সকাল-বিকেল তিনবার যে দোয়া পড়লে জান্নাত পাওয়া যাবে

অনলাইন ডেস্ক

সকাল-বিকেল তিনবার যে দোয়া পড়লে জান্নাত পাওয়া যাবে

প্রতীকী ছবি

চাইলে মানুষ যেকোনো সময় ছোটখাটো আমল ও জিকির-আজকার করতে পারে। উপরন্তু এগুলোর বিনিময়ে বিপুল সওয়াব দেওয়া হয়ে থাকে। আল্লাহ তাআলা সন্তুষ্ট হয়ে অগণিত পুণ্যে সমৃদ্ধ করেন। আখিরাতে সর্বোত্তম বিনিময় দান করেন। ইসলামে আমল, দোয়া ও জিকির খুবই সহজ। 

তন্মধ্যে একটি দোয়া রয়েছে, যে দোয়াটি পড়লে জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যায়। আল্লাহ তাআলা তার ওপর সন্তুষ্ট হওয়া আল্লাহর হক হয়ে দাঁড়ায়। বিভিন্ন বর্ণনা অনুযায়ী তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো রাসুল (সা.)-এর দায়িত্ব।

আবু সাইদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, রাসুল (সা.) বলেছেন- ‘যে ব্যক্তি নিম্নোক্ত দোয়া বলবে, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যায়।’ (মুসলিম, হাদিস : ১৮৮৪; আবু দাউদ, হাদিস : ১৫২৯; মুজামু কাবির, হাদিস : ৮৩৮; মুজামুস সাহাবাহ : ১৬৯৬)

رَضيتُ بالله رَبّاً ، وبالإسلامِ ديناً ، وبمحمَدٍ نَبِيًّا وَّرَسولاً 

উচ্চারণ : রাদিতু বিল্লাহি রাব্বাউঁ ওয়া বিল ইসলামী দ্বিনাউঁ ওয়া বিমুহাম্মাদিন নাবিয়্যাঁও ওয়া রাসুলা’।

অর্থ : আমি আল্লাহকে রব, ইসলামকে দ্বিন এবং মুহাম্মদ (সা.)-কে রাসুল হিসেবে সন্তুষ্টচিত্তে মেনে নিয়েছি।

অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে, ‘যে ব্যক্তি সকাল-বিকেল তিনবার এই দোয়া পড়বে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা তাকে নেকি বৃদ্ধির দ্বারা সন্তুষ্ট করবেন।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২/১৭৬)

আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিব থেকে বর্ণিত আছে, তিন রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছেন- ‘যে আল্লাহকে প্রতিপালক, ইসলামকে দ্বীন এবং মুহাম্মদ (সা.)-কে রাসুল হিসেবে সন্তুষ্টচিত্তে মেনে নিয়েছে— সে ঈমানের স্বাদ পেয়েছে।’ (মুসলিম, হাদিস : ৩৪)
সাআদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি মুয়াজ্জিনের আজান শুনে নিম্নোক্ত দোয়া পড়বে, তার গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।’

أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ ، رَضِيتُ بِاللهِ رَبًّا ، وَبِمُحَمَّدٍ رَسُولًا ، وَبِالْإِسْلَامِ دِينًا ، غُفِرَ لَهُ ذَنْبُهُ

আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকালাহু, ওয়া আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসুলুহু; রাদিতু বিল্লাহি রাব্বাউঁ ওয়া বিল ইসলামী দ্বিনাউঁ ওয়া বিমুহাম্মাদিন নাবিয়্যাঁও ওয়া রাসুলা।

সাহাবি মুনাইজির (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, আমি রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি- ‘যে সকালে বলবে, ‘রাদিতু বিল্লাহি রব্বাউঁ ওয়া বিল ইসলামী দ্বিনাউঁ ওয়া বিমুহাম্মাদিন নাবিয়্যা।’ তাকে হাতে ধরে জান্নাতে পৌঁছানোর জিম্মাদার আমি। (মুজামুল কাবির, হাদিস : ২০/৩৫৫; সিলসালাতুস সাহিহা, হাদিস : ২৬৮৬; আত-তারগিব ওয়াত-তারহিব, হাদিস: ৯৭১)
সাওবান (রা.) আল্লাহর রাসুল (সা.) থেকে বর্ণনা করেন, ‘যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় উপরোক্ত দোয়াটি পড়বে, তার ওপর সন্তুষ্ট হয়ে যাওয়া আল্লাহ তাআলার হক।’ (আল-আজকার, হাদিস : ২১৪)

------------------------------------------------------------

চাকরির জন্য আল্লাহর কাছে যে দোয়া পড়বেন

যে দোয়া পড়লে মনের আসা কবুল হয়

যারা বিনা হিসাবে জান্নাতে যাবে

যে দোয়া পড়লে কখনো বিফলে যায় না!

যে সময় দোয়া পড়লে দ্রুত কবুল হয়

কঠিন বিপদ থেকে রক্ষা পেতে যে দোয়া পড়বেন!

যাদের দোয়া দ্রুত কবুল হয়

-----------------------------------------------------------------

news24bd.tv / কামরুল

পরবর্তী খবর

সুরা নাসের বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ

অনলাইন ডেস্ক

সুরা নাসের বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ

সূরা আন-নাস (আরবি: سورة الناس‎‎; মানবজাতি)। আল-কুরআনের ১১৪ নম্বর এবং সর্বশেষ সূরা।

এর আয়াত, অর্থাৎ বাক্য সংখ্যা ৬ এবং রূকু, তথা অনুচ্ছেদ সংখ্যা ১। সূরা আন-নাস মদীনায় অবতীর্ণ হয়েছে। যদিও কোন কোন বর্ণনায় একে মক্কায় অবতীর্ণ হিসাবে উল্লেখ করা হয়। এর প্রতিটি আয়াতের মাধ্যমে প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য সব ধরনের অনষ্টিতা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া হয়েছে।

অর্থসহ বাংলা উচ্চারণ:

بِسْمِ اللہِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্ল­াহর নামে (শুরু করছি)

قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ

কুল আউযু বিরাব্বিন নাস

বলুন, আমি আশ্রয় গ্রহণ করিতেছি মানুষের পালনকর্তার,

مَلِكِ النَّاسِ

মালিকিন্ নাস

মানুষের অধিপতির।

إِلَهِ النَّاسِ

ইলাহিন্ নাস

মানুষের মা’বুদের।

مِن شَرِّ الْوَسْوَاسِ الْخَنَّاسِ

মিন্ শররিল ওয়াস্ ওয়াসিল খান্নাস

তার অনিষ্ট থেকে, যে কুমন্ত্রণা দেয় ও আত্নগোপন করে,

الَّذِي يُوَسْوِسُ فِي صُدُورِ النَّاسِ

আল্লাযী ইউওযাসবিসু ফী ছুদুরিন্নাস

যে কুমন্ত্রণা দেয় মানুষের অন্তরে।

مِنَ الْجِنَّةِ وَ النَّاسِ

মিনা জিন্নাতি ওয়ান্নাস

জ্বিনের মধ্য থেকে অথবা মানুষের মধ্য থেকে।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

যেসব স্থানে নামাজ পড়া নিষিদ্ধ

মাওলানা সাখাওয়াত উল্লাহ

যেসব স্থানে নামাজ পড়া নিষিদ্ধ

মিসজিদ শব্দটি আরবি। এর অর্থ সিজদা করার স্থান বা নামাজ পড়ার স্থান। পবিত্র কোরআনে এ শব্দ ১৭ বার এসেছে। আভিধানিক অর্থে—যেখানে মানুষ আল্লাহর ইবাদতের উদ্দেশ্যে সিজদা করে সেটাই মসজিদ। রাসুল (সা.) বলেন, ‘আমার (উম্মতের) জন্য ভূপৃষ্ঠকে মসজিদ (ঘোষণা দেওয়া হয়েছে) ও পবিত্র করা হয়েছে।’ (বুখারি, হাদিস : ২৯৭৭)

পৃথিবীর সব পবিত্র স্থানে পড়া গেলেও নিম্নের স্থানগুলোতে নামাজ পড়া নিষিদ্ধ—

কবরস্থান ও গোসলখানা : আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘গোটা জমিন মসজিদ (তথা সালাতের স্থান) শুধু কবরস্থান ও গোসলখানা ছাড়া।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৯২)

উট বাঁধার স্থান :  উট বাঁধার স্থানে সালাত আদায় করা যাবে না। বারা ইবনে আজিব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে উট বাঁধার স্থানে সালাত আদায় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ‘তোমরা উট বাঁধার স্থানে সালাত আদায় করবে না। কারণ সেটি শয়তানের আড্ডাখানা। অতঃপর তাঁকে ছাগল বাঁধার স্থানে সালাত আদায় করার কথা জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ‘তোমরা তাতে সালাত আদায় করতে পারবে। কারণ তা বরকতময়।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৯৩)

আজাবের স্থান : আগের জাতির ওপর আজাবের স্থানে সালাত আদায় করা যাবে না। আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা এসব আজাবপ্রাপ্ত সম্প্রদায়ের লোকালয়ে ক্রন্দনরত অবস্থা ছাড়া প্রবেশ করবে না। কান্না না এলে সেখানে প্রবেশ করো না, যেন তাদের ওপর যা আপতিত হয়েছিল তা তোমাদের প্রতিও আসতে না পারে।’ (বুখারি, হাদিস : ৪৩৩)

ইবনে ওমর (রা.) বলেন, যখন নবী করিম (সা.) হিজর (সামুদ গোত্রের বস্তি) অতিক্রম করেন, তখন তিনি বলেন, যারা নিজ আত্মার ওপর অত্যাচার করেছিল তাদের আবাসস্থলে কান্নাকাটি ছাড়া প্রবেশ কোরো না, যেন তোমাদের প্রতি শাস্তি আপতিত না হয়, যা তাদের প্রতি হয়েছিল। তারপর তিনি তাঁর মস্তক আবৃত করেন এবং অতি দ্রুতবেগে চলে ওই উপত্যকা অতিক্রম করেন। (বুখারি, হাদিস : ৪৪১৯)

বিদ্বানগণের মতে, আজাবের স্থানে সালাত আদায় করা নিষিদ্ধ। ইমাম নববি (রহ.) বলেন, আজাবের স্থানে নামাজ পড়া সবার ঐকমত্যে হারাম।

রও পড়ুন:

মাদক মামলায় নারীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

নতুন করে স্নায়ুযুদ্ধ চায় না যুক্তরাষ্ট্র

নারী ক্ষমতায়নে আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ফ্রান্সের পাশে ইউরোপীয় ইউনিয়ন


ব্যস্ত রাস্তায় নামাজ পড়া : ব্যস্ত রাস্তা, যেখানে যানবাহন চলাচল করে, সেখানে মানুষকে কষ্ট দিয়ে নামাজ না পড়া উত্তম। তবে যদি রাস্তার এক পাশে হয় এবং মানুষের চলাচলে অসুবিধা না হয় তাহলে সেখানে সালাত আদায় করা যাবে। এ ছাড়া পরিত্যক্ত রাস্তায় সালাত আদায় করা যাবে। তা ছাড়া জরুরি প্রয়োজন যেমন—জুমা ও ঈদের সালাতে জায়গা সংকুলান না হলে রাস্তায় আদায় করা যাবে।

জনগণের চালাচলে বিঘ্ন না ঘটলে রাস্তায় নামাজ পড়া যাবে। আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা রাস্তায় বসা সম্পর্কে সতর্ক হও। সাহাবিরা বলেন, হে আল্লাহর রাসুল, তাতে না বসে তো আমাদের উপায় নেই। আমরা তথায় (বসে) আলোচনা করে থাকি। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যদি তোমাদের একান্ত বসতেই হয়, তাহলে তোমরা রাস্তার হক আদায় করবে। সাহাবিরা প্রশ্ন করেন, হে আল্লাহর রাসুল, রাস্তার হক কী? তিনি বলেন, দৃষ্টি সংযত রাখা, কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকা, সালামের জবাব দেওয়া, সৎকাজের আদেশ দেওয়া এবং অসৎ কাজ হতে নিষেধ করা।’ (বুখারি, হাদিস : ৬২২৯)

news24bd.tv রিমু     

পরবর্তী খবর

আল্লাহর প্রিয় জায়গা

অনলাইন ডেস্ক

আল্লাহর প্রিয় জায়গা

কিছু আমল আছে, যেগুলো আল্লাহর কাছে বেশি প্রিয়। তন্মধ্যে অন্যতম আমল হলো, গুরুত্বসহ সময়মতো নামাজ আদায় করা। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে প্রশ্ন করলাম, আল্লাহর কাছে সর্বাধিক প্রিয় আমল কোনটি? তিনি বলেন, ‘সঠিক সময়ে নামাজ আদায় করা।’ 

আল্লাহর প্রিয় জায়গা

পৃথিবীতে কিছু জায়গা মহান আল্লাহর বেশি প্রিয়। আর তা হলো মসজিদ, যেখানে মহান আল্লাহকে সিজদা করা হয়। এটি মহান আল্লাহকে সিজদা করার জায়গা হওয়ায় একে মসজিদ বলা হয়। বান্দা মহান আল্লাহর সবচেয়ে কাছাকাছি থাকে সিজদারত অবস্থায়। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ তাআলার কাছে সবচেয়ে প্রিয় জায়গা হলো মসজিদ আর সবচেয়ে খারাপ জায়গা হলো বাজার।’ (মুসলিম, হাদিস : ১৪১৪)

রও পড়ুন:

মাদক মামলায় নারীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

নতুন করে স্নায়ুযুদ্ধ চায় না যুক্তরাষ্ট্র

নারী ক্ষমতায়নে আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ফ্রান্সের পাশে ইউরোপীয় ইউনিয়ন


মহান আল্লাহ তাআলা সকল মুমিনদের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া এবং আল্লাহর বেশি প্রিয় কাজগুলো করার তাওফিক দান করুন। আমিন। 

news24bd.tv রিমু     

পরবর্তী খবর

সূরা বাকারা: আয়াত ৮৫-৮৮, শুধু পাপ নয়, পাপীকে সহযোগিতাও নিষিদ্ধ

অনলাইন ডেস্ক

সূরা বাকারা: আয়াত ৮৫-৮৮, শুধু পাপ নয়, পাপীকে সহযোগিতাও নিষিদ্ধ

পবিত্র কুরআনের গুরুত্বপূর্ণ সূরা আল-বাকারা আলোচনার আজকের পর্বে সূরাটির ৮৫ থেকে ৮৮ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যা তুলে ধরা হবে। বনী ইসরাইলীদেরকে উদ্দেশ্য করে আল্লাহপাক সূরা বাকারা’র ৮৫ নম্বর আয়াতে বলেছেন -

ثُمَّ أَنْتُمْ هَؤُلَاءِ تَقْتُلُونَ أَنْفُسَكُمْ وَتُخْرِجُونَ فَرِيقًا مِنْكُمْ مِنْ دِيَارِهِمْ تَظَاهَرُونَ عَلَيْهِمْ بِالْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ وَإِنْ يَأْتُوكُمْ أُسَارَى تُفَادُوهُمْ وَهُوَ مُحَرَّمٌ عَلَيْكُمْ إِخْرَاجُهُمْ أَفَتُؤْمِنُونَ بِبَعْضِ الْكِتَابِ وَتَكْفُرُونَ بِبَعْضٍ فَمَا جَزَاءُ مَنْ يَفْعَلُ ذَلِكَ مِنْكُمْ إِلَّا خِزْيٌ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ يُرَدُّونَ إِلَى أَشَدِّ الْعَذَابِ وَمَا اللَّهُ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعْمَلُونَ (85

‘‘অতঃপর সেই তোমরাই প্রতিশ্রুতি দেয়া সত্ত্বেও তোমাদের একে অন্যকে হত্যা করছ এবং তোমরাই একদলকে তাদের মাতৃভূমি থেকে বের করে দিচ্ছ, তোমরা তাদের প্রতি অন্যায় ও সীমা লঙ্ঘনে পরস্পরকে সাহায্য করছ এবং তারা বন্দী হয়ে তোমাদের কাছে আসলে তোমরা মুক্তিপণ নাও। অথচ তাদেরকে বহিষ্কার করাই তোমাদের জন্য অবৈধ ছিল। তবে কি তোমরা গ্রন্থের কিছু অংশ বিশ্বাস কর এবং কিছু অংশ অবিশ্বাস কর? সুতরাং তোমাদের মধ্যে যারা এরূপ করে তারা পার্থিব জীবনে দুর্গতি ছাড়া অন্য কিছু পাবে না এবং পুনরুত্থান বা কিয়ামতের দিনে তারা কঠোর শাস্তির দিকে নিক্ষিপ্ত হবে। আর তোমরা যা কিছু করছ আল্লাহ সে সম্পর্কে উদাসীন নন।’’ (২:৮৫)

এ আয়াতে বনী ইসরাইলকে তিরস্কার করে বলা হয়েছে যে, তারা আল্লাহকে দেয়া ওয়াদা ভঙ্গ করে একে অন্যকে হত্যা করেছে এবং তাদেরই একদলকে মাতৃভূমি থেকে বহিষ্কার করেছে। অথচ অদ্ভুত বিষয় হলো, তারা তাওরাত গ্রন্থের বিধান অনুযায়ী বন্দীদের মুক্তি দেয়ার জন্য মুক্তিপণ নেয়। মুক্তিপণ নিয়ে মুক্তি দেয়া যেমন তাওরাতের বিধান তেমনি হত্যা না করা ও কাউকে তার ঘর বাড়ী থেকে তাড়িয়ে না দেয়াও তাওরাতের বিধান। প্রকৃতপক্ষে তোমরা আসমানী গ্রন্থের পরিবর্তে প্রবৃত্তির দাসে পরিণত হয়েছিল। তারা খোদার যেসব বিধানকে নিজেদের রুচি ও ইচ্ছের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ মনে করতো শুধু সেগুলোকেই মান্য করতো, আর নিজেদের মনমত না হলে আল্লাহর বিধানকে অবজ্ঞা করতে।

এই আয়াত অনুযায়ী মানুষের প্রকৃত ঈমানের পরিচয় পাওয়া যায় তার কাজে-যেসব কাজের জন্য আল্লাহই নির্দেশ দিয়েছেন। ঈমানের পরিচয় সে ধরনের কাজে পাওয়া যায় না যেসব কাজ মানুষ তার ব্যক্তিগত স্বার্থ ও পছন্দ অনুযায়ী করে থাকে। কারণ এ ধরনের কাজ আল্লাহর ইবাদত নয় বরং নিজেরই পূজা বা উপাসনা। শুধু পাপ করা নয়, পাপীকে সহযোগিতা করাও নিষিদ্ধ। রাসূল (সা.)-এর আহলে বাইত হযরত ইমাম কাজেম (আ.) একজন মুসলমানকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, আব্বাসীয় খলিফা হারুনুর রশীদের দরবারের জন্য উট ভাড়া দেয়া জায়েজ নয়। যদি তারা হজ্বে যাবার জন্যেও ভাড়া নিতে চায় তবুও উট ভাড়া দেয়া জায়েজ হবে না। কারণ তারা সফর থেকে নিরাপদে ফিরে এসে তোমাকে ভাড়ার অর্থ পরিশোধ করুক এটাই তুমি চাইবে। কিন্তু কোন অত্যাচারী বেশি দিন বেঁচে থাকুক এই কামনা করাও তো পাপ।

এবারে সূরা বাকারা'র ৮৬ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে -

أُولَئِكَ الَّذِينَ اشْتَرَوُا الْحَيَاةَ الدُّنْيَا بِالْآَخِرَةِ فَلَا يُخَفَّفُ عَنْهُمُ الْعَذَابُ وَلَا هُمْ يُنْصَرُونَ (86

‌‌‘‘এরাই পরকালের বিনিময়ে পার্থিব জীবন ক্রয় করেছে। সুতরাং তাদের শাস্তি হ্রাস করা হবে না এবং তারা কোন সাহায্যও পাবে না।’’ (২:৮৬)

এই আয়াতে আল্লাহকে দেয়া ওয়াদা ভঙ্গ করা, হত্যা করা এবং অন্যদেরকে ঘর-বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, বনী ইসরাইলীরা শুধু দুনিয়ার জীবনের পিছনেই ছুটছে এবং শুধু নিজেদের স্বার্থ রক্ষাকারী বিধানগুলোই পালন করছে। কিন্তু আখেরাতের সাথে সম্পর্কিত বিষয়ের প্রতি তারা উদাসীন। এত দুনিয়া পূজা ও পাপ করা সত্ত্বেও ইহুদীরা পরকালে শাস্তি পাবে না বলে দাবি করতো। কিন্তু এই আয়াতে বলা হয়েছে যে,তাদের এই দূরাশার বিপরীতে অন্যান্য পাপীদের মত তারাও তাদের পাপের জন্য শাস্তি ভোগ করবে এবং কেউই তাদের সাহায্য করবে না।

এরপর ৮৭ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে -

وَلَقَدْ آَتَيْنَا مُوسَى الْكِتَابَ وَقَفَّيْنَا مِنْ بَعْدِهِ بِالرُّسُلِ وَآَتَيْنَا عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ الْبَيِّنَاتِ وَأَيَّدْنَاهُ بِرُوحِ الْقُدُسِ أَفَكُلَّمَا جَاءَكُمْ رَسُولٌ بِمَا لَا تَهْوَى أَنْفُسُكُمُ اسْتَكْبَرْتُمْ فَفَرِيقًا كَذَّبْتُمْ وَفَرِيقًا تَقْتُلُونَ (87)

‘‘অবশ্যই আমি মূসাকে কিতাব দিয়েছি। এবং তার পরে পর্যায়ক্রমে রসূল পাঠিয়েছি। আমি মরিয়ম তনয় ঈসাকে সুস্পষ্ট মোজেযা দান করেছি এবং পবিত্র রূহের মাধ্যমে তাকে শক্তিদান করেছি। অতঃপর যখনই কোন রসূল এমন নির্দেশ নিয়ে তোমাদের কাছে এসেছে, যা তোমাদের মনে ভাল লাগেনি, তখনই তোমরা অহংকার করেছ। শেষ পর্যন্ত তোমরা একদলকে মিথ্যাবাদী বলেছ এবং একদলকে হত্যা করেছ।’’ (২: ৮৭)

এ আয়াতে মানুষের পথ প্রদর্শনের জন্য আল্লাহর অবিরাম অনুগ্রহের কথা বলা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে মহান আল্লাহ মূসা (আঃ)এর পর বনী ইসরাইলের কাছে অন্যান্য নবীদের পাঠিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে হযরত ঈসা (আঃ) ছিলেন অন্যতম। কিন্তু ইহুদীরা দুনিয়াপূজা ও আত্মপূজার কারণে নিজেদের অবাধ্যতার চিরাচরিত রীতি অনুসরণের মাধ্যমে ঐসব নবীদের অস্বীকার করেছে, এমনকি তাদের অনেককে শহীদ করেছে। কারণ নবীরা ইহুদীদের অবৈধ দাবি মেনে নিতে রাজি হননি।

আরও পড়ুন


করোনার ভ্যাকসিনকে ‘বৈশ্বিক জনস্বার্থ পণ্য’ ঘোষণার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ই-কমার্স নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ গঠন করবে সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী

চলতি বছরের শেষে ৫জি চালু হবে : সজীব ওয়াজেদ জয়

সিরাজগঞ্জশপের প্রতারণা ফাঁস, সুরক্ষিত ১৮ হাজার ‘নগদ’ গ্রাহকের অর্থ


বাকারা’র ৮৮ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে -

وَقَالُوا قُلُوبُنَا غُلْفٌ بَلْ لَعَنَهُمُ اللَّهُ بِكُفْرِهِمْ فَقَلِيلًا مَا يُؤْمِنُونَ (88)

‘‘তারা (নবীদেরকে) বলেছিল, আমাদের হৃদয় আচ্ছাদিত, (আমরা তোমাদের বক্তব্যের কিছুই বুঝি না)। আসলে তা নয় বরং অবাধ্যতার জন্য আল্লাহ তাদের অভিশাপ দিয়েছেন (আর এ জন্যই তারা বুঝতে পারছে না) এবং তাদের অল্প সংখ্যকই বিশ্বাস করে।’’ (২:৮৮)

দাম্ভিক ও অবাধ্য ইহুদীরা নবীদের আহ্বানের জবাবে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করে বলতো আমরা এসব কথা বুঝি না এবং যা আমরা বুঝতে পারি না তা গ্রহণও করতে পারব না। পবিত্র কোরআন তাদের এই বিদ্রুপের জবাবে বলেছে, নবীদের বক্তব্য জনগণের জন্য দুর্বোধ্য নয়। আসলে গোয়ার্তুমি ও সত্যকে ঢাকা দেয়ার চেতনার কারণেই একদল ইহুদী সত্যকে বুঝতে পারছে না এবং তারা খুব কমই বিশ্বাস করে। নফস বা কুপ্রবৃত্তির অনুসরণের ফলে আত্মপূজার প্রবল চেতনা তাদের চিন্তাধারা ও হৃদয়কে আচ্ছন্ন করে ফেলেছে এবং তারা সত্য ও বাস্তবতাকে পার্থিব বা বৈষয়িক দৃষ্টি দিয়ে দেখে বলে শুধু বাহ্যিক দিকই দেখতে পায়। আর এ জন্যেই তারা ঐশী জ্ঞানকে অগ্রাহ্য করে।

এ আয়াতগুলোর শিক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে -

১. আমাদেরকে আল্লাহর সকল বিধান মেনে নিতে হবে। যেসব বিধান আমাদের পছন্দের বা মনপুত শুধু সেসব মানলেই হবে না। যদি আমরা আল্লাহর বিধান মানার ক্ষেত্রে শুধু পছন্দনীয় বিধানগুলো মানি আর অপছন্দনীয় বিধানগুলো না মানি তাহলে তা হবে আল্লাহর অনুগত্যের পরিবর্তে নিজেদের প্রবৃত্তির অনুসরণ।

২. আমরা যা-ই করি না কেন আল্লাহ যে তা দেখছেন তা আমাদের মনে রাখতে হবে এবং এটা মনে রাখতে হবে যে আমরা আল্লাহর ব্যাপারে উদাসীন হলেও আল্লাহ আমাদের ব্যাপারে কখনো উদাসীন নন। আমরা যা কিছু করছি সে সম্পর্কে আল্লাহ সবই জানেন।

৩. আল্লাহর বিধান অনুযায়ী সকল মানুষ সমান। অনেকে মনে করেন তাদের জাতি সেরা এবং আল্লাহর কাছে বেশী প্রিয়। কিন্তু এ ধারণা সম্পূর্ণ ভ্রান্ত ধারণা। আর এ ধরনের ভুল ধারণার বা দূরাশার জন্য অপরাধীদের শাস্তি মোটেও হ্রাস পাবে না।

৪. আল্লাহ মানুষের মুক্তির জন্য অনেক নবী পাঠিয়েছেন। কিন্তু মানুষ কৃতজ্ঞতার পরিবর্তে নবীদেরকে অস্বীকার করেছে এবং অনেক নবীকে শহীদও করেছে।

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর

দোয়া কুনুত উচ্চারণ ও অনুবাদ

অনলাইন ডেস্ক

দোয়া কুনুত উচ্চারণ ও অনুবাদ

বিতর নামাজের যে দোয়া পড়া হয় তা দোয়া কুনুত হিসেবে পরিচিত। অনেক অর্থসমৃদ্ধ একটি শব্দ কুনুত। এ শব্দ দ্বারা নিরবতা, সালাত, কিয়াম ও ইবাদত ইত্যাদি বুঝায়। এখানে উদ্দশ্য হলো নামাজে দাঁড়ানো অবস্থায় আল্লাহর কাছে দোয়া করা।

মানুষ যখন বিপদ ও মুসিবতে পড়ে তখনই এ দোয়া করে থাকে। বিতরের নামাজের তৃতীয় রাকাআতে সুরা ফাতেহা পড়ে অন্য সুরা মেলানোর পর তাকবিরের মাধ্যমে এ দোয়া পড়তে হয়।

দোয়া কুনুত আরবি :

اَللَّهُمَّ اِنَّ نَسْتَعِيْنُكَ وَنَسْتَغْفِرُكَ وَنُؤْمِنُ بِكَ وَنَتَوَكَّلُ عَلَيْكَ وَنُثْنِىْ عَلَيْكَ الْخَيْرَ وَنَشْكُرُكَ وَلاَ نَكْفُرُكَ وَنَخْلَعُ وَنَتْرُكُ مَنْ يَّفْجُرُكَ-اَللَّهُمَّ اِيَّاكَ نَعْبُدُ وَلَكَ نُصَلِّىْ وَنَسْجُدُ وَاِلَيْكَ نَسْعَى وَنَحْفِدُ وَنَرْجُوْ رَحْمَتَكَ وَنَخْشَى عَذَابَكَ اِنَّ عَذَابَكَ بِالْكُفَّارِ مُلْحِقٌ

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্না নাসতায়িনুকা ওয়া নাসতাগ ফিরুকা, ওয়ানু’মিনু বিকা ওয়া নাতাওয়াক্কালু আলাইকা ওয়া নুছনি আলাইকাল খাইর। ওয়া নাসকুরুকা ওয়ালা নাক ফুরুকা, ওয়ানাখলাউ উয়ানাত রুকু মাইয়্যাফযুরুকা। আল্লাহুম্মা ইয়্যাকানা’বুদু ওয়ালাকা নুছল্লি, ওয়ানাস জুদু ওয়া ইলাইকা নাসয়া; ওয়া নাহফিদু ওয়া নারজু রাহমাতাকা, ওয়া নাখশা আজাবাকা; ইন্না আজাবাকা বিলকুফফারি মুলহিক্।

আরও পড়ুন:


পাঁচ বছরে বাংলাদেশকে ১২০০ কোটি ডলার দেবে এডিবি

লোহাগড়ায় বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার

বিচারের কাঠগড়ায় অং সান সুচি

‘বিসমিল্লাহ’র ফজিলত


অনুবাদ : হে আল্লাহ! আমরা তোমারই সাহায্য চাই। তোমারই নিকট ক্ষমা চাই, তোমারই প্রতি ঈমান রাখি, তোমারই ওপর ভরসা করি এবং সকল মঙ্গল তোমারই দিকে ন্যস্ত করি। আমরা তোমার কৃতজ্ঞ হয়ে চলি, অকৃতজ্ঞ হই না। হে আল্লাহ! আমরা তোমারই দাসত্ব করি, তোমারই জন্য নামাজ পড়ি এবং তোমাকেই সিজদাহ করি। আমরা তোমারই দিকে দৌড়াই ও এগিয়ে চলি। আমরা তোমারই রহমত আশা করি এবং তোমার আযাবকে ভয় করি। আর তোমার আযাবতো কাফেরদের জন্যই র্নিধারিত।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর