১৬ জুলাই: কারারুদ্ধ শেখ হাসিনা ও অবরুদ্ধ গণতন্ত্র

আব্দুর রহমান

১৬ জুলাই: কারারুদ্ধ শেখ হাসিনা ও অবরুদ্ধ গণতন্ত্র

১/১১-এর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শাসনামলে হয়রানি ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় ২০০৭ সালের এই দিনে আওয়ামী লীগের সভাপতি, বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করা হয়। শেখ হাসিনাকে গ্রেফতারের মাধ্যমে সেদিন মূলত বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও রাজনীতিকে অবরুদ্ধ করার অপচেষ্টা চালানো হয়। 

২০০৭ সালের ১৬ জুলাই ভোরে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় দুই সহস্রাধিক সদস্য সম্পূর্ণ বে-আইনিভাবে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার বাসভবন সুধাসদন ঘেরাও করে। এমতাবস্থায় জননেত্রী শেখ হাসিনা ফজরের নামাজ আদায় করেন। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে যৌথবাহিনীর সদস্যরা আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করে সুধাসদন থেকে নিয়ে যায় এবং যৌথবাহিনীর সদস্যরা বন্দি অবস্থায় তাঁকে ঢাকার সিএমএম কোর্টে হাজির করে। 

বেশ কয়েকটি হয়রানি ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় ১০ মাস ২৫ দিন কারারুদ্ধ ছিলেন বঙ্গবন্ধু কন্যা অর্থাৎ তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী। সামরিক বাহিনী সমর্থিত ইয়াজউদ্দিন-ফখরুদ্দীনের তত্ত্বাবধায়ক সরকার কেন সদ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার না করে তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করছিল - সেটি একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। 

২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামাত জোট সরকার সন্ত্রাস, দুর্নীতি, ধর্ষণ ও লুটপাটের মাধ্যমে নরকে পরিণত করেছিল বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাকে। গ্রেনেড, বুলেট, বোমায় শেষ করতে চেয়েছিল গণতন্ত্রের মানসকন্যাকে। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার মাধ্যমে জননেত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বকেই সমূলে নিশ্চিহ্ন করে দেবার চেষ্টা করা হয়। সেই সরকারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছিল জননেত্রী শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করার ৫৯ দিন পর। এখানেই জেনারেল নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দুরভিসন্ধিমূলক ইচ্ছেটা স্পষ্ট। এই স্বাধীনতা-বিরোধী শক্তি বিচ্ছিন্ন কেউ নয়। এদের জন্যই স্বাধীনতা যুদ্ধ এত রক্তক্ষয়ী হয়েছিল। স্বাধীনতা-পরবর্তী ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট এরাই বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করেছিল। 

২০০৬ সালে বিএনপি-জামাত তথা খালেদা জিয়ার সরকার ক্ষমতা হস্তান্তরে জটিলতা সৃষ্টি করলে সে সময়ে সামরিক বাহিনীর প্রধান জেনারেল মইন ইউ আহমেদ রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টা ড. ইয়াজউদ্দীন আহম্মেদের সাথে সাক্ষাত করেন। জেনারেল মইন তার স্মৃতিচারণ গ্রন্থ 'শান্তির স্বপ্নে' গ্রন্থে লিখেছেন, তারা আড়াইটার সময় বঙ্গভবনে প্রবেশ করেন। ভেতরে গিয়ে শোনেন, প্রেসিডেন্ট মধ্যাহ্নভোজ করছেন। তাদের একটি কামরায় অপেক্ষা করিয়ে রাখা হয়। ঘণ্টা দেড়েক অপেক্ষা করবার পর প্রেসিডেন্টের দেখা মেলে। প্রেসিডেন্টকে তারা 'মহা-সংকটময় পরিস্থিতি' থেকে দেশকে উদ্ধার করার অনুরোধ জানান। প্রেসিডেন্ট বিষয়টি ভেবে দেখার সময় নেন। দীর্ঘ নীরবতার পর প্রেসিডেন্ট জরুরি অবস্থা জারির পক্ষে মত দেন। সেই সাথে তিনি নিজে প্রধান উপদেষ্টার পদ থেকে সরে দাঁড়িয়ে উপদেষ্টা পরিষদ ভেঙে দেবেন বলে জানান। 

বইতে ছ'টার সময় বঙ্গভবন থেকে বেরিয়ে আসার কথা লিখেছেন মইনুদ্দীন, অর্থাৎ দু'ঘণ্টার মতো তারা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ছিলেন। এই দু'ঘণ্টায় তারা কিভাবে কি বুঝিয়েছিলেন প্রেসিডেন্টকে, কোন প্রেক্ষাপটে গিয়ে প্রেসিডেন্ট জরুরি অবস্থা জারি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ভেঙে দিতে রাজী হলেন, তার কোনো স্পষ্ট ধারণা এই লেখায় পাওয়া যায় না। 

বঙ্গভবনেই প্রেসিডেন্ট ইয়াজউদ্দিন দুটো নাম প্রস্তাব করেছিলেন, একজন শান্তিতে নোবেলজয়ী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনুস, অপরজন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ফখরুদ্দীন আহমেদ। প্রফেসর ইউনুসকে প্রথম ফোনটি করেন জেনারেল মইনুদ্দীন। প্রফেসর ইউনুস অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে তিনি যেমন দেখতে চান সেরকম বাংলাদেশ গড়তে খণ্ডকালীন সময় যথেষ্ট নয়। বাংলাদেশকে আরো দীর্ঘ সময় ধরে সেবা দিতে আগ্রহী। সেই মুহূর্তে ড. ইউনুসের কথার মর্মার্থ বুঝিনি...পরবর্তী সময়ে আমরা দেখেছি তিনি একটি রাজনৈতিক দল করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। যদিও পরিস্থিতির কারণে তাকে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে হয়েছিল। 

ড. ফখরুদ্দীন আহমেদকে ফোন করে ঘুম থেকে জাগানো হয় গভীর রাতে। প্রধান উপদেষ্টা হবার আমন্ত্রণ পেয়ে স্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার জন্য সময় চান তিনি। আধ ঘণ্টা পর ফিরতি ফোনে সম্মতি জানান। ২০০৬ সালের ২৯ অক্টোবর প্রেসিডেন্টের পাশাপাশি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব পালনের জন্য শপথ নেন প্রফেসর ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ। 

রাজনৈতিক বোদ্ধাদের ধারণা এখন প্রায় বিশ্বাসে পরিনত হয়েছে এই বলে যে- ‘মাইনাস টু’ ফর্মুলা বাস্তবায়নের জন্য দুই নেত্রীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এত বছর পরে এসে এ কথা হলফ করে বলা যায়, বাংলাদেশকে নেতৃত্বশূন্য করতে শুধুমাত্র জননেত্রী শেখ হাসিনাকে মাইনাস করাই ছিলো এই ফর্মুলার মূলে। ক্যান্টনমেন্ট থেকে পরিচালিত সরকারের চরিত্র যেমনটা হয় আরকি! কারণ তারা যুগে যুগে গণতন্ত্রকেই হত্যা করতে চেয়েছে। 

জননেত্রী শেখ হাসিনা  সন্তানসম্ভবা পুত্রবধূকে দেখতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন। সেখান থেকেই তিনি জানতে পারেন তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। ২০০৭ সালে ১১ জানুয়ারির পর তাঁর দেশে ফেরার ওপর বিধিনিষেধ জারি করে সামরিক তত্ত্বাবধায়ক সরকার। রাজনীতি থেকে  সরিয়ে দেওয়ার জন্য চলে নানামুখি চক্রান্ত। কিন্তু ব্যর্থ হয় সব ষড়যন্ত্র। সব বাধা অতিক্রম করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে ব্রতী হয়ে দেশে ফিরে আসেন শেখ হাসিনা।

আরও পড়ুন


করোনা যতোদিন থাকবে খাদ্য সহায়তা দেয়া হবে: হানিফ

অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কাটার ভোগান্তি স্বাভাবিক: রেলমন্ত্রী

প্রবাসে দেশি মাছের স্বাদ না পেলেও ছবি দেখতে ভাল লাগে

কোরবানির পশুর চামড়ার দাম নির্ধারণ


যৌথবাহিনী গণতন্ত্রের মানসকন্যা শেখ হাসিনাকে মিথ্যা মামলায় ১৬ জুলাই গ্রেফতার করে কারারুদ্ধ করে। গণমানুষের নেত্রী যখন কারাগারে, তখন এ দেশের আপামর জনগণ তার অনুপস্থিতি গভীরভাবে উপলব্ধি করেছে। তার সাব-জেলের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের উদ্বেগ, গ্রেফতারের সংবাদ শুনে দেশের বিভিন্ন স্থানে মারা যান চার জন। ১/১১-এর সরকারের সময় ঢাকা শহরের ২৫ লাখ মানুষ জননেত্রী শেখ হাসিনার মুক্তির দাবিতে গণস্বাক্ষর দিয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের উৎকণ্ঠা আপামর জনগোষ্ঠীকে স্পর্শ করেছিল। আদালতের চৌকাঠে শেখ হাসিনা ছিলেন সাহসী ও দৃঢ়চেতা; দেশ ও মানুষের জন্য উৎকণ্ঠিত। বঙ্গবন্ধুকন্যা হিসেবে সত্য কথা উচ্চারণে সবসময়ের মতোই বড় বেশি সপ্রতিভ ছিলেন তিনি। অবশেষে আইনি মোকাবিলার মাধ্যমে ২০০৮ সালের ১১ জুন শেখ হাসিনা কারাগার থেকে মুক্তি পান। 

বাংলাদেশের স্থপতি, বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা। ১/১১ এর সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার হাজারো চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে দেশ এবং দেশের জনগণ থেকে তাঁকে বিচ্ছিন্ন করতে। পরবর্তীতে তিনি তাঁর সততা, দক্ষতা এবং দেশপ্রেমের কারণে ২০০৮ সালের নবম, ২০১৪ সালে দশম এবং ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টানা তিনবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। বাংলাদেশের মানুষ আর জোট সরকারের দুঃশাসনে ফিরে যেতে চায় না, শেখ হাসিনার মাঝে তারা খুঁজে পায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর প্রতিচ্ছবি। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ার যে প্রত্যয় ছিল, সেই স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়তে জননেত্রী শেখ হাসিনা নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। তার দূরদর্শী নেতৃত্ব, সাহসী পদক্ষেপে বাংলাদেশ আজ শুধু উন্নয়ন আর অগ্রযাত্রার মাইলফলকই নয়, বরং শেখ হাসিনার মানবিক নেতৃত্ব আজ বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত। তিনি আজ বিশ্বনেতাদের কাছে উন্নয়ন আর মানবিকতার প্রতীক। 

শত সংকট আর সম্ভাবনায় শেখ হাসিনাই বাংলার মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসের শেষ ঠিকানা। যখনই এ দেশের গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়ছে, তখনই গণতন্ত্র রক্ষায় ঢাল হিসেবে সামনে দাঁড়িয়েছেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। এ দেশের মুক্তিকামী, আপামর জনতা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে মানুষের মৌলিক অধিকার, সংবিধানের চার মূলনীতি বাঙালি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ও ধর্ম নিরপেক্ষতার ভিত্তিতে দেশ পরিচালনা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদমুক্ত এবং অসাম্প্রদায়িক সুখি সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়তে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার বিকল্প শুধুই শেখ হাসিনা। 

লেখক: সভাপতিমন্ডলীর সদস্য,  বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর

বুদ্ধিবাজি বা বৌদ্ধিক মাস্তানি

হারুন আল নাসিফ

বুদ্ধিবাজি বা বৌদ্ধিক মাস্তানি

অনেক দিন আগের কথা। সন-তারিখ ঠিক মনে নেই। যে-সে যেন-তেনভাবে কবিতা লিখছে এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে এক সাক্ষাৎকারে কবি শামসুর রাহমান বলেছিলেন, খারাপ কী? মাস্তানি তো আর করছে না, কবিতা লিখছে। এটা তো ভালো। কথাগুলো হুবহু মনে নেই। তবে মূলভাবটা এমনই ছিল।

হালে ফেসবুকে মেলা যুবকের হরেদরে বুদ্ধিজীবিতা প্রসঙ্গে কথাগুলো মনে এল। এখন যদি তিনি বেঁচে থাকতেন এ নিয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হলে তিনি হয়ত বলতেন, মন্দ কী? এরা তো আর টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, অস্ত্রবাজি করছে না, বুদ্ধিজীবিতা করছে। এটাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা উচিত।

আমিও বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখতে চাই। কিন্তু বিষয়টি স্রেফ বুদ্ধিজীবিতা হলে সমস্যা ছিল না। এটি সাম্প্রতিক সময়ে বুদ্ধিবাজি বা বৌদ্ধিক মাস্তানিতে রূপ নিচ্ছে বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। আশির দশকেও সাহিত্য-সংস্কৃতির অঙ্গনে এরকম কিছু সাহিত্যিক-সাংস্কৃতিক মাস্তানের উদ্ভব হয়েছিল।

এখনও দেখতে পাচ্ছি, বুদ্ধিজীবিতা করতে এসে, বলা যায় ফলাতে এসে কিছু তরুণ শাণিত বুদ্ধি বা মেধা প্রদর্শনের বদলে অথবা পাশাপাশি নানাভাবে তাদের পেশি প্রদর্শনেও পিছপা হচ্ছেন না। এটি সুলক্ষণ বলে মনে হচ্ছে না। বৌদ্ধিক মাস্তানি আর যা-ই হোক বুদ্ধিজীবিতার উদ্দেশ্য সাধনের কার্যকর পন্থা নয়।

বুদ্ধির লড়াইয়ে আপনি যখন মাথা গরম করে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক ভাষা, তুই-তুকারি, গালি-গালাজ, নানা উদ্দেশ্যমূলক ট্যাগিং ব্যবহার করবেন, তখন বোঝা যাবে, আপনার ঘটে বুদ্ধি ফুরিয়ে এসেছে। আপনি বুদ্ধিতে হেরে গেছেন, যা আপনি মনে মনে মেনেও নিয়েছেন। কিন্তু এ হার আপনার হজম হচ্ছে না বিধায় আপনি দুর্বলের মনস্তত্ত্ব প্রকাশ করে বেহুদা আস্ফালন করছেন।

আরও পড়ুন


বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় ৩০০ পরিবারের মাঝে বসুন্ধরা গ্রুপের ত্রাণ বিতরণ

সানিয়া যে একা ছিলেন এমন না, ছিলেন সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা

এবার কঙ্গনাকে কড়া বার্তা দিলেন আদালত

করোনায় ইন্দোনেশিয়ায় রেকর্ড মৃত্যু, শনাক্ত ৪৫ হাজারের বেশি


বুদ্ধিজীবিতা করতে নেমে শরীরে কুস্তিগিরের জোশ ললান করে দাঁত-মুখ খিঁচে পেশি ফুলালে কি চলে? হতে পারে আপনার শরীরে তাকত আছে। কিন্তু মনে রখতে হবে আপনি নেমেছেন মগজের তাকত দেখাতে। মেধা-মনন সবসময় পেশিশক্তির চেয়ে বেশি শক্তিশালী। তাই মেধায় শান দেওয়া খুব জরুরি।

যথাযথ জ্ঞান-বুদ্ধি ও প্রস্তুতি ছাড়া বুদ্ধিজীবিতা করতে নামলে আপনার শেষ পর্যন্ত মাস্তানির পথ অবলম্বন করা ছাড়া উপায় নেই। একথা কম-বেশি সবাই জানেন, হয়ত আপনিও কম জানেন না। তাই বাধ্য হয়েই হয়ত এ পথ বেছে নিচ্ছেন। তা মানলাম। কিন্তু আপনি অপনার বৌদ্ধিক পরাজয় মেনে নিতে প্রস্তুত তো? পরাজয় কিন্তু আপনাকে অপ্রস্তুত করে দিতে সময় নেবে না!

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর

শেষে একদিন কইলেন, কিস ইউ!

ইশরাত জাহান উর্মি

শেষে একদিন কইলেন, কিস ইউ!

পঞ্চাশ বা তদোর্থ লোকটি শুরু করেছিলেন "হাই" দিয়ে। তারপর "মাই স্টোরি" তে লাভ রিঅ্যাক্ট।  তারপর নাইস, বিউটিফুল, লাভেবল, লাভলি  অপূর্ব এন শেষে একদিন কইলেন, কিস ইউ! মেজাজটা টং হয় কি না বলেন? কইলাম যে, কি বললেন? থাপড়ায়ে দাঁত ফেলে দেবো, আমি আপনার বন্ধু লাগি? সে কয়, ফ্রেন্ডলি কিস! বললাম যে, ফারদার বুঝেশুনে কমেন্ট করবেন। 

এরপর তিনি পূর্বের মোডে ফিরে গেলেন। নাইস, বিউটিফুল, লাভলি ইত্যাদি। কিছু বলি না। 
কয়েকদিন আগে থিকা একটু লম্বা ম্যাসেজ পাঠাইতে শুরু করলেন। রূপ যৌবন বর্ণনাপূর্বক। আমি চুপই থাকি। ইগনোর করি। 
কাল রাতেও যথারীতি স্টোরিতে আইসা লম্বা তেলতেলে ম্যাসেজ পাঠাইলেন। আমারে শাড়িতে না, অন্য পোশাকেই বেশি ভালো লাগে, শাড়ি ব্যাকডেটেড -ইত্যাদি। আমি কইলাম, আপনি কি বুঝেন যে আপনি একটা ছ্যাঁচড়া? সে এরপর আবার লম্বা ম্যাসেজ পাঠাইলো, 

আপনাকে তো কোনও বাজে কথা বলিনি, তবু আমি ছ্যাঁচড়া? কেন ছ্যাঁচড়া? 
আমি চুপ কইরা থাকি, সে আবার জিগায়, "হ্যালো! বলেন কেন আমি ছ্যাঁচড়া? "
নাউ ফ্রেন্ডস টেল মি,  ছ্যাঁচড়ারে আমি ক্যামনে বুঝাবো ছ্যাঁচড়ামো কারে কয়? 

বুয়েটের ঘটনায় "ব্লক করে দিলেই হয়" দের জন্য এইটা ভালো উদাহরন হইতে পারে। এরা হইলো নাফা ছাড়া গরু, এক জায়গায় লাত্থি খাইলে আরেকজায়গায় গিয়া "কিস ইউ" মারাবে। একটা বয়স্ক লোকের না বুঝার তো কোনও কারণ নাই যে আমি বিরক্ত হচ্ছি বা ইগনোর করছি কিন্তু সে লম্বা ম্যাসেজ পাঠায়েই যাবে। 

বাংলাদেশের অধিকাংশ পুরুষই বিরক্তি বুঝে না। কেন বুঝে না এইটা রীতিমতো গবেষণাযোগ্য। এইরকম অনেক পুরুষ আমি পাইছি যারা এই লোকের মতো "ইনোসেন্ট" কোয়াশ্চেন করে, "আপনাকে তো বাজে কিছু বলিনি, প্রশংশাই করেছি, তবু কেন রেগে যাচ্ছেন?" এই পুরুষদের ঠিক কোন ওয়েতে বুঝানো যায় যে, "নট ইন্টারেস্টেড" বইলা একটা ব্যাপার আছে। দ্বিতীয়ত, মেয়েদের এরা এতো সাবঅর্ডিনেট ভাবে যে  এই এতোকিছুর পরও স্টিল অবলীলায় এইসব চালায়ে যাওয়ার সাহস পায়। কোনও কিছুই কেয়ার করে না। 
সর্বশেষ কি বলায় সে কাল রাতে থামছে জানেন? বলছি, এরপর কিন্তু আমি স্ক্রিনশট দিবো, সেইটা কি ভালো হবে? 

তারপর সে থামছে। নেমিং, শেমিং, মিডিয়া ট্রায়ালের বিরুদ্ধে জোর রব উঠতেছে কিন্তু টুকটাক বিরক্তি এড়াতে মেয়েরা কি কেবলই ব্লক করে যাবে? এবং এক জায়গায় ব্লক খাইলে এই নাফা ছাড়া গরুডি আরেকখানে যাবে।। এইগুলা নিয়া তো আইন আদালতও করা যায় না। তাইলে স্ক্রিনশট এর বিকল্প কি?

(মত-ভিন্নমত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

 

আরও পড়ুন:


বিভিন্ন জেলায় করোনায় প্রায় দেড় শতাধিক মৃত্যুর

সিলেট বিভাগে করোনায় শনাক্ত ও মৃত্যু নতুন রেকর্ড

বগুড়ায় ৭০০ পরিবারের মাঝে বসুন্ধরা গ্রুপের ত্রাণ বিতরণ

মাহফুজ আনামের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে সম্পাদক পরিষদ থেকে নঈম নিজামের পদত্যাগ


news24bd.tv / কামরুল 

পরবর্তী খবর

করোনা স্বাস্থ্য সমস্যা প্রাকৃতিক দুর্যোগ না

শওগাত আলী সাগর

করোনা স্বাস্থ্য সমস্যা প্রাকৃতিক দুর্যোগ না

করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং সবার আগে যে জিনিসটি দরকারি, সেটি হচ্ছে- এটি যে একটি স্বাস্থ্য সমস্যা- তা বুঝতে পারা এবং স্বীকার করা। কোভিডকে স্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে স্বীকার করতে না পারলে- আপনি এটিকে ঘুর্ণিঝড়, প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে ভুল করবেন এবং আপনার প্রতিটি পদক্ষেপ ভুল হবে।

করোনা ভাইরাস যে স্বাস্থ্য সমস্যা- এই বিষয়টি রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারকরা যদি না অনুধাবন করেন, স্বীকার না করেন- তা হলে ’সাধারন মানুষ কেন সচেতন না’- এই অভিযোগ  তোলার নৈতিক ভিত্তি থাকে না। তখন নিজেদের অক্ষমতা ঢাকার জন্য এইসব নিয়ে হৈ চৈ করতে হয়।

 যারা রাষ্ট্র পরিচালনা করেন, যারা প্রশাসন চালান- তারা নিজেরা কোভিডকে ঠিক মতো বুঝতে পারলেন কী না- সেটি তাদের আচরণে প্রকাশ পেয়ে যায়। তখন তারা আর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারে না। 

আরও পড়ুনঃ


দ. কোরিয়ার কোন গালিও দেয়া চলবে না উত্তর কোরিয়ায়

তালেবানের হাত থেকে ২৪ জেলা পুনরুদ্ধারের দাবি

কাছাকাছি আসা ঠেকাতে টোকিও অলিম্পিকে বিশেষ ব্যবস্থা


 

কোভিড মোকাবেলা করে যে রাষ্ট্রগুলো এখন স্বাভাবিক অবস্থার দিকে ফিরে যাচ্ছে, সেই দেশগুলোর সরকার প্রধানরা, নীতিনির্ধারকরা, প্রশাসন পরিচালনাকারীরা কোভিডকে স্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে স্বীকার করে সেইভাবে্ই  বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুসারে পদক্ষেপ নিয়েছেন।

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

শওগাত আলী সাগর, প্রধান সম্পাদক, নতুনদেশ

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

পা চাটা এই সমাজে ডাক্তার একজন নিরীহ, নিম্নস্তরের সেবক মাত্র

গুলজার হোসাইন উজ্জ্বল

পা চাটা এই সমাজে ডাক্তার একজন নিরীহ, নিম্নস্তরের সেবক মাত্র

তানভীর আকবর আমার মেডিকেলের ছোটভাই। শুধু ক্যাম্পাসের জুনিয়র ব্যাপারটা সেরকম না, তার সাথে আমার নিয়মিত যোগাযোগ। আজ অনেক বছর থেকেই সে আমাকে নিয়মিত ফোন করে ও টেক্সট করে। রোগীদের বিষয়ে পরামর্শ চায়, রেফার করে। আমাকে যে সম্মান-শ্রদ্ধা সে করে সেটা সাধারণ সিনিয়র-জুনিয়র সম্পর্কের চেয়েও হয়ত বেশি। এমন একজন কাছের মানুষকে একদল সন্ত্রাসী নির্মম পেটাচ্ছে এই দৃশ্য সত্যিই দেখা কষ্টকর। 

তানভীর ক্যাম্পাসের পরিচিত মুখ,  অত্যন্ত সামাজিক ও সদাহাস্যোজ্জ্বল। তার মত একটি ছেলেকে শুধু মাত্র শ্বাসকষ্টের রোগীকে কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালে  রেফার করার অপরাধে যেভাবে নির্মমভাবে পিটিয়েছে কিছু মানুষ, সেটি দেখে আমি  মর্মাহত।  আমি এদেশের মানুষের প্রতি,  রোগীদের প্রতি একধরণের ভীতি ও বিতৃষ্ণা অনুভব করছি। চিকিৎসক হিসেবে নিজেকে তুচ্ছ  আর নিরাপত্তাহীন মনে হচ্ছে। 
ডাঃ তানভীরের উপর যে আঘাত হয়েছে এটি বাংলাদেশে নিয়মিত হয়। খুলনায় একজন ডাক্তার রোগীদের প্রহারে মৃত্যুবরণ করেছেন। কিন্তু আমাদের সমাজে এই ঘটনার কোন যুৎসই প্রতিবাদ হয়নি। অপরাধীদেরও দৃষ্টান্তমূলক সাজা হয়নি।

আজকাল ডাক্তারদের উপর কোন আঘাত এলে আমি প্রতিবাদ করিনা তেমন। ডাক্তার দিবসে ডাক্তাররা শুভেচ্ছা দেয়,  ডাক্তার প্রহৃত হলে ডাক্তাররাই প্রতিবাদ করে নিজেদের এরকম 'নিজেরা নিজেরাই' বানিয়ে আসলে লাভ নেই৷ 

করোনা বলুন আর জনতার মার খেয়ে বলুন- ডাক্তার মরলে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বা সর্বনিম্ন কোথাও তেমন কোন প্রতিক্রিয়া হয়না। স্বার্থপর,  ক্ষমতার পা চাটা এই সমাজে ডাক্তার একজন নিরীহ,  নিম্নস্তরের সেবক মাত্র। এটাই আসল সত্য। দিন শেষে এটাই আমাকে লো ফিল করাচ্ছে।
আমি ঢাকার নামী কলেজের প্রিন্সিপাল না, আমি জামালপুরের ডিসিও না৷ আমার বডিগার্ড, নিরাপত্তা কর্মী, আর্দালি, পিওন, নাজির  নাই। বালিশের তলায় পিস্তল নাই। আমি কাউকে 'খানকির পোলা' বলে গালিও দিতে পারিনা৷ কাউকে দেশ ছাড়া করার ক্ষমতাও আমার নাই।  চাইওনা সেসব৷ আমি চাই আমার কাজটুকু যেন আমি নিরাপদে করতে পারি।

(মত-ভিন্নমত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

অন্যায়কে প্রশ্রয় দেবার সুযোগ নেই

পীর হাবিবুর রহমান

অন্যায়কে প্রশ্রয় দেবার সুযোগ নেই

ভিকারুন্নেছার প্রিন্সিপালের নোংরা অশ্রাব্য গালিগালাজকেও অনেকে নানা যুক্তিতে সমর্থন দিচ্ছেন।সমাজ কতটা নষ্ট হলে এমন হয়! যারা সমর্থন দিচ্ছেন তারা নিশ্চয় বিকৃত এবং ব্যক্তিগত জীবনে এমন নোংরা গালিগালাজে অভ্যস্থ। তাদেরটা ভাইরাল হয়নি বলে দেশ জানে না আসল চেহারা।

এদের জন্য করুনা হয়। টিভি টকশোতে দেখলাম প্রিন্সিপালের সহপাঠি যুবমহিলালীগ সভানেতী নাজমা আখতার ও নোংরা গালিকে সমর্থন করেননি। তবে যুক্তি দিয়ে প্রিন্সিপালের পক্ষে কথা বলেছেন। প্রিন্সিপালের দড়জায় যে লাথি মেরেছে তার বিরুদ্ধে থানায় মামলা দেননি কেনো?

আইনের আশ্রয় কেন নেননি? অভিভাবক ফোরাম অনৈতিক নিয়োগ বানিজ্যের চাপ দিলে ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষের মাধ্যমে কেন ব্যবস্হা গ্রহণ করাননি? এরা আইনের চেয়ে ক্ষমতাবান নয়। কতৃপক্ষ চাইলে তাদের কমিটি ভেঙ্গে দিতে পারে। সরকার চাইলে নিবন্ধন বাতিল করতে পারে। এটা মগের মুল্লুক নয় একটি দেশ সেরা মেধাবি ছাত্রীদের শিক্ষা প্রতিষ্টান নিয়ে যা খুশি করবেন। এক যুগে ভিকারুন্নেছাকে ভর্তি বাণিজ্যসহ নানা বিতর্কে বিতর্কিত করা হয়েছে। প্রিন্সিপাল হামিদা আলী অবসরে যাবার পর এর বিপর্যয় শুরু। সরকারকে এখানে কঠোরভাবে হস্তক্ষেপ করতে হবে। আর যে প্রিন্সিপাল এত নোংরা ভাষা ব্যবহার করেন, বালিশের নীচে পিস্তল নিয়ে ঘুমানো, ব্যাগে রিভলবার রাখার দম্ভোক্তি করেন, তাকে আর যাই হোক গোটা দেশ জানার পর তিনি নৈতিক কারণে ভিকারুন্নেছার প্রিন্সিপাল থাকতে পারেন না। তাকে সরিয়ে দিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যায়কে প্রশ্রয় দেবার সুযোগ নেই। অভিভাবক ফোরামের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে।

(মত-ভিন্নমত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

লেখক: নির্বাহী সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রতিদিন

 news24bd.tv তৌহিদ

পরবর্তী খবর