টিভি জনপ্রতিনিধিদের কাছে যাচ্ছে না কেন?
টিভি জনপ্রতিনিধিদের কাছে যাচ্ছে না কেন?

টিভি জনপ্রতিনিধিদের কাছে যাচ্ছে না কেন?

Other

আমাদের টেলিভিশনগুলোকে বলছি,লকডাউন শুরু হতে না হতেই দিনমজুর, রিক্সা, ভ্যানওয়ালাদের সামনে বাইক ধরে তাদের কর্মহীনতা, দুঃখ-কষ্টের স্টোরি প্রচার করতে শুরু করেন।  

যার মূল মেসেজটাই থাকে " বউপোলাপান নিয়া খাবো কি? "

অত্যন্ত মানবিক একটি দিক,যৌক্তিক একটি প্রসঙ্গ। কিন্তু একবারও আপনাদের টিভিগুলোর বাইক "এই খাবো কি? " প্রসঙ্গ নিয়ে ঢাকা শহরের ওয়ার্ড কাউন্সলর, ক্ষমতাসীন দলের ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি, সেক্রেটারির সামনে যায় নি।  

এরা ডুব মেরে আছেন, এদের সামনে আনেন।

এরা চাইলেই অনায়াসে টানা পনেরো দিন তাদের ওয়ার্ডের দিনমজুর, রিক্সা, ভ্যানওয়ালা, ছিন্নমূল মানুষদের অন্তত একবেলা মোটা চালের খিঁচুরি খাওয়াতে পারেন।

আমি বাজি রেখে বলতে পারি, ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের ৯৯.৯৯ ভাগ ওয়ার্ড কাউন্সিলরই কোটিপতি। এরা কেন করোনাকালের এই দুঃসময়ে ঘাপটি মেরে আছেন। তাঁদের প্রশ্ন করুন এই করোনা মোকাবেলায় তাদের ভূমিকা কি? কেন তারা লকডাউনের সময় মানুষের পাশে খাদ্যসহায়তা নিয়ে দাঁড়াচ্ছেন না। পদ-পদবী ব্যবহার করে টাকা, পয়সাতো কেউ কম কামাই করে নাই। কাউন্সিলর হবার সময়তো পাঁচ-দশ কোটি ব্যয় করতেতো সমস্যা হয় নাই।

পোস্টার ফেস্টুনেতো ওয়ার্ডের আসমান ঢেকে দিয়েছিলেন। তখনতো টাকার অাকাল হয়নি।  
কত লাগে, বেশী লাগে না। যা লাগে তা ব্যয়ের অনায়াস সামর্থ তাদের আছে?
একজনের এক বেলার মোটা চালের এক প্যাকেট খিঁচুরি জন্য ৩০ টাকাই যথেষ্ট।  

প্রতি ওয়ার্ডে প্রতিদিন ৩ হাজার মানুষকে খাওয়াতে ৯০ হাজার টাকা লাগবে। আনুসাঙ্গিক কিছু খরচ মিলে ধরি এক লাখ টাকা। তাহলে ১৫ দিনের লকডাউন চললে লাগে ১৫ লাখ টাকা, তাইতো! এই পরিমান টাকাতো নানা ধান্ধা, নানা খাত থেকে প্রতি সপ্তাহের কামাই আপনাদের। মিথ্যা বললাম? 

ভাইসবেরা দলের টিকিটে নির্বাচিত হয়ে অঢেল কামিয়েছেন,আগামীতেও কামাবেন,কামান সমস্যা নাই। এখন জাতির দুঃসময়,আপনারা একটু গর্ত থেকে মুখটা বাইরে আনেন,হাতটা একটু খুলেন। আপনার হাত খুললে সরকারও নিশ্চিন্ত মনে লকডাউন দিয়ে করোনাকে সামলাতে পারে। সরকারবাহাদুরকে এই সামান্য সাহায্যটুকু করেন।

টেলিভিশনের ভাইয়েরা ক্ষমতাসীন দলসহ আরও দুএকটি নিভুনিভু দলের ওয়ার্ড,ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি সেক্রেটারিকে ক্যামেরায় ধরে জিজ্ঞেস করেন,তারা চুপ কেন,মাঠে নাই কেন?

খাদ্যসাহায্য নিয়ে মাঠে নামেন। পদে বসবেন মানুষের বিপদে পাশে থাকবেন না, তাতো হয় না। টেলিভিশনগুলো কোটিপতি এমপি সাহেবদেরও একই ইস্যুতে ক্যামেরায় আনতে পারেন। তারাও এই লকডাউনকালে  সাধারণ মানুষের জন্য ব্যক্তিগতভাবে কতটুকু করছেন, সে প্রশ্নটা করেন,কাজে দেবে।  

চাপে ফেলতে পারলে ওয়ার্ড কাউন্সিলর থেকে এমপি মহোদয়রা পর্যন্ত, লকডাউনকালে মানুষকে খাদ্য সহায়তার কথাটা ফেলতে পারবে না।

রিক্সাওয়ালা দিনমজুরদের দুর্ভোগের স্টোরি করেন,ভাল কথা। কিন্তু কেবল এমন স্টোরি লকডাউন বিরোধী আত্মঘাতি সেন্টিমেন্টকে উষ্কে দেয়,সেটাও খেয়াল রাখবেন।

সাইফুদ্দিন আহমেদ নান্নুর লেখাটি ফেসবুক থেকে সংগৃহীত (সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়। )

আরও পড়ুন:


দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত্যু ও শনাক্তের সর্বশেষ তথ্য

সামাজিক মাধ্যমগুলো রাশিয়ায় অফিস খুলতে বাধ্য হবে

যুক্তরাষ্ট্র ও চীন থেকে ৪৫ লাখ ডোজ টিকা এলো

নাটোরের ৩ লাখ ৩৫ হাজার গবাদি পশু অনলাইনে বিক্রির প্রস্তুতি


news24bd.tv / কামরুল 

;