেই ঢাকা-গাজীপুর মহাসড়কের পথে চলাচল করা মানুষের কাছে একটি নিত্য ভোগান্তির নাম।

সব সময়েই লেগে থাকে যানজট। এবারের বর্ষা শুরু হতেই, বড় বড় খানাখন্দে বৃষ্টির পানি জমে যাওয়ায় সড়কটিতে গাড়ি চলাচল করছে মন্থর গতিতে। এতে সড়কের দুই পাশেই তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

এজন্য ভোগান্তি কমাতে রোববার থেকে ঢাকা-জয়দেবপুরে চালু হয়েছে বিশেষ ট্রেন। সকাল-বিকেল তুরাগ এক্সপ্রেস ট্রেন, টাঙ্গাইল ও কালিয়াকৈর কমিউটারের তিন জোড়া ট্রেন যাতায়াত করবে।

এর মধ্যে তুরাগ এক্সপ্রেস ভোর ৫টায় কমলাপুর থেকে ছেড়ে জয়দেবপুর পৌঁছেছে সকাল ৬টায়। সেটিই আবার জয়দেবপুর থেকে নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশে ছেড়ে এসেছে সকাল সোয়া ৭টায়।

দ্বিতীয়টি টাঙ্গাইল কমিউটার বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থেকে সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে ছেড়ে জয়দেবপুর পৌঁছেবে সকাল ৮টা ২০ মিনিটে। যেটি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবে ৮টা ৩০ মিনিটে।

এরপর কালিয়াকৈর কমিউটার ট্রেন কমলাপুর থেকে ছাড়বে দুপুর পৌনে দুইটায়। সেটি আবার জয়দেবপুর থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছাড়বে বিকেল সাড়ে ৫টায়।

আরও পড়ুন:


নরসিংদীতে মাইক্রোবাস-ট্রাক সংর্ঘষে নিহত ৫

বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বার বার ধর্ষণ, আসামি গ্রেপ্তার

বিগো লাইভ-ফ্রি ফায়ার-পাবজি-টিকটক বন্ধে লিগ্যাল নোটিশ

আবারও জিততে ব্যর্থ স্পেন


news24bd.tv / কামরুল

পরবর্তী খবর

আমেরিকা বা দুবাইয়ে নয়, ফরিদপুরের ভাঙ্গা বদলে যাওয়ার চিত্র

নিজস্ব প্রতিবেদক

আমেরিকা বা দুবাইয়ে নয়, ফরিদপুরের ভাঙ্গা বদলে যাওয়ার চিত্র

আধুনিক স্থাপত্যকর্মের এই নিদর্শনটি ইউরোপ, আমেরিকা বা দুবাইয়ে নয়, গড়ে উঠেছে ফরিদপুর জেলার গ্রামীণ জনপদ ভাঙ্গায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অন্যতম অগ্রাধিকার পদ্মা সেতু প্রকল্পের অংশ হিসেবে এরই মধ্যে দেশের প্রথম এক্সপ্রেসওয়ের নান্দনিক এই সড়ক মোড়টি ব্যবহারের সুবিধা পাচ্ছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষ। 

পদ্মা সেতু চালু হলে এই মোড় ব্যবহার করে জেলাগুলো সরাসরি যুক্ত হবে রাজধানীর সঙ্গে। এতে সংযোগ সৃষ্টি হবে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র মোংলা, পায়রা ও বেনাপোল বন্দরের। সড়কের পাশাপাশি তৈরি হবে রেল  যোগাযোগ।

ভাঙ্গা উপজেলার বাসিন্দা লোকমান হোসেন বলেন, এই এলাকাটি যে এভাবে বদলে যাবে তা এখানকার কেউ কল্পনাই করতে পারেনি। ২০০৮ সালে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার আগেও ভাঙ্গা ছিল চায়ের দোকানে ঠাসা শুধু একটি বাস স্টপেজ। ক্ষমতায় এসে নির্মাণ করেন ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক। এরপরই মোড়টির গুরুত্ব বাড়তে থাকে। এখন এই জায়গাটি দেখে বিশ্বাসই হতে চায় না এটি আমাদের সেই ভাঙ্গা। মনে হয় ইউরোপ-আমেরিকার কোনো জায়গা। এখন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসছে মোড়টির সৌন্দর্য দেখতে। ভাঙ্গা উপজেলা শহর এখন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার প্রবেশদ্বার। 

এ প্রবেশদ্বার দিয়ে পশ্চিমে রাস্তা চলে গেছে গোপালগঞ্জ হয়ে খুলনা-বেনাপোল পর্যন্ত। দক্ষিণে মাদারীপুর, বরিশাল হয়ে পটুয়াখালীর সাগরসৈকত কুয়াকাটা, উত্তরে ফরিদপুর শহর হয়ে পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে। পূর্বে মাদারীপুর হয়ে পদ্মা সেতু পার হলেই ২০-২২ মিনিটে ঢাকা। ঢাকার জুরাইন থেকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত ৫৫ কিলোমিটার দীর্ঘ দেশের এই প্রথম এক্সপ্রেসওয়ে এশিয়ান হাইওয়ের করিডর ১-এর অংশ। সড়ক বিভাগের তথ্যমতে, এক্সপ্রেসওয়েটি নির্মাণে খরচ হয়েছে ৬ হাজার ৮৯২ কোটি ২৮ লাখ টাকা। ২০১৬ সালে শুরু হওয়া এই বিপুল কর্মযজ্ঞে অর্থ জোগানদাতা বাংলাদেশ সড়ক বিভাগ। 

বর্তমানে ও ভবিষ্যতে পদ্মা সেতু হওয়ার পর যাতে কোনো যানজট না লাগে সেই সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা থেকেই এমন আধুনিক নকশায় ভাঙ্গা মোড়টি নির্মাণ করা হয়েছে। একটি এক্সপ্রেসওয়ে যে একটি দেশের অর্থনীতির আমূল বদলে দিতে পারে তার অন্যতম উদাহরণ দক্ষিণ কোরিয়া। তিন বছরের যুদ্ধে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া দক্ষিণ কোরিয়া শুধু গিয়ংবু এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করে স্বল্প সময়ে বিশ্বের বুকে শক্তিশালী অর্থনীতির দেশে হিসেবে আবির্ভূত হয়। মহাসড়কটির সঙ্গে সংযুক্ত হয় দেশের ছোট-বড় অসংখ্য শহর। দেশজুড়ে গড়ে ওঠে হাজারো শিল্প-কারখানা। তেমনি পদ্মা সেতুসহ ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের কারণে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বিপুল অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। 

এরই মধ্যে গড়ে উঠতে শুরু করেছে বিভিন্ন শিল্প-কারখানা ও আবাসিক এলাকা। ক্ষমতায় এসে বাংলাদেশকে উন্নত বিশ্বের কাতারে দাঁড় করানোর স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স্বপ্ন বাস্তবায়নে শুরুতেই হাত দেন দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, কর্ণফুলী নদীর নিচে টানেলের মতো বড় বড় প্রকল্প গ্রহণ করেন তিনি। দাতাগোষ্ঠী সহযোগিতা না করলেও তিনি নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর মতো বৃহত্তম প্রকল্পের কাজ শুরুর সাহস দেখিয়েছেন। নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন বাংলাদেশের পক্ষে অসম্ভব বলে অনেকেই তখন মনে করতেন। কিন্তু আজ ঠিকই পদ্মার বুকে দৃশ্যমান স্বপ্নের পদ্মা সেতু।

 ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে ভাঙ্গার মোড়টি যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয় গত বছরের এপ্রিলে। পুরো এক্সপ্রেসওয়েতে রয়েছে ২৫টি ছোট ও ৪টি বড় সেতু, ১৯টি আন্ডারপাস, ৫৪টি কালভার্ট, ৪টি রেলওয়ে ওভারব্রিজ, ৫টি ফ্লাইওভার ও ২টি ইন্টারচেঞ্জ। ভাঙ্গা মোড়ে চারটি আন্ডারপাস, একটি ফ্লাইওভার ও চারটি পৃথক লেন রয়েছে। দ্রুতগতির গাড়ি চলবে এক লেন দিয়ে, ধীরগতির গাড়ি অন্য লেনে। লেন ভুল করলে ঘুরে আসতে হবে অন্তত ১০ কিলোমিটার। এক্সপ্রেসওয়েটি রাজধানীর পোস্তগোলা থেকে মুন্সীগঞ্জ জেলার মাওয়া পর্যন্ত ৩৫ কিলোমিটার। আর নদী পার হয়ে শরীয়তপুর থেকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার। মাঝের প্রায় সাড়ে ৬ কিলোমিটার পদ্মা সেতু যুক্ত করবে দুই পাশকে। পদ্মা সেতু চালু হলে ঢাকা থেকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা যেতে সময় লাগবে ৪০-৪৫ মিনিট, যা এখনো লাগছে আড়াই-তিন ঘণ্টা। 

আগে লাগত ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা। এক্সপ্রেসওয়ের দুই পাশে থাকা দুটি করে সার্ভিস লেন দিয়ে চলবে স্থানীয় যানবাহন। ভাঙ্গা সড়ক মোড়ের চারপাশ এমনভাবে বিন্যস্ত করা হয়েছে যে, বরিশাল, খুলনা, ঢাকা বিভাগের যে কোনো জেলায় যাতায়াত করা যাবে কোনো ক্রসিং ছাড়াই। এটিই এখন দেশের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুতগতির সড়ক। এ ব্যাপারে বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক সামছুল হক বলেন, এটা সম্পূর্ণ দ্বিস্তরবিশিষ্ট রাস্তা। এখানে দ্রুতগতির গাড়ি একসঙ্গে থাকবে, ধীরগতির গাড়ি একসঙ্গে থাকবে। না মেশার কারণে নিরাপত্তা বাড়ার পাশাপাশি যানজট সৃষ্টির সুযোগ থাকবে না।

একটি এক্সপ্রেসওয়ে যেভাবে বদলে দেয় দক্ষিণ কোরিয়াকে : পঞ্চাশের দশকে তিন বছরের যুদ্ধে পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয় দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনীতি। কোরিয়া ছিল বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র একটি দেশ। সেই কোরিয়াকে পরিবর্তন করে দেয় গিয়ংবু নামের একটি এক্সপ্রেসওয়ে। সালটি তখন ১৯৬৩। পার্ক চুং হি ক্ষমতায় এসে রাজধানী সিউলের সঙ্গে দ্বিতীয় বৃহৎ শহর বুসানকে যুক্ত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। গিয়ংবু এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে যুক্ত করতে চান দেশের প্রধান শহরগুলোকে। দরিদ্র দেশে এমন বিলাসবহুল পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছিলেন দেশটির অধিকাংশ অর্থনীতিবিদ ও রাজনীতিবিদ। দাতা সংস্থার কাছে হাত পেতে মেলেনি অর্থ। সমালোচনার মুখেও ১৯৬৭ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার মোট বাজেটের ২৩ দশমিক ৬ শতাংশ বরাদ্দ করা হয় এই প্রকল্প বাস্তবায়নে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ওই সময়েই খরচ হয়েছিল প্রায় ৩৫ মিলিয়ন ডলার। 

১৯৭০ সালে উদ্বোধনের পর প্রায় ৬৩ শতাংশ জনগণ এই সড়ক ব্যবহার করে দ্রুত যোগাযোগের সুবিধা পায়। কোরিয়ায় গড়ে ওঠে হাজারো শিল্প-কারখানা, যার ৮১ শতাংশ যুক্ত হয় এই সড়কে। দক্ষিণ কোরিয়া বিশ্বের অন্যতম নির্মাণ জায়ান্ট হিসেবে আবির্ভূত হয়। গাড়ি নির্মাণসহ বিভিন্ন শিল্প গড়ে ওঠে। বিমানবন্দরসহ বড় বড় স্থাপনা মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে শুরু করে। পদ্মা সেতুসহ দেশের প্রথম এই এক্সপ্রেসওয়েটিও ব্যতিক্রম নয়। দাতাগোষ্ঠীর সহযোগিতা না পেয়ে নিজস্ব অর্থায়নেই পদ্মার বুকে সেতু নির্মাণের কাজে হাত দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই সেতু আজ দৃশ্যমান। সেতু চালু হলে এই মহাসড়কটি রাজধানীর সঙ্গে যুক্ত করবে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলকে। গড়ে উঠবে শিল্প-কারখানা থেকে শুরু করে বড় বড় স্থাপনা। হবে কর্মসংস্থান। বদলাবে অর্থনীতি। সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

আরও পড়ুন:


পাট ক্ষেত থেকে পাওয়া গেল রক্তাক্ত দুই লাশ

ভারতে পাচার হওয়ার পর ফিরে আসা সেই নারীর স্বামী গ্রেপ্তার

পাকিস্তানে যাত্রীবাহী বাস উল্টে ২০ জনের মৃত্যু

যৌনকর্মীদের সাহায্যে হাত বাড়ালেন ঋতুপর্ণা


news24bd.tv / কামরুল 

পরবর্তী খবর