চাঁদে আজান শোনার বিরুদ্ধে বললে তারা ক্ষেপে উঠে

মহিউদ্দিন মোহাম্মদ

চাঁদে আজান শোনার বিরুদ্ধে বললে তারা ক্ষেপে উঠে

কথা বললাম আফগানিস্তানের একটি বাহিনীর বিরুদ্ধে, আর ক্ষেপে উঠলো বাংলাদেশের মানুষ। এ দুইটির যোগসূত্র মেলাতে গিয়ে দেখলাম, আফগানিস্তান হলো আফিম চাষের দেশ, আর বাংলাদেশ হলো পাট চাষের দেশ। 

পাট নিয়ে গবেষণা করেন, এমন একজন বিজ্ঞানীকে একটু আগে অনুরোধ জানালাম, পাট পাতার কোনো মাদকীয় গুণাবলী আছে কি না, তা একটু খতিয়ে দেখতে। 

আমি যখন আমেরিকার বিরুদ্ধে, স্তালিনের বিরুদ্ধে, ওবামার বিরুদ্ধে, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে, লেনিনের বিরুদ্ধে, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে, শিবসেনার বিরুদ্ধে কথা বলি, তখন কিন্তু তারা ক্ষেপে উঠে না। গ্রাম-গঞ্জে ইমাম সাহেবদের বেতন বাড়ানোর কথা বললেও তারা ক্ষেপে উঠে না। 

তারা ক্ষেপে উঠে শুধু, চাঁদে আজান শোনার বিরুদ্ধে কথা বললে, জাল হাদিসের বিরুদ্ধে কথা বললে, তরুণদের মগজ ধোলাইয়ের বিরুদ্ধে কথা বললে। এমন কি পৃথিবীর নানা অঞ্চলে, মুসলিমদের দুর্দশার কারণ নিয়ে কথা বললেও তারা ক্ষেপে ওঠে।
 
অনেকে আবার ক্ষেপে ওঠাকে দাবি করেন ‌‘সমালোচনা’। বিদ্বেষপ্রসূত অপ্রাসঙ্গিক মন্তব্য আর সমালোচনা যে এক জিনিস নয়, এ সাধারণ বোধটুকোও তাদের নেই। 

‘মানুষ এবং অন্ধকারের প্রশংসা’ রচনাটিতে আমি অনেক বিষয় নিয়ে কথা বলেছি। বহু মানুষ ও জাতির সমালোচনা করেছি। কিন্তু বাঙালি ফেসবুক মুসলিমরা, শুধু বেছে বেছে ওই লাইনগুলো পড়ছেন, যেগুলোতে তাদের বিষয়ে সত্য উচ্চারিত হয়েছে। সত্য উচ্চারণ, এ অঞ্চলে সবসময়ই বিপজ্জনক ছিলো। 

‘ফেসবুক মুসলিম’ আর ‘প্রকৃত মুসলিম’ এক জিনিস নয়। প্রকৃত মুসলিমদের উচিত, ফেসবুক মুসলিমদের থেকে সাবধান থাকা। তারা নানাভাবে ভুলিয়েভালিয়ে, সাধারণ ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের ব্যবহার করতে চায়।
 
আর আমার লেখা কোনো ইসলামি সাহিত্য নয়। ধর্মসম্মত সাহিত্য বা দর্শন উৎপাদন, এটি আমার কাজ নয়। এ কাজের জন্য অন্যরা আছেন। পৃথিবীতে মানুষের লেখা, একটিও গুরুত্বপূর্ণ বই দেখাতে পারবেন না, যেটি ধর্মসম্মত। বইকে থাকতে হয় ধর্মীয় বৃত্তের বাইরে। বইয়ের কিছু কথা, কাকতালীয়ভাবে আপনার পক্ষে যেতে পারে, আবার বিপক্ষেও যেতে পারে। 

এজন্য আপনি সুস্থভাবে দ্বিমত প্রকাশ করতে পারেন। কিন্তু অনেকেই প্রলাপ বা অর্থহীন বাক্যকে দ্বিমত মনে করেন। গালাগালিকেও দ্বিমত দাবি করেন! খেয়াল করলে দেখা যাবে, যারা প্রলাপ বকেন, তাদের অভিজ্ঞতা ও পড়াশোনো অত্যন্ত সীমিত। এ সীমাবদ্ধতা থেকেই তারা ক্ষেপে ওঠেন। 

আরও পড়ুন:


স্বাস্থ্যবিধি মেনে মাসব্যাপী আগস্টের কর্মসূচী ঘোষণা

জার্মানিতে বন্যায় প্রাণহানির ঘটনায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর শোক প্রকাশ

রেকর্ড গড়েই টোকিও অলিম্পিকের প্রথম সোনা জিতলেন চীনা তরুণী

বৃষ্টিপাতে ভারতের গোয়ায় ধস, ট্রেন লাইনচ্যুত (ভিডিও)


যার পড়াশোনো ও অভিজ্ঞতা যতো বেশি, তার দ্বিমত প্রকাশের ধরণও ততো উন্নত। অনেক ধর্মপ্রাণ মানুষ আমাকে কমেন্ট এবং ইনবক্সে, সুস্থভাবে তাদের দ্বিমত জানান। এটি আমাকে আনন্দ দেয়। তখন তাদের দৃষ্টিকোণ থেকে কোনো বিষয়কে দেখার সুযোগ তৈরি হয়। 

আর আমি ডগম্যাটিস্ট বা গোঁয়ার নই যে সারাক্ষণ নিজের মতামতে অটল থাকবো। একই বিষয়কে আমি, প্রায়ই নানা মত ও নানা চিন্তার আলোকে বিচার করে থাকি, এবং প্রয়োজন অনুযায়ী, আমি আমার মতামতে পরিবর্তন আনি। কারণ আমি জানি, মানুষের কোনো মতামতই ধ্রুব সত্য নয়। একমাত্র পাগলের মতামতই ধ্রুব সত্য।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

জার্মানীতে এ্যাঙ্গেলা মার্কেল যুগের অবসান ও কিছু কথা

আলী রিয়াজ

জার্মানীতে এ্যাঙ্গেলা মার্কেল যুগের অবসান ও কিছু কথা

জার্মানীতে এ্যাঙ্গেলা মার্কেল যুগের অবসান ঘটছে। রোববার সংসদের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জার্মানরা তাঁর উত্তরসূরি নির্বাচন করছেন। ষোল বছর ধরে ক্ষমতায় থাকার পরে মার্কেল ক্ষমতা থেকে সরে দাড়ালেও জার্মান রাজনীতিতে তাঁর লিগ্যাসি দীর্ঘদিন ধরেই থাকবে। 

এই ষোল বছরে জার্মানী বহু ধরণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট মোকাবেলা করেছে; এর মধ্যে ২০০৮ সালের অর্থনৈতিক সংকট, ২০১৫ সালে ইউরো জোন সংকট, একই বছরে সিরিয়া এবং ইরাক থেকে আসা শরনার্থীদের গ্রহণ করা এবং ২০২০ সালে কোভিড-১৯ অতিমারী। এই সময়ে জার্মান রাজনীতিতে যে বড় ধরণের পরিবর্তন ঘটেছে তাঁর অন্যতম দিক হচ্ছে, মার্কেল রাজনীতির আলোচনার কেন্দ্রে কূটচাল নয় পলিসিকে রাখতে পেরেছেন। 

২০১৫ সালে শরনার্থী বিষয়ে তাঁর সিদ্ধান্ত খুব জনপ্রিয় ছিলো তা বলা যাবেনা। এই প্রশ্নে তাঁর কোয়ালিশনের অন্য দল লিবারেলরা ভিন্নমত পোষন করেছিলো। কিন্ত তাঁর অবস্থান ছিলো নৈতিক ও নীতিকেন্দ্রিক। এর জন্যে তাঁকে মাশুলও গুনতে হয়েছে ২০১৭ সালের নির্বাচনে, খানিকটা পশ্চাদপসারণও; কিন্ত তাঁর সিদ্ধান্ত ইউরোপের কেন্দ্রে যে কোনও ধরণের বিশৃঙ্খলা না ঘটার ব্যবস্থা করেছে। রক্ষনশীল দলের প্রতিনিধিত্ব করেও তিনি যে পরিবর্তনগুলো করেছেন সেটি একার্থে তাঁর নেতৃত্বের গুণকেই প্রকাশ করে, এমনকি তাঁর সঙ্গে একমত না হয়েও তা বলা যায়। 

কিন্ত সবচেয়ে বড় বিষয় যেটি সেটি হচ্ছে ইউরোপ এবং বিশ্ব রাজনীতিতে যখন অস্থিতিশীলতা চলেছে মার্কেল সেখানে স্থিতিশীলতার প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন – এই কারণে নয় যে তিনি বারবার বিজয়ী হয়েছেন, এই কারণে যে তাঁর অনুসৃত পররাষ্ট্র নীতি আস্থার জায়গা তৈরি করেছে। 

২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২১ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত পশ্চিমা বিশ্বের নেতৃত্ব তিনিই দিয়েছেন, ‘লিডার অব দ্য ফ্রি ওয়ার্ল্ড’ বলে যে কথাটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্যে ব্যবহৃত হয় সেটি অন্তত এই সময়ে জার্মানীর প্রাপ্র্য। 

কিন্ত রাজনীতির দৃশ্যপট থেকে মার্কেলের অনুপস্থিতির এই সূচনায় মার্কেলের নেতৃত্বের সাফল্য গাঁথা বর্ণনা আমার লক্ষ্য নয়, আমি বরঞ্চ সামনের দিকে তাকাবার তাগিদেই এই প্রসঙ্গের অবতারনা করেছি। সামনের দিনগুলোতে ইউরোপ বিশ্ব রাজনীতিতে কী ভূমিকা নেবে, মার্কেলের অবসর গ্রহণের প্রেক্ষাপটে সেটাই ভাবা দরকার। 

এর কারণ তিনটি; প্রথমত বিশ্ব রাজনীতি এবং অর্থনীতির ভরকেন্দ্র এশিয়ায় সরে গেছে অনেক আগেই, কিন্ত এখন চীন সেই ভরকেন্দ্রের নেতৃত্ব দিতে উদ্যোগী; সেইখানে ইউরোপের সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে জার্মানীর ভূমিকা কী হবে? যুক্তরাষ্ট্র চীনকে সামরিক এবং অর্থনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে চায়। সেটা করতে হলে তাঁর দরকার ইউরোপের সমর্থন ও সহযোগিতা। 

দ্বিতীয়ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইউরোপের যে মতপার্থক্যের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে সেখানে জার্মানী সেতুবন্ধন হতে পারবে কিনা। ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে দুই দেশের সম্পর্কের টানাপড়েনের মূখে ন্যাটো এবং অন্যত্র জার্মানী ইউরোপকে একত্রে রেখেছে এবং নেতৃত্বে দিয়েছে। আগামীতে কী হবে? আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র এবং ন্যাটোর পরাজয় এই বিষয়কে আরও জটিল করে তুলেছে।
  
তৃতীয়ত রাশিয়া এবং জার্মানীর সম্পর্ক। ইউক্রেনের যুদ্ধে রাশিয়ার সম্পৃক্ততা, দেশের ভেতরে রাজনৈতিক ভিন্ন মতাবলম্বীদের ওপর দমন-পীড়ন এবং জার্মানিতে গণতন্ত্রকে ক্ষুণ্ণ করার প্রচেষ্টা দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের অবণতি ঘটিয়েছে। কিন্ত দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক অটুট আছে। নর্ড স্ট্রিম পাইপলাইন তাঁর একটি অন্যতম উদাহরণ। 

রও পড়ুন:

একাধিক পদে নিয়োগ দেবে বেক্সিমকো

বিয়ের আগেই পাত্রের মাকে নিয়ে পালিয়ে গেল পাত্রীর বাবা!

বিশ্বকাপের আগে কোহলিকে স্বস্তি দিলেন অশ্বিন

ইংরেজি শেখার জন্য বিয়ে করেছিলেন শেবাগ-যুবরাজ-হরভজন!!


জার্মানীর নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলের যে ইঙ্গিত এক্সিট পোলগুলোতে পাওয়া যাচ্ছে, যা জার্মান সময় মধ্যরাত পর্যন্ত জানা গেছে তাতে সোশ্যাল ডেমোক্রেট – এসপিডি -এগিয়ে আছে, মার্কেলের দল রক্ষনশীল সিডিইউ/সিএসিউ পিছিয়ে পড়েছে। এটা মোটেই অপ্রত্যাশিত ফল নয়। কিন্ত শেষ পর্যন্ত সরকার গঠনে গ্রীন পার্টির সমর্থন লাগবে বলেই বোঝা যাচ্ছে। রক্ষনশীলরা এখনও আশা করছেন যে, তাঁরা একটি কোয়ালিশন সরকার করতে পারবে। সেই সম্ভাবনা কম। 

ক্ষমতায় সেই দলই যাক না কেন তাঁদের বিশ্ব রাজনীতিতে জার্মানীর ভূমিকার বিষয়গুলোকে খুব শিগগিরই মোকাবেলা করতে হবে। এ্যাঙ্গেলা মার্কেলের উত্তরসূরি কতটা তাঁর উত্তরসূরি হবেন আর কতটা নিজস্ব চিহ্ন রাখতে চাইবেন/পারবেন সেটা দেখার বিষয়। কেননা এর সঙ্গে বিশ্বের সকলের স্বার্থ এবং বৈশ্বিক রাজনীতির অনেক কিছুই নির্ভর করছে।           

news24bd.tv/ নকিব

পরবর্তী খবর

ফোনের লেন্সে ধরা দিল শরতের সাদা মেঘের ভেলা!

মোমিনুল আজম

ফোনের লেন্সে ধরা দিল শরতের সাদা মেঘের ভেলা!

দেশে এখন শরৎকাল। শরৎকালের প্রধান অনুষঙ্গ সাদা মেঘের ভেলা আর কাশফুল। কাশফুলের সাথে অজস্র ছবি তুলে পোস্ট করা হচ্ছে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামে। তবে দেশে যাদের শখের বাগান তাদের কেউ বাগানে কাশফুলের গাছ রোপন করে বলে দেখিনি। অনাদর অবহেলায় বেড়ে ওঠা সৌন্দর্যের সুধা নিলেও তার কোন কদর করি না।

আমাদের এখানে কাশফুলের মতো শুভ্র সৌন্দর্যের কোন ঘাস নেই। তবুও প্রায় সব বাগানেই একগোছা ঘাসফুল লাগিয়ে থাকে বুনো সৌন্দর্যের আশায়। একটি গোলাপ গাছের প্রায় সমান দামে একগোছা ঘাসফুল কিনতে হয়।

আমাদের বাগানেও আছে কিছু ঘাসফুল। ‘জেবরা গ্রাস’ নামের এ ঘাসফুলের আদি নিবাস জাপানে। এতে সাদা ফুল ফোঁটে না, ফোঁটে সোনালি ফুল। এই শরতেও ফুঁটেছে সে ফুল। ছবি তুলতে গিয়ে ফোনের লেন্সে ধরা দিল শরতের সাদা মেঘের ভেলা।

আরও পড়ুন


সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় ‘গুলাব’, দেশে ভারী বৃষ্টির আভাস

অবসান ঘটতে যাচ্ছে আঙ্গেলা ম্যার্কেলের

শিশু সন্তানকে জবাই করে মায়ের আত্মহত্যার চেষ্টা, আটক মা


প্রকৃতি বিশ্বের সব প্রান্তে একই সৌন্দর্য বিলিয়ে যায় নি:স্বার্থভাবে।

(লেখাটির আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv রিমু

পরবর্তী খবর

মৃত মানুষের মন্দিরে পূজো দেওয়া এখন নতুন আভিজাত্য

মহিউদ্দিন মোহাম্মদ

মৃত মানুষের মন্দিরে পূজো দেওয়া এখন নতুন আভিজাত্য

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে বিদ্যাসাগর ডাকা, আর আবুল চন্দ্র পিএইচডিকে পিএইচডি ডাকার মধ্যে পার্থক্য কী? কোনো পার্থক্য নেই। কিন্তু আমাদের অনেকেই ‌‘বিদ্যাসাগর’ শব্দটিকে বিরাট উপাধি মনে করে থাকেন। ভাবখানা এমন যে— পৃথিবীতে ‘বিদ্যাসাগর’ আছেন একজনই, এবং তিনি ‘বিদ্যার সাগর’।

মৃত মানুষকে নিয়ে বাঙালির অতিরঞ্জন নতুন নয়। ঈশ্বরচন্দ্র যেহেতু মৃত, এবং তাঁর নামের শেষে একটি বিভ্রান্তিকর ডিগ্রি যেহেতু যুক্ত হয়েছে, তাই দরিদ্র চিন্তার বাঙালি তাঁকে নিয়ে বানিয়েছে নানা কাল্পনিক গল্প। তিনি যা পড়তেন, তাই মুখস্ত হয়ে যেতো। 

এজন্য কোনো বই একবার পড়লে, তিনি তা ছিঁড়ে ফেলতেন। এরকম ফালতু গল্পে ছোট বেলায় আমিও বিশ্বাস স্থাপন করেছিলাম। কিন্তু বড় হয়ে দেখলাম যে— তিনি ছিলেন আপনার আমার মতোই মেধাবী। পার্থক্য শুধু পরিশ্রম, চিন্তার ধৈর্য্য, আর পড়াশোনায়।

আরও পড়ুন:


হংকংয়ের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মেয়েদের বড় জয়

তালেবান ক্ষমতায় আসায় বিএনপি-জামায়াত-হেফাজত উৎফুল্ল: কৃষিমন্ত্রী

সৌদি আরবে বাংলাদেশির মৃত্যু

দুই ডোজ টিকা নিয়েও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার করোনা শনাক্ত


যারা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে বিদ্যার সাগর ভেবে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন, তারা কি কখনো নীলকমল বিদ্যাসাগর, জীবানন্দ বিদ্যাসাগর, রাজীবলোচন বিদ্যাসাগর, প্রাণকৃষ্ণ বিদ্যাসাগর, অথবা হরানন্দ বিদ্যাসাগরকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন?

আমাদের হুজুগ কি মূর্খতার সমানুপাতিক নয়?

আর ঈশ্বরচন্দ্রের জন্মদিনে তাঁর কাজ নিয়ে কোনো আলোচনা নেই কেন? নিউজফিডে যতোগুলো পোস্ট দেখলাম, সবই চটুল প্রশংসার পোস্ট। মৃত মানুষের মন্দিরে পূজো দেওয়া এখন নতুন আভিজাত্য। 

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv তৌহিদ

পরবর্তী খবর

আমরা অনেক তবু বদলাতে পারিনা, এখানেও কারণ মানুষ!

জুলহাস নূর

আমরা অনেক তবু বদলাতে পারিনা, এখানেও কারণ মানুষ!

হতাশা দার্শনিক ভাবেও ধরা দেয়। যেমন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বেঁচে নেই, আমরা বেঁচে আছি! আমরা, যতোসব চলতি হাওয়ার পন্থী! বিদ্যাসাগরের হাতে নির্মিত হয় বঙ্গভাষা-গদ্যের আদল, জাগে নারী অধিকার আলাপ। 

তাঁর হাতেই জাগে প্রাণ শিক্ষায়, সমাজে। আর সেই সমাজ তাঁকেই করেছে একা!

রবীন্দ্রনাথ বলতেন, ‘বিদ্যাসাগর এই বঙ্গদেশে একক ছিলেন।’ তিনি আপনার প্রাণের জোরে, কেবল আপনার বেদনার উত্তাপে একাকী আপন কাজ করিয়া গিয়াছেন।

আরো বলতেন, ‘আমাদের এই অবমানিত দেশে ঈশ্বরচন্দ্রের মতো এমন অখণ্ড পৌরুষের আদর্শ কেমন করিয়া জন্মগ্রহণ করিল, আমরা বলিতে পারি না। কাকের বাসায় কোকিলে ডিম পাড়িয়া যায়, মানব ইতিহাসের বিধাতা সেইরূপ গোপনে কৌশলে বঙ্গভূমির প্রতি বিদ্যাসাগরকে মানুষ করিবার ভার দিয়াছিলেন।’

বিদ্যাসাগর একক, কিন্তু বদলে দিয়েছেন। কারণ ঐযে মানুষ! আমরা অনেক, তবু বদলাতে পারিনা। এখানেও কারণ মানুষ!

লেখাটি সাংবাদিক জুলহাস নূর-এর ফেসবুক থেকে নেওয়া। 

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

পার্কের জায়গায় মার্কেট হচ্ছে, ভবিষ্যত নিশ্চয়ই দারুন হবে আমাদের!

জুলহাস আলম

পার্কের জায়গায় মার্কেট হচ্ছে, ভবিষ্যত নিশ্চয়ই দারুন হবে আমাদের!

জুলহাস আলম

মাঝে মাঝে ভাবি। উত্তরা একটা বড় এলাকা। কিম্তু এখানে কোনও পাবলিক লাইব্রেরি নাই, শিশু একাডেমির কোনও শাখা নাই, শিল্পকলা একাডেমির কোনও কার্যক্রম নাই,  সেই রকম কোনও গ্যালারি নাই, একটা সিনেপ্লেক্স নাই, মুক্ত হাওয়া নেবার মতো, রমনা পার্কের মতো কোনও পার্ক নাই, সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক কোনও আয়োজন নাই। 

আছে কেবল মার্কেট আর মার্কেট, নতুন নতুন শপিং মল হচ্ছে, লেক দখল করে বা তথাকথিত অনুমোদনের মাধ্যমে ক্ষমতাশীলীদের নতুন এপার্টমেন্টের প্রকল্প হচ্ছে, পার্কের জায়গায় মার্কেট হচ্ছে। 

ধানক্ষেত ধ্বংস করে, জলাশয়ের উপর বহুতল তৈরি করে, যা ইচ্ছা তেমন করে একটা উপশহর তৈরি হয়তো সময়ের দাবী ছিল, কিন্তু মননের চর্চা করার কোনও আয়োজন না থাকার দায় তবে কার? আমাদের লোভ আমাদের ধ্বংস করে চলেছে। 
 
কী দারুন আয়োজন করে আমরা একটা মু্ক্তমনা, উদারনৈতিক, সহনশীল প্রজন্ম তৈরি করছি! তাইনা? 

ভবিষ্যত নিশ্চয়ই দারুন হবে আমাদের!

জুলহাস আলম, ব্যুরো চিফ, এপি।

লেখাটি জুলহাস আলম-এর ফেসবুক থেকে সংগৃহীত ( লেখাটির আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর