কোরবানির পশু জবাইয়ের নিয়ম ও দোয়া

অনলাইন ডেস্ক

কোরবানির পশু জবাইয়ের নিয়ম ও দোয়া

রাত পোহালেই মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎসব ঈদুল আজহা। আর ঈদুল আজহা মানেই পশু কোরবানি। আল্লাহর অশেষ নেয়ামতের দিনও এটা। আল্লাহর প্রতি ভালবাসা থেকেই আল্লাহর নামেই পশু কোরবানি করে উৎসর্গ করা হয়। 

তাই কোরবানির পশু জবাইয়ের নিয়ম কানুন থেকে শুরু করেন বণ্টন সব কিছু সঠিকভাবে হওয়া খুবই জরুরি। 

নিজের কোরবানির পশু নিজেই জবাই করা মুস্তাহাব। যদি নিজের দ্বারা জবাই সম্ভব না হয় তবে অন্যের দ্বারা জবাই করানো। এক্ষেত্রে জবাইয়ের সময় কোরবানি দাতা সামনে থাকা উত্তম।

কোরবানির পশু জবাইয়ের নিয়ম ও দোয়া তুলে ধরা হলো-

জবাই বা নহরের পদ্ধতি

জবাই করার সময় পশু ক্বিবলামুখী করে শোয়ানো। অতঃপর (بِسْمِ اللهِ اَللهُ اَكْبَر) বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার বলে জবাই করা।

ইচ্ছাকৃতভাবে বিসমিল্লাহ বলা পরিত্যাগ করলে জবাইকৃত পশু হারাম বলে গণ্য হবে। আর যদি ভুলবশত বিসমিল্লাহ ছেড়ে দেয় তবে তা খাওয়া বৈধ।

জবাই করার সময় কণ্ঠনালী, খাদ্যনালী, এবং উভয় পাশের দুটি রগ অর্থাৎ মোট চারটি রগ কাটা জরুরি। কমপক্ষে যদি তিনটি রগ কাটা হয় তবে কোরবানি শুদ্ধ হবে। কিন্তু যদি দু’টি রগ কাটা হয় তবে কোরবানি দুরস্ত হবে না। (হিদায়া)

জবাই করার সময় ছুরি ভালভাবে ধার দিয়ে নেয়া, যাতে জবাইয়ের সময় পশুর অপ্রয়োজনীয় কষ্ট না হয়। যেমন- এক ছুরি দিয়ে জবাই শুরু করে চামড়া কিছু কাটার পর আর না কাটা অতঃপর আবার ছুরি পরিবর্তন করে জবাই করা ইত্যাদি।

কোনো ব্যক্তি জবাই করার সময় জবাইকারীর ছুরি চালানোর জন্য সাহায্য করে, তবে তারও বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার বলা।

কোরবানির পশু জবেহের দোয়া

কোরবানির পশু জবাই করার সময় মুখে (উচ্চ স্বরে) নিয়ত করা জরুরি নয়। অবশ্য মনে মনে এ নিয়ত করা যে, ‘আমি আল্লাহর উদ্দেশ্যে কোরবানি আদায় করছি। তবে মুখে দোয়া পড়া উত্তম।

কোরবানির পশু ক্বিবলার দিকে শোয়ানোর পর এ দোয়া পাঠ করা-

উচ্চারণ- ইন্নি ওয়াঝঝাহতু ওয়াঝহিয়া লিল্লাজি ফাতারাস সামাওয়াতি ওয়াল আরদা হানিফাও ওয়া মা আনা মিনাল মুশরিকিন। ইন্না সালাতি ওয়া নুসুকি ওয়া মাহইয়া ওয়া মামাতি লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন। লা শারিকা লাহু ওয়া বি-জালিকা উমিরতু ওয়া আনা মিনাল মুসলিমিন। আল্লাহুম্মা মিনকা ও লাকা।

অতঃপর ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার’ বলে কুরবানির পশু জবাই করা।

কোরবানির পশু জবাই করে এ দোয়া পড়া-
 
উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা তাকাব্বালহু মিন্নি কামা তাকাব্বালতা মিন হাবিবিকা মুহাম্মাদিও ওয়া খালিলিকা ইবরাহিমা আলাইহিমাস সালাতা ওয়াস সালাম। 

লক্ষ্যণীয় হলো- যদি কেউ একাকি কোরবানি দেয় এবং নিজে জবাই করে তবে বলবে মিন্নি; আর অন্যের কোরবানির পশু জবাই করার সময় ‘মিন’ বলে যারা কোরবানি আদায় করছে তাদের নাম বলা। 

------------------------------------------------------------

যে দোয়া পড়লে জান্নাত পাওয়া যাবে!

চাকরির জন্য আল্লাহর কাছে যে দোয়া পড়বেন

যে দোয়া পড়লে মনের আসা কবুল হয়

যারা বিনা হিসাবে জান্নাতে যাবে

যে দোয়া পড়লে কখনো বিফলে যায় না!

যে সময় দোয়া পড়লে দ্রুত কবুল হয়

কঠিন বিপদ থেকে রক্ষা পেতে যে দোয়া পড়বেন!

যাদের দোয়া দ্রুত কবুল হয়

-----------------------------------------------------------------

news24bd.tv / কামরুল

পরবর্তী খবর

কুশল বিনিময়ের সুন্নতগুলো জেনে নিন

অনলাইন ডেস্ক

কুশল বিনিময়ের সুন্নতগুলো জেনে নিন

মানুষকে ভালোবাসা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। মহান আল্লাহ কিয়ামতের দিন এ ধরনের লোকদের বিশেষ পুরস্কার দেবেন। ভালোবাসা তাজা রাখার একটি মাধ্যম হলো সাক্ষাৎ। কেউ যদি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তার কোনো আত্মীয় কিংবা বন্ধুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে, আল্লাহ তাআলা তার ওপর খুশি হন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘এক ব্যক্তি তার ভাইয়ের সাক্ষাতের জন্য অন্য এক গ্রামে গেল। আল্লাহ তাআলা তার জন্য পথিমধ্যে একজন ফেরেশতা নিযুক্ত করেন। ওই ব্যক্তি যখন ফেরেশতার কাছে পৌঁছল, তখন ফেরেশতা জিজ্ঞেস করল, তুমি কোথায় যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছ? সে বলল, আমি এ গ্রামে আমার এক ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করার জন্য যেতে চাই। ফেরেশতা বলেন, তার কাছে কি তোমার কোনো অবদান আছে, যা তুমি আরো প্রবৃদ্ধি করতে চাও? সে বলল, না। আমি তো শুধু আল্লাহর জন্যই তাকে ভালোবাসি। ফেরেশতা বলল, আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে (তাঁর দূত হয়ে) তোমার কাছে অবহিত করার জন্য এসেছি যে আল্লাহ তোমাকে ভালোবাসেন, যেমন তুমি তোমার ভাইকে তাঁরই সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য ভালোবেসেছ।’ (মুসলিম, হাদিস : ৬৪৪৩)

নিম্নে কোনো মুমিনের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে পালনীয় কিছু সুন্নত তুলে ধরা হলো—

সালাম করা : কারো সঙ্গে কুশল বিনিময়ের অন্যতম সুন্নত হলো, সহি-শুদ্ধভাবে সালাম করা। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, ‘তোমাদের কেউ যখন তার ভাইয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে, তখন সে যেন তাকে সালাম দেয়। অতঃপর দুজনের মধ্যে যদি গাছ, দেয়াল বা পাথর আড়াল হয়ে যায় এবং তারপর আবার সাক্ষাৎ হয়, তাহলেও যেন তাকে সালাম দেয়।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৫২০০)

মুসাফাহা করা : কারো সঙ্গে সাক্ষাৎ হলে কুশল বিনিময়ের আরেকটি সুন্নত হলো, সুন্নত পদ্ধতিতে মুসাফাহা করা। এবং তাকে যথাযথ সম্মান করা ও গুরুত্ব দেওয়া। আনাস ইবনু মালিক (রা.) বলেন, ‘কোনো ব্যক্তি যখন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সাক্ষাতে এসে মুসাফাহা (করমর্দন) করত, তখন সেই ব্যক্তি তার হাত টেনে না নেওয়া পর্যন্ত তিনি নিজের হাত টেনে নিতেন না। আর সে তার চেহারা ফিরিয়ে না নেওয়া পর্যন্ত তিনি ওই ব্যক্তি থেকে নিজের চেহারা ফিরিয়ে নিতেন না। তিনি কখনো তাঁর পা দুটি তাঁর সামনে বসা লোকদের দিকে প্রসারিত করতেন না।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৪৯০)

হাসিমুখে কথা বলা : আবু জার (রা.) বলেন, ‘রাসুল (সা.) আমাকে বলেছেন, ভালো কোনো কিছু দান করাকে হীন মনে কোরে না, এমনকি হোক সেটা ভাইয়ের সঙ্গে হাসিমুখে সাক্ষাৎ দেওয়া।’ (মুসলিম, হাদিস : ৬৫৮৪)

আরও পড়ুন


বিশ্বের প্রশংসাসহ সব অর্জনই প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে

ফাইজারের আরও ২৫ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন দেশে এসে পৌঁছেছে আজ

গালে থাপ্পড়ের পর এবার ডিম হামলার শিকার ম্যাক্রোঁ, ভিডিও ভাইরাল

মন্দির ভাঙার প্রতিবাদে আদালতের দ্বারস্থ হলেন মুসলিমরা


ভালো কথা বলা : কুশল বিনিময়ের অন্যতম একটি সুন্নত হলো, ভালো কথা বলা। অহেতুক কথা বর্জন করা। প্রিয় নবী (সা.) ভালো কথা বলাকে সদকা বলে আখ্যা দিয়েছেন। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, মানুষের প্রত্যেক জোড়ার প্রতি সদকা আছে—প্রতিদিন যার ওপর সূর্য উদিত হয়। দুজন লোকের মধ্যে সুবিচার করাও সদকা, কাউকে সাহায্য করে বাহনে আরোহণ করিয়ে দেওয়া বা তার ওপর তার মালপত্র তুলে দেওয়াও সদকা, ভালো কথাও সদকা, সালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে পথ চলায় প্রতিটি কদমেও সদকা, রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু অপসারণ করাও সদকা।’ (বুখারি, হাদিস : ২৯৮৯)

পরবর্তী খবর

ঘরে প্রবেশের সময় যে দোয়া পড়তে হয়

অনলাইন ডেস্ক

ঘরে প্রবেশের সময় যে দোয়া পড়তে হয়

ঘরে প্রবেশের সময় যে দোয়া পড়তে হয় জেনা নিন। 

বাংলা উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা খইরাল মাউলিজি, ওয়া খইরাল মাখরাজি, বিসমিল্লাহি ওয়ালাজনা, ওয়া বিসমিল্লাহি খরাজনা, ওয়া আলাল্লাহি রব্বিনা তাওয়াক্কালনা।

অর্থ : হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে আগমন ও প্রস্থানের কল্যাণ চাই। আপনার নামে আমি প্রবেশ করি ও বের হই এবং আমাদের রব আল্লাহর ওপর ভরসা করি।

আরও পড়ুন


বিশ্বের প্রশংসাসহ সব অর্জনই প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে

ফাইজারের আরও ২৫ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন দেশে এসে পৌঁছেছে আজ

গালে থাপ্পড়ের পর এবার ডিম হামলার শিকার ম্যাক্রোঁ, ভিডিও ভাইরাল

মন্দির ভাঙার প্রতিবাদে আদালতের দ্বারস্থ হলেন মুসলিমরা


উপকার : আবু মালিক আল আশআরি (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যখন কেউ নিজ ঘরে প্রবেশ করবে তখন সে যেন এই দোয়া পড়ে। (আবু দাউদ, হাদিস : ৫০৯৬)

news24bd.tv রিমু  

 

পরবর্তী খবর

নাপাক কাপড় পাক করার নিয়ম

অনলাইন ডেস্ক

নাপাক কাপড় পাক করার নিয়ম

পবিত্রতা ঈমানের অঙ্গ। ইবাদত করার আগে পবিত্রতা অর্জন করা ফরয। তাই ইসলাম সর্বদা পবিত্র থাকার নির্দেশ দিয়েছে। শরীরের সঙ্গে সঙ্গে পরিধানের কাপড়ও পাক-পবিত্র হতে হবে। কেননা কাপড়ে নাপাক বস্তু যদি লেগে যায়, তবে আপনার ইবাদত গ্রহণযোগ্য হবে না। কাপড়ে নাপাক বস্তু লাগাটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবে কাপড় ভালোভাবে পাক-পবিত্র করে নিতে হবে। 

নাপাক কাপড় পবিত্র করার পদ্ধতি:

পবিত্রকরণের দিক দিয়ে নাপাকি আবার দুই প্রকার। যথা- (ক) দৃশ্যমান নাপাক। (খ) অদৃশ্যমান নাপাক।

(ক) কাপড়ে দৃশ্যমান নাপাক লাগলে, সেই নাপাকিকে দূর করে দিলেই- কাপড় পবিত্র হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে নাপাকি দূর করতে ধৌত করার কোনো পরিমাণ নেই। যতবার ধৌত করলে-নাপাকি দূর হবে, ততবারই ধৌত করতে হবে। যদি একবার ধৌত করলে তা চলে যায়, তবে একবারই ধৌত করতে হবে।

(খ) কাপড়ে  অদৃশ্যমান নাপাকি লাগলে, কাপড়কে তিনবার ধৌত করে-তিনবারই নিংড়াতে হবে। শেষবার একটু শক্তভাবে নিংড়াতে হবে, যাতে করে পরবর্তীতে আর কোনো পানি বাইর না হয়। (ফাতাওয়ায়ে হাক্কানিয়া : ২/৫৭৪; জামিউল ফাতাওয়া : ৫/১৬৭)

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

মানসিক প্রশান্তি লাভের উপায়

অনলাইন ডেস্ক

মানসিক প্রশান্তি লাভের উপায়

ঈমানদার ব্যক্তিরা যে তিন উপায়ে প্রশান্তি অনুভব করতে পারেন জেনে নিন...    

১. উত্তমভাবে নামাজ আদায় করা :  রাসুল (সা.) বলতেন, ‘হে বিলাল, (আজানের মাধ্যমে) নামাজ কায়েম করো। আমরা নামাজের মাধ্যমে প্রশান্তি লাভ করব।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৯৮৫-৪৯৮৬)।

২. কোরআন তিলাওয়াত করা : রাসুল (সা.) কোরআন পাঠের মাধ্যমে প্রশান্তি অনুভব করতেন। তিনি এভাবে দোয়া করতেন—‘আল্লা-হুম্মা ইন্নি আসআলুকা আন তাজ-আলাল কুরআ-না রাবিআ ক্বালবি, ওয়া নূরা সদরি, ওয়া জালা-আ হুযনি ওয়া যাহা-বা হাম্মি।’
অর্থ : হে আল্লাহ, তোমার কাছে চাই, যেন তুমি কোরআনকে করে দাও আমার হৃদয়ের বসন্ত (আগ্রহ-ভালোবাসা); আমার বক্ষের জন্য আলো; আমার দুশ্চিন্তার নির্বাসন এবং আমার পেরেশানি দূরকারী। (মুসনাদ আহমাদ, হাদিস : ৩৭১২; সিলসিলা সহিহাহ, হাদিস : ১৯৯)

আরও পড়ুন


নগরে এসছে শরৎকাল

অবসান ঘটতে যাচ্ছে আঙ্গেলা ম্যার্কেলের

শিশু সন্তানকে জবাই করে মায়ের আত্মহত্যার চেষ্টা, আটক মা


৩. আল্লাহর জিকির করা : আল্লাহর জিকির মুমিনের অন্তরকে প্রশান্ত করে। পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘...জেনে রেখো, আল্লাহর স্মরণেই শুধু হৃদয়গুলো স্থির-প্রশান্ত হয়।’ (সুরা রাদ, আয়াত : ২৮)।

মহান আল্লাহ সকলকে মনে প্রশান্তি দান করুন। আমিন।

news24bd.tv রিমু  

পরবর্তী খবর

পরকালে আল্লাহ যেভাবে মৃতদের জীবিত করবেন

মাইমুনা আক্তার

পরকালে আল্লাহ যেভাবে মৃতদের জীবিত করবেন

ঈমানের অন্যতম শর্ত হলো, পুনরুত্থানে বিশ্বাস করা। মহান আল্লাহ মৃত্যুর পর আমাদের আবার পুনরুত্থিত করবেন। যদি কেউ তা অস্বীকার করে, তবে তার ঈমান থাকবে না। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, মহান আল্লাহ বলেন, ‘তিনি সৃষ্টিকে অস্তিত্বে আনয়ন করেন, তারপর তিনি এটাকে সৃষ্টি করবেন পুনর্বার; এটা তাঁর জন্য অতি সহজ।’ (সুরা : আর রুম, আয়াত : ২৭)

মহান আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, সর্বশক্তিমান। কোনো কিছুই তাঁর সাধ্যের বাইরে নেই। প্রশ্ন হতে পারে মানুষের মৃত্যুর পর তো তাঁর শরীর পচে যায়, হাড়গোড় নষ্ট হয়ে যায়, কেউ আবার ছাই হয়ে সমুদ্রে মিশে কিংবা বাতাসে মিশে যায়, এদের মহান আল্লাহ কিভাবে পুনরুত্থিত করবেন! এ প্রশ্নের জবাবে মহান আল্লাহ বলেন, মানুষ কি মনে করে যে আমি তার হাড়গুলো একত্র করতে পারব না? হ্যাঁ, অবশ্যই আমি তা পারব; বরং আমি তার আঙুলের অগ্রভাগ পর্যন্ত আবারও যথাযথভাবে ঠিক করতে সক্ষম। (সুরা : কিয়ামাহ, আয়াত : ৩-৪)

অর্থাৎ মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের আঙুলের ছাপসহ যথাযথভাবে পুনরুত্থিত করবেন। আঙুলের ছাপ মানবদেহের এমন গুরুত্বপূর্ণ সূক্ষ্ম অংশ যে এই অংশ দিয়ে মানুষের আইডেন্টিটি যাচাই করা হয়। ১৮৮০ সালে ইংল্যান্ডে স্যার ফ্রান্সিস গোল্ট আবিষ্কার করেন, পৃথিবীতে এমন কোনো ব্যক্তি পাওয়া যাবে না যার আঙুলের ছাপ অন্য কোনো ব্যক্তির সঙ্গে হুবহু মিলে যাবে। প্রত্যেক মানুষকে শনাক্ত করার জন্য তার আঙুলের ছাপই যথেষ্ট। এ ছাড়া মানুষের আঙুলের ছাপ থেকে বিভিন্ন আণবিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে তার জীবনযাত্রা সম্পর্কে, তার বসবাসরত পরিবেশ সম্পর্কে, তার কাজ, খাওয়ার অভ্যাস এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য সম্পর্কিত সমস্যা থাকলে সেগুলোও জানতে পারা যায়।

মহান আল্লাহ ইবরাহিম (আ.)-এর আশা পূরণের জন্যও মৃতকে জীবিত করে দেখিয়েছিলেন। যেন তার হৃদয় প্রশান্ত হয় এবং পরকালের ব্যাপারে মানবজাতির বিশ্বাস দৃঢ়তর হয়। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর যখন ইবরাহিম বলল, ‘হে আমার রব, আমাকে দেখান, কিভাবে আপনি মৃতদের জীবিত করেন। তিনি বলেন, তুমি কি বিশ্বাস করনি?’ সে বলল, ‘অবশ্যই (বিশ্বাস করি); কিন্তু আমার অন্তর যাতে প্রশান্ত হয়।’ তিনি বলেন, ‘তাহলে তুমি চারটি পাখি নাও। তারপর সেগুলোকে তোমার প্রতি পোষ মানাও। অতঃপর প্রতিটি পাহাড়ে সেগুলোর টুকরা অংশ রেখে আসো। তারপর সেগুলোকে ডাকো, সেগুলো দৌড়ে আসবে তোমার কাছে। আর জেনে রাখো, নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৬০)

কোরআনের ব্যাখ্যাকাররা বলেন, ইবরাহিম (আ.) চারটি পাখিকে এমনভাবে পোষ মানান যে সেগুলোকে ডাকলেই তাঁর কাছে চলে আসত, এবং তিনি প্রত্যেকটিকে ভালোভাবে চিনতেন। এরপর আল্লাহর আদেশে পাখিগুলোকে জবাই করে সেগুলোর হাড়-মাংস, পাখা ইত্যাদিকে কিমায় পরিণত করে কয়েকটি ভাগে বিভক্ত করে নিজের পছন্দমতো কয়েকটি পাহাড়ে একেকটি ভাগ রেখে আসেন। তারপর তাদের যখন ডাকলেন, সঙ্গে সঙ্গে হাড়ের সঙ্গে হাড়, পাখার সঙ্গে পাখা, গোশতের সঙ্গে গোশত, রক্তের সঙ্গে রক্ত মিলে পূর্বের রূপ ধারণ করে এবং তাঁর কাছে উড়ে এসে উপস্থিত হয়। (তাফসিরে কুরতুবি)

রাসুল (সা.)-এর যুগে মুনাফিকরা পুনরুত্থান নিয়ে সংশয় প্রকাশ করলে আল্লাহ বলেন, ‘মানুষ কি দেখে না যে আমরা তাকে সৃষ্টি করেছি শুক্রবিন্দু থেকে? অথচ পরে সে হয়ে পড়ে প্রকাশ্য বিতণ্ডাকারী। আর সে আমার উদ্দেশ্যে উপমা পেশ করে, অথচ সে তার নিজের সৃষ্টি ভুলে যায়। সে বলে, হাড়গুলো জরাজীর্ণ হওয়া অবস্থায় কে সেগুলো জীবিত করবে? বলুন, তাতে প্রাণ সঞ্চার করবেন তিনিই, যিনি তা প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন এবং তিনি প্রত্যেকটি সৃষ্টি সম্বন্ধে সম্যক পরিজ্ঞাত।’ (সুরা ইয়াসিন, আয়াত : ৭৭-৭৯)

আরও পড়ুন


সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

নগরে এসছে শরৎকাল

অবসান ঘটতে যাচ্ছে আঙ্গেলা ম্যার্কেলের

শিশু সন্তানকে জবাই করে মায়ের আত্মহত্যার চেষ্টা, আটক মা


উল্লিখিত আয়াতগুলো একটি বিশেষ ঘটনার প্রেক্ষাপটে অবতীর্ণ হয়েছে। ঘটনাটি এই যে আস ইবনে ওয়ায়েল মক্কা উপত্যকা থেকে একটি পুরনো হাড় কুড়িয়ে তাকে স্বহস্তে ভেঙে চূর্ণবিচূর্ণ করে রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলল, এই যে হাড়টি চূর্ণবিচূর্ণ অবস্থায় দেখছেন, আল্লাহ তাআলা একেও জীবিত করবেন কি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘হ্যাঁ, আল্লাহ তাআলা তোমাকে মৃত্যু দেবেন, পুনরুজ্জীবিত করবেন এবং জাহান্নামে দাখিল করবেন।’ (মুস্তাদরাক : ২/৪২৯)

 

পরবর্তী খবর