যে কারণে ইরানের যাত্রীবাহী বিমানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র
যে কারণে ইরানের যাত্রীবাহী বিমানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র

যে কারণে ইরানের যাত্রীবাহী বিমানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র

অনলাইন ডেস্ক

আজ থেকে ৩৩ বছর আগে ১৯৮৮ সালের এই দিনে ইরানের একটি যাত্রীবাহী বিমান ধ্বংস করে দেয় মার্কিন নৌবাহিনী। পারস্য উপসাগরে ইরান উপকূলের সমুদ্রসীমায় ঢুকে ‘ভিনসেন্স’ নামের একটি মার্কিন যুদ্ধ জাহাজ ওই সন্ত্রাসী হামলা চালায়। ফলে বিমানটির ২৯০ জন আরোহীর সবাই প্রাণ হারান। বিমানটিতে ছিল ৬৬টি শিশু ও ৫৩ জন মহিলা।

বিদেশি নাগরিক ছিল ৪৬ জন।

পশ্চিমা মদদে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে তখন পরাজিত হওয়ার দ্বারপ্রান্তে ছিল সাদ্দাম বাহিনী। সাদ্দাম বাহিনীকে রক্ষা করতেই ইরানি ওই যাত্রীবাহী বিমানটি ভূপাতিত করা হয়। সেদিন ইরানের বন্দর নগরী ‘বন্দর আব্বাস’ থেকে ইরান এয়ারের ৬৫৫ নম্বর ফ্লাইটের মাধ্যমে মাত্র ত্রিশ মিনিটের এক নিয়মিত যাত্রায় দুবাই যাওয়ার জন্য ওই বিমানে আরোহন করেন ২৯০ জন নিরপরাধ মানুষ।

বিমানটি আকাশে উড়ার কিছু সময় পরই মার্কিন ভিনসেন্সের ক্যাপ্টেন ইরানের ঐ যাত্রীবাহী বিমানের ওপর মিসাইল ছোঁড়ার আদেশ দেন। ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বিমানটি আকাশেই বিধ্বস্ত হয়।   ইরান এয়ারের বহু মূল্যবান এয়ার বাস এ-৩০০ বিমানটি যখন ধ্বংস হয় তখন তার ভেতরে অনেক নারীর কোলে ছিল তাদের ছোট বাচ্চারা।

বিশ্ববিবেক যুক্তরাষ্ট্রের এই অপরাধের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়। কিন্তু ওই হামলার বিষয়ে মার্কিন নেতারা কখনও কোনো দুঃখ প্রকাশতো করেইনি বরং অমানবিক অবস্থান নিয়ে তারা ওই অপরাধের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন।

মার্কিন নেতারা দায়সারা গোছের ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন যে, ভুলক্রমে ঘটনাটি ঘটেছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষ দাবি করে, তারা যাত্রীবাহী বিমানটিকে ভুল করে ইরানের বিমান বাহিনীর এফ-১৪ জঙ্গিবিমান ভেবেছিল।


আরও পড়ুন:

বাচ্চা বড় হলে মাকে কেন বুড়ি লুক নিতে হবে

সামাজিক মাধ্যমগুলো রাশিয়ায় অফিস খুলতে বাধ্য হবে

যুক্তরাষ্ট্র ও চীন থেকে ৪৫ লাখ ডোজ টিকা এলো

নাটোরের ৩ লাখ ৩৫ হাজার গবাদি পশু অনলাইনে বিক্রির প্রস্তুতি


এই দাবি যে কতখানি মিথ্যা তা যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক রাডার ব্যবস্থা এবং তাদের যুদ্ধজাহাজে স্থাপিত অতি উন্নত যান্ত্রিক যুদ্ধসরঞ্জামের পরিপ্রেক্ষিতে অনুমান করা যায়। খালি চোখেও যেখানে জঙ্গিবিমান এবং যাত্রীবাহী বিমানে পার্থক্য বোঝা যায়, সেখানে মার্কিন নৌবাহিনীর অত্যাধুনিক রাডার ব্যবস্থা ভুল করবে- এটা হতেই পারে না।

পরবর্তীতে এটা জানা গেছে যে,মার্কিন যুদ্ধ জাহাজের যেই সেনাকে যাত্রীবাহী ইরানি বিমান টার্গেট করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়তে বলা হয়েছিল সে প্রথমে ওই অমানবিক নির্দেশ শুনে হতবাক হয়ে গিয়েছিল কারণ, জাহাজের সবার কাছেই এটা স্পষ্ট ছিল যে, ইরানি বিমানটি ছিল একটি যাত্রীবাহী বিমান  এবং তাই সে ওই নির্দেশ মানতে প্রথমে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। কিন্তু এরপর যখন তাকে সামরিক আদালতে বিচার করার হুমকি দেয়া হয় তখন সে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের নির্দেশ পালন করে।

সূত্রঃ পার্সটুডে

news24bd.tv / নকিব

;