ঢাকা থেকে কলকাতা মাত্র সাড়ে ৩ ঘণ্টায়!

হাসান ইবনে হামিদ

ঢাকা থেকে কলকাতা মাত্র সাড়ে ৩ ঘণ্টায়!

সুকুমার রায়ের ‘হযবরল’ গল্পে কাকটি যে হিসাব দিয়েছিল তাতে মাত্র দেড় ঘণ্টায় কলকাতা থেকে তিব্বত পৌঁছে যাওয়া যায়। ‘কলকাতা, রানাঘাট, ডায়মন্ড হারবার, তিব্বত। ব্যাস!’ সে তো গল্পের হিসেব। কতকটা তেমনটাই ঘটতে চলেছে। এবার ঢাকা থেকে আসা যাবে কলকাতা, সময় লাগবে মাত্র সাড়ে তিন ঘণ্টা। শুনতে অবিশ্বাস্য লাগলেও এটাই হতে চলেছে। এর জন্য অপেক্ষা করতে হবে আর মাত্র বছর তিনেক। 

পদ্মা সেতুর রেল সংযোগ প্রকল্প চালুর পর ঢাকা-কলকাতার যোগাযোগে অভূতপূর্ব উন্নয়ন ঘটবে। এখন যেখানে ১০ ঘণ্টা সময় লাগে তিন বছর পর সেখানে মাত্র সাড়ে তিন ঘণ্টায় ঢাকা থেকে কলকাতায় পৌঁছানো যাবে। ‘সিটি অফ জয়’ খ্যাত কলকাতা শহরটি বাংলাদেশিদের কাছে ব্যাপক পরিচিত এবং শুধুমাত্র ঈদ শপিং করতে প্রতিবছর দেড় থেকে দুই লাখ বাংলাদেশির আগমন ঘটে কলকাতা শহরে। এছাড়াও রয়েছে চিকিৎসা ও ভ্রমণের উদ্দেশ্যে এই শহরে যাওয়া। সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের ক্ষেত্রে এই কলকাতা উপমহাদেশের সংস্কৃতি মনা মানুষদের এক তীর্থস্থান। বিশেষ করে বাঙালি সংস্কৃতির এক আধার এই সিটি অফ জয়। তাই দশ ঘণ্টার ভ্রমণের পরিবর্তে মাত্র সাড়ে তিন ঘণ্টায় কলকাতা যাবার সংবাদটি এই অঞ্চলের মানুষের জন্য এক আলাদা আনন্দবার্তা নিয়ে এসেছে। 

বর্তমানে মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনে ঢাকা থেকে সরাসরি কলকাতায় যাওয়া যায়। কলকাতা স্টেশন থেকে নদীয়া হয়ে গেদে এবং গেদে হয়ে বাংলাদেশের সীমান্ত স্টেশন দর্শনা পার হয়ে ঢাকায় অবস্থিত ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনে পৌঁছায় মৈত্রী এক্সপ্রেস। এ রুটে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার রেলপথ পাড়ি দিতে হয় যাতে সময় লাগে প্রায় দশ ঘণ্টা। ২০২৪ সালের মধ্যে পদ্মা সেতুর রেলের নির্মাণকাজ শেষ হতে যাচ্ছে আর তখন কলকাতা স্টেশন থেকে বনগাঁ জংশন হয়ে হরিদাসপুর সীমান্ত দিয়ে বেনাপোল হয়ে যশোর, নড়াইল, ফরিদপুরের ভাঙ্গা হয়ে ঢাকা পৌঁছাতে পারবে ট্রেনটি। এ রুটের দূরত্ব দাঁড়াবে প্রায় ২৫১ কিলোমিটার। যা পার করতে মৈত্রী এক্সপ্রেসের গতিতে সাড়ে তিন ঘণ্টার বেশি সময় লাগার কথা নয়। 

অপরদিকে সড়ক পথে ঢাকা-কলকাতা যেতে প্রায় সারাদিন লেগে যায়। দূরত্ব তো আছেই, সঙ্গে পদ্মাতীরে ফেরির জন্য দীর্ঘ লাইনের অপেক্ষা। সেই দৃশ্যপট পাল্টে যাচ্ছে। পদ্মা নদীর ওপর তৈরি হচ্ছে বহুকাঙ্ক্ষি সেতু। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগামী জুনে চালু হচ্ছে এ সেতু। তবে সেতুর ওপর দিয়ে পুরোপুরি রেলসংযোগ পেতে ২০২৪ সালের মার্চ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে।  রেলসেতু ও রেলপথ নির্মাণের পর ঢাকা-কলকাতা যোগাযোগে অভাবনীয় উন্নয়ন ঘটবে। সড়কপথে যেমন দূরত্ব কমে আসবে এবং সময় বাঁচবে তেমনি দশ ঘণ্টার পথ রেলে যাওয়া যাবে মাত্র সাড়ে তিন ঘণ্টায় অর্থাৎ এটি চালু হলে ঢাকা থেকে কলকাতা যাওয়ার সময় দুই-তৃতীয়াংশ কমে আসবে। এছাড়া রেলপথে কলকাতা থেকে আগরতলা যেতে সময় লাগে ৩০ ঘণ্টা। সেই সময়ও কমে আসতে পারে ছয় ঘণ্টায়। পদ্মা সেতু নির্মাণ হলে এ রুটেও রেল পরিষেবা চালু হবে। 

ঢাকা এবং কলকাতার মধ্যে চলাচলকারী মৈত্রী এক্সপ্রেসের যাত্রীদের সীমান্তে ইমিগ্রেশন আর কাস্টমস চেকিং এর ক্ষেত্রে আগেই অনেক সুবিধা তৈরি করা হয়েছে। ২০১৭ সালের পূর্বে ভারতে গেদে স্টেশন এবং বাংলাদেশে দর্শনা স্টেশনে যাত্রীদের ট্রেন থেকে নেমে পাসপোর্ট-ভিসা পরীক্ষা করাতে হতো। সেখানে কাস্টমস চেকিংও হত। এর ফলে যাত্রীদের যেমন ভুগান্তি পোহাতে হতো ঠিক তেমনি প্রায় তিন ঘণ্টা সময় বেশি লাগতো। ২০১৭ সাল থেকে  সেই নিয়ম তুলে দেওয়া হয়েছে। এখন ট্রেনে ওঠার আগেই ওইসব পরীক্ষা হয়ে যায়। সীমান্তে যাত্রীদের আর নামতে হয়না, সময়টাও বেঁচে যায়। 

যাত্রা শুরুর আগেই কলকাতা এবং ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনে ট্রেনে ওঠার সময়েই পাসপোর্ট-ভিসা পরীক্ষার কাজ সেরে ফেলা হবে। বর্তমানে ঢাকা-কলকাতা ট্রেনে যাতায়াত করতে প্রায় এগারো ঘণ্টা সময় লাগে। নতুন নিয়ম চালু হলে সময় লাগবে প্রায় আট ঘণ্টা।

সাম্প্রতিক সময়ে ভারত-বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় অভূতপূর্ব উন্নয়ন ঘটেছে। দুই দেশ খুব গুরুত্বের সাথে কানেক্টিভিটির জায়গাকে সমৃদ্ধ করছে। শুধু পদ্মাসেতুর এ রেল প্রকল্প নয় কিছুদিন আগে আমরা দেখেছি ফেনী নদীর উপরেও মৈত্রী সেতু স্থাপনের মাধ্যমে এক নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে ভারত-বাংলাদেশ। এই মৈত্রী সেতুকে দক্ষিণ এশিয়ার নতুন বাণিজ্য করিডোর হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এই সেতু একইসাথে আন্তঃ বাণিজ্যের যেমন সম্প্রসারণ ঘটাচ্ছে তেমনি দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতিতে এক বিশাল প্রভাব ফেলছে। ভারত যেমন এই সেতু ব্যবহার করে ত্রিপুরা অঞ্চলকে বাংলাদেশ ও উত্তর-পূর্ব ভারতের মধ্যে বাণিজ্য বিস্তার ঘটাবে তেমনি বাংলাদেশও নেপাল, ভুটান, ভারত ও মিয়ানমারের সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্য করিডোর হিসেবে ভারতের মাটি ব্যবহার করবে। তাছাড়া ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলে বাংলাদেশের সেতুপথে প্রবেশাধিকার পাওয়া মানে হচ্ছে, আমরা একটা ‘বার্গেনিং পাওয়ার’ তৈরি করতে পারবো। যেমনটা আমরা নেপালের সাথে একটা তৈরি করছি। 

এছাড়া ভারতে উত্তর পূর্বের রাজ্যগুলোতে বাংলাদেশের পণ্যের একটা বিশাল মার্কেট আছে। ফলে বাংলাদেশ থেকে পণ্য সেই রাজ্যগুলোতে অবাধে যেতে পারবে। অন্যদিকে ত্রিপুরার সাথে বাংলাদেশ যুক্ত হলেও পাশাপাশি মেঘালয়-মণিপুরসহ যে রাজ্যগুলো রয়েছে, সেগুলোর যেহেতু মিয়ানমারের সাথেও সংযোগ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে, সেক্ষেত্রে সড়কপথে বাংলাদেশেরও মিয়ানমারের সংযোগ স্থাপন হবে যা ব্যবসা বাণিজ্য সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে মাইলফলক ভূমিকা রাখতে পারে। আবার চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করার অনুমতি যেহেতু আগেই দেয়া আছে সেক্ষেত্রে বন্দরের বিভিন্ন সেবা নেয়ার জন্য শুল্ক আদায় করে বাংলাদেশ লাভবান হবে। এছাড়া অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ শুল্ক নিতে পারবে। তাছাড়া সম্প্রতি ভারত সরকার বাংলাদেশকে সার রপ্তানিতে ভারতের ভূমি ব্যবহার করে নেপালে পাঠানোর ব্যাপারে সম্মতি দিয়েছে। মিয়ানমার, ভারত, থাইল্যান্ড সংযোগ সড়কে বাংলাদেশ চতুর্থ দেশ হিসেবে নিজেদের নাম লেখাতে চাইছে। বিদ্যুৎ খাতে সক্ষমতা বাড়ার কারণে বিদ্যুৎ রপ্তানীতেও মনযোগি বাংলাদেশ। একারণেই নেপালে বিদ্যুৎ রপ্তানীর জন্য আলাদা ট্রানজিট সুবিধা চাইছে যা হয়তো অতি শীঘ্রই পাবে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ অনেক আগেই ভারতকে ট্রানজিট সুবিধা দিয়েছে। এই ট্রানজিটের ফলে লাভবান হচ্ছে দু দেশই। তাই ফেনী সংযোগ এক নতুন পথের সন্ধান দিচ্ছে দুই দেশকে যা বাণিজ্য সম্প্রসারণ থেকে শুরু করে মানুষের চলাচলের সুবিধা করে দিচ্ছে, সার্বিক অর্থনীতিতে অবদান রাখছে।

আরও পড়ুন:


লকডাউন শিথিল থাকবে ৮ দিন

করোনার মধ্যে ডেঙ্গু যেন মাথাব্যথার কারণ না হয়: এলজিআরডি মন্ত্রী

বিধিনিষেধ অমান্য করায় রাজধানীতে গ্রেপ্তার ৬০৪


সাম্প্রতিক সময়ে ট্রানজিটের উপর বাংলাদেশ সরকারও জোর দিয়েছে। কেননা ভৌগোলিক অবস্থানের পাশাপাশি প্রবৃদ্ধির গতিপথ বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ায় অত্যন্ত আকর্ষণীয় প্রতিবেশী করে তুলেছে। বৈশ্বিক টেক্সটাইল শিল্পের অন্যতম নেতা হিসেবে বাংলাদেশ একটি স্বতন্ত্র পথ তৈরি করেছি। বাংলাদেশ দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের জন্য আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে কানেক্টিভিটির কেন্দ্র হিসেবে এর অবস্থানগত সুবিধা সর্বাধিক করতে প্রস্তুত বাংলাদেশ। আর সেকারণেই যোগাযোগের ক্ষেত্রে বেশ কিছু আলাদা পদক্ষেপ নিচ্ছে দুই দেশ। ঢাকা-কলকাতা মাত্র সাড়ে তিন ঘণ্টায় যাবার এই পথ কানেক্টিভিটির আরেক উজ্জ্বল উদাহরণ। তবে দক্ষিণ এশিয়ায় ট্রানজিটের সুবিধের প্রশ্নে শুরুতেই চলে আসে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সন্ত্রাসী কার্যকলাপের ঘটনা। এ কারণেই এ অঞ্চলে ট্রানজিট নিয়ে অজানা একটা বিরুপ ধারণা জনগণের মাঝে রয়েছে। এসব ধারণাকে বদলে নতুন আঙ্গিকে এগিয়ে যাচ্ছে ভারত-বাংলাদেশ। কেননা দুই দেশই সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে, সীমান্ত সন্ত্রাসকে বন্ধের উদ্যোগে নানামুখী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছে। বিগত বছরে ভারত-বাংলাদেশ যে কূটনৈতিক দক্ষতায় অমীমাংসিত বিষয়গুলোকে মীমাংসা করেছে, সামনের দিনেও এর ধারাবাহিকতা অক্ষুন্ন থাকবে বলে সকলের বিশ্বাস। 

মূলত চিকিৎসার কারণে বাংলাদেশ থেকে অনেক মানুষ কলকাতা যান। এছাড়াও ঈদ শপিং, ভ্রমণসহ আরও নানা কারণেই যেতে হয় বাংলাদেশিরা যান কলকাতাতে। ঢাকা থেকে কলকাতা বাস থাকলেও, বেশিরভাগ মানুষের পছন্দ রেলপথ। কারণ, সড়কপথে যেতে প্রায় সারাদিন লেগে যায়। সঙ্গে থাকে পদ্মাতীরে ফেরির জন্য দীর্ঘ লাইনের অপেক্ষা। এবার সেই অপেক্ষা দূর করে দিচ্ছে পদ্মা সেতু। রেল যোগাযোগের এই সময় কমিয়ে আনাটা দু’দেশের জন্য একটি নতুন বাণিজ্য লাইফলাইন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এতে কানেক্টিভিটি শুধু বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বন্ধুত্বই জোরদার করছে না, ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য বড় সুযোগ সৃষ্টি করছে। পুরো অঞ্চলকে বৃহৎ বাণিজ্য করিডর হিসেবে রূপ দিচ্ছে। 

লেখক: রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক। 

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

থানায় জিডি করবেন যেভাবে

অনলাইন ডেস্ক

থানায় জিডি করবেন যেভাবে

জেনারেল ডায়েরি বা জিডি হল অপরাধ ও অন্যান্য সংবাদবিষয়ক রেজিস্টার। ফৌজদারি কার্যবিধিতে বলা হয়েছে, পুলিশ স্টেশন হল ফৌজদারি জুরিসডিকশনের সর্বনিম্ন ইউনিট। যেখানে সংশ্লিষ্ট এলাকার জনগণ তাদের জীবনে ঘটে যাওয়া বা ঘটতে যাচ্ছে এমন সব ঘটনা সম্পর্কে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন।

 কিন্তু সব ঘটনার জন্য এজাহার দায়ের করা যায় না। কাউকে কোনো প্রকার হুমকি প্রদর্শন করলে এজাহার না করে তা সাধারণত থানায় রক্ষিত ‘সাধারণ ডায়েরিতে’ লিপিবদ্ধ করা হয়ে থাকে; যাকে সংক্ষেপে জিডি বলা হয়।  

জিডি কোথায় করা হয়: কোন মূল্যবান জিনিসপত্র বা দলিল হারিয়ে গেলে, ভবিষ্যতে কারো দ্বারা কোনো ব্যক্তির জীবন বা সম্পদের ক্ষয়-ক্ষতির আশঙ্কা থাকলে ওই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর লিখিত আবেদনটি করতে হয়।

অনলাইনেও করা যায়: বর্তমানে অনলাইনেও জিডি করা যায়। এর জন্য www.police.gov.bd ওয়েবসাইটে গিয়ে ‘Citizens help request’–এ ক্লিক করতে হবে। তবে অনলাইনে, শুধু হারানো এবং প্রাপ্তি সংক্রান্ত জিডি করতে পারবেন।

মাত্র তিন ধাপে সম্পন্ন হবে ডিজিটাল জিডি। অনলাইনে জিডি সাবমিট করার পর জিডি সার্টিফিকেট ডাউনলোড করে নিতে পারবেন। জেনে নিতে পারবেন জিডির সর্বশেষ অবস্থা।

অনলাইনে জিডি করার জন্য আপনার জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর, মোবাইল নম্বর এবং জন্ম তারিখ লাগবে। প্রথমে আপনার জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর, মোবাইল নম্বর ও জন্ম তারিখ লিখে সাবমিট করতে হবে। আপনার পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য এসএমএস এর মাধ্যমে একটি কোড আপনার দেওয়া মোবাইল নম্বরে পাঠানো হবে। ওই কোডটি আপনি পরবর্তীতে পাসওয়ার্ড হিসাবে ব্যবহার করতে পারবেন এবং আপনার মোবাইল নম্বরটিই হবে আপনার ইউজার নেইম।

এরপর  দ্বিতীয় ধাপে আপনি কার জন্য জিডি করবেন তা উল্লেখ করতে হবে। নিজের জন্য নাকি অন্যের পক্ষে জিডি করবেন সেটি নির্বাচন করুন। জিডির ধরন এবং আপনি কি হারিয়েছেন অথবা খুঁজে পেয়েছেন তা নির্বাচন করুন। কোন জেলার কোন থানায় জিডি করতে চান তা নির্বাচন করুন, ঘটনার সময় ও স্থান লিখে ‘পরবর্তী ধাপ’ বাটনে ক্লিক করুন। 

তৃতীয় ধাপে 

আপনার বর্তমান ঠিকানা এবং ঘটনা সম্পর্কে আরও বিস্তারিত বর্ণনা লিখুন। জিডি সম্পর্কিত কোনো ডকুমেন্ট থাকলে সেগুলো সংযুক্ত করুন। আপনার ইমেইল এড্রেস লিখুন। ‘সাবমিট’ বাটনে ক্লিক করে জমা দিন। আবেদন সম্পন্ন হলে লগইন করে আপনি আপনার জিডির সর্বশেষ অবস্থা জানতে পারবেন।

আরও পড়ুন:


গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে যা জানালেন হেফাজতের নতুন আমির

‌‌‘অশান্তিতে আছি’ বলতেই পরীমনিকে যা বললেন কারা কর্মকর্তা

যে সময় দোয়া করলে আল্লাহ ফিরিয়ে দেন না


জিডি’র ফি: সরকারিভাবে জিডি করার জন্য কোনো ফি নির্ধারণ করা নেই। তাই ভুক্তভোগী বিনামূল্যে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে লিখিত আকারে আবেদন করতে পারেন। কেউ জিডি লিখতে না পারলে কর্তব্যরত অফিসারের সাহায্য নিতে পারেন।

জিডি’র কপি: জিডির একটি কপিতে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিডি নম্বর লিখে তারিখসহ স্বাক্ষর করেন এবং অফিস সীল মেরে দেন। এরপর জিডির একটি অনুলিপি ভুক্তভোগীকে সংরক্ষণের জন্য দেওয়া হয়। অন্য একটি কপি থানায় নথিভুক্ত করা হয়। এরপর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিডির বিষয়বস্তু আমলে নিয়ে ঘটনার সত্যতা ও গুরুত্ব অনুযায়ী ব্যবস্থা নেন।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

মাদরাসা খুলে দেওয়ার আহ্বান

অনলাইন ডেস্ক

মাদরাসা খুলে দেওয়ার আহ্বান

কওমী মাদ্রাসা গুল খুলে দেওয়ার আহবান জানিয়েছেন দেশের প্রধান প্রধান কওমী মাদরাসাগুলোর মুহতামিমরা।

আজ এক বিবৃতিতে তারা বলেন, সরকার লকডাউন তুলে দেওয়ায় জনমানুষের মধ্য স্বস্তি ফিরে এসেছে। অসহায় গরিব মেহনতী মানুষ স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতে পারছে। আমরা এজন্য সরকারের ধন্যবাদ জানাই।

তারা বলেন, মহামারী করোনা ভাইরাসের কারণে দীর্ঘ সময় ধরে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। এতে করে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়েছে। আমরা সরকার কাছে অনুরোধ করবো সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার জন্য। বিশেষভাবে কওমী মাদরাসাগুলো খুলে দেওয়ার জন্য আমরা আবেদন জানাচ্ছি।

বিবৃতিতে বলা হয়, কওমী মাদরাসাগুলো দ্বীনি প্রতিষ্ঠান। এসব মাদরাসায় কুরআন ও হাদিসের পাঠদান করা হয়। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় কওমী মাদরাসার শিক্ষকরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তারা পরিবার পরিজন নিয়ে নানা সমস্যায় ভুগছেন। শিক্ষার্থীরা মাদরাসার পরিবেশ থেকে দূরে থাকায় নানারকম সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। আমরা সরকারের কাছে আবেদন জানাচ্ছি এই অসহায় শিক্ষক শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে মাদরাসাগুলো খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করুন।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, কওমী মাদরাসাগুলো খুলে দিলে সেখানে দ্বীনি ইলমের চর্চা হবে, কুরআনের তিলাওয়াত হবে, হাদীসের দরস দেওয়া হবে, তাহাজ্জুদের আমল হবে, করোনার মহামারী থেকে দেশ ও জাতিকে রক্ষার জন্য মহান আল্লাহর দরবারে নিয়মিত দুয়ার আয়োজন হবে। এতে করে দেশ আল্লাহর রহমতে করোনা মহামারী থেকে মুক্ত হবে ইনশাআল্লাহ।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে দেশের সকল কওমী মাদরাসা খুলে দেওয়ার জন্য আমরা সরকারের কাছে উদাত্ত আহবান জানাচ্ছি।

বিবৃতিদাতারা হলেন, আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ, মুহতামিম, জামিয়া ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদরাসা চট্টগ্রাম। আল্লামা নুরুল ইসলাম, মুহতামিম, খিলগাও মাখজানুল উলুম মাদরাসা, ঢাকা। মুফতী আব্দুস সালাম চাটগামী, মুহতামিম পরিষদের প্রধান, দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী। মুফতী আব্দুল হালিম বোখারী, মুহতামিম, জামিয়া ইসলামিয়া পটিয়া। আল্লামা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী, মুহতামিম, জামিয়া নুরিয়া কামরাঙ্গিরচর মাদরাসা। মাওলানা মুহিব্বুল্ল হক (গাছবাড়ী), মুহতামিম, কাসেমুল উলুম দরগাহ মাদরাসা, সিলেট। মাওলানা আব্দুল হক্ব, মুহতামিম, জামিয়া ফয়জুর রহমান রহ. মোমেনশাহী। মাওলানা ইয়াহয়া, দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী। মাওলানা সাজিদুর রহমান, মুহিতামিম, দারুল আরকাম মাদরাসা বি-বাড়িয়া। দেওনার পীর অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান চৌধুরী, মুহতামিম, দাওয়াতুল হক মাদরাসা, কাপাসিয়া। মাওলানা সালাহ উদ্দীন নানুপুরী, মুহতামিম, নানুপুর মাদরাসা, চট্টগ্রাম। মাওলানা আব্দুল আওয়াল, মুহতামিম মারকাজুক উলুম আল ইসলামিয়া, নারায়নগঞ্জ। মাওলানা বাহাউদ্দিন যাকারিয়া, মুহতামিম, আরজাবাদ মাদরাসা। মাওলানা মোবারকুল্লাহ, মুহতামিম, জামিয়া ইউনুছিয়া, বি-বাড়িয়া। মাওলানা সাব্বির রহমান রশীদ, মুহতামিম, কিশোরগঞ্জ জামিয়া এমদাদিয়া। মাওলানা ফয়জুল্লাহ সন্দীপী, মুহতামিম, মাদানী নগর মাদরাসা। মাওলানা আনওয়ারুল করীম, মুহতামিম, রেলস্টেশন মাদরাসা, যশোর। মাওলানা আনাস, মুহতামিম, মদীনাতুল উলূম মাদরাসা, ভোলা। মাওলানা ইয়াহয়া মাহমুদ, মুহতামিম, দারুল উলূম মাদরাসা রামপুরা। মাওলানা মুহাম্মাদ আলী, মুহতামিম, আফতাবনগর মাদরাসা। মাওলানা মুসতাক আহমদ, মুহতামিম খুলনা দারুল উলুম।

পরবর্তী খবর

বিলীনের পথে রাজা লক্ষণ সেনের স্মৃতি বিজড়িত ষাঁড়বুরুজ

মো. রফিকুল আলম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ

বিলীনের পথে রাজা লক্ষণ সেনের স্মৃতি বিজড়িত ষাঁড়বুরুজ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্তবর্তী গোমস্তাপুর উপজেলা প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে পরিচিত। উপজেলার প্রাণকেন্দ্র রহনপুরসহ আশেপাশে রয়েছে অগণিত প্রাচীন ঐতিহ্যের নিদর্শন। ইতিহাসবিদদের মতে, রাজা লক্ষণ সেনের আমলে রহনপুর বাণিজ্য নগরী হিসেবে জনপ্রিয়তা লাভ করে এবং এর কারণে রহনপুরেই তিনি গড়ে তোলেন সুরম্য অট্টালিকা ষাঁড়বুরুজ, যা বর্তমানে অবৈধ দখলদারদের কারণে বিলীন হতে চলেছে।

জনশ্রুতি রয়েছে, ষাঁড়বুরুজ নামে খ্যাত এই অট্টালিকাটির প্রকৃত নাম শাহ্বুরুজ। শাহ্ শব্দের অর্থ বাদশা আর বরুজ শব্দের অর্থ অট্টালিকা বা বালাখানা। যা পরে লোকমুখে ষাঁড়বুরুজ নামে খ্যাতি লাভ করে। এ অট্টালিকার অদুরে গোলাকার গুম্বুজ আকৃতির একটি ভবন আছে। এটিই রাজা লক্ষণ সেনের বৈঠকখানা ছিল এবং এখানেই তিনি তার দরবার চালাতেন বলে জানা যায়। 

এছাড়াও জনশ্রুতি রয়েছে বাংলা বিজয়ী ইখতিয়ার উদ্দীন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজী এপথে বাংলায় আগমন করেন এবং এস্থানে কিছু সময় অবস্থান করেন। ইতিহাসে পরিচিত নদীয়া এ অট্টালিকার পার্শ্বেই অবস্থিত। যা পরে নওদা নামে পরিচিত লাভ করে। লোক মুখে শোনা যায় বখতিয়ার খিলজির আগমনের সংবাদে ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে রাজা লক্ষণসেন এ স্থান থেকে নদী পথে পলায়ন করেন। বর্তমানে রাজা লক্ষণ সেনের ঐতিহ্য মন্ডিত অট্টালিকাটি ভেঙ্গে একটি পাহাড়ের আকার ধারণ করেছে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় এর চারপাশে বিভিন্ন বনজ গাছ লাগালেও বর্তমানে আশপাশে গড়ে তোলা হয়েছে অসংখ্য বসতবাড়ি। শুধু তাই নয় অবৈধ দখলদাররা পাহাড় কেটে অট্টালিকাটির ইট ও খোঁয়া নিয়ে যাচ্ছে। এ অট্টালিকাটির ভেতর মূল্যবান মূর্তি ও বিভিন্ন সম্পদ আছে এমন ধারণা থাকায় রাতের অন্ধকারে দুর্বৃত্তরা মাটি খোঁড়ার চেষ্টা করেছে এমন আলামতও পাওয়া যায়।

এলাকাবাসী জানান, রাতে এখানে মাদক সেবীদের নিয়মিত আসর বসে।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, গত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় এবং প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদপ্তরের একটি অনুসন্ধানী দল এখানে এসে পরিদর্শন করে গেলেও পরে আর কোনো অগ্রগতি লক্ষ্য করা যায়নি। অন্যদিকে পার্শ্ববর্তী নওদাপাড়ায় নির্মিত ঐতিহ্যবাহী মন্দিরটি রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বিলীন হতে চলেছে। বর্তমানে বিলীনের পথে এই ঐতিহ্যবাহী নিদর্শনটি অবৈধ দখল মুক্ত করে একটি পূর্ণাঙ্গ বিনোদন কেন্দ্র গড়ে তোলা যেতে পারে বলে মনে করেন অনেকেই।

পরবর্তী খবর

‘অ্যাওয়ারনেস ৩৬০’ এর উপদেষ্টা হলেন তিন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব

অনলাইন ডেস্ক

‘অ্যাওয়ারনেস ৩৬০’ এর উপদেষ্টা হলেন তিন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব

বৈশ্বিক অলাভজনক প্রতিষ্ঠান "অ্যাওয়ারনেস ৩৬০" এর উপদেষ্টা হিসেবে যুক্ত হয়েছেন কিংবদন্তি বাস্কেটবল রেফারি বব ডিলানি, রয়্যাল চ্যারিটি ডায়ানা অ্যাওয়ার্ডের প্রধান নির্বাহী টেসি ওজো এবং জনপ্রিয় ব্রিটিশ অভিনেতা কেল স্পেলম্যান।

শমী হাসান চৌধুরী ও রিজভী আরেফিন দুই বাংলাদেশীর হাত ধরে গড়ে ওঠা বৈশ্বিক অলাভজনক প্রতিষ্ঠান "অ্যাওয়ারনেস ৩৬০"কে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে এবার বিশ্বব্যাপী কাজ করতে যাচ্ছেন বিশ্বজূড়ে জনপ্রিয় এই তিন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব।

সম্প্রতি এমনটিই জানানো হয়েছে 'অ্যাওয়ারনেস ৩৬০' এর এক বিবৃতিতে। হাত ধোয়া, স্যানিটেশন সচেতনতা, স্বাস্থ্য ভালো রাখাসহ বস্তিতে থাকা যেসব মানুষের কাছে সাধারণত কেউ যেতে চায় না তাদের আচার, ব্যবহার, সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে কাজ করা এই অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত হতে পেরে নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন যুক্ত হওয়া উপদেষ্টারা।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সির প্রাক্তন পুলিশ কর্মকর্তা ও কিংবদন্তি বাস্কেটবল রেফারি বব ডিলানি এক ভিডিও বার্তায় বলেছেন, "অ্যাওয়ারনেস ৩৬০ টিমের অংশ হওয়া দারুণ ব্যাপার। নেতৃত্ব আমার জন্য একটি সৌভাগ্যের ব্যাপার এবং এর সাথে বয়সের কোনো সম্পর্ক নেই। আমরা একজন আরেকজন থেকে শিখবো, জানবো। আমি কাজ করার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি"।

অনুপ্রেরণীয় সিভিল সোসাইটির লিডার ও রয়্যাল চ্যারিটি ডায়ানা অ্যাওয়ার্ডের প্রধান নির্বাহী টেসি ওজো উপদেষ্টা হিসেবে যোগদান করে জানান, "আমি অবিশ্বাস্যভাবে খুশি এবং সম্মানিত হয়েছি এই প্রতিষ্ঠানের উপদেষ্টা হিসেবে যুক্ত হতে পেরে। আমার বিশ্বাস রয়েছে 'অ্যাওয়ারনেস ৩৬০' এর লিডারশীপ টিমের উপর। আমি বিশ্বাস করি তারা ভালো কাজ করবে। আমি শুধু এই যাত্রার অংশ হতে এসেছি। চলুন একসাথে পরিবর্তন করি"।

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন ম্যানচেস্টারে জন্মগ্রহণ করা জনপ্রিয় ব্রিটিশ অভিনেতা কেল স্পেলম্যানও। তিনি জানান, "আমি তেমনটি কৃতজ্ঞ যেমনটি আপনারা আমাকে পেয়ে হয়েছেন। আমি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি আমরা একসাথে কি করতে পারি সেটা দেখার জন্য।  অ্যাওয়ারনেস ৩৬০ অনেক ভালো কাজ করছে এবং আমার বিশ্বাস আমরা বিশ্বকে বদলে দেবো"।

টিভি স্ক্রিন ছাড়াও তিনি জলবায়ু পরিবর্তন ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিয়ে কাজ করা এই অভিনেতা আরো জানান, "অ্যাওয়ারনেস ৩৬০ সম্পর্কে তাদের কাজই তাদের হয়ে কথা বলছে। ধন্যবাদ অ্যাওয়ারনেস ৩৬০ এর সবার প্রতি। আমি বলতে পারি যে বিশ্বের একটি দারুন জায়গা এবং সব মেধাবী লোক এখানে যুক্ত রয়েছেন"।

উল্লেখ্য, দুই বাংলাদেশীর হাত ধরে গড়ে ওঠা এই বৈশ্বিক অলাভজনক প্রতিষ্ঠান শুরু থেকেই অত্যন্ত সুনামের সাথে কাজ করে আসছে। জাতিসংঘের এসডিজি নিয়ে বিশ্বের ২৩টি দেশে কাজ করা এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ২৬ বছর বয়সী শমী এবং তার সহ-প্রতিষ্ঠাতা রিজভী উঠে এসেছেন মার্কিন প্রভাবশালী ম্যাগাজিন ফোর্সবের ৩০ বছরের কম বয়সী এশীয় অঞ্চলের ৩০০ তরুণের তালিকায়ও! এছাড়াও পূর্বে প্রতিষ্ঠাতা শমী পুরস্কার গ্রহণ করেছিলেন প্রিন্সেস ডায়ানার ভাই লর্ড স্পেন্সার থেকে। কেনসিংটন প্যালেসে প্রিন্স উইলিয়ামের সঙ্গে দেখা করার আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন।

২০২০ সালে ডায়ানা অ্যাওয়ার্ডের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন পাশাপাশি আছে সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা থেকেও স্বীকৃতি পাওয়ার মতোও ঘটনা। অন্যদিকে সহ-প্রতিষ্ঠাতা রিজভী আরেফিন সম্প্রতি পুরস্কৃত হয়েছেন ডায়ানা অ্যাওয়ার্ডে, এছাড়া টার্গেট জেন্ডার ইক্যুয়ালিটি কোঅর্ডিনেটর হিসাবে যোগদান করেছেন জাতিসংঘের গ্লোবাল কমপ্যাক্টে।

news24bd.tv/ নকিব

পরবর্তী খবর

ইতিহাসে বিখ্যাত লোকদের ঘুম নিয়ে বিচিত্র স্বভাব

নিবিড় আমীন

শরীরের ক্লান্তি দূর করাই ঘুমের অন্যতম কাজ, এমনটা সকলেরই জানা। সাধারণত দৈনিক একজন প্রাপ্তবয়স্কের প্রয়োজন হয় আট ঘণ্টা ঘুম। তবে সভ্যতার ইতিহাসে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য লোকেরই ছিল ঘুম নিয়ে অবাক করার মতো স্বভাব। 

ইতালীয় রেনেসাঁর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি লিওনার্দো দা ভিঞ্চির ঘুমের অভ্যাস ছিল বড়ই অদ্ভুত। একটানা কখনোই বেশিক্ষণ না ঘুমিয়ে সর্বোচ্চ দু ঘণ্টা ঘুমাতেন তিনি। তবে এমন ঘুম তার দেয়া হতো একদিনেই বেশ কয়েকবার। বলা হয়, বিচিত্র এই ঘুমের স্বভাবের কারণেই অনেক কাজ অসম্পূর্ণ থেকে গিয়েছিলো ভিঞ্চির।

বিখ্যাত ইংরেজ কবি-নাট্যকার উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের ২৭ সংখক চতুর্দশপদীতে ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিলো, অনিদ্রায় ভুগতেন তিনি। আর তাই এই সমস্যার কথা দেখা যেত তার অনেক নাটকের সংলাপেও।

ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়ন বোনাপার্টের ঘুমও ছিল বিচিত্র। পুরো রাত কখনোই ঘুমাতেননা তিনি। দিনের কিছু সময়, এমনকি যুদ্ধযাত্রায় ঘোড়ার পিঠে বসে ঝিমিয়ে নেয়ার অভ্যাস ছিল তার। তবে কোনো কোনো অভিযান শেষ করার পর টানা ১৮ ঘণ্টাও ঘুমিয়েছেন নেপোলিয়ন।

১৯ শতকের ইংরেজি সাহিত্যিক চার্লস ডিকেন্সের ঘুম নিয়েও রয়েছে অবাক করা তথ্য। এক সময় তার ধারণা ছিল, উত্তর দিকে মুখ করে শুলেই ঘুম আসে মানুষের। তবে কোনো পদ্ধতিতেই কাজ না হওয়ায় অনিদ্রা বেড়ে যায় তার। রাতে ঘুরে বেড়াতেন লন্ডনের পথে পথে। শুধুমাত্র সূর্যোদয়ের পরেই ঘুমাতে পারতেন তিনি।

আরও পড়ুন:


করোনায় জাবি অধ্যাপকের মৃত্যু

মর্মান্তিক মৃত্যুর ঠিক আগ মুহূর্তে ছবি তোলেন তিনি

সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ স্থগিত


বিবর্তনবাদের জনক চালর্স ডারউইনের ঘুমের অভ্যাসও সুবিধের ছিলো না। বিভিন্ন অসুখে ভুগার কারণে সারাটাজীবনই অনিদ্রায় ভুগতে হয়েছে তাকে। তবে সাধারণ মানুষের চেয়ে কিছুটা বেশিই ঘুমাতেন আলবার্ট আইনস্টাইন। অসামান্য মস্তিষ্ককে বিশ্রাম দিতে নিয়ম করেই প্রতি রাতে ১০ ঘণ্টা ঘুমাতেন কিংবদন্তি এই বিজ্ঞানী।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর