টুপি-পাঞ্জাবী হলো ক্ষমতাহীন শ্রেণীর পোশাক

মহিউদ্দিন মোহাম্মদ

টুপি-পাঞ্জাবী হলো ক্ষমতাহীন শ্রেণীর পোশাক

রাজারা মুকুট ব্যবহার করতেন। ব্যাপারটা এমন নয় যে মুকুট না পরলে তিনি রাজা নন। মুকুটের বদলে সাধারণ টুপি ব্যবহার করলেও তিনি রাজাই থাকেন। সিংহাসনের বদলে চৌকিতে বসলেও তাঁর রাজ-পরিচয় ক্ষুণ্ণ হওয়ার কথা নয়। কিন্তু তিনি বসতেন সিংহাসনে, এবং পরতেন রত্নখচিত মুকুট। এর কারণ কী?

এর কারণ, সমাজে ক্ষমতা প্রদর্শনের একটি ভালো উপায় হলো দামি পোশাক পরা, এবং দামি আসবাব ব্যবহার করা। ক্ষমতা প্রদর্শন মানে হলো মানুষকে ভয় পাইয়ে দেয়া। একটি রত্নখচিত মুকুট, তার চারপাশে যে-পরিমাণ ভয় সৃষ্টি করতে পারে, একটি সাধারণ টুপি তা পারে না। ইউরোপীয় রাজারা বাহারি পোশাক পরতেন। প্রজারা পরতো স্যুট-কোট। স্যুট-কোট ছিলো শ্রমিকদের পোশাক। স্যুট-কোট পরে দীর্ঘসময় শীতে কাজ করা যেতো। কালো কোটে বারবার ময়লা মুছা যেতো। কিন্তু রাজার পোশাক এরকম হলে অসুবিধা। রাজাকে পরতে হতো এমন পোশাক, যা সচরাচর দেখা যায় না। ওই পোশাক দেখলেই বুঝা যেতো, লোকটি বিশেষ কেউ। লোকটির মানুষকে ভয় দেখানোর সামর্থ্য আছে। 

আবার রাশেদুন খলিফাদের কোনো মুকুট ছিলো না। ফলে ধর্মীয় কারণ ব্যতীত, তাঁদের ভয় পাওয়ার কোনো কারণ মানুষের ছিলো না। তাঁদের শাসনামলে যে নানা দাঙ্গা-হাঙ্গামা লেগেই থাকতো, এর একটি কারণ আমি মনে করি, তাঁদের সাধারণ জীবন-যাপন। রাজার জীবন যখন প্রজার জীবনের সমান হয়, তখন রাজা আর রাজা থাকেন না। তিনি নিজেও প্রজা হয়ে উঠেন। ম্যাকিয়াভেলি তাঁর রাজাকে, এ ব্যাপারে সাবধান থাকতে বলেছিলেন। 

প্রশ্ন হলো, আধুনিক পোশাক-আশাকগুলিও মানুষকে ভয় দেখানোর দায়িত্ব পালন করে কি না? এক্ষেত্রে আমার উত্তর হলো, আধুনিক পৃথিবীতে, মানুষ যে-প্রক্রিয়ায় সমাজে ভয় সৃষ্টি করে, তা রাজা-বাদশাহদের আমলের মতো অতো সরল নয়। একসময় যা ছিলো শ্রমিকদের পোশাক, এখন তা আমেরিকার প্রেসিডেন্টের পোশাক। কিন্তু তার মানে এই নয় যে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভয় দেখানোর সামর্থ্য একজন শ্রমিকের ভয় দেখানোর সামর্থ্যের সমান। বরং, শ্রমিকের পোশাকে তিনিই এখন সবচেয়ে ভীতিকর রাজা। জাতিসংঘ চার্টারকে তিনি ইচ্ছেমতো পড়তে পারেন, এবং পড়ে ইচ্ছেমতো অর্থ তৈরি করতে পারেন। ব্রুনাইয়ের রাজা এখনও মুকুট পরেন, কিন্তু তাঁর ভয় দেখানোর সামর্থ্য মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভয় দেখানোর সামর্থ্যের এক হাজার ভাগের এক ভাগও নয়।

সুতরাং বলা যায়, পোশাকের সামাজিক মর্যাদার ক্ষেত্রে একটি উল্টো বিবর্তন ঘটে গেছে। শ্রমিক-সুলভ পরিপাটি পোশাকগুলোর ভয় দেখানোর ক্ষমতা এখন, পিএইচডি কনভোকেশনের গাউনের চেয়ে বেশি। লেনিনকে দেখে বুঝা যেতো না যে তিনি লেনিন। তাঁর হাতে এতো ক্ষমতা, এটি বুঝতে হলে তাঁর নামে কিছু একটা বলতে হতো। বললেই বুঝা যেতো যে তাঁর মানুষ খুন করার অসাধারণ ক্ষমতা আছে। 

বিভিন্ন দেশে যে অফিসার শ্রেণীটি আছে, তাদের স্যুটেড বুটেড হওয়ার পেছনের কারণটিও মানুষকে ভয় দেখানো। বাংলাদেশের কথাই ধরা যাক। দেশটিতে ক্ষমতাহীন মানুষদের পোশাক একরকম, এবং ক্ষমতাবান মানুষদের পোশাক আরেক রকম। লুঙ্গি পরা কেউ যখন স্যুট-বুট পরা কারও মুখোমুখি হয়, তখন সে নিজের অজান্তেই আত্মসমর্পণ করে বসে। কথা বলতে গিয়ে প্যাঁচ লাগিয়ে ফেলে, বসতে গিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে। এ ব্যাপারগুলো মনস্তাত্বিক। ইউনিফর্ম পরা কারও সাথে আমরা সহজে তর্ক করতে পারি না। ইউনিফর্ম আমাদের জানিয়ে দেয়— লোকটির সাথে খুব হিশেব করে কথা বলতে হবে। সেদিন টুপি-পাঞ্জাবী পরা একজন ইউএনওর ছবি দেখলাম। আমি নিশ্চিত, ওই ইউএনওকে দেখে কেউ ভয় পাবে না। কারণ বাংলাদেশে, টুপি-পাঞ্জাবী হলো ক্ষমতাহীন শ্রেণীর পোশাক। 

আমি যতোবার লুঙ্গি পরে বিদেশ যাতায়াত করেছি, ততোবারই বিমানে, বাংলাদেশী মানুষ দ্বারা হাসি-তামাশার শিকার হয়েছি। একবার ইমিগ্রেশন অফিসার ভেবেছিলো, আমার দুই উরুর চিপায় বুঝি ঘা হয়েছে, এজন্য লুঙ্গি পরে এয়ারপোর্টে ঢুকেছি। এর কারণ, লুঙ্গি কোনো ভীতিকর পোশাক নয়। লুঙ্গির ভয় দেখানোর ক্ষমতা শূন্য। শেখ মুজিব ও ভাসানী লুঙ্গি পরতেন, এজন্য তাঁদের কেউ ভয় পেতো না। গান্ধীর চেয়ে নেহরুর পোশাক ভীতিকর ছিলো। 

সিমলা কনফারেন্সে, মাওলানা আজাদ যখন ভাইসরয়ের সাথে সাক্ষাতে বসেছিলেন, তখন ভাইসরয়ের পোশাক আর মাওলানা আজাদের পোশাক এক ছিলো না। জেলখানায় কয়েদীদের যে-পোশাক দেয়া হয়, তা একজন মানুষকে ভেঙ্গে ফেলার পোশাক। ওই পোশাক কয়েদীদের একটি বার্তা দেয়। বার্তাটি হলো— মানুষ হিশেবে তোমার ক্ষমতা ও মূল্য, এখন শূন্য। মিলিটারিতে সৈনিক এবং অফিসার ক্লাসের যে-পার্থক্য, তা মুলত পোশাকের মাধ্যমেই ফুটিয়ে তোলা হয়। পোশাক দেখলেই একজন সৈনিক বুঝে যান, লেফটেন্যান্ট জেনারেল আসছেন, তার কাছাকাছি যাওয়া যাবে না। একই কথা অন্য বাহিনীগুলোর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। 

পোশাক, এক প্রকার সামাজিক দেয়াল হিশেবে কাজ করে। বিচারপতি যদি বিশেষ পোশাক না পরেন, এবং বিশেষ চৌকিতে না বসেন, তাহলে তার আইনি কর্তৃত্ব আমরা সহজে মানতে চাইবো না। পুলিশ যদি লুঙ্গি পরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মারামারি থামাতে যায়, তাহলে মারামারি থামবে বলে মনে হয় না। বিয়ের আসরে যদি জামাই একটু বিশেষ পোশাক না পরেন, তাহলে তার দিকে কেউ আগ্রহ নিয়ে তাকাবে না। মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করার একটি শক্তিশালী উপায় হলো পোশাক।

আমাদের নারীরা যে প্রায়ই শাড়ি-গয়না নিয়ে তুলকালাম বাঁধিয়ে ফেলে, তার মূল কারণও মনোযোগ আকর্ষণ। তারা চায়, চারপাশের সমাজ তাদের দেখুক, এবং দেখে হিংসায় জ্বলে মরুক। হিংসাও এক প্রকার ভয়, কারণ হিংসা মানুষে মানুষে বিকর্ষণ তৈরি করতে পারে। আমরা যখন কাউকে হিংসা করি, তখন তার কাছে সহজে যেতে চাই না। আবার আমরা যখন কাউকে ভয় করি, তখন তার কাছেও সহজে যেতে চাই না। 

সুতরাং দেখা যাচ্ছে, পোশাক অনেকটা বন্দুকের বিকল্প হিশেবে কাজ করে। কোনো সমাজে, পোশাকের আশ্রয় নিয়ে, নিজেকে ক্ষমতাধর হিশেবে প্রচার করা সম্ভব। অবশ্য এ কাজে অনেকে, পোশাকের সাথে একটি দামি গাড়ির সমাহারও ঘটান। বাংলাদেশে যে ড্রাইভার প্রথাটি আছে, তা মূলত মানুষের ক্ষমতা প্রদর্শনের প্রবণতার দিকেই ইঙ্গিত করে। ক্ষমতাধর মানুষ, অথচ তার একজন চাকর নেই, এটা হতে পারে না। 

এ ধারণা থেকেই, বাংলাদেশের অধিকাংশ স্যুট-বুট সদস্য, নিজে গাড়ি চালানো শেখেন না। তারা রাখেন ড্রাইভার নামক একজন চাকর, যিনি সিট থেকে নেমে গাড়ির দরজাটি একটু খুলে দেবেন, আর মানুষের সামনে স্যার স্যার, ম্যাডাম ম্যাডাম করবেন। এতে নিজেকে একটু রাজা রাজা মনে হয়। অথচ ইউরোপ-অস্ট্রেলিয়ায়, প্রধানমন্ত্রী ছাড়া আর কেউ ড্রাইভার সুবিধা পান না। যতো বড় অফিসারই হোন না কেন, নিজের গাড়ি নিজেকেই চালাতে হবে।  (‘মানুষ এবং অন্ধকারের প্রশংসা’ থেকে)

লেখাটি মহিউদ্দিন মোহাম্মদ-এর ফেসবুক থেকে নেওয়া (সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

শাহজাহান চেয়েছিলেন বড় ছেলে দারা শিকোহ তাঁর উত্তরাধিকারী হোক

শান্তা আনোয়ার

শাহজাহান চেয়েছিলেন বড় ছেলে দারা শিকোহ তাঁর উত্তরাধিকারী হোক

শান্তা আনোয়ার

১৬৫৮ সালের ৩১ শে জুলাই সম্রাট আওরঙ্গজেব মোঘল সাম্রাজ্যের সিংহাসন আরোহণ করেন।  তিনি বাদশাহ আলমগীর নামেও পরিচিত ছিলেন। তার জীবদ্দশায়, দক্ষিণ ভারত বিজয় মুঘল সাম্রাজ্যকে ৪ মিলিয়ন বর্গমাইল পর্যন্ত বিস্তৃত করে এবং আনুমানিক ১৫৮  মিলিয়ন মানুষকে মোঘল সাম্রাজ্যের প্রত্যক্ষ শাসনে নিয়ে আসে।

সেই সময় মোঘল সাম্রাজ্যের  বার্ষিক রাজস্ব আয় ছিলো ৪৫০ মিলিয়ন ডলারের সমতুল্য সেই সময় ফ্রান্সের সম্রাট চতুর্দশ লুইয়ের রাজস্ব আয়ের চাইতে বাদশাহ আলমগিরের রাজস্ব আয় ছিলো দশগুণ বেশি।  তার শাসনামলে, মুঘল সাম্রাজ্য চীনকে ছাড়িয়ে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিনত হয় যার মুল্য ছিলো ৯০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি, ১৭০০ সালে বিশ্বের জিডিপির প্রায় এক চতুর্থাংশ ছিলো মোঘল সাম্রাজ্যের।

বাদশা আলমগীর ১৬১৮ সালের ৪ নভেম্বর গুজরাটের দহোদ শহরে জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলা থেকেই তিনি মহত প্রাণ এবং গৌরবদীপ্ত ছিলেন এছাড়াও তিনি ছিলেন এক দুর্দান্ত ও সাহসী অশ্বারোহী।
তিনি জ্ঞান এবং ধর্মকে ভালোবাসার মধ্যে দিয়ে বয়োপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। এমনকি ছোটবেলায়, তিনি বিলাসবহুল জীবন থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করতেন। তিনি দ্রুত ভারতের মধ্যবর্তী অঞ্চলে তাঁর শাসিত প্রদেশ -দাক্ষিণাত্য রাজ্য পরিচালনার প্রত্যক্ষ জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।

তিনি তার জীবনের ৫২ বছরই যুদ্ধ করে কাটিয়েছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত না তার শাসনামলে মোঘল সাম্রাজ্য উল্লেখযোগ্যভাবে প্রসারিত হয়। তার শাসনামলে মুঘলরা ৩০০ টিরও বেশি যুদ্ধ করেছে যার মধ্যে ১১ টি যুদ্ধ আওরঙ্গজেবের ব্যক্তিগত ও প্রত্যক্ষ কমান্ডে করা হয়েছিল, তিনি যুদ্ধক্ষেত্রে স্বশরীরে উপস্থিত থেকে সৈন্য পরিচালনা করেছিলেন।

আওরঙ্গজেবের একক নেতৃত্বে ভারতীয় উপমহাদেশকে মুসলিম মুঘল প্রদেশে রূপান্তরিত করতে সফল হন। তিনি তার শাসনামলে ইসলামী ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং ৮০ টি কর বাতিল করেন এবং অমুসলিমদের উপর জিজিয়া কর আরোপ করেন যা তাঁর পূর্বপুরুষরা বাতিল করেছিলো।

উনার শাসনামলে মঠ, স্কুল, মসজিদ, স্নানাগার অসংখ্য বাগান গড়েছিলেন এবং হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি লাহোর শহরে বাদশাহি মসজিদ নামে অপরুপ এক মসজিদ নির্মান করেছিলেন। সম্রাট আওরঙ্গজেব সম্পর্কেও মন্দির ধংসের অপবাদ শোনা যায়। এখানেও বিস্ময়কর ভাবে কারণটা রাজনৈতিক। আওরঙ্গজেব রাজপুতদের মন্দির ভেঙ্গেছিলেন, যেই রাজপুত মোঘলদের অনুগত ছিল কিন্তু আওরঙ্গজেবের আনুগত্য মানতে অস্বীকার করে বিদ্রোহ করে। সেই বিদ্রোহ দমনের পরে মন্দির গুলো ভাঙা হয়।

রিচার্ড এম ইটন লিখেছেন, বাঙলায় সম্রাট আওরঙ্গজেব যে কোন মোঘল শাসকদের চেয়ে বেশী মন্দির নির্মাণ করে দিয়েছিলেন। মার্কিন ইতিহাসবিদ অড্রে ট্রাশকা তাঁর বই 'আওরঙ্গজেব - দ্যা ম্যান অ্যান্ড দ্যা মিথ' বইয়ে লিখেছেন যে আওরঙ্গজেব হিন্দুদের ঘৃণা করতেন আর তাই মন্দির ধ্বংস করেছেন বলে যে দাবী করা হয়, তা ভুল।

ব্রিটিশদের শাসনের সময় তাদের 'ডিভাইড অ্যান্ড রুল' অর্থাৎ জনগোষ্ঠীকে 'বিভাজন আর শাসন করো' নীতির আওতায় ভারতে হিন্দু বর্ণবাদী ধারণা উস্কে দেয়ার কাজটি করেছিলেন যেসব ইতিহাসবিদরা, তারাই মূলত: আওরঙ্গজেবের এমন একটি ইমেজ তৈরির জন্য দায়ী। ট্রাশকার মতে, "এটা একটা ভুল ধারণা যে আওরঙ্গজেব হাজার হাজার হিন্দু মন্দির ধ্বংস করেছিলেন। ডজনখানের মতো মন্দির তাঁর সরাসরি আদেশে ভাঙ্গা হয়েছিল। তাঁর সময়ে এমন কোন ঘটনা ঘটেনি যাকে হিন্দুদের গণহত্যা হিসেবে বর্ণনা করা যেতে পারে। সত্যিকার অর্থে আওরঙ্গজেব হিন্দুদেরকে সরকারের অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়েছিলেন।”

আওরঙ্গজেবকে নিষ্ঠুর আর ভাতৃহন্তারক হিসেবেও ধরা হয়। এমনকি এটাও বলা হয় সিংহাসনের লোভে পিতা সম্রাট শাহজাহানকে বন্দি করার মতো হৃদয়হীন কাজও তিনি করেছেন। কিন্তু আদতে, একেবারে তরুণ বয়স থেকে শাহ জাহানের চার ছেলেই মুঘল সাম্রাজ্যের সিংহাসনে বসার চেষ্টা চালাচ্ছিলেন। মুঘলরা মধ্য এশিয়ার ওই প্রথায় বিশ্বাস করতেন যে রাজনৈতিক ক্ষমতা পাওয়ার ক্ষেত্রে সব ভাইদেরই সমান অধিকার রয়েছে। আওরঙ্গজেবের সিংহাসনে স্বাভাবিক অধিকার ছিলো। 

দারা শিকোহ আওরঙ্গজেবকে খুব অপছন্দ করতেন। একবার দারা শিকোহর সামনে এক মত্ত হাতি আওরঙ্গজেবকে পিষে মারা চেষ্টা করলেও দারা তার ভাইকে বাচাতে বিন্দুমাত্র চেষ্টা করেনি। দারা ছিলো ভয়ানক প্রতিহিংসাপরায়ন। যেদিন দারা মারা গেলেন, সেদিন আওরঙ্গজেব তাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন যে যদি নিয়তি উল্টোটা হতো, তাহলে ঠিক কী ঘটতো? দারার উত্তর ছিল যে তিনি আওরঙ্গজেবের শরীরকে চার ভাগ করে একেকটি ভাগ দিল্লির প্রধান চার সিংহ-দরজায় ঝুলিয়ে রাখতেন। 

শাহজাহান চেয়েছিলেন বড় ছেলে দারা শিকোহ তাঁর উত্তরাধিকারী হোক। কিন্তু আওরঙ্গজেব বিশ্বাস করতেন মুঘল সালতানাতে তাঁর চেয়ে যোগ্য আর কেউ নেই। ভারতীয় ইতিহাসের একটি বড় প্রশ্ন হলো কট্টর আওরঙ্গজেবের বদলে যদি উদারপন্থী দারা শিকোহ ৬ষ্ঠ মুঘল সম্রাট হতেন, তাহলে কী হতো?

বাস্তবতা হলো মুঘল সাম্রাজ্য চালানো কিংবা জয় করার ক্ষমতা দারা শিকোহ'র ছিলো না। ভারতের সিংহাসন নিয়ে চার ভাইয়ের মধ্যে যখন প্রতিযোগিতা চলছিলো, তখন অসুস্থ্য সম্রাটের সমর্থন ছিলো দারার প্রতি। কিন্তু আওরঙ্গজেবের মতো রাজনৈতিক প্রজ্ঞা তাঁর ছিলো না।

আওরঙ্গজেব ছিলেন একজন নিষ্ঠাবান মুসলিম, তিনি নিয়মিত রোজা রাখতেন, নিয়মিত মসজিদে নামাজ পড়তেন এবং কোরআন তেলাওয়াতও করতেন। আওরঙ্গজেবের প্রিয় খাবারের মধ্যে  ছিলো আম।  কয়েকটা আমের হিন্দি নামকরণও করেছিলেন তিনি, যেমন সুধারস আর রসনাবিলাস।

তিনি এমন কর্মী সদস্যদের নিযুক্ত করেন যারা মানবসম্পদ নিয়ে গবেষণা করেন। তিনি তাঁর দরবারে দিনে তিনবার কোন প্রহরী ছাড়াই বসতেন এবং সরাসরি মানুষের সমস্যা শুনতেন। তিনিই প্রথম রাজা যিনি আইনের উৎস হিসেবে ব্যবহারের জন্য পাণ্ডুলিপিতে ইসলামী আদেশ লিপিবদ্ধ করেন।

যখন তিনি মৃত্যু শয্যায়, তখন তিনি নির্দেশ দিয়েছিলেন যে তার কফিনের দাম যেন ৫ টাকার বেশি না হয় 

১৭০৭ সালের মার্চ মাসের ৩ তারিখ বাদশাহ আওরঙ্গজেব ৫২ বছর ভারত শাসন করার পর মারা যান; মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৯০ বছর। আওরঙ্গজেবকে দাফন করা হয়েছিল মহারাষ্ট্রের খুলদাবাদে একটি কাঁচা কবরে, সেটাই তার শেষ  ইচ্ছা ছিলো। তার মৃত্যুর পর ভারতের মহৎ ইসলামী সাম্রাজ্যেরও অবসান ঘটে। এর পরেই আসে দুর্বল শাসক, তার পরে ব্রিটিশরা।

লেখাটি শান্তা আনোয়ার- এর ফেসবুক থেকে নেওয়া (সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv/এমিজান্নাত 

পরবর্তী খবর

টিউশনির টাকা না দিলে মামলা করার সুযোগ থাকা উচিত

রউফুল আলম

টিউশনির টাকা না দিলে মামলা করার সুযোগ থাকা উচিত

টিউশনি পেয়েছি এক সপ্তাহ হয়েছে। ছাত্রীকে উচ্চমাধ‍্যমিক রসায়ন পড়ানোর কথা। তিনদিন পড়িয়েছি।

দ্বিতীয় সপ্তাহে দেখি স্টুডেন্ট বায়োলজি বই নিয়ে আসছে। একটু অবাক হলাম। পড়ানোর কথা কেমেস্ট্রি। এখন দেখি বায়োলজিও পড়াতে হবে। না ও করতে পারছি না। শাড়ি কিনলে ব্লাউজের কাপড় ফ্রি—এ ধরণের অফার তো আমি দেইনি।

প্রথমবার পড়িয়ে দিলাম। অন‍্যদিন আবার নিয়ে আসলো। বললাম, দেখো কেমেস্ট্রি বইয়ের মধ‍্যে যদি বায়োলজি বই ঢুকিয়ে স‍্যান্ডউইচ বানাতে চাও, সেটা তোমার ব‍্যাপার। তবে সেই স‍্যান্ডইউচ নিয়ে আমার মোটেও আগ্রহ নেই। এই কথা শুনে, দুই চোখ বড়ো করে সে আমার দিকে উচ্চমাধ‍্যমিক একটা লুক দিলো।

দুই সপ্তাহ পড়ানো হলো। তৃতীয় সপ্তাহে একদিন আমি গিয়ে বসে আসি। স্টুডেন্টের খবর নেই। প্রায় আধঘণ্টা পড় এসে বলে, স‍্যার আসেন। সে ঘুম থেকে উঠে, প্রস্তুত হয়ে হেলে দুলে এসেছে! যথারীতি আমার মেজাজ গরম! মেজাজ গরম নিয়ে তো আর তাপউৎপাদী বিক্রিয়া (Exothermic reaction) পড়ানো যায় না! বললাম, আজকে তোমাকে শুধু তাপহারী বিক্রিয়া পড়াবো। স্টুডেন্ট বলে উঠলো—মানে!

দুদিন পর আবারো দেরি। অন‍্য টিচারের কাছে পড়তে গিয়েছে। সেখান থেকে আসতে আসেত আধঘন্টা দেরি। আর আমি লিভিং রুমে বসে বসে পত্রিকা মুখস্থ করছিলাম। সে সময় স্মার্টফোন ছিলো না। থাকলে হয়তো সঙ্গীত অজ্ঞ মাহফুজ স‍্যারের গান উপভোগ করতে পারতাম।

আমি পরে বাসায় এসে স্টুডেন্টকে ফোন করলাম। বললাম তোমাকে আর পড়াবো না। যার সময়জ্ঞান নেই, তাকে অন‍্যজ্ঞান দেয়ার কোন ইচ্ছে আমার নেই। আমার তিন সপ্তাহের টাকা, চেক বা মানি অর্ডার করে (তখন বিকাশ ছিলো না) পাঠিয়ে দিও। ঠিকানা দিয়ে দিলাম। এও বললাম, যদি টাকা না পাঠাও আমি কিন্তু থানায় যাবো।

আরও পড়ুন:

বাড়ানো হয়েছে লঞ্চ চলাচলের সময়

এবার পর্নোগ্রাফি শুটিংয়ের অভিযোগে অভিনেত্রী গ্রেপ্তার

সাকিবের সামনে রেকর্ড গড়ার হাতছানি, যেখানে তিনিই হবেন প্রথম

চিত্রনায়িকা একার বিরুদ্ধে হাতিরঝিল থানায় দুই মামলা


টাকা পাঠায়নি। পড়ে আমি থানায় গিয়েছিলাম। থানায় গিয়ে পরিচয় হয় ইউনিভার্সিটির এক বড়ো ভাইয়ের সাথে। বললাম একটা মামলা করবো। টাকা আদায়ের লক্ষ‍্যে। তিনি আমার ঘটনা শুনে অনেক্ষন হাসলেন। বিষয়টা উনার কাছে হাসির হলেও, আমার কাছে মোটেও হাসির ছিলো না। মামলা করতে পারিনি। এ ধরণের মামলা নাকি করা যায় না।

পাওনা টাকা আদায়ের জন‍্য বাংলাদেশ পুলিশ আইনে সুষ্পষ্ট কোন এক্ট আছে কিনা তখন জানা ছিলো না। এখনো জানা নেই।

তবে এই বিষয়ে কঠোর আইন হওয়া উচিত। মামলার সুযোগ থাকা উচিত।

news24bd.tv/ নকিব

পরবর্তী খবর

হেলেনা জাহাঙ্গীর আওয়ামী লীগ 'নেত্রী' ছিলেন না

আশরাফুল আলম খোকন

হেলেনা জাহাঙ্গীর আওয়ামী লীগ 'নেত্রী' ছিলেন না

হেলেনা জাহাঙ্গীর কখনো আওয়ামীলীগ “নেত্রী” ছিলেন না। ঢাকা শহর ব্যাপী রং বেরঙের পোস্টার ছাপিয়ে আর ফেসবুকে উদ্ভট লাইভ করে তিনি অনেক আগেই আলোচিত।

বছর দুয়েক হলো আওয়ামীলীগের উপ কমিটিতে হয়তো কোনো কায়দা কানুন(!) করে তিনি ঢুকেছেন। এর মানে কি হেলেনা জাহাঙ্গীর “নেত্রী” হয়ে গেলেন? উনি রাজনীতি কবে কোথায় করেছেন? তিনি নিজেও দাবী করেন, তিনি সোশ্যাল ওয়ার্ক করতেন।
 
“নেত্রী” অনেক বড় ও ওজনদার শব্দ। সুতরাং কেউ যদি সংবাদে কিংবা লেখায় সাবেক আওয়ামীলীগ “নেত্রী” লিখেন একটু সিক্সথ সেন্স কাজ করানো উচিত। কেউ লটারিতে অনেক অনেক টাকা পেয়ে গেলে যেমন আমরা তাকে ব্যবসায়ী বলিনা, ভাগ্যবান বলি। ঠিক তেমনি কোন অনুকম্পায় হঠাৎ মন্ত্রী এমপি কিংবা পদপদবী পেয়ে গেলেই তিনি “নেতা কিংবা নেত্রী” হবেন না। “নেতা-নেত্রী” খেতাব অনেক সাধনার ফসল। হুদাই লিখে লিখে কাউকে এই খেতাব দিয়েন না।

আরও পড়ুন


ক্ষমতার দাপট ও ফেরাউনের শেষ পরিণতি

স্বামীর পর্নকাণ্ড: এবার শিল্পা শেঠির সমর্থনে বলি-অভিনেত্রী

ফল খাওয়ার উপযুক্ত সময় কোনটি জেনে নিন

যাকে তাকে নেতা-নেত্রী বানিয়ে প্রকৃত নেতা নেত্রীকে ছোট করা হয়।

লেখাটি আশরাফুল আলম খকন- এর ফেসবুক থেকে নেওয়া (সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv রিমু 

পরবর্তী খবর

বেশিরভাগ অনলাইন টিভির মালিক তথাকথিত কিছু মহিলা উদ্যোক্তা

আশরাফুল আলম খোকন

বেশিরভাগ অনলাইন টিভির মালিক তথাকথিত কিছু মহিলা উদ্যোক্তা

মূলধারার পত্রিকা কিংবা টেলিভিশন এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে তাদের দেখা যেত না। কিন্তু নাম সর্বস্ব এবং অনুমতিবিহীন এইসব অনলাইন টিভির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে তাদের সরব উপস্থিতি থাকে। এই “তাদের” বলতে যাদের বুঝিয়েছি তারা বিভিন্ন পেশার হোমরা চোমরা। আর এই বেশির ভাগ অনলাইন টিভির মালিক হচ্ছে নামিদামি তথাকথিত কিছু মহিলা উদ্যোক্তা(!)। অনেক ছেলে উদ্যোক্তাও এই অনলাইন টিভি করেছেন। কিন্তু তাদের টিভির কোন অনুষ্ঠানে এইসব হোমরা চোমরাদের দেখা যায়না।

যেখানে একটি টিভি চ্যানেল চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন মূলধারার টিভি চ্যানেল এর মালিকরা সেখানে এই নামসর্বস্বরা নামীদামী হোটেলে জমকালো অনুষ্ঠান করে। তাদের আয়ের উৎস কি কেউ জানেনা। ঐসব অনুষ্ঠানে ফুল নিয়ে সেজেগুজে হোমরা চোমরা’রা হাজির হয়ে যান। দেখলে মনে হয় বিয়ে বাড়িতে আসছেন।

আরও পড়ুন:

বাংলাদেশসহ চার দেশে দুবাইগামী ফ্লাইট বন্ধ ৭ আগস্ট পর্যন্ত

স্বামীর পর্নকাণ্ড: মানহানির মামলা নিয়ে শিল্পাকে আদালতের ভর্ৎসনা

হেলেনাকে সম্মানের সঙ্গে ছাড়তে বললেন সেফুদা

সেনাবাহিনীতে বিভিন্ন বেসামরিক পদে ছয় শতাধিক নিয়োগ


হেলেনা জাহাঙ্গীরের টিভির মতো এমন অবৈধ ভুঁইফোড় অনেক অনলাইন টিভি আছে। মাননীয় তথ্যমন্ত্রী বললেন, এর সবই অবৈধ। এটা বন্ধ হলে ওই অবৈধগুলোও বন্ধ হওয়া উচিত। অধিকাংশের কাজই হচ্ছে কোন না কোন ঝান্ধা আর ব্ল্যকমেইল করা।

news24bd.tv/ নকিব

পরবর্তী খবর

হেলেনাকে সম্মানের সঙ্গে ছাড়তে বললেন সেফুদা

অনলাইন ডেস্ক

হেলেনাকে সম্মানের সঙ্গে ছাড়তে বললেন সেফুদা

সম্প্রতি নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জেরে আওয়ামী লীগ থেকে বাদ পড়া হেলেনা জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তার পর আলোচিত অস্ট্রিয়া প্রবাসী সেফাত উল্লাহ সেফুদার নাম উঠে আসে। হেলেনার সঙ্গে সেফুদার নিয়মিত যোগাযোগ ছিলো বলে জানা যায়।

এবার হেলেনা ইস্যুতে মুখ খুলেছেন সেফুদা। তাকে সম্মানের সঙ্গে ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। গতকাল শুক্রবার ফেসবুক লাইভে এসে এ আহ্বান জানান তিনি।

ওই ভিডিও বার্তায় সেফুদা বলেন, আমার নাতি হেলেনা জাহাঙ্গীরকে অসম্মানজনকভাবে, একজন সিআইপিকে অ্যারেস্ট করা হলো। আমার ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে। হেলেনা জাহাঙ্গীরের মেয়ে আমার ভাগ্নি জেসির একটি সাক্ষাৎকার দেখলাম একটি টেলিভিশনে। হেলানাকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে তিলকে তাল করে র‍্যাবদেরকে দিয়ে তছনছ করা হয়েছে। ভাবটা এমন যে, চোর ধরা পড়েছে।

সেফুদা আরও বলেন, আমার সঙ্গে হেলেনা জাহাঙ্গীরের দেখা হয়নি। তবে টেলিফোনে কথা হতো। হেলেনা জাহাঙ্গীর একজন স্মার্ট নারী, তিনি দুঃসাহসের সঙ্গে কথা বলতেন। অবিলম্বে এবং সম্মানের সঙ্গে হেলেনা জাহাঙ্গীরকে ছেড়ে দিতে হবে।

আরও পড়ুন


আফগানিস্তানের জাতিসংঘের দপ্তরে হামলা, এক পুলিশ নিহত

হত্যা চেষ্টার অভিযোগে আসামের মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা মিজোরাম পুলিশের

হেলেনা জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে পল্লবী থানায় আরও এক মামলা

হামলার শিকার ইসরাইলি জাহাজের ২ ক্রু নিহত


এদিকে, শুক্রবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, হেলেনা জাহাঙ্গীরকে অস্ট্রিয়া প্রবাসী আলোচিত সেফুদা নাতনী বলে ডাকতেন। সেফুদার সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল এবং তার সঙ্গে লেনদেনও ছিল হেলেনা জাহাঙ্গীরের।

তিনি বলেন, সেফুদা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যের মাধ্যমে দেশবাসীর নজর কাড়তে চেষ্টা করেন। তার সঙ্গে গ্রেপ্তারকৃতের নিয়মিত যোগাযোগ ও লেনদেন রয়েছে বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়।

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর