বাংলাবাজার-শিমুলিয়ায় পশুবাহী ট্রাকের দীর্ঘ সারি

পারাপারের অপেক্ষায় ৫শতাধিক ট্রাক

বেলাল রিজভী, মাদারীপুর

বাংলাবাজার-শিমুলিয়ায় পশুবাহী ট্রাকের দীর্ঘ সারি

বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌরুটে লঞ্চ ও ফেরি চলাচল শুরু হয়েছে। ঘাটে পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে শত শত কোরবানীর পশুবাহী ট্রাক ও পণ্যবাহী ট্রাক। দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে এসে ঘাটে পারের অপেক্ষায় রয়েছে ট্রাকগুলো।

ফেরিতে কম সংখ্যক পশুবাহী ট্রাক উঠিয়ে বেশির ভাগই ব্যক্তিগত গাড়ি পারাপার হচ্ছে অভিযোগ গরু ব্যবসায়ীদের। ঘণ্টার পর ঘণ্টা তীব্র রোদ ও গরমে গরুগুলো অসুস্থ্য হয়ে পড়ছে।

এদিকে সকাল থেকেই বেড়েছে যাত্রীদের চাপ। বাংলাবাজার ঘাটের স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল থেকে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা পশুবাহী ট্রাক পারাপারের অপেক্ষায় বাংলাবাজার ঘাটে আসে। অগ্রাধিকার থাকলেও কর্তৃপক্ষ পশুবাহী ট্রাকগুলো কম পারাপার করছে।

এদিকে তীব্র রোদ ও গরমে গরুগুলো অসুস্থ্য হয়ে পড়ছে। ট্রাকে তাম্বুরা টাঙ্গিয়ে পাখা দিয়ে বাতাস করে ও পশুর মাথায় পানি ঢেলেও কাজ হচ্ছে না। এছাড়া ফেরি চলাচল শুরু হওয়ায় ঘরমুখো মানুষের ভিড় রয়েছে ঘাটটিতে। ফেরিঘাটে অ্যাম্বুলেন্সসহ ঢাকাগামী ছোট যানবাহনের ভিড় রয়েছে। তবে স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে বরাবরের মতোই উদাসীন ছিলো কুরবানীর গরু ব্যবসায়ী, সাধারণ যাত্রীসহ অনেকেই। বাংলাবাজার ঘাট কর্তৃপক্ষ জানায়, সকাল থেকে ঘাট এলাকায় যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে গণপরিবহন চালু হওয়ায় ভোগান্তি কমেছে আগের থেকে অনেকটাই।

রাজধানী ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে ফিরছেন পরিবারের সবার সঙ্গে কোরবানির ঈদ কাটাতে।

তবে ঘাটে যাত্রীদের পাশাপাশি সকাল থেকে ব্যক্তিগত গাড়ি ও অ্যাম্বুলেন্স ও গরুবাহী ট্রাক পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে পন্যবাহী যানবাহন।

সকাল থেকে লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ায় ফেরিগুলোতে কমেছে যাত্রীর চাপ। তবে লঞ্চগুলোতে নেওয়া হচ্ছে ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী এতে প্রতি মুহূর্তেই উপেক্ষিত হচ্ছে সরকারি বিধিনিষেধ আর স্বাস্থ্যবিধি।

বিআইডব্লিউটিসির বাংলাবাজার ফেরিঘাটের ব্যবস্থাপক মো. সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, সকাল থেকে নৌরুটে চারটি রো রো ফেরিসহ ১২টি ফেরি চলাচল করছে। শিথিলের ঘোষণা আসার পর থেকেই ঘাটে কুরবানীর পশুবাহী ট্রাকের চাপ শুরু হয়। পাশাপাশি কাঁচামাল অন্যান্য পরিবহন ও ব্যক্তিগত গাড়ির চাপও রয়েছে। ঢাকা থেকে দক্ষিণাঞ্চলগামী যাত্রী চাপও রয়েছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ঘাটে পশুবাহী ট্রাক, কাঁচামাল, এম্বুলেন্স ও লাশবাহী এ্যম্বুলেন্স আগে পারাপার করা হচ্ছে। তবে গত কয়েক দিন ধরে নৌরুটের পদ্মা নদীতে স্রোতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় ফেরি চলাচল কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে পদ্মা পার হতে দেড় ঘণ্টা সময় বেশি লাগছে। এতে করে কমেছে ফেরির ট্রিপ।

আরও পড়ুন:


রংপুরে ১৫শ দরিদ্র মানুষ পেল বসুন্ধরার মানবিক সহায়তা

দেশে কাক-কোকিল চেনা বড় দুষ্কর: নানক

হবিগঞ্জে বজ্রপাতে গেল দুই প্রাণ

news24bd.tv / তৌহিদ

পরবর্তী খবর

রাজধানীর যেসব এলাকায় গ্যাস থাকবে না আজ

অনলাইন ডেস্ক

রাজধানীর যেসব এলাকায় গ্যাস থাকবে না আজ

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বেশ কিছু এলাকায় আজ গ্যাস থাকবে না। গ্যাসের পাইপলাইন স্থানান্তরের জন্য আজ রোববার ৮ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মোহাম্মদপুরের আওরঙ্গজেব রোড, শের শাহশুরি রোড, তাজমহল রোডসহ আশপাশের এলাকায় সরবরাহ বন্ধ রাখা হবে। এ সময় আশপাশের এলাকায় গ্যাসের চাপ কম থাকবে।

news24bd.tv / কামরুল 

পরবর্তী খবর

দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে ঢাকামুখি যাত্রীদের চাপ

শফিকুল ইসলাম শামীম, রাজবাড়ী :

দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে ঢাকামুখি যাত্রীদের চাপ

কর্মস্থানে উপস্থিত না থাকলে কর্ম হারাতে হবে। কর্মস্থানে যেতে হলে জীবনের ঝুঁকি নিতে হবে। পরিবার পরিজনকে সুখে রাখতে নিজের জীবন বাজি রেখে কর্মস্থানে যাচ্ছি। কথাগুলো অনেক কষ্ট বুকে নিয়ে বললেন কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী আবুল হোসেন। 

তিনি আরও বলেন, আজ রোববার অফিস। রাত ৯টার সময় দৌলতদিয়া ঘাটে এসেছি। এখন সকাল ৮টা। কখন ঢাকা যাব, কখন অফিস করব। তবুও অনিশ্চয়তার মধ্যে কর্মস্থানে যাওয়া ব্যর্থ চেষ্টা করছি।

চুয়াডাঙ্গা থেকে পরিবার নিয়ে ছোট একটি খোলা ট্রাকে ঢাকা যাচ্ছে খবির আহমেদ। তিনি জানান, কষ্ট কাকে বলে বলে বুঝানো যাবে না। সারারাত দৌলতদিয়া ঘাটে পারের অপেক্ষায়। দফায় দফায় বৃষ্টি সব মিলে এত কষ্ট কখনও করি নাই। তবুও কি করার কর্মস্থানে যেতে তো হবে। 

নুরজাহান নামের এক পোশাক শ্রমিক বলেন, আমাদের গরীব মানুষের সব বিষয়ে সংগ্রাম করে চলতে হয়। ঢাকা যেতেও সংগ্রাম করতে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, যারা রপ্তানিমুখি প্রতিষ্ঠান খোলা রাখলেন, তারা কিন্ত ঘরের বাহির হবে না। আমাদের ঘরে থাকলে চলবে না। তাই বেঁচে থাকার জন্য জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঢাকার পথে। 

এমনি পরিস্থিতে কর্ম বাঁচানোর জন্য, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাজধানী মুখি হচ্ছে হাজার হাজার মানুষ। এতে দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে কর্মমুখি মানুষের স্রোত দেখা যায়। এদিকে ঢাকামুখি অতিরিক্ত চাপ থাকার কারণে রাত থেকে লঞ্চ ও গণপরিবহন দুপুর রোববার ১২টা পর্যন্ত চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্ত এই এত কম সময় হওয়ার কারণে শ্রমিকরা গণপরিবহন ও লঞ্চ চালানোর অনিহা করে। যে কারণে অনুমমি থাকলেও দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে লঞ্চ চলাচল করতে তেমন দেখা যায়নি। মহাসড়কে গনপরিবহনও তেমন দেখা যায়নি। 

দৌলতদিয়া লঞ্চ ঘাটের ম্যানেজার নুরুল আনোয়ার মিলন জানান, বেশির ভাগ লঞ্চের শ্রমিকরা বাড়ি চলে গেছে। তারা আসবে কখন আবার লঞ্চ চালাবে কখন। যে কারণে অনেক শ্রমিক না আসার কারণে অনুমতি থাকার পরও চালানো সম্ভব হয়নি। 

যাত্রীবাহী বাস সোহাগ পরিবহনের দৌলতদিয়া ঘাট সুপারভাইজার সুজন আহমেদ বলেন, খুলনা থেকে ঢাকায় যেতে একটি গাড়ি কমপক্ষে ৮ঘণ্টা সময় লাগে। ঘাটে আসতে যদি ১২টার বেশি লাগে তাহলে ঢাকা যাবে কিভাবে। যে কারণে গণপরিবহন তেমন আসেনি। 

আবুল, খবির ও নুরজাহানের মত হাজার হাজার ঢাকামুখি যাত্রী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কর্মমুখি হচ্ছে। এতে গত দুই দিন যাবৎ দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে ঢাকামুখি মানুষের ঢল দেখা যায়। তবে বেলা বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে ঢাকামুখি যাত্রীদের চাপ কমে আসে। 

দৌলতদিয়া ফেরি ঘাট এলাকায় সরেজমিন এবং ঘাট সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে এমনি চিত্র দেখা ও জানা যায়। 

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট অফিস সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্যক্তিগত যানবাহন প্রাইভেটকার-মাক্রোবাস ও এ্যাম্বুলেন্স ৪ হাজার ৩শত ৭০টি এবং পণ্যবাহী ট্রাক ৮শত ৯৬টি ফেরি পার হয়েছে। তবে যাত্রী পারাপারের সঠিক কোন তথ্য নেই তাদের কাছে। 

বিআইডব্লিউটিএ আরিচা বন্দরের পোর্ট অফিসার মো.মাসুদ পারভেজ জানান, ঢাকামুখি যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপ থাকার কারণে দুপুর ১২টা পর্যন্ত লঞ্চ চলাচল শুরু করা হয়। 

news24bd.tv / কামরুল 

পরবর্তী খবর

শেরপুর থেকে ট্রাকে করে কর্মস্থলে ফেরার হিড়িক, চরম ভোগান্তি

জুবাইদুল ইসলাম, শেরপুর:

শেরপুর থেকে ট্রাকে করে কর্মস্থলে ফেরার হিড়িক, চরম ভোগান্তি

শিল্প-কারখানা খোলার খবরে শেরপুর থেকে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানের কর্মস্থলে ফেরার হিড়িক পড়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে তাদের। 

শনিবার (৩১ জুলাই) সকাল থেকেই মানুষ ভিড় করছে শহরে। লকডাউনের কারণে বাস বন্ধ থাকায় পণ্যবাহী ট্রাক, লেগুনা, প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেল, অটোরিক্সা, ভ্যানগাড়ি- যে যা পাচ্ছেন সেটি করেই ভেঙে ভেঙে ঢাকায় ছুটছেন কর্মজীবী মানুষরা। এদিকে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না মানুষের ঢাকামুখী জোয়ার।

রোববার দুপুরে শহরের নবীনগর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চলমান কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যেই ১ আগস্ট থেকে শিল্প-কারখানা খুলে দেওয়ার ঘোষণায় শেরপুর জেলাসহ পাশ্ববর্তী জামালপুরের বকশীগঞ্জ, কুড়িগ্রামের রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলার হাজার শ্রমিক-কর্মচারীরা ঢাকায় ফিরতে শেরপুর শহরে পৌঁছে ভিড় করছে।

অনেকে বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক রিজার্ভ করে শহরে আসছেন। এরপর ট্রাকে বা অন্য যে পরিবহন পাচ্ছেন সেটি দিয়েই যাচ্ছেন ঢাকায়। যাত্রীদের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধির কোনো বালাই দেখা যায়নি। 

এদিকে ২শ টাকার ভাড়া ৮শ থেকে ১২শ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে যাত্রীদের কাছ থেকে। এ অবস্থায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করছে এসব যাত্রীরা। এদিকে হঠাৎ বৃষ্টিতে যাত্রীদের ভোগান্তি আরও বেড়েছে। খোলা ট্রাকে বৃষ্টিতে ভিজেই ঢাকা যেতে হচ্ছে যাত্রীদের। কিছু কিছু ট্রাকের উপর পলিথিন থাকলেও তা দিয়ে বৃষ্টি থেকে রক্ষা পাওয়া যাচ্ছে না। 

ঢাকামুখী যাত্রী শ্রীবরদী উপজেলার আবু বকর বলেন, ঈদের ছুটিতে বাড়িতে আইছিলাম। হঠাৎ আমার কারখানা খোলা দিছে। এখন যেভাবেই হোক আজই ঢাকায় যাইতে হবে। বাস বন্ধ থাকায় বাধ্য হয়ে ট্রাকে কইরা যাইতেছি। 

এরা ভাড়া বেশি চাইতাছে। কিন্তু কি করার, যাইতেই হইব। পৌরশহরের উত্তর গৌরীপুর মহল্লার বাসিন্দা গার্মেন্টস কর্মী আছমা আক্তার বলেন, কারখানা বন্ধ থাকায় বাপের বাড়িতে ঈদের ছুটিতে আইছিলাম। এখন রোববার থেকে কারখানা খোলা দেয়ার কারণে কষ্ট কইরাই ঢাকা রওনা হইছি। কাইলকা সকালে অফিসে যাবার না পাইলে চাকরি থাকব না। 

কুড়িগ্রামের রৌমারা থেকে আসা যাত্রী আব্দুল মোতালেব জানান, রৌমারী থেকে ভেঙে ভেঙে শেরপুর আসতেই সাড়ে ৪শ টাকা খরচ হয়ে গেছে। এখন ঢাকার ভাড়া চাইতেছে কেবিনে ১২শ আর পেছনে খোলা বডিতে ৮শ টাকা। এত টাকা দিয়া কেমনে যামু বুঝতাছি না। 

এ ব্যাপারে ট্রাকের ভাড়ার টিকেট কাটার সময় শেরপুর জেলা ট্রাক চালক-শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সাধারণ সম্পাদক পরিচয় দেওয়া আবুল হাশেম বলেন, আমরা বেশি ভাড়া নিতেছি না। ৩শ/৪শ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। যাত্রী নিয়ে গেলে রাস্তায় পুলিশে ঝামেলা করে, অনেক সমস্যা। তারপরও যাত্রীর চাপ থাকায় আর বাস না চলার কারণে ট্রাক যাচ্ছে।

আরও পড়ুন:


দেশে একদিনে করোনায় মৃত্যু বাড়ল

দক্ষিণের পথে পথে ঢাকামুখি মানুষের স্রোত

বগুড়ায় করোনা ও উপসর্গে ৯ জনের মৃত্যু

বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর ১২ দিন পর চালু


news24bd.tv / কামরুল 

পরবর্তী খবর

দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে জনস্রোত

শফিকুল ইসলাম শামীম, রাজবাড়ী প্রতিনিধি:

দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে জনস্রোত

গণপরিবহন বন্ধ। রোববার থেকে খোলা থাকবে রপ্তানিমুখি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠান মালিকদের কঠোর নির্দেশ। রোববার কাজে যোগ দিতে হবে। সুতরাং কাজ রক্ষাতে, কাজে যোগ দেওয়ার জন্য ছুঁটছে কর্মমুখি মানুষ। 

মহাসড়কে গণপরিবহন না থাকায় পায়ে হেঁটে, ট্রাক, অটোটেম্পু সহ ইঞ্জিন চালিত যানবাহনে ওপর নির্ভর করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কর্মমুখি হচ্ছে দক্ষিণ পশ্চিঞ্চলের ২১ জেলার সাধারণ মানুষ। গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা।

আজ শনিবার সকালে দৌলতদিয়া ফেরি ঘাট এলাকায় গিয়ে ঘাট সংশ্লিষ্ট এবং এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া হয়।  

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট অফিস সূত্রে জানা যায়, লকডাউন চলমান সময় পণ্যবাহী ট্রাক ও জরুরি যানবাহন নদী পারাপার করার জন্য ৩টি ছোট ও ৩টি বড় ফেরি পালাক্রমে চলাচল করছে। কিন্ত ঢাকামুখি যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপ থাকার কারণে শনিবার সকাল থেকে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ১৪টি ছোট বড় ফেরি চলাচল করছে। তবে এই নৌরুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে।
  
এ সময় পাংশা থেকে ঢাকাগামী এক নারী বলেন, হঠাৎ অফিসের ফোন। মোবাইল ধরতে উপর পাশ থেকে বলা হলো রোববার অফিস। যেভাবে পারো ঢাকা চলে আসো। কিন্ত রাস্তায় তো গাড়ি নেই। তাহলে আমরা কিভাবে ঢাকায় যাব। বাধ্য হয়ে ভ্যানে পাংশা থেকে দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটের উদ্দ্যোশে এসেছি। ভ্যান চালক পুলিশের ভয়ে ফেরি ঘাটের ৩কিলোমিটার দূরে নামিয়ে দেওয়ার কারণে পায়ে হেঁটে আসতো হলো। 

তিনি আরও বলেন, দুর্ভোগের কথা কিভাবে বুঝাব। কোলের শিশু বাচ্চা নিয়ে অনিশ্চয়তার পথে। কখন, কিভাবে যাব এর নিশ্চয়তা নেই। এর চেয়ে দুর্ভোগ আর কি?

কামারখালী থেকে ঢাকাগামী এক পোশাক শ্রমিক বলেন, কর্ম বাঁচাতে ঢাকামুখি। ঘরে বসে থাকলে কি আর কর্ম থাকবে। সুতরাং জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঢাকার পথে। সকাল ৭টার সময় বাড়ি থেকে বের হয়েছি। এখন ১২টা, তবুও ফেরি পার হতে পারি নাই। 

তিনি আরও বলেন, সহজে ফেরি পার হতে পারলেও পাটুরিয়া ঘাট থেকে কিভাবে যাব এই চিন্তা করছি।  

কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী এক নারী বলেন, সরকারের এমন সিদ্ধান্ত সাধারণ ঢাকামুখি মনুষের দুর্ভোগ ছাড়া কিছু নয়। তিনি বলেন, ইচ্ছা করলে তো ঢাকায় চলে যাওয়া যায় না। রপ্তানীমুখি প্রতিষ্ঠান গুলো খুলে দেওয়া হলো এর সাথে গণপরিবহন খুলে দিলে ঢাকা মুখি মানুষের কষ্ট কিছুটা কমে আসতো। 

নাসিফ নামের এক যাত্রী বলেন, সবকিছু স্বাভাবিক রয়েছে। শুধু গণপরিবহন ছাড়া। সব কিছু যেহেতু খুলে দিলেন সেই সাথে গণপরিবহন খুলে দেওয়া প্রয়োজন ছিল। গণপরিবহন খুলে না দেওয়া ঢাকামুখি যাত্রীদের দুর্ভোগ ২/৩ গুন বৃদ্ধি পেয়েছে। সাথে অতিরিক্ত টাকাও ব্যয় হচ্ছে। 

বাংলাদেশ অভ্যান্তরীন নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া ঘাট শাখার ব্যবস্থাপক মো. শিহাব উদ্দিন জানান, রপ্তানিমুখি প্রতিষ্ঠান গুলো খুলে দেওয়ার কারণে দৌলতদিয়া ঘাটে ঢাকা মুখি যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপ রয়েছে। তবে ফেরি পারের অপেক্ষায় কোন প্রকার যানবাহন নেই। 

আরও পড়ুন:


জলাবদ্ধতার সাথে মশা, ব্যাঙ বিষাক্ত প্রাণীর সাথে বসবাস

দক্ষিণের পথে পথে ঢাকামুখি মানুষের স্রোত

বগুড়ায় করোনা ও উপসর্গে ৯ জনের মৃত্যু

বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর ১২ দিন পর চালু


news24bd.tv / কামরুল 

পরবর্তী খবর

নেত্রকোনায় ঢাকামুখী মানুষের উপচে পড়া ভিড়

নেত্রকোনা প্রতিনিধি:

নেত্রকোনায় ঢাকামুখী মানুষের উপচে পড়া ভিড়

১৪ দিনের লকডাউন শেষ হওয়ার আগেই গার্মেন্টস খুলে দেয়ার খবরে নেত্রকোনায় ঢাকামুখী মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। পায়ে হেঁটেই রওনা দিয়েছেন ঢাকার উদ্দেশ্যে। 

শনিবার সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে ঢাকাগামী কর্মজীবী মানুষ বিরামহীন ছুটে চলেছেন। যদিও পৌর শহরে সিএনজি ইজিবাইক চলাচল অনেকটাই বন্ধ রয়েছে।

এমন অবস্থায় চাকরি বাঁচাতে পায়ে হেঁটেই গন্তব্যে ছুটছেন তারা। এদিকে মানুষের ভিড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন জেলা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এমন অবস্থায় করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

আরও পড়ুন:


জলাবদ্ধতার সাথে মশা, ব্যাঙ বিষাক্ত প্রাণীর সাথে বসবাস

দক্ষিণের পথে পথে ঢাকামুখি মানুষের স্রোত

বগুড়ায় করোনা ও উপসর্গে ৯ জনের মৃত্যু

বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর ১২ দিন পর চালু


news24bd.tv / কামরুল 

পরবর্তী খবর