মুরগি ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল ক্যাপিটালিজম
মুরগি ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল ক্যাপিটালিজম

মুরগি ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল ক্যাপিটালিজম

Other

ইউরোপের বামপন্থীদের সাথে চলতে গিয়া প্রথমেই যে ঝামেলায় পড়ছিলাম তা হইল খাদ্যাভ্যাস। ওনারা মাছ মাংস কম খান। বিশেষ করে মিলেনিয়াল এবং তাদের তুলনায় তরুণতর বামদের বড় অংশই ভেজিটারিয়ান। অনেকে ভিগানিজমও গ্রহণ করেছেন।

এর পেছনে একটা বড় কারন হইল পাশ্চাত্যের মাংস ইনডাস্ট্রির নিষ্ঠুরতা ও অপচয়।

মানুষের চাহিদার অতিরিক্ত পশুর মাংস উৎপাদন করা হইল পুঁজিবাদের অন্যতম সাফল্য! এবং অতিরিক্ত মাংস উৎপাদন সত্ত্বেও দুনিয়ার বহু মানুষের প্রোটিনের অভাবে অপুষ্টিতে ভোগার বাস্তবতাও এই ইন্ডাস্ট্রিয়াল ক্যাপিটালিস্ট সভ্যতারই অপর পিঠ।  

পাশ্চাত্যের মাংস ইন্ডাস্ট্রিতে পশুপাখিদেরকে প্রাণীর বদলে মাংসপিণ্ড হিসাবে বিবেচনা করা হয়। আপনি কি কখনো কেএফসির জন্যে উৎপাদিত মুরগিগুলাকে দেখেছেন? দেখলে হয়তো কেএফসির চিকেন খাওয়াটা বন্ধও কইরা দিতে পারেন।  

কিন্তু আমি ভেজিটারিয়ানিজম ভালবাসি না। নিজেও হইতে চাইনা ভেজিটারিয়ান। অন্যদিকে ভিগানিজমকেতো আমার কাছে পটেনশিয়াল রাইট-উইং মতাদর্শ মনে হয়। বড়লোক না হইলে ভিগান হওয়া কঠিন। কারন সবজি থেকে সকল প্রোটিন পাওয়ায় সহজ কাজ না, খরচবহুল। অনেকে আবার নানান রকম সাপ্লিমেন্ট খান। আমার কাছে তাই এই ধরণের খাদ্যাভ্যাস স্বাভাবিক মনে হয় না।  

যদিও এখন আগের তুলনায় সবজি বেশি খাই, বিশেষ করে সামাজিক ইভেন্টগুলাতে, তাও আমি আমার ভেজিটারিয়ান বন্ধুদের সামনে বেশ নির্লজ্জ ধরণের মাংসখোর। আমি বাংলাদেশের মানুষ, আমাদের ভারতীয় উপমহাদেশে সবজির সাথে বামপন্থার কোন সম্পর্ক নাই, বরং সম্পর্ক আছে উগ্র-ডানপন্থী বর্ণবাদের। এইটাও আমি তাদেরকে বলি, এবং সাবধান করি কোন বিশেষ খাদ্যাভ্যাসকে বিপ্লবী রাজনীতির কালচারে স্বাভাবিক করে তোলার ব্যাপারে। কেনোনা, খাদ্যাভ্যাসের সাথে জড়িত ছুৎমার্গ নতুন এলিটিজমের জন্ম দিতে পারে।  

ফার্মের মুরগি আসার আগে আমরা বাংলাদেশী জনগণ মাসে কয়দিন মুরগি খাইতাম? এখন কয়দিন খাই? ইন্ডাস্ট্রিয়াল ক্যাপিটালিজমের মুরগি উৎপাদনের পরিমান কোন স্বাভাবিক ব্যাপার না। এই ধরণের ইন্ডাস্ট্রি নিষ্ঠুর, অমানবিক ও অপচয় নির্ভর।  

এই ব্যাপারে আমি তরুণ ইউরোপিয় বামদের সাথে একমত। তবে, এই তরুণেরা কখনো ক্ষমতায় গেলে মুরগি উৎপাদন একেবারেই বন্ধ করে দেয় কিনা, সেই ব্যাপারে আমি শংকিত (এই কথাটুকু ঠাট্টা করে বললাম অবশ্য)।

লেখাটি পারভেজ আলমের ফেসবুক থেকে নেওয়া। (সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়। )

news24bd.tv নাজিম