নারী যখন ৪০ পার হয়
নারী যখন ৪০ পার হয়

নারী যখন ৪০ পার হয়

Other

৪০ পার হয়ে আইসা যে জিনিসটা আমি প্রায় জীবন দিয়া লক্ষ্য করসি, তা হইলো নারীর স্বত:স্ফূর্ততা, নারীর ফেস্টিভ থাকা কেউ পছন্দ করে না। ফেসবুকে "আপু ইউ আর সো হিলিরিয়াস" বইলা আপনারে অনেকেই লাভ রিঅ্যাক্ট দেবে, বাট থিংক অ্যাবাউট রিয়াল লাইফ।  

এ জীবনে প্রত্যেকে আমারে পেছন থেকে কেবলই টেনে ধরতে চাইছে। প্রত্যেকে।

বাপ মা, ভাই-বোন, স্বামী, সমাজ-সংসার,  প্রফেসনাল বস, সহকর্মী এবং ইন্টারেস্টিংলি প্রেমিকও। টেনে ধরা মানে নিয়ন্ত্রণ করা। একধরনের ভীতি, নিরাপত্তাহীনতা এবং ঈর্ষা থিকা এই কাজ করসেন তারা।  

আমি ফেসবুকে কেন ৫০ প্লাস ছবি দেই, আমি ক্যান এতো শাড়ি পড়ি, আমি ক্যান মেকাপ করি, আমি ক্যান পা খোলা বা হাতকাটা পোশাক পরি, আমি ক্যান বেড়াইতে যাই, আমি ক্যান একা বেড়াইতে যাই, আমি ক্যান কিছুতে দমি না, আমি ক্যান পান করি, আমি ক্যামনে আবার গাছ পরিচর্যা করি, এতো কিসের বই পড়ি, লেখালেখির টাইম পাই কখন? 

এতো "পিআর" ক্যামনে মেন্টেন করি? এতো ছবি ফেসবুকে দেয়া মানে তো আপনার ভারবুদ্ধি নাই,  আপনি টিনেজার মেয়েদের মতো হালকা তাই না? সারাটাক্ষন আমার "শুভাকাঙ্ক্ষী"রা বিনবিন করে নানান উপায়ে আমারে যাতে বারস্ট আউট আবার না করি এইমতো মিষ্টি করে নসিহত করে।  

ভাইরে মিষ্টিতে মধুমেহ হয়। শুনেন, এইগুলা বলা বা করা হয়, নিখাদ ঈর্ষা থিকা। মানুষ এতো অল্পে ঈর্ষান্বিত হয় যে এবং যার উপর কোনওপ্রকার দাবী নাই তার কর্মকাণ্ডেও ঈর্ষান্বিত হয় যে এইটা একটা অবাক ব্যাপার।  

কিছু বিষয় আমার মধ্যে আছে এন ট্রাস্ট মি এইটা আমি চর্চা করে অর্জন করি নাই, এমনিই আছে। ধরেন কোনও একটা জায়গায় আপনিও বেড়াতে গেছেন, আমিও। আপনি জায়গাটার ছবি দিলে লোকে যত এনডোর্স করবে আমি দিলে তার থেকে বেশি করবে কারণ আমি যা করি চেষ্টা করি তা করি বাই মাই হার্ট।  

আমি অ্যাস্থেটিক না, ফটোগ্রাফার না তবু লোকে পছন্দ করবে- এই ঈর্ষা থেকে এখন যদি আপনি আমারে এতো ছবি দেই কেন বইলা শেমিং করতে চান আই হ্যাভন্ট টাইম টু গিভ ইউ শিট! 

আরও পড়ুন: 


দেশে অক্সিজেনের কোনো সংকট নেই: ওবায়দুল কাদের

১৪ জুলাই পর্যন্ত বাড়ল বিধিনিষেধ

বিধিনিষেধ বাড়ল যে কারণে

আবারও শুরু হচ্ছে টিকার নিবন্ধন, কমছে বয়সসীমা


আরেকটা জিনিস শুনেন। আমি লোভ ত্যাগ করার যুদ্ধে আছি। "সবসময় ন্যায়ের পক্ষে থাকার লোভ"- বলছিলেন মাস্টারসাব।   ধরেন আপনি বৃষ্টি দেইখা খুব রোম্যান্টিক হইলেন - পোস্ট দিলেন ফেসবুকে পরক্ষণেই মনে হইলো আহারে মাথার উপর ছাদ না থাকা মানুষগুলার এই বৃষ্টিতে কতই না কষ্ট হইতেসে এবং আপনার গায়ে একটা অ্যাকটিভিস্ট এর তকমা আছে- ফলে তাত্তাড়ি আপনারে সেই সংক্রান্ত একটা পোস্ট পয়দা করা লাগবে নইলে আপনার অ্যাক্টিভিজম শেমিং এর মুখে পড়বে।  

নো! এইটা আমি আর করবো না। আমার মন রোম্যান্টিক হইলে তাতে যদি অ্যাক্টিভিজম খারিজ হয় তো আই ডোন্ট বদ্যার। নিজের জন্য বাঁচারও তো একটু দরকার আছেরে ভাই।  

অনেকগুলা বিটার ঘটনা মনের মধ্যে পাক খাইতেসে তাই লিখলাম এইসব। মুঠোর মধ্যে আমারে ধরতে চাইছে যে সমাজ আমি আজলা গলে কেবলই বের হয়ে গেছি, ৪০ পার হইসি- আর মুঠাবন্দি করার চেষ্টা না করাই ভালো।

লেখাটি সাংবাদিক ইশরাত জাহান ঊর্মি-এর ফেসবুক থেকে নেওয়া। (মত-ভিন্নমত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়। )

news24bd.tv নাজিম