এটাই ব্রুস লী আর কুং ফুর দর্শন

শান্তা আনোয়ার

এটাই ব্রুস লী আর কুং ফুর দর্শন

শান্তা আনোয়ার

শারীরিক দক্ষতা এবং আধ্যাত্মিক জ্ঞানের সাথে তাঁর করুণ অকাল মৃত্যু। যিনি মাত্র ৩৩  বছর বয়সে মারা যান। বলছিলাম কিংবদন্তি চীনা-আমেরিকান মার্শাল আর্টিস্ট, দার্শনিক, এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা ব্রুস লী'র কথা। তিনি বিরল সাংস্কৃতিক আইকনগুলির মধ্যে অন্যতম করে নিজেকে গড়ে তুলেছিলেন। 

ব্রুস লী মারা যান মাত্র ৩৩ বছর বয়সে ২০ শে জুলাই। ভেবেছিলাম সেদিনই এই লেখাটা লিখবো। কয়েকদিন দেরী হয়ে গেলো। 

ব্রুস লীর উপরে একটা বই আছে, "আর্টিস্ট অব লাইফ" নামে। এটা না পড়লে জানা সম্ভব না না ব্রুস লীকে শুধু মার্শাল আর্টিস্ট, অভিনেতা হিসেবেই বিবেচনা করা হয়না, তাকে দার্শনিক হিসেবেও বিবেচনা করা হয়। 

“দার্শনিক” শব্দটাকে আমি খুব সতর্কতার সঙ্গেই ব্যবহার করছি কারণ, কয়েকদিন আগে বাংলাদেশে কাকে দার্শনিক বলা যাবে আর কাকে দার্শনিক বলা যাবেনা সেটা নিয়ে মহা হুলুস্থূল লেগে গিয়েছিলো। এই লেখাটাকে আপনারা অবশ্য ব্রুস লীর উপরে লেখা "আর্টিস্ট অব লাইফ" এর একটা রিভিউ বলতে পারেন।   

ব্রুস লীর একজনই মার্শাল আর্টের শিক্ষক ছিলেন 'ইপ ম্যান' যার নাম।  তেরো থেকে আঠারো বছর এই পাঁচ বছর তিনি মার্শাল আর্ট শিখেছিলেন। ইপ ম্যান কে নিয়ে অনেক সিনেমাও হয়েছে হলিউডে।  ইং উইং চুনের মূল নীতিগুলি দিয়ে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রাচীন চীনা মার্শাল আর্টকে ব্রুস লী নিজের কৌশলের সাথে মিলিয়ে মার্শাল আর্টের নতুন ধারার সুচনা করেন। ১৯৫৯ সালে তিনি হংকং থেকে চলে আসার পরে ব্রুস লি মার্শাল আর্টের ধারা উইং চুন  নিজস্ব মার্শাল আর্টের ধারাকে অভিযোযিত করে  জুন ফ্যান গুং ফু মার্সাল আর্টের ধারা তৈরি করেছিলেন। এর আক্ষরিক অনুবাদ: ব্রুস লি'র কুংফু। ব্রুস লীর কুং ফু এর পরে আমেরিকাতে দারুণ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। 

ব্রুস লীর দর্শন ছিলো “জীবনকে পানির মতো করে তোলো”। এই পানির মেটাফোরে তিনি কীভাবে আবিষ্কার করেছিলেন তা জানা যায়না। তবে ব্রুস লী লিখেছিলেন, যখন তিনি তার মার্শাল আর্ট শিক্ষকের দেখিয়ে দেয়া একটা কৌশল রপ্ত করতে পারছিলেন না। তখন তার ট্রেইনার বলেছিলেন,  প্রাকৃতিক বাঁক অনুসরণ করে নিজেকে রক্ষা করবে এবং প্রকৃতিতে হস্তক্ষেপ করবে না। 

নিজেকে কখনই প্রকৃতির বিরুদ্ধে দাঁড় করানোর কথা মনে করবে না; কখনই কোনও সমস্যাকে সামনে থেকে মোকাবেলা করতে যাবেনা, সমস্যার বাক, তার চলন তার গতি খেয়াল করো। আর তার সাথেই চলতে চলতে তাকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করো।”

সেদিন ইপ ম্যান ব্রুস লিকে প্রাক্টিস না করে একটা সপ্তাহ ঘরে বসে থাকতে বলেছিলেন। মার্শাল আর্টের সেই কৌশল রপ্ত করতে না পারার হতাশা তো আছেই তার উপরে ইপ ম্যানের জ্ঞানের কথা ব্রুস লীকে শান্ত করতে পারলো না। হতাশা কাটাতে ব্রুস লী সমুদ্রে নৌকা বাইতে যায়। সাগরে হাওয়াতেও ব্রুস লীর হতাশা কাটেনা। তীব্র হতাশায় রাগে বিরক্তিতে ব্রুস লী পানিতেই ঘুষি মারেন। 

ঠিক তখনই -  হঠাৎ একটি চিন্তা ব্রুস লীর মাথায় এলো। এই পানিই তো আগামীর কুং ফুর দর্শন, ব্রুস লীর দর্শন। পানিকে আমরা সমস্ত শক্তি দিয়ে আঘাত করলেও - পানি আহত হয়না!  এই পানি, বিশ্বের সবচেয়ে নরম পদার্থ যা সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম পাত্রে থাকতে পারে, আবার মহাসমুদ্রেও থাকতে পারে।পানি দুর্বল হলেও তা বিশ্বের সবচেয়ে শক্ত পদার্থ রুপান্তরিত হতে পারে। পানিকে আঘাত করা না গেলেও সেই পানি দুনিয়াতে মহাপ্রলয় ঘটয়ে দিতে পারে। জলোচ্ছাসের শক্তির সামনে যেকোন শক্তিই অসহায় হয়ে যায়। 

আরও পড়ুন:


শ্রদ্ধার ফুলে ঢেকে গেল ফকির আলমগীরের মরদেহ

স্বাস্থ্যবিধি মেনে মাসব্যাপী আগস্টের কর্মসূচী ঘোষণা

জার্মানিতে বন্যায় প্রাণহানির ঘটনায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর শোক প্রকাশ

রেকর্ড গড়েই টোকিও অলিম্পিকের প্রথম সোনা জিতলেন চীনা তরুণী


পানি এতই সূক্ষ্ম যে এর এক হাতের মুঠোয় ধরা অসম্ভব; আবার এতো বিশাল জলরাশি সে তৈরি করতে পারে যা মহাসাগরও ধারণ করতে পারেনা। পানিকে আঘাত করা যায়, তবুও তা আহত হয় না; ছুরিকাঘাত করেও রক্তাক্ত করা যায় না; পানিকে কেটে ফেলা যায়না, বিভক্ত করা যায়না।

পানির নিজস্ব কোনও আকৃতি নেই তবে এটি যেই পাত্রে থাকে সেই পাত্রের আকার ধারণ করে। বাষ্পে উত্তপ্ত হলে পানি অদৃশ্য হয় তবে অদৃশ্য অবস্থাতেই এই বাষ্প বিপুল শক্তি ধরে। পানি কখনো  নায়াগ্রা জলপ্রপাতের মতো অশান্ত এবং কখনো স্থির পুকুরের মতো শান্ত, জলোচ্ছাসের মতো ভয়ঙ্কর এবং উত্তপ্ত গ্রীষ্মের দিনে বসন্তের মতো সতেজ। পানি শান্তভাবে প্রবাহিত হতে পারে আবার ধংস করে দিতে পারে। 

কুং ফুর শিক্ষা পানির প্রকৃতির মতো হয়ে ওঠা। এটাই ব্রুস লীর আর কুং ফুর দর্শন। ব্রুস লীর এই দর্শন তার একটা টিভি ইন্টারভিউয়ে সে নিজেই ব্যখ্যা করেছে। ব্রুস লীর সাথে তার বিখ্যাত উক্তি অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে আছে, “বি ওয়াটার মাই ফ্রেন্ড”। 

কমেন্ট বক্সে একটা ভিডিও লিংক দিলাম, সেখানে তার সেই সাক্ষাৎকার দেখতে পাবেন।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন:

 (মত-ভিন্নমত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

মনে পড়ে আমি ছিলাম...

জসিম মল্লিক

মনে পড়ে আমি ছিলাম...

আজকাল কোনো কিছুই আর ঠিকঠাকমতো ঘটে না আমার। যা কিছু করি মনে হয় কিছুই ঠিকমতো হয় নি। লেখা ঠিকমতো হয়নি, বলা ঠিকমতো হয়নি, যোগাযোগ ঠিক মতো হয়নি। মনে হয় কোথায় যেনো একটা গ্যাপ তৈরী হচ্ছে। মনে হয় কোথায় যেনো ভুলের চিণ্হ থেকে গেছে। কলেজে পড়ার সময় থেকেই নীহার রঞ্জন গুপ্তের বই পড়তে শুরু করি। তার রহস্য বইগুলোতে কিরীটি রায় ছিল একজন ঝানু গোয়েন্দা। অপরাধী যত বড় সেয়ানাই হোক না কেনো কিরীটি বাবু ঠিকটাক ধরে ফেলতেন। অপরাধী কোথাও না কোথাও একটা চিন্হ রেখে যায়। গোয়ান্দারা সবসময় মনে করেন, কোথাও না কোথাও একটা ক্লু থাকবেই। আমার ভুলগুলো অবশ্য ভিন্ন মাত্রার, একান্ত নিজের। আমি আমার নিজের ভুলে নিজেই জর্জরিত। আমার ভুলগুলো অন্য কেউ সহজে শুধরে দেয় না, কোনো গোয়েন্দাগিরিও নেই হয়তবা। আমার গোয়েন্দা আমি নিজেই। আমি যেমন ভুল করি, আবার একা একা ভুল স্বীকার করি, ভুল শোধরাতেও চেষ্টা করি। একই ভুল বার বার করি বলে নিজের উপর নিজেই ক্ষুব্ধ।

কেনো ভুল করলাম এইসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজি। ভাবি একই ভুল আর করব না। বড় অপরাধীরা বড় বড় ক্রাইম করে। আমি চুনোপুটি টাইপ মানুষ। বড় অপরাধ করতে বুকের পাটা লাগে, সবাই পারে না। আমি আমার ক্ষুদ্র জীবন নিয়ে জেরবার। অন্যে কে কি করল সেসব নিয়ে লিখতে সাহস পাই না। কি থেকে কি হয়। শুনেছি আমরা যে যাই লিখি না কেনো সবকিছু সিস্টেমে থেকে যায়। কিছুই মুছে যায় না। হারিয়ে যায় না। লেখা সঠিক না হলে একদিন ধরা হবে। জাল পাতা আছে। তাই ওসবের ধারে কাছে নাই আমি। শুভাকাঙ্খিরা সবসময় বলে নিজেকে সেভ করে চলতে। সত্য কথা বলার দরকারটা কি। সত্যবাবুর মা মইরা গেছে। যেমনে আছ তেমনে থাক। জেসমিনও বলে, তুমি হইছ দুই পয়সার মানুষ, কে কি করলো তা নিয়া এতো চিন্তা করতে হবে না। নিজেরে নিয়া চিন্তা করো।

কথা সত্য। আমি তাই করি। নিজেরে নিয়া চিন্তা করি। আজকাল এমন হয়েছে একটা না একটা কিছু ভুল হয়েই যায়। নিজের উপর কন্ট্রোল কমে যাচ্ছে। যা করা দরকার তা করি না, অদরকারি কাজ নিয়ে সদা ব্যস্ত। আৱ ভুলগুলোও খুউব হাস্যকর। মোটা দাগের।  কাউকে বলাও যায় না। অন্য কেউ আমার মতো করে কিনা জানি না। আমার মতো কারো না হওয়াই বাঞ্চনীয়। আমার এখন যে বয়স তাতে আমার আরো চিন্তাশীল, শান্ত, স্থির, ধৈর্য্য থাকার কথা। কিন্তু তা না হয়ে অপ্রত্যাশিত সব কান্ড করি। যাকে যা বলার কথা না তাকে তা বলি, যার সাথে যে আচরন করা উচিত না, তার সাথে সে আচরন করি, যা করা শোভন না তা করি, যাকে সম্মান করা উচিত তাকে যোগ্য সম্মান না দিয়ে অযোগ্যকে সম্মান দিয়ে বসি।

আরও পড়ুন


ভোটের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলার শুরু জিয়ার আমলে

কোহিলির বেঙ্গালুরুকে হারিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে চেন্নাই

কানাডার সিটি নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী বাংলাদেশি মিজানুর রহমান

শতবর্ষী মায়ের অপেক্ষা, ৭০ বছর পর কুদ্দুস খোঁজ পেলেন পরিবারের


পক্ষান্তরে আমার সাথেও অন্যেরা এমন আচরন করে। যার উপকার করি সেই দেখি চোখ উল্টে ফেলে। এসব কারনে একসময় গভীর বেদনায় আচ্ছন্ন হতাম। এখন হইনা তেমন। এখন সবকিছু স্বাভাবিকভাবে নিতে শিখেছি। আমার উদারতার সুযোগ নিয়েও কেউ কেউ আমাকে ব্যবহার করে। তাই এসব ভেবে কখনও একটু এলোমেলো হই বটে, নিজের উপর নিয়ন্ত্রণও হারাই। কিন্তু মেনে নেই, ভাবি এমনটাই হওয়ার কথা। প্রতিটি জীবন তার আপন নিয়মে চলবে। কেউ আমাকে নিয়ন্ত্রণ করুক, অভিযোগে জর্জরিত করুক আমি তা চাই না। আমি কখনো কারো উপর অভিযোগ করি না। কত আপনজন আমাকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে! আমি কখনো জানতে চাইনি কেনো এমন করেছে। আমার জানতে চাইতে ইচ্ছে করে না। যে হারায় সে এমনি হারায়, আর যে থাকে সে এমনি থাকে। এইসব যখন ভাবি তখন আউলা ঝাউলা লাগে। রাস্তায় নেমে পথ হারিয়ে ফেলি। এক জায়গায় যাব বলে পথে বেরিয়েছি চলে যাই অন্য জায়গায়। হঠাৎ মনে হয় আরে আমার তো এখানে আসার কথা না! অন্য কোথাও যাওয়ার কথা ছিল!

অসুস্থ্য অবস্থায় এলেবেলে ভাবনায় জর্জরিত হয়ে এমন সব কথা মাথায় আসে।

জীবনানন্দের কবিতার লাইন দিয়ে শেষ করছি…
”আবার আকাশে ঘন হয়ে উঠেছেঃ
আলোর রহস্যময় সহোদরার মতো অন্ধকার। 
যে আমাকে চিরদিন ভালোবেসেছে
অথচ যার মুখ আমি কোনোদিন দেখিনি, 
সেই নগরীর মতো ফাল্গুন আকাশে অন্ধকার নিবিড় হয়ে উঠেছে।
মনে হয় কোন্‌ বিলুপ্ত নগরীর কথা
সেই নগরীর এক ধূসর প্রাসাদের রূপে জাগে হৃদয়ে..”

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর

‘ফেইল্ড ক্যাম্পেইন’টা সেপ্টেম্বরে ‘উইন ক্যাম্পেইন’ হয়ে গেলো

শওগাত আলী সাগর

‘ফেইল্ড ক্যাম্পেইন’টা সেপ্টেম্বরে ‘উইন ক্যাম্পেইন’ হয়ে গেলো

নির্বাচনের ঘোষনা দিয়ে মাঠে নেমেই জাস্টিন ট্রুডো টের পেয়ে গিয়েছিলেন- বড্ড ঝুঁকিপূর্ণ জুয়ায় নেমে গেছেন তিনি। সপ্তাহখানেকের মাথায়  দল আর ক্যাম্পেইন মিলে পর্যালোচনায় বসলো- কতোটা ঝুঁকির মধ্যে তারা, সেখান থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব কী না- তা খতিয়ে দেখতে। তাদের সব ধরনের পর্যালোচনাই লিবারেল পার্টিকে ১৪০টির বেশি আসনের নিশ্চয়তা দিলো না। 

কিন্তু জাস্টিন ট্রুডো সেটি কাউকে বুঝতে দিতে চাইলেন না। সতর্ক হলেন- তার কথায়, চেহারায়, বডি ল্যাঙ্গুয়েজে- কোনোভাবেই যেনো পার্টির এই দুরাবস্থার প্রকাশ না পায়, তিনি উদ্বিগ্ন- সেটি যেনো কেউ ক্ষুণাক্ষরেও টের না পায়। ‘মেজরিটি’ শব্দটি ভুল করেও উচ্চারণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন নীতিনির্ধারকরা। পুরো প্রচারণায় জাস্টিন ট্রুডো একবারের জন্যও ‘মেজরিটি’ শব্দটি উচ্চারণ করলেন না- অথচ মেজরিটির জন্যই তিনি হঠাৎ নির্বাচনের ঘোষনা দিয়েছিলেন। লিবারেল পার্টি নিরবে নিজেদের মূল্যায়নের খাতায় টুকে রাখলো ‘ আগষ্ট- ফেইল্ড ক্যাম্পেইন’।

’ফেইল্ড ক্যাম্পেইন’টা  সেপ্টেম্বরে এসে ‘উইন ক্যাম্পেইন’ হয়ে গেলো। সেপ্টেম্বরের শুরু থেকেই টের পাওয়া যাচ্ছিলো নতুন কৌশলটা কাজ করছে। শেষ দুই সপ্তাহে এসে তারা বুঝে গেলেন- এই যাত্রা রক্ষা পাওয়া গেছে। দলের মূল্যয়ন খাতায় এবার লেখা হলো- ‘ সেপ্টেম্বর- উইন ক্যাম্পেইন’। 

আরও পড়ুন:

অবশেষে ব্রিটেনের লাল তালিকা থেকে বাদ পড়ছে বাংলাদেশ

বেড়াতে গিয়ে অতিরিক্ত মদ পানে দুই ছাত্রলীগ কর্মীর মৃত্যু

আর কোনো তত্ত্বাবধায়ক সরকার হবে না, জানালেন কৃষিমন্ত্রী

ইভ্যালির সঙ্গে আর সম্পর্ক নেই তাহসানের


 

ভোট হয়ে যাবার পর বিজয়ী লিবারেল পার্টি এখন সেইসব কথা নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে। নতুন করে পর্যালোচনা করছে। তবে ‘একটি ‘ফেইল্ড ক্যাম্পেইন’কে ‘উইন ক্যাম্পেইনে’ রুপান্তরিত করে ক্ষমতায় ফিরে আসার ম্যাজিক কৌশলটা নিঃসন্দেহে উদ্দীপনামূলক এবং কৌতূহলোদ্দীপক। পার্টি কখনো সেই কৌশলটা খোলামেলা প্রকাশ করলে কিংবা কোনো অনুসন্ধানী সাংবাদিক খুঁজে বের করে রিপোর্ট করলে রাজনীতি বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী এবং রাজনীতিতে আগ্রহীদের সেটি নতুন ভাবনার খোরাক যোগাবে নিঃসন্দেহে।

লেখক- শওগাত আলী সাগর, প্রধান সম্পাদক, নতুনদেশ, কানাডা।

(মত-ভিন্নমত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

বলছি না, প্রবাসীরা আওয়ামী লীগ বা বিএনপির রাজনীতি করবেন না

আনোয়ার সাদী

বলছি না, প্রবাসীরা আওয়ামী লীগ বা বিএনপির রাজনীতি করবেন না

বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত প্রবাসীরা যদি স্থানীয় রাজনীতি মনযোগ দিয়ে করতেন তাহলে আখেরে তা দেশের মানুষেরই কাজে দিতো। 

যুক্তরাজ্যে কিছু মানুষ আছেন যারা সেদেশের রাজনীতিতে ভালো করছেন, তাদের পূর্ব পুরুষ বাংলাদেশের। তাদেরকে আপনারা সবাই চেনেন, আমি আর নাম লিখলাম না। তারা দেশের যতোটা উপকার করতে পারবেন, সেদেশের আওয়ামী লীগ বা বিএনপি শাখার সভাপতি কী এতোটা কাজে আসবেন?  

আমেরিকা, কানাডা, অষ্ট্রেলিয়াসহ যেসব দেশ বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, সেসব দেশে প্রবাসীরা এখন স্থানীয় রাজনীতিতে যোগ দিতে পারেন। ক্ষমতার রাজনীতির সঙ্গে যার যোগাযোগ যতোটা নিবিড়, সে ততবেশি মানুষের উপকার করতে পারে, এ বিষয়ে নিশ্চয়ই কারো দ্বি-মত নেই? ফলে, বাংলাদেশের পক্ষে পলিসি সুবিধা নিশ্চিত করতে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী দেশের ক্ষমতার বলয়ে যোগাযোগ রাখা দরকার। সে কাজ শুধু আমাদের কূটনীতিবিদরাই করবেন কেন, দেশের মানুষরাও, বাংলাদেশি বংশোদ্ভুতরাও কূটনীতিবিদের কাজটি করে দিলে, ক্ষতি কী? 

আমি বলছি না প্রবাসীরা আওয়ামী লীগ বা বিএনপির রাজনীতি করবে না। বলছি না, জেলা সমিতি বা উপজেলা সমিতি করবে না। এসবেরও দরকার আছে। তবে এসব কাজে সব সময় বিলিয়ে দিলে, আরো বড় পরিসরে নিজেকে নিয়ে যাওয়ার কাজটি ব্যহত হয়ে বলেই অনেকের ধারণা। 

অনেক সময়, রাজনীতিবিদরা এক দেশে বসে আরেক দেশের রাজনীতি পরিচালনা করেন। কেউ কেউ নিজ দেশ থেকে নির্বাসিত থাকেন, প্রবাসে থেকে দল গুছিয়ে, ক্ষমতা দখল করে ফিরে আসার স্বপ্ন দেখেন। ইতিহাসে আমরা প্রবাসী সরকার গঠন করতেও দেখি। তারা বিদেশে থাকলেও তাদের জগত স্বদেশ নিয়ে থাকে। পরিষ্কার বলে রাখি, এই আলোচনা তাদেরকে নিয়ে নয় বা তাদের জন্য নয়। এই আলোচনা তাদেরকে নিয়ে করছি, যারা স্থায়ীভাবে অন্য একটি দেশে বসবাস করতে স্বদেশ ছেড়েছেন।  

আরও পড়ুন:

অবশেষে ব্রিটেনের লাল তালিকা থেকে বাদ পড়ছে বাংলাদেশ

বেড়াতে গিয়ে অতিরিক্ত মদ পানে দুই ছাত্রলীগ কর্মীর মৃত্যু

আর কোনো তত্ত্বাবধায়ক সরকার হবে না, জানালেন কৃষিমন্ত্রী

ইভ্যালির সঙ্গে আর সম্পর্ক নেই তাহসানের


 

একটি কথা প্রচলিত আছে, প্রবাসীদের প্রথম জেনারেশন শারীরিকভাবে বিদেশে থাকে, কিন্তু তারা মানসিকভাবে বাস করে বাংলাদেশে। দ্বিতীয় জেনারেশন দেশের জন্য কিছুটা টান অনুভব করে। তৃতীয় জেনারেশন নাকি পুরোপুরি বিদেশি হয়ে যায়। এটাই আমাদের ভাবনায় রাখতে হবে। শেকড়ের প্রতি টান যেনো প্রবাসীদের মাঝে প্রজন্মের পর প্রজন্ম বজায় থাকে, সে পরিবেশ তৈরি করে রাখতে হবে।  

যারা রেমিট্যান্স পাঠায় তাদের প্রতি শ্রদ্ধা রাখছি। এটা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ কাজ। তবে বাংলাদেশের পক্ষে অপর একটি দেশের নীতি সহায়তা নিশ্চত করা কোনোভাবেই ছোট কাজ নয়।

লেখাটি নিউজ টোয়েন্টিফোর টিভির সিনিয়র নিউজ এডিটর, আনোয়ার সাদী-এর ফেসবুক থেকে নেওয়া। 

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

'এই লোকটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লাশ ফেলতে চেয়েছিল না?'

মোহাম্মদ আলি আরাফাত

'এই লোকটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লাশ ফেলতে চেয়েছিল না?'

এই লোকটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লাশ ফেলতে চেয়েছিল না? লাশ ফেলার ষড়যন্ত্র করতে গিয়ে ধরা খেয়ে জেলও খেটেছে। এ আবার বড় বড় নীতি বাক্য শোনায় জাতিকে। লজ্জাও নাই এদের!

আমরা কোন একটা কথা বলা বা লেখার আগে দশ বার চিন্তা করি, কোন ভুল কিছু না বলে ফেলি বা লিখে ফেলি। অথচ এরা নিয়ত করে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যাচার করে। 
এরা মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলে, অথচ মত প্রকাশের স্বাধীনতা তো পরের কথা, এরা মিথ্যাচার করার স্বাধীনতাও ভোগ করছে। এই লোককে যদি শুধু মিথ্যা অপপ্রচারের জন্য আইন অনুযায়ী জবাবদিহিতার আওতায় আনা হতো তাহলে সে বার বার সাজা পেত। 

রও পড়ুন:

জন্মদিনে সৃজিতের কাছে কী চাইলেন মিথিলা?

বায়ু দূষণের তালিকায় বাংলাদেশ প্রথম, ঢাকা তৃতীয়

৪৫ মিনিট পর হাসপাতালে অলৌকিকভাবে বেঁচে উঠলেন নারী!

গাড়ি সাইড দেয়ায় ব্যবসায়ীকে মারধর করলেন এমপি রিমন!


আওয়ামী লীগের এবং সরকারের সহিষ্ণুতা ও উদারতার সুযোগ নিয়ে এরা যা ইচ্ছা তাই মিথ্যাচার করে যাচ্ছে। তাও না কি এদেশে মত প্রকাশের স্বাধীনতা নাই!

(মত-ভিন্নমত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv/ নকিব

পরবর্তী খবর

ইভানা কি আত্মহত্যা করলো না অনার কিলিং-এর শিকার হলো?

অনলাইন ডেস্ক

ইভানা কি আত্মহত্যা করলো না অনার কিলিং-এর শিকার হলো?

এই ইভানাকে আমি খুব ভালো চিনি। খুব ভালো মানে খুব ভালো। আপাত সামাজিক প্রতিষ্ঠা পাওয়া অথচ অসহায় নারীদের আমার চেয়ে ভালো আর কেউ চেনে না। এই অনার কিলিংগুলো আমার চেনা।

ইভানা মরে গিয়ে জাস্ট একটা কেস হয়েছে, কেস স্টাডিই দেখেন। শিক্ষিত এবং মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে। শিক্ষকরা বলছে, খুব মেধাবী শিক্ষার্থী ছিল সে, বিতর্ক করতো। কিন্তু পড়াশোনা শেষ না করে ব্যারিস্টার ঢাকায় বাড়ি গাড়ি থাকা ছেলে দেখে বাবা বিয়ে দিলে সেই বিয়েতে "না" বলার সাহস ইভানার ছিল না। তার নিজের ব্যারিস্টার হবার ইচ্ছা শিকেয় তুলে সে ঘরকন্নায় মন দিয়েছিল।  

বিয়ের পর ইভানা সবাইকে জানিয়েছে সে সুখী। মিথ্যা সুখের অভিনয় করে গেছে অবিরাম। দু'টো বাচ্চা হয়েছিল একটা বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন। স্বামীর সঙ্গে তার না বনা প্রথম থেকেই কিন্তু সে ডিভোর্সকে ভয় পেতো। নিজের কমফোর্ট জোন হারানোর ভয়? এই কথাটা সবসময় মাথায় ঘোরে আমার। মেয়েরা কি আসলে স্বামীর দেয়া স্বাচ্ছন্দ্য হারানোর ভয় করে না কি সমাজের? ইভানা দু'টো ভয়ই পেয়েছিল।

তার বাবা-মা জানিয়ে দিয়েছিল-  "যা কিছুই ঘটুক, স্বামীর সাথে থাকতে হবে।" ইভানা "বয়স" হয়ে যাওয়া বাবা মাকে ডিভোর্সের "লজ্জ্বা"য় ফেলতে চায় নি।

উপরন্তু দু'টো বাচ্চাকে নিয়ে এই শহরে চলার মতো কোনও আয় তার ছিল না। এরইমধ্যে স্বামীর অন্য নারীর সাথে সম্পর্ক জেনে এবং জীবনের এইসব পরিস্থিতি থেকে এক্সিট করার পথ হিসেবে একমাত্র আত্মহত্যাকেই দেখতে পেল ইভানা।

এখন বলেন, সে কী আত্মহত্যা করলো না অনারকিলিং বা হত্যার শিকার হলো? আমাদের সমাজ নারীর জন্য "ভালো পাত্র" হিসাবে যাকে রায় দেয় সে মানুষ হিসেবে কেমন তা কি কেউ দেখে? আর পরিবার। বাংলাদেশের অধিকাংশ পরিবারই একেকটা  আন্দামানের কালাপানি। বিনা অপরাধে শাস্তি পাওয়া নারীদের সেইখানে কারাবাস হয়। বিয়ে মানে সেইখানে শেষ কথা। যে পরিবার একজন মানুষের সবচেয়ে বড় ভরসার স্থল হবার কথা সেই পরিবার যখন কারাবাসের মতো হয় এই হিংস্র সমাজে তাহলে একটা নারী কোথায় যাবে কেউ বলতে পারেন? 

ইভানা আত্মহত্যা করেছে। "আত্মহত্যা কোনও সমাধান নয়" বলে অতিক্লিশে মোটিভেশনাল কথা আমি বলতেই পারি কিন্তু বলবো না কারণ ইভানার জুতা পায়ে আমি হাঁটিনি। যা করেছে সে ঠিকই করেছে। শুধু ভাবি, জীবনের কি বিপুল অবচয়!

রও পড়ুন:

প্রবাসীর জ্যাকেটের হাতায় ২ কোটি টাকার সোনা!

অবশেষে বাদুড়ের মধ্যে মিলল করোনাসদৃশ

লক্ষ্মীপুরে ৪ মাদকসেবীর বিভিন্ন মেয়াদে সাজা

বিয়ে করছেন সিদ্ধার্থ-কিয়ারা!


ইভানার "আত্মহত্যা" নিয়েে ফেসবুক বিশেষ সড়গড় দেখলাম না, সম্ভবত তার এইভাবে মরে যাওয়াটা নারীবাদের কোনও শাখার মধ্যে পড়ে না। "প্রতিবাদ" না করে মরে যাওয়ার মতো এইসব "দুর্বলতা" সম্ভবত নিন্দা যোগ্য। এতো সব সবল, প্রতিষ্ঠিত নারীদের ভিড়ে ইভানার মরে যাওয়া একটা লজ্জ্বাজনক অধ্যায় সম্ভবত। কিন্তু মেয়েটা কি করলে ঠিক হতো কেউ বলতে পারেন? ইভানার বেঁচে থাকার মতো একটা ন্যূনতম সমাজ আর রাষ্ট্র কী সৃজন করা গেছে?

(মত-ভিন্নমত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv রিমু  

পরবর্তী খবর