সোনালী আঁশে স্বপ্ন দেখছেন নাটোরের পাট চাষিরা

নাটোর প্রতিনিধি

সোনালী আঁশে স্বপ্ন দেখছেন নাটোরের পাট চাষিরা

এক সময় পাটকে সোনালি আঁশ বলা হতো। কিন্তু এ সোনালি আঁশ কৃষকের গলার ফাস ’ হয়ে দাঁড়িয়েছিল, তখন অনেক কৃষকই পাট চাষ বন্ধ করে দিয়েছিলেন। গত কয়েক বছর ধরে পাটের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় কৃষকরা পাট চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন।

তবে আবারও পাটের সুদিন ফিরে আসছে। পলিথিনের ব্যবহার কমিয়ে পাট ও পাটজাত দ্রব্যে ব্যবহার বাড়াতে ভোক্তাদের আগ্রহী করা হচ্ছে। অপরদিকে পাট চাষে আগ্রহী করতে চাষিদেরকে সরকার থেকে প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে।

গত বছর থেকে আবারও পাটের ন্যায্য দাম পাচ্ছেন চাষিরা। মাঝখানে পাটের আবাদ কমলেও আবারও পাট চাষে আগ্রহ বেড়েছে চাষিদের। পাটজাত দ্রব্যের ব্যবহার বাড়ানো সম্ভব হলে পাটের আবাদ আরো বৃদ্ধি পাবে। সোনালী আঁশে স্বপ্ন পূরণের আশা দেখছেন নাটোরের কৃষকরা। 

নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন সড়কে চলাচলের সময় চোখে পড়ছে,পাটচাষী ও শ্রমিকরা ব্যস্ত সময় পার করছে,পাটের আঁশ ছাড়ানোর কাজে। আর এই সোনালী আঁশ কৃষককে দিচ্ছে, সোনালী স্বপ্ন পূরণের বার্তা।
 
ইতিমধ্যে হাট-বাজারে উঠতে শুরু করেছে পাট। কৃষকেরাও পাচ্ছে ভালো দাম। উপজেলার পশ্চিম মাধনগরের বাসিন্দা আব্দুল আজিজ জানান, এবার তিনি ৫ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। প্রতি বিঘা জমিতে সব মিলিয়ে প্রায় ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তবে পাটের ফলনও ভালো হয়েছে এবং প্রাথমিক অবস্থায় বাজারে পাটের দামও ভালো পাচ্ছেন। মন প্রতি ৩২শ থেকে ৩৫শ টাকা পর্যন্ত দাম পেয়েছেন তিনি।

একই কথা জানালেন উপজেলার ব্রহ্মপুর ইউনিয়নের সরকারপাড়া গ্রামের কৃষক উজ্জ্বল হোসেন। তিনি বলেন, ৪ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। পোকামাকড় বা প্রাকৃতিক কোন দুর্যোগে হ্মতিও হয়নি, যার কারণে ফলনও ভালো হয়েছে। তবে গতবার বন্যার কারণে বেশ হ্মতি হয়েছিল বলে জনান তিনি।

স্থানীয় আড়ৎদার মেসার্স হাবিবা ট্রেডার্সের মালিক মো.মোস্তাফিজুর রহমান জানান, বাজারে পাট উঠতে শুরু হয়েছে, তিনি মন প্রতি ৩২শ-৩৫শ টাকা দরে প্রায় ১০০মন পাট ক্রয় করেছেন এবং এগুলো মন প্রতি ৩৭শ-৩৮শ টাকা দরে খুলনা, যশোর, মাদারীপুর, ফরিদপুরসহ বিভিন্ন জেলার জুট মিলে পাঠান তিনি।

আরেক আড়ৎদার মেসার্স সুমন বাণিজ্যলয়ের মালিক মো. কাজী সুমন জানান, বর্তমান বাজারে তিনি মন প্রতি ৩২শ-৩৫শ দরে পাট কিনছেন। তবে তিনি মন প্রতি ২০-৫০ টাকা কমিশন বিভিন্ন পাট মিলে এসব পাট সরবরাহ করে থাকেন।

এ বিষয়ে নলডাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকতা ফৌজিয়া ফেরদৌস বলেন,পাটের সেই সোনালী দিন ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি এবং কৃষকেরাও উৎসাহিত হচ্ছে। যার কারণে ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে উপজেলায় যেখানে ১৫৬৫ হেক্টর জমিতে উৎপাদন হয়েছিল। সেখানে ২০২০-২০২১ অর্থবছরে ১৮১০ হেক্টর জমিতে পাট উৎপাদন হয়েছে।

এ বিষয়ে নাটোর পাট অধিদপ্তরের পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন জুয়েল জানান, পাটের সুদিন ফিরিয়ে আনতে আমরা বদ্ধ পরিকর। তিনি জানান, আধুনিক ও উন্নত প্রযুক্তিতে পাট ও পাট বীজ উৎপাদন ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে নাটোর সদর এবং নলডাঙ্গা উপজেলায় ১২০০ কৃষকের প্রত্যককে ১২ কেজি করে সার ও ১ কেজি করে উন্নত পাটের বীজ প্রদান করা হয়েছে।

আরও পড়ুন


রাজধানীতে ট্রাকচাপায় দুই হোটেল কর্মচারী নিহত

নোয়াখালীতে মাটি চাপায় শিশু নিহত, আহত ৫

গণসংগীত শিল্পী ফকির আলমগীর আইসিইউতে

হাতিয়ায় ৩ কোটি ২০ লক্ষ টাকার চিংড়ি পোনা জব্দ


news24bd.tv / কামরুল 

পরবর্তী খবর

বলাকইড় বিলে গোলাপি ও সাদা রঙের হাজারো পদ্ম

মুন্সী মোহাম্মদ হুসাইন

পদ্মকে বলা হয় জলজ ফুলের রানী। গোপালগঞ্জের বলাকইড় বিলে ফুটেছে গোলাপি ও সাদা রঙের হাজারো পদ্ম। এই ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে আসছেন প্রকৃতি প্রেমীরা। নৌকায় ঘুরে বিলের সৌন্দর্য উপভোগ করেন তারা। 

প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বলাকইড় বিলে প্রাকৃতিকভাবে পদ্মফুল জন্মে। এখন এটি পদ্মবিল নামে পরিচিত হয়ে উঠেছে। বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে গোলাপি ও সাদা রঙের পদ্ম দেখলে মন জুড়িয়ে যায়। আর প্রতিদিনই এমন অপরূপ দৃশ্য দেখতে বন্ধু ও পরিবার নিয়ে ভিড় করে দর্শনার্থীরা। 

আরও পড়ুন:


অবশেষে ব্রিটেনের লাল তালিকা থেকে বাদ পড়ছে বাংলাদেশ

বেড়াতে গিয়ে অতিরিক্ত মদ পানে দুই ছাত্রলীগ কর্মীর মৃত্যু

আর কোনো তত্ত্বাবধায়ক সরকার হবে না, জানালেন কৃষিমন্ত্রী

ইভ্যালির সঙ্গে আর সম্পর্ক নেই তাহসানের


তাদের অভিযোগ, ভাঙাচোরা রাস্তার কারণে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। রাস্তা সংস্কার ও পযটন বান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার দাবী দর্শনার্থীদের। 

পযটন বান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক। এ বিল থেকে পদ্মফুল তুলে বাজারে বিক্রির মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করছে স্থানীয় শত শত দরিদ্র পরিবার। 

NEWS24.TV / কামরুল

পরবর্তী খবর

ফুটপাতে দুই টাকার মাল বিক্রি করে যেভাবে লাখপতি রাজু!

অনলাইন ডেস্ক

ফুটপাতে দুই টাকার মাল বিক্রি করে যেভাবে লাখপতি রাজু!

ফুটপাত ও রাস্তার গলিতে দুই টাকার বিভিন্ন প্লাস্টিকপণ্য বিক্রি করে লাখ টাকার মালিক হয়েছেন মোহাম্মদ রাজু (৩৯)। তার বাড়ি গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলার কৈচড়া গ্রামে। তিনি রাজধানী ঢাকার ফুটপাত অলিতে-গলিতে ভ্যানে প্লাস্টিকের সরঞ্জাম বিক্রি করে সংসার চালান।

জানা যায়, ২০১১ সালে মাত্র ৭০০ টাকা পুঁজি নিয়ে দুই টাকার প্লাস্টিকের সরঞ্জাম বিক্রি শুরু করেন তিনি। বর্তমানে ৫০০ টাকার পর্যন্ত মালামাল পাওয়া যাচ্ছে তার ভ্যারাইটিজ আইটেমের ভ্যান গাড়িতে। যেখানে রয়েছে ৮ শতাধিক আইটেমের পণ্য।

রও পড়ুন:


জন্মদিনে সৃজিতের কাছে কী চাইলেন মিথিলা?

বায়ু দূষণের তালিকায় বাংলাদেশ প্রথম, ঢাকা তৃতীয়

৪৫ মিনিট পর হাসপাতালে অলৌকিকভাবে বেঁচে উঠলেন নারী!

গাড়ি সাইড দেয়ায় ব্যবসায়ীকে মারধর করলেন এমপি রিমন!


মো. রাজু জানায়, করোনা প্রাদুর্ভাবের আগে প্রতিদিন তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা বেচাকেনা করতাম। এখন তা ১২শ’ থেকে ১৫শ’ টাকায় নেমে এসেছে। কারণ স্কুল-কলেজ খোলার পর সবারই ছেলে-মেয়েদের জামা-কাপড়, স্কুলের জিনিসপত্র কেনা লাগছে- তাই এসব সাংসারিক ভ্যারাইটিজ মালের চাহিদা একটু কমে গেছে। আশাকরি আস্তে আস্তে সব আবার আগের জায়গায় চলে আসবে ইনশাআল্লাহ।

তিনি আরও জানান, আমার এখানে সুই-সুতা থেকে শুরু করে ৫০০ টাকারও জিনিস পাওয়া যায়। শুধু চাকরির অপেক্ষা না করে কেউ যদি যে কোনো একটা কাজ শুরু করে, তবে একদিন না একদিন নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

মো. রাজু বলেন, ঢাকায় বউ-বাচ্চা নিয়ে থাকি। ছেলে ৭ম শ্রেণিতে পড়ে।   ভ্রাম্যমাণ এই দোকান (ভ্যান গাড়ি) তৈরি করতে এক লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এ ব্যবসা করে গ্রামে জায়গা কিনে একটা টিনের ঘর তৈরি করেছি মায়ের জন্য। প্রতি মাসে বাড়িতে তিন হাজার টাকা পাঠাই মায়ের জন্য। সব মিলিয়ে আল্লাহর রহমতে ভালো আছি।

NEWS24.TV / কামরুল

পরবর্তী খবর

বায়ু দূষণের তালিকায় বাংলাদেশ প্রথম, ঢাকা তৃতীয়

অনলাইন ডেস্ক

বায়ু দূষণের তালিকায় বাংলাদেশ প্রথম, ঢাকা তৃতীয়

প্রতি বছর বায়ুদূষণ বিশ্বজুড়ে মানুষের স্বাস্থ্য উপর ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। প্রতি বছর প্রায় ৭০ লক্ষ মানুষের অকালমৃত্যুর কারণ এই বায়ুদূষণ। ফলে ২০০৫ সালের পর বায়ুদূষণ সংক্রান্ত নীতিমালায় কড়াকড়ি আরোপ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। খবর আল জাজিরার।

বিশ্বে সবচেয়ে দূষিত বাতাসের দেশের মধ্যে প্রথম অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। আর সবচেয়ে দূষিত বাতাসের শহরের তালিকায় রাজধানী ঢাকার অবস্থান তৃতীয়। এই তালিকায় বাংলাদেশের পর রয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার আরও দুটি দেশ ভারত ও পাকিস্তান। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাম্প্রতিক গাইডলাইনের পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রিনপিস এমনটা জানিয়েছে।

দূষিত শহরের তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে থাকা ঢাকায় ২০২০ সালে বাতাসে ভাসমান সূক্ষ্ম কণার (পার্টিকুলেট ম্যাটার বা পিএম২.৫) মাত্রা ডব্লিউএইচও’র নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে প্রায় ১৫ গুণ বেশি ছিল বলে জানিয়েছে আল জাজিরা।

শহরের মধ্যে প্রথম অবস্থানে রয়েছে দিল্লি ও দ্বিতীয়তে রয়েছে লাহোর। শহর দুটিতে ২০২০ সালে বাতাসে পিএম২.৫ এর মাত্রা ডব্লিউএইচও এর মাত্রার চেয়ে যথাক্রমে ১৭ ও ১৬ গুণ বেশি ছিলো।

রও পড়ুন:

লালন শাহ সেতুতে বাসচাপায় শ্রমিকের মৃত্যু

বৃহস্পতিবার ঢাকার যে এলাকায় মার্কেট বন্ধ

মাল্টা চাষে মডেল উজিরপুরের কৃষক শ্যামল, বছরে লাখ টাকা আয়

গাড়ি সাইড দেয়ায় ব্যবসায়ীকে মারধর করলেন এমপি রিমন!


ডব্লিউএইচও প্রণীত নতুন নীতিমালায় বাতাসে ভাসমান কণা পিএম১০ ও পিএম২.৫, ওজোন, নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড, সালফার ডাই-অক্সাইড, কার্বন মনো-অক্সাইড ইত্যাদির বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

news24bd.tv/ নকিব

পরবর্তী খবর

পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর

মো.বুরহান উদ্দিন

পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছৈ সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর-যাদুকাটা-নিলাদ্রী-হাওর বিলাস সহ বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র। ভারতের মেঘালয় পাহাড়ের কুলঘেষা এই জনপদকে যেন নিজ হাতেই নৈসর্গিক অপরূপ সাজে সাজিয়েছে প্রকৃতি।

তবে করোনার সংক্রমণ রোধে পর্যটকদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কথা বলা হলেও তা উপেক্ষা করছেন অনেকেই। অবশ্য জেলা প্রশাসক বলছেন, পর্যটকদের শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

করোনা সংক্রমণের হার নিম্নমুখী হওয়ায় প্রায় ৫ মাস বন্ধ থাকার পর গেল ১৯ আগস্ট থেকে শর্ত সাপেক্ষে সারাদেশে খুলে দেয়া হয় পর্যটন ও বিনোদন কেন্দ্রগুলো। এর পর থেকেই সুনামগঞ্জে টাঙ্গুয়ার হাওর-যাদুকাটা-নিলাদ্রীসহ বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে আসছে পর্যটকরা।

আরও পড়ুন


ছাড়পত্র পেলেন তামিম, খেলতে যাবেন নেপাল

‘শিশুবক্তা’ খ্যাত রফিকুলের হাইকোর্টে জামিন আবেদন

বঙ্গবন্ধুর খুনি রাশেদ চৌধুরীকে ফেরত দেবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

কুয়েত ও সুইডেনের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শেখ হাসিনার বৈঠক


সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর। ভারতের মেঘালয় পাহাড়ের কোলঘেঁষে এই হাওরের অবস্থান।   অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা সত্ত্বেও হাওরের বিস্তীর্ণ স্বচ্ছ নীল জলরাশি আর প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিন অসংখ্য পর্যটক আসেন এই হাওরে। তবে করোনাকালে স্বাস্থ্য বিধি উপেক্ষা করেই চলছেন অনেকে।

স্বর্গীয় সৌন্দর্যে ভরা জায়গাটা কাশ্মীর নয় নীলাদ্রি লেক। এর নামটা যেমন সুন্দর এর রূপটাও তেমনই মোহনীয়। পানির রং এতটা নীল আর প্রকৃতির এক মায়াবি রূপ হয় কী করে। তা চোখে না দেখলে বোঝা যায় না। আর তাইতো প্রকতির এই সৌন্দর্য দেখতে দুর-দুরান্ত থেকে ছুটে আসেন প্রকৃতি প্রেমিরা।

বিশ্বভপুরে ‘পাহাড় বিলাস’ নামে পর্যটনকেন্দ্র থেকে করচার হাওরের পরিবেশ উপভোগ করেন পর্যটকরা। তবে পর্যটকদের শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে নানা উদ্যোগ নেয়ার কথা জানালেন জেলা প্রশাসক।

সড়কপথের উন্নয়নের পাশাপাশি পর্যটকদের জন্য মানসম্মত আবাসিক হোটেল ও স্বাস্থ্যসম্মত রেস্তোরাঁ গড়ে তোলা হলে সুনামগঞ্জ হতে পারে দেশের অন্যতম সেরা পর্যটন ‘হাব’ এমনটা মনে করেন সংশ্লিস্টরা।

NEWS24.TV / কামরুল

পরবর্তী খবর

দেশে মুরগির নতুন জাত 'দেশি ব্রয়লার' উদ্ভাবিত

অনলাইন ডেস্ক

দেশে মুরগির নতুন জাত 'দেশি ব্রয়লার' উদ্ভাবিত

একটি নতুন দেশীয় জাতের মুরগি উদ্ভাবন করেছে বাংলাদেশে প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইন্সটিটিউট। এই মুরগির পালক বহুবর্ণ হবার কারণে এর নাম দেওয়া হয়েছে 'মাল্টি কালার টেবিল চিকেন'। গবেষণাগারে উদ্ভাবিত এই মুরগি এখনপরীক্ষামূলকভাবে বাজারজাত করার কাজ শুরু হয়েছে।

প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইন্সটিটিউটের পোল্ট্রি উৎপাদন বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শাকিলা ফারুক বলেছেন, নতুন এই জাত মূলত মাংসের জাত। এটি দ্রুত পরিপূর্ণ আকার ধারণ করে অর্থাৎ খাওয়ার উপযোগী হয় আট সপ্তাহ মানে ৫৬ দিনে।

মাল্টি কালার টেবিল চিকেনের বৈশিষ্ট্য

প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইন্সটিটিউটের শাকিলা ফারুক বলেছেন, এ মুরগি মূলত দেশে মাংসের চাহিদা পূরণের উদ্দেশ্য নিয়ে উদ্ভাবন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, মাল্টি কালার টেবিল চিকেন খুব দ্রুত বাড়ে। এটি মাংস খাওয়ার জন্য উৎপাদন করা হবে, ডিমের জন্য ব্যবহার করা হবে না। আট সপ্তাহের মধ্যে এর ওজন সাড়ে নয়শ’ গ্রাম থেকে এক কেজির মত ওজন হয়। কিন্তু এর স্বাদ এবং মাংসের গুণাগুণ দেশি মুরগির মতই।

মুরগির শারীরিক গঠন, ঠোট ও ঝুঁটি দেশি মুরগির মত, এর পালকও অনেক রঙ এর হয়। এই মুরগি দেখতে দেশীয় জাতের মুরগির মত। এই মুরগিকে দেশীয় ব্রয়লার বলে থাকেন কেউ কেউ।

প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইন্সটিটিউট ২০১৪ সালে প্রথম নতুন মুরগির এ জাত নিয়ে গবেষণা শুরু করে। ২০১৮ সালে গবেষণাগারে সাফল্যের পর মাঠ পর্যায়ে পরীক্ষামূলকভাবে উৎপাদন শুরু করা হয়।

প্রাথমিক অবস্থায় খুলনা, বরিশাল এবং পাবনায় পরীক্ষামূলকভাবে উৎপাদন ও বাজারজাত করা হয়েছে। এখন খুব অল্প পরিসরে মাল্টি কালার টেবিল চিকেন উৎপাদন করা হচ্ছে।

শাকিলা ফারুক জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে চারটি সরকারি এবং দু’টি বেসরকারি খামারে নতুন জাতের মুরগি উৎপাদন করা হচ্ছে।

এর মধ্যে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করে পরীক্ষামূলকভাবে বাজারজাত করার জন্য আফতাব বহুমুখী ফার্মসের সাথে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইন্সটিটিউট। এই প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইন্সটিটিউট এখনও যৌথ গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে।

নতুন জাত উদ্ভাবনে বিদেশি জাত এবং দেশীয় কয়েক জাতের মুরগির জার্মপ্লাজম মিলিয়ে করা হয়েছে। মাল্টি কালার টেবিল চিকেন বাংলাদেশের আবহাওয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং এ মুরগির মৃত্যু হার অনেক কম।

শাকিলা ফারুক বলেছেন, এখনও পর্যন্ত গবেষণায় দেখা গেছে আট সপ্তাহ বয়স পর্যন্ত মাল্টি কালার টেবিল চিকেনের মৃত্যুহার ২ শতাংশের নিচে।

ব্রয়লার ও অন্যান্য মুরগির সাথে পার্থক্য

বাংলাদেশে গত এক দশকে মুরগির চাহিদা এবং ব্যবহার অনেকগুন বেড়েছে। এর মধ্যে ব্রয়লার মুরগি যেমন রয়েছে, তেমনি দেশি মুরগি, সোনালী মুরগি, যা পাকিস্তানি মুরগি নামেও পরিচিত এগুলো বেশ জনপ্রিয়।

এই মুরগিগুলোর মাঝে বেশ কিছু পার্থক্য রয়েছে।

ব্রয়লার মুরগি ২৮-৩২ দিনে খাওয়ার উপযোগী হয়, অর্থাৎ ওই সময়ের মধ্যে ব্রয়লার মুরগির ওজন এক থেকে দেড় কেজি হয়।

সোনালি মুরগির এক কেজি ওজনে পৌঁছাতে সময় লাগে ৭০-৮০ দিন।

কিন্তু মাল্টি কালার টেবিল চিকেন বাজারজাত করতে অন্তত আট সপ্তাহ সময় প্রয়োজন হবে।

ব্রয়লার মুরগির মাংস ও হাড় নরম হয়, কিন্তু মাল্টি কালার টেবিল চিকেনের মাংস ও হাড় দেশি মুরগির মত শক্ত।

রও পড়ুন:

ইভা রহমান এখন ইভা 'আরমান'

আবারও নাটক শুরু করেছেন জাভেদ ওমর বেলিম

সরলতার সুযোগে রোনালদোর ৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ

রণবীরকে দাম্পত্য বিষয়ক সমস্যার সমাধান দিলেন কারিনা!


ব্রয়লার মুরগি পালনে বড় জায়গা, নিয়ন্ত্রিত তাপমাত্রা এবং আলো-বাতাসের দরকার হয়, কিন্তু এ মুরগি পালনের ক্ষেত্রে দেশি জাতের মুরগির মত খোলা জায়গায় পালন করা যায়।

প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইন্সটিটিউট বলছে, এই মুরগি লালনপালন সহজ, ফলে প্রান্তিক খামারীদের জন্য এটি পালন সহজ হবে এবং ফলে আর্থিকভাবে লাভবান হবার সুযোগ বেশি থাকবে।

প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইন্সটিটিউট বাংলাদেশে মুরগির বেশ কয়েকটি জাত উদ্ভাবন নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। এর মধ্যে ডিম পাড়া দু’টি নতুন জাতের মুরগি---স্বর্ণা এবং শুভ্রা, উদ্ভাবন করেছে প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইন্সটিটিউট।

এই মুহূর্তে কমন দেশি, গলা ছিলা এবং হিলি বা পাহাড়ি জাতের তিনটি মুরগির জাত উন্নয়নের কাজ চলছে।

সূত্র- বিবিসি বাংলা

news24bd.tv/ নকিব

পরবর্তী খবর