শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২০ | আপডেট ১৯ মিনিট আগে

নলকূপ না বসিয়ে পুরো টাকা আত্মসাৎ

মোঃ রফিকুল আলম • চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

নলকূপ না বসিয়ে পুরো টাকা আত্মসাৎ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে বৈদ্যুতিক মোটর চালিত নলকূপ না বসিয়েই উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের এসও আব্দুল ওয়াহিদের যোগসাজসে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার পুরো ৫০হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। 

অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি টের পেয়ে আজম নামে এক ব্যক্তি এর প্রতিকার চেয়ে নাচোল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। 

এদিকে, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে অন্যস্থানে তড়িঘড়ি করে নলকূপ বসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। 

অভিযোগে জানা গেছে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে নাচোল উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পানির মোটর স্থাপনসহ অন্যান্য কাজের জন্য গেল বছরের ৪ মে উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে একটি দরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী নচোল উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের ঘাসুড়া গ্রামের লুৎফল হকের ছেলে আজমের বাড়ির পাশে একটি বৈদ্যুতিক মোটরচালিত নলকূপ বসানোর কথা। 

কিন্তু সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার নাচোল বনবিভাগ পাড়ার আবদুল কাদের জ্বিলানী নলকূপটি না বসিয়েই উপজেলা এলজিইডি অফিসে বিল জমা দেন। কিন্তু এলজিইডি অফিস সরেজমিন প্রকল্প পরিদর্শন না করেই বিলের পুরো ৫০হাজার টাকা পরিশোধ করেছে। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও নাচোল এলজিইডি অফিসের এসও আব্দুল ওয়াহিদ যোগসাজশ করে ‘কাজ করা হয়েছে’ মর্মে জাল প্রত্যয়ন জমা দিয়ে প্রকল্পের পুরো টাকা আত্মসাৎ করেছেন। 

নাচোল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ নাজমুল হক অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘ঘটনাটির তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ ও দ্রুত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য উপজেলা প্রকৌশলীকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’ 

এ ব্যাপারে এসও আব্দুল ওয়াহিদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘অনেক কাজের জন্য প্রকল্প স্থান পরিদর্শন করা সম্ভব হয়নি। তাই বিলটি পরিশোধ করা হয়েছে। তবে দু’এক দিনের মধ্যেই ওই স্থানে নলকূপটি বসানো হবে।’ এ নিয়ে সংবাদ না করার জন্যও অনুরোধ জানান তিনি। 

অপরদিকে, উপজেলা প্রকৌশলী মাসুক ই মোহাম্মাদ জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর তিনি তদন্ত শুরু করেছেন এবং আগামী সপ্তাহে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবেন। 

রফিকুল/অরিন/নিউজ টোয়েন্টিফোর

মন্তব্য