অবিশ্বাস্য অভিনয় করতেন দিলীপ কুমার

তসলিমা নাসরিন

অবিশ্বাস্য অভিনয় করতেন দিলীপ কুমার

আবার বাবার মুখে শুনতাম দিলীপ কুমার দিলীপ কুমার। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর কূপমণ্ডুকদের কারণে ভারতীয় সিনেমা দেখানো নিষিদ্ধ হয়ে গেল। 

আত্মবিশ্বাসহীন মেরুদন্ডহীন বাঙালি চলচ্চিত্র নির্মাতারা ভাবতো ভারতীয় ছবি দেখানো হলে তাদের ছাইপাঁশ কেউ দেখবে না। তাই ভারতীয় ছবি আসা বন্ধ হলো, মহানন্দে তারা ছাইপাঁশ বানাতে সেই যে শুরু করেছে, আজও বানাচ্ছে। গত পাঁচ দশকে হাতে গোনা কিছু ভালো ছবি বানানো হয়েছে, এ  আমি অস্বীকার করছি না। 

সত্তর দশকে বাংলাদেশে বানানো পরিচ্ছন্ন কিছু সিনেমা দেখেছি। আশির দশকে ভিডিও ক্যাসেটের যুগে শুরু হয়েছে আমার ভারতীয় আর্ট ফিল্ম দেখা। সত্যজিৎ রায়, ঋত্বিক ঘটক, শ্যাম বেনেগাল, মোজাফফর, আদুর গোপাল্কৃষ্ণন এরকম পরিচালকের। 

দাদা মোগল এ আযম খুব দেখতো আর দিলীপ কুমার দিলীপ কুমার করতো। দিলীপ কুমারের যে সব ছবির ভিডিও পাওয়া যেত, দাদা দেখতে বাকি রাখেনি। দিলীপ কুমার আমি অনেক পরে দেখেছি ইউ টিউবের যুগে। মাঝখানে নব্বই দশক থেকে বিশ্বের আর্ট ফিল্ম দেখেছি আমি, এখনও অবশ্য তা-ই দেখি। 

ভারতবর্ষ দিলীপ কুমার ওরফে মহাম্মদ ইউসুফ খানকে রাষ্ট্রীয় সম্মান দিয়ে সমাধিস্থ করেছে, দেখে মন ভরে গেছে। তাঁকে অন্তত কাজি নজরুল ইসলামের মতো পাশের দেশে নিয়ে গিয়ে মসজিদের পাশে কবর দেওয়া হয়নি।
 
দিলীপ কুমার তারকাদের তারকা। তারকারা দিলীপ কুমারের কাছ থেকে অভিনয় শিখেছেন, সংলাপ বলা শিখেছেন, ছবির গল্প (গঙ্গা যমুনা) লেখা শিখেছেন। চল্লিশ, পঞ্চাশ, ষাটের দশকে ছবির গল্পগুলো খুব সাধারণ হতো, শুরু থেকেই অনুমান করা যেত কী হতে যাচ্ছে। কিন্তু দিলীপ কুমারের অভিনয় অনুমান করা যেত না। কোন দৃশ্যে কী অভিনয় তিনি করবেন, তা আগে থেকে কেউ বলতে পারতো না। অবিশ্বাস্য অভিনয় করতেন দিলীপ কুমার। 

এখনও বিস্ময় জাগে যখন অভিনেতারা দাঁত মুখ খিচিয়ে রাগ প্রকাশ করতেন, চোখ মুখ  কুঁচকে বিরক্তি প্রকাশ করতেন, চোয়াল শক্ত করে দাঁতে দাঁত ঘসে প্রতিশোধের স্পৃহা প্রকাশ করতেন, চিৎকার করে সংলাপ বলতেন, মেলোড্রামায় সয়লাব যখন সিনেমা, তখন দিলীপ কুমার কোনও কিছু না খিচিয়ে কোনও কিছু না কুঁচকে কোনও কিছু না ঘষে কী করে পারতেন অমন অভিনয় করতে! 

তাঁর অভিনয়কে অভিনয় বলে মনে হতো না, তিনি চরিত্র হয়ে উঠতেন, ক্যামেরার উপস্থিতি মনে হয় তিনি টের পেতেন না। একেই হয়তো বলে মেথোড অ্যাকটিং। বিশেষজ্ঞরা বলেন, ভারতীয় সিনেমার প্রথম মেথোড অ্যাকটর তিনিই ছিলেন। 

সেদিন পর্যন্তও এই কিংবদন্তী অভিনেতা আমাদের আশেপাশেই ছিলেন, বেঁচে ছিলেন। একই সময়ে বসবাস করতে পারার সৌভাগ্য আমাদের!

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

 

আরও পড়ুন


বিয়ের মাত্র একদিন পরই মারা গেলেন কলেজ শিক্ষক

পর্যায়ক্রমে সবাইকে ভ্যাকসিন দেয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী

গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে করলেন মাহি!

গোপনে বিয়ে করে মা হতে যাচ্ছেন পপি!


news24bd.tv / কামরুল 

পরবর্তী খবর

‘ফেইল্ড ক্যাম্পেইন’টা সেপ্টেম্বরে ‘উইন ক্যাম্পেইন’ হয়ে গেলো

শওগাত আলী সাগর

‘ফেইল্ড ক্যাম্পেইন’টা সেপ্টেম্বরে ‘উইন ক্যাম্পেইন’ হয়ে গেলো

নির্বাচনের ঘোষনা দিয়ে মাঠে নেমেই জাস্টিন ট্রুডো টের পেয়ে গিয়েছিলেন- বড্ড ঝুঁকিপূর্ণ জুয়ায় নেমে গেছেন তিনি। সপ্তাহখানেকের মাথায়  দল আর ক্যাম্পেইন মিলে পর্যালোচনায় বসলো- কতোটা ঝুঁকির মধ্যে তারা, সেখান থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব কী না- তা খতিয়ে দেখতে। তাদের সব ধরনের পর্যালোচনাই লিবারেল পার্টিকে ১৪০টির বেশি আসনের নিশ্চয়তা দিলো না। 

কিন্তু জাস্টিন ট্রুডো সেটি কাউকে বুঝতে দিতে চাইলেন না। সতর্ক হলেন- তার কথায়, চেহারায়, বডি ল্যাঙ্গুয়েজে- কোনোভাবেই যেনো পার্টির এই দুরাবস্থার প্রকাশ না পায়, তিনি উদ্বিগ্ন- সেটি যেনো কেউ ক্ষুণাক্ষরেও টের না পায়। ‘মেজরিটি’ শব্দটি ভুল করেও উচ্চারণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন নীতিনির্ধারকরা। পুরো প্রচারণায় জাস্টিন ট্রুডো একবারের জন্যও ‘মেজরিটি’ শব্দটি উচ্চারণ করলেন না- অথচ মেজরিটির জন্যই তিনি হঠাৎ নির্বাচনের ঘোষনা দিয়েছিলেন। লিবারেল পার্টি নিরবে নিজেদের মূল্যায়নের খাতায় টুকে রাখলো ‘ আগষ্ট- ফেইল্ড ক্যাম্পেইন’।

’ফেইল্ড ক্যাম্পেইন’টা  সেপ্টেম্বরে এসে ‘উইন ক্যাম্পেইন’ হয়ে গেলো। সেপ্টেম্বরের শুরু থেকেই টের পাওয়া যাচ্ছিলো নতুন কৌশলটা কাজ করছে। শেষ দুই সপ্তাহে এসে তারা বুঝে গেলেন- এই যাত্রা রক্ষা পাওয়া গেছে। দলের মূল্যয়ন খাতায় এবার লেখা হলো- ‘ সেপ্টেম্বর- উইন ক্যাম্পেইন’। 

আরও পড়ুন:

অবশেষে ব্রিটেনের লাল তালিকা থেকে বাদ পড়ছে বাংলাদেশ

বেড়াতে গিয়ে অতিরিক্ত মদ পানে দুই ছাত্রলীগ কর্মীর মৃত্যু

আর কোনো তত্ত্বাবধায়ক সরকার হবে না, জানালেন কৃষিমন্ত্রী

ইভ্যালির সঙ্গে আর সম্পর্ক নেই তাহসানের


 

ভোট হয়ে যাবার পর বিজয়ী লিবারেল পার্টি এখন সেইসব কথা নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে। নতুন করে পর্যালোচনা করছে। তবে ‘একটি ‘ফেইল্ড ক্যাম্পেইন’কে ‘উইন ক্যাম্পেইনে’ রুপান্তরিত করে ক্ষমতায় ফিরে আসার ম্যাজিক কৌশলটা নিঃসন্দেহে উদ্দীপনামূলক এবং কৌতূহলোদ্দীপক। পার্টি কখনো সেই কৌশলটা খোলামেলা প্রকাশ করলে কিংবা কোনো অনুসন্ধানী সাংবাদিক খুঁজে বের করে রিপোর্ট করলে রাজনীতি বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী এবং রাজনীতিতে আগ্রহীদের সেটি নতুন ভাবনার খোরাক যোগাবে নিঃসন্দেহে।

লেখক- শওগাত আলী সাগর, প্রধান সম্পাদক, নতুনদেশ, কানাডা।

(মত-ভিন্নমত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

বলছি না, প্রবাসীরা আওয়ামী লীগ বা বিএনপির রাজনীতি করবেন না

আনোয়ার সাদী

বলছি না, প্রবাসীরা আওয়ামী লীগ বা বিএনপির রাজনীতি করবেন না

বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত প্রবাসীরা যদি স্থানীয় রাজনীতি মনযোগ দিয়ে করতেন তাহলে আখেরে তা দেশের মানুষেরই কাজে দিতো। 

যুক্তরাজ্যে কিছু মানুষ আছেন যারা সেদেশের রাজনীতিতে ভালো করছেন, তাদের পূর্ব পুরুষ বাংলাদেশের। তাদেরকে আপনারা সবাই চেনেন, আমি আর নাম লিখলাম না। তারা দেশের যতোটা উপকার করতে পারবেন, সেদেশের আওয়ামী লীগ বা বিএনপি শাখার সভাপতি কী এতোটা কাজে আসবেন?  

আমেরিকা, কানাডা, অষ্ট্রেলিয়াসহ যেসব দেশ বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, সেসব দেশে প্রবাসীরা এখন স্থানীয় রাজনীতিতে যোগ দিতে পারেন। ক্ষমতার রাজনীতির সঙ্গে যার যোগাযোগ যতোটা নিবিড়, সে ততবেশি মানুষের উপকার করতে পারে, এ বিষয়ে নিশ্চয়ই কারো দ্বি-মত নেই? ফলে, বাংলাদেশের পক্ষে পলিসি সুবিধা নিশ্চিত করতে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী দেশের ক্ষমতার বলয়ে যোগাযোগ রাখা দরকার। সে কাজ শুধু আমাদের কূটনীতিবিদরাই করবেন কেন, দেশের মানুষরাও, বাংলাদেশি বংশোদ্ভুতরাও কূটনীতিবিদের কাজটি করে দিলে, ক্ষতি কী? 

আমি বলছি না প্রবাসীরা আওয়ামী লীগ বা বিএনপির রাজনীতি করবে না। বলছি না, জেলা সমিতি বা উপজেলা সমিতি করবে না। এসবেরও দরকার আছে। তবে এসব কাজে সব সময় বিলিয়ে দিলে, আরো বড় পরিসরে নিজেকে নিয়ে যাওয়ার কাজটি ব্যহত হয়ে বলেই অনেকের ধারণা। 

অনেক সময়, রাজনীতিবিদরা এক দেশে বসে আরেক দেশের রাজনীতি পরিচালনা করেন। কেউ কেউ নিজ দেশ থেকে নির্বাসিত থাকেন, প্রবাসে থেকে দল গুছিয়ে, ক্ষমতা দখল করে ফিরে আসার স্বপ্ন দেখেন। ইতিহাসে আমরা প্রবাসী সরকার গঠন করতেও দেখি। তারা বিদেশে থাকলেও তাদের জগত স্বদেশ নিয়ে থাকে। পরিষ্কার বলে রাখি, এই আলোচনা তাদেরকে নিয়ে নয় বা তাদের জন্য নয়। এই আলোচনা তাদেরকে নিয়ে করছি, যারা স্থায়ীভাবে অন্য একটি দেশে বসবাস করতে স্বদেশ ছেড়েছেন।  

আরও পড়ুন:

অবশেষে ব্রিটেনের লাল তালিকা থেকে বাদ পড়ছে বাংলাদেশ

বেড়াতে গিয়ে অতিরিক্ত মদ পানে দুই ছাত্রলীগ কর্মীর মৃত্যু

আর কোনো তত্ত্বাবধায়ক সরকার হবে না, জানালেন কৃষিমন্ত্রী

ইভ্যালির সঙ্গে আর সম্পর্ক নেই তাহসানের


 

একটি কথা প্রচলিত আছে, প্রবাসীদের প্রথম জেনারেশন শারীরিকভাবে বিদেশে থাকে, কিন্তু তারা মানসিকভাবে বাস করে বাংলাদেশে। দ্বিতীয় জেনারেশন দেশের জন্য কিছুটা টান অনুভব করে। তৃতীয় জেনারেশন নাকি পুরোপুরি বিদেশি হয়ে যায়। এটাই আমাদের ভাবনায় রাখতে হবে। শেকড়ের প্রতি টান যেনো প্রবাসীদের মাঝে প্রজন্মের পর প্রজন্ম বজায় থাকে, সে পরিবেশ তৈরি করে রাখতে হবে।  

যারা রেমিট্যান্স পাঠায় তাদের প্রতি শ্রদ্ধা রাখছি। এটা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ কাজ। তবে বাংলাদেশের পক্ষে অপর একটি দেশের নীতি সহায়তা নিশ্চত করা কোনোভাবেই ছোট কাজ নয়।

লেখাটি নিউজ টোয়েন্টিফোর টিভির সিনিয়র নিউজ এডিটর, আনোয়ার সাদী-এর ফেসবুক থেকে নেওয়া। 

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

'এই লোকটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লাশ ফেলতে চেয়েছিল না?'

মোহাম্মদ আলি আরাফাত

'এই লোকটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লাশ ফেলতে চেয়েছিল না?'

এই লোকটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লাশ ফেলতে চেয়েছিল না? লাশ ফেলার ষড়যন্ত্র করতে গিয়ে ধরা খেয়ে জেলও খেটেছে। এ আবার বড় বড় নীতি বাক্য শোনায় জাতিকে। লজ্জাও নাই এদের!

আমরা কোন একটা কথা বলা বা লেখার আগে দশ বার চিন্তা করি, কোন ভুল কিছু না বলে ফেলি বা লিখে ফেলি। অথচ এরা নিয়ত করে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যাচার করে। 
এরা মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলে, অথচ মত প্রকাশের স্বাধীনতা তো পরের কথা, এরা মিথ্যাচার করার স্বাধীনতাও ভোগ করছে। এই লোককে যদি শুধু মিথ্যা অপপ্রচারের জন্য আইন অনুযায়ী জবাবদিহিতার আওতায় আনা হতো তাহলে সে বার বার সাজা পেত। 

রও পড়ুন:

জন্মদিনে সৃজিতের কাছে কী চাইলেন মিথিলা?

বায়ু দূষণের তালিকায় বাংলাদেশ প্রথম, ঢাকা তৃতীয়

৪৫ মিনিট পর হাসপাতালে অলৌকিকভাবে বেঁচে উঠলেন নারী!

গাড়ি সাইড দেয়ায় ব্যবসায়ীকে মারধর করলেন এমপি রিমন!


আওয়ামী লীগের এবং সরকারের সহিষ্ণুতা ও উদারতার সুযোগ নিয়ে এরা যা ইচ্ছা তাই মিথ্যাচার করে যাচ্ছে। তাও না কি এদেশে মত প্রকাশের স্বাধীনতা নাই!

(মত-ভিন্নমত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv/ নকিব

পরবর্তী খবর

ইভানা কি আত্মহত্যা করলো না অনার কিলিং-এর শিকার হলো?

অনলাইন ডেস্ক

ইভানা কি আত্মহত্যা করলো না অনার কিলিং-এর শিকার হলো?

এই ইভানাকে আমি খুব ভালো চিনি। খুব ভালো মানে খুব ভালো। আপাত সামাজিক প্রতিষ্ঠা পাওয়া অথচ অসহায় নারীদের আমার চেয়ে ভালো আর কেউ চেনে না। এই অনার কিলিংগুলো আমার চেনা।

ইভানা মরে গিয়ে জাস্ট একটা কেস হয়েছে, কেস স্টাডিই দেখেন। শিক্ষিত এবং মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে। শিক্ষকরা বলছে, খুব মেধাবী শিক্ষার্থী ছিল সে, বিতর্ক করতো। কিন্তু পড়াশোনা শেষ না করে ব্যারিস্টার ঢাকায় বাড়ি গাড়ি থাকা ছেলে দেখে বাবা বিয়ে দিলে সেই বিয়েতে "না" বলার সাহস ইভানার ছিল না। তার নিজের ব্যারিস্টার হবার ইচ্ছা শিকেয় তুলে সে ঘরকন্নায় মন দিয়েছিল।  

বিয়ের পর ইভানা সবাইকে জানিয়েছে সে সুখী। মিথ্যা সুখের অভিনয় করে গেছে অবিরাম। দু'টো বাচ্চা হয়েছিল একটা বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন। স্বামীর সঙ্গে তার না বনা প্রথম থেকেই কিন্তু সে ডিভোর্সকে ভয় পেতো। নিজের কমফোর্ট জোন হারানোর ভয়? এই কথাটা সবসময় মাথায় ঘোরে আমার। মেয়েরা কি আসলে স্বামীর দেয়া স্বাচ্ছন্দ্য হারানোর ভয় করে না কি সমাজের? ইভানা দু'টো ভয়ই পেয়েছিল।

তার বাবা-মা জানিয়ে দিয়েছিল-  "যা কিছুই ঘটুক, স্বামীর সাথে থাকতে হবে।" ইভানা "বয়স" হয়ে যাওয়া বাবা মাকে ডিভোর্সের "লজ্জ্বা"য় ফেলতে চায় নি।

উপরন্তু দু'টো বাচ্চাকে নিয়ে এই শহরে চলার মতো কোনও আয় তার ছিল না। এরইমধ্যে স্বামীর অন্য নারীর সাথে সম্পর্ক জেনে এবং জীবনের এইসব পরিস্থিতি থেকে এক্সিট করার পথ হিসেবে একমাত্র আত্মহত্যাকেই দেখতে পেল ইভানা।

এখন বলেন, সে কী আত্মহত্যা করলো না অনারকিলিং বা হত্যার শিকার হলো? আমাদের সমাজ নারীর জন্য "ভালো পাত্র" হিসাবে যাকে রায় দেয় সে মানুষ হিসেবে কেমন তা কি কেউ দেখে? আর পরিবার। বাংলাদেশের অধিকাংশ পরিবারই একেকটা  আন্দামানের কালাপানি। বিনা অপরাধে শাস্তি পাওয়া নারীদের সেইখানে কারাবাস হয়। বিয়ে মানে সেইখানে শেষ কথা। যে পরিবার একজন মানুষের সবচেয়ে বড় ভরসার স্থল হবার কথা সেই পরিবার যখন কারাবাসের মতো হয় এই হিংস্র সমাজে তাহলে একটা নারী কোথায় যাবে কেউ বলতে পারেন? 

ইভানা আত্মহত্যা করেছে। "আত্মহত্যা কোনও সমাধান নয়" বলে অতিক্লিশে মোটিভেশনাল কথা আমি বলতেই পারি কিন্তু বলবো না কারণ ইভানার জুতা পায়ে আমি হাঁটিনি। যা করেছে সে ঠিকই করেছে। শুধু ভাবি, জীবনের কি বিপুল অবচয়!

রও পড়ুন:

প্রবাসীর জ্যাকেটের হাতায় ২ কোটি টাকার সোনা!

অবশেষে বাদুড়ের মধ্যে মিলল করোনাসদৃশ

লক্ষ্মীপুরে ৪ মাদকসেবীর বিভিন্ন মেয়াদে সাজা

বিয়ে করছেন সিদ্ধার্থ-কিয়ারা!


ইভানার "আত্মহত্যা" নিয়েে ফেসবুক বিশেষ সড়গড় দেখলাম না, সম্ভবত তার এইভাবে মরে যাওয়াটা নারীবাদের কোনও শাখার মধ্যে পড়ে না। "প্রতিবাদ" না করে মরে যাওয়ার মতো এইসব "দুর্বলতা" সম্ভবত নিন্দা যোগ্য। এতো সব সবল, প্রতিষ্ঠিত নারীদের ভিড়ে ইভানার মরে যাওয়া একটা লজ্জ্বাজনক অধ্যায় সম্ভবত। কিন্তু মেয়েটা কি করলে ঠিক হতো কেউ বলতে পারেন? ইভানার বেঁচে থাকার মতো একটা ন্যূনতম সমাজ আর রাষ্ট্র কী সৃজন করা গেছে?

(মত-ভিন্নমত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv রিমু  

পরবর্তী খবর

সকল নাগরিকের জন্য 'অবসরভাতা' চালু করা হোক

আরিফ জেবতিক

সকল নাগরিকের জন্য 'অবসরভাতা' চালু করা হোক

আমরা বেশিরভাগই পরিশ্রমী 'বেসরকারি' মানুষ। সারাজীবন এলেবেলে ধরনের চাকুরি করি। না আছে যোগ্য সম্মান, না আছে যোগ্য পারিশ্রমিক। বিক্রয় প্রতিনিধি, বীমা এজেন্ট, বেসরকারি শিক্ষক, সাংবাদিক, গার্মেন্টেসর এক্সিকিউটিভ, একাউন্ট অফিসার, স্টোর ইনচার্জ- এরকম এক দীর্ঘ তালিকাতেই আমাদের অধিকাংশ মানুষের বাস।

সারাজীবন হাড়ভাঙা খাটুনি করে প্রতি মাস শেষে যে বেতন পাই সেটি বাড়িভাড়াতেই চলে যায়। সঞ্চয়ের কোনো সুযোগ নেই।
তারপরও যদি উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া গ্রামের বাড়ির দুই শতক জায়গা বিক্রি করে কিংবা আধপেটা খেয়ে লাখ দুয়েক টাকা জমাতে পারি, সেই টাকা বিনিয়োগের কোনো সুযোগ নেই।

জমি কিনতে যাবেন তো কিস্তির পর কিস্তি দিয়ে যাবেন, তারপর একদিন শুনবেন সেই কোম্পানি হাওয়া হয়ে গেছে। নানা ধরনের হায় হায় কোম্পানির ফাঁদে হারাবেন সর্বস্ব।

আমাদের টাকা তাই খেয়ে যায় শেয়ার মার্কেটের ফড়িয়ারা, এহসান গ্রুপ-যুবক-ডেস্টিনি-ইভ্যালির ধান্দাবাজরা।

যখন বুড়ো হয়ে যাব, তখন আমরা কীভাবে চলব? আমাদের চাকুরিরই নিশ্চয়তা নেই, পেনশনের তো বালাই-ই নেই। আর সরকারি ছোট চাকুরিও যারা করেন, তাঁরাও এককালীন যে টাকাটা পান সেই টাকাটা কোথায় খাটাবেন?

একটা মোটামুটি ব্যবস্থা ছিল সঞ্চয়পত্র। সারাজীবনে কয়েক লাখ টাকা যোগাড় করতে পারলে সেই টাকায় কেনা সঞ্চয়পত্রে কয়েক হাজার টাকা পেলে কষ্টেক্লিস্টে অন্তত একটা মানবিক সম্মান রেখে জীবনপাত করতে পারতেন আমাদের বুড়ো মানুষগুলো।

কিন্তু সঞ্চয়পত্রের সুদের হারও কমিয়ে আনা হলো। দেশে টাকা রাখার জায়গা নেই, তাই সাধারন এলেবেলে মানুষের টাকা এখন আর লাগছে না কারো। তাছাড়া এই হারে ইন্টারেস্ট দিয়ে টাকা রাখাটাও এখন অর্থনৈতিক দিক থেকে যৌক্তিক না।

আমি তাই জোর দাবি জানাই যে সকল নাগরিকের জন্য 'অবসরভাতা' চালু করা হোক। কর্মক্ষম প্রতিটি মানুষ প্রতি মাসে তাঁর ইচ্ছানুযায়ী একটি অংশ টাকা এই সরকারি স্কিমে জমা রাখবেন। বিনিময়ে বয়স ৬০ বছর পার হলে, তিনি বাকি জীবন সরকার থেকে একটি মাসিক পেনশন পাবেন। পেনশনের পরিমান এমন হবে যাতে তিনি বাকি জীবন একটি সম্মানজনক অবস্থায় জীবনযাপন করতে পারেন।
রও পড়ুন:

জন্মদিনে সৃজিতের কাছে কী চাইলেন মিথিলা?

বায়ু দূষণের তালিকায় বাংলাদেশ প্রথম, ঢাকা তৃতীয়

৪৫ মিনিট পর হাসপাতালে অলৌকিকভাবে বেঁচে উঠলেন নারী!

গাড়ি সাইড দেয়ায় ব্যবসায়ীকে মারধর করলেন এমপি রিমন!


এটি কোনো আহামরি বা আচানক ব্যবস্থা নয়। বিদেশে এরকম সুযোগ আছে সবার জন্য। এজন্যই ওসব দেশে রিটায়ারমেন্টের পরে বুড়োবুড়িরা একটি স্বচ্ছল জীবন যাপন করতে পারেন। ঘুরতে পারেন, বেড়াতে পারেন, রোগে ভুগলেও সাহস হারান না। মাথার উপর একটি ছাদও থাকে।

আমাদের দেশে এই ব্যবস্থা সরকারের তরফ থেকে চালু করতে হবে। সারাজীবন টেনশনের জীবন যাপন করে এদেশের অধিকাংশ মানুষ। অন্তত মরার আগে কয়েটা দিন দুশ্চিন্তাহীন কাটানোর প্রত্যাশা করা খুব বেশি কিছু না।

(মত-ভিন্নমত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv/ নকিব

পরবর্তী খবর