মনপুরা বানিয়ে যেভাবে সত্যজিৎ রায়ের ভঙ্গি নেন, তাতে চোখে অন্ধকার দেখি!
মনপুরা বানিয়ে যেভাবে সত্যজিৎ রায়ের ভঙ্গি নেন, তাতে চোখে অন্ধকার দেখি!

মনপুরা বানিয়ে যেভাবে সত্যজিৎ রায়ের ভঙ্গি নেন, তাতে চোখে অন্ধকার দেখি!

Other

পাকিস্তানি ছবি ‌'দুখতার' (Dukhtar) দেখলাম কাল নেটফ্লিক্সে। সত্যি বলতে কী, প্রাথমিক বিস্ময়ের ঘোর কাটিয়ে ওঠার পর একটা তুলনার ব্যাপার চলে এল মনে। জহির রায়হান, আলমগীর কবির বা হরদরের সুভাষ দত্ত, মিতা ও খান আতার হাত ধরে হাঁটতে শেখা আমাদের চলচ্চিত্র কি এখনো শক্ত জমিন পেয়েছে পায়ের নিচে?

মোস্তফা সরোয়ার ফারুকী বা অমিতাভ রেজারা ছবি তৈরির আগেই তো প্রচারের ডামাডোল তৈরি হয়ে যায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দর্শকের প্রাপ্তিটা কী? 'পিপড়াদ্যিা' 'ডুব' বা 'আয়নাবাজি'ই তো।

'মনপুরা', 'দেবী' ছবিগুলো দর্শকনন্দিত হলে খুব আশাবাদী হই। কিন্তু 'মনপুরা' (সুজনসখীর নতুন সংস্করন) বানিয়ে টিভি সাক্ষাৎকার দিতে এসে গিয়াসউদ্দিন সেলিমরা যেভাবে সত্যজিৎ রায়ের ভঙ্গি নেন, তাতে চোখে অন্ধকার দেখি। আগে পাঁচ-সাতটা পাতে দেওয়ার মতো ছবি তো বানান ভাই!

কদিন আগে 'ওয়েটিং' নামের একটি ছবি দেখেছিলাম। । নাসিরুদ্দিন শাহের মতো দুর্ধর্ষ অভিনয়শিল্পীর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অভিনয় করেছেন কালকি নামের স্বল্পপরিচিত অভিনেত্রী। ভালো কনটেন্ট আর অভিনয় থাকলে কত কম আয়োজনে একটি দুর্দান্ত মুভি নির্মান করা সম্ভব 'ওয়েটিং' তার প্রমাণ।

 

জানি 'জিন্দেগি না মিলে দোবারা' বা 'থ্রি ইডিয়টসে'র জন্য বড় বাজার লাগে, কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে 'বেলাশেষে', ‘প্রাক্তন', 'তিথলি' ছবিগুলো তো ছোট আয়োজনেও ব্যবসাসফল। সে রকম ছবি কোথায়? 'জাতিস্মরে'র মতো একটি চিরকালীন প্রেমের গল্প, 'বাইশে শ্রাবণে'র মতো একটি থ্রিলারও তো নির্মিত হয়নি এখানে। এখনকার বাঙলা ছবিতে বিষয়বৈচিত্র্য কোথায় গিয়ে পৌঁছেছে 'নগরকীর্তন' তার দৃষ্টান্ত, আর কত স্বল্প আয়োজনে একটি ভালো ছবি হতে পারে 'ট্যাংরা ব্লুজ' দেখলে বোঝা যায়।


আরও পড়ুনঃ

যে যার বিশ্বাস মতে গরু-শুকর যা ইচ্ছে খান

ইতিহাস গড়ে সেরা খেলোয়াড়ের পুরষ্কার গোলরক্ষকের হাতে

দেশে ফিরতেই মেসির উপর ঝাঁপিয়ে পড়লেন রোকুজ্জো! (ভিডিও)

দ্বিতীয় রাউন্ডে বিদায়ের পরও রোনালদোর হাতেই গোল্ডেন বুট


আসলে 'দুখতার' দেখে আবেগতাড়িত হয়ে এত কথা বলা। এই অসাধারণ ছবি দেখতে দেখতে মনে হচ্ছিল, পাকিস্তানেও এত ভালো ছবি হয়! চলচ্চিত্র সম্পর্কে আমার জ্ঞান নিতান্ত সীমিত। তবে আমাদের তথাকথিত 'আন্তর্জাতিক মানে'র ছবিগুলো যে এর পাশে দাঁড়াতেই পারবে না এ কথা নির্দ্বিধায় বলতে পারি। সাদের 'রেহানা' তো দেখিনি। হয়তো এই তরুণরাই আমাদের ছবিঘরের অন্ধকারকে রোমাঞ্চিত করে তুলবে।

news24bd.tv / নকিব