কবি যদি জানতেন তাহলে কি শৈবালকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করতেন?

শান্তা আনোয়ার

কবি যদি জানতেন তাহলে কি শৈবালকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করতেন?

ছোটবেলায় যখন আমি জেনেছি কীভাবে গাছ আমাদের জন্য অক্সিজেন তৈরি করে। তখন আমি বাতাসে সেই অক্সিজেন খুঁজতাম। গাছের পাতায় হাত দিয়ে দেখতাম আমাদের নিঃশ্বাসের মতো গাছের শ্বাস দিয়ে অক্সিজেন বের হচ্ছে কিনা? আমার মনের চোখে, আমি দেখতাম এক অরণ্য প্লাবিত করা বৃষ্টিপাত থেকে গাছের নিঃশ্বাস প্রশ্বাস চলছে। আর সেই নিঃশ্বাস প্রশ্বাস থেকে সমুদ্রের পানির মতো অক্সিজেনের বিশাল ঢেউ উঠছে।

অথচ, বিশ্বের বৃহত্তম রেইনফরেস্ট আমাজন বিশ্বের ছয় শতাংশ অক্সিজেন উৎপাদন করে। তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে বাকী অক্সিজেন কোথায় থেকে আসে?

অবাক বিষয় হচ্ছে, পৃথিবীর বেশিরভাগ অক্সিজেন গাছ থেকে আসে না। ৫০-৮০% অক্সিজেন আসে মূলত সমুদ্র শৈবাল থেকে।

যেহেতু পৃথিবীর প্রায় ৭১ শতাংশ জলভূমি, তাই এটি যুক্তিসঙ্গত যে সূর্য জমির চেয়ে পানিতে বেশি কিরণ ছড়ায়। সমুদ্রের উপরের ২০০ মিটার বা প্রায় ৬৫০ ফুটকে বলে এপিপিলেজিক অঞ্চল।‌ ‘এপি’ যার অর্থ ‘উপরের’, এবং পেলেজিক, যার অর্থ ‘সমুদ্রের পৃষ্ঠ’। সমুদ্রের এই শীর্ষ অঞ্চলটি বেশিরভাগ সূর্যের আলোকে শোষণ করে- এবং  ওই অঞ্চলে থাকা শৈবাল, এককোষী উদ্ভিদকে সালোক সংশ্লেষণে সাহায্য করে।

সমুদ্রের এই শেত্তলাগুলো প্রচুর পরিমাণে অক্সিজেন উৎপাদন করে, কারণ সমুদ্রের অনেক অংশ জুড়ে এর প্রচুর পরিমাণে এই শৈবাল ছড়িয়ে থাকে। সমুদ্র শৈবাল অবশ্য সমুদ্রের প্রাণীর এক বিরাট অংশের জীবনের প্রাথমিক খাদ্য উৎস হিসেবেও কাজ করে।

অবশ্য এই শৈবাল সমুহের একটা স্টার অক্সিজেন উৎপাদক আছে প্রকলোরোক্কাস নামে এককোষী শৈবাল, যা বিশ্বের প্রায় ২০% অক্সিজেন তৈরি করে। তার মানে আমাজন রেইন ফরেস্টের উৎপাদিত এক্সিজেনের তিন গুণ অক্সিজেন প্রকলোরোক্কাস একাই তৈরি করে। 

তবে একটা কথা বলে রাখা ভালো সমুদ্র শৈবালের উত্পাদিত এই অক্সিজেনের উল্লেখযোগ্য অংশ সরাসরি আমাদের বায়ুমণ্ডলে যায় না, তবে মহাসাগরের পানিতে শোষিত হয়ে থাকে। এই পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন থেকেই মাছেরা নিঃশ্বাস নেয়।

শৈবাল দীঘিকে নাকি এক ফোটা শিশির দেওয়ার জন্য মাথা উচু করে গর্ব করে বলেছিলো, লিখে রাখতে। আহারে আমাদের কবিকুল। এই শৈবালের দয়ায় যে তার নিঃশ্বাসের ৮০% ভাগ অক্সিজেন আসতো সেটা যদি আমাদের কবি সেই সময়ে জানতেন তাহলে কি তিনি সেই শৈবালকে এতো তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করতেন? 

খেয়াল করে দেখবেন আমাদের সংস্কৃতিতে, সাহিত্যে ক্ষুদ্র জিনিসকে তুচ্ছ করার এক অদ্ভুত প্রবণতা আছে।

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

 

আরও পড়ুন:


এটাই ব্রুস লী আর কুং ফুর দর্শন

ডিএমপির ৯ পুলিশ কর্মকর্তার পদায়ন 

ফুলবাড়িয়ায় হাতকড়াসহ পালানো আসামি সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা পর গ্রেপ্তার

পিরোজপুরে প্রতিবন্ধী কিশোরীকে গণধর্ষণ, গ্রেপ্তার ২

 news24bd.tv তৌহিদ

পরবর্তী খবর

সত্যিই কি আমরা আমাদের সন্তানকে ভালবাসি?

ড. নাজনীন আহমেদ

সত্যিই কি আমরা আমাদের সন্তানকে ভালবাসি?

আমরা প্রায়ই বলি, সন্তানকে আমরা সবচেয়ে ভালোবাসি। কেউ কেউ জীবনের সর্বস্ব দিয়ে সুন্দর একটা ফ্ল্যাট কিনে বলি সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য করছি। কিন্তু সত্যিই কি আমরা আমাদের সন্তানকে ভালবাসি? যদি তাই বাসতাম তাহলে সবচেয়ে প্রথম আমরা যা করতাম তা হল, খাল-বিল, নদী- জলাশয়, আকাশ-বাতাস অর্থাৎ প্রকৃতির সম্পদ ও শক্তি নিজেরা ধ্বংস না করে সন্তান যেন তার জীবনে এই প্রাকৃতিক পরিচ্ছন্ন স্বাস্থ্যকর সম্পদের ব্যবহারের সুযোগ পায়, সেই চেষ্টা করতাম।

আমাদের জীবদ্দশায় এগুলো ধ্বংস করে ওদের জন্য বিভীষিকাময় এক ভবিষ্যৎ রেখে যেতাম না ।

সন্তানকে ভালবাসলে প্রতিদিন হাড়ি-পাতিল-কাপড় ধোয়া, গোসল করা ইত্যাদির সময় পানির ব্যবহারে যাতে অপচয় না হয় সে ব্যাপারে সতর্ক হতাম;  অহেতুক বিদ্যুতের ব্যবহার করতাম না; সামান্য গরমে এসি না চালিয়ে ভাবতাম আমার সন্তানের জন্য পরিবেশকে এরূপ দূষণ করা থেকে বিরত থাকলাম। 

সন্তানকে যদি সত্যিই ভালোবাসি তাহলে আসুন, পরিবেশের কথা ভাবি, প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষার কথা ভাবি। যারা ধনী আছেন তারা আগামী ১৪ পুরুষের জন্য অর্থ সঞ্চিত না রেখে ধরিত্রীকে দূষণমুক্ত রাখার জন্য গবেষণায় দান করলে সত্যিকার অর্থেই পরবর্তী প্রজন্ম ভালো থাকবে। পরিবেশ রক্ষায় আমাদের দায়িত্ব আছে । গৃহ থেকেই শুরু হোক সেই পদক্ষেপগুলো।

লেখক-  ইউএনডিপি বাংলাদেশের ইকোনমিস্ট ড. নাজনীন আহমেদ।

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

পড়ার ঘাটতি কী সত্যিই কটিয়ে ওঠা যায়?

আনোয়ার সাদী

পড়ার ঘাটতি কী সত্যিই কটিয়ে ওঠা যায়?

কোনো এক বৃষ্টিমুখর দিনে রুকন ক্লাসমেট থেকে বড় ভাই হয়ে গিয়েছিলো। অটো প্রমোশন নিয়ে সে ক্লাস সেভেনে ভর্তি হয়ে যায়। আমরা একই ক্লাসের অন্যরা ফাইভ থেকে সিক্সে ভর্তি হই। জীবনের নিয়মে জীবিকার দরকার ও হিসাব-নিকাশ হয়তো সে আমাদের আগে বুঝে যায়, তাই অতো বছরের পর বছর না পড়ে, সে আয় করতে শেখে কোনো এক কোম্পানিতে, আমরা থেকে যাই পড়ার জগতে।

পড়ার জগতের একটা ধারাবহিকতা আছে। প্রথম শ্রেণির পড়ার ওপর ভর করে আমরা দ্বিতীয় শ্রেণিতে যাই। ফলে, প্রথম শ্রেণির সব পড়া আয়ত্বে না এলে দাঁড়ানো হয় টলমল পায়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ইন্সটিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. সিদ্দিকুর রহমান যাকে সারা জীবনের ক্ষতি মনে করেন।

তিনি মনে করেন, একটা ক্লাস না পড়লে, মানে সে ক্লাসের পড়া ঠিক মতো আয়ত্বে না এলে পরের ক্লাসের পড়ারও ভিত্তি থাকে না। রোকনের সে সমস্যা হয়েছিলো কী না, আমি জানি না। এতো বছর পর এখন আর তা জানার কোনো সুযোগ নাই। তবে করোনায় দীর্ঘ ১৮ মাস স্কুল বন্ধ থাকায় অনেকের ভিত্তি নড়বড়ে হয়ে গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঢাকা কিংবা বিভাগীয় শহরের বড় বড় স্কুলগুলোতে অবশ্য সিলেবাস এগিয়েছে ঠিকঠাক মতো। তবে, দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একই গতিতে পড়া এগিয়ে নিতে পারেনি বলেই আমরা জানি। ফলে, এখন ক্লাস খোলার পর শিক্ষার্থীদের ক্ষতি কীভাবে পুষিয়ে দেওয়া যাবে তা একটা বড় প্রশ্ন হয়ে সামনে এসেছে। আসলেই কী পড়ার ঘাটতি পুষিয়ে দেওয়া যায়?
অতিরিক্ত ক্লাস নেওয়া, ক্লাসের সময় বাড়িয়ে দেওয়াকে সাধারণত ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ হিসাবে দেখা হয়। কিন্তু আমাদের সিলেবাস এমনভাবে তৈরি করা হয়, যেখানে শিক্ষার্থীকে প্রতিদিনই কিছু না কিছু পড়তে হয়। ভালো ফলাফলের রহস্যও লুকিয়ে আছে প্রতিদিন পড়ার ভেতরেই।

আচ্ছা, আপনাদের ক্লাসে রুল এক হতো কার? সাধারণত কোন শিক্ষকের ছেলে বা মেয়ে ক্লাসে প্রথম হতো, এটা আমাদের সময়ের হিসাব। আমরা অনেক চেষ্টা করে কোনো কোনো ক্লাসে শিক্ষকদের ছেলে মেয়েদেরকে পড়ায় হারিয়ে প্রথম হয়ে যেতাম। তখন আমাদের মনে হতো, স্যারের ছেলে-মেয়েকে ইচ্ছে করে প্রথম বানানো হয়। অনেক অভিমান হতো আমাদের। পরে জেনেছি, বিষয়টা আসলে এরকম কিছু না। স্যারদের বাসায় ছেলে-মেয়েরা প্রতিদিন নিয়ম করে পড়তে বসে। স্যারের কাছে পড়তে আসা ব্যাচের সঙ্গেও তাদের ছেলে মেয়েরা বসে যায়। ফলে, পড়ার জগতে তাদের একটা ভালো অবস্থান থাকে। মফস্বল থেকে আসা শিক্ষকদের ছেলে-মেয়েদের ক্যারিয়ার গ্রাফ বিবেচনা করলে এই তথ্যের সত্যতা মিলবে।

এখন পড়ার ধারাবাহিকতা যদি না থাকে তাহলে সেই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা অসম্ভব নয়, কঠিন। এখন এর দায়িত্ব নিতে হবে অভিভাবকদের। তাদেরকে প্রতিদিন অন্তত সন্তানের সঙ্গে বই নিয়ে বসতে হবে। ব্যস্ততার এই যুগে এটি অনেকের জন্যই কঠিন। আমরা অভিভাবকরা সন্তানদের সব পড়ার দায়িত্ব শিক্ষকদের ওপর ছেড়ে দিয়ে আরামে নিজের জীবন গড়তে থাকি। এটা ঠিক নয়।

আরও পড়ুন: 


রাসেলের বাসায় র‌্যাবের অভিযান চলছে

স্ত্রী হত্যার অভিযোগ, স্বামী-শ্বশুর পলাতক

চীনে ১০ কি.মি. গভীরতার শক্তিশালী ভূমিকম্পের হানা

দুবলার চর থেকে খুলনা কাঁকড়া পরিবহনে বাধা নেই: হাইকোর্ট


নটরডেম কলেজের ছাত্ররা পড়াটা বোঝে বেশি। এমন একটা কথা আমদের সময়ে চালু ছিলো। বলা হতো, তারা ভর্তি পরীক্ষায় সবচেয়ে বেশি টিকে যায়। এর কারণ হিসেবে বন্ধুরা বলতো, সেখানে পুরো বই পড়ানো হয়, পৃষ্ঠা বাই পৃষ্ঠা। আমিও একই কথা বলতে চাই, সাজেশন করে না পড়িয়ে, পুরো বই পড়ানো জীবনের জন্য কাজের হবে।

আপনার নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছেন, যারা টিউশনি করে, তারা পড়ায় ভালো হয়। ঘুরিয়ে বললে, অনেক কীর্তিমানই -- ছাত্র জীবনে টিউশনি করতেন বলে দাবি করেন। এটা কীভাবে মেধা বিকাশে সহযোগিতা করে তা ভাবা দরকার। পড়াতে গিয়ে নিচের ক্লাসের পড়া রিভাইজ হয়ে যায় টিউটরের। ফলে, তার নিজের ভিত্তি শক্ত হয়।

যাহোক, মহামারী কোনো স্বাভাবিক সময় নয়। এই সময়ে বেঁচে ও সুস্থ্য থাকাকেই সাফল্য হিসেবে ধরা হয়। পুরো জীবনের তুলনায় ১৮ মাস খুব একটা বড় সময় নয়। তবে এই সময়ে কারো পড়ার ঘাটতি হয়ে থাকলেও তা দূর করার জন্য সচেতন হওয়ার দরকার আছে। এই কথাটি অভিভাবকদের মনে করিয়ে দেওয়ার জন্যই এই আর্টিকেল লিখলাম। সবাই ভালো থাকবেন।

আনোয়ার সাদী, সিনিয়র নিউজ এডিটর, নিউজটোয়েন্টিফোর।

(মত-ভিন্নমত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv তৌহিদ

পরবর্তী খবর

গুরুত্বপূর্ণ পদ জনপ্রিয় হওয়ার একটি উপায়

মেজর (অব.) রেজা উল করিম

গুরুত্বপূর্ণ পদ জনপ্রিয় হওয়ার একটি উপায়

গত ১০ বছরে ফেসবুক ব্যবহারের কল্যাণে একটা বিষয় পরিষ্কার বুঝতে পেরেছি-- তা হল, সম্পর্ক গড়ার অন্যতম মাধ্যম কর্ম নয় প্রশংসা। এছাড়াও জনপ্রিয় হওয়ার অন্যতম মাধ্যম ক্ষমতা বা কোন গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত থাকা। বিনয়ের সঙ্গে বলছি, স্যোশাল মিডিয়ায় প্রচলিত এই নীতি আমি অনুসরণ করতে পছন্দ করি না। 

অনেক ঊর্ধ্বতন প্রভাবশালী সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনীতিবিদের সঙ্গে আমার পরিচয় আছে, তাদের কেউ কেউ কখনো খুব ভালো পজিশনে থাকেন আবার কখনো পদচ্যুত হন অথবা বদলি হয়ে অন্যত্র চলে চান। এদের অনেকেই আবারও গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত হন, মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে। 

তারা কি কখনো খেয়াল করেছেন, তারা যখন গুরুত্বপূর্ণ পদ ছেড়ে অন্যত্র বদলি হন পদচ্যুত হন তখন কতজন মানুষ তাদের খোঁজ খবর নেন? ওই প্রভাবশালীরা ফেইসবুকে একটি পোস্ট দিলে প্রশংসার বন্যা বয়ে যায়। প্রশংসা পাওয়ার সময় তারা কী ভাবেন, মৌমাছিগুলো কোথায় ছিল ? হঠাৎ করে কেন এতো ভালোবাসা ?

বড় কোনো পোস্ট বা ছবি নয়, শুধু "হ্যালো" কথাটি লিখলেও- 
অনেক প্রশংসাবাণী ঝরতে থাকে, যেমন- 
—-‘হলো' বলার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ, 
—আপনার অসাধারণ হ্যালোর মধ্যে মধু আছে, 
——আপনাকে স্বাগতম, 
—-আপনি অনেক বড় হৃদয়ের তাই আমাদেরকে হ্যালো বলেছেন ইত্যাদি ইত্যাদি। 
আবার ধরুন, একটা ছবি পোস্ট করা হয়েছে এবং হয়তো তার পাশে তারই স্ত্রী বসে আছে তখন দেখবেন - প্রশংসা করতে যেয়ে অনেকেই বলবে - 

—'বাহ আপনাদেরকে নায়ক নায়িকার মত লাগছে' (এতদিন কিন্তু মনে হয়নি কারণ তিনি এতদিন এই পদে ছিলেন না), 
—আপনাদেরকে অসম্ভব সুন্দর লাগছে, 
—সেরকম মানিয়েছে, 
—সুন্দর জুটি,
—এমন স্বর্গীয় জুটি কখনো দেখিনি, 
—অদ্ভুত সুন্দর জুটি, 
—বেহেস্ত থেকে জনাব হুর এবং হুর পরী নেমে এসেছেন, 
—খোদার আশীর্বাদপ্রাপ্ত জুটি ইত্যাদি ইত্যাদি।

কিন্তু দুইদিন পরে ওই জায়গা থেকে বদলি হয়ে যখন অন্যত্র যাবেন তখন কিন্তু খোঁজ নেওয়া দূরের কথা তিনি ফেসবুকে একটা পোস্ট দিলে কেউ ফিরে দেখারও সময় পাবে না, একটি ফোন কলও করবে না, খুঁজে বেড়াবেও না। 

যেমন ধরুন, কোন একজন সাবেক সিনিয়র সচিব (যোগাযোগ, জ্বালানি, স্বরাষ্ট্র ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়) তিনি যখন যোগাযোগ থেকে পরিকল্পনা (IMED) মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত হলেন তখন অনেক মানুষ তার সাথে যোগাযোগ করা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। তিনি যখন যোগাযোগ সচিব তার সাথে সুসম্পর্ক থাকা অবস্থায় দেখা করিনি তবে সেখান থেকে তিনি যখন একটু দুর্বল জায়গায় চলে গেলেন, ভাবলাম তার একটু খোঁজ নেই, হয়তো তিনি কিছুটা হলেও মানসিকভাবে আহত হতে পারেন। খুব ছোট মানুষ হলেও তাকে সাহস করে বলেছিলাম-' ইনশাল্লাহ আপনি আপনার নিজ যোগ্যতায় পুনরায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে অধিষ্ঠিত হবেন'। তারপরে অবশ্য তিনি বাংলাদেশ সরকারের সবচেয়ে বেশি তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ছিলেন।

আমার মনে হয় তখন তার কাছে আমিই সবচেয়ে কম গিয়েছি। আর যারা অতীতে তাঁর খোঁজ নেয়নি তাঁরাই সবচেয়ে বেশি গিয়েছিল।
 
আবার যখন একবার গুঞ্জন ছড়ালো তিনি কোন এক প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান হবেন তখন অনেক মানুষ তার বাসার সামনে ভিড় জমানো শুরু করলেন। আমি একদিন সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে তার গেটের সামনে গিয়ে দেখি অনেক ভিড়, তা দেখে পরে ফিরে চলে আসি। কিন্তু পরবর্তীতে যখন তিনি চেয়ারম্যান হলেন না তখন আমি আবার গিয়েছিলাম এবং দেখি সে মানুষগুলো কেউ নেই।
 
আরেকটি ঘটনা বলি, কোন একজন প্রভাবশালী জেনারেল, তার নাম বললে আপনারা সবাই চিনবেন, যার কথা মোটামুটি সবাই বলতো যে তিনি হয়তো পরবর্তী সেনাপ্রধান হবেন। আমার সাথে তার সুসম্পর্ক থাকার কারণে তার সাথে অনেক কথা হতো। এমন হয়েছে যে, তিনি একদিন আক্ষেপ করে বলছিলেন- 'দেখো আমি কিছুই জানি না অথচ মানুষ আমাকে অগ্রিম শুভেচ্ছা জানাচ্ছে'! তখন আমি তাকে বললাম-'স্যার এরা আজ ঝড়ে বক মারছে-যদি লেগে যায় থিওরির প্রয়োগ, এবং আপনি যদি সেনাপ্রধান না হন তখন দেখবেন এরা কেউ আপনার খোঁজ নিবে না। কিছুদিন আগে অনেকটা মজা করে তাকে জিজ্ঞেস করলাম- 'স্যার ওই মানুষগুলো কি আপনাকে এখন ফোন করে?'
তিনি উত্তর দিলেন- 'করবে কেন?  আমিতো তা হতে পারিনি। '

আমার অতি প্রিয় একজন অফিসার (মৃত) লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবুল কালাম আজাদ যিনি RAB- এর গোয়েন্দা শাখার প্রধান ছিলেন। তাকে আমি এতোটাই ভালোবাসি যার মৃত্যুর পরও প্রতিটা মুহূর্তে তাকে মনে করি এবং তিনি হচ্ছেন একমাত্র অফিসার যার মৃত্যুর পরে আমি তার জন্য নফল নামাজ আদায় করেছি। তার মৃত্যুর পরে সাতদিন পর্যন্ত আকাশের দিকে চেয়ে নিরবে কেঁদেছি। তিনি বেঁচে থাকা অবস্থায় যারা তাকে প্রশংসায় ভাসাতো বা যারা সবচেয়ে বেশি প্রশংসা করত তাদের কাউকে দেখিনি কর্নেল আজাদকে নিয়ে একবারের জন্যও স্মৃতিচারণ করতে। 

আমি আরো তিনজন ব্যক্তির কথা এখানে উদাহরণ সহকারে বলি- এক সময় RAB-এর লিগাল মিডিয়া উয়িং এর ডাইরেক্টর Mufti Mahmud Khan ছিলেন এবং গোয়েন্দা শাখার ডারেকটার কর্নেল Mahabub Alam এবং তারপরে সরোয়ার বিন কাসিম ছিলেন এরা তিনজনই অতি চমৎকার অফিসার। আমার সাথে ব্যক্তিগত সম্পর্ক অসম্ভব ভালো ছিল এবং এখনো আছে।
 
কিন্তু তারা যখন উক্ত পদে বহাল ছিলেন তাদের প্রতি মানুষের প্রশংসা দেখে মাঝে মাঝে ভাবতাম আমি কি বোধহয় প্রশংসা না করে অপরাধ করছি!
 
আসলে আমি মনে করি- যদি প্রশংসা করতে হয় তবে সব সময় করব শুধু এখন করবো কেন? কিন্তু দেখেন সেই মানুষগুলোই জায়গা ছেড়ে যখন অন্যত্র চলে গেলেন তখন হয়তো আমার মত অতি অল্প সংখ্যক মানুষ আছেন যারা এখনও নিঃস্বার্থভাবে তাদের খোঁজ নেয়। কিন্তু তাদের সেই সময় কিন্তু প্রশংসা করিনি তবে এখন খোঁজ নেই আর তাছাড়া যারা প্রশংসায় ভাসিয়ে দিতেন তারা কেউ কিন্তু খোঁজ নেয় না।

তবে একটু ব্যতিক্রমও আছে, যেমন- কেউ যদি বর্তমানের চেয়ে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বা পদ পজিশন পেয়ে থাকেন তাহলে কিন্তু উল্টোটাও হতে পারে! আবার কেউ যদি পদ/রাজনীতি থেকে অবসরে যান বা দল থেকে বহিষ্কার হন তাহলে তার নাম মুছে যাওয়ার আশঙ্কাই বেশি। 

তাই বলছি, প্রকৃত বন্ধুদেরকে চেনার চেষ্টা করুন। আর যদি চাটুকারদের প্রশংসায় গা ভাসিয়ে দেন একসময় আফসোস করবেন এবং মনোরোগে আক্রান্ত হবেন, নিজেকে নিঃসঙ্গ মনে হবে, হিসাব মেলাতে পারবেন না- আপনার জীবন টাই ক্ষণস্থায়ী, আপনার চেয়ার, পদ,পজিশন তার চেয়েও বেশি ক্ষণস্থায়ী। জীবনের শুরু থেকে অদ্যাবধি সকল গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে যেসব সৈনিক/কর্মচারী/কর্মকর্তা আমার অধীনে চাকরিরত ছিল বা এখনও যারা আছে তারা জানে আমি কি তাদের পাশে বেশি ছিলাম নাকি সিনিয়রদের বেশি তোষামোদ করার চেষ্টা করতাম। আর তাই তার সুফল এখন ভোগ করছি-বিপদ আপদে অনেক মানুষকেই পাই!

সবাই যা করে আমি তা করবো না- কারণ ছোটবেলা থেকেই আমি স্রোতের বিপরীত দিকে চলতে অভ্যস্ত। আমার মনে আছে ছোটবেলায় যখন আমার সমবয়সী খেলার সাথীদের নিয়ে আড়িয়াল খাঁ নদী তে ঝাঁপ দিতাম তখন অধিকাংশ ছেলেই একটি কলা গাছ নিয়ে স্রোতের অনুকূলে ভাসতে চাইতো আর আমি স্রোতের প্রতিকূলে সাঁতার কেটে দেখতে চাইতাম-আমার সাঁতারের জোর বেশি নাকি নদীর স্রোতের শক্তি বেশি? কে কাকে পরাজিত করতে পারে? কখনো নদীর স্রোত কে উপেক্ষা করে সামনে এগিয়ে যেতাম আবার কখনো পেছনে চলে যেতাম, তখন একটু রেস্ট নিয়ে আবার চেষ্টা করতাম। এই দক্ষতাটা তখন খুব কাজে লেগেছিল যখন অ্যাডভান্স কমান্ডো কোর্স করতে গিয়েছিলাম। এখনো মনে পড়ে যখন অ্যাডভান্সড কমান্ডো কোর্সের ( ACC-17) সময় 1000 মিটার সুইমিং করি তখন পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন জিয়া স্যার (তৎকালীন মেজর বর্তমানে ব্রিগেডিয়ার), তার মন মত performance দেখানো অনেক কঠিন কাজ ছিল, তিনি সহজে কাউকে very good বা খুব ভালো হয়েছে বলতেন না কিন্তু সেদিন তার মুখে সেই অমুল্য শব্দ দুটি শুনে ছিলাম। শৈশবের সেই দক্ষতার কারণে খুব সহজেই সেই প্রশিক্ষন পর্বটা শেষ করতে পেরেছিলাম। 

যখনই কোন গুরুত্বপূর্ণ পদ জনপ্রিয়  হওয়ার প্লাটফর্ম হয় তখনই সেখান থেকে ভালো ফল আশা করা যায় না কারন জনপ্রিয়তার আড়ালে তেলবাজরা সরব হয়ে কাজের গৌরব নষ্ট করে । মানুষকে অনুপ্রেরনা দেয়ার জন্য প্রশংসা করুন; চাটুকারিতা বা তেলবাজির জন্য নয়। কারন প্রথমটা কাউকে উপরে উঠতে সহায়তা করবে আর দিতীয়টা তাকে নিচে নামাতে বা ধ্বংস করতে সহায়তা করবে।

মেজর (অব.) রেজাউল করিম, নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক।

(মত-ভিন্নমত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

আরও পড়ুন


লন্ডনের বিলাসবহুল হোটেলে মরিয়ম নওয়াজের ছেলের বিয়ে

বারবার রিমান্ডে পরীমণি: ক্ষমা চাইলেন দুই বিচারক

বছর না ঘুরতেই অন্তঃসত্ত্বা কাজল!

বাণিজ্য মেলা হবে এবার নতুন স্থানে, ১ জানুয়ারি থেকে শুরু


NEWS24.TV / কামরুল

পরবর্তী খবর

শুভ জন্মদিন ‘ছোট আপা’

মাহবুব উল আলম হানিফ


শুভ জন্মদিন ‘ছোট আপা’

বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ রেহানা

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছোট কন্যা শেখ রেহানা যিনি ‘ছোট আপা’ বলে দলের নেতা কর্মীদের কাছে পরিচিত। বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে পরিবারের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি সেই পরিবারের একজন শেখ রেহানা। বাংলা ও বাঙালির প্রয়োজনে তিনি নির্মোহ একজন মানুষ। 

দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হয়েও কখনও সরাসরি রাজনীতিতে আসেননি শেখ রেহানা। তবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন-সংগ্রামে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাসহ সক্রিয় রাজনীতিবিদদের অনুপ্রেরণা ও সহযোগিতা দিয়ে গেছেন। জনহিতৈষী কাজে সব সময়ই ভূমিকা রেখেছেন শেখ রেহানা। ধানমণ্ডিতে তাঁর নামে বরাদ্দ বাড়িটিও দিয়েছেন দেশের কাজে। 

বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের বিচার চেয়ে বিশ্বমানবতার কাছে প্রথম আবেদন রাখা হয় ১৯৭৯ সালের ১০ মে। বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে বিশ্বমানবতার কাছে এই আর্জি পেশ করেছিলেন বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার স্থপতি, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানা। 

সম্মেলনের প্রধান অতিথি শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে তাঁর পাঠানো বাণী পাঠ করেন শেখ রেহানা। তাঁর পক্ষে বক্তব্য রাখেন তিনি। এটাই ছিল কোনো রাজনৈতিক সমাবেশে শেখ রেহানার প্রথম বক্তব্য রাখা। 

আন্তর্জাতিক এই সম্মেলনের মাধ্যমে বিশ্ববাসীর কাছে তিনিই সর্বপ্রথম ‘৭৫ এর কলঙ্কজনক ও অমানবিক হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবি তোলেন। সেদিন ইউরোপের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, জাতিসংঘের মহাসচিব, জাতিসংঘের হিউম্যান রাইটস কমিশনের চেয়ারম্যান, আমেরিকার কংগ্রেসের হিউম্যান রাইটস কমিটির চেয়ারম্যান, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনের প্রধানদের কাছে বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার হত্যার বিচারের প্রশ্নে বাংলাদেশ সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন তিনি। 

পঁচাত্তরের পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে শেখ রেহানার আবেগঘন বক্তব্য সে অনুষ্ঠানে এক হৃদয়বিদারক পরিবেশ সৃষ্টি করেছিলো। হলভর্তি প্রবাসী বাঙালি নারী-পুরুষ এবং বিদেশী রাজনীতিবিদ, পার্লামেন্ট সদস্য ও সাংবাদিকগণ পিনপতন নীরবতায় তাঁর বক্তব্য শোনেন। 

১৯৮০ সালের ১৬ই আগষ্ট পুর্ব লন্ডনের ইয়র্ক হলে অনুষ্ঠিত পনেরোই আগস্ট বঙ্গবন্ধু সহ সকল শহীদদের স্মরণে শোকসভার মাধ্যমে শেখ হাসিনার পুনরায় অভিষেক হয় সক্রিয় রাজনীতিতে। ঐদিন বঙ্গবন্ধু হত্যা তদন্তে আন্তর্জাতিক কমিশন গঠন করা হয়। 

কমিশনের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন স্যার টমাস উইলিয়াম এমপি কিউসি। সদস্য সচিব হন সলিসিটর অব্রে রোজ। এছাড়া কমিশনের অন্যান্য সদস্য ছিলেন শান্তিতে নোবেল বিজয়ী সন ম‍্যাকব্রাইট, লেবার পার্টির তৎকালীন আইনবিষয়ক মুখপাত্র জেফরি টমাস কিইউসি এমপি। সর্ব ইউরোপীয় বঙ্গবন্ধু পরিষদ ও আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশন গঠনে শেখ রেহানা অন্যতম মুখ‍্য ভূমিকা পালন করলেও তিনি আড়ালেই থেকে যান এবং এখনো তিনি আড়ালে থেকেই শেখ হাসিনার পাশাপাশি সবক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন।

একজন সাধারণের মতই জীবনযাপন করেন বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে শেখ রেহানা। যেন একদম সাদাসিধে আটপৌরে বাঙালি নারী। চরিত্রে কখনও আদিখ্যেতা কিংবা অহংকার মনোবৃত্তি পোষণ করেননি। দেশের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন নীরবে নিভৃতে। 

সংগ্রাম করে যাচ্ছেন জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে। সুযোগ্য মায়ের যোগ্য উত্তরসূরি তিনি। মা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব পর্দার অন্তরালে থেকে বঙ্গবন্ধুকে দিয়েছিলেন সাহস ও অনুপ্রেরণা। যার অনুপ্রেরণায় শেখ মুজিব হতে পেরেছিলেন বঙ্গবন্ধু। আর এখন পর্দার অন্তরালে বড় বোন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পাশে থেকে অনুপ্রেরণা দিয়ে যাচ্ছেন যিনি; তিনি হলেন শেখ রেহানা, জাতির পিতার কনিষ্ঠ কন্যা। শেখ রেহানার ইতিবাচক ভূমিকার কারণেই শান্তির আলোকবর্তিকা হাতে বিশ্বময় শেখ হাসিনা। 

শেখ রেহানার জীবনালেখ্য নিয়ে হয়তো বেশি কিছু জানা যায়নি, তবে জীবনের গভীরতা অনুধাবন করা যায় ব্যাপকভাবে। কারণ, তাঁর সাদামাটা জীবনচরিত এবং অতিথিপরায়ণতা সবার নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছে।

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন সময়ে ঘরোয়া আলোচনায় বলেন যে, শেখ রেহানা ছাড়া তিনি অচল, শেখ রেহানা ছাড়া তিনি পরিপূর্ণ নন। আওয়ামী লীগের কোনো নেতা নন তিনি। তবে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন দুঃসময়ে, বিভিন্ন ক্রান্তিকালে তিনি যেন আশা-ভরসার স্থান। 

বিশেষ করে শেখ রেহানার কথা উচ্চারণ হলে ২০০৭-এর ওয়ান ইলেভেনের কথা দৃশ্যপটে সামনে চলে আসে। সেসময় আওয়ামী লীগকে বিভক্তির হাত থেকে বাঁচাতে, শেখ হাসিনার মুক্তির প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে এবং আন্তর্জাতিক মহলে আওয়ামী লীগ সম্পর্কে সঠিক ধারণা দিতে শেখ রেহানাই মূখ্য ভূমিকা পালন করেছিলেন। তিনি প্রতিটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশে এসে পাশে থেকে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে সাহস, ও পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করেছেন।

জাতির পিতার কন্যা তিনি অথচ জীবনটা তাঁর জন্য সহজ হয়নি। তিনি দেখিয়েছেন কিভাবে সংগ্রাম করে জীবনে জয়ী হওয়া যায়। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর দুর্বিষহ জীবন কাটিয়েছেন তবুও হতাশ হননি। রাজনীতি সচেতন শেখ রেহানা সর্বদা আড়াল থেকেই দিচ্ছেন তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞার পরিচয়।

আগামীকাল তাঁর জন্মদিন।

শুভ জন্মদিন ছোট আপা।

লেখাটি আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফের। (মত ভিন্নমত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

ডায়োজিনিস দ্য সিনিক হতে পারেন আমাদের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত!

শান্তা আনোয়ার

ডায়োজিনিস দ্য সিনিক হতে পারেন আমাদের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত!

প্রজ্ঞা সেটাই যা বুঝতে সাহায্য করে জীবনে কী প্রয়োজন আর কী প্রয়োজন নয়। থিওডোর লেভিট বলেছিলেন - Anything in excess is a poison, প্রয়োজনের অতিরিক্ত যেকোন কিছুই বিষ। এই কথাটার যথাযথ প্রয়োগ আমরা যদি কারো জীবনে পেয়ে থাকি সেটা সম্ভবত দার্শনিক ডায়োজিনিসের জীবন দর্শনেই খুঁজে পাই।

ডায়োজেনিস, যিনি ডায়োজেনিস দ্য সিনিক নামেও পরিচিত, ছিলেন গ্রিক দার্শনিক এবং সিনিক দর্শনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং বিতর্কিত চরিত্র। তিনি কৃষ্ণ সাগর উপকূলে একটি আইওনিয়ান উপনিবেশ সিনোপে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা শহরের মুদ্রা তৈরীর কারখানায় কাজ করতেন।

আলেকজান্ডার ডায়োজিনিসের কথা শুনে ঠিক করলেন দেখা করবেন। ডায়োজিনিসের যেখানে থাকতেন সেখানে গিয়ে দেখলেন ডায়োজিনিসের আবাস হলো পরিত্যাক্ত বিশাল একটি টব বা মদের ভাড়, তিনি সামান্য কাপড় পরে আছেন, দেখতে পাগল ধরণের। ডায়োজিনিসের সামনে গিয়ে আলেকজান্ডার বললেন, “আমি আলেকজান্ডার দ্য গ্রেইট।”

ডায়োজিনিস বললেন, “আমি ডায়োজিনিস দ্য সিনিক।” আলেকজান্ডার বললেন, “আপনি কি আমাকে ভয় পাচ্ছেন না?” ডায়োজিনিস বললেন, “কেন? তোমাকে ভয় পেতে হবে কেন? ‍তুমি ভালো না খারাপ?” আলেকজান্ডার বললেন, “অবশ্যই ভালো।” ডায়োজিনিস বললেন, “তো ভালো জিনিসকে কেউ ভয় পায় ?”

ডায়োজিনিসের সাথে প্রথম আলাপেই মুগ্ধ হয়ে গেলেন আলেকজান্ডার এবং তিনি তার সঙ্গীদের বললেন - “আমি যদি আলেকজান্ডার না হতাম, তবে ডায়োজিনিস হতে চাইতাম!” সেদিনের পর থেকে তিনি নিয়মিত আসতেন ডায়োজিনিসের কাছে। একবার ডায়োজিনিস আলেকজান্ডারকে জিজ্ঞেস করলেন, “তোমার ভবিষ্যত পরিকল্পনা কী?” আলেকজান্ডার বললেন, “সমস্ত গ্রীস নিজের আয়ত্তে আনা।”
ডায়োজিনিস জানতে চাইলেন, তারপর? আলেকজান্ডার উত্তর করলেন, সমস্ত এশিয়া মাইনর নিজের আয়ত্তে আনা। তারপর? সমস্ত পৃথিবী নিজের আয়ত্তে আনা।

ডায়োজিনিস পাগলাটে টাইপ মানুষ, তিনি লেগে থাকলেন তার জবাবের শেষ জানার জন্য এবং বললেন “তারপর?” আলেকজান্ডার উত্তর দিলেন, তারপর আর কী! বাড়িতে বসে বসে বিশ্রাম নেবো! ডায়োজিনিস তখন হেসে বললেন, “হে হে, সে কাজটি তো তুমি এখনই করতে পারো।

যাই হোক, ডায়োজেনিস তার জন্ম শহর থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন, তিনি অবশ্য তার জন্য কোনো অনুশোচনা করেননি। তিনি বলেছিলেন, ‘নির্বাসনই আমাকে দার্শনিক বানিয়েছে’। তাঁকে দাস হিসাবে বিক্রির জন্য নিলামে তোলা হলে তিনি বলেছিলেন,' আমাকে এমন কারো কাছে বিক্রি করো যার মনিবের প্রয়োজন।'

ডায়োজিনিস সব সময়  যেভাবে পছন্দ করতেন, সেভাবেই চলতেন। কথা বলার অধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেছেলিন, ‘বাক স্বাধীনতা, চিন্তার স্বাধীনতা মানুষের সবচেয়ে সেরা সম্পদ।' ডায়োজিনিস এই স্বাধীনতা ব্যবহার করেছিলেন গ্রিকদের বিরুদ্ধে, তাদের ভণ্ডামীগুলোকে তিরষ্কার করতে। তাঁকে নিয়ে লেখা এক বইতে বলা হয়েছে, উনাকে বাজারে লন্ঠন হাতে হাজির হতে দেখে; কী করছেন জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেছিলেন, ‘তিনি আসলে মানুষ খুঁজছেন’। হ্যারিকেন দিয়ে খুঁজে বেড়ানোর শব্দকল্প এই ঘটনা থেকেই এসেছে।

আরও পড়ুন


দীর্ঘ ১৮ মাস পর খুললো স্কুল-কলেজ

কানাডায় ৯/১১ এর বিশ বছর অতিক্রম নিয়ে ভার্চুয়াল আলোচনা অনুষ্ঠিত

বাউল সম্রাট শাহ্ আব্দুল করিমের ১২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

৫০ বছরের বৃদ্ধের ধর্ষণে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা


হ্যারিকেন দিয়ে সৎ মানুষ খোঁজার প্রচেষ্টায় লোকজন যথেষ্ট অপমানিত হওয়ায় তিনি বলেছিলেন, ‘গ্রিসের কোথায় তিনি সৎ আর ভালো মানুষ খুঁজে পাবেন, কেউ কি বলতে পারবে’? ধর্ম, খাদ্য, বাসস্থান, পরিধেয় ইত্যাদি সব কিছু নিয়ে তিনি প্রথার বিরোধী ছিলেন। তীক্ষ্ণ বিদ্রুপ করতেন প্রচলিত রীতি এবং নিয়মের বিরুদ্ধে। সিনিকরা নৈতিক ক্ষেত্রে সুখবাদ বিরোধী ছিলেন। প্রচলিত সামাজিক প্রতিষ্ঠান এবং আচারের প্রতি তারা অবজ্ঞা প্রদর্শন করতেন।

ডায়োজিনিস প্লেটো, সক্রেটিসের মতের বিরোধীতা করতেন প্রচন্ড বিদ্রুপের সাথে। প্লেটো তার সম্পর্কে বলেছিলেন, “এ সক্রেটিস গণ ম্যাড”। যদি নির্বাসন তাকে একজন দার্শনিক বানিয়ে থাকে, এর কারণ নির্বাসন তাকে দারিদ্রের মতো অমূল্য উপহারও দিয়েছে।

যখন একেবারে বৃদ্ধ তখনও ডায়োজিনিসের এত কিসের ব্যস্ততা, এথেন্সবাসী জানতে চায়। ডায়োজিনিস বলেন 'গোল পোস্টের কাছে এসে কি আমার দৌড় কমানো উচিৎ?' বয়স বাড়ছে বলে আমাদের যে আক্ষেপ তা নিতান্তই গৌণ ছিলো ডায়োজিনিসের কাছে।

বর্তমান সময়ে, যেখানে মানুষ কেবল যশ খ্যাতি এবং ঐশ্বর্যের পেছনে নিরন্তর ছুটে চলেছে, যেখানে মানুষের বিলাসিতার চাদরে মোড়ে থাকার প্রবণতা বেড়েছে; সেখানে ডায়োজিনিস দ্য সিনিক হতে পারেন আমাদের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাঁর প্রজ্ঞার এমন সুচারু ব্যবহার এবং নির্মোহ জীবনযাপন থেকে শিক্ষা নেয়া যেতেই পারে। তিনি তাঁর উদ্ভট উদ্ভট কর্মকান্ডের মধ্যে দিয়ে সহজ উপায়ে মানুষদেরকে বাস্তব জীবনের শিক্ষা দিয়েছেন।

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর