সাতক্ষীরায় ফ্রি অক্সিজেন ব্যাংক সেবা প্রদান করে প্রশংসায় ভাসছেন যারা

মনিরুল ইসলাম মনি, সাতক্ষীরা

সাতক্ষীরায় ফ্রি অক্সিজেন ব্যাংক সেবা প্রদান করে প্রশংসায় ভাসছেন যারা

সাতক্ষীরায় সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল গুলোতে যখন আসন ও অক্সিজেন সংকট। করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবা নিয়ে ডাক্তর ও রোগীর স্বজনরা হিমশিম খাচ্ছেন। করোনা ডেডিকেটেড ২৫০ শয্যা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসন সংকুলানে রোগী ভর্তি করতে না পেরে বাসা-বাড়ীতে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন। ঠিক সেই সংকট মুহুর্তে অসহায় আক্রান্ত মানুষকে বাঁচাতে অক্সিজেন ব্যাংক খুলে বিনা মূল্যে অক্সিজেন সেবা ও ঔষধ সরবরাহ কার্যক্রম করে সাতক্ষীরা জেলায় বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সাতক্ষীরা-৯৩ এর এসএসসি’র শিক্ষার্থী ও সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের এক্স স্টুডেন্ট এ্যাসোসিয়েশন।

অক্সিজেন সংকটের খবর তাদের কাছে আসলেই অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে পৌছে যাচ্ছেন হাসপাতাল কিংবা বাসা-বাড়ীতে। শুধু অক্সিজেন সেবা নয় চিকিৎসা পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় ঔষধ সামগ্রী, মাক্স বিতরণ অব্যাহত রেখেছেন। করোনার দুর্দিনে সংগঠন দু’টির এই সেবা কার্যক্রম জেলা ব্যাপী প্রসংসা কুড়িছে। বিনা মূল্যে অক্সিজেন সেবা কার্যক্রমে খুশি রোগীর স্বজন ও জেলা প্রশাসন।

দেশের সর্ব দক্ষিণ-পশ্চিমের জনপদ সাতক্ষীরায় উদ্বেগজন হারে বৃদ্বি পেয়েছে করোনা সংক্রমণ। প্রতিদিনই মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে। করোনার শুরু থেকে এ পর্যন্ত উপসর্গে ৩৭৫ জনের মৃত্যু আর আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে আরও ৭৫ জন। স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য মতে বর্তমানে সাতক্ষীরায় করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৯৯৯ জন। এর মধ্যে ৪১০ সাতক্ষীরা করোনা ডেডিকেটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও জেলার বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বাকীরা আসন সংকটে বাধ্য হয়ে বাসা-বাড়ীতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ফলে দিন দিন আক্রান্তের হার বৃদ্বি পাওয়ায় অক্সিজেন সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।

ঠিক এই সংকট মুহুর্তে সাতক্ষীরায় এসএসসি-৯৩ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা ফ্রি অক্সিজেন ব্যাংক সেবা কার্যক্রম চালু করেছে। সাতক্ষীরা-৯৩ ব্যাচের এসএসসির সাবেক শিক্ষার্থী বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ওবায়েদুর রহমান লিটন, সাংবাদিক সৈয়দ মহিউদ্দিন হাশেমি তপু,এক্সিম ব্যাংকের আইটি প্রধান শেখ নাজমুর রহমান, নওরোজ বুক প্রকাশনির মঞ্জুর খান চৌধুরী চঞ্চল, প্রফেসার হাবিবুল্লাহ, ডেইলি অবজারভাব পত্রিকার ক্রাইমের চিফ সাংবাদিক মামুনুর রশিদ, খুলনা মেডিকেল কলেজের নিউরোভিাগের প্রধান মোঃ শহিদুল ইসলাম, এম আলী এন্টার প্রাইজের সত্বাধিকারী শাহিনুর রহমান বাবু,ব্যবসায়ী মাসুদ বাবুসহ তাদের এসএসসি সাতক্ষীরার-৯৩ ব্যাচের বন্ধুরা প্রাথমিক ভাবে ৩০টি অক্সিজেন সিলিন্ডার দিয়ে অক্সিজেন ব্যাংক সেবা কার্যক্রম শুরু করেছে। এই অক্সিজেন সেবা কার্যক্রম উদ্বোধন করেন নবাগত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হুমায়ন কবির। শহরের নিউমার্কেট সংলগ্ন এলাকায় সাতক্ষীরা-৯৩ নামে একটি অফিস নিয়ে সংগঠনটি তাদের সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

এদিকে এপ্রিল ও মে মাসে জেলায় অক্সিজেন সংকটে মানুষের মৃত্যু ও সংক্রমের হার বৃদ্ধি হার যখন চরমে। অক্সিজেন সংকট ও চিকিৎসা সেবা নিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন হাসপাতালগুলো। ঠিক সেই মূহুর্তে মানব কল্যাণে এগিয়ে আসেন সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের এক্স স্টুডেন্ট এ্যাসোসিয়েশন। নিশ্চিন্তে নিঃশ্বাস এই স্লোগান নিয়ে তারা গ্রামের অসহায় মানুষের দারে দারে পৌঁছে দিচ্ছেন বিনামুল্যে অক্সিজেন সেবা ও ঔষধ সরবরাহ কার্যক্রম।

আরও পড়ুন


যশোরে জেনারেল হাসপাতালে মৃত্যু ১৪, শনাক্ত ২৫৩

মাদারীপুরে দুই কিশোরীকে ধর্ষণ, গ্রেপ্তার দুই

অর্থনীতির চাহিদা-সরবরাহ তত্ত্বের কিছু ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত

সাতক্ষীরা মেডিকেলে আরও ৯ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৬৪


করোনাকালিন গড়ে উঠা এই সেচ্ছাসেবী সংগঠনের এডমিন কামরুজ্জামান রাসেল ও জিবি মীর তাজুল ইসলাম রিপন, লস্কর টেডার্সের সত্বাধিকারি জুনাইদ হোসেন বায়রন, স্থানীয় দৈনিক যুগেরবার্তা পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক সাংবাদিক আ.ন.ম মো: আবু সাঈদ, শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার এস এম জাকির হোসেন জানান, এই মূহুর্তে তাদের ৯২টি অক্সিজেন সিলিন্ডার দিয়ে মানবসেবা দিয়ে যাচ্ছেন। ২০৩ জন করোনা আক্রান্ত রোগীকে সেবা প্রদান করেছেন। অক্সিজেন রিফিল করেছেন সাড়ে ৪০০। অক্সিজেন সংকট ও টাকার অভাবে অক্সিজেন ও ঔষধ কিনতে পারছেন না এমন সংবাদ পেলেই খোঁজ খবর নিয়ে নিজেদের দায়িত্বে পৌঁছে দিচ্ছেন ফ্রি অক্সিজেন সিলিন্ডার। অসচ্ছল ও হতদরিদ্রদের মাঝেও ঔষধ সামগ্রী পৌছে দিয়ে জেলা ব্যাপী প্রশংসা কুড়িয়েছে সংগঠনটি।

এদিকে এসএসসি সাতক্ষীরা-৯৩ ব্যাচ ও সরকারী বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের পৃথক এই সমাজসেবা ও মানবকল্যাণ কার্যক্রমকে সাধুবাদ জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হুমায়ন কবির ও জেলা সিভিল সার্জন ডা. হুসাইন সাফায়াত। জেলা শহর বা গ্রামগঞ্জে অক্সিজেন সংকটের খবর আসলেই জেলা সদরের কার্যালয় থেকে অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে পৌঁছে যাচ্ছে হাসপাতাল কিংবা বাসা-বাড়ীতে। ফ্রি অক্সিজেন সেবা পেয়ে খুশি আক্রান্ত রোগীর স্বজনরা।

মানুষ মানুষের জন্য, তাই করোনা মাহামারির এই সংকটে সরকারের পাশাপাশি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহবান সাতক্ষীরা এসএসসি’র-৯৩ ব্যাচ ও সাতক্ষীরা গভমেন্ট হাই স্কুলের এক্স স্টুডেন্ট এ্যাসোসিয়েশনের।

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর

করোনা: দিনাজপুরে আরও ৬ জনের মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক

করোনা: দিনাজপুরে আরও ৬ জনের মৃত্যু

মহামারী করোনা ভাইরাসে দিনাজপুরে গত ২৪ ঘণ্টায় ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। আজ সন্ধ্যায় দিনাজপুরের সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. শাহ মো. এজাজ-উল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, এ নিয়ে জেলায় করোনায় ২৪৪ জনের মৃত্যু হলো। অপরদিকে গত ১৯ দিনে করোনা উপসর্গ নিয়ে ৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে। জেলায় করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১২ হাজার ৯২৫ জন, সুস্থ হয়েছেন ১১ হাজার ৫৬৩ জন। সক্রিয় রোগী ১ হাজার ১১৮ জন। 

এর মধ্যে ১০০ জন রোগী জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়া করোনার উপসর্গ নিয়ে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ১১৫ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মোট রোগী ভর্তি রয়েছেন ২১৫ জন।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

রাজশাহীতে করোনার গণটিকা কার্যক্রম সফলে চলছে প্রস্তুতি

কাজী শাহেদ, রাজশাহী

রাজশাহীতে করোনার গণটিকা কার্যক্রম সফল করতে চলছে প্রস্তুতি। ইতিমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে ১২৬টি কেন্দ্র। প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে স্বাস্থ্যকর্মীদের। চাপ সামলাতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের পাশাপাশি সহায়তায় থাকবে আইন-শৃংঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা। 

আগামী শনিবার থেকে করোনার গণটিকাদান কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। টিকাদান কার্যক্রম সফল করতে উপজেলা থেকে ইউনিয়ন পর্যন্ত প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। এবার এতে যুক্ত করা হয়েছে জনপ্রতিনিধিদের। প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে টিকাদানে যুক্ত স্বাস্থ্যকর্মীদের।

 * জেলার ৭৩ ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র

* উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ০৯টি

* সিটি করপোরেশনের ৩০টি ওয়ার্ড

* ১টি পৌরসভা (গোদাগাড়ী)

* স্থায়ী ১৩টি কেন্দ্র

আরও পড়ুন:


আবারও বাড়ল লকডাউন

জানানো হলো দোকানপাট খোলার তারিখ

টিকা নেওয়া ছাড়া কেউ অফিস-দোকান-ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আসতে পারবে না


রাজশাহীতে টিকা দিতে কেন্দ্র করা হচ্ছে ১২৬টি। ইউনিয়ন পর্যায়ের প্রতিটি কেন্দ্রে থাকবে ৩টি করে বুথ। সিটি করপোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছাড়াও প্রস্তুত আছে স্থায়ী ১৩ টিকাদান কেন্দ্র।

রুটিন ইপিআই কার্যক্রমে যাতে ব্যাঘাত না ঘটে সেজন্য স্থান ও দিনক্ষণ নির্ধারণ করবে স্থানীয় করোনা ব্যবস্থাপনা কমিটি। চাপ সামলাতে সহায়তায় থাকবে স্থানীয় প্রশাসন।

 টিকার প্রতি মানুষের আগ্রহ বেড়েছে। তবে বয়স্ক ও নারীদের অগ্রাধিকার দিতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে কেন্দ্রগুলোতে।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

নাটোরে কমছে কাঠকরবী ফুলের গাছ

নাসিম উদ্দীন নাসিম, নাটোর

নাটোরে কমছে কাঠকরবী ফুলের গাছ

পাঁচ পাপড়ির সাদা ফুল, ভেতরের দিকে হলুদ আভা। গাছের উঁচু ডালে লম্বা সবুজ পাতার মধ্যে উঁকি দেয় থোকায় থোকায়, সঙ্গে মিষ্টি গন্ধ। ফুলটির নাম কাঠকরবী বা কাঠগোলাপ। নান্দনিক আভিজাত্য সম্পন্ন এই ফুলটি সকলের বেশ পরিচিত। কাঠকরবীর আগমনকাল বেশ প্রাচীন, যার প্রমাণ পাওয়া যায় নাটোর রাজবাড়ির গাছগুলোর দিকে তাকালে। নাটোর শহরের বিভিন্ন জায়গায় এক সময় প্রচুর পরিমাণে কাঠগোলাপ গাছ দেখা গেলেও, কালের আর্বতে বিলুপ্তির পথে আজ কাঠকরবী। কাঠকরবী নামে পরিচতি ফুলটি কয়েক রকমের দেখতে। কোনটা একেবারেই সাদা। আবার কোনটা হলুদ। তবে হলুদ আভায় রাজকীয়ভাব নিয়ে থাকা এই জাতটিই নাটোরে বেশি দেখা যায়।

নাটোরের অনেক ইতিহাসের সাক্ষি হয়ে থাকা এই গাছগুলো নীরবেই হারিয়ে যাচ্ছে, সেদিকে কোনো খেয়ালই নেই কারোও। খোদ যাদের হাতে দায়িত্ব সেই হর্টিকালচারের কাছেই নেই কাঠকরবীকে সংরক্ষণ করার কোনো উদ্যোগ।

ইতিপূর্বে নাটোর পৌরসভার, নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা কলেজ, মহারাজা হাইস্কুলের সামনে, অনেক মন্দিরের আঙিনায়, লালবাজার, হরেনের মোড়, উপরবাজার পৌর ভূমি অফিসের সামনে, কাপুড়িয়াপট্টি, ঘোষপাড়া ও পুরাতন জেলখানার সামনে কাঠকরবির গাছ ছিল।বর্তমানে দেখা মিলছে না কাঠকরবী গাছের। এখন বিলুপ্ত প্রায় সেইসব স্থানের ফুল গাছগুলো। চোখে পড়ে কেবল রানীভবানীর রাজবাড়িসহ কিছু জায়গায়। রাজবাড়ির গেটের সামনে ও ভেতরে কয়েকটি কাঠকরবি ফুলগাছ দেখা যায়।

নাটোর হর্টিকালচার সেন্টারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সেখানে কাঠকরবি ফুলগাছ বা চারা পাওয়া যায় না। তবে শহরের চকরামপুরের সুমি নার্সারিতে খোঁজ নিয়ে চারা পাওয়া গেল। নার্সারির মালিক জানালেন- খুব কম চলে এই কাঠকরবি ফুলের চারা। তাই তেমন একটা উৎপাদন করা হয় না।

শীতকালে এই বৃক্ষ পাতা শূন্য থাকে, দেখে মনে হয় যেন কোনো শিল্পীর হাতে আঁকা নিপুন ভাস্কর্য। শীত পেরিয়ে বসন্ত এলেও ফুল শূন্য নৈপুন্য কায়ায় ঘুমন্ত থাকে। নতুন কুঁড়ি জাগে চৈত্রের শেষাংশে। ধীরেধীরে প্রস্ফুটিত হতে থাকে নতুন পাতা। তারপর শুরু হয় ২-১টা করে ফুল ফোটা। খুব অল্প সময়েই গোটা গাছ ফুলে ছেয়ে যায়।

গাছের ডালের উপরাংশে থোকায় থোকায় ফুল আর ফুলের নিচের অংশে থাকে পাতা। ভোরের স্নিদ্ধতা যে কারও নজর কাড়ে খুব সহজেই। দেখে মনে হয় কোনো কৃষক যেন তার নিজ হাতে তৈরি করে চলেছে এই ফুলের তোরা। তবে লাল রঙের প্রজাতির ফুলগুলো বিশেষ আকর্ষণ করে। পথচারীর ক্লান্ত দৃষ্টি জুড়িয়ে নিতে পারে এক পলকেই। পথিকের মন উদাস করার অসম্ভব ক্ষমতা আছে এই ফুলের গন্ধে। হালকা বাতাসেই ঝরে পড়ে ফুলগুলো, গাছতলায় ঝরা ফুলের সমাহার দেখে মনে হতে পারে ফুলের বাসর। গাছতলায় শুভ্রতায় ভরে যায়।

পূজা-অর্চনাসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সাজানো এবং মেয়েদের খোপায় স্থান করে নেয়া এই ফুলটিকে আশঙ্কাজনক হারে হারানোর আগেই রক্ষার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বলে মনে করেন নাটোরের সচেতন মানুষ।

আবার অনেকেই মনে করেন যেহেতু গাছের ডাল লাগালেই নতুন গাছ হয় সেক্ষেত্রে ব্যক্তিগত অবস্থান থেকেও অনেকে গাছটি লাগাতে পারেন এবং বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করতে ভুমিকা রাখতে পারেন।

জয় কালিবাড়ির পুরোহিত নিধু চক্রবর্তী জানান, গাছটির নানা অংশের ওষুধি গুণ রয়েছে। নারিকেল তেলের সাথে এই গাছের কষ চর্ম রোগের মহৌষধ। এই ফুল মেয়েদের বাধক সুতিকা রোগের জন্য প্রযোজ্য।

পূজার্চনায় বিশেষ প্রয়োজন হয় এই ফুলের তিনি আরও বলেন, এই ফুল গাছের দেখা বর্তমানে তেমন একটা মিলছে না । তবে রাজবাড়িতে এখনো এই ফুলের কয়েকটি গাছ আছে, তার মধ্যে তারকেশ্বর মন্দিরের পাশে গঙ্গাস্নান ঘাটের কাছে গাছটি কয়েকদিন আগে ঝরে পড়ে গেছে গাছটি দ্রুত রক্ষা করা দরকার।

রোজী মোজাম্মেল মহিলা ডিগ্রি কলেজের বোটানিক বিভাগের অধ্যাপক সায়মা চৌধুরী রোশনী জানান, কাঠকরবি গাছ আকারে মাঝারি, লম্বায় সাধারণত ১২-৩০ ফুট হয়। আলতো নরম ভঙ্গুরশাখা-প্রশাখা ছড়ানো-ছিটানো থাকে। কষ হয় দুধ রঙের। পাতা বেশ বড় ও লম্বা।

৫টি ছড়ানো পাপড়ির ফুলগুচ্ছ ৫-৮ ইঞ্চি চওড়া হয়। পাপড়ির কেন্দ্রে কিছুটা হলদে বা কমলা রঙের স্পর্শ থাকে। ডাল থেকেই জন্ম হয়। পশ্চিমা দেশের এই প্রজাতি, নাটোরে আগমন ঘটে রাজপরিবারের হাত ধরে। সেই সুবাদে একে রাজকীয় ফুল বলা চলে। নাটোরে এই ফুলটি কাঠকরবি নামে পরিচিত। তবে স্থান ভেদে এই ফুলটিকে নানা নামে ডাকা হয়। মূলত কাঠকরবির বহু প্রজাতির ও এটা বিচিত্র হয়ে থাকে।

জানা যায়, মেক্সিকো থেকে এই ফুলের চারা আনা হয়েছিল। যতদূর জানা যায় নাটোরে এই ফুল এনেছিলেন রাজা যোগেন্দ্রনাথ রায় বাহাদুর। কয়েক বছর আগেও এই ফুল গাছ চোখে পরতো শহরে বিভিন্ন জায়গায়। কিছু প্রজাপতির কাঠকরবি ফুল আছে যেগুলো সারা বছরই ফোটে। তবে ইদানিং এই ফুলগাছ বিলুপ্ত প্রায়। আগের তুলনায় এই কাঠকরবি ফুলগাছ অনেকাংশেই কমে যাচ্ছে। তবে হর্টিকালচার সেন্টার এই প্রজাতির ফুল গাছগুলো সংরক্ষণ, পর্যবেক্ষণ ও প্রসার করতে পারে বলে তিনি মনে করেন। রাজপরিবারের হাত ধরে আগমন ঘটলেও এখনও সেই রাজকীয় ভাব গাম্ভীর্যের ধরে রেখেছে কাঠকরবী।

আরও পড়ুন:


১১ তারিখ থেকে যানবাহন চলবে যে নিয়মে

৭, ৮, ৯ আগস্ট ভ্যাকসিন নেওয়ার সুযোগ দিচ্ছি: মোজাম্মেল হক

১১ আগস্টের পর ভ্যাকসিন ছাড়া ঘোরাফেরা করলে শাস্তি


news24bd.tv তৌহিদ

পরবর্তী খবর

সিআরবিতে হাসপাতাল হতে দেওয়া হবে না: চসিক মেয়র

অনলাইন ডেস্ক

সিআরবিতে হাসপাতাল হতে দেওয়া হবে না: চসিক মেয়র

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী বলেছেন, সিআরবির প্রাণ-প্রকৃতি ধ্বংস করে কোনোভাবে হাসপাতাল হতে পারে না। হাসপাতালের জন্য জায়গা লাগলে সিটি করপোরেশন দিতে প্রস্তুত। কিন্তু সিআরবিতে হাসপাতাল হতে দেওয়া হবে না।

আজ দুপুরে সিআরবি রক্ষায় আন্দোলনে থাকা নাগরিক সমাজ, চট্টগ্রামের একটি প্রতিনিধি দল মেয়র রেজাউল করিমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি একথা বলেন।

এ সময় নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে হাসপাতাল নির্মাণ বন্ধে হস্তক্ষেপ কামনা করে একটি চিঠিও দেওয়া হয়।

সংগঠনটির প্রতিনিধি দলে ছিলেন সংগঠনের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম চৌধুরী বাবুল, কো-চেয়ারম্যান মো. ইউনুস, মফিজুর রহমান, যুগ্ম সদস্য সচিব মহসিন কাজী প্রমুখ।

আরও পড়ুন:


আবারও বাড়ল লকডাউন

জানানো হলো দোকানপাট খোলার তারিখ

টিকা নেওয়া ছাড়া কেউ অফিস-দোকান-ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আসতে পারবে না


সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণ নিয়ে গত ৯ জুলাই সমকালে 'চট্টগ্রামের "ফুসফুসে' গাছ কেটে হাসপাতাল"-শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে সিআরবি রক্ষায় সামাজিক আন্দোলন গড়ে ওঠে। চট্টগ্রামসহ সারাদেশের মানুষ সিআরবি থেকে হাসপাতাল সরিয়ে নিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। 

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

সাতক্ষীরা ডেডিকেটেড করোনা হাসপাতালে ৪ মৃত্যু

মনিরুল ইসলাম মনি, সাতক্ষীরা

সাতক্ষীরা ডেডিকেটেড করোনা হাসপাতালে ৪ মৃত্যু

করোনা ডেডিকেটেড সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত ২৪ ঘন্টায় উপসর্গ নিয়ে দুই নারীসহ ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ভাইরাসটির উপসর্গ নিয়ে এখন পর্যন্ত ৫৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন আরো ৮৫ জন। 

এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় ৩০৪ জনের নমুনা পরীক্ষা শেষে ৩১ জনের করোনা পজেটিভ শনাক্ত হয়েছে। যা শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৪৭ শতাংশ। এনিয়ে, জেলায় আজ পর্যন্ত মোট করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৫ হাজার ৭৮৯ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৪ হাজার ৫৭৫ জন। 

এদিকে, ভাইরাসের কারণে পাঁচদিন বন্ধ থাকার পর আবারও শুরু হয়েছে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আরটিপিসিআর ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা।  

সাতক্ষীরা মেডিকেলের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সহকারি অধ্যাপক ডা. অভিজিৎ বিশ্বাস জানান, আরটিপিসিআর ল্যাবে ধারণ ক্ষমতার বাইরে কাজ করা হয়েছে। এই ল্যাবের স্বাভাবিক পরীক্ষণ ক্ষমতা দিনে ৯৪টি। অথচ দিনে ৪শতাধিক পরীক্ষা করা হয়েছে। যে কারণে ভাইরাসে পরিপূর্ণ হয়ে গিয়েছিল ল্যাবটি। পাঁচদিন জীবানুমুক্ত করার পরে আবারও কাজ শুরু করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:


আবারও বাড়ল লকডাউন

জানানো হলো দোকানপাট খোলার তারিখ

টিকা নেওয়া ছাড়া কেউ অফিস-দোকান-ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আসতে পারবে না


সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন ডা. হুসাইন শাফায়াত জানান, জেলায় বর্তমানে সরকারী ও বেসরকারী হাসপাতালে মোট ২১৬ জন করোনা রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বাকীরা হোম আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর