অস্টিওপোরোসিস বা হাড়ের ক্ষয়জনিত রোগের উপসর্গ ও চিকিৎসা

অনলাইন ডেস্ক

অস্টিওপোরোসিস বা হাড়ের ক্ষয়জনিত রোগের উপসর্গ ও চিকিৎসা

হাড়ের ক্ষয়জনিত একটি রোগ অস্টিওপোরোসিস । এ সমস্যায় ঘনত্ব কমে গিয়ে হাড় হালকা ও ভঙ্গুর হয়ে যায় এবং হাড় ভাঙার ঝুঁকি বেড়ে যায়। প্রতিবছর বিশ্বে ৯০ লাখের বেশি মানুষের হাড় ভাঙে অস্টিওপোরোসিসের কারণে।  অস্টিওপেনিয়ার সময়ই হাড়কে দুর্বল করে ফেলে এবং হাড় ভাঙার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তেমন কোনো উপসর্গ ছাড়াই নীরবে এই রোগ শরীরে বাসা বাঁধতে থাকে। হাড় ভেঙে যাওয়ার আগে এই রোগের তেমন একটা লক্ষণ প্রকাশ পায় না।

পরিসংখ্যান মতে, বাংলাদেশে ৬০ লাখের মতো মানুষ হাড় ক্ষয়রোগে ভুগছে। পঞ্চাশোর্ধ্ব নারীদের এই রোগের ঝুঁকি ৫.১ শতাংশ, যেখানে পুরুষদের ক্ষেত্রে ৩.১ শতাংশ। নারীদের ক্ষেত্রে মেনোপজ-পরবর্তী হরমোনের অসামঞ্জস্যের (স্ট্রোজেন, প্রজেস্টেরন) কারণে হাড়ক্ষয়ের ঝুঁকি বেশি হয়।


কারণ
হাড়ক্ষয়ের পেছনে নানা ধরনের কারণ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম কারণগুলো হলো : খাদ্য : পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ‘ডি’, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, ভিটামিন ‘কে’, ভিটামিন ‘বি’, ভিটামিন ‘বি ১২’ ইত্যাদির অভাব হাড়ক্ষয়ের জন্য দায়ী। একজন ব্যক্তির প্রতিদিন গড়ে ১০০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম প্রয়োজন, সেখানে প্রতিদিন গড় ক্যালসিয়াম গ্রহণের পরিমাণ মাত্র ৩০৩ মিলিগ্রাম।

বংশগত : বংশে হাড়ক্ষয়জনিত রোগের ইতিহাস থাকলে।
হরমোনাল : কম বয়সে মেনোপজ হলে, হাড়ের ঘনত্ব কম থাকলে।

অন্যান্য রোগ : রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, হাইপারথাইরয়েডিজম, ক্রনিক লিভার ডিজিজ থাকলে।

কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া : স্টেরয়েড (যেমন প্রেডনিসোলোন, ডেক্সামেথাসন, প্রটন পাম্প ইনহিবিটর ইত্যাদি সেবনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় হাড়ক্ষয় হতে পারে।

কায়িক শ্রম না করা : দৈনন্দিন জীবনে কায়িক শ্রম বা ব্যায়ামের অভ্যাস না গড়ে তোলা হাড় গঠনের জন্য বড় সমস্যা।

লক্ষণ
হাড়ক্ষয় একটি নীরব ঘাতক। তেমন কোনো উপসর্গ ছাড়াই মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হয়। এরপরও কিছু লক্ষণ হলো, পিঠের পেছন দিকের অস্থিতে ব্যথা অনুভব হওয়া, হিপ, কোমর ও মেরুদণ্ডে ক্ষয় দেখা দেওয়া, উচ্চতা কিছুটা কমে যাওয়া, হাঁটা বা দাঁড়ানোর সময় ঝুঁকে থাকা, হঠাৎ পড়ে গেলে হার ভেঙে যাওয়া ইত্যাদি।

হাড়ক্ষয় প্রতিরোধে করণীয়
সঠিক খাদ্যাভ্যাস : হাড় ক্ষয়রোগীদের দুধ, দই, পনির, সয়াবিন, বাদাম, ঋতুকালীন সবুজ শাকসবজি, লেটুস, ব্রকলি, মাশরুম জাতীয় খাবার, মাছ খাওয়া উচিত।

ক্যালসিয়াম : দৈনিক ক্যালসিয়ামের চাহিদা বিভিন্ন বয়সে বিভিন্ন রকম থাকে। গড়ে তিন বছর বয়স পর্যন্ত প্রতিদিন ৫০০ মিলিগ্রাম, চার থেকে আট বছর পর্যন্ত ৮০০ মিলিগ্রাম, ৯ থেকে ১৮ বছর বয়সে ১৩০০ মিলিগ্রাম, ১৯ থেকে ৫০ বছরে ১০০০ মিলিগ্রাম এবং ৫১ বছর বা তদুর্ধ্বে ১২০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম খাবার থেকে গ্রহণ করা উচিত। দুধ ছাড়াও বাদাম, শাকসবজি, ছোট মাছে প্রচুর ক্যালসিয়াম রয়েছে।

প্রোটিন : কাঁটাসহ সার্ডিন মাছ, অ্যালমন্ড, ফুলকপি, বাঁধাকপি ইত্যাদি খাবার গ্রহণ।

ভিটামিন ‘ডি’ : একজন মানুষের ভিটামিন ‘ডি’র চাহিদা দৈনিক১০-১২ মাইক্রোগ্রাম। অথচ পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বাংলাদেশে মাত্র ১ শতাংশ লোক যথেষ্ট পরিমাণ ভিটামিন ‘ডি’ গ্রহণ করে থাকে। ক্যালসিয়াম শোষণ, শক্তিশালী হাড় ও দাঁত গঠনে সাহায্য করে এই ভিটামিন ‘ডি’। কিন্তু শুধু খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে যথেষ্ট ভিটামিন ‘ডি’ পাওয়া কঠিন। সূর্যের আলো ভিটামিন ‘ডি’র সবচেয়ে ভালো উৎস। তাই প্রতিদিন ২৫-৩০ মিনিট রোদে থাকা ও প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে ভিটামিন ‘ডি’ সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা উচিত। এ ছাড়া চর্বিযুক্ত টুনা, স্যালমন মাছ, ডিমের কুসুম ইত্যাদি খাওয়া উচিত।

করণীয় : নিয়মিত কায়িক পরিশ্রম করা, পড়ে যাওয়ার মতো ঘটনা থেকে নিরাপদ থাকার ব্যবস্থা করা।

অক্সফোর্ডের দ্বিতীয় ডোজের টিকা আগস্ট থেকে: সেব্রিনা ফ্লোরা

বাগেরহাটে ৫০০ কর্মহীন পরিবারকে পুনাকের খাদ্য সহায়তা

রূপগঞ্জে সেই কারখানার সামনে বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষ, আহত ২৫

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

দীর্ঘায়ু পাওয়ার প্রাকৃতিক খাবার

অনলাইন ডেস্ক

দীর্ঘায়ু পাওয়ার প্রাকৃতিক খাবার

সুন্দর এই পৃথীবিতে কে না চায় সুস্থভাবে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকতে। কিন্তু সেই ইচ্ছে মনে রাখলে কি হবে? মানতে হবে কিছু টিপস। নিচে দিওয়া হলো তেমন কিছু খাবার যা খেলে পেতে পারেন দীর্ঘায়ু ।

মূলত জীবনযাত্রার পরিবর্তন ও সঠিক খাদ্যাভ্যাসের অভাবে এসব সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে আমাদেরকে। শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ্ থাকতে পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই। সঠিক খাবার গ্রহণে এনার্জ লেভেল বাড়ে, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়, শরীরের কার্যক্রম ঠিকঠাক থাকে এবং এসব মিলে সার্বক সুস্থতা আমরা পাই।

আমলকি
আয়ুর্বেদে বহুল ব্যবহৃত একটি হার্বস হলো আমলকি। ভিটামিন সি তে পূর্ণ এ ফলটি বিভিন্ন ধরনের রোগ ও সংক্রমণের বিরুদ্ধে শরীরকে গড়ে তোলে। এমনকি এটি বার্ধক্য ঠেকাতে ও দীর্ঘায়ু দিতে পারে বলেও মনে করা হয়।

আদা
আদায় কমপক্ষে ২৫ ধরণের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে বলে মনে করা হয়। অ্যন্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

এলাচ
এসেনসিয়াল অয়েলে পূর্ণ এলাচ হজম শক্তি বাড়ায়, রক্তের সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণ করে, রক্ত সঞ্চালন ও শরীরের এনার্জ লেভেল বাড়ায়। পাশাপাশি এলাচ দিয়ে চা বানিয়ে খেলে শরীরের টক্সিন বেরিয়ে যায়।

জিরা
পেটের যেকোনো ধরণের গোলযোগ মোকাবিলায় জিরার ভূমিকা অপরিসীম। এটা আয়রন ও ফাইবারের খুব ভালো উৎস। সারারাত এক গ্লাস পানিতে জিরা ভিজিয়ে রেখে সকালে খালিপেটে তা খাওয়া খুব উপকারী বলে মনে করা হয়। এতে করে হজম শক্তি বাড়ে এবং দিনভর বিপাক প্রক্রিয়া অব্যাহত তাকে।

মধু
মধু হচ্ছে অন্যতম একটি সুপারফুড। বয়সের ছাপ কমাতে সৌন্দর্য চর্চায় এটি বহুল ব্যবহৃত হয়। এর অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতাও রয়েছে। এটাতে প্রাকৃতিক মিনারেল রয়েছে যা আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়িয়ে দেয়। দিনে মাত্র এক চা চামচ পরিমাণে মধু খেলেই এ উপকার পাওয়া সম্ভব।

লবঙ্গ
লবঙ্গতে প্রচুর পরিমাণে ম্যা্ঙ্গানিজ রয়েছে  যা বিপাক প্রক্রিয়া সচল ও নার্ভাস সিস্টেম স্থিতিশীল রাখে।

কালো গোলমরিচ
সারাবিশ্বের বহুল ব্যবহৃত একটি মশলা এটি। এর কিছু ঔষধি গুণাগুণও রয়েছে। মিনারেল সমৃদ্ধ এ মশলাটি হলুদের পুষ্টিগুণ বাড়ায়। তাই হলুদ ও দুধ মিশয়ে খাওয়ার সময় তাতে লবঙ্গ দিয়ে দিলে খাবারটি আরো স্বাস্থ্যকর হয়ে ওঠে। এটা আমাদের পরিপাকতন্ত্রকেও শক্তিশালী করে।

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

প্রসূতিদের টিকা নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নতুন তথ্য

অনলাইন ডেস্ক

প্রসূতিদের টিকা নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নতুন তথ্য

করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে প্রসূতি ও দুগ্ধদানকারী মায়েদের ক্ষেত্রে কোন টিকা বেশি কার্যকর, সেটি জেনেই তাদের টিকা প্রয়োগ কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশীদ আলম।

আজ বুধবার দুপুরে অধিদপ্তরের নিজ কার্যালয়ে গণমাধ্যমকে তিনি এ তথ্য জানান।


আরও পড়ুন

আর্থিক সংকট মেটাতে বাড়ি ভাড়া দিচ্ছে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী

চিত্রনায়িকা পরীমণি আটক হচ্ছেন!

পরীমণির বাসায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের হামলার দাবি, আতঙ্কে নায়িকা

পরীমণির বাসায় র‍্যাবের অভিযান, লাইভ শেষ


এবিএম খুরশীদ বলেন, প্রসূতি ও দুগ্ধদানকারী মায়েদের ৭ আগস্ট থেকে টিকা দেওয়া হবে না। তাদের জন্য কোন টিকা বেশি কার্যকর তা চিন্তা করে এটা দেওয়া হবে। তবে তাদের টিকা দেওয়ার ব্যাপারে জাতীয় কমিটির সুপারিশ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে এসে এসেছে। এটা নিয়ে কাজ চলছে। দ্রুত তাদের টিকার আওতায় আনা হবে।

news24bd.tv/এমিজান্নাত 

 

পরবর্তী খবর

করোনাকালে বাড়িতেই বানান কাশি কমানোর লজেন্স

অনলাইন ডেস্ক

করোনাকালে বাড়িতেই বানান কাশি কমানোর লজেন্স

বর্ষাকালে শরীর-স্বাস্থ্যের যত্ন নিলেও কোনও না কোনও ভাবে ঠিক ঠান্ডা লেগেই যায়। তার উপর আবার করোনার প্রকোপ। ফলে গলাব্যথা, জ্বর, কাশি। সব সময় কাশির ওষুধ না খেয়ে বাড়িতেই কিছু উপকরণ দিয়ে বানানো লজেন্স খেলে কমবে গলাব্যথা ও কাশির মতো সমস্যা।

এই লজেন্স গলাব্যথা বা কাশির প্রবণতা কমানোর পাশাপাশি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকেও বাড়ায়।

কী ভাবে বানাবেন: 

ঘরোয়া এই লজেন্স বানাতে লাগবে ১ কাপ পানি, ১ টেবিল চামচ মধু, ১ টেবিল চামচ চিনি, ২ টেবিল চামচ লেবু এবং ১ টেবিল চামচ আদা।

প্রথমে একটি প্যানে পানি ও চিনি মিশিয়ে ফুটতে দিন। এর পরে তাতে সামান্য আদাবাটা ও লেবু মেশান। ভাল করে মিশে গেলে ফুটতে দিন। ঘন হয়ে গেলে আঁচ বন্ধ করে কিছুক্ষণের জন্য ঠান্ডা হতে দিন। ঠান্ডা হয়ে গেলে একটি পার্চমেন্ট কাগজে এক চামচ করে সিরাপটি ঢালতে থাকুন। শক্ত হয়ে গেলে লজেন্সগুলো বার করে একটি কাচের বয়ামে রেখে দিন। 

উপকারিতা:

বিশেষজ্ঞদের মতে আদা, মরিচ ও হলুদ দিয়ে তৈরি ঘরোয়া লজেন্স শরীরের প্রতিরোধশক্তি বাড়াতে সহায়তা করে। এতে থাকা অ্যান্টি-ব্যাকটিরিয়াল ও অ্যান্টি-ভাইরাল উপাদান গলা জ্বালা, নাক বুজে যাওয়ার সমস্যাও কমায়।

আরও পড়ুন


হানি সিংকে নিয়ে গুরুতর সব অভিযোগ, আদালতের দ্বারস্থ স্ত্রী

ভারতের এলপিইউ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপিত হচ্ছে বঙ্গবন্ধু কর্নার

কুষ্টিয়ায় প্রকাশ্যে ঠিকাদারকে হাতুড়িপেটার ঘটনায় মামলা দায়ের

বাড়িতে বানানো এই লজেন্স যখন খুশি প্রয়োজন মতো খেতেও পারেন। মধু, আদা ও লেবু দিয়ে তৈরি লজেন্স কাশি কমাতে খুবই উপকারি। কারণ মধুতে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, যা হজমশক্তি বাড়ায়। এছাড়া গলার জ্বালা ভাবও কমাতে সহায়তা করে। আদা খেলে নাক বুজে যাওয়ার সমস্যা কম হয়। আর লেবুতে রয়েছে ভিটামিন সি, যা সাধারণ সর্দি-কাশির সমস্যায় আরাম দেয়।

news24bd.tv রিমু 

 

পরবর্তী খবর

পুষ্টি, নাকি কেবলই তুষ্টি?

গুলজার হোসাইন উজ্জ্বল

পুষ্টি, নাকি কেবলই তুষ্টি?

অ্যাপল সাইডার ভিনেগার হলো মূলত এক প্রকারের ভিনেগার বা সিরকা যা আপেল পিষে তৈরি করা হয়। এখানে দুই দুইবার গাঁজনের মাধ্যমে ভিনেগার বা সিরকা তৈরি করা হয়। প্রথমবার আপেল পেষা রস গাঁজনের মাধ্যমে তৈরি হয় এলকোহল। দ্বিতীয় গাঁজনে এলকোহল থেকে তৈরি হয় ভিনেগার।  যেখানে ৫-৬ শতাংশ এসেটিক এসিড থাকে। 

অ্যাপল সাইডার ভিনেগার আর সব ভিনেগারের মতই। এখানে ভিটামিন, প্রোটিন, ফ্যাট এর পরিমাণ শূন্য। অল্প কিছু শর্করা আর খনিজ বা মিনারেল আছে। যার বেশির ভাগই পটাশিয়াম। 

এপল সাইডার ভিনেগার আর সব ভিনেগারের মতই মূলত একধরণের ফুড প্রিজারভেটিভ এবং এডেটিভ যা সালাদ বা মাছ মাংসে ব্যাবহার করা হয় স্বাদ বর্ধক হিসেবে। এর এসিটিক এসিডের কারণে এটি এন্টিব্যক্টেরিয়াল হিসেবে কাজ করে, ফলে খাবার দীর্ঘ সময় ভাল থাকে। 

এপল সাইডার ভিনেগার সহ সকল প্রকার ভিনেগারই সুদীর্ঘকাল ধরে জীবানু নাশক হিসেবে ব্যাবহার হয়ে আসছে৷ ২০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে চিকিৎসা শাস্ত্রের জনক হিপোক্রেটিস ক্ষতস্থান ড্রেসিং এ এপল সাইডার ভিনেগার ব্যাবহার করতেন। তবে আধুনিক কালে প্রচুর স্যানিটাইজার, এন্টিসেপ্টিক ও এন্টিবায়োটিক আবিষ্কার হওয়াতে এর ব্যাবহার সীমিত হয়ে পড়েছে।।

অ্যাপল সাইডার ভিনেগারে অন্যান্য ভিনেগারের মতই এন্টিঅক্সিডেন্ট থাকে৷  তবে এর মান আপেলের তুলনায় অনেক অনেক কম। উপরন্তু অ্যাপল সাইডার ভিনেগারে ভিটামিন বা  ফাইবার একেবারে শূন্য যা একটি আপেলে অনেক বেশি থাকে। 

আর সবাই জানে যে ফাইবার হলো রক্তের ব্যাড কোলেস্টেরল বা চর্বি কমানোর আসল হাতিয়ার। অর্থাৎ ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমাতে হলে আপেল বা এ জাতীয় ফলই খেতে হবে, ফল পেষা গাঁজানো ভিনেগার নয়। 

অ্যাপল সাইডার ভিনেগারের কোন পুষ্টিগুণ নেই। এটি ওজন কমাতে সাহায্য করে বা রক্তে চর্বির মাত্রা কমায় এর স্বপক্ষে কোন উচ্চ মানের গবেষণাও নেই। তবে ধারণা করা হয় এর এসেটিক এসিড পাকস্থলীতে একধরণের Feeling of fullness ( পেট ভরার অনুভব) দিয়ে থাকে যা খাবার কম খেতে উৎসাহিত করে।  অবশ্য সব সিরকাতেই এই গুণ বিদ্যমান। 

অ্যাপল সাইডার ভিনেগারের স্বাস্থ্যঝুঁকিও আছে। আর সব ভিনেগারের মতই এটি বেশি বেশি খেলে অস্টিওপরোসিস বা হাড়ের ক্ষয়, কিডনির পাথর ইত্যাদি সমস্যা হতে পারে। 

আরও পড়ুন


জাপানে এত বেশি ভূমিকম্প কেন হয়?

জাপানে অলিম্পিক আসরের মধ্যেই ভয়াবহ ভূমিকম্প

সাকিব-মোস্তাফিজ আইপিএল খেলতে পারবেন

গোয়েন্দার হাতে পিয়াসার ১৭ গোপন ভিডিও, মৌ’র বিয়ে ১১টি


মোদ্দাকথা হলো গুন ও দোষের বিবেচনায় এপল সাইডার ভিনেগার আর সাধারণ ভিনেগারের মধ্যে তেমন পার্থক্য নেই। পার্থক্য অনেকটা কেরুর মদ আর বিদেশি মদের মত। পার্থক্যটা জাস্ট স্বাদ-গন্ধ আর অনুভবে। 

পুষ্টির কথা ভাবলে এপল সাইডার ভিনেগার খাওয়ার চেয়ে আপেল খাওয়াটাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। 

তবে সালাদের স্বাদ বাড়াতে, ম্যারিনেট করতে ভিনেগার ব্যবহার করতেই পারেন। ব্যাপক পুষ্টিগুণ আছে এমন অসৎ ও মিথ্যা প্রচারণা চালিয়ে বাজারে অ্যাপল সাইডার ভিনেগার উচ্চদামে বিক্রি করা হচ্ছে। জনতার সরল বিশ্বাসকে পুঁজি করে বাণিজ্যের পসার বাড়ানোর ধান্দা নতুন কিছু নয়।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

পুরুষের বন্ধ্যাত্ব : সমাধান যে অভ্যাসে

অনলাইন ডেস্ক

পুরুষের বন্ধ্যাত্ব : সমাধান যে অভ্যাসে

শুক্রাণু উৎপাদন ও পরিবহণ সমস্যাই মূলত পুরুষ বন্ধ্যাত্বের কারণ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পুরুষের বন্ধ্যাত্বের সমস্যা এখন খুবই সাধারণ বিষয়। বন্ধ্যাত্ব বর্তমানের এক প্রচলিত সমস্যা। ব্যস্ত জীবনযাত্রা, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, মানসিক চাপ ইত্যাদি বন্ধ্যাত্বের অন্যতম কারণ। বংশগত ছাড়াও ব্যস্ত জীবনযাত্রায়, অনিয়মিত ডায়েট এবং স্ট্রেসের কারণেও পুরুষের বন্ধ্যাত্বের সমস্যা হয়ে থাকে।   পরিসংখ্যান বলছে, ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ বন্ধ্যত্বের জন্য পুরুষরা নিজেরাই অনেকাংশে দায়ী।

গবেষণায় বলা হয়, কেবল নারী নয়, ৩০ থেকে ৫০ ভাগ পুরুষও বন্ধ্যাত্বে ভোগে। এটা ঠেকাতে কিছু পরামর্শ জেনে নিন। 

ওজনের ভারসাম্য রাখা
অতিরিক্ত ওজন এমনিতেই অনেক রোগের কারণ। অতিরিক্ত ওজন শুক্রাণু তৈরিতে সমস্যা করে। বন্ধ্যাত্ব প্রতিরোধে তাই ভারসাম্যপূর্ণ ওজন রাখা জরুরি।

মদপান-ধূমপানের আসক্তি এড়িয়ে চলা
মদপান বা ধূমপান দেহের জৈবিক ক্রিয়াকলাপকে বাধা দেয়। এগুলো আসক্তির পর্যায়ে চলে গেলে বন্ধ্যাত্বের সমস্যা হতে পারে।

মোবাইল ও ল্যাপটপের রেডিয়েশন থেকে দূরে থাকা
ইলেকট্রনিক গেজেট থেকে কম মাত্রার রেডিয়েশন হয়। এটি শুক্রাণু উৎপাদনে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। প্যান্টের পকেটে মোবাইল না রেখে শার্টের পকেটে রাখুন।

পুষ্টিকর খাবার খান
পুষ্টির ঘাটতি, বিশেষ করে জিঙ্ক ও ভিটামিনের ঘাটতি হলে শুক্রাণু তৈরিতে অসুবিধা হয়। স্বাস্থ্যকর ও ভারসাম্যপূর্ণ ডায়েট মেনে চলুন। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করুন।

ব্যায়াম করা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো
সংক্রমণ ও প্রদাহ ভালো শুক্রাণু তৈরিতে  বাধা দেয়। ব্যায়াম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কাজ করে। বন্ধ্যাত্ব প্রতিরোধে নিয়মিত ব্যায়াম করুন।

অধিক বয়সে পুরুষের বন্ধ্যত্ব
যেকোনো বয়সে পুরুষের বন্ধ্যাত্ব সমস্যা হতে পারে। আবার অধিক বয়সের পুরুষও সন্তানের জন্ম দিতে পারে। তবে অধিক বয়সের পুরুষের স্ত্রীর গর্ভধারণ করতে বেশি সময় লাগতে পারে। কারণ বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরুষের দৈহিক মেলামেশার হার ও শুক্রাণুর গুণগত মান কমতে পারে।

আরও পড়ুন

৭৩টি ভুঁইফোড় সংগঠনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ

রামেকে করোনা ওয়ার্ডে ১৯ জনের মৃত্যু

হেলেনা জাহাঙ্গীরের দুই সহযোগী গ্রেফতার


 

প্রয়োজনে কাউন্সেলিং
বেশির ভাগ পুরুষ মনে করে দৈহিকভাবে সক্ষম ও মেলামেশার সময় বীর্যপাত হলে সে সন্তান উৎপাদনে সক্ষম। কিন্তু বীর্য পরীক্ষার রিপোর্টে যখন সমস্যা ধরা পড়ে তখনই একজন পুরুষ মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। তার আবেগ-অনুভূতির দ্রুত পরিবর্তন ঘটে। তাই চিকিৎসা দেওয়ার সময় তার মানসিক অবস্থার কথা মাথায় রেখে মনোবিজ্ঞানী বা কাউন্সেলরের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর