বাবার সম্পত্তি
বাবার সম্পত্তি

কাজী শরীফ, সহকারী জজ

বাবার সম্পত্তি

Other

বাবা মারা গেছেন মঙ্গলবার দুপুরে। রাতে লাশ দাফনের প্রস্তুতি চলছিল। এর মধ্যে মৃতের পাঁচ সন্তান বাবার রেখে যাওয়া জমিজমা নিয়ে বিরোধে লিপ্ত হয়। লাশ পড়ে থাকে উঠোনে।

জানাযা ও কবরস্থ করার জন্য যারা এসেছিলেন তারা বাড়ি ফিরে যান। পাঁচ ভাইবোনের এ ঝগড়া চলতেই থাকে। সারারাত ঝগড়া শেষেও যখন লাশ কবরস্থ করা যায়নি। বুধবার সকালে স্থানীয় চেয়ারম্যান এসে সমঝোতা করে লাশ দাফন করতে উদ্যোগ নেন। কিন্তু সন্তানরা তা মানবে কেন? তাদের যেন একটাই দাবি মৃত বাবা সম্পত্তি ভাগ করে দিতে হবে!

দুপুর দুইটায় চেয়ারম্যান নিজ উদ্যোগে লাশ দাফনের ব্যবস্থা করেন। কিন্তু বিধিবাম। বড় ছেলের দাবি ছোট ছেলে নাকি বাবাকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে সম্পত্তি গ্রাস করতে মেরে ফেলেছে। পুলিশ এসে বুধবার বিকেলে লাশ মর্গে পাঠায়।

না এটা আমার গল্পের প্লট নয়। নয় আমার চলমান উপন্যাসের কাহিনিও। এমন ঘটনা ঘটেছে রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার দক্ষিণ পাঁচুরিয়া ইউনিয়নের অম্বলপুর গ্রামে। বাবারা কষ্ট করে যে সম্পত্তি সন্তানের জন্য রেখে যান তার ফল কী হতে পারে তার কিছুটা আঁচ আমি এজলাসে বসে পেয়েছিলাম। যা পূর্ববর্তী একটা স্ট্যাটাসে লিখেছিলাম। প্রাসঙ্গিকভাবে সে লেখা এ লেখায় সংযুক্ত করলাম।

আদালতে একজন সাক্ষীকে বিজ্ঞ আইনজীবী জেরা করছেন,'যে সম্পত্তির জন্য মামলা করেছেন এটা কার খরিদ করা?'
- আমার পিতার।
আপনি কতটুকু দাবি করেন?
- ছিয়াত্তর শতক।
এ সম্পত্তি কত সালে খরিদ করা হয়?
-১৯৯৪ সালে।
কত তারিখ বলতে পারবেন? 
- জি স্যার পারব। ২৩/৩/৯৪ সালে।
কবলা নম্বর কত?
- ৭৭৮ নং দলিল।
সিএস খতিয়ান নম্বর কত?
- ৭৪
এমআরআর খতিয়ান নম্বর কত?
- ৫৯
আপনার পিতা কবে মারা গেছেন?
- ৩/৪ বছর হবে।
সঠিক সাল বলতে পারবেন?
- সাক্ষী কিছুক্ষণ ভেবে বলল, স্যার স্মরণ নাই।
আমি অবাক হয়ে দেখলাম পিতার সম্পত্তির পরিমাণ জানে, দলিলের সন তারিখ জানে, এত পুরনো খতিয়ান নাম্বার জানে শুধু জানে না যে বাবার কষ্টার্জিত সম্পত্তির ভাগ পেতে আদালতে আসেন তার মৃত্যুর সঠিক সাল। সাল যেহেতু মনে নেই মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট তারিখ মনে আছে এ আশা করা সমীচীন নয়।

আরও পড়ুন


আমার দেখা আওয়ামী লীগের দুঃসময়ের সাহসী নেত্রী সাহারা আপা

আত্মসমপর্ণের পর কারাগারে দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট

দুবাই বন্দরে নোঙ্গর করা জাহাজে ভয়াবহ বিস্ফোরণ

যত টাকা দিয়ে মুক্তি পেল সুয়েজ খালে আটকে পড়া সেই জাহাজ!


যেখানে বাবার মৃত্যুর দিনই জানে না সেখানে সেদিন পিতার রুহের মাগফেরাত কামনা করে একটু দোয়া করা, মিসকিন খাওয়ানোর কথা ভাবে বলেও সঙ্গত কারণেই মনে হয় না।

আমাদের বাবারা এ ঘটনা থেকে শিক্ষা পাক। সন্তানের জন্য মাথার ঘাম পায়ে ফেলে কিংবা ঘুষ দুর্নীতি করে অন্যের হক মেরে সম্পদের পাহাড় গড়ার আগে ভাবুক তিনি জীবন বাজি রেখে কিংবা কারো কারো বেলায় নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে এ সম্পদ রেখে যাওয়ার আদৌ প্রয়োজন আছে কি না! এ সম্পত্তি আদতেই তার কোন কাজে লাগবে কি না! 

কাজী শরীফ, সহকারী জজ, নোয়াখালী

news24bd.tv এসএম