অন্তঃসত্ত্বা তরুণীকে বিয়ে করবে না প্রভাবশালী প্রেমিক, পুলিশের হস্তক্ষেপে বিয়ে
অন্তঃসত্ত্বা তরুণীকে বিয়ে করবে না প্রভাবশালী প্রেমিক, পুলিশের হস্তক্ষেপে বিয়ে

অন্তঃসত্ত্বা তরুণীকে বিয়ে করবে না প্রভাবশালী প্রেমিক, পুলিশের হস্তক্ষেপে বিয়ে

অনলাইন ডেস্ক

এলাকার অত্যন্ত প্রভাবশালী পরিবারের এক যুবকের সঙ্গে তার আট বছরের প্রেমের সম্পর্ক হয় এক মেয়ের। দুই পরিবারে বিষয়টি জানাজানি হলে পরবর্তীতে পারিবারিকভাবেই মেয়েটির সঙ্গে বিয়ে ঠিক হয়। বিয়ের খরচ জোগাতে জমিও বিক্রি করেন মেয়েটির বাবা। বিয়ের আশ্বাসে ছেলেটির সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে জড়াতে বাধ্য হয় মেয়েটি।

একপর্যায়ে মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। ছেলেটির বড় ভাই এলাকার প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধি।

অন্তঃসত্ত্বা মেয়েকে নিয়ে বিয়ের জন্য মেয়ের পরিবার বিভিন্ন জায়গায় ধর্ণা দিয়েও বিষয়টির কোনো সুরাহা হচ্ছিল না। অবশেষে পুলিশের হস্তক্ষেপে প্রেমিকের সঙ্গে বিয়ে হয়েছে মেয়েটির।  

শুক্রবার পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) মো. সোহেল রানা এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, মেয়েটির বাড়ি জামালপুরের সরিষাবাড়ি। টাঙ্গাইলের ধনবাড়ি থানা এলাকার এক যুবকের সঙ্গে তার আট বছরের প্রেমের সম্পর্ক। দুই পরিবারে বিষয়টি জানাজানি হলে পরবর্তীতে পারিবারিকভাবেই মেয়েটির সঙ্গে বিয়ে ঠিক হয়। বিয়ের খরচ জোগাতে জমিও বিক্রি করেন মেয়েটির বাবা। বিয়ের আশ্বাসে ছেলেটির সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে জড়াতে বাধ্য হয় মেয়েটি। একপর্যায়ে মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। মেয়েটির সঙ্গে বেশ কিছুদিন মেশার পর ছেলেটি বিয়ে নিয়ে গড়িমসি করতে থাকে। বিয়ের তারিখ পেছাতে থাকে। একদিন জানিয়ে দেয় মেয়েটিকে সে বিয়ে করবে না। বিয়ের জন্য বিভিন্ন জায়গায় দেনদরবার করে মেয়েটি ও তার পরিবার। এতে দুই পরিবারের সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়। ছেলের পরিবারও একপর্যায়ে ছেলেটির পক্ষে অবস্থান নেয়। ছেলেটির পরিবার অত্যন্ত প্রভাবশালী। তার বড় ভাই এলাকার প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধি।

এআইজি বলেন, এ অবস্থায় অন্তঃসত্ত্বা মেয়েটি অসহায় হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে মেয়েটির পরিবারও এই লড়াইয়ে তাকে সমর্থন দিতে অস্বীকৃতি জানায়। একা হয়ে পড়ে মেয়েটি। আর কোনো উপায় না দেখে বাংলাদেশ পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্সকে তার অসহায়ত্বের কথা জানায় মেয়েটি। পুলিশের সহযোগিতা চায় সে। তবে ছেলে বা তার পরিবারের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করতে অস্বীকৃতি জানায়। সে চায় তাকে বিয়ে করে সম্মানজনকভাবে ঘরে তুলে নেওয়া হোক।  

সোহেল রানা বলেন, এই বার্তা গ্রহণ করে পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স উইং টাঙ্গাইলের ধনবাড়ি থানার ওসি মো. চান মিয়ার কাছে পাঠিয়ে এ বিষয়ে তাকে উপযুক্ত পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা দেয়। নির্দেশনার প্রেক্ষিতে ওসি ধনবাড়ি ছেলেটির পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। স্থানীয় অন্যান্য জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদেরকে সম্পৃক্ত করেন। ওসি মো. চান মিয়ার অসাধারণ উদ্যোগ ও আয়োজনে এলাকার ব্যক্তিবর্গ ও অন্যান্য জনপ্রতিনিধিদের সহায়তায় ছেলে ও মেয়ে উভয় পরিবারের সম্মতিতে গত ৮ জুন তাদের বিয়ে হয়।  

news24bd.tv/আলী