হরমোনের সমস্যা বোঝার উপায় ও সমাধান

অনলাইন ডেস্ক

হরমোনের সমস্যা বোঝার উপায় ও সমাধান

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে নানারকমের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়, তার নানা রকমের কারণ আছে। সেই কারণ গুলির মধ্যে অন্যতম একটি হলো হরমোনের ভারসাম্য ঠিক না থাকা। শরীরের স্বাভাবিক কার্যাবলী ঠিক রাখতে হরমোন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ইন্সুলিন, ইস্ট্রোজেন, ডোপামিন, এফএসএইচ, টিএসএইচ ইত্যাদি জৈবিক রাসায়নিক উপাদান মেজাজ, চুলের বৃদ্ধি, ওজন, প্রজনন ক্ষমতা, মানসিক অবস্থা ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করে।

মেয়েদের শরীরে হরমোনের পরিবর্তনের অনেক লক্ষণ দেখা যায়। চল্লিশ বা পঞ্চাশ বছর বয়সী নারীদেরও হরমোনের সমস্যা হয়। এতে করে অনেক নারীর বন্ধ্যত্ব দেখা দিতে পারে। 

যেসব লক্ষণে আপনি খুব সহজেই বুঝতে পারবেন আপনি হরমোনের সমস্যায় ভুগছেন কিনা। চলুন জেনে নেয়া যাক লক্ষণগুলো-

চুল পাতলা হয়ে যাওয়া
অল্প চুল তো সবারই ঝরে। কিন্তু যদি প্রতিদিন চুল ঝরতে থাকে এবং তার ফলে আপনার কপাল চওড়া এবং বড় হতে থাকে, তাহলে বুঝতে হবে যে হরমোনের ভারসাম্য ঠিক নেই। অতিরিক্ত চুল পড়া কিন্তু রোগ নয়, রোগের উপসর্গ মাত্র। তাই আর যাতে বেশি ক্ষতি না হয়, সেজন্য সবার আগে ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ নিন। রাসায়নিক দেওয়া বা প্রসেসড ফুড এড়িয়ে চলুন। প্লাস্টিকের পাত্রে খাওয়া, বা তাতে গরম খাবার রেখে খাওয়া কিংবা খাবার গরম করায় রাশ টানুন।

উৎকণ্ঠা
আপনার শরীরের হরমোনগুলোর মধ্যে ব্যালান্সঠিক নেই, বোঝার আরও একটা উপায় হল, যদি আপনি সব সময়েই একটা উৎকণ্ঠার মধ্যে থাকেন। অনেক চেষ্টা করেও এই এংজাইটিরকোনো সঠিক কারণ আপনি খুঁজে পাচ্ছেন না। আপনার যদি অতিরিক্ত এংজাইটি হয় এবং আপনার মনে হয় যে আপনার অবসাদ আসছে, তাহলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

হরমোনের অসুখ বাধানোর কারণগুলির অন্যতম মানসিক অশান্তি। সমীক্ষায় প্রকাশ, যে কোনও মারণ অসুখকে হঠাৎ ছ’গুণ বাড়িয়ে দেওয়ার সামর্থ্য রাখে স্ট্রেস। কিন্তু একুশ শতকে স্ট্রেস থাকবেই। সুস্থতার জন্য নিজেকেই শুধরে নিতে হবে। মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা বাড়ান। মানসিক বিশ্রামের অবকাশ খুঁজে নিন।

একনে
অনেক সময় স্কিনের কিছু ছোটোখাটো সমস্যা দেখা যায় নানা কারণে যেরকম কোনো নির্দিষ্ট খাবার বা কিছু থেকে এলার্জি, ধুলো কিংবা দূষণ থেকে স্কিনের সমস্যা হয়। কিন্তু এই সমস্যা যদি মাঝে মাঝেই হয় এবং জেদি দাগ-ছোপ ছেড়ে যায় আপনার ত্বকে তাহলে বুঝতে হবে যে আপনার শরীরে হরমোনের ব্যালান্স ঠিক নেই। হরমোনের সমস্যা দেখা দিলেই আগে ওজন কমান, ডায়েটে সংযম রাখুন। দিনের মধ্যে অন্তত আধা ঘণ্টা জোরে হাঁটুন। সময় না পেলে কিছুক্ষণ স্কিপিং করুন। যখনই পারবেন একটু হেঁটে নিন। হরমোন নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে কোমর টানটান রাখুন।

আরও পড়ুন


স্বাভাবিক মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত কারাভোগ করতে হবে

২২ দিন পর আবার ট্রেন চলাচল শুরু

নৌপথে যাত্রী ও যানবাহনের প্রচণ্ড চাপ


 

চোখের নিচে কালি পড়া
চোখের নিচে কালি পড়লে সাধারণত তার জন্য স্ট্রেস, ঘুমের অভাব, অতিরিক্ত পরিশ্রম কিংবা লিভারের সমস্যাকে আমরা দায়ী করে থাকি। কিন্তু আপনি কি জানেন যে টেস্টস্টেরন এবং প্রটেস্টস্টেরন এর ভারসাম্য ঠিক না থাকলে তখন ডার্ক সার্কেল দেখা যায় এবং ইনসোমনিয়ার মতো সমস্যা দেখা যায়। নিয়মিত হরমোনের রিস্ক ফ্যাক্টরগুলি চেকআপ করান। অর্থাৎ রক্তকণা ও চিনির পরিমাণ, রক্তচাপ, জরায়ু প্রাচীর স্বাভাবিক আছে কি না, খোঁজ রাখুন।

ব্রেস্টে পরিবর্তন
হরমোনের ব্যালান্স বিগড়েছে এটা বোঝার আরো একটি শারীরিক লক্ষণ হলো আপনার ব্রেস্টে কিছু কিছু পরিবর্তন দেখা যায়; যেমন ব্রেস্টে মাঝে মাঝে ব্যাথা অনুভব করা কিংবা ব্রেস্ট নিচের দিকে নেমে আসা কিংবা লাম্প অনুভব করা- যে কোনোটাই কিন্তু হরমোনাল ইম্ব্যালান্সের ফলে কোনো রোগের উপসর্গ হিসেবে দেখা দিতে পারে। তলপেটে আলতো অথচ একনাগাড়ে ব্যথা, মাথা ধরা, মুড অফ বা হঠাৎ রেগে যাওয়া— এমন সব উপসর্গকে অবহেলা করবেন না, চিকিৎসককে জানান।

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

এই সপ্তাহেই আসছে অক্সফোর্ডের আরও ১৩ লাখ টিকা

অনলাইন ডেস্ক

এই সপ্তাহেই আসছে অক্সফোর্ডের আরও ১৩ লাখ টিকা

আগামী শনিবার (৩১ জুলাই) ও বুধবার (৪ আগস্ট) দেশে অক্সফোর্ডের আরও ১৩ লাখ ডোজ করোনা টিকা আসছে। শুক্রবার (৩০ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদফতরের সূত্রে এই তথ্য জানা যায়।

স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, কোভ্যাক্স কর্মসূচির আওতায় জাপান থেকে অক্সফোর্ডের ১৩ লাখ ডোজ কোভিশিল্ড টিকা বাংলাদেশে আসবে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের টিকা ডেপ্লয়মেন্ট কমিটির সদস্য সচিব ডা. শামসুল হক এ বিষয়ে বলেন, জাপান থেকে কোভ্যাক্সের কর্মসূচির আওতায় এ ১৩ লাখ টিকা দেশে আসবে দু’টি চালানে। প্রথম চালান শনিবার ও দ্বিতীয় চালান বুধবার দেশে পৌঁছাবে।

আরও পড়ুন:

তৃতীয় দিনে তুরস্কের দাবানল, আগুনে পুড়ে চার জনের মৃত্যু

সবচেয়ে দীর্ঘ সুড়ঙ্গ পথ উন্মোচন করল ইরান

পর্যটকদের জন্য খুলছে সৌদির দরজা

বাংলাদেশসহ চার দেশে দুবাইগামী ফ্লাইট বন্ধ ৭ আগস্ট পর্যন্ত


উল্লেখ্য, অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার কোভিশিল্ড টিকার প্রথম ডোজ নিয়ে দ্বিতীয় ডোজের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রায় ১৪ লাখেরও বেশি মানুষ। নতুন এ ১৩ লাখ টিকা পেলে প্রথম ডোজ নেওয়া ব্যক্তিদের অপেক্ষা দ্রুতই শেষ হবে বলে আশা করছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

news24bd.tv/ নকিব

পরবর্তী খবর

আতঙ্ক ছড়াচ্ছে নতুন ভেরিয়্যান্ট লামডা

অনলাইন ডেস্ক

আতঙ্ক ছড়াচ্ছে নতুন ভেরিয়্যান্ট লামডা

বৈশ্বিক মহামারী করোনার ডেল্টা, ডেল্টা প্লাসের পর এবার আতঙ্ক ছড়াচ্ছে নতুন ভেরিয়্যান্ট 'লামডা'। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই করোনা'র এই ধরণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। ইতিমধ্যে ২৯টি দেশে 'লামডা' সংস্করণে আক্রান্ত রোগী মিলেছে বলে দাবি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

লাতিন অ্যামেরিকায় প্রথম সন্ধান পাওয়া এই নতুন সংস্করণ উত্তর আমেরিকায়ও ছড়িয়ে পড়েছে।

জানা গেছে, ২০২০ সালে পেরুতে প্রথম 'লামডা' ভেরিয়্যান্ট পাওয়া যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই প্রজাতিকে 'ভ্যারিয়েন্ট অফ ইন্টারেস্ট' নাম দিয়েছে। এরই মধ্যে যুক্তরাজ্যে ছয় জন লামডা ভ্যারিয়েন্ট করোনা রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। চিলিতে গত দু' মাসে আক্রান্তদের মধ্যে ৩২ শতাংশের শরীরে লামডা'র ভ্যারিয়েন্ট উপসর্গ লক্ষ করা গেছে। আর্জেন্টিনা এবং ইকুয়েডরেও দেখা গেছে এই নয়া ভ্যারিয়েন্ট। এরপর দক্ষিণ আমেরিকায় পাওয়া গেছে। সেখান থেকে মোট ২৯টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে এই লামডা।

আরও পড়ুনঃ


দ. কোরিয়ার কোন গালিও দেয়া চলবে না উত্তর কোরিয়ায়

তালেবানের হাত থেকে ২৪ জেলা পুনরুদ্ধারের দাবি

কাছাকাছি আসা ঠেকাতে টোকিও অলিম্পিকে বিশেষ ব্যবস্থা


 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের চেয়েও আরও ভয়াবহ হবে এই ভ্যারিয়েন্ট। কারো শরীরে এই ভ্যারিয়েন্ট থাকলে তা অন্যদের শরীরে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা বেশি।

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

বর্তমানে দেশে করোনায় মৃত্যুহার ভারতের চেয়ে বেশী

ডা. আরিফ মাহমুদ

বর্তমানে দেশে করোনায় মৃত্যুহার ভারতের চেয়ে বেশী

ডা. আরিফ মাহমুদ

করোনা মহামারীর এক কঠিন সময় পার করছে বাংলাদেশ। কোনোভাবেই কমছে না সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা। গত ২৪ ঘন্টায় করোনায় দুইটা রেকর্ড হয়েছে; মৃত্যু হয়েছে ২৪৭ এবং নতুন সংক্রমণ ১৫,১৯২ (২৬ জুলাই, ২০২১) । এই ধারা মনে হচ্ছে কিছুদিন অব্যাহত থাকবে। করোনার এই উচ্চগতির কারন দুই লকডাউনের মাঝখানের সময়টার (৯ দিন) শিথিলতা। এই সময় নিম্নলিখিত অনিয়মগুলি পরিলক্ষিত হয়ঃ
 
• লকডাউন সঠিকভাবে না মানা
• কোরবানির ঈদের সময় ব্যাপক বিচরণ, স্বাস্থ্যবিধি না মানা
• গ্রামে/ দেশের বাড়িতে যাতায়াত এবং শহরে আসা যাওয়া
• মাস্ক না পরা ও অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি না মানা
বাংলাদেশে বর্তমানে করোনায় মৃত্যুহার ভারতের চেয়ে বেশী। দক্ষিন- পূর্ব এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয়। 
এই অবস্থা হতে উত্তরণের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সরকারের অন্যান্য বিভাগ একযোগে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এই সব উদ্যোগের কারনে আমরা করোনার প্রথম ও দ্বিতীয় ঢেঊ ভালোভাবে মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছি। সংক্রমণের এই ঊর্ধ্বগতি কমানোর জন্য বর্তমানে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ সমূহঃ 
 
•দেশব্যাপী লকডাউন
•সরকারি হাসপাতালগুলোতে করোনা বেড বৃদ্ধি (১২০০ বেড)
•বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বেড বৃদ্ধি (২০০০ বেড)
•দেশব্যাপী ফিল্ড হাসপাতাল স্থাপন
•টিকার মজুদ নিশ্চিত করা
 
এখন পর্যন্ত একুশ কোটি টিকার নিশ্চয়তা পাওয়া গেছে। পর্যায়ক্রমে টীকাগুলো দেশে আসছে এবং আসবে। টিকাদান কর্মসূচী ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা পর্যন্ত ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে টিকার জন্য বয়সসীমা ১৮ বছর পর্যন্ত নামিয়ে আনার কাজ চলছে। আগামী ৭ই আগস্ট থেকে প্রতিদিন সাড়ে ৮ লাখ, প্রতি সপ্তাহে ৭ লাখ ও প্রতিমাসে ১ কোটি টীকা প্রদান করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ১ কোটি ১৮ লাখ ৬৬ হাজার ৩৩৮ জন টীকা নিয়েছেন। তারমধ্যে ১ম ডোজ নিয়েছেন ৭৫ লাখ ৬০ হাজার ৩৭২ জন এবং ২য় ডোজ নিয়েছেন ৪৩ লাখ ৫ হাজার ৯৬৫ জন।
 
এইসব পদক্ষেপের সুফল পেতে হলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। আমরা যদি সচেতন না হই; তাহলে অচিরেই আমাদের দেশের অবস্থা পার্শ্ববর্তী দেশ সমূহের মতো হতে পারে। 

আরও পড়ুনঃ


দ. কোরিয়ার কোন গালিও দেয়া চলবে না উত্তর কোরিয়ায়

তালেবানের হাত থেকে ২৪ জেলা পুনরুদ্ধারের দাবি

কাছাকাছি আসা ঠেকাতে টোকিও অলিম্পিকে বিশেষ ব্যবস্থা


 

এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য, জনগণের করনীয় হচ্ছে নিম্নলিখিত বিষয়গুলির উপর জোর দেওয়া ও মেনে চলাঃ

•লকডাউন মেনে চলা
•ঘরে অবস্থান করা
•মাস্ক পরিধান করা
•শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা 
•হাত ধোঁয়া
•নাম নিবন্ধন করে টীকা গ্রহন করা।
আমরা আশাবাদী যদি সবাই একসাথে নিয়ম মেনে উপরের কাজগুলি করতে পারি; তাহলে অবশ্যই অচিরেই করোনা মহামারীর বিরুদ্ধে জয়লাভ করতে পারবো।
 
ডা. আরিফ মাহমুদ। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং ডেপুটি ডিরেক্টর মেডিক্যাল সার্ভিসেস, এভারকেয়ার হসপিটাল ঢাকা।
 
সূত্রঃ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর,বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা,জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়,জন হপকিন্স ইউনিভার্সিটি 
news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

অ্যালার্জির কারণ ও চিকিৎসা

অনলাইন ডেস্ক

অ্যালার্জির কারণ ও চিকিৎসা

যাদের অ্যালার্জি আছে, তাদের খুব সাবধানে থাকতে হয়। সামান্য এদিক–সেদিক হলেই শুরু হয়ে যায় চুলকানি, চোখ লাল, ত্বকে লালচে দানা ওঠা ইত্যাদি। অ্যালার্জি আছে এমন অনেকেরই ঘর ঝাড়ামোছা করলেই ত্বকে চুলকানি শুরু হয়ে যায়। আবার কারও কারও ধুলাবালির সংস্পর্শে এলেই ঘুমের সমস্যা দেখা দেয়। কোনো কোনো ওষুধের অ্যালার্জিতে তো জীবন সংশয়ও দেখা দিতে পারে। অ্যালার্জি বাংলাদেশের লাখো মানুষের কাছে এক অসহনীয় ব্যাধি।

অ্যালার্জি
আমাদের শরীর সবসময়ই ক্ষতিকর বস্তুকে (পরজীবী, ছত্রাক, ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়া) প্রতিরোধের মাধ্যমে রোগ-প্রতিরোধের চেষ্টা করে। এ প্রচেষ্টাকে রোগ-প্রতিরোধ প্রক্রিয়া বা ইমিউন বলে। কখনও কখনও আমাদের শরীর সাধারণত ক্ষতিকর নয় এমন অনেক ধরনের বস্তুকেও ক্ষতিকর ভেবে প্রতিরোধের চেষ্টা করে। সাধারণত ক্ষতিকর নয়, এমন সব বস্তুর প্রতি শরীরের এ অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়াকে অ্যালার্জি বলা হয়। অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী বহিরাগত বস্তুগুলোকে অ্যালার্জি উৎপাদক বা অ্যালার্জেন বলা হয়। অ্যালার্জিজনিত সর্দি বা অ্যালার্জিক রাইনাইটিস। এর উপসর্গ হচ্ছে অনবরত হাঁচি, নাক চুলকানো, নাক দিয়ে পানি পড়া বা নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া। কারও কারও চোখ দিয়েও পানি পড়ে এবং চোখ লাল হয়ে যায়।

অ্যালার্জিক রাইনাইটিস দুই ধরনের
সিজনাল অ্যালার্জিক রাইনাইটিস : বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে অ্যালার্জিক রাইনাইটিস হলে একে সিজনাল অ্যালার্জিক রাইনাইটিস বলা হয়।
পেরিনিয়াল অ্যালার্জিক রাইনাইটিস : সারা বছর ধরে অ্যালার্জিক রাইনাইটিস হলে একে পেরিনিয়াল অ্যালার্জিক রাইনাইটিস বলা হয়।

লক্ষণ ও উপসর্গ
সিজনাল অ্যালার্জিক রাইনাইটিস
ঘন ঘন হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়া
নাসারন্ধ্র বন্ধ হয়ে যাওয়া
চোখ দিয়ে পানি পড়া

পেরিনিয়াল অ্যালার্জিক রাইনাইটিস
পেরিনিয়াল অ্যালার্জিক রাইনাইটিসের উপসর্গগুলো সিজনাল অ্যালার্জিক রাইনাইটিসের উপসর্গগুলোর চেয়ে তীব্রতা কম হয় এবং স্থায়িত্বকাল বেশি হয়।

আর্টিকেরিয়া
আর্টিকেরিয়ার ফলে ত্বকে লালচে ফোলা ফোলা হয় এবং ভীষণ চুলকায়। ত্বকের গভীর স্তরে হলে মুখ, হাত-পা ফুলে যেতে পারে। আর্টিকেরিয়ার ফলে সৃষ্টি ফোলা অংশগুলো মাত্র কয়েক ঘণ্টা স্থায়ী থাকে; কিন্তু কখনও কখনও বারবার হয়। যেকোনো বয়সে আর্টিকেরিয়া হতে পারে। তবে স্বল্পস্থায়ী আর্টিকেরিয়া বাচ্চাদের মধ্যে এবং দীর্ঘস্থায়ী আর্টিকেরিয়া বড়দের মধ্যে দেখা যায়।

সংস্পর্শজনিত অ্যালার্জিক ত্বক প্রদাহ
চামড়ার কোথাও কোথাও শুকনো, খসখসে, ছোট ছোট দানার মতো উঠা। বহিস্থ উপাদান বা অ্যালার্জেনের সংস্পর্শে ত্বকে প্রদাহ বলে তাকে অ্যালার্জিক কনট্রাক্ট ডারমাইটিস বলা হয়।

লক্ষণ ও উপসর্গ
ত্বকে ছোট ছোট ফোসকা পড়ে ফোসকাগুলো ভেঙে যায়।
চুয়ে চুয়ে পানি পড়ে ত্বকের বহিরাবরণ উঠে যায়।
ত্বক লালচে হয় এবং চুলকায়; চামড়া ফেটে আঁশটে হয়

অ্যালার্জিক কনজাংটাইভাইটিস
চোখ চুলকানো ও চোখ লাল হয়ে যায়।

পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াজনিত অ্যালার্জি

এটি খুবই মারাত্মক। অ্যালার্জেন শরীরের সংস্পর্শে আসার সঙ্গে সঙ্গে এটি শুরু হয়ে যেতে পারে। নিচে উল্লিখিত উপসর্গগুলো হতে পারে।

চামড়া লাল হয়ে ফুলে উঠে ও চুলকায়।
শ্বাসকষ্ট, নিঃশ্বাসের সঙ্গে বাঁশির মতো আওয়াজ হয়।
মূর্ছা যেতে পারে।
রক্তচাপ কমে গিয়ে রোগী শকে চলে যেতে পারে।

প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা
রক্ত পরীক্ষা : বিশেষত রক্তে ইয়োসিনোফিলের মাত্রা বেশি আছে কি না তা দেখা।
সিরাম আইজিইর মাত্রা : সাধারণ অ্যালার্জি রোগীদের ক্ষেত্রে আইজিইর মাত্রা বেশি থাকে।
স্কিন প্রিক টেস্ট : এ পরীক্ষায় রোগীর চামড়ার ওপর বিভিন্ন অ্যালার্জেন দিয়ে পরীক্ষা করা হয় এবং এ পরীক্ষাতে কোন কোন জিনিসে রোগীর অ্যালার্জি আছে তা ধরা পড়ে।
প্যাঁচ টেস্ট : এ পরীক্ষা রোগীর ত্বকের ওপর করা হয়।

বুকের এক্স-রে : হাঁপানি রোগের ক্ষেত্রে চিকিৎসা শুরু করার আগে অবশ্যই বুকের এক্স-রে করে নেওয়া দরকার; যে অন্য কোনো কারণে শ্বাসকষ্ট হচ্ছে কি না।

স্পাইরোমেট্রি বা ফুসফুসের ক্ষমতা দেখা : এ পরীক্ষা করে রোগীর ফুসফুসের অবস্থা সম্পর্কে সঠিক ধারণা করা যায়।

সমন্বিতভাবে অ্যালার্জির চিকিৎসা হলো
অ্যালার্জেন পরিহার : যখন অ্যালার্জির সুনির্দিষ্ট কারণ খুঁজে পাওয়া যায়, তখন তা পরিহার করে চললেই সহজ উপায় অ্যালার্জি নিয়ন্ত্রণ করা যায়।


কিশোরকে ধর্ষণ করে অন্তঃসত্ত্বা তরুণী!

দেশে আত্মহত্যা বেড়েছে ৪০ শতাংশ

মৃত্যু যন্ত্রণা থেকে বাঁচার দোয়া


 

ওষুধ প্রয়োগ : অ্যালার্জিভেদে ওষুধ প্রয়োগ করে অ্যালার্জির উপশম অনেকটাই পাওয়া যায়।

অ্যালার্জি ভ্যাকসিন বা ইমুনোথেরাপি : অ্যালার্জি দ্রব্যাদি এড়িয়ে চলা ও ওষুধের পাশাপাশি ভ্যাকসিনও অ্যালার্জিজনিত রোগীদের সুস্থ থাকার অন্যতম চিকিৎসা পদ্ধতি। এ পদ্ধতি ব্যবহারে কর্টিকোস্টেরয়েডের বহুল পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থেকে রেহাই পাওয়া যায়। বিশ্বের অধিকাংশ দেশে, বিশেষ করে উন্নত দেশগুলোয় এ পদ্ধতিতে চিকিৎসা দেওয়া হয়ে থাকে। বর্তমানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও এ ভ্যাকসিন পদ্ধতির চিকিৎসাকে অ্যালার্জিজনিত রোগের অন্যতম চিকিৎসা বলে অবহিত করেন। এটাই অ্যালার্জিক রোগীদের দীর্ঘমেয়াদি সুস্থ থাকার একমাত্র চিকিৎসা পদ্ধতি।

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

প্রথমবারের মতো চট্টগ্রামে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস রোগী শনাক্ত

অনলাইন ডেস্ক

প্রথমবারের মতো চট্টগ্রামে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস রোগী শনাক্ত

বন্দর নগরী চট্টগ্রামে প্রথমবারের মতো ‘ব্ল্যাক ফাঙ্গাস’ বা মিউকরমাইকোসিস (কালো ছত্রাক) আক্রান্ত এক নারী শনাক্ত হয়েছেন।

বুধবার (২৮ জুলাই) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল এস এম হুমায়ুন কবির বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। 

আরও পড়ুনঃ


দ. কোরিয়ার কোন গালিও দেয়া চলবে না উত্তর কোরিয়ায়

তালেবানের হাত থেকে ২৪ জেলা পুনরুদ্ধারের দাবি

কাছাকাছি আসা ঠেকাতে টোকিও অলিম্পিকে বিশেষ ব্যবস্থা


 

তিনি বলেন, ৫০ বছর বেশি বয়সের এ রোগী চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পরে  আজকেই আমরা নিশ্চিত হই তিনি ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত। 

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর