রাঙামাটিতে লজ্জাবতি বানর উদ্ধার

ফাতেমা জান্নাত মুমু, রাঙামাটি:

রাঙামাটিতে লজ্জাবতি বানর উদ্ধার

লজ্জাবতী বানর। অর্থাৎ লাজুক বানর। বড় বড় চোখ। দেখতে বাদামি রঙের। পেঁচার মতো চোখের গঠন। অনেকটা শান্ত প্রকৃতির। অতিবিপন্ন প্রজাতির এ বানর থাকে পাহাড়ের গহীন অরণ্যে। বনে জঙ্গলে মাঝে মাঝে দেখা মিলেও লোকালয়ে দেখা যায় না একে বারেই । তবে সম্প্রতি টানা বৃষ্টিতে এমন একটি লজ্জাবতি বানর আশ্রয় নেয় রাঙামাটি বেতার কেন্দ্র এলাকায়। 

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে আহত অবস্থায় এ লজ্জাবতি বানর উদ্ধার করে রাঙামাটি বেতার কেন্দ্রের কর্মচারী রিপন চাকমা ও রবি চাকমা। পরে খবর দেওয়া হয় পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগে। খবর পেয়ে বেতার কেন্দ্রে ছুঠে আসে রাঙামাটি সদরের রেঞ্জ কর্মকর্তা এস এম মাহবুবুল আলম। 

এ সময় রাঙামাটি বেতার কেন্দ্রের আঞ্চলিক পরিচালক মোহাম্মদ সেলিম লজ্জাবতি বানরটি বনবিভাগের সদরের রেঞ্জ কর্মকর্তা এস এম মাহবুবুল আলম কাছে হস্তান্তর করেন। এ সময় রাঙামাটি বেতারের আঞ্চলিক প্রকৌশলী আবু সায়েদ, সহকারী বার্তা নিয়ন্ত্রক এ এম নূরুল আমিন উপস্থিত ছিলেন। 

রাঙামাটি সদরের রেঞ্জ কর্মকর্তা এস এম মাহবুবুল আলম জানান, উদ্ধারকৃত লজ্জাবতি বানরটি অসুস্থ্য। তাকে চিকিৎসা সেবা দেওয়ার পর বনে অবমুক্ত করা হবে।

তিনি বলেন, পার্বত্যাঞ্চলে একটা সময় বিপুল পরিমাণের এ লজ্জাবতি বানরের দেখা মিলত। কিন্তু এখন তেমন একটা চোখে পরে না। মানুষের কারণে এসব জীব বৈচিত্র এখন প্রায় বিপন্ন। তাই বন্যপ্রার্ণী রক্ষাতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহবান জানান তিনি। 

আরও পড়ুন


সারা দেশে করোনায় মৃত্যুর রেকর্ড, দক্ষিণ-উত্তর পশ্চিমাঞ্চলে ৯৬ জন

গত ২৪ ঘণ্টায় খুলনা বিভাগে করোনায় মৃত্যু রেকর্ড

কঠোর লকডাউনে ২০০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

চার চাকার গাড়ি উড়ছে আকাশে (ভিডিও)


news24bd.tv / কামরুল 

পরবর্তী খবর

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় সাদা বাঘের বাচ্চার জন্ম (ভিডিও)

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় সাদা বাঘের বাচ্চা হয়েছে। গত ২৬ আগস্ট বাঘটি বাচ্চার জন্ম দিয়েছে। বৃহস্পতিবার চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ সাংবাদিকদের এ খবর জানায়। 

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা থেকে বিস্তারিত জানাচ্ছেন সহকর্মী নয়ন বড়ুয়া জয়।

আরও পড়ুন:


বগুড়ায় বাসের ধাক্কায় অটোরিকশার দুই নারী যাত্রী নিহত

জামালপুর থেকে নিখোঁজ ৩ মাদ্রাসাছাত্রীকে ঢাকা থেকে উদ্ধার

যশোরের ১৮টি রুটে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে


NEWS24.TV / কামরুল

পরবর্তী খবর

সুড়ঙ্গে ঢুকে ১০৬ জন নিয়ে উধাও ট্রেন, খোঁজ মেলেনি ১১০ বছরেও

অনলাইন ডেস্ক

সুড়ঙ্গে ঢুকে ১০৬ জন নিয়ে উধাও ট্রেন, খোঁজ মেলেনি ১১০ বছরেও

ঘটনার প্রথম অংশ শুনেই মনে হতে পারে কোন বানানো বা রহস্যজনক গল্প। আসলেই এটি গল্প কিন্তু বানানো বা মিথ্যা নয় সত্যি ঘটনা। ১৯১১ সালের এই ঘটনার সাক্ষী ইটালি। ঠিক ১১০ বছর আগে ইটালির জেনেটি নামে একটি রেল সংস্থা বেশ ধুমধাম করে নতুন ওই ট্রেনের যাত্রা শুরু করেছিল।

উদ্বোধনের দিন বিনা টিকিটে ১০০ জন যাত্রী ও ৬ জন রেলকর্মীকে নিয়ে রওনা দিয়েছিল ট্রেনটি। কিন্তু দূর্ভাগ্য ট্রেনটি আর গন্তব্যে পৌঁছায়নি। রসহ্যজনকভাবে পথেই গায়েব হয়ে যায় ট্রেনটি। যার খোঁজ আজ পর্যন্ত মেলেনি।

ট্রেনে থাকা সেই ১০৬ জন মানুষেরও খোঁজ মেলেনি। এতোগুলো মানুষ নিয়ে কিভাবে আন্ত একটি ট্রেন গায়েব হয়ে যেতে পারে যার কারণ অনুসন্ধান করতে পারেনি বিজ্ঞানীরা। শোনা যায়, অনেক খুঁজেও ট্রেনের কোনও চিহ্ন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

ওই ট্রেন যেদিক দিয়ে যাচ্ছিল সেই পথেই ছিল একটি সুড়ঙ্গ। ট্রেন সেই সুড়ঙ্গে তো প্রবেশ করেছিল কিন্তু আর বের হয়নি। পরবর্তীকালে ট্রেনের সন্ধানে সুড়ঙ্গের মধ্যে অনেকেই গিয়েছেন। কিন্তু তন্ন তন্ন করে খুঁজেও তার চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

পাহাড়ের বুক চিরে তৈরি হওয়া ওই সুড়ঙ্গের ভিতর আর কোনও রাস্তাও ছিল না। ট্রেন দুর্ঘটনারও কোনও চিহ্ন মেলেনি।

ট্রেনের মধ্যে মোট ১০৬ জন ছিলেন। তাঁদের মধ্যে দু’জনের সন্ধান পরবর্তীকালে পাওয়া গিয়েছিল। সুড়ঙ্গের বাইরে থেকে তাঁদের উদ্ধার করা হয়েছিল। সেই সময় প্রকাশিত খবর অনুয়ায়ী, অগোছালো কথা বলছিলেন তাঁরা। ওই ঘটনা সম্বন্ধে বিশদে সে ভাবে কিছুই জানাতে পারেননি তাঁরা।

দু’জনের কথার বিষয়বস্তু ছিল একই। সুড়ঙ্গে প্রবেশের মুহূর্তে সাদা ধোঁয়া গ্রাস করেছিল ট্রেনটিকে। সেই সময় নাকি কোনওক্রমে দু’জনে ট্রেন থেকে ঝাঁপ দেন। তার পর আর কিছু মনে ছিল না তাঁদের।

আরও পড়ুন


ভাইরাল সেই মাসুদের খবর জানলেন হাইকোর্ট

আইপিএলের বাকি ম্যাচ খেলতে স্ত্রীকে নিয়ে দুবাই গেলেন মোস্তাফিজ

ইসলামে পরিমিত খাবার গ্রহণের গুরুত্ব

অতিরিক্ত অর্থ দাবি করায় হোটেলেই হাত-পা বেঁধে যৌনকর্মীকে হত্যা


মেক্সিকোর এক চিকিৎসক দাবি করেন, অনেক বছর আগে মেক্সিকোর একটি হাসপাতালে নাকি ওই ১০৬ জন যাত্রীকে ভর্তি করা হয়েছিল। তাঁরা প্রত্যেকেই অসংলগ্ন কথা বলছিলেন। প্রত্যেকেই কোনও একটি ট্রেনের উল্লেখ করেছিলেন। সেই ট্রেনে করেই নাকি তাঁরা মেক্সিকো পৌঁছেছিলেন।

এমনকি ইটালির বিভিন্ন প্রান্তে, জার্মানি, রোমানিয়া এবং রাশিয়াতেও নাকি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মানুষ ঠিক ওই রকমই একটি যাত্রিবোঝাই ট্রেন দেখতে পেয়েছেন বলে দাবি করতে শুরু করেছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা ট্রেনের যে বর্ণনা দিয়েছিলেন তা হুবহু ওই অদৃশ্য হওয়া ট্রেনটির মতো ছিল। সেই সময় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী ট্রেনটি নাকি টাইম ট্রাভেল করে ১৮৪০ সালের মেক্সিকোয় পৌঁছে গিয়েছিল। সূত্র: আনন্দবাজার

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর

চাঁপাইনবাবগঞ্জের কাঁসা শিল্পের নাম বিশ্বব্যাপী

মো.রফিকুল আলম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ:

চাঁপাইনবাবগঞ্জের কাঁসা শিল্পের নাম বিশ্বব্যাপী

বাঙ্গালীর গৃহস্থালী ও সংস্কৃতির সাথে চাঁপাইনবাবগঞ্জের কাঁসা শিল্পের নাম দেশজুড়ে থাকার পরও উপমহাদেশে এর বিস্তৃতি ছড়িয়ে ছিল। তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, মোঘল শাসনামলে এদেশে কাঁসা-পিতলের ব্যবহার শুরু হয়। 

প্রথমে তারা কাঁসা-পিতল দিয়ে ঢাল-তলোয়ারের প্রচলন শুরু করলে সৌখিন রাজা-বাদশাহরা কাঁসার বাসন- কোসনের ব্যবহার শুরু করে। তখন থেকেই এই শিল্পের ব্যবহার বেড়ে যায়, তৈরি হয় নতুন নতুন কারিগর। 

চাঁপাইনবাবগঞ্জের কাঁসা শিল্পের নাম ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বব্যাপী। কিন্তু কালের আবর্তে কাঁসা পিতরের দাম বেড়ে যাওয়ায় এবং প্লাষ্টিক, মেলামাইন, ষ্টেইনলেস ষ্টিল ও কাঁচের সামগ্রী দামে কম ও সহজলভ্য হওয়ায় এখন কাঁসা-পিতলের সামগ্রী বেচা-কেনা কমে গেলেও বিয়ে, খাৎনা বা নতুন সন্তান জন্ম হলে এর কদর আজও রয়েছে। 

কারণ এই সব উপলক্ষে এখনও কাঁসার, বাসন কোসন উপহার হিসেবে দেয়া হয়। তবে এখন মেলামাইন ও কাচের জিনিসপত্রের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং কাঁসা-পিতলের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় কাঁসার কারিগররা দুর্দিনের মধ্যে পড়লেও বাপ-দাদার পেশা টিকিয়ে রাখতে জেলায় এখন প্রায় ৩’শ কারিগর সক্রিয় রয়েছে। কিন্তু পূর্বে প্রায় ১০ হাজার কাঁসার কারিগর ছিল বলে জানা যায়। 

কাঁসার জিনিসপত্র তৈরির জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের রামকৃষ্টপুর, শংকরবাটী, আজাইপুর ও রাজারামপুর এলাকা ছিল বিখ্যাত। এই কাঁসা শিল্পীরা নিপুন হাতে তৈরি করতেন থালা, বাটি, গ্রাস, কলস, গামলা, বড় হাঁড়ি বা তামাড়ী, চামচ, বালতি, ফুলদানী, কড়াই, হাঁড়িপাতিল, পিতলের ক্রেষ্ট, স্কুলের ঘন্টা, পানদানিসহ বিভিন্ন উপহার সামগ্রী। 

এছাড়া কাঁসার থালায় ও ক্রেস্টের ওপর নিপুন হাতে তৈরি ঐতিহাসিক সোনামসজিদ, মহানন্দা ব্রীজ ও আম বাগানের মনোরম দৃশ্য সবার নজর কাড়ে। 

আজাইপুরের কাঁসার কারিগর আব্দুস সামাদ জানান, এখন জেলায় প্রায় ৩০টি কারখানা থাকলেও তাঁদের কোন পারমিট নেই। পারমিট রয়েছে ২০/২৫জন মহাজনের কাছে। 

ফলে তাদের কাছে উচ্চমূল্যে কাঁসা পিতল কিনতে হচ্ছে। রামকৃষ্টপুরের কাঁসার কারিগর ইসলাম জানান, তারা বংশানুক্রমকিভাবে প্রায় ৮৫ বছর ধরে কাঁসার কাজ করে আসলেও পারমিট (কাঁসা বহনের অনুমতিপত্র) পাননি।

পেয়েছেন কাঁসার এক শ্রেণীর মহাজনেরা। একই এলাকার আরেক কাঁসার কারিগর আসলাম জানান, তার দাদা ও পিতা কাঁসার শিল্পের নিপুন কারিগর ছিলেন এবং তিনি শত কষ্টেও বাপ-দাদার এ পেশা ছাড়তে পারেননি। 

বটতলাহাটের কাঁসার কারিগর সাদেক জানান, বর্তমানে বাজারে ১৮’শ টাকা কেজি দরে কাঁসার বাসন-কোসন বিক্রি হচ্ছে এবং পুরাতন কাঁসা কেনা হচ্ছে এক হাজার টাকা কেজি দরে। তিনি জানান, একজন কারিগর ২’শ টাকা কেজি দরে বাসন-কোসন তৈরির মজুরি পেয়ে থাকে। 

এদিকে মূল্যবৃদ্ধি পাওয়া সত্ত্বেও ঐতিহ্য ধরে রাখতে আজও জেলার প্রতিটি ঘরে ঘরে কাঁসার থালা-বাসনের ব্যবহার দেখা যায়। 

আরও পড়ুন:


ড. ইউনূসসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা

এবার প্রকাশ্যে নতুন স্বামীর জবাব দিলেন মাহী!

গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হিরো আলম

ফ্লাইওভার থেকে বাইক নিয়ে ৪০ ফুট নীচে পড়ে যুবকের মৃত্যু


NEWS24.TV / কেআই

পরবর্তী খবর

গরুর অভাবে ঘানি টেনে চলছে দম্পতির জীবনযুদ্ধ!

আব্দুল লতিফ লিটু, ঠাকুরগাঁও

গরুর অভাবে ঘানি টেনে চলছে দম্পতির জীবনযুদ্ধ!

দেশি সরিষা পেষাই করে তেল বের করার যন্ত্রকে ঘানি বা ঘানিগাছ বলা হয়। সাধারণত ঘানি টানার জন্য কলুরা গরু ব্যবহার করেন। তবে দরিদ্র খর্গ মোহন সেন’র গরু কেনার সামর্থ্য নেই। অভাবের সংসার। এক দিন ঘানি না ঘোরালে সংসারের চাকা ঘোরে না।

১২৫০ গ্রাম তেল উৎপাদনে দম্পতির ঘানির জোয়ালে হাঁটতে হয় ৮ থেকে ৯ কিলোমিটার। ঘানি টেনে চলছে দম্পতির জীবনযুদ্ধ! স্বামী-স্ত্রী মিলে কাঠের তৈরি কাতলার ওপর প্রায় ৪৫০ কেজি ওজন বসিয়ে ঘাড়ে জোয়াল নিয়ে ঘানি টানছেন দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে।

ঘানির টানে ডালার ভেতর সরিষা পেশাই হয়ে পাতলানী দিয়ে ফোঁটা ফোঁটা তেল পড়ে ঘটিতে। বাজারে বা গ্রামে সেই তেল বিক্রি করতে পারলেই সংসার চলে তাঁদের।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার গড়েয়া ইউনিয়নের গুয়াবাড়ি কিসামত এলাকার খর্গ মোহন সেন ও তার সহধর্মিণী রিনা রানী সেন। তাঁদের তিন ছেলে ও এক কন্যাসন্তান রয়েছে। ভিটাবাড়িটুকুই সম্বল। মানুষকে নির্ভেজাল তেল খাওয়াবেন বলে বংশ পরম্পরায় এ পেশা তাঁরা এখনো ছাড়ছেন না। তাঁদের বংশের সবাই এ পেশা ছেড়ে দিয়েছেন। গ্রামের মানুষ এ পেশা ছেড়ে দিতে বলেন এবং মাঝেমধ্যেই কটূকথাও বলেন। সব কিছু সহ্য করে বাপ-দাদার পেশা আগলে ধরে রেখেছেন। মেশিনের তৈরি সরিষার তেলের দাম বাজারে কম। ঘানি ভাঙা তেলের দাম বেশি। সাধারণ মানুষ বেশি দামে ঘানির তেল কিনতে চায় না। যারা ভেজালমুক্ত ঘানি ভাঙা খাঁটি সরিষার তেল কেনেন, সংখ্যায় তাঁরা একবারে খুবই কম।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার গড়েয়া ইউনিয়নের গুয়াবাড়ি কিসামত গ্রামে একসময় অনন্ত শতাধিক পরিবারের ঘানিগাছ ছিল। কালের বিবর্তনে আর ইঞ্জিলচালিত যান্ত্রিক চাকার কারণে ঘানিশিল্প এখন প্রায় বিলুপ্তের পথে। গুয়াবাড়ি কিসামত গ্রামে একটি বাড়িতে এখন মাত্র একটি ঘানিগাছ রয়েছে। খর্গ মোহন সেন ও তার সহধর্মিণী রিনা রানী সেন ঘানিগাছের জোয়াল টানেন।

খর্গ মোহন সেন বয়স প্রায় ৬০ বছর, তাঁর স্ত্রী রিনা রানী সেন বয়স ৫৫ বছর। একসময় তাঁরা ঘানি ভাঙা ৬ থেকে ৭ কেজি তেল উৎপাদন করতে পারতেন। বয়সের কারণে আগের মতো শরীরের শক্তি নেই। হতদরিদ্র স্বামী-স্ত্রী এখন মাঝেমধ্যে নিজেরাই ঘাড়ে জোয়াল নিয়ে ঘানি টানেন। ১ থেকে ২ কেজি তেল উৎপাদন করতে পারলে বাজারে নিয়ে বিক্রি করে কোনোরকমে সংসার চালান। বয়সের ভারে মাঝেমধ্যে শরীর ভালো থাকে না। সে সময়টা দরিদ্র পিতা মাতাকে সন্তানের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয় এক মুঠো ভাতের জন্য।

সরেজমিনে গুয়াবাড়ি কিসামত গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, বাড়িটিতে একটি ঘানিগাছ রয়েছে। সেটিতে তেল উৎপাদন হচ্ছে। রিনা রানী সেন এর স্বামী খর্গ মোহন সেন বাড়ির বারান্দায় বসে তেল মেপে দিচ্ছেন কামরুল হাসান নামের এক যুবককে। পাশের একটি ছোট্ট ভাঙা ঘরে ঘানি টানছেন রিনা রানী সেন (৫৫)। ঘানির ডালার ভেতরে দেশি পাঁচ কেজি সরিষা দিয়ে প্রায় চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা যাবৎ ঘানি টেনে ১২৫০ গ্রাম পরিমাণ তেল উৎপাদন করেছেন। খৈল হয়েছে প্রায় তিন কেজি। দেশি সরিষার দাম এখন বেশি হওয়ায় প্রতি কেজি তেল বিক্রি করেন ৪০০ টাকা। আর খৈল বিক্রি করেন ৭০ টাকা কেজি দরে।

গুয়াবাড়ি কিসামত এলাকার অশেষ রায় বলেন, একসময় এ গ্রামে অনেক গাছ ছিল (ঘানিগাছ) এখন নেই বললেই চলে, বর্তমানে এই একটি বাড়িতেই রয়েছে। খর্গ মোহন সেন এর পরিবার অভাবগ্রস্থ, গরু কেনার সামর্থ্য নেই। ঘাড়ে জোয়াল নিয়ে স্বামী, স্ত্রী হাড়ভাঙা পরিশ্রম করেন।

আরও পড়ুন:

ডায়োজিনিস দ্য সিনিক হতে পারেন আমাদের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত!

দীর্ঘ ১৮ মাস পর খুললো স্কুল-কলেজ

কানাডায় ৯/১১ এর বিশ বছর অতিক্রম নিয়ে ভার্চুয়াল আলোচনা অনুষ্ঠিত

বাউল সম্রাট শাহ্ আব্দুল করিমের ১২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ


রিনা রানী সেন জানান, টাকার অভাবে গরু কিনতে পারি না, স্বামী-স্ত্রী নিয়ে এক জোয়াল টানি, একদিন জোয়াল টানতে না পারলে খাব কী? বয়স হচ্ছে, আগের মতো পারি না, দুটি না হলেও একটি গরু থাকলেও এমন হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম স্বামী স্ত্রীর করতে হতো না। মাঝেমধ্যে আমার বড় ছেলে ঘানি টেনে সহযোগিতা করেন।

খর্গ মোহন সেন বলেন, আগের মতো দেশি সরিষা পাওয়া যায় না, গ্রামে ঘুরে ঘুরে সরিষা সংগ্রহ করি, তার পরও দাম বেশি। বাপ-দাদার সঙ্গে জোয়াল (ঘানি) টানতে টানতে অন্য কোনো পেশা শিখতে পারিনি। প্রায় পাঁচ যুগ ধরে নিজে জোয়াল টানছি। এখন আর শরীর চলে না, স্ত্রীর সঙ্গে বড় ছেলে জোয়াল টানে। একটি গরু থাকলে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বংশ পরম্পরায় পেশাটি ধরে রাখতে পারতাম।

news24bd.tv/ নকিব

পরবর্তী খবর

লেখাপড়া করার সুযোগ চায় ঠাকুরগাঁওয়ের দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শরীফ আলী

আব্দুল লতিফ লিটু, ঠাকুরগাঁও

লেখাপড়া করার সুযোগ চায় ঠাকুরগাঁওয়ের দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শরীফ আলী

শিক্ষা ছাড়া বেচেঁ থাকা অর্থহীন একটি মানুষের জীবনে। কিন্তু চোখে আলো না থাকায় সবকিছু যে তার কাছে অন্ধকারাচ্ছন্ন। ঠাকুরগাঁওয়ের মুন্সির হাট মাদ্রাসা পাড়ার দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী শরীফ আলী। অন্ধত্ব তার কাছে বড় অভিশাপ! একদিকে অন্ধত্বের অভিশাপ, অন্যদিকে লেখাপড়া ছাড়া শূণ্য ভবিষ্যত নিয়ে অনিশ্চিত জীবন শরীফ আলির।

করোনায় সরকারিভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের প্রায় দেড়বছর পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্তে আনন্দিত শিক্ষার্থীরা। কিন্তু চিন্তার শেষ নেই ঠাকুরগাঁওয়ের শিক্ষার্থী শরীফের। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হওয়ায় মাধ্যমিকের কোন বিদ্যালয়েই ভর্তির সুযোগ পাচ্ছেনা সে। তবে কী দৃষ্টি প্রতিবন্ধী এই শিক্ষার্থীর শিক্ষার জীবন এখানেই শেষ? এমন প্রশ্ন শিক্ষার্থীর বাবা-মায়ের।

ঠাকুরগাঁও শহরের মুন্সির হাট মাদ্রাসা পাড়া এলাকার দরিদ্র পরিবারের সন্তান শরীফ। ছোটবেলায় মাত্র তিনবছর বয়সে মারাত্মক অসুখে চোখের জ্যোতি হারিয়ে যায় তার। অনেক কষ্টে তার মা বাবা দেশে ও ভারতে চিকিৎসা করান। কিন্তু টাকার অভাবে ভারতে উন্নত চিকিৎসা করাতে পারে না তার পরিবার।

শরীফ জানায়, দৃষ্টি প্রতিবন্ধীরা পরিবার ও সমাজের বোঝা। বোঝা হয়ে সে থাকতে চায়না। তাই পঞ্চম শ্রেণী থেকে উত্তীর্ণ হওয়ার পর ৬ষ্ট শ্রেণীতে ভর্তির জন্য প্রথমে স্থানীয় সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় ও পরবর্তীতে সমাজ সেবা কার্যালয় ও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে বহুবার যোগাযোগ করেছে সে। এরই মধ্যে প্রায় আট মাস অতিবাহিত হয়ে গেছে। কালক্ষেপণ করে সকলেই তাকে আশ্বাস দিলেও কেউই তার ভর্তির বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছেনা। স্কুলে ভর্তির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সহ শিক্ষা মন্ত্রীর সুদৃষ্টি ও সহযোগীতা কমনা করেছেন শরীফ আলী।

এদিকে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সন্তানের ভবিষ্যত ও সুচিকিৎসা নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন পার করছেন দরিদ্র পিতা-মাতা। শরীফের বাবা রমজান আলীর অভিযোগ করে বলেন, ঠাকুরগাঁও সরকারী বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের ভর্তির কোটা ও নিয়ম থাকলেও তা মানা হচ্ছেনা। তার দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সন্তানের শিক্ষার ক্ষেত্রে কারো সহযোগীতাও পাচ্ছেন না তিনি।

শরীফের মা শফুরা বেগম জানান, তার মৃত্যুর পর শরীফ অসহায় হয়ে পড়বে। কেউই তার পাশে থাকবে না। তাই লেখাপড়া জানা থাকলে ভবিষ্যতে আর যাই হোক শরীফকে ভিক্ষা করে চলতে হবে না। তাই সন্তানের স্কুলে ভর্তির বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রীর সুদৃষ্টি ও সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

জেলা সমাজ সেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো: আল মামুন জানান, জেলা সমাজ সেবা কার্যালয়ের অধীনে সমন্বিত দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হোস্টেলে শরীফ ভর্তি রয়েছে। করোনায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় হোস্টেল বন্ধ রয়েছে। হোস্টেলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও জনবল সংকটের কারণে শিক্ষা কার্যক্রম কিছুটা বিঘ্নিত হচ্ছে। তবে শরীফের ৬ষ্ট শ্রেণীতে ভর্তির বিষয়ে চেষ্টা চলছে।

আরও পড়ুন:

কোহলিকে নিয়ে নিজের গোপন তথ্য ফাঁস করলেন নায়িকা

টানা লোকসানে ভারতে ফোর্ডের কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্ত

হিজাব ছাড়া নারীদের নিয়ে তালেবান কর্মকর্তার বিস্ফোরক মন্তব্য

পরীমণি অত্যন্ত মানবিক, তার ঋণ শোধ করা যাবে না: পরিচালক


ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পিযুষ কান্ত রায় জানান, সমাজ সেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে তার বিদ্যালয়ে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষার সুযোগ থাকলেও এর জন্য নির্দিষ্ট শিক্ষক ও উপকরণ সুবিধা নেই। বিদ্যালয়ে যে চারজন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী রয়েছে তাদেরও শিক্ষার ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। শরীফের ভর্তির বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশ পেলে ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জেলা শিক্ষা অফিসার খন্দকার মো: আলাউদ্দীন আল আজাদ জানান, ঠাকুরগাঁওয়ে যে দুটি সরকারি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে তার সভাপতি জেলা প্রশাসক। ভর্তির বিষয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করার পরামর্শ দেন তিনি।

সরকারি তথ্যানুযায়ী ঠাকুরগাঁও জেলায় মোট ১৬৬৮ জন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী রয়েছে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ এবং নির্দিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না থাকায় অধিকাংশ শিক্ষার্থীই শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

news24bd.tv/ নকিব

পরবর্তী খবর