ইভ্যালি নিয়ে যা বললেন ব্যারিস্টার সুমন( ভিডিও)
ইভ্যালি নিয়ে যা বললেন ব্যারিস্টার সুমন( ভিডিও)

ইভ্যালি নিয়ে যা বললেন ব্যারিস্টার সুমন( ভিডিও)

অনলাইন ডেস্ক

বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে ইভ্যালি প্রসঙ্গ এখন ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’। প্রতিষ্ঠানটি নিয়ে দেশের গণমাধ্যমেও বিভিন্ন ধরনের সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এরমধ্যেই বিভিন্ন সময় দেশের বেশ কয়েকটি সংবাদ মাধ্যমে খবর আসে ইভ্যালির প্রধান কার্যালয় বন্ধ এবং হট লাইনেও তারা গ্রাহক ও মার্চেন্টদের ফোন রিসিভ করছে না।  

এছাড়া ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমেও চলছে  ইভ্যালি প্রসঙ্গে নানা আলোচনা-সমালোচনা।

এদিকে  ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. রাসেলের কাছ থেকে টাকা আদায় করে বিনিয়োগকারী সাধারণ মানুষকে ফেরত দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। তিনি বলেন, সরকারের ভিতরে লুকিয়ে থাকা কিছু দুর্নীতিবাজ অফিসারের কারণে ইভ্যালি এতদূর এসেছে। এসব দুর্নীতিবাজদের খুঁজে বের করতে হবে।

শনিবার (১৭ জুলাই) রাতে ফেসবুক লাইভে এসে সরকারের প্রতি এ আহ্বান জানান সুমন।

লাইভে ব্যারিস্টার সুমন বলেন, ‘জ দেখলাম ইভ্যালির বিভিন্ন অফিস খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। হটলাইনেও নাকি তাদের পাওয়া যাচ্ছে না। আমি ইভ্যালির ব্যাপারে মানুষকে সচেতন করেছিলাম প্রায় ১৫/২০ দিন আগেই। আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে ভিডিওগুলো করার পর, ইভ্যালি নিয়ে এত কিছু শোনার পরও খেয়াল করে দেখলাম মানুষ ইভ্যালি থেকে ২০০ কোটি টাকার প্রি-অর্ডার করেছে। আমার মনে প্রশ্ন- এই মানুষগুলো কি লোভের দ্বারা এত বেশি তাড়িত যে আবারও ২০০ কোটি টাকার অর্ডার দিতে হবে? 

তিনি বলেন, আমি একটা বিষয় জানতে চাই- ইভ্যালিকে ৬০০/৭০০ কোটি দায় পর্যন্ত আনতে নেপথ্যে কারা? তাদের লাইসেন্সটা কারা দিলো? এই আমাদের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মাননীয় সচিব নাকি রোববার মিটিংয়ে বসবেন ইভ্যালি নিয়ে। ইভ্যালির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে।   ইভ্যালির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কী আছে? আপনারা তো ডেসটিনির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ডেসটিনি এত বড় হয়ে যাওয়ার পর তারে জেলে ঢুকাইছেন- কিন্তু পাবলিক তো শেষ। এখন ইভ্যালির রাসেল সাহেবকে ধরে যদি অপরাধের কারণে ফাঁসিও দেন তাতে লাভ কী জনগণের?


স্বাভাবিক মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত কারাভোগ করতে হবে

২২ দিন পর আবার ট্রেন চলাচল শুরু

নৌপথে যাত্রী ও যানবাহনের প্রচণ্ড চাপ


সুমন বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংককে জিজ্ঞেস করতে চাই, ইনটেলিজেন্ট ইউনিট যারা আছে তাদের কাজ কী? (দেশে) যে যেভাবে ইচ্ছে ব্যবসা করতে পারবে? যা ইচ্ছে বলতে পারবে? বিজ্ঞাপনের নামে যা ইচ্ছে দিতে পারবে? ডেসটিনি একবার সাধারণ মানুষকে শেষ করে দিয়েছে। এখন ইভ্যালি-ধামাকার মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই জায়গা পর্যন্ত এনেছে কে? বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কি বোঝে না? ৫০ পার্সেন্টের কম দামে হাজার হাজার পণ্য দিয়ে দিচ্ছে, এই প্রতিষ্ঠান যে ভেঙে পড়বে এটা কি তারা বোঝে না? লক্ষ লক্ষ মানুষের টাকার এই দায়টা এখন কে নেবে? আমি মাননীয় বাণিজ্য মন্ত্রীকে জিজ্ঞেস করতে চাই- এখন কী হবে এই মানুষগুলোর?

গতকাল শুক্রবার (১৬ জুলাই) রাতে ফেসবুকে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে একটি স্ট্যাটাস দেন ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. রাসেল। সেখানে তিনি ইভ্যালিকে আরেকটু সময় দিতে গ্রাহকসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে আবেদন জানান।

স্ট্যাটাসে রাসেল বলেন, ‘ইভ্যালির পক্ষে বিপক্ষে অনেক মতামত সোস্যাল মিডিয়াতে পেয়েছি এবং দেখেছি। এতদিন ইভ্যালির যে লস সেটা শুধুমাত্র বিজনেস ডেভেলপমেন্ট এর এই ইনভেস্টমেন্ট গিয়েছে। এখন ইভ্যালির অর্গানিক সেলস অনেক বেড়েছে। অনেকে এই সময় মতামত দিচ্ছেন বন্ধ করে পুরাতন অর্ডার ডেলিভারি করা হোক। ’

‘কিন্ত এখন তো আমরা অগ্রিম টাকা পাই না। গত দুই সপ্তাহ কিভাবে তাহলে পুরাতন অর্ডার থেকে ৪০ কোটি টাকার অধিক ডেলিভারি করা হলো? আমরা বড় বড় সেলারদের ৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি পেমেন্ট দিয়েছি। তারা আমাদের পাশে থাকতে চান। কিন্ত মিডিয়া অথবা সোস্যাল মিডিয়া যখন ডেসটিনি এর মত কোম্পানির সাথে তুলনা করেন, তখন যে কেউ ই ভয় পেয়ে যান। আমরা বিজনেস সবাই বুঝি। এটা একটা চলমান সম্পর্কে থাকার বিষয়। সেলস থাকলে সেলার থাকবে এবং সেলার থাকলে পণ্য থাকবে। ’

রাসেল বলেন, ‘আমাদের এই বিজনেস ডেভেলপমেন্টে সবচেয়ে বড় বাধা ছিল দেশি অথবা বিদেশি বিনিয়োগ। কেউ কী আমাকে দয়া করে কোনো আইনি ধারা উল্লেখ করতে পারেন, যেটি হয়তো আমার অজান্তেই মিস করে গেছি। যে কারণে আপনি বলতে পারেন, ইভ্যালি অবৈধ। (আমি এই সংক্রান্ত বিস্তারিত আরও লিখব)। ’

‘যদি না-ই হয়, মিডিয়ায় অথবা সোস্যাল মিডিয়ায় আমাকে ক্রিমিনাল না বানিয়ে বিচার না করার অনুরোধ করতে পারি শুধু। আমি বাংলাদেশের সব বড় গ্রুপ এখন যাচ্ছি। আমার হয়তো পুঁজি ঘাটতি। কেউ পুঁজি দিলেই কিন্তু কাল আমাকে সবাই হিরো বলত। যেই জিনিসটা ইভ্যালি অর্জন করতে চেয়েছিল, ইভ্যালির একদম সেটার দারপ্রান্তে। এতো কিছুর পর নতুন নীতিমালার আলোকে ইভ্যালির সেলস ১০০ কোটি টাকা (পেইড)। এই সময় এসে গঠনমূলক অথবা পরামর্শমূলক আলোচনা অবশ্যই সবার উপকার হবে। ’

‘ইভ্যালি নিয়ে আমি শতভাগ আশাবাদী। এবং এর চেয়েও বেশি আশাবাদী ইকমার্স নিয়ে। বিদেশী Amazon আসলে আমরা খুশি হব স্বাভাবিক।   কিন্ত দেশের কেউ ইকমার্স লিড দিবে এটা আমি শতভাগ নিশ্চিত। কারণ আমরা এখন সবচেয়ে দ্রুত উন্নয়নশীল জাতি। আমাদের একটু সময় দিন। ’

ভিডিও দেখতে এখানে ক্লিক করুন

news24bd.tv/আলী

;