কানাডায় মুসলিম নারীদের ওপর সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ
কানাডায় মুসলিম নারীদের ওপর সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ

কানাডায় মুসলিম নারীদের ওপর সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ

অনলাইন ডেস্ক

কানাডার আলবার্তায় এডমন্টন শহরে মুসলিম নারীদের ওপর সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে কৃষ্ণাঙ্গ মুসলিম নারীরা বেশি হয়রানির শিকার হয়েছেন।

এডমন্টন শহরের বাসিন্দা আফ্রিকান মুসলিম নারী দুনিয়া নূর। তিনি এডমন্টনে মুসলিম সম্প্রদায়ের একজন সংগঠকও।

কয়েকদিন আগে একটি দোকানে গিয়ে ফোনে এক আত্মীয়ের সঙ্গে সোমালি ভাষায় কথা বলছিলেন। এ সময় ওই দোকানের এক ব্যক্তি আগ্রাসী হয়ে তাকে ইংরেজিতে কথা বলতে বলে। সেদিন তার পথরোধও করেন ওই ব্যক্তি।

দুনিয়া নূর আফ্রিকান কানাডিয়ান সিভিল এনগেজমেন্ট কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট এবং সহ-প্রতিষ্ঠাতা। তিনি নিজেকে সেখানে খুবই অনিরাপদ বোধ করছেন। কিছুদিন আগে লন্ডন শহরে একটি মুসলিম পরিবারকে হত্যা করার পর তার এই বিধি আরও বেড়ে গেছে।

সম্প্রতি কানাডায় কৃষ্ণাঙ্গ মুসলিম নারীদের বিরুদ্ধে মৌখিক ও শারীরিক আক্রমণ বেড়েছে। গেল জুনেও হিজাব পরিহিত মুসলিম দুই বোনের দিকে ছুরি নিয়ে এক ব্যক্তি আক্রমণ করে ও অশ্লীল ভাষায় গালি দেয়।

অন্য আরেকটি ঘটনায় গণপরিবহনের জন্য অপেক্ষারত মুসলিম নারীদের ধাক্কাতে ধাক্কাতে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয়।
এডমন্টনের পুলিশ বলছে, ২০২০ সালের ৮ ডিসেম্বর থেকে এডমন্টন শহরে হিজাব পরা কৃষ্ণাঙ্গ মুসলিম নারীদের অবমাননার পাঁচটি ঘটনার অভিযোগ পেয়েছে তারা।

মুসলিম সম্প্রদায়ের আইনজীবীরা বলছেন, অনেক ঘটনার অভিযোগ হয় না। ভুক্তভোগীরা পুলিশ-থানা পর্যন্ত যেতে যান না।
দুনিয়া নূর বলেন, কৃষ্ণাঙ্গ মুসলিম নারীদের ওপর ছুরি হামলাও হয়েছে। নারী লিঙ্গের কারণে অনেকেই সহিংসতার শিকার হয়েছে। এছাড়া ইসলামভীতি ও ঘৃণাপ্রসূত হয়েও মুসলিমদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।

আরও পড়ুন


স্বাভাবিক মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত কারাভোগ করতে হবে

২২ দিন পর আবার ট্রেন চলাচল শুরু

নৌপথে যাত্রী ও যানবাহনের প্রচণ্ড চাপ

অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কাটার ভোগান্তি স্বাভাবিক: রেলমন্ত্রী


মিউনিসিপ্যালিটির ২০১৯ সালের হিসাব অনুযায়ী, এডমন্টনে কমপক্ষে নয় লাখ ৭২ হাজার মানুষের বসবাস। এডমন্টনে মেয়র ডন ইভেসন এক বিবৃবিতে বলেন, জাতিবিদ্বেষ ও একগুঁয়েমি আচরণ যে এডমন্টন শহর সমর্থন করে না এ বার্তা কিছু অধিবাসী পায়নি। এডমন্টনের মানুষ এসব সহিংস আচরণ বন্ধ করবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন বলে জানান।

ইভেসন বলেন, কানাডায় ঘৃণাপ্রসূত আইনে এডমন্টন সিটি কাউন্সিল কঠোর। এছাড়া সহিংসতা ও ঘৃণ্য অপরাধ দমনে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে সিটি কাউন্সিল।

বিবৃতিতে বলা হয়, সহিংসতা প্রতিরোধে এডমন্টন পুলিশ ৭০টি ভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে কাজ কারছে। ২০২২ সাল নাগাদ আরও কৌশল অবলম্বন করা হবে।

সূত্র: আল জাজিরা

news24bd.tv/এমিজান্নাত