সূরা ইয়াসিন: আয়াত ৮১-৮৩, শিক্ষণীয় দিক

অনলাইন ডেস্ক

সূরা ইয়াসিন: আয়াত ৮১-৮৩, শিক্ষণীয় দিক

আজ সূরা ইয়াসিনের শেষ তিন আয়াত ৮১ থেকে ৮৩ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যা উপস্থাপন করা হবে। এই সূরার ৮১ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ বলেছেন:

أَوَلَيْسَ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ بِقَادِرٍ عَلَى أَنْ يَخْلُقَ مِثْلَهُمْ بَلَى وَهُوَ الْخَلَّاقُ الْعَلِيمُ (81)

“যিনি নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডল সৃষ্টি করেছেন, তিনিই কি (কিয়ামতের দিন) তাদের অনুরূপ সৃষ্টি করতে সক্ষম নন? হ্যাঁ (সক্ষম) তিনি মহাস্রষ্টা, সর্বজ্ঞ।” (৩৬:৮১)

গত আসরে সামান্য শুক্রবিন্দু থেকে মানুষ এবং সবুজ গাছ থেকে আগুন সৃষ্টির ক্ষেত্রে আল্লাহ তায়ালার অসীম ক্ষমতা বর্ণিত হয়েছে। সূরা ইয়াসিনের শেষদিকের আজকের এই আয়াতে আসমান ও জমিন সৃষ্টিতে মহান আল্লাহর ক্ষমতা বর্ণনা করে বলা হচ্ছে: যদি মৃতকে পুনরুজ্জীবিত করার ক্ষেত্রে আল্লাহ তায়ালার অসীম ক্ষমতা সম্পর্কে তোমাদের সংশয় থেকে থাকে তাহলে এই বিশাল আসমানের দিকে তাকিয়ে দেখো, সেটিকে কত সুবিন্যস্ত করে তৈরি করা করা হয়েছে এবং বিস্ময়কর এক ব্যবস্থার আওতায় সৌরজগতের সব গ্রহ-নক্ষত্র নির্ধারিত কক্ষপথে আবর্তিত হচ্ছে। আমাদের দৃষ্টিতে এই পৃথিবী অনেক বড় মনে হলেও বিশাল গ্যালাক্সির ভেতরে তার অবস্থান বিশাল মরুভূমির মধ্যে  একটি বালুকণার সমতুল্য। এই পৃথিবীতেও আবার রয়েছে হাজারো রকমের প্রাণী, উদ্ভিদ, জীবজন্তু, পাহাড়, সাগর, নদী, মরুভূমি ও খনিজ সম্পদ। এতসব প্রাণী ও সম্পদের হিসাব রাখা মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়।

এই আয়াতের মাধ্যমে প্রশ্ন করা হচ্ছে, আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টির এত বৈচিত্র ও বিশালত্ব দেখার পরও কি তোমাদের মনে কিয়ামতের দিন তোমাদেরকে পুনরুজ্জীবিত করার ব্যাপারে সংশয় জাগে? পার্থিব জীবনে এক বিন্দু শুক্রাণু মায়ের গর্ভের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ মানুষে রূপান্তরিত হয়। এরপর নবজাতক পৃথিবীতে ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর সে ধীরে ধীরে বড় হয় এবং শক্তিসামর্থ্যবান মানুষ হয়ে ওঠে। কিন্তু কিয়ামতের দিন মানুষের জন্ম এরকম হবে না। সেদিন মাটির মধ্যে পচে গলে যাওয়া দেহাবশেষ থেকে একজন মানুষকে দুনিয়ার জীবনে যেমন ছিল তেমন করেই আবার পূর্ণবয়স্ক মানুষ হিসেবেই পুনরুজ্জীবিত করা হবে।

যদি কেউ একথা বলে তর্ক করতে চায় যে, মানুষের দেহাবশেষ তো এক স্থানে না থেকে নানা জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতে পারে। তখন তাকে একত্রিত করা হবে কিভাবে? এই অনর্থক  প্রশ্নের উত্তর হচ্ছে, পৃথিবীর প্রতিটি ক্ষুদ্রতম বস্তুর ওপর আল্লাহ তায়ালার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে এবং তার ক্ষমতার বাইরে থাকা কারো পক্ষে সম্ভব নয়। কাজেই মানুষের দেহাবশেষ যেখানেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকুক না কেন তা জড়ো করে তাকে আবার পূর্ণাঙ্গ মানুষে রূপ দেয়া মহান আল্লাহর জন্য মোটেই কঠিন কাজ নয়।

এই আয়াতের শিক্ষণীয় দিকগুলো হলো:

১. খোদাদ্রোহীদের বিভ্রান্তিকর প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে তাকে যুক্তিপূর্ণ পাল্টা প্রশ্ন করা যেতে পারে। এমন প্রশ্ন করতে হবে যার উত্তর খুঁজতে গিয়ে সে সত্যকে খুঁজে পায়।পবিত্র কুরআনে এরকম অসংখ্য প্রশ্ন রয়েছে।

২. কোনো কিছুকে অস্তিত্বহীন অবস্থা থেকে অস্তিত্বে আনার জন্য প্রজ্ঞা, শক্তি ও ক্ষমতা প্রয়োজন যা অসীম ক্ষমতার অধিকারী আল্লাহ তায়ালার রয়েছে।

৩. যে আল্লাহ এত সুশৃঙ্খল বিশ্বজগত সৃষ্টি করেছেন তার পক্ষে কিয়ামতের দিন মানুষকে আবার জীবন দান করা কষ্টসাধ্য কোনো ব্যাপার হবে না।

সূরা ইয়াসিনের ৮২ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ বলেছেন:

إِنَّمَا أَمْرُهُ إِذَا أَرَادَ شَيْئًا أَنْ يَقُولَ لَهُ كُنْ فَيَكُونُ (82)

“তিনি যখন কোন কিছু করতে ইচ্ছা করেন, তখন তাকে কেবল বলে দেন, ‘হও’ তখনই তা হয়ে যায়।” (৩৬:৮২)

আগের আয়াতের ধারাবাহিকতায় এই আয়াতে আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টি-ক্ষমতার প্রতি ইঙ্গিত করতে গিয়ে বলা হচ্ছে: যেকোনো কিছু সৃষ্টি করা তাঁর জন্য অতি সহজ। বিষয়টা এমন নয় যে, আসমান সৃষ্টি আল্লাহর জন্য কঠিন এবং একটি পিপড়া তৈরি করা তাঁর জন্য সহজ। বরং প্রতিটা বস্তু তা যত বড় বা ছোট হোক না কেন তা আল্লাহ রব্বুল আলামিনের কাছে সমান। তিনি ইচ্ছা করলেই যেকোনো জীব বা জড় বস্তু সৃষ্টি করতে পারেন। অন্য কথায় আল্লাহর ইচ্ছা এবং জড় বস্তু বা জীব সৃষ্টি করার মধ্যে কোনো সময়ের প্রয়োজন হয় না। চোখের পলক পড়ার আগেই সৃষ্টি হয়ে যায়।

মানুষ হিসেবে আমরাও যখন মনের কল্পনায় কোনো কিছু সৃষ্টি করতে চাই তখনই তা কল্পনার জগতে সৃষ্টি হয়ে যায়। সময় লাগে না। কিন্তু আমরা সেই কল্পনাকে বাস্তব রূপ দিতে পারি না। কিন্তু মহান আল্লাহ যখনই যা কিছু ইচ্ছা করেন সঙ্গে সঙ্গে তা বাস্তবে পরিণত হয়।

এই আয়াতের দু’টি শিক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে:

১. ছোট-বড় যেকোনো ধরনের বস্তু বা জীব সৃষ্টিতে আল্লাহর ক্ষমতা সমান।

২. আল্লাহ তায়ালা অস্তিত্বহীন অবস্থা থেকে যেকোনো কিছুকে অস্তিত্বে আনতে পারেন। কিন্তু মানুষ বিদ্যমান বস্তুর আকৃতি পরিবর্তন করতে পারে মাত্র।

আরও পড়ুন


করোনার দুই ডোজ টিকায় মৃত্যুঝুঁকি কমে ৯৮ শতাংশ: গবেষণা

যখন যেখানে দেখবেন আর্জেন্টিনার সেমিতে ওঠার লড়াই

প্রকৃত ঘটনাকে আড়াল করতে পরীমণি অভিনয় করেছে : নাসির

ডেনিশ রূপকথা চলছেই


সূরা ইয়াসিনের শেষ আয়াত বা ৮৩ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে:

فَسُبْحَانَ الَّذِي بِيَدِهِ مَلَكُوتُ كُلِّ شَيْءٍ وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ (83)

“অতএব পবিত্র তিনি, যাঁর হাতে সবকিছুর রাজত্ব ও শাসন এবং তাঁরই দিকে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে।” (৩৬:৮৩)

সূরা ইয়াসিনের এই শেষ আয়াতে সার্বিকভাবে আল্লাহ তায়ালার ক্ষমতাকে তুলে ধরে বলা হচ্ছে: এই বিশ্বজগতের একচ্ছত্র মালিকানা ও শাসন মহান আল্লাহর হাতে রয়েছে। তিনি সব ধরনের দুর্বলতা ও অক্ষমতার ঊর্ধ্বে। কাজেই কিয়ামতের দিন মানুষের পুনরুজ্জীবনের যে প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছেন তাতে যেন কেউ সন্দেহ পোষণ না করে। সবাইকে অবশ্যই তার দিকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। 

যদি আমরা তর্কের খাতিরে একথা বলতে পারতাম যে, মানুষ নিজেই তার মালিক; তাহলে হয়তো বা সে আল্লাহর কাছে প্রত্যাবর্তনের বিরোধিতা করতে পারত। কিন্তু বাস্তবে নিজের মালিকানাই তো মানুষের হাতে নেই। বিশ্বজগতের সবকিছুর মতো মানুষের মালিকানাও আল্লাহর হাতে। এই পৃথিবীতে আসা যেমন মানুষের ইচ্ছায় হয় না তেমনি দুনিয়া থেকে চলে যাওয়াতেও তার কোনো হাত নেই। কাজেই কিয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে প্রত্যাবর্তনের ব্যাপারে বিন্দুমাত্র সন্দেহ করা উচিত নয়।

এই আয়াতের শিক্ষণীয় বিষয়গুলো হচ্ছে:

১. আল্লাহ তায়ালা যখন সবকিছু করতে সক্ষম তখন কিয়ামতের দিন মানুষের পুনরুজ্জীবনের ব্যাপারে সংশয় থাকা উচিত নয়।

২. এই সৃষ্টিজগতের শুরু এবং পরিচালনা আল্লাহর হাতে রয়েছে। আমরা সবাই তার কাছ থেকে এসেছি এবং অবশ্যই তার কাছে ফিরে যেতে হবে।

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর

পাপের কথা প্রকাশ করাও পাপ

মাইমুনা আক্তার

পাপের কথা প্রকাশ করাও পাপ

পাপাচার সমাজে অন্ধকার নামিয়ে আনে। এর প্রচার-প্রসার মানুষের ঈমানে আঘাত হানে। মানুষের লজ্জাশীলতা কমিয়ে দেয়। ইসলামে সব ধরনের অশ্লীলতা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘বলে দাও, আমার পালনকর্তা হারাম করেছেন প্রকাশ্য ও গোপন অশ্লীলতা, আর পাপ ও অসংগত বিরোধিতা এবং কোনো কিছুকে আল্লাহর সঙ্গে শরিক করা, যার কোনো সনদ তিনি পাঠাননি। আর আল্লাহ সম্পর্কে এমন কিছু বলা, যা তোমরা জানো না।’ (সুরা : আরাফ, আয়াত : ৩৩)

পবিত্র কোরআনের এই আয়াতে মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের কয়েকটি নিকৃষ্ট বিষয় থেকে দূরে থাকার আদেশ করেছেন। তার মধ্যে অশ্লীলতা অন্যতম।

মহান আল্লাহ অশ্লীলতা পছন্দ করেন না, তেমনি অশ্লীলতা ছড়ানোও পছন্দ করেন না।

অশ্লীল কাজ সমাজে ছড়িয়ে দেওয়া জঘন্য অপরাধ। কারো গোপনীয় চরিত্র বা স্থিরচিত্র প্রকাশ করাও জঘন্যতম অশ্লীল কাজ। ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা ঈমানদারদের মধ্যে অশ্লীলতার প্রসার পছন্দ করে, তাদের জন্য ইহকাল ও পরকালে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আছে। আল্লাহ জানেন, তোমরা জানো না।’ (সুরা : নূর, আয়াত : ১৯)

নাউজুবিল্লাহ! মানুষের মধ্যে কেউ কেউ অন্যের অশ্লীল কাজকর্ম প্রচার করে বেড়ায়, আবার কেউ নিজে অশ্লীল কাজ করে তা সমাজে ছড়িয়ে দিতে চায়। এটি অশ্লীলতা ছড়ানোর সবচেয়ে নিকৃষ্ট পদ্ধতি। কেউ ব্যক্তি পর্যায়ে বন্ধুদের কাছে তা বলে বেড়ায়, কেউ আবার সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে গোটা পৃথিবীতে তার পাপের শোডাউন করে। অশ্লীল কাজ করে তা প্রচার করে বেড়ানো এতটা জঘন্য যে রাসুল (সা.) তাকে ক্ষমার অযোগ্য বলে ঘোষনা দিয়েছেন। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, আমি রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি, ‘আমার সব উম্মতকে মাফ করা হবে, তবে প্রকাশকারী ছাড়া। আর নিশ্চয়ই এটা বড় অন্যায় যে কোনো ব্যক্তি রাতের বেলা অপরাধ করল, যা আল্লাহ গোপন রাখলেন। কিন্তু সে সকাল হলে বলে বেড়াতে লাগল, হে অমুক, আমি আজ রাতে এই এই কাজ করেছি। অথচ সে এমন অবস্থায় রাত কাটাল যে আল্লাহ তার কর্ম লুকিয়ে রেখেছিলেন, আর সে ভোরে উঠে তার ওপর আল্লাহর দেওয়া আবরণ খুলে ফেলল।’ (বুখারি, হাদিস : ৬০৬৯)

ইবনে হাজর (রহ.)-এর মতে (মুজাহির), ‘প্রকাশকারী’ মানে হলো, যারা নিজের গুনাহ মানুষের কাছে প্রচার করে বেড়ায়। যেগুলো আল্লাহ গোপন করে রেখেছিলেন। (ফাতহুল বারি)

আরও পড়ুন:


একবার বিদ্রোহী হলে আজীবন নৌকা থেকে বঞ্চিত

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ পাঁচে নেই আর্জেন্টিনা

করোনায় স্কুল বন্ধ থাকায় শ্রেণিকক্ষে সপরিবারে বসবাস

রোহিঙ্গা ইস্যুতে কমনওয়েলথের সহায়তা চাইলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

মানুষের মধ্যে অশ্লীলতায় লিপ্ত হওয়ার প্রবণতা বেড়ে যাওয়া, সমাজে অশ্লীলতা ছড়ানো কিয়ামতের আলামত। রাসুল (সা.) এ বিষয়ে তাঁর প্রিয় উম্মতকে সতর্ক করেছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) ভবিষ্যদ্বাণী করে গেছেন যে কিয়ামতের পূর্বক্ষণে নগ্নতা ও অশ্লীলতার ব্যাপক প্রচার ঘটবে। হাদিস শরিফে এসেছে, ‘নিশ্চয়ই এসব কিয়ামতের আলামত যে একসময় কৃপণতা ও অশ্লীলতা প্রকাশ পাবে। খিয়ানতকারীকে আমানতদার মনে করা হবে। আমানতদারকে খিয়ানতকারী মনে করা হবে। নারীদের নতুন নতুন পোশাকের উদ্ভব ঘটবে, যেগুলো পরিধান করে নারীরা বস্ত্রাবৃত হয়েও নগ্ন থাকবে। নিকৃষ্ট লোকেরা অভিজাত লোকদের ওপর প্রভাব বিস্তার করবে।’ (তাবরানি আওসাত, হাদিস : ৭৪৮৯)

তাই প্রতিটি মুমিনের দায়িত্ব, সর্বাবস্থায় নিজেকে অশ্লীলতা থেকে দূরে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করা। নিজেদের চালচলন, পোশাক সব কিছুকে অশ্লীলতামুক্ত রাখা। মহান আল্লাহ সবাইকে এ ধরনের পাপ থেকে বিরত থাকার তাওফিক দান করুন।

news24bd.tv রিমু  

পরবর্তী খবর

সূরা বাকারা: আয়াত ৭৫-৭৯, আল্লাহর বাণী শোনা ও ইহুদীদের বিরুদ্ধাচারণ

অনলাইন ডেস্ক

সূরা বাকারা: আয়াত ৭৫-৭৯, আল্লাহর বাণী শোনা ও ইহুদীদের বিরুদ্ধাচারণ

পবিত্র কুরআনের গুরুত্বপূর্ণ সূরা আল-বাকারা আলোচনার আজকের পর্বে সূরাটির ৭৫ থেকে ৭৯ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যা তুলে ধরা হবে। বনী ইসরাইলীদেরকে উদ্দেশ্য করে আল্লাহপাক সূরা বাকারাহ'র ৭৫ নম্বর আয়াতে বলেছেন -

أَفَتَطْمَعُونَ أَنْ يُؤْمِنُوا لَكُمْ وَقَدْ كَانَ فَرِيقٌ مِنْهُمْ يَسْمَعُونَ كَلَامَ اللَّهِ ثُمَّ يُحَرِّفُونَهُ مِنْ بَعْدِ مَا عَقَلُوهُ وَهُمْ يَعْلَمُونَ (75

‘‘(হে মুসলমানগণ!) তোমরা কি আশা কর যে, তারা (ইহুদীরা) তোমাদের কথায় ঈমান আনবে? তাদের মধ্যে একদল ছিল, যারা আল্লাহর বাণী শ্রবণ করত; এরপর বুঝে-শুনে তা বিকৃত করত এবং তারা তা অবগত ছিল।’’(২:৭৫)

ইসলাম আবির্ভাবের পর আশা করা হয়েছিল যে, ইহুদীরা অন্যদের আগে ইসলাম গ্রহণ করবে। কারণ তারা মুশরিকদের মত ছিল না বরং তাদের কাছে ছিল আসমানী কিতাব। তারা তাদের ওই গ্রন্থ থেকে ইসলামের নবীর বৈশিষ্ট্য জেনে গিয়েছিল। কিন্তু এরপরও তারা কার্যত মুসলমানদের বিরুদ্ধে মুশরিকদের সাথে জোটবদ্ধ হয়। তাই এ আয়াতে আল্লাহ পাক মহানবী (সা.) ও মুসলমানদেরকে সহানুভূতি জানিয়ে বলেছেন যে, ইহুদীরা যদি ইসলাম গ্রহণ না করে তাহলে তাতে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। এতে নিজেদের ঈমান ও ধর্মবিশ্বাস সম্পর্কে দ্বিধাগ্রস্ত হওয়া ঠিক নয়। ইহুদী সম্প্রদায় সহজেই ঐশি ধর্ম গ্রহণ করবে এমন আশা করা অনুচিত। কারণ এরা হলো তাদেরই বংশধর যারা হযরত মূসার সাথে তুর পাহাড়ে গিয়ে আল্লাহর বাণী শুনেছে এবং তার বিধান উপলব্ধি করতে পেরেছে। কিন্তু তারপরও তারা তা অবলীলায় বিকৃত করেছে এবং ঐশি ধর্মের বিরুদ্ধাচারণে লিপ্ত হয়েছে।

এ আয়াত থেকে বোঝা যায়-প্রত্যেক সম্প্রদায়ের পণ্ডিত ব্যক্তিরা সত্যকে বিকৃত করে গোটা জাতিকে ভয়াবহ বিপদের দিকে ঠেলে দিতে পারে। এ ধরনের পণ্ডিত ব্যক্তিরা সত্যকে জেনেও এমনভাবে তা তুলে ধরে যাতে জনগণ বিভ্রান্তিতে পড়ে।

এরপর ৭৬ ও ৭৭ নম্বর আয়াতে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেছেন -

وَإِذَا لَقُوا الَّذِينَ آَمَنُوا قَالُوا آَمَنَّا وَإِذَا خَلَا بَعْضُهُمْ إِلَى بَعْضٍ قَالُوا أَتُحَدِّثُونَهُمْ بِمَا فَتَحَ اللَّهُ عَلَيْكُمْ لِيُحَاجُّوكُمْ بِهِ عِنْدَ رَبِّكُمْ أَفَلَا تَعْقِلُونَ (76) أَوَلَا يَعْلَمُونَ أَنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ مَا يُسِرُّونَ وَمَا يُعْلِنُونَ (77

‘‘যখন তারা মুসলমানদের সঙ্গে মিলিত হয়, তখন বলে আমরা মুসলমান হয়েছি। আর যখন পরস্পরের সাথে নিভৃতে অবস্থান করে, তখন বলে, আল্লাহ তোমাদেরকে (ইসলামের নবীর বৈশিষ্ট সম্পর্কে) যে ধারণা দিয়েছেন তা কি তাদেরকে (মুসলমানদেরকে) বলে দিয়েছ? তাহলে যে তারা এ নিয়ে আল্লাহর সামনে (কেয়ামতের দিন) তোমাদেরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করবে। তোমরা কি তা উপলব্ধি কর না?’’ (২:৭৬)

‘‘তারা কি জানে না যে, যা তারা গোপন রাখে কিংবা প্রকাশ করে নিশ্চিতভাবে আল্লাহ তা জানেন?’’ (২:৭৭)

ইসলামের প্রাথমিক যুগে অনেক ইহুদী মুসলমানদেরকে দেখলে বলতো, তোমাদের পয়গম্বরের নিদর্শনগুলো আমাদের তাওরাত গ্রন্থের ভবিষ্যদ্বানীর সাথে মিলে যাওয়ায় আমরাও তোমাদের ধর্মের ওপর ঈমান আনব। কিন্তু যখন তারা অন্যান্য ইহুদীদের সাথে মিলিত হত, তখন তারা শেষ নবীর নিদর্শনগুলো মুসলমানদেরকে বলে দেয়ার জন্যে পরস্পরকে তিরস্কার করতো এবং তারা বলতো মুসলমানরা এ বিষয়কে কেয়ামতের সময় তোমাদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করবে। ইহুদী পণ্ডিতরা সত্যকে বিকৃত করায় বর্তমানেও অনেক লোক ইহুদী ও খ্রিস্টান ধর্মের অনুসরণ করছে।

এরপর ৭৮ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে -

وَمِنْهُمْ أُمِّيُّونَ لَا يَعْلَمُونَ الْكِتَابَ إِلَّا أَمَانِيَّ وَإِنْ هُمْ إِلَّا يَظُنُّونَ (78

"ইহুদীদের মধ্যে এমন অনেক অশিক্ষিত লোক আছে যারা আল্লাহর গ্রন্থকে কল্পনা বা মিথ্যা আকাঙ্ক্ষা ছাড়া অন্য কিছু মনে করে না এবং শুধু নিজেদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে এবং তারা অনুমান বা কল্পনা ছাড়া অন্য কিছু জানে না।" (২:৭৮)

এই আয়াতে বনী ইসরাইলের অন্য একটি দলের কথা বলা হয়েছে, যারা ছিল তাওরাত গ্রন্থ বিকৃতকারী পণ্ডিতদের বিপরীতে সাধারণ অশিক্ষিত ইহুদী। এরা তাওরাত গ্রন্থ সম্পর্কে কোন খবর রাখতো না এবং নিজেদের খেয়াল-খুশী মত জীবন যাপন করত। তারা মনে করতো, তাওরাত গ্রন্থে ইহুদী জাতিকে উন্নত জাতি বলে ধারণা দেয়া হয়েছে এবং তারা আল্লাহর প্রিয়পাত্র। আর পরকালে শুধু মাত্র ইহুদীরাই মুক্তি বা পরিত্রাণ পাবে এবং তারা নরক বা জাহান্নামে যাবে না, যদি তাদেরকে শাস্তি দেয়াও হয় তবে তা কয়েক দিনের বেশী স্থায়ী হবে না। এ ধরনের ভুল ধারণা অন্যান্য ঐশী ধর্মের অনুসারীদের মধ্যেও থাকতে পারে। কিন্তু আমাদের অবশ্যই জানতে হবে এইসব শুধুমাত্র অশিক্ষা ও ঐশী গ্রন্থ সম্পর্কে অজ্ঞতার ফল। কারণ কোন ঐশী ধর্মেই এ ধরনের অবাস্তব কথা বলা হয়নি।

আরও পড়ুন


মাহফুজ আনাম ও শাহীন আনামের কুশপুত্তলিকা দাহ হিন্দু মহাজোটের

দুই হাসপাতাল ঘুরে গুলশান থানায় রাসেল

প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া : উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলা

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাপ্তাহিক ছুটি ‘দুই দিন’


এ সূরার ৭৯ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে -

فَوَيْلٌ لِلَّذِينَ يَكْتُبُونَ الْكِتَابَ بِأَيْدِيهِمْ ثُمَّ يَقُولُونَ هَذَا مِنْ عِنْدِ اللَّهِ لِيَشْتَرُوا بِهِ ثَمَنًا قَلِيلًا فَوَيْلٌ لَهُمْ مِمَّا كَتَبَتْ أَيْدِيهِمْ وَوَيْلٌ لَهُمْ مِمَّا يَكْسِبُونَ (79

"সুতরাং তাদের জন্য আফসোস, যারা স্বহস্তে গ্রন্থ রচনা করে ও সামান্য মূল্য পাবার আশায় বলে যে, তা আল্লাহর কাছ থেকে এসেছে। আক্ষেপ, তাদের হাত যা রচনা করেছে এবং আক্ষেপ যা তারা উপার্জন করেছে।" (২:৭৯)

ইতিহাসে সব সময়ই অনেক পণ্ডিত ধর্মকে নিজেদের পার্থিব স্বার্থ উদ্ধারের জন্য ব্যবহার করেছে, এখনো অনেকে তা করছে। দোকানদার বা ব্যবসায়ীরা যেমন পণ্য বিক্রি করে অর্থ সংগ্রহ করে, তেমনি অনেক অর্থলোভী ধর্মের মুখোশ পরে ধর্মকে বিক্রি করে সম্পদশালী হচ্ছে। মানুষকে খুশী করার জন্য অথবা শাসকদের কাছ থেকে উঁচু মর্যাদা বা পদ পাবার জন্য কিংবা ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য আল্লাহর বিধানের নামে অনেকে সমাজে বিভ্রান্তি ছড়ায়। পবিত্র কোরআন কঠোর ভাষায়-আক্ষেপ শব্দের পুনরাবৃত্তি করে এর বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে।

এই পর্বের আলোচিত আয়াতগুলোর শিক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে -

১. সব মানুষ বিশ্বাসী হবে বা ঈমান আনবে এমনটি আশা করা ভাল, কিন্তু এটাও সত্য যে,বহু মানুষ সত্যকে গ্রহণের জন্য প্রস্তুত নয়। তাই তাদের অবিশ্বাস যেন আমাদের বিশ্বাসের মধ্যে কোন দ্বিধা-দ্বন্দ্ব সৃষ্টি না করে সে দিকে সতর্ক থাকতে হবে।

২. মন গড়া ধর্ম তৈরি ও ধর্ম বিক্রি করা হলো দুর্নীতি পরায়ণ পণ্ডিতদের কাজ। তাই কোন ব্ক্তব্য গ্রহণের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে সাবধান হতে হবে। এ ধরনের পণ্ডিতরা ধর্মের মুখোশ পরে থাকলেও জনগণকে সাবধান হতে হবে।

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর

আল্লাহর সাহায্য লাভের দোয়া

অনলাইন ডেস্ক


আল্লাহর সাহায্য লাভের দোয়া

মহানবী (সা.) কঠিন বিপদাপদের মুহূর্তে আল্লাহর সাহায্য লাভের কথা বলেছেন। এমনকি আল্লাহর সাহায্য লাভের দোয়াও শিখিয়ে দিয়েছেন।

আরবি :

 لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ 

উচ্চারণ: লা-হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।

অর্থ: আল্লাহর সহযোগিতা ছাড়া কারো (ভালো কর্মের দিকে) এগিয়ে যাওয়া এবং (খারাপ কর্ম থেকে) ফিরে আসার সামর্থ্য নেই।

আবু মুসা (রা.) বলেন, আমরা কোনো এক সফরে রাসুল (সা.)-এর সঙ্গে ছিলাম। তখন মানুষ উচ্চৈ স্বরে তাকবির পাঠ করছিলেন। রাসুল (সা.) বলেন, হে মানবজাতি, তোমরা জীবনের ওপর সদয় হও। কেননা তোমরা তো কোনো বধির অথবা অনুপস্থিত সত্তাকে ডাকছ না। নিশ্চয় তোমরা ডাকছ সর্বশ্রোতা, নিকটবর্তী সত্তাকে, যিনি তোমাদের সঙ্গেই আছেন। আবু মুসা (রা.) বলেন, আমি তাঁর পেছনে ছিলাম।

আরও পড়ুন:


একবার বিদ্রোহী হলে আজীবন নৌকা থেকে বঞ্চিত

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ পাঁচে নেই আর্জেন্টিনা

করোনায় স্কুল বন্ধ থাকায় শ্রেণিকক্ষে সপরিবারে বসবাস

রোহিঙ্গা ইস্যুতে কমনওয়েলথের সহায়তা চাইলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী


তখন আমি বলছিলাম, আল্লাহর সহযোগিতা ছাড়া কোনো ভালো কাজের দিকে এগিয়ে যাওয়ার এবং মন্দ কর্ম থেকে ফিরে আসার সামর্থ্য নেই। তখন (সা.) বলেন, হে আব্দুল্লাহ ইবনে কায়স, আমি তোমাকে জান্নাতের গুপ্তধনসমূহের মধ্যে কোনো একটি গুপ্তধনের কথা জানিয়ে দেব? আমি বললাম, অবশ্যই হে আল্লাহর রাসুল, অতঃপর তিনি বলেন, তুমি এই (উপরোক্ত) দোয়া পড়ো। (মুসলিম, হাদিস : ৬৭৫৫)।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

নামাজে প্রত্যেক সূরার আগেই কী ‘বিসমিল্লাহ’ পড়তে হবে?

অনলাইন ডেস্ক

নামাজে প্রত্যেক সূরার আগেই কী ‘বিসমিল্লাহ’ পড়তে হবে?

‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ প্রত্যেক ভাল কাজের আগেই এটি পড়া সুন্নাত। সব ভালো কাজের শুরুতে বরকতের জন্য রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও বিসমিল্লাহ বলতে বলেছেন। কিন্তু প্রশ্ন হল নামাজে সূরা ফাতেহাসহ অন্যান্য সূরার শুরুতে কী বিসমিল্লাহ বলতে হবে?

নামাজে সূরা ফাতেহার আগে বিসমিল্লাহ পড়া সুন্নাত। তবে অনেক ইসলামিক স্কলার বিসমিল্লাহকে সূরা ফাতেহার প্রথম আয়াত হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন। সে হিসেবে নামাজে সূরা ফাতেহা পড়লে তো বিসমিল্লাহ এমনিতেই পড়তে হবে। আর বিসমিল্লাহ যদি সূরা ফাতেহার আয়াত না-ও হয়; তবে অনেকে সূরা ফাতেহার আগে বিসমিল্লাহ পড়াকে সুন্নাত বলেছেন।

সূরা তাওবা ছাড়া কোরআনুল কারিমের প্রতিটি সূরার আগে বিসমিল্লাহ আছে। স্বাভাবিকভাবেই কোরআনুল কারিম তেলাওয়াত করার সময় সব সূরার আগেই বিসমিল্লাহ পড়া হয়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও সূরার আগে বিসমিল্লাহ পড়তেন। তাছাড়া তিনি সব ভালো কাজের শুরুতে বিসমিল্লাহ পড়তে বলেছেন। সে হিসেবে দুনিয়াতে মানুষের জন্য সবচেয়ে ভালো কাজ হলো ‘নামাজ’।

সুতরাং নামাজের নিয়ত বেঁধে সূরা ফাতেহার শুরুতে শুধু ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ নয় বরং তাকবিরে তাহরিমার পর ছানা পড়ে প্রথমে আউজুবিল্লাহ পড়া। এরপর ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ পড়ে সূরা ফাতেহা পড়া। এরপর পরবর্তী রাকাআতগুলোতে সূরা ফাতেহা ও অন্য সূরা পড়ার আগেও ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ পড়া।

তবে যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে অথবা ভুলক্রমে নামাজে সূরা ফাতিহা বা অন্য সূরা পড়ার আগে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ না পড়ে; তবে তাকে সাহু সেজদা দিতে হবে না। তবে কোনো ইসলামিক স্কলার বলেছেন, কারও যদি বিসমিল্লাহ পড়া সবসময়ের অভ্যাস হয়ে থাকে তবে ভুলে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ না পড়ে থাকলে সাহু সেজদা দেওয়া মোস্তাহাব।

আরও পড়ুন


সূরা বাকারা: আয়াত ৭০-৭৪, গরু জবাইয়ের মাধ্যমে হত্যাকারী শনাক্ত

ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির ‌‘নতুন ক্লাশ রুটিন’ প্রকাশ

২০ অক্টোবরের মধ্যে খুলছে চবি, আছে শর্ত

ব্যাংক কর্মীদের চাকরি নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা


আবার অনেক ইসলামিক স্কলার হাদিসের উদ্ধৃতি তুলে ধরে বলেন, ‘আর যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে ছেড়ে দিয়ে থাকে তাহলে সাহু সেজদা দিতে হবে না। কারণ সাহু সেজদা দিতে হয় কেউ ভুলক্রমে নামাজের কোনো কথা বা কাজ ছেড়ে দিলে। যেহেতু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যদি তোমাদের কেউ ভুলে যায় তাহলে সে যেন দুইটি সেজদা দেয়।’ (মুসলিম)

সর্বোপরি কথা হলো- নামাজে সূরা ফাতেহা ও অন্যান্য সূরা পড়ার আগে বিসমিল্লাহ পড়া সুন্নাত।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে নামাজের শুরুতে আউজুবিল্লাহ ও বিসমিল্লাহ পড়ে সূরা ফাতেহা পড়ার তাওফিক দান করুন। সুন্নাতের অনুসরণ ও অনুকরণ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর

সূরা বাকারা: আয়াত ৭০-৭৪, গরু জবাইয়ের মাধ্যমে হত্যাকারী শনাক্ত

অনলাইন ডেস্ক

সূরা বাকারা: আয়াত ৭০-৭৪, গরু জবাইয়ের মাধ্যমে হত্যাকারী শনাক্ত

পবিত্র কুরআনের গুরুত্বপূর্ণ সূরা আল-বাকারা আলোচনার আজকের পর্বে সূরাটির ৭০ থেকে ৭৪ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যা তুলে ধরা হবে। বনী ইসরাইলীদেরকে উদ্দেশ্য করে আল্লাহপাক সূরা বাকারা’র ৭০ ও ৭১ নম্বর আয়াতে বলেছেন -

 قَالُوا ادْعُ لَنَا رَبَّكَ يُبَيِّنْ لَنَا مَا هِيَ إِنَّ الْبَقَرَ تَشَابَهَ عَلَيْنَا وَإِنَّا إِنْ شَاءَ اللَّهُ لَمُهْتَدُونَ (70) قَالَ إِنَّهُ يَقُولُ إِنَّهَا بَقَرَةٌ لَا ذَلُولٌ تُثِيرُ الْأَرْضَ وَلَا تَسْقِي الْحَرْثَ مُسَلَّمَةٌ لَا شِيَةَ فِيهَا قَالُوا الْآَنَ جِئْتَ بِالْحَقِّ فَذَبَحُوهَا وَمَا كَادُوا يَفْعَلُونَ (71)

‘‘বনী ইসরাইল মূসাকে বলল, গরুটি কি ধরনের হতে হবে তা তোমার প্রতিপালককে আমাদের জন্য স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিতে বল। আমাদের কাছে গরুতো একই রকম। আর আল্লাহ চাইলে আমরা নিশ্চয়ই সঠিক পথ পাব। মূসা জবাবে বললেন, আল্লাহ বলছেন তা এমন এক গরু যা জমি চাষ ও ক্ষেতে পানি সেচের জন্য ব্যবহার করা হয়নি-সুস্থ ও নিখুঁত।’’ (২:৭০) 

‘‘তারা বলল, এখন তুমি ঠিক কথা বলেছ। এরপর তারা গরুটি জবাই করল, যদিও তারা প্রায় এ কাজ বর্জনে উদ্যত হয়েছিল।’’ (২:৭১)

গত পর্বে আমরা বলেছিলাম, আল্লাহপাক হত্যাকারীকে খুঁজে বের করার জন্য গরু জবাইয়ের নির্দেশ দেন। বনী ইসরাইল গোত্রের একাংশ নানা অজুহাত খাড়া করতে লাগল এবং উপহাস করে গরুর রং ও বয়স জিজ্ঞাসা করতে থাকে। এ আয়াতেও বনি ইসরাইল বা ইহুদীদের আনা একের পর এক অজুহাতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

আল্লাহপাক গরুর রং ও বয়স বলে দেয়ার পরও তারা বলল, হে মূসা! ওই গরুকে চেনার জন্য আরো কিছু বৈশিষ্ট্যের কথা বলো। হযরত মূসা যখন আল্লাহর পক্ষ থেকে ওই গরুর আরো কিছু বৈশিষ্ট্য বর্ণনা দিল তখন বনি ইসরাইলীদের আর কোন অজুহাত থাকল না এবং তারা ওই গরুকে জবাই করল। যদিও আল্লাহর নির্দেশ মানার কোন আগ্রহ তাদের ছিল না।

এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, মানুষের একগুঁয়েমি তাকে এমন এক পর্যায়ে নিয়ে যায়, যে সে নিজের ইচ্ছা ও মতকেই শুধু সঠিক বলে মনে করে। তাই দেখা যায় হযরত মূসা (আ.) গরু সম্পর্কে এত বর্ণনা দেয়ার পরও বনী ইসরাইল ভদ্রতার সীমা ছাড়িয়ে বলে, "এতক্ষণে তুমি সঠিক বলেছো। "

এবারে সূরা বাকারা’র ৭২ ও ৭৩ নম্বর আয়াত নিয়ে আলোচনা করা যাক। এ আয়াতে বলা হয়েছে -

وَإِذْ قَتَلْتُمْ نَفْسًا فَادَّارَأْتُمْ فِيهَا وَاللَّهُ مُخْرِجٌ مَا كُنْتُمْ تَكْتُمُونَ (72) فَقُلْنَا اضْرِبُوهُ بِبَعْضِهَا كَذَلِكَ يُحْيِي اللَّهُ الْمَوْتَى وَيُرِيكُمْ آَيَاتِهِ لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ (73)

‘‘স্মরণ কর যখন তোমরা এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছিলে এবং একে অন্যের প্রতি দোষারোপ করছিলে। কিন্তু তোমরা যা গোপন রাখছিলে আল্লাহ তা প্রকাশ করে দেন।’’ (২:৭২)

‘‘এরপর আমি বললাম, গরুর কোন একটি অংশ দিয়ে নিহত ব্যক্তিকে স্পর্শ কর। এভাবে আল্লাহ মৃতকে জীবিত করেন এবং নিজের নিদর্শন তোমাদেরকে দেখিয়ে থাকেন। যাতে তোমরা উপলদ্ধি কর।’’ (২:৭৩)

এর আগের আয়াতগুলোয় বনী ইসরাইলের নানারকম অজুহাতের কথা বিস্তারিত বলা হয়েছে। এ দুই আয়াতে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা সংক্ষেপে বর্ণনা দেয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, তোমরা হত্যা করেছিলে এবং হত্যাকারীর পরিচয় গোপন রেখেছিলে। কিন্তু আল্লাহ তার অসীম ক্ষমতার মাধ্যমে তোমাদের অন্যায় ফাঁস করে দিয়েছেন। তাই জেনে রাখ আল্লাহ অপরাধীদের মুখোশ উন্মোচন করার ক্ষমতা রাখেন। মৃতকে জীবিত করার অসীম ক্ষমতা যে আল্লাহ রাখেন এ আয়াত তারই নিদর্শন। আল্লাহর এ ধরনের ক্ষমতা দেখে মানুষ যাতে পরকালের ব্যাপারে আল্লাহর ক্ষমতা সম্পর্কে গভীর চিন্তা করে এবং জেনে রাখে যে আল্লাহ ইচ্ছা করলে একটি মৃত দেহের ওপর আরেকটি মৃতের অংগের স্পর্শে জীবিত করতে পারেন।

এরপর ৭৪ নং আয়াতে বলা হয়েছে-

ثُمَّ قَسَتْ قُلُوبُكُمْ مِنْ بَعْدِ ذَلِكَ فَهِيَ كَالْحِجَارَةِ أَوْ أَشَدُّ قَسْوَةً وَإِنَّ مِنَ الْحِجَارَةِ لَمَا يَتَفَجَّرُ مِنْهُ الْأَنْهَارُ وَإِنَّ مِنْهَا لَمَا يَشَّقَّقُ فَيَخْرُجُ مِنْهُ الْمَاءُ وَإِنَّ مِنْهَا لَمَا يَهْبِطُ مِنْ خَشْيَةِ اللَّهِ وَمَا اللَّهُ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعْمَلُونَ (74

‘‘অতঃপর এ ঘটনার পরে তোমাদের অন্তর কঠিন হয়ে গেছে। তা পাথরের মত অথবা তদপেক্ষাও কঠিন। পাথরের মধ্যে এমনও আছে; যা থেকে ঝরণা প্রবাহিত হয়, এমনও আছে, যা বিদীর্ণ হয়,এরপর তা থেকে পানি নির্গত হয় এবং এমনও আছে, যা আল্লাহর ভয়ে (পাহাড় থেকে) খসে পড়তে থাকে! আল্লাহ তোমাদের কাজকর্ম সম্পর্কে বে-খবর নন।’’ (২:৭৪)

আরও পড়ুন


ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির ‌‘নতুন ক্লাশ রুটিন’ প্রকাশ

২০ অক্টোবরের মধ্যে খুলছে চবি, আছে শর্ত

ব্যাংক কর্মীদের চাকরি নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা

তৃতীয় দিনে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বিএনপির হাইকমান্ড, উপস্থিত ৯২ নেতা


সূরা বাকারা’র ৪৯ নম্বর আয়াত থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত বনী ইসরাইলীদের প্রতি আল্লাহর বহু নেয়ামত ও মোজেযার কথা বর্ণনা দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ফেরাউনের অত্যাচার থেকে মুক্তি, নীল নদ দু'ভাগে বিভক্ত হওয়া, বাছুর পূজার তওবা কবুল, ঐশী খাবার-দাবার লাভ, মেঘকে ছায়া হিসাবে ব্যবহারের সুযোগ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। আর সর্বশেষ ঘটনা হলো- অলৌকিক উপায়ে হত্যাকারীর পরিচয় উদ্ঘাটন। কিন্তু আল্লাহর অলৌকিক ক্ষমতার এতসব নিদর্শন ও মোজেযা দেখার পরও বনী ইসরাইল আল্লাহর নির্দেশের সামনে আত্মসমর্পন করেনি বরং আল্লাহর হুকুম এড়িয়ে যাবার জন্য নানারকম পাঁয়তারা করছিল। যাকে কিনা কোরআন 'পাষাণ হৃদয়' বিশেষণে আখ্যায়িত করেছে। মানুষ অনেক সময় এমন অধঃপতনের শিকার হয় যা তাকে জীব-জন্তুর চেয়েও নিকৃষ্টে পরিণত করে কিংবা তাকে পাথরের চেয়ে কঠিন করে ফেলে। এ আয়াতে বলা হয়েছে- কঠিন পাথর অনেক সময় ফেটে তা থেকে পানি প্রবাহিত হয় কিংবা অন্তত: নীচের দিকে ধ্বসে পড়ে। কিন্তু কিছু মানুষের অন্তর পাথরের চেয়েও শক্ত। কোন ভালোবাসা কিংবা প্রেমে তাদের অন্তর বিগলিত হওয়াতো দূরের কথা আল্লাহর ভয়েও তাদের হৃদয় কাঁপে না। তাই তারা মানুষের উপকারও করে না এবং আল্লাহর হুকুম-নির্দেশও মেনে চলে না।

সূরা বাকারা’র ৭০ থেকে ৭৪ নম্বর আয়াতগুলোর শিক্ষণীয় দিকগুলো হচ্ছে-

১. আল্লাহর নির্দেশ এড়ানোর জন্যে ছলচাতুরির আশ্রয় কিংবা একগুঁয়েমি করা ঠিক নয়। এ উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করাও অন্যায়। কারণ দেখা যায়, প্রশ্ন অনেক সময় জানার জন্যে নয় বরং দায়িত্ব এড়ানোর জন্য প্রশ্ন করা হয়ে থাকে।

২. আল্লাহর নির্দেশে যে পশু জবাই করা হবে তা নিখুঁত হওয়া দরকার। তাই হজ্বের সময় হাজীরা কোরবানীর ঈদের দিন ত্রুটিমুক্ত পশু জবাই করেন।

৩. আমাদের প্রকাশ্য-গোপন সব কাজের ব্যাপারেই আল্লাহ পূর্ণ অবগত। তিনি চাইলে আমাদের ঐসব কাজ প্রকাশ করে আমাদের অপদস্ত করতে পারেন। তাই পাপ করা উচিত নয় কিংবা নিজের পাপ অন্যের ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়া ঠিক নয়।

৪. অনেক ক্ষেত্রে এ দুনিয়াতেই আল্লাহ মৃতকে জীবিত করেছেন। এর মাধ্যমে আল্লাহ তার শক্তি প্রদর্শন করেন এবং আমাদেরকে উদ্বুদ্ধ করেন কেয়ামত সম্পর্কে গভীর চিন্তা করতে।

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর