আগুনে হাত দিলে পুড়ে যাবে জেনেও যে দেয় তাকে কী বলবো
আগুনে হাত দিলে পুড়ে যাবে জেনেও যে দেয় তাকে কী বলবো

শওগাত আলী সাগর

আগুনে হাত দিলে পুড়ে যাবে জেনেও যে দেয় তাকে কী বলবো

Other

নিজের লাভ না কি পাগলেও বুঝে- এমন একটা প্রবাদ আমরা ছোটোবেলা থেকে শুনে আসছি। এখন মনে হচ্ছে ‘স্বাভাবিক বোধ বিবেচনা সম্পন্ন মানুষও’ নিজের ‘বোঝ’ বুঝে না। ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া গরুর হাটের কিছু ছবি দেখে এই ভাবনা তৈরি হলো।  

করোনায় ইউরোপ আমেরিকায় হাজার হাজার মানুষ মারা যাচ্ছে- এই খবর বাংলাদেশের গ্রামেগঞ্জে- সর্বত্রই মানুষ জানেন।

পাশের দেশ ভারতে মানুষের নির্মম আহাজারির কথাও বাংলাদেশের মানুষ জানেন। বাংলাদেশে প্রতিদিন মানুষ মারা যাচ্ছে- সেই খবরটাও তাদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। তবু এতো মানুষ করোনাকে উপেক্ষা করে কীভাবে!

এতো মানুষ কীভাবে ভাবছে- এই করোনা তাদের স্পর্শ করবে না! তাদের এই আত্মবিশ্বাসের উৎস কী?

কোনো একটা ভূখন্ডের কিছু সংখ্যক মানুষ বাস্তবতাকে, বিজ্ঞানকে অস্বীকার করতে পারে, এড়িয়ে যেতে পারে। কিন্তু সিংহভাগ মানুষই যদি বিজ্ঞানকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেয়- তা হলে সেই জনগোষ্ঠীকে কীভাবে বিশ্লেষণ করা হবে! এটি পুরো জনগোষ্ঠীর শিক্ষার, সংস্কৃতির মানের, বোধের ঘাটতির বিষয়? না কি একগুয়েমি! আগুনে হাত দিলে হাত পুড়ে যাবে- এই তথ্য জেনেও যে আগুনে হাত দেয় তাকে কী বলবো আমরা!

বাংলাদেশের, এই যে সিংহভাগ মানুষই করোনাকে উপেক্ষা করতে, পাত্তা না দিতে শিখেছে- এটি কেমনভাবে হলো- তা নিয়ে কোনো জরিপ বা গবেষণা হয়েছে কী না জানি না। তবে এমন একটি পরিস্থিতি পুরো ভূখন্ডের রাজনীতি, সংস্কৃতি, মিডিয়াবাজি, বুদ্ধিজীবিতা- সবকিছুকেই অভিযোগের মুখোমুখি করে দেয়।  

একটি ভূখন্ডের জনগোষ্ঠীকে বিজ্ঞানমনস্ক না হোক বাস্তব মনস্ক হিসেবে গড়ে তোলার দায়িত্ব তো তাদেরই। তারা সেই দায়িত্ব কতোটা পালন করেছেন- কেউ হয়তো জানতে চাচ্ছে না। কিন্তু তারা নিজেরাই নিজেদের প্রশ্নের মুখোমুখি করতে পারেন। বুদ্ধিজীবিতার একটা বড় দায় তো প্রশ্ন করা, নিজেকে প্রশ্নের মুখোমুখি করা, অন্যের মনে প্রশ্ন জাগিয়ে তোলা।

লেখাটি নতুন দেশের প্রধান সম্পাদক শওগাত আলী সাগর-এর ফেসবুক থেকে নেওয়া। (সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়। )

news24bd.tv নাজিম

;