পর্যটক শূণ্য রাঙামাটি, নতুন রূপে সেজেছে পাহাড়
পর্যটক শূণ্য রাঙামাটি, নতুন রূপে সেজেছে পাহাড়

পর্যটক শূণ্য রাঙামাটি, নতুন রূপে সেজেছে পাহাড়

Other

পর্যটক শূণ্য রাঙামাটি। চার মাস ধরে বন্ধ পর্যটন কেন্দ্র। আয় নেই, আছে ব্যয়। তবুও থেমে নেই কর্মচারীদের বেতন।

কিন্তু দিন যত বাড়ছে লোকসানও বাড়ছে কয়েকগুন। মাত্র চার মাসে রাজস্ব খাতে ঘাটতি রয়েছে এক কোটি টাকা।

আয় সংকট চলমান থাকলে বন্ধ হতে পারে কর্মচারীদের বেতনও। শুধু পর্যটন ব্যবসায়ীরা নয়, এর প্রভাব পরবে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের শিল্পের উপরও। তাই টানা পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ থাকলে নানামুখি সংকটের শঙ্কা বাড়বে বলে মনে করছেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে গত এপ্রিল মাস থেকে বন্ধ রাঙামাটির পর্যটন কেন্দ্রগুলো। তাই নেই কোন পর্যটকের আনাগোনা। তাই একেবারে স্থবির পর্যটন কেন্দ্রীক সব ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলো। আর মাত্র একদিন পর ঈদ-উল-আযহা হলেও লাগেনি উৎসবের রঙ। নেই কোথাও আনন্দের উচ্ছাস। করোনা সংক্রমণের শঙ্কায় ম্লান করেছে সমস্ত আয়োজন।

news24bd.tv

অথচ গত বছরও পর্যটকের উপচে পড়া ভিড় ছিল এ পাহাড়ে। কিন্তু এখন পুরাই ভিন্ন চিত্র। এ বারে খালি সব হোটেল, মোটেল ও রেস্ট হাউসগুলো। তাতেই বেকার হয়ে পড়েছে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ক্ষুদ্রে শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো।

শুধু রাঙামাটি নয়, একই চিত্র দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত অপর দুই পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান। করোনার কালো ছায়ায় ধস নেমেছে পর্যটন ব্যবসায়। বেকার সময় পার করছে হাজারো পর্যটন শ্রমিক।

এক সময় যে পাহাড় জুড়ে জমজমাট ছিল ভ্রমণ পিয়াসুদের আনাগোনায়। যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি দূর করতে হাজারো পর্যটক ছুটে আসতো সবুজ পাহাড় ও নদী ঘেরা মনোরম প্রকৃতির লীলাভূমি পার্বত্যাঞ্চলে। এখন তা কল্পনা করা যায়না।  

রাঙামাটি পর্যটন কমপ্লেক্সের নৌযান ঘাটের ম্যানেজার মো. রমজান আলী জানান, পর্যটক নেই, তাই ব্যবসাও নেই। নৌযান ঘাটের প্রায় শতাধিক মানুষ বেকার রয়েছে। কাপ্তাই হ্রদে এখন আর কেউ নৌ ভ্রমণ করে না। করোনার কারণে সব কিছুতেই ধস নেমেছে।  

news24bd.tv

অন্যদিকে পাহাড় সেজেছে নতুন রূপে। সবুজ পাহাড়ে একপশলা বৃষ্টিতে দোল খেলছে সাদা মেঘের ভেলা। একই সাথে পাহড়ের ভাঁজে ভাঁজে হরেক রঙের ফুলের মেলা। পাখ-পাখালির নির্মল আনন্দ আর অনাবিল উচ্ছাস। প্রকৃতি যেন শান্ত, সিগ্ধ আর কোমলতার রূপ নিয়েছে। কিন্তু তা দেখার কেউ নেই।

রাঙামাটি পর্যটন মোটেল ও হলিডে কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক সৃজন বিকাশ বড়ুয়া জানান, দেশে করোনাকাল শুরু থেকে বন্ধ রাঙামাটিতে পর্যটক আসা। মাঝখানে একটু স্বাভাবিক হলেও গত চার মাস ধরে একেবারে বন্ধ পর্যটন কেন্দ্র। তাই পর্যটন কমপ্লেক্সের কর্মচারীদেরও বেতন ভাতাও বন্ধ হয়ে যাওয়ার শঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ রাঙামাটি পর্যটন কমপ্লেক্সে ৪৯ জন কর্মচারী রয়েছে। তাদের প্রতি মাসে বেতন দিতে হয় প্রায় সাড়ে ৬ লাখ টাকা।

অন্যদিকে ঘাটতি রয়েছে এক কোটি টাকা। তাই দিন বাড়লে নানামুখি শঙ্কাও বেড়ে যায়।   এবার ঈদ উৎসবেও পর্যটক আসেনি পাহাড়ে। নেই কোন বুকিংও। করোনার দূর্যোগ না কাটা পর্যন্ত স্বাভাবিক হবে না পর্যটন ব্যবসা।


আরও পড়ুনঃ

দ. কোরিয়ার কোন গালিও দেয়া চলবে না উত্তর কোরিয়ায়

তালেবানের হাত থেকে ২৪ জেলা পুনরুদ্ধারের দাবি

কাছাকাছি আসা ঠেকাতে টোকিও অলিম্পিকে বিশেষ ব্যবস্থা

দীর্ঘ রোগে ভুগে মহানবী (সা.) কে নিয়ে ব্যঙ্গচিত্র আঁকা কার্টুনিস্টের মৃত্যু


প্রসঙ্গত, রাঙামাটি জেলাজুড়ে রয়েছে অসংখ্য দর্শণীয় ও উপভোগ্য স্থান। গড়ে উঠেছে অনেক দৃষ্টিনন্দন পর্যটন স্পট। এখন ভ্রমণপিপাসু ও প্রকৃতিপ্রেমী মানুষের বেড়ানোর বড় সুযোগ ছিল ঈদের ছুটি। রাঙামাটির মূল শহর থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের হলিডে কমপ্লেক্স। সেখানে রয়েছে দৃষ্টিকাড়া ঝুলন্ত ব্রিজ, কটেজ ও মোটেল। পর্যটন নগরী রাঙামাটিতে পর্যটকদের আনন্দ ও মনোরঞ্জন জোগানোর অসংখ্য নৈসর্গিক আবেশ ও দর্শনীয় অনেকগুলো স্থান ও স্পট রয়েছে। সরকারি পর্যটন মোটেল ছাড়াও ডিসি বাংলো, পেদাটিংটিং, সুবলং ঝর্ণা ও পর্যটন স্পট, টুকটুক ইকো ভিলেজ, গিরিশোভা ভাসমান রেস্তোঁরা, পৌর পার্ক, সুখী নীল গঞ্জ, উপজাতীয় যাদুঘর, রাজবন বিহার, চাকমা রাজার বাড়ি, বীরশ্রেষ্ট মুন্সি আবদুর রউফের স্মৃতিসৌধসহ মনোরম ও নয়নাভিরাম স্পট ও স্থাপনা সত্যিই যে কোন পর্যটককে সহজেই কাছে টানে। শিহরিত করে তোলে স্বচ্ছ কাপ্তাই হ্রদের জলে নৌ বিহারের মতো রোমাঞ্চকর নৌ-ভ্রমণ। আর এসব পর্যটন স্পটগুলো এখন একেবারে ফাঁকা।

news24bd.tv / নকিব