মরুর বুকে চীনের গোপন পারমাণবিক অস্ত্রাগার, উদ্বেগে পশ্চিমাবিশ্ব
মরুর বুকে চীনের গোপন পারমাণবিক অস্ত্রাগার, উদ্বেগে পশ্চিমাবিশ্ব

মরুর বুকে চীনের গোপন পারমাণবিক অস্ত্রাগার, উদ্বেগে পশ্চিমাবিশ্ব

অনলাইন ডেস্ক

অত্যন্ত চুপিসারে চীন মরুর বুকে গোপনে প্রায় ১২০টি ‘সাইলো’ বা মাটির নীচে ক্ষেপণাস্ত্র মজুত রাখার প্রকোষ্ঠ গড়ে তুলেছে বলে অভিযোগ করেছে আমেরিকা। আমেরিকার দাবি, দেশটির উত্তর-পশ্চিমের ইউমেন শহরের অদূরে, গানসু প্রদেশের মরুভূমি অঞ্চল জুড়ে এক মহাদেশ থেকে অন্য মহাদেশে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রাখার মতো করেই তৈরি করা হয়েছে এই সাইলোগুলো। উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষণ করে এই তথ্য উঠে এসেছে বলে জানিয়েছেন আমেরিকার দুই বিশেষজ্ঞ জেফ্রি লিউয়িস এবং ডেকার ইভলেথ।

চীনের এই সাইলোগুলোর বয়স মাস ছয়েকের বেশি নয় বলেই দাবি ইভলেথের।

 

মার্কিন দৈনিকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনের ওই অঞ্চলটির উপগ্রহ চিত্রের বিশ্লেষণ করতে গিয়ে প্রথম তারই নজরে এসেছিল এই সাইলোগুলো। ওয়াশিংটন পোস্ট-এর তথ্যানুসারে, ছবিগুলোতে প্রায় ১১৯টি নির্মাণাধীন ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণাগার দেখা গেছে।

ইভলেথের সহ-গবেষক লিউয়িস শুক্রবার সংবাদ সংস্থাকে জানান, জায়গাটির চার মাস আগের উপগ্রহ চিত্র তাদের নজরে এসেছিল। তবে তার সঙ্গে সপ্তাহখানেক আগের তোলা ছবি মিলিয়ে দেখে অবাক হয়ে যান দু’জনেই। এ কদিনের মধ্যেই সাইলোগুলোর নির্মাণ প্রায় শেষের পথে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের দাবি, আগামী এক দশকের মধ্যে চীন তাদের পরমাণু শক্তি দ্বিগুণ করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এগোচ্ছে। সাইলোগুলো পারমাণবিক অস্ত্রে সজ্জিত করার জন্যই তৈরি হচ্ছে বলে আশঙ্কা পেন্টাগনের। বিশেষজ্ঞ জেফ্রি লুইস বলেছেন, মরুভূমিতে নির্মাণাধীন এবং অন্যান্য অঞ্চলের সাইলো মিলিয়ে চীনের মোট সাইলোর সংখ্যা হবে ১৪৫।

বিষয়টি নিয়ে মহা উদ্বেগে পড়েছে আমেরিকাসহ পশ্চিমাবিশ্ব। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, চীনের তৈরি আন্তঃমহাদেশীয় ডিএফ-৪১ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রাখার জন্যেই ব্যবহার করা হতে পারে এগুলো। প্রায় ১২ থেকে ১৫ হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যেও অনায়াসে আঘাত করতে পারে এই ক্ষেপণাস্ত্র। ‘মিসাইল থ্রেট প্রজেক্ট’-এর ওয়েবসাইটের দাবি অনুযায়ী, চিন থেকে ৩০ মিনিটের মধ্যে আমেরিকায় পৌঁছে যাওয়ার ক্ষমতা আছে ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর।

news24bd.tv/আলী

;