করোনা স্বাস্থ্য সমস্যা প্রাকৃতিক দুর্যোগ না

শওগাত আলী সাগর

করোনা স্বাস্থ্য সমস্যা প্রাকৃতিক দুর্যোগ না

করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং সবার আগে যে জিনিসটি দরকারি, সেটি হচ্ছে- এটি যে একটি স্বাস্থ্য সমস্যা- তা বুঝতে পারা এবং স্বীকার করা। কোভিডকে স্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে স্বীকার করতে না পারলে- আপনি এটিকে ঘুর্ণিঝড়, প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে ভুল করবেন এবং আপনার প্রতিটি পদক্ষেপ ভুল হবে।

করোনা ভাইরাস যে স্বাস্থ্য সমস্যা- এই বিষয়টি রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারকরা যদি না অনুধাবন করেন, স্বীকার না করেন- তা হলে ’সাধারন মানুষ কেন সচেতন না’- এই অভিযোগ  তোলার নৈতিক ভিত্তি থাকে না। তখন নিজেদের অক্ষমতা ঢাকার জন্য এইসব নিয়ে হৈ চৈ করতে হয়।

 যারা রাষ্ট্র পরিচালনা করেন, যারা প্রশাসন চালান- তারা নিজেরা কোভিডকে ঠিক মতো বুঝতে পারলেন কী না- সেটি তাদের আচরণে প্রকাশ পেয়ে যায়। তখন তারা আর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারে না। 

আরও পড়ুনঃ


দ. কোরিয়ার কোন গালিও দেয়া চলবে না উত্তর কোরিয়ায়

তালেবানের হাত থেকে ২৪ জেলা পুনরুদ্ধারের দাবি

কাছাকাছি আসা ঠেকাতে টোকিও অলিম্পিকে বিশেষ ব্যবস্থা


 

কোভিড মোকাবেলা করে যে রাষ্ট্রগুলো এখন স্বাভাবিক অবস্থার দিকে ফিরে যাচ্ছে, সেই দেশগুলোর সরকার প্রধানরা, নীতিনির্ধারকরা, প্রশাসন পরিচালনাকারীরা কোভিডকে স্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে স্বীকার করে সেইভাবে্ই  বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুসারে পদক্ষেপ নিয়েছেন।

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

শওগাত আলী সাগর, প্রধান সম্পাদক, নতুনদেশ

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

দর্শনের ইতিহাসে নারী দার্শনিকদের উপেক্ষাই করা হয়েছে

অনলাইন ডেস্ক

দর্শনের ইতিহাসে নারী দার্শনিকদের উপেক্ষাই করা হয়েছে

দর্শনের ইতিহাসে নারীদের কোন নাম নেই। যদিও প্রাচীন দর্শনের ইতিহাসে কয়েকজন নারী দার্শনিকের নাম আমরা জানি জেমন আলেকজান্দ্রিয়ার হাইপেসিয়ার কথা। ভারতীয় দর্শনেও আমরা গার্গির কথা জানি। কিন্তু সাধারণভাবে দর্শনের ইতিহাস লিখতে গেলে নারী দার্শনিকদের অবদানের কথা উপেক্ষাই করা হয়েছে। 

আমরা সাম্প্রতিক কালের মুসলিম নারী দার্শনিক আজিজা আল হিব্রির কথা বলতে পারি। ইসলামী আইন নিয়ে তার খুবই মৌলিক কাজ আছে। আজিজা আল হিব্রির কাজই ইসলামী আইন সম্পর্কে পশ্চিমা প্রচারণার সবচেয়ে বড় জবাব হতে পারে। কিন্তু তিনি পশ্চিমে তো বটেই ইসলামী দুনিয়াতেও পরিচিত নন। উনাকে নিয়ে অবশ্য আমার আলাদা লেখা দেয়ার ইচ্ছা আছে। 

Eileen O'Neill ফেমিনিস্ট হিস্ট্রি অব ফিলোসফি বইয়ে  দেখিয়েছেন যে নারীরা ১৬০০-১৮০০  সাল পর্যন্ত দর্শনে অসংখ্য অবদান রেখেছে এবং দর্শনের ইতিহাসে তাদের কাজ সিস্টেমেটিক্যালি উপেক্ষা করা হয়েছে। 

ধরা যাক আধুনিক পশ্চিমা দর্শনের জনক বলে যাকে মনে করা হয় সেই দেকার্তের কথা। দেকার্তের বিখ্যাত ম্যাক্সিম আই থিঙ্ক দেয়ারফোর আই এম তিনি পেয়েছিলেন ষোল শতকের নারী দার্শনিক তেরেসার কাছে থেকে। তেরেসা ছিলেন একজন নান। তিনিই লিখেছিলেন,

“Each expects to lead meditators to certainty about fundamental truths, each employs demonic deception as a strategic means to that goal, and each transforms the common deceiving-demon trope into something with a powerful epistemological punch.” এর বাংলা হচ্ছে। 

"প্রত্যেক চিন্তাশীল ব্যক্তিই মৌলিক সত্য সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার প্রত্যাশা করে, প্রত্যেকেই সেই লক্ষ্যের কৌশলগত উপায় হিসাবে ডেভিলস ডিসিপশন থেকে মুক্ত থাকার চেষতা করে এবং প্রত্যেকে সাধারণ সেই ডেভিলস ডিসিপশনকে  একটি শক্তিশালী জ্ঞানতাত্ত্বিক করেই সত্য জ্ঞানে উপনীত হয়।"

বাংলা আর ইংরেজি দুটোই খটমটো জন্য আরো একটু বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করছি। দর্শনের একটা মৌলিক আলাপ ছিল সেইসময়ে যে আমাদের ইন্দ্রিয়লব্ধ জ্ঞান কি সত্য জ্ঞান? তাই যদি হয় তাহলে তো আমরা চোখ দিয়ে চাঁদ দেখি একটা থালার মতো। চাঁদের আকার তো থালার সমান না। আবার জ্বর হলে খাবার বিস্বাদ লাগে তার মানে তো খাবার থেকে স্বাদ চলে যায়না। তাহলে এইযে ইন্দ্রিয় সত্য জ্ঞান দিচ্ছেনা সেটা কীভাবে বুঝতে পারবো। এইযে ইন্দ্রিয়ের ডিসিপশন বা প্রতারণা এটাকেই তেরেসা বলছে ডেলিলস ডিসিপশন।

আরও পড়ুন:


বিমানবন্দরে শুরু আরটি-পিসিআর ল্যাবের কার্যক্রম

নির্মাণশৈলী ও রাতে নৈসর্গিক দৃশ্য দেখতে পায়রা সেতুতে পর্যটকদের ভিড়

কাল লাখ লাখ অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন বন্ধ হয়ে যাবে!

জাপার ফিরোজ রশীদের বিরুদ্ধে সম্পত্তি দখলের অভিযোগ, হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত


এটা থেকে মুক্তি না পেলে সত্য জ্ঞান হয়না। দেকার্ত এটা থেকেই শুরু করলেন তার চিন্তা। তিনি যেখানেই ডিসিপশনের সম্ভাবনা দেখলেন তাকেই ত্যাগ করলেন কারণ তা হয়তো সত্য নয়, তা হয়তো মায়া বা ডিসিপশন এবং ভাবতে থাকলেন। কিন্তু তিনি যে চিন্তা করছেন এটা তো মিথ্যা নয়। এইখান থেকেই তিনি বললেন তিনি যে সত্য তা বুঝতে পারছেন কারণ তিনি চিন্তা করতে পারেন। এই থিংকিং সেলফই তাকে সত্তা হিসেবে স্বীকৃতি দিলো। তার এজেন্সি নিশ্চিত  করলো। 

আরো একজন নারী বোহেমিয়ার রাজকন্যা এলিজাবেথ দেকার্তের চিন্তাকে শেইপ করতে সাহায্য করেছিলেন। এলিজাবেথের সাথে দীর্ঘ ছয়বছর ধরে দেকার্তের পত্রালাপ চলেছে। এলিজাবেথই দেকার্তের শরীর এবং মন সংক্রান্ত চিন্তাকে ক্রিটিক করে শেইপ দিয়েছেন। এলিজাবেথের কন্ট্রিবিউশন ছাড়া দেকার্তের সেই চিন্তা দাঁড়াতেই পারতো না। এলিজাবেথের কথা আমরা জানিনা। আধুনিক দর্শনের ইতিহাস এতোটাই পুরুষতান্ত্রিক যে দর্শন চিন্তার জগতে  নারীদের সব অবদানকে মুছে দেয়া হয়েছে।

লেখাটি শান্তা আনোয়ার-এর ফেসবুক থেকে সংগৃহীত ( লেখাটির আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

শীর্ষ নেতাদের কাছে যে প্রতিশ্রুতি চাইলো বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্যরা

তৌহিদ শান্ত

যত বড় নেতাই হোক না কেন-আন্দোলনের মাঠে নিষ্ক্রিয় থাকলে তাদের বহিষ্কার করতে হবে। দলের শীর্ষ নেতাদের কাছে মতবিনিময় সভায় এই প্রতিশ্রুতি চেয়েছেন নির্বাহী কমিটির সদস্যরা। তারা মনে করেন এই আলোচনার পর আন্দোলনের স্পৃহা বেড়েছে বিএনপিতে। 

দলটির নীতিনির্ধারকরা বলছেন, দলে গণতন্ত্রের ব্যবহারিক চর্চা দৃশ্যমান হলো এই সভা দিয়েই।

তিন দিন করে দুই দফায় মোট ছয় দিনের মতবিনিময় সভায় আগামী দিনের করণীয় নিয়ে আলোচনা করেছেন বিএনপি নেতারা। 

এই সভার আয়োজন ছিলো ব্যাপক, অংশ নেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য, ভাইস চেয়ারম্যান ও উপদেষ্টারা। যোগ দেন সম্পাকদকমন্ডলী, নির্বাহী কমিটির সদস্যরা।

অংশ নেয়া নির্বাহী কমিটির সদস্যরা বলছেন, অতীতে কোন কোন নেতার আন্দোলনে সক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন ছিল। এ নিয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা হয়েছে তাদের।

এ বিষয়কে আমলে নিয়ে আগামীতে যেকোন সংগঠনের কমিটি গঠনে গণতান্ত্রিক চর্চা নিশ্চিত করা হবে বলে এই সভায় ‍সিদ্ধান্ত হয়- জানান স্থায়ী কমিটির এ সদস্য।

অল্প কিছু দিনের মধ্যে সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ের পেশাজীবীদের সঙ্গেও এমন মতবিনিময় সভা শুরু হবে বলে জানান নেতারা।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

স্বপ্ন দেখতাম ববিতার বাড়ির বাগানের মালি হব!

জসিম মল্লিক

স্বপ্ন দেখতাম ববিতার বাড়ির বাগানের মালি হব!

মানুষের সব স্বপ্ন পূরণ হবে না জানা কথা। তবুও স্বপ্ন দেখতে কোনো সমস্যা নাই। কোনো পরিশ্রম নাই, পয়সা লাগে না, কেউ জানতে পারে না। পৃথিবীতে সহজতম কাজের একটি স্বপ্ন দেখা। স্বপ্নই বাঁচিয়ে রাখে। স্বপ্ন শেষ জীবনেরও পরিসমাপ্তি। আমি শিশুকাল থেকেই স্বপ্ন দেখতে দেখতে বড় হয়েছি। আমাকে স্বপ্নবাজ বলা যায়। এক এক সময় এক একটা স্বপ্ন এসে ভর করত আমার মধ্যে। পথ চলতে চলতে স্বপ্নেরা উঁকি দিত। ডালপালা মেলত।

আমি নৌকার মাঝি হতে চেয়েছিলাম, লঞ্চের সারেং হতে চেয়েছিলাম, সিনেমা হলের গেট কীপার হতে চেয়েছিলাম, ববিতার বাড়ির বাগানের মালি হতে চেয়েছিলাম, দর্জি হতে চেয়েছিলাম, সিনেমার খলনায়ক হতে চেয়েছিলাম, খেলোয়াড় হতে চেয়েছিলাম, বাস ড্রাইভার হতে চেয়েছিলাম। এমনি হাস্যকর সব স্বপ্ন আমার মাথায় গিজ গিজ করত। এখনও আমি অনেক স্বপ্ন দেখি। দিনমান একলা ঘরে অনেক স্বপ্নের জাল বুনি।

এখনকার স্বপ্ন হচ্ছে দূরে কোথাও চলে যাওয়ার স্বপ্ন। একবার সুস্থ্য হয়ে উঠলেই বেড়িয়ে পড়ব এমন স্বপ্ন। আজকাল একটা জিনিস খুব বুঝেছি সেটা হচ্ছে স্বপ্নের সাথে সাথে ভাগ্যও লাগে। আমি ভাগ্যে বিশ্বাসী। চোখ বন্ধ করে কল্পনায় চলে যাই বাংলাদেশের আনাচে কানাচে।

কখনও রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, সেন্টমার্টিন, কুয়াকাটা, বরিশাল, সিলেট, শাপলার বিল, চলনবিল চলে যাই। নিজের দেশে এতো সুন্দর সুন্দর বেড়ানোর জায়গা রয়েছে সেসব না দেখে মরে যাব! বিশাল কানাডা দেশটাইবা কবে দেখব! পুরো পৃথিবীটা দেখার স্বপ্ন দেখি আমি। কত দেশ দেখা বাকি রয়েছে। আহা জীবন এতো ছোট কেনো! কত স্বপ্ন অপূৰ্ণই থেকে যাবে।

থাক না কিছু স্বপ্ন অপূৰ্ণ! ক্ষতি কি! অপূৰ্ণতার মধ্যেই আনন্দ। না পাওয়ার আনন্দ। সব স্বপ্ন পূরন হলে আনন্দ নষ্ট। তাই স্বপ্ন নিয়ে বাঁচি।

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর

বাড়ি কোথায়?

মনিজা রহমান

বাড়ি কোথায়?

ওই দিন ছোট ছেলেকে নিয়ে নদীর ধারে গিয়েছি। পার্কের লম্বা বেঞ্চে বসতে গিয়ে দেখলাম- একজন বয়স্ক বাঙালি আগে থেকে বসে আছেন। ভদ্রতাবশত আমি ওনাকে সালাম দিলাম। উনি আমার দিকে তাকিয়ে প্রথমেই জানতে চাইলেন, আপনার বাড়ি কোথায়? 

পার্কের এই বেঞ্চটাতে সাধারণত পাড়া প্রতিবেশীরাই বসে। সেই হিসেবে ওনাকে আমার বাসার স্ট্রিট নম্বর ও এভিনিউ বললাম। উনি তখন বললেন, বাংলাদেশে আপনার বাড়ি কোথায়? 

এটাই নিউইয়র্কে বাঙালির স্বভাব ও বৈশিষ্ট্য। কাউকে প্রথম দেখা হলে কুশল বিনিময় নেই, কি করেন, কোথায় থাকেন, জানতে চাইবে না, আচমকা জিজ্ঞাসা করবে- ‘আপনার বাড়ি কোথায়?’ 

আমি শুরুতে ভাবতাম, বয়স্ক লোকজন বুঝি প্রশ্নটা বেশী করে। পরে দেখলাম, সব বয়সীরাও করে। আমার বড় ছেলে একাদশ শ্রেণিতে ওঠার পরে স্কুল থেকে অনুমতি পেয়েছে লাঞ্চ এর সময়ে বাইরে গিয়ে খাওয়ার। 

ব্রুকলিনে ওর স্কুলের কাছে এক ডানকিন ডোনাটে গিয়ে দেখে অনেক বাঙালি নারী কাজ করছে সেখানে। ও তাদের দেখে, বাংলায় কথা বলতে, তাদের একজন প্রশ্ন করল- ‘তোমার বাড়ি কোথায়?’ আমার ছেলে উত্তর দিল- ‘এস্টোরিয়া’। ভদ্রমহিলা ওকে বলল, ‘বাংলাদেশে তোমার বাড়ি কোথায়’?

বাড়ি কোথায়, এই প্রশ্নটা আলাপের সূত্রপাত হিসেবে কেউ কেউ ব্যবহার করতে পারে। যদিও আমি কখনই এই প্রশ্নটা পরিচিত-অপরিচিত কাউকে করি না। আমার বর প্রায়ই করে। কেউ তার জেলার বা থানার নাম বললে, ওখানকার একাধিক এলাকার নাম, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যাক্তিদের নাম বলে চমকে দেয়। এতে করে সদ্য পরিচিত ব্যক্তিটিকে বেশ আনন্দে বিগলিত হতে দেখা যায়। 

আমেরিকানরা সাধারণত পরিচিত-অপরিচিত কারো সঙ্গে দেখা হবার শুরুতে ‘আবহাওয়া’ নিয়ে কথা বলে। কারণ এখানকার আবহাওয়া খুব ওঠানামা করে। তাই বলে সাধারণ আমেরিকানদের কি আঞ্চলিক প্রীতি নেই। খুব আছে। যে যার স্টেট বা সিটির, সেটার নাম উল্লেখ করার সময় এক ধরনের গর্ব প্রকাশ পায়। কেউ যদি বলে- ‘আই এম ম্যান ফ্রম বস্টন’, তার মানে সে বোঝাতে চায় আমি অন্যদের চেয়ে ওপরে। 

আরও পড়ুন:


ডিসেম্বরেই চালু হবে ৫জি নেটওয়ার্ক: মোস্তাফা জব্বার

দেশে বিনিয়োগ করুন: প্রধানমন্ত্রী

যানজট নিরসনের উদ্যোগ আটকে থাকে মহাপরিকল্পনার নথিতেই

মক্কা-মদিনার মসজিদে কাজ করবেন নারীরা


রোড আইল্যান্ডের দুই শহর নিউপোর্ট ও প্রভিডেন্সে মাস খানেক আগে বেড়াতে গিয়ে কয়েকটি দর্শনীয় স্থানে গিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে দেখলাম, ওখানে দীর্ঘদিন ধরে যারা বাস করছেন, তারা অর্থ-সময়-মেধা দিয়ে এই স্থানগুলোকে অতিথিদের জন্য সুন্দর ও আকর্ষণীয় করে রাখতে সদা তৎপর। 

-মনিজা রহমান, নিউইয়র্ক (ফেসবুক থেকে নেয়া)

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

মনে পড়ে আমি ছিলাম...

জসিম মল্লিক

মনে পড়ে আমি ছিলাম...

আজকাল কোনো কিছুই আর ঠিকঠাকমতো ঘটে না আমার। যা কিছু করি মনে হয় কিছুই ঠিকমতো হয় নি। লেখা ঠিকমতো হয়নি, বলা ঠিকমতো হয়নি, যোগাযোগ ঠিক মতো হয়নি। মনে হয় কোথায় যেনো একটা গ্যাপ তৈরী হচ্ছে। মনে হয় কোথায় যেনো ভুলের চিণ্হ থেকে গেছে। কলেজে পড়ার সময় থেকেই নীহার রঞ্জন গুপ্তের বই পড়তে শুরু করি। তার রহস্য বইগুলোতে কিরীটি রায় ছিল একজন ঝানু গোয়েন্দা। অপরাধী যত বড় সেয়ানাই হোক না কেনো কিরীটি বাবু ঠিকটাক ধরে ফেলতেন। অপরাধী কোথাও না কোথাও একটা চিন্হ রেখে যায়। গোয়ান্দারা সবসময় মনে করেন, কোথাও না কোথাও একটা ক্লু থাকবেই। আমার ভুলগুলো অবশ্য ভিন্ন মাত্রার, একান্ত নিজের। আমি আমার নিজের ভুলে নিজেই জর্জরিত। আমার ভুলগুলো অন্য কেউ সহজে শুধরে দেয় না, কোনো গোয়েন্দাগিরিও নেই হয়তবা। আমার গোয়েন্দা আমি নিজেই। আমি যেমন ভুল করি, আবার একা একা ভুল স্বীকার করি, ভুল শোধরাতেও চেষ্টা করি। একই ভুল বার বার করি বলে নিজের উপর নিজেই ক্ষুব্ধ।

কেনো ভুল করলাম এইসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজি। ভাবি একই ভুল আর করব না। বড় অপরাধীরা বড় বড় ক্রাইম করে। আমি চুনোপুটি টাইপ মানুষ। বড় অপরাধ করতে বুকের পাটা লাগে, সবাই পারে না। আমি আমার ক্ষুদ্র জীবন নিয়ে জেরবার। অন্যে কে কি করল সেসব নিয়ে লিখতে সাহস পাই না। কি থেকে কি হয়। শুনেছি আমরা যে যাই লিখি না কেনো সবকিছু সিস্টেমে থেকে যায়। কিছুই মুছে যায় না। হারিয়ে যায় না। লেখা সঠিক না হলে একদিন ধরা হবে। জাল পাতা আছে। তাই ওসবের ধারে কাছে নাই আমি। শুভাকাঙ্খিরা সবসময় বলে নিজেকে সেভ করে চলতে। সত্য কথা বলার দরকারটা কি। সত্যবাবুর মা মইরা গেছে। যেমনে আছ তেমনে থাক। জেসমিনও বলে, তুমি হইছ দুই পয়সার মানুষ, কে কি করলো তা নিয়া এতো চিন্তা করতে হবে না। নিজেরে নিয়া চিন্তা করো।

কথা সত্য। আমি তাই করি। নিজেরে নিয়া চিন্তা করি। আজকাল এমন হয়েছে একটা না একটা কিছু ভুল হয়েই যায়। নিজের উপর কন্ট্রোল কমে যাচ্ছে। যা করা দরকার তা করি না, অদরকারি কাজ নিয়ে সদা ব্যস্ত। আৱ ভুলগুলোও খুউব হাস্যকর। মোটা দাগের।  কাউকে বলাও যায় না। অন্য কেউ আমার মতো করে কিনা জানি না। আমার মতো কারো না হওয়াই বাঞ্চনীয়। আমার এখন যে বয়স তাতে আমার আরো চিন্তাশীল, শান্ত, স্থির, ধৈর্য্য থাকার কথা। কিন্তু তা না হয়ে অপ্রত্যাশিত সব কান্ড করি। যাকে যা বলার কথা না তাকে তা বলি, যার সাথে যে আচরন করা উচিত না, তার সাথে সে আচরন করি, যা করা শোভন না তা করি, যাকে সম্মান করা উচিত তাকে যোগ্য সম্মান না দিয়ে অযোগ্যকে সম্মান দিয়ে বসি।

আরও পড়ুন


ভোটের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলার শুরু জিয়ার আমলে

কোহিলির বেঙ্গালুরুকে হারিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে চেন্নাই

কানাডার সিটি নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী বাংলাদেশি মিজানুর রহমান

শতবর্ষী মায়ের অপেক্ষা, ৭০ বছর পর কুদ্দুস খোঁজ পেলেন পরিবারের


পক্ষান্তরে আমার সাথেও অন্যেরা এমন আচরন করে। যার উপকার করি সেই দেখি চোখ উল্টে ফেলে। এসব কারনে একসময় গভীর বেদনায় আচ্ছন্ন হতাম। এখন হইনা তেমন। এখন সবকিছু স্বাভাবিকভাবে নিতে শিখেছি। আমার উদারতার সুযোগ নিয়েও কেউ কেউ আমাকে ব্যবহার করে। তাই এসব ভেবে কখনও একটু এলোমেলো হই বটে, নিজের উপর নিয়ন্ত্রণও হারাই। কিন্তু মেনে নেই, ভাবি এমনটাই হওয়ার কথা। প্রতিটি জীবন তার আপন নিয়মে চলবে। কেউ আমাকে নিয়ন্ত্রণ করুক, অভিযোগে জর্জরিত করুক আমি তা চাই না। আমি কখনো কারো উপর অভিযোগ করি না। কত আপনজন আমাকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে! আমি কখনো জানতে চাইনি কেনো এমন করেছে। আমার জানতে চাইতে ইচ্ছে করে না। যে হারায় সে এমনি হারায়, আর যে থাকে সে এমনি থাকে। এইসব যখন ভাবি তখন আউলা ঝাউলা লাগে। রাস্তায় নেমে পথ হারিয়ে ফেলি। এক জায়গায় যাব বলে পথে বেরিয়েছি চলে যাই অন্য জায়গায়। হঠাৎ মনে হয় আরে আমার তো এখানে আসার কথা না! অন্য কোথাও যাওয়ার কথা ছিল!

অসুস্থ্য অবস্থায় এলেবেলে ভাবনায় জর্জরিত হয়ে এমন সব কথা মাথায় আসে।

জীবনানন্দের কবিতার লাইন দিয়ে শেষ করছি…
”আবার আকাশে ঘন হয়ে উঠেছেঃ
আলোর রহস্যময় সহোদরার মতো অন্ধকার। 
যে আমাকে চিরদিন ভালোবেসেছে
অথচ যার মুখ আমি কোনোদিন দেখিনি, 
সেই নগরীর মতো ফাল্গুন আকাশে অন্ধকার নিবিড় হয়ে উঠেছে।
মনে হয় কোন্‌ বিলুপ্ত নগরীর কথা
সেই নগরীর এক ধূসর প্রাসাদের রূপে জাগে হৃদয়ে..”

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর