পা চাটা এই সমাজে ডাক্তার একজন নিরীহ, নিম্নস্তরের সেবক মাত্র

গুলজার হোসাইন উজ্জ্বল

পা চাটা এই সমাজে ডাক্তার একজন নিরীহ, নিম্নস্তরের সেবক মাত্র

তানভীর আকবর আমার মেডিকেলের ছোটভাই। শুধু ক্যাম্পাসের জুনিয়র ব্যাপারটা সেরকম না, তার সাথে আমার নিয়মিত যোগাযোগ। আজ অনেক বছর থেকেই সে আমাকে নিয়মিত ফোন করে ও টেক্সট করে। রোগীদের বিষয়ে পরামর্শ চায়, রেফার করে। আমাকে যে সম্মান-শ্রদ্ধা সে করে সেটা সাধারণ সিনিয়র-জুনিয়র সম্পর্কের চেয়েও হয়ত বেশি। এমন একজন কাছের মানুষকে একদল সন্ত্রাসী নির্মম পেটাচ্ছে এই দৃশ্য সত্যিই দেখা কষ্টকর। 

তানভীর ক্যাম্পাসের পরিচিত মুখ,  অত্যন্ত সামাজিক ও সদাহাস্যোজ্জ্বল। তার মত একটি ছেলেকে শুধু মাত্র শ্বাসকষ্টের রোগীকে কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালে  রেফার করার অপরাধে যেভাবে নির্মমভাবে পিটিয়েছে কিছু মানুষ, সেটি দেখে আমি  মর্মাহত।  আমি এদেশের মানুষের প্রতি,  রোগীদের প্রতি একধরণের ভীতি ও বিতৃষ্ণা অনুভব করছি। চিকিৎসক হিসেবে নিজেকে তুচ্ছ  আর নিরাপত্তাহীন মনে হচ্ছে। 
ডাঃ তানভীরের উপর যে আঘাত হয়েছে এটি বাংলাদেশে নিয়মিত হয়। খুলনায় একজন ডাক্তার রোগীদের প্রহারে মৃত্যুবরণ করেছেন। কিন্তু আমাদের সমাজে এই ঘটনার কোন যুৎসই প্রতিবাদ হয়নি। অপরাধীদেরও দৃষ্টান্তমূলক সাজা হয়নি।

আজকাল ডাক্তারদের উপর কোন আঘাত এলে আমি প্রতিবাদ করিনা তেমন। ডাক্তার দিবসে ডাক্তাররা শুভেচ্ছা দেয়,  ডাক্তার প্রহৃত হলে ডাক্তাররাই প্রতিবাদ করে নিজেদের এরকম 'নিজেরা নিজেরাই' বানিয়ে আসলে লাভ নেই৷ 

করোনা বলুন আর জনতার মার খেয়ে বলুন- ডাক্তার মরলে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বা সর্বনিম্ন কোথাও তেমন কোন প্রতিক্রিয়া হয়না। স্বার্থপর,  ক্ষমতার পা চাটা এই সমাজে ডাক্তার একজন নিরীহ,  নিম্নস্তরের সেবক মাত্র। এটাই আসল সত্য। দিন শেষে এটাই আমাকে লো ফিল করাচ্ছে।
আমি ঢাকার নামী কলেজের প্রিন্সিপাল না, আমি জামালপুরের ডিসিও না৷ আমার বডিগার্ড, নিরাপত্তা কর্মী, আর্দালি, পিওন, নাজির  নাই। বালিশের তলায় পিস্তল নাই। আমি কাউকে 'খানকির পোলা' বলে গালিও দিতে পারিনা৷ কাউকে দেশ ছাড়া করার ক্ষমতাও আমার নাই।  চাইওনা সেসব৷ আমি চাই আমার কাজটুকু যেন আমি নিরাপদে করতে পারি।

(মত-ভিন্নমত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

গুরুত্বপূর্ণ পদ জনপ্রিয় হওয়ার একটি উপায়

মেজর (অব.) রেজা উল করিম

গুরুত্বপূর্ণ পদ জনপ্রিয় হওয়ার একটি উপায়

গত ১০ বছরে ফেসবুক ব্যবহারের কল্যাণে একটা বিষয় পরিষ্কার বুঝতে পেরেছি-- তা হল, সম্পর্ক গড়ার অন্যতম মাধ্যম কর্ম নয় প্রশংসা। এছাড়াও জনপ্রিয় হওয়ার অন্যতম মাধ্যম ক্ষমতা বা কোন গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত থাকা। বিনয়ের সঙ্গে বলছি, স্যোশাল মিডিয়ায় প্রচলিত এই নীতি আমি অনুসরণ করতে পছন্দ করি না। 

অনেক ঊর্ধ্বতন প্রভাবশালী সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনীতিবিদের সঙ্গে আমার পরিচয় আছে, তাদের কেউ কেউ কখনো খুব ভালো পজিশনে থাকেন আবার কখনো পদচ্যুত হন অথবা বদলি হয়ে অন্যত্র চলে চান। এদের অনেকেই আবারও গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত হন, মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে। 

তারা কি কখনো খেয়াল করেছেন, তারা যখন গুরুত্বপূর্ণ পদ ছেড়ে অন্যত্র বদলি হন পদচ্যুত হন তখন কতজন মানুষ তাদের খোঁজ খবর নেন? ওই প্রভাবশালীরা ফেইসবুকে একটি পোস্ট দিলে প্রশংসার বন্যা বয়ে যায়। প্রশংসা পাওয়ার সময় তারা কী ভাবেন, মৌমাছিগুলো কোথায় ছিল ? হঠাৎ করে কেন এতো ভালোবাসা ?

বড় কোনো পোস্ট বা ছবি নয়, শুধু "হ্যালো" কথাটি লিখলেও- 
অনেক প্রশংসাবাণী ঝরতে থাকে, যেমন- 
—-‘হলো' বলার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ, 
—আপনার অসাধারণ হ্যালোর মধ্যে মধু আছে, 
——আপনাকে স্বাগতম, 
—-আপনি অনেক বড় হৃদয়ের তাই আমাদেরকে হ্যালো বলেছেন ইত্যাদি ইত্যাদি। 
আবার ধরুন, একটা ছবি পোস্ট করা হয়েছে এবং হয়তো তার পাশে তারই স্ত্রী বসে আছে তখন দেখবেন - প্রশংসা করতে যেয়ে অনেকেই বলবে - 

—'বাহ আপনাদেরকে নায়ক নায়িকার মত লাগছে' (এতদিন কিন্তু মনে হয়নি কারণ তিনি এতদিন এই পদে ছিলেন না), 
—আপনাদেরকে অসম্ভব সুন্দর লাগছে, 
—সেরকম মানিয়েছে, 
—সুন্দর জুটি,
—এমন স্বর্গীয় জুটি কখনো দেখিনি, 
—অদ্ভুত সুন্দর জুটি, 
—বেহেস্ত থেকে জনাব হুর এবং হুর পরী নেমে এসেছেন, 
—খোদার আশীর্বাদপ্রাপ্ত জুটি ইত্যাদি ইত্যাদি।

কিন্তু দুইদিন পরে ওই জায়গা থেকে বদলি হয়ে যখন অন্যত্র যাবেন তখন কিন্তু খোঁজ নেওয়া দূরের কথা তিনি ফেসবুকে একটা পোস্ট দিলে কেউ ফিরে দেখারও সময় পাবে না, একটি ফোন কলও করবে না, খুঁজে বেড়াবেও না। 

যেমন ধরুন, কোন একজন সাবেক সিনিয়র সচিব (যোগাযোগ, জ্বালানি, স্বরাষ্ট্র ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়) তিনি যখন যোগাযোগ থেকে পরিকল্পনা (IMED) মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত হলেন তখন অনেক মানুষ তার সাথে যোগাযোগ করা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। তিনি যখন যোগাযোগ সচিব তার সাথে সুসম্পর্ক থাকা অবস্থায় দেখা করিনি তবে সেখান থেকে তিনি যখন একটু দুর্বল জায়গায় চলে গেলেন, ভাবলাম তার একটু খোঁজ নেই, হয়তো তিনি কিছুটা হলেও মানসিকভাবে আহত হতে পারেন। খুব ছোট মানুষ হলেও তাকে সাহস করে বলেছিলাম-' ইনশাল্লাহ আপনি আপনার নিজ যোগ্যতায় পুনরায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে অধিষ্ঠিত হবেন'। তারপরে অবশ্য তিনি বাংলাদেশ সরকারের সবচেয়ে বেশি তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ছিলেন।

আমার মনে হয় তখন তার কাছে আমিই সবচেয়ে কম গিয়েছি। আর যারা অতীতে তাঁর খোঁজ নেয়নি তাঁরাই সবচেয়ে বেশি গিয়েছিল।
 
আবার যখন একবার গুঞ্জন ছড়ালো তিনি কোন এক প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান হবেন তখন অনেক মানুষ তার বাসার সামনে ভিড় জমানো শুরু করলেন। আমি একদিন সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে তার গেটের সামনে গিয়ে দেখি অনেক ভিড়, তা দেখে পরে ফিরে চলে আসি। কিন্তু পরবর্তীতে যখন তিনি চেয়ারম্যান হলেন না তখন আমি আবার গিয়েছিলাম এবং দেখি সে মানুষগুলো কেউ নেই।
 
আরেকটি ঘটনা বলি, কোন একজন প্রভাবশালী জেনারেল, তার নাম বললে আপনারা সবাই চিনবেন, যার কথা মোটামুটি সবাই বলতো যে তিনি হয়তো পরবর্তী সেনাপ্রধান হবেন। আমার সাথে তার সুসম্পর্ক থাকার কারণে তার সাথে অনেক কথা হতো। এমন হয়েছে যে, তিনি একদিন আক্ষেপ করে বলছিলেন- 'দেখো আমি কিছুই জানি না অথচ মানুষ আমাকে অগ্রিম শুভেচ্ছা জানাচ্ছে'! তখন আমি তাকে বললাম-'স্যার এরা আজ ঝড়ে বক মারছে-যদি লেগে যায় থিওরির প্রয়োগ, এবং আপনি যদি সেনাপ্রধান না হন তখন দেখবেন এরা কেউ আপনার খোঁজ নিবে না। কিছুদিন আগে অনেকটা মজা করে তাকে জিজ্ঞেস করলাম- 'স্যার ওই মানুষগুলো কি আপনাকে এখন ফোন করে?'
তিনি উত্তর দিলেন- 'করবে কেন?  আমিতো তা হতে পারিনি। '

আমার অতি প্রিয় একজন অফিসার (মৃত) লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবুল কালাম আজাদ যিনি RAB- এর গোয়েন্দা শাখার প্রধান ছিলেন। তাকে আমি এতোটাই ভালোবাসি যার মৃত্যুর পরও প্রতিটা মুহূর্তে তাকে মনে করি এবং তিনি হচ্ছেন একমাত্র অফিসার যার মৃত্যুর পরে আমি তার জন্য নফল নামাজ আদায় করেছি। তার মৃত্যুর পরে সাতদিন পর্যন্ত আকাশের দিকে চেয়ে নিরবে কেঁদেছি। তিনি বেঁচে থাকা অবস্থায় যারা তাকে প্রশংসায় ভাসাতো বা যারা সবচেয়ে বেশি প্রশংসা করত তাদের কাউকে দেখিনি কর্নেল আজাদকে নিয়ে একবারের জন্যও স্মৃতিচারণ করতে। 

আমি আরো তিনজন ব্যক্তির কথা এখানে উদাহরণ সহকারে বলি- এক সময় RAB-এর লিগাল মিডিয়া উয়িং এর ডাইরেক্টর Mufti Mahmud Khan ছিলেন এবং গোয়েন্দা শাখার ডারেকটার কর্নেল Mahabub Alam এবং তারপরে সরোয়ার বিন কাসিম ছিলেন এরা তিনজনই অতি চমৎকার অফিসার। আমার সাথে ব্যক্তিগত সম্পর্ক অসম্ভব ভালো ছিল এবং এখনো আছে।
 
কিন্তু তারা যখন উক্ত পদে বহাল ছিলেন তাদের প্রতি মানুষের প্রশংসা দেখে মাঝে মাঝে ভাবতাম আমি কি বোধহয় প্রশংসা না করে অপরাধ করছি!
 
আসলে আমি মনে করি- যদি প্রশংসা করতে হয় তবে সব সময় করব শুধু এখন করবো কেন? কিন্তু দেখেন সেই মানুষগুলোই জায়গা ছেড়ে যখন অন্যত্র চলে গেলেন তখন হয়তো আমার মত অতি অল্প সংখ্যক মানুষ আছেন যারা এখনও নিঃস্বার্থভাবে তাদের খোঁজ নেয়। কিন্তু তাদের সেই সময় কিন্তু প্রশংসা করিনি তবে এখন খোঁজ নেই আর তাছাড়া যারা প্রশংসায় ভাসিয়ে দিতেন তারা কেউ কিন্তু খোঁজ নেয় না।

তবে একটু ব্যতিক্রমও আছে, যেমন- কেউ যদি বর্তমানের চেয়ে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বা পদ পজিশন পেয়ে থাকেন তাহলে কিন্তু উল্টোটাও হতে পারে! আবার কেউ যদি পদ/রাজনীতি থেকে অবসরে যান বা দল থেকে বহিষ্কার হন তাহলে তার নাম মুছে যাওয়ার আশঙ্কাই বেশি। 

তাই বলছি, প্রকৃত বন্ধুদেরকে চেনার চেষ্টা করুন। আর যদি চাটুকারদের প্রশংসায় গা ভাসিয়ে দেন একসময় আফসোস করবেন এবং মনোরোগে আক্রান্ত হবেন, নিজেকে নিঃসঙ্গ মনে হবে, হিসাব মেলাতে পারবেন না- আপনার জীবন টাই ক্ষণস্থায়ী, আপনার চেয়ার, পদ,পজিশন তার চেয়েও বেশি ক্ষণস্থায়ী। জীবনের শুরু থেকে অদ্যাবধি সকল গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে যেসব সৈনিক/কর্মচারী/কর্মকর্তা আমার অধীনে চাকরিরত ছিল বা এখনও যারা আছে তারা জানে আমি কি তাদের পাশে বেশি ছিলাম নাকি সিনিয়রদের বেশি তোষামোদ করার চেষ্টা করতাম। আর তাই তার সুফল এখন ভোগ করছি-বিপদ আপদে অনেক মানুষকেই পাই!

সবাই যা করে আমি তা করবো না- কারণ ছোটবেলা থেকেই আমি স্রোতের বিপরীত দিকে চলতে অভ্যস্ত। আমার মনে আছে ছোটবেলায় যখন আমার সমবয়সী খেলার সাথীদের নিয়ে আড়িয়াল খাঁ নদী তে ঝাঁপ দিতাম তখন অধিকাংশ ছেলেই একটি কলা গাছ নিয়ে স্রোতের অনুকূলে ভাসতে চাইতো আর আমি স্রোতের প্রতিকূলে সাঁতার কেটে দেখতে চাইতাম-আমার সাঁতারের জোর বেশি নাকি নদীর স্রোতের শক্তি বেশি? কে কাকে পরাজিত করতে পারে? কখনো নদীর স্রোত কে উপেক্ষা করে সামনে এগিয়ে যেতাম আবার কখনো পেছনে চলে যেতাম, তখন একটু রেস্ট নিয়ে আবার চেষ্টা করতাম। এই দক্ষতাটা তখন খুব কাজে লেগেছিল যখন অ্যাডভান্স কমান্ডো কোর্স করতে গিয়েছিলাম। এখনো মনে পড়ে যখন অ্যাডভান্সড কমান্ডো কোর্সের ( ACC-17) সময় 1000 মিটার সুইমিং করি তখন পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন জিয়া স্যার (তৎকালীন মেজর বর্তমানে ব্রিগেডিয়ার), তার মন মত performance দেখানো অনেক কঠিন কাজ ছিল, তিনি সহজে কাউকে very good বা খুব ভালো হয়েছে বলতেন না কিন্তু সেদিন তার মুখে সেই অমুল্য শব্দ দুটি শুনে ছিলাম। শৈশবের সেই দক্ষতার কারণে খুব সহজেই সেই প্রশিক্ষন পর্বটা শেষ করতে পেরেছিলাম। 

যখনই কোন গুরুত্বপূর্ণ পদ জনপ্রিয়  হওয়ার প্লাটফর্ম হয় তখনই সেখান থেকে ভালো ফল আশা করা যায় না কারন জনপ্রিয়তার আড়ালে তেলবাজরা সরব হয়ে কাজের গৌরব নষ্ট করে । মানুষকে অনুপ্রেরনা দেয়ার জন্য প্রশংসা করুন; চাটুকারিতা বা তেলবাজির জন্য নয়। কারন প্রথমটা কাউকে উপরে উঠতে সহায়তা করবে আর দিতীয়টা তাকে নিচে নামাতে বা ধ্বংস করতে সহায়তা করবে।

মেজর (অব.) রেজাউল করিম, নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক।

(মত-ভিন্নমত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

আরও পড়ুন


লন্ডনের বিলাসবহুল হোটেলে মরিয়ম নওয়াজের ছেলের বিয়ে

বারবার রিমান্ডে পরীমণি: ক্ষমা চাইলেন দুই বিচারক

বছর না ঘুরতেই অন্তঃসত্ত্বা কাজল!

বাণিজ্য মেলা হবে এবার নতুন স্থানে, ১ জানুয়ারি থেকে শুরু


NEWS24.TV / কামরুল

পরবর্তী খবর

শুভ জন্মদিন ‘ছোট আপা’

মাহবুব উল আলম হানিফ


শুভ জন্মদিন ‘ছোট আপা’

বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ রেহানা

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছোট কন্যা শেখ রেহানা যিনি ‘ছোট আপা’ বলে দলের নেতা কর্মীদের কাছে পরিচিত। বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে পরিবারের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি সেই পরিবারের একজন শেখ রেহানা। বাংলা ও বাঙালির প্রয়োজনে তিনি নির্মোহ একজন মানুষ। 

দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হয়েও কখনও সরাসরি রাজনীতিতে আসেননি শেখ রেহানা। তবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন-সংগ্রামে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাসহ সক্রিয় রাজনীতিবিদদের অনুপ্রেরণা ও সহযোগিতা দিয়ে গেছেন। জনহিতৈষী কাজে সব সময়ই ভূমিকা রেখেছেন শেখ রেহানা। ধানমণ্ডিতে তাঁর নামে বরাদ্দ বাড়িটিও দিয়েছেন দেশের কাজে। 

বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের বিচার চেয়ে বিশ্বমানবতার কাছে প্রথম আবেদন রাখা হয় ১৯৭৯ সালের ১০ মে। বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে বিশ্বমানবতার কাছে এই আর্জি পেশ করেছিলেন বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার স্থপতি, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানা। 

সম্মেলনের প্রধান অতিথি শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে তাঁর পাঠানো বাণী পাঠ করেন শেখ রেহানা। তাঁর পক্ষে বক্তব্য রাখেন তিনি। এটাই ছিল কোনো রাজনৈতিক সমাবেশে শেখ রেহানার প্রথম বক্তব্য রাখা। 

আন্তর্জাতিক এই সম্মেলনের মাধ্যমে বিশ্ববাসীর কাছে তিনিই সর্বপ্রথম ‘৭৫ এর কলঙ্কজনক ও অমানবিক হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবি তোলেন। সেদিন ইউরোপের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, জাতিসংঘের মহাসচিব, জাতিসংঘের হিউম্যান রাইটস কমিশনের চেয়ারম্যান, আমেরিকার কংগ্রেসের হিউম্যান রাইটস কমিটির চেয়ারম্যান, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনের প্রধানদের কাছে বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার হত্যার বিচারের প্রশ্নে বাংলাদেশ সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন তিনি। 

পঁচাত্তরের পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে শেখ রেহানার আবেগঘন বক্তব্য সে অনুষ্ঠানে এক হৃদয়বিদারক পরিবেশ সৃষ্টি করেছিলো। হলভর্তি প্রবাসী বাঙালি নারী-পুরুষ এবং বিদেশী রাজনীতিবিদ, পার্লামেন্ট সদস্য ও সাংবাদিকগণ পিনপতন নীরবতায় তাঁর বক্তব্য শোনেন। 

১৯৮০ সালের ১৬ই আগষ্ট পুর্ব লন্ডনের ইয়র্ক হলে অনুষ্ঠিত পনেরোই আগস্ট বঙ্গবন্ধু সহ সকল শহীদদের স্মরণে শোকসভার মাধ্যমে শেখ হাসিনার পুনরায় অভিষেক হয় সক্রিয় রাজনীতিতে। ঐদিন বঙ্গবন্ধু হত্যা তদন্তে আন্তর্জাতিক কমিশন গঠন করা হয়। 

কমিশনের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন স্যার টমাস উইলিয়াম এমপি কিউসি। সদস্য সচিব হন সলিসিটর অব্রে রোজ। এছাড়া কমিশনের অন্যান্য সদস্য ছিলেন শান্তিতে নোবেল বিজয়ী সন ম‍্যাকব্রাইট, লেবার পার্টির তৎকালীন আইনবিষয়ক মুখপাত্র জেফরি টমাস কিইউসি এমপি। সর্ব ইউরোপীয় বঙ্গবন্ধু পরিষদ ও আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশন গঠনে শেখ রেহানা অন্যতম মুখ‍্য ভূমিকা পালন করলেও তিনি আড়ালেই থেকে যান এবং এখনো তিনি আড়ালে থেকেই শেখ হাসিনার পাশাপাশি সবক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন।

একজন সাধারণের মতই জীবনযাপন করেন বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে শেখ রেহানা। যেন একদম সাদাসিধে আটপৌরে বাঙালি নারী। চরিত্রে কখনও আদিখ্যেতা কিংবা অহংকার মনোবৃত্তি পোষণ করেননি। দেশের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন নীরবে নিভৃতে। 

সংগ্রাম করে যাচ্ছেন জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে। সুযোগ্য মায়ের যোগ্য উত্তরসূরি তিনি। মা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব পর্দার অন্তরালে থেকে বঙ্গবন্ধুকে দিয়েছিলেন সাহস ও অনুপ্রেরণা। যার অনুপ্রেরণায় শেখ মুজিব হতে পেরেছিলেন বঙ্গবন্ধু। আর এখন পর্দার অন্তরালে বড় বোন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পাশে থেকে অনুপ্রেরণা দিয়ে যাচ্ছেন যিনি; তিনি হলেন শেখ রেহানা, জাতির পিতার কনিষ্ঠ কন্যা। শেখ রেহানার ইতিবাচক ভূমিকার কারণেই শান্তির আলোকবর্তিকা হাতে বিশ্বময় শেখ হাসিনা। 

শেখ রেহানার জীবনালেখ্য নিয়ে হয়তো বেশি কিছু জানা যায়নি, তবে জীবনের গভীরতা অনুধাবন করা যায় ব্যাপকভাবে। কারণ, তাঁর সাদামাটা জীবনচরিত এবং অতিথিপরায়ণতা সবার নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছে।

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন সময়ে ঘরোয়া আলোচনায় বলেন যে, শেখ রেহানা ছাড়া তিনি অচল, শেখ রেহানা ছাড়া তিনি পরিপূর্ণ নন। আওয়ামী লীগের কোনো নেতা নন তিনি। তবে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন দুঃসময়ে, বিভিন্ন ক্রান্তিকালে তিনি যেন আশা-ভরসার স্থান। 

বিশেষ করে শেখ রেহানার কথা উচ্চারণ হলে ২০০৭-এর ওয়ান ইলেভেনের কথা দৃশ্যপটে সামনে চলে আসে। সেসময় আওয়ামী লীগকে বিভক্তির হাত থেকে বাঁচাতে, শেখ হাসিনার মুক্তির প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে এবং আন্তর্জাতিক মহলে আওয়ামী লীগ সম্পর্কে সঠিক ধারণা দিতে শেখ রেহানাই মূখ্য ভূমিকা পালন করেছিলেন। তিনি প্রতিটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশে এসে পাশে থেকে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে সাহস, ও পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করেছেন।

জাতির পিতার কন্যা তিনি অথচ জীবনটা তাঁর জন্য সহজ হয়নি। তিনি দেখিয়েছেন কিভাবে সংগ্রাম করে জীবনে জয়ী হওয়া যায়। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর দুর্বিষহ জীবন কাটিয়েছেন তবুও হতাশ হননি। রাজনীতি সচেতন শেখ রেহানা সর্বদা আড়াল থেকেই দিচ্ছেন তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞার পরিচয়।

আগামীকাল তাঁর জন্মদিন।

শুভ জন্মদিন ছোট আপা।

লেখাটি আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফের। (মত ভিন্নমত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

ডায়োজিনিস দ্য সিনিক হতে পারেন আমাদের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত!

শান্তা আনোয়ার

ডায়োজিনিস দ্য সিনিক হতে পারেন আমাদের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত!

প্রজ্ঞা সেটাই যা বুঝতে সাহায্য করে জীবনে কী প্রয়োজন আর কী প্রয়োজন নয়। থিওডোর লেভিট বলেছিলেন - Anything in excess is a poison, প্রয়োজনের অতিরিক্ত যেকোন কিছুই বিষ। এই কথাটার যথাযথ প্রয়োগ আমরা যদি কারো জীবনে পেয়ে থাকি সেটা সম্ভবত দার্শনিক ডায়োজিনিসের জীবন দর্শনেই খুঁজে পাই।

ডায়োজেনিস, যিনি ডায়োজেনিস দ্য সিনিক নামেও পরিচিত, ছিলেন গ্রিক দার্শনিক এবং সিনিক দর্শনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং বিতর্কিত চরিত্র। তিনি কৃষ্ণ সাগর উপকূলে একটি আইওনিয়ান উপনিবেশ সিনোপে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা শহরের মুদ্রা তৈরীর কারখানায় কাজ করতেন।

আলেকজান্ডার ডায়োজিনিসের কথা শুনে ঠিক করলেন দেখা করবেন। ডায়োজিনিসের যেখানে থাকতেন সেখানে গিয়ে দেখলেন ডায়োজিনিসের আবাস হলো পরিত্যাক্ত বিশাল একটি টব বা মদের ভাড়, তিনি সামান্য কাপড় পরে আছেন, দেখতে পাগল ধরণের। ডায়োজিনিসের সামনে গিয়ে আলেকজান্ডার বললেন, “আমি আলেকজান্ডার দ্য গ্রেইট।”

ডায়োজিনিস বললেন, “আমি ডায়োজিনিস দ্য সিনিক।” আলেকজান্ডার বললেন, “আপনি কি আমাকে ভয় পাচ্ছেন না?” ডায়োজিনিস বললেন, “কেন? তোমাকে ভয় পেতে হবে কেন? ‍তুমি ভালো না খারাপ?” আলেকজান্ডার বললেন, “অবশ্যই ভালো।” ডায়োজিনিস বললেন, “তো ভালো জিনিসকে কেউ ভয় পায় ?”

ডায়োজিনিসের সাথে প্রথম আলাপেই মুগ্ধ হয়ে গেলেন আলেকজান্ডার এবং তিনি তার সঙ্গীদের বললেন - “আমি যদি আলেকজান্ডার না হতাম, তবে ডায়োজিনিস হতে চাইতাম!” সেদিনের পর থেকে তিনি নিয়মিত আসতেন ডায়োজিনিসের কাছে। একবার ডায়োজিনিস আলেকজান্ডারকে জিজ্ঞেস করলেন, “তোমার ভবিষ্যত পরিকল্পনা কী?” আলেকজান্ডার বললেন, “সমস্ত গ্রীস নিজের আয়ত্তে আনা।”
ডায়োজিনিস জানতে চাইলেন, তারপর? আলেকজান্ডার উত্তর করলেন, সমস্ত এশিয়া মাইনর নিজের আয়ত্তে আনা। তারপর? সমস্ত পৃথিবী নিজের আয়ত্তে আনা।

ডায়োজিনিস পাগলাটে টাইপ মানুষ, তিনি লেগে থাকলেন তার জবাবের শেষ জানার জন্য এবং বললেন “তারপর?” আলেকজান্ডার উত্তর দিলেন, তারপর আর কী! বাড়িতে বসে বসে বিশ্রাম নেবো! ডায়োজিনিস তখন হেসে বললেন, “হে হে, সে কাজটি তো তুমি এখনই করতে পারো।

যাই হোক, ডায়োজেনিস তার জন্ম শহর থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন, তিনি অবশ্য তার জন্য কোনো অনুশোচনা করেননি। তিনি বলেছিলেন, ‘নির্বাসনই আমাকে দার্শনিক বানিয়েছে’। তাঁকে দাস হিসাবে বিক্রির জন্য নিলামে তোলা হলে তিনি বলেছিলেন,' আমাকে এমন কারো কাছে বিক্রি করো যার মনিবের প্রয়োজন।'

ডায়োজিনিস সব সময়  যেভাবে পছন্দ করতেন, সেভাবেই চলতেন। কথা বলার অধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেছেলিন, ‘বাক স্বাধীনতা, চিন্তার স্বাধীনতা মানুষের সবচেয়ে সেরা সম্পদ।' ডায়োজিনিস এই স্বাধীনতা ব্যবহার করেছিলেন গ্রিকদের বিরুদ্ধে, তাদের ভণ্ডামীগুলোকে তিরষ্কার করতে। তাঁকে নিয়ে লেখা এক বইতে বলা হয়েছে, উনাকে বাজারে লন্ঠন হাতে হাজির হতে দেখে; কী করছেন জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেছিলেন, ‘তিনি আসলে মানুষ খুঁজছেন’। হ্যারিকেন দিয়ে খুঁজে বেড়ানোর শব্দকল্প এই ঘটনা থেকেই এসেছে।

আরও পড়ুন


দীর্ঘ ১৮ মাস পর খুললো স্কুল-কলেজ

কানাডায় ৯/১১ এর বিশ বছর অতিক্রম নিয়ে ভার্চুয়াল আলোচনা অনুষ্ঠিত

বাউল সম্রাট শাহ্ আব্দুল করিমের ১২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

৫০ বছরের বৃদ্ধের ধর্ষণে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা


হ্যারিকেন দিয়ে সৎ মানুষ খোঁজার প্রচেষ্টায় লোকজন যথেষ্ট অপমানিত হওয়ায় তিনি বলেছিলেন, ‘গ্রিসের কোথায় তিনি সৎ আর ভালো মানুষ খুঁজে পাবেন, কেউ কি বলতে পারবে’? ধর্ম, খাদ্য, বাসস্থান, পরিধেয় ইত্যাদি সব কিছু নিয়ে তিনি প্রথার বিরোধী ছিলেন। তীক্ষ্ণ বিদ্রুপ করতেন প্রচলিত রীতি এবং নিয়মের বিরুদ্ধে। সিনিকরা নৈতিক ক্ষেত্রে সুখবাদ বিরোধী ছিলেন। প্রচলিত সামাজিক প্রতিষ্ঠান এবং আচারের প্রতি তারা অবজ্ঞা প্রদর্শন করতেন।

ডায়োজিনিস প্লেটো, সক্রেটিসের মতের বিরোধীতা করতেন প্রচন্ড বিদ্রুপের সাথে। প্লেটো তার সম্পর্কে বলেছিলেন, “এ সক্রেটিস গণ ম্যাড”। যদি নির্বাসন তাকে একজন দার্শনিক বানিয়ে থাকে, এর কারণ নির্বাসন তাকে দারিদ্রের মতো অমূল্য উপহারও দিয়েছে।

যখন একেবারে বৃদ্ধ তখনও ডায়োজিনিসের এত কিসের ব্যস্ততা, এথেন্সবাসী জানতে চায়। ডায়োজিনিস বলেন 'গোল পোস্টের কাছে এসে কি আমার দৌড় কমানো উচিৎ?' বয়স বাড়ছে বলে আমাদের যে আক্ষেপ তা নিতান্তই গৌণ ছিলো ডায়োজিনিসের কাছে।

বর্তমান সময়ে, যেখানে মানুষ কেবল যশ খ্যাতি এবং ঐশ্বর্যের পেছনে নিরন্তর ছুটে চলেছে, যেখানে মানুষের বিলাসিতার চাদরে মোড়ে থাকার প্রবণতা বেড়েছে; সেখানে ডায়োজিনিস দ্য সিনিক হতে পারেন আমাদের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাঁর প্রজ্ঞার এমন সুচারু ব্যবহার এবং নির্মোহ জীবনযাপন থেকে শিক্ষা নেয়া যেতেই পারে। তিনি তাঁর উদ্ভট উদ্ভট কর্মকান্ডের মধ্যে দিয়ে সহজ উপায়ে মানুষদেরকে বাস্তব জীবনের শিক্ষা দিয়েছেন।

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর

আওয়ামী লীগ বনাম এমপি লীগ!

বাণী ইয়াসমিন হাসি

আওয়ামী লীগ বনাম এমপি লীগ!

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২০তম সম্মেলনে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম তাঁর বক্তৃতায় বলেছিলেন, ‘আওয়ামী লীগ শুধু একটা রাজনৈতিক দল নয়, আওয়ামী লীগ একটা অনুভূতির নাম। আমি আওয়ামী লীগের সন্তান, আওয়ামী লীগের ঘরেই আমরা জন্ম। আওয়ামী লীগ যখন ব্যথা পায়, আমারও কিন্তু হৃদয়ে ব্যথা লাগে। আওয়ামী লীগের একটা কর্মী যদি ব্যথা পায়, সেই ব্যথা আমিও পাই। ’

একটা দীর্ঘ লড়াই সংগ্রাম ত্যাগ আর রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ টানা ১২ বছর ক্ষমতায়। দীর্ঘ লড়াইয়ের সময়টা কতজনের মাসের পর মাস ঘরে ফেরা হয়নি। বাবার সাথে ঈদের নামাজটা পর্যন্ত পড়া হয়নি। জীবিত মায়ের মুখটা দেখা হয়নি। জেলের অন্ধকারে কেটে গেছে বছর মাস। পঙ্গুত্ববরণ করতে হয়েছে হাজার হাজার নেতাকর্মীকে।

টানা এক যুগের ক্ষমতা দল আওয়ামী লীগের চরম সর্বনাশ করেছে। সরকারে বিলীন হওয়ার পথে ঐতিহ্যবাহী দলটি। কেন্দ্রের সাথে তৃণমূলের দূরত্ব এতটাই প্রকট যেটা সংগঠনকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। জেলা কমিটি গুলোর দিকে তাকালে দেখতে পাবেন সর্বত্রই ‘ম্যাইম্যান’। সংগঠনে কার অবদান কতটুকু সেটা আর এখন বিবেচিত হয় না। ‘কার লোক’ এটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ পদ পাওয়ার ক্ষেত্রে। হাইব্রিডদের চাষাবাদ এবং ফলন খুবই উচ্চ। এদেরকে জায়গা করে দিতে আওয়ামী লীগের তৃণমূল কোনঠাসা হতে হতে বেদখল হয়ে গেছে !

দীর্ঘ এক বছর পর গতকাল দলের কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় এমপিদের কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দেন দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা। তৃণমূলে দলীয় নেতা-কর্মীদের ওপর এমপিদের কর্তৃত্বপরায়ণ মনোভাবে ক্ষুব্ধ দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা বলেন, তৃণমূলের দীর্ঘদিনের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতা-কর্মীদের দূরে ঠেলে দেন। আবার সব কর্তৃত্ব নিতে কেউ কেউ উপজেলার সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক হয়ে যান। সবকিছু এমপিদের নিতে হবে কেন? দলের ওপর এমপিদের এমন খবরদারি চলবে না। দল চলবে নিজস্ব গতিতে। এমপি দলকে সহযোগিতা করবেন। কোনো বাড়াবাড়ি বরদাশত করা হবে না। কে কোথায় কী করছেন, আমার কাছে সব তথ্য আছে। সে বিবেচনায় আগামীতে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হবে।

তৃণমূলে নেতা-কর্মীদের ওপর এমপিদের ‘খবরদারি’ করতে নিষেধ করেছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দলীয় এমপিদের হুঁশিয়ারি দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, নানা সমীকরণে এমপি মনোনয়ন দেওয়া হয়। তারা দলের মনোনয়নে এমপি হন। এমপি হয়েই দলকে তার ইচ্ছামতো পরিচালনায় মরিয়া হয়ে ওঠেন কেউ কেউ।

ঘুরে ফিরে সৈয়দ আশরাফ ভাইকে মনে পড়ে আমার। উনি বঙ্গবন্ধুকে সার্বজনীন করেছিলেন। কোন পকেট লীগ চালু করেননি। দেশরত্ন শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করেছিলেন। জেলায় জেলায় ওমুক লীগ তমুক লীগের পরিবর্তে বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগটা ছিল উনি যখন সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

‘৭৫ এর পর বা ২০০১ এর নির্বাচনের পর এমন লাখে লাখে ঝাকে ঝাকে আওয়ামী লীগ কিন্তু ছিল না। আজ গোটা দেশটাই যেন আওয়ামী লীগ আর আওয়ামী লীগ। অতিলোভীরা সর্বনাশ করে ছাড়ছে। আওয়ামী লীগের ভিতরে ঢুকে গেছে, জামায়াত, ফ্রীডম পার্টি, বিএনপি। তারা আওয়ামী লীগের সুবিধাবাদীদের সাথে মিলে ভাগবাটোয়ারা করছে। তারা সবাই মিলেমিশে ভালো আছে। কিন্তু ক্ষতি হচ্ছে দেশ ও আওয়ামী লীগের।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ গণমানুষের দল। এদেশের মাটি আর মানুষের প্রতিটা অর্জনের সাথে মিশে আছে এই সংগঠনটি। দল হিসেবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সম্ভবত সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছে। ত্যাগী এবং পরীক্ষিত কর্মীদের সাথে দূরত্ব বাড়ছে দলের। এটা মোটেও শুভ লক্ষণ নয়। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কোন লিমিটেড কোম্পানি বা সোশ্যাল ক্লাব নয়। লাখো কর্মীর আবেগ আর রক্তের অপর নাম বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর অনেকের ধারণা ছিল আওয়ামী লীগ আর রাজনীতিতে ফিরে আসতে পারবে না। কিন্তু শেখ হাসিনা সেই অসাধ্য সাধন করেছেন। ফিনিক্স পাখির মতন আওয়ামী লীগকে আবার নতুন করে জাগিয়ে তুলেছেন। নিয়ে গেছেন অন্য উচ্চতায়। সেই রাজনীতি গত ১২ বছরে উইপোকা নীরবে খেয়ে ফেলছে।

দলের দুঃসময় এলে এইসব হাইব্রিড, অনুপ্রবেশকারী সুযোগসন্ধানীদের যে খুঁজে পাওয়া যাবে না সেটি দলের হাই কমান্ডের উপলব্ধি করার সময় এখন। এইসব বসন্তের কোকিল বা কাউয়াদের এখন দূরে সরানোর সময়। তা না হলে নকলের ভিড়ে আসল হারিয়ে গেলে দলকে চড়া মূল্য দিতে হবে।

আরও পড়ুন:


দুই মেয়েসহ মা নিখোঁজ উৎকন্ঠায় পরিবার

রশি দিয়ে বাধা প্রতিবন্ধী শহিদের বন্দী জীবন

বাগেরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্রিকেটার রিদু নিহত

স্কুল খোলার পর যেভাবে চলবে প্রাথমিকের ক্লাস!


 

তপ্ত রাজপথ, অন্ধকার কারাগার, পুলিশের লাঠির আঘাত, বিরোধীদলের হামলা যারা মোকাবিলা করেনি তারাই এখন দল এবং সরকার চালায়। আর যাদের ঘাম, রক্ত আর বিসর্জনে দল ক্ষমতায় এলো তারা আজ সংখ্যালঘু। তারা দল এবং সরকারে চরম ভাবে উপেক্ষিত।

দলের পোড় খাওয়া নেতাকর্মীরা সব কোণঠাসা। দল এবং সরকারে সুবিধাবাদীদের বাড়বাড়ন্ত। নিজস্ব বলয় ভারী করতে দলের ভিতরে উপদল তৈরি করছে এমপিরা। জননেত্রী শেখ হাসিনার দয়ায় এমপি হওয়ার পর সবার আগে এরা আওয়ামী লীগকে ভেঙে টুকরো টুকরো করে। এমপি লীগ প্রতিষ্ঠা করে। দূর্দিনের কর্মীদের মামলা দিয়ে, হাত পা ভেঙে, বাড়িঘর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা করে এলাকা ছাড়া করে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে ধারণ করে, জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ভালোবেসে যারা রাজনীতিটা করতে চান তাদেরকে দূরে সরিয়ে রাখা হচ্ছে। পদ পদবিকে যারা উপরে ওঠার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করবে না। সংগঠন বিতর্কিত হয় এমন কোন কাজের সাথে জড়াবে না। বরং শ্রম, ঘাম, মেধা ও ডেডিকেশন দিয়ে দলকে সার্ভ করবে তাদেরকেই বঞ্চিত করা হচ্ছে। এমপিরা তাদের বউ, ছেলেমেয়ে, চৌদ্দ গুষ্ঠিকে দিয়ে আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী ও ‌অংগ সংগঠনের কমিটি গঠন করে। সাথে থাকে কিছু হাইব্রিড আর সহমত ভাই। বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ বনাম এমপি লীগ! বিএনপি জামায়াত না, মূল খেলাটা এখানেই।

লেখাটি বাণী ইয়াসমিন হাসি-এর ফেসবুক থেকে নেওয়া (সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

বাণী ইয়াসমিন হাসি,সম্পাদক, বিবার্তা২৪ডটনেট

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকায় লক্ষ্মী পুরী'র কলাম

আফগানিস্তানের বিপক্ষে ভারতের কূটনৈতিক বিজয়

লক্ষ্মী পুরীর কলাম থেকে অনুবাদ

আফগানিস্তানের বিপক্ষে ভারতের কূটনৈতিক বিজয়

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে আগস্ট মাসে ভারতের কিছু ঐতিহাসিক স্মৃতি রয়েছে। ২০১১ সালের লিবিয়ার বিপক্ষে কূটনৈতিক বিজয় তার মধ্যে অন্যতম। এর ঠিক ১০ বছর পর আফগানিস্তানে রাজনৈতিক ভূকম্পন আবারও ভারতকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

তবে ভারত খুব সফলতার সাথেই তা উতরে গেছে। খুবই ঠান্ডা মাথায়, ভারত তার জাতীয় স্বার্থ এবং নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই বিশ্বের মানুষের সুরক্ষা ও উন্নতির দিকে এগিয়ে গেছে। যা ২০২১ সালের প্রেক্ষাপটে কূটনৈতিকভাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অন্যতম বড় সাফল্য। তিনি ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন এবং প্রতিনিধিহীনদের প্রতিনিধি হয়ে কাজ করেন। সমুদ্র নিরাপত্তা বিষয়ে এর আগে প্রস্তাব উত্থাপন করে ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিরাপত্তা পরিষদে ইতিহাস সৃষ্টি করেন।

ভারত নিরাপত্তা পরিষদের প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন সময়েই সবচেয়ে বেশিসংখ্যক (১৪) ঘটনার নিষ্পত্তি হয়েছে। যার মধ্যে পাঁচটি আফগানিস্তান, সোমালিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, মালি এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন নিয়ে, চারটি পশ্চিম আফ্রিকা ও সুদান এবং পাঁচটি প্রেস স্টেটসমেন্ট।

ভারত একটি আন্তর্জাতিক ঐকমত তৈরি করার জন্য সামুদ্রিক নিরাপত্তা, শান্তিরক্ষা এবং সন্ত্রাস দমন বিষয়ক তিনটি আইন সাক্ষর বিষয়ক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ৯ আগস্টের ঘটনাটি ছিলো সামুদ্রিক নিরাপত্তার একটি সামগ্রিক ধারণা, ইউনাইটেড নেশন কনভেনশন ল' অফ দ্য সি- এর ভূমিকা এবং দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের ক্ষমতা প্রদর্শন নিয়ে। একটি নতুন আন্তর্জাতিক সমুদ্র নিরাপত্তায় অবদান রাখার বিষয়ে এর ফলাফল ভারতীয় নিরাপত্তার স্বার্থকে দৃঢ় করেছে।

শান্তিরক্ষীদের বিরুদ্ধে অপরাধের জন্য জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে এবং তাদের প্রযুক্তির উন্নয়নে 'প্রটেক্টিং দ্য প্রটেক্টরস: টেকনোলজি অ্যান্ড পিসকিপিং' নামে ইভেন্টের আয়োজন করা হয়। এছাড়া দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘের বৈশ্বিক কাউন্টার টেরোরিজম স্ট্র্যাটেজিকে আরও শক্তিশালী করার জন্য "সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে সৃষ্ট আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি" শিরোনামে ভারতের আট দফা কর্মপরিকল্পনার উপর একটি অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন। 

মিয়ানমার, মালি, সোমালিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, ইথিওপিয়া, হাইতি ইত্যাদি দেশ ভারতের পরামর্শ মেনে নিলেও আফগানিস্তান ইস্যুতে ভারতের কূটনৈতিক ক্ষমতার পরীক্ষা নেয়া হয়।

উল্লেখ্য, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ-২৫৯৩ এর প্রস্তাবটিতে তালেবান শাসিত আফগানিস্তানকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর আশ্রয়স্থল ও প্রতিবেশি দেশের ওপর হামলা চালানোর উদ্বেগটিকে গুরুত্বের সাথে দেখা হয়। তে দাবি করা হয় যে, আফগান ভূখণ্ডকে কোনো দেশকে হুমকি বা আক্রমণ করতে বা সন্ত্রাসীদের আশ্রয় বা প্রশিক্ষণ দিতে, অথবা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা বা অর্থায়নের জন্য ব্যবহার করা হবে না।

এটি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ-১২৬৭ প্রস্তাবটিতে যেমন লস্কর-ই-তৈয়বা এবং জইশ-ই-মোহাম্মদ সহ অন্যান্য গোষ্ঠীকে দেখা হয়, তার সাথে তালেবানকে একই কাতারে ফেলে দেয়া হয়। এছাড়া প্রস্তাবটির ফলে তালেবানরা বিদেশীদের নিরাপদে সরিয়ে নেয়ার অনুমতি দেয় এবং গত ২৭ আগস্টের বিবৃতি মেনে আফগানদের যেকোন সময় বিদেশে যাওয়া-আসার ব্যাপারে সম্মত হয়। 

তালেবানকে নারী, শিশু এবং সংখ্যালঘুদের মানবাধিকার সমুন্নত রাখতে বলা হয়েছিল, যা ভারতের ক্ষেত্রে হিন্দু ও শিখ আফগানদের ওপরও বর্তায়। সেই সাথে সব পক্ষকেই আফগানিস্তানে গত ২০ বছরের অর্জন রক্ষা করতে বলা হয়েছিল। অর্থাৎ, নারীদের সমান অংশগ্রহণে, আলোচনার রাজনৈতিক সমঝোতা এবং আইনের শাসন।

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ-২৫৯৩ এ ভারত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে পথ দেখানোর জন্য কিছু মৌলিক মানদণ্ড নির্ধারণ করেছে যা কূটনৈতিক স্বীকৃতির পাশাপাশি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমর্থনও লাভ করেছে। 


বিয়ে ছাড়াই আবারও মা হচ্ছেন কাইলি জেনার

বলিউড পরিচালক বিশাল ভরদ্বাজের প্রস্তাবে মিমের না!

দেশমাতা, আমাকে কি একটু নিরাপত্তা দিতে পারেন


ফ্রান্স ও ব্রিটেন প্রস্তাবটির পক্ষে থেকে তালেবানকে সতর্ক করে দেয়। আর রাশিয়ার জন্য এটি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নেয়া একটি মধুর প্রতিশোধ। সেইসাথে চীন এই প্রস্তাবটিকে সমর্থন দিয়ে নিজেদের আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালি করেছে।

রাশিয়া ও চীন দুই দেশই তালেবানের উত্থানে নিজেদের বিজয়ী বলে ভাবতে পারে, যেখানে ২০ বছর পর যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের ব্যর্থতার দায় কাঁধে নিয়ে সেনা প্রত্যাহার করেছে। সুতরাং তারা নিজেদের একটি মাঝামাঝি জায়গায় রাখার চেষ্টা করছে। 

এই আপত্তির পরিপ্রেক্ষিতে ভারত তাদেরকে যে ভেটো না দিতে রাজি করতে পেরেছে এটাকেই একটি বড় কূটনৈতিক বিজয় বলে উল্লেখ করা যায়। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সকল সদস্য ভারতের রাষ্ট্রপতির প্রশংসা করেন এবং ভারতের এই কূটনৈতিক সাফল্যের প্রশংসা করেন।

লেখক : লক্ষ্মী পুরী, (জাতিসংঘের সাবেক সহকারী মহাসচিব এবং ইউএন উইমেনের উপনির্বাহী পরিচালক)।

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর