বগুড়ায় ৭০০ পরিবারের মাঝে বসুন্ধরা গ্রুপের ত্রাণ বিতরণ

অনলাইন ডেস্ক

 বগুড়ায় ৭০০ পরিবারের মাঝে বসুন্ধরা গ্রুপের ত্রাণ বিতরণ

পথে পথে কাগজ কুড়াচ্ছিলেন আছিয়া খাতুন। একবেলা খাবারের জন্য তাকে খুঁজে বেড়াতে হয় পথে পড়ে থাকা কাগজ। সারাদিন কুড়িয়ে কুড়িয়ে প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে বিকালে বিক্রি করেন দোকানে। সেখান থেকে আয় করেন ৪০ থেকে ৫০ টাকা, তা দিয়ে একবেলা খেতে পারেন আছিয়া। 

৪০ বছর ধরে স্বামীকে হারিয়ে এভাবেই চলছে তার জীবন। এমনি একদিন তাকে পথের কোণে বস্তা হাতে বসে থাকতে দেখেন কালের কণ্ঠ শুভসংঘের সদস্যরা। হাতে তুলে দেন বসুন্ধরা গ্রুপের ত্রাণ সহায়তার টোকেন। আছিয়া বুঝতে পারেন না কাগজের একটি ছোট টুকরা কেন দেওয়া হলো তাকে। 

জিজ্ঞেস করতেই শুভসংঘের সদস্যরা জানালেন, বুধবার সকালে তাকে ১০ কেজি চাল, ৩ কেজি ডাল আর ৩ কেজি আটা দেওয়া হবে। কথাটি শুনে খুশি হলেন আছিয়া। তাদের জন্য দোয়া করে আবার পথে কাগজ কুড়াতে শুরু করেন তিনি। 

আজ বুধবার সকালে সময় মতো ত্রাণ নিতে আসেন আছিয়া। টোকেন দেখে তার হাতে তুলে দেওয়া হয় বসুন্ধরা গ্রুপের খাদ্যসামগ্রী। খাবারের বস্তা হাতে পেয়ে কাঁদো কাঁদো হয়ে গেলেন আছিয়া। বললেন, “বাসি মুখে দোয়া করি বসুন্ধরা গ্রুপের যেন ভালো হয়, ভালো থাকে। তারা যেন আমাগো আরও বেশি বেশি দিতে পারে।”

বসুন্ধরা গ্রুপের ত্রাণ পেয়েছেন মানবেতর জীবনযাপন করা আজাজ আলী প্রামাণিক। তিনি বলেন, “আমি এহন কামকাজ করতে পারি না। ছোট ছেলে স্বর্ণের দোকানে কাম করতো তাও এখন করতে পারে না। আমার স্ত্রী স্কুলে আয়ার কাম করে মাসে ২ হাজার টাকা পায়, তা দিয়েই টুকটাক সংসার চলে। তোমাদের ত্রাণ পেয়ে আমাদের ৭-৮ দিনের দুঃখ ঘুচিল বাবা। এই অসময়ে তোমরা ত্রাণ দিছো আমি নামাজ পড়ে দোয়া করব।”

বুধবার আছিয়া-আজাজের মতো বগুড়া জেলার সদর উপজেলায় ৭০০ অসহায় ও দুঃস্থ পরিবারকে খাদ্যসামগ্রী বিতরণের মাধ্যমে রাজশাহী বিভাগে বসুন্ধরা গ্রুপের ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এসব কাজে সার্বিক সহযোগিতা করছে কালের কণ্ঠ শুভসংঘ।

বসুন্ধরা গ্রুপের সহায়তায় পর্যায়ক্রমে বগুড়া জেলায় ৪ হাজার ও রাজশাহী বিভাগে ২৪ হাজার পরিবারকে এই খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হবে।

এদিন উপজেলার বগুড়া জিলা স্কুল মাঠে এই খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন শুভসংঘের সদস্যরা। এছাড়া সকলের মাঝে মাস্ক বিতরণ ও করোনা সুরক্ষায় সচেতনতামূলক পরামর্শ দেওয়া হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বগুড়া জেলার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা। তিনি বলেন, “আজকের ত্রাণ বিতরণের আয়োজনটি আমার কাছে মনে হয়েছে বাংলাদেশে যত ভালো কাজ হয়েছে তার মধ্যে এটি অন্যতম। আমাদের বগুড়া জেলা সদরে আজ ৭০০ অসহায় পরিবারকে ত্রাণ দিয়েছে। পুরো জেলায় মোট ৪ হাজার পরিবারকে এই সহায়তা দেবে। করোনা মহামারীর সময়ে বসুন্ধরা গ্রুপের সহায়তায় শুভসংঘ এত চমৎকার একটি আয়োজন করে আমাদের ভাই-বোনদের অন্তত কিছুদিন ঘরে থাকার জন্য খাদ্যসামগ্রী দিয়েছে, এজন্য আমরা তাদেরকে প্রাণ থেকে সাধুবাদ জানাই, ধন্যবাদ জানাই এবং কৃতজ্ঞতা জানাই।”

তিনি আরও বলেন, “আপনারা সবাই করোনা মহামারীর এই সময়ে কেউ অযথা ঘর থেকে বের হবেন না। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবেন। মাস্ক পরে থাকবেন। সবাই ভালো থাকবেন।”

এছাড়া ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে আরও উপস্থিত ছিলেন দৈনিক করোতোয়ার সম্পাদক মোজাম্মেল হক লালু, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সেলিম রেজা, কালের কণ্ঠ শুভসংঘের পরিচালক জাকারিয়া জামান, শুভসংঘের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ও কালের কণ্ঠের বগুড়া অফিসের ব্যুরো প্রধান লিমন বাশার, শুভসংঘের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শরীফ মাহ্দী আশরাফ জীবন, শুভসংঘের বগুড়া জেলার উপদেষ্টা আব্দুল মান্নান আকন্দ ও মোস্তাফা মাহমুদ শাওন, জেলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) শ্যামপদ মুস্তফী,বাংলাদেশ প্রতিদিন বগুড়া অফিসের নিজস্ব প্রতিবেদক আবদুর রহমান টুলু, নিউজ টোয়েন্টিফোরের জেলা প্রতিনিধি আবদুস সালাম বাবু, শুভসংঘের বগুড়া সদস্য জান্নাত আক্তার, মিনা ইসলাম, শুভসংঘের বগুড়া জেলা শাখার সভাপতি ডা. সিরাজুল ইক ফাহিম, সহ-সভাপতি ডা. শফিক আমিন কাজল, সাধারণ সম্পাদক শিশির মুস্তাফিজ। 

অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিতি ছিলেন মশিউর রহমান জুয়েল, আশফাকুর রহমান চন্দন, আমজাদ হোসেন, শরিফুর রশিদ, আল আদোল আপন, রাকিব আহমেদ, রুমানা ইয়াসমিন, নাহিদ সৌরভ, আব্দুর রহিম, জান্নাত আক্তার বর্ষা, রাফসান সাকিন, বগুড়া মহিলা কলেজের সাধারণ সম্পাদক ইরা মনি, উত্তরা ইউনিভার্সিটির সাবেক সভাপতি আলমগীর হোসেন রনি ও গণবিশ্ববিদ্যালয় শাখার অর্থ সম্পাদক মিম খান প্রমুখ।

উল্লেখ্য, এর আগে রংপুর বিভাগের ৮টি জেলায় ২৪ হাজার অসহায় ও অতিদরিদ্র পরিবারের মাঝে বসুন্ধরা গ্রুপের সহায়তায় ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

আরও পড়ুন:


ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে একদিনে সাতজনের মৃত্যু

এবার তিউনিসিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে বহিষ্কার করলেন প্রেসিডেন্ট

মাহফুজ আনামের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে সম্পাদক পরিষদ থেকে নঈম নিজামের পদত্যাগ

গ্রামীণফোনকে হু্মায়ূন পরিবারের আইনি নোটিশ


news24bd.tv / কামরুল 

পরবর্তী খবর

নিয়ামতপুরের সারিবদ্ধ তালগাছ নজর কাড়ছে পর্যটকদের

বাবুল আখতার রানা, নওগাঁ

নওগাঁর নিয়ামতপুওে দাঁড়িয়ে থাকা সারি সারি তালগাছ যেন এক অপরুপ দৃশ্যপট। হয়ে উঠেছে এক অনন্য বিনোদন কেন্দ্রও। এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে নওগাঁ ও তার বাইরের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতিদিন উপভোগ করতে আসেন গাছের সারির সৌন্দর্য। তাই এখানকার সৌন্দর্য আরো বাড়ানোর জন্য নানা পরিকল্পনা নিচ্ছে প্রশাসন। 

সড়কের নাম ঘুঘুডাঙা। নওগাঁর নিয়ামতপুরের এ সড়কটির দুই পাশে তিন কিলোমিটার জায়গা জুড়ে দাঁড়িয়ে আছে সারি সারি তালগাছ। যেন হাজারো তালগাছ করছে আকাশ ছোঁয়ার প্রতিযোগিতা।

সারিবদ্ধ এসব তালগাছের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নজর কাড়ছে পর্যটকরদের। তাই এখানে ক্রমেই বাড়ছে ভিড়। শুধু জেলা-উপজেলা নয়; এখানকার সারি সারি গাছের সৌন্দর্যেও স্বাদ নিতে অন্য জেলা থেকেও আসছে দর্শনার্থী। তাদেও সংখ্যাটাও কম নয়।

বিভিন্ন খাবারের দোকান আর ঘোড়ায় চড়ার সুযোগ একে দিয়েছে পুরোপুরি পর্যটনস্পটের চেহারা। সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে এসব খাবার দোকান।

আরও পড়ুন:


ডিসেম্বরেই চালু হবে ৫জি নেটওয়ার্ক: মোস্তাফা জব্বার

দেশে বিনিয়োগ করুন: প্রধানমন্ত্রী

যানজট নিরসনের উদ্যোগ আটকে থাকে মহাপরিকল্পনার নথিতেই

মক্কা-মদিনার মসজিদে কাজ করবেন নারীরা


বর্তমান খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার ১৯৮৫-১৯৮৬ এই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন। আর তখনই তিনি উদ্যোগ নেন তিন কিলোমিটার জুড়ে তালগাছ লাগানোর।

 স্থানটিকে পুরোপুরি বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে নানা উন্নয়ন পরিকল্পনা শিগগিরি হাতে নেয়া হবে বলে জানালেন এই নির্বাহী কর্মকর্তা। ঘুঘুডাঙার সড়কটিকে পুরোপুরি পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার দাবি স্থানীয়দের।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

জামাইকে গাছে বেঁধে পেটালো শ্বাশুড়ি

আবদুল লতিফ লিটু, ঠাকুরগাঁও

মেয়ের মা-বাবার মত ছিলো না বিয়েতে। তাই বরকে গাছের সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় সইতে হলো অমানবিক নির্যাতন। গেল সোমবার ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলায় এমন ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে এখন দিনাজপুর মেডিকেলে চিকিৎসাধীন নাসিরুল ইসলাম নামের এক যুবক। সামাজিক মাধ্যমে নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল হলে মেয়ের মাকে আটক করে থানা পুলিশ। 

গাছের সঙ্গে বাঁধা এই ব্যক্তির অপরাধ, সাবালিকা এক মেয়েকে আইনগতভাবে বিয়ে করা। দুইজনের প্রেমের সম্পর্ক এবং বিয়ের কারণে এভাবেই মেয়ে পক্ষের নির্যাতন সহ্য করতে হয় নাসিরুলের।

আরও পড়ুন:


ডিসেম্বরেই চালু হবে ৫জি নেটওয়ার্ক: মোস্তাফা জব্বার

দেশে বিনিয়োগ করুন: প্রধানমন্ত্রী

যানজট নিরসনের উদ্যোগ আটকে থাকে মহাপরিকল্পনার নথিতেই

মক্কা-মদিনার মসজিদে কাজ করবেন নারীরা


ঘটনাটি গেলো সোমবারের। তবে ভিডিও ভাইরাল হলে বৃহস্পতিবার রাতে সবার নজরে আসে। পাশাপাশি গ্রামের নাসিরুল ও কেয়া মনি ১ সেপ্টেম্বর ঠাকুরগাঁও আদালতে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। পরে নাসিরুলের কর্মক্ষেত্র ঢাকায় চলে যান দুইজনে। বিয়ে মেনে নেওয়ার কথা বলে তাদের গ্রামে ডাকা হয়। এরপরই চলে নির্যাতন।

সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও ভাইরালের পর শুক্রবার অভিযুক্ত নারীকে আটক করে পুলিশ।এমন অমানবিক নির্যাতনের বিচার দাবি করেছেন নাসিরুলের স্বজনরা। একইভাবে বিচারের দাবিতে নাসিরুলের গ্রামের মানুষও মানববন্ধন করেছেন।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

কোম্পানীগঞ্জ থেকে বিচ্ছিন্ন নদীভাঙ্গণ কবলিত চরএলাহী ইউনিয়ন

আকবর হোসেন সোহাগ, নোয়াখালী:

কোম্পানীগঞ্জ থেকে বিচ্ছিন্ন নদীভাঙ্গণ কবলিত চরএলাহী ইউনিয়ন

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার উপকূলীয় ৮নং চরএলাহী ইউনিয়নের বিস্তির্ণ এলাকা দীর্ঘদিন থেকে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে হাজার হাজার মানুষ।

এতে করে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে নদী ভাঙ্গণের কারণে অনেকটা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে ওই ইউনিয়নটি। ছোট ফেনী নদীর ভাঙ্গণের কারণে জনসাধারণ অন্যত্র চলে যাওয়ায়, ওয়ার্ড বিভক্তি না করার কারণে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে এর বিরুপ প্রভাব পড়বে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। 

জানা যায়, ভাঙ্গণ কবলিত এলাকায় দেখা যায়, দীর্ঘদিন থেকে ছোট ফেনী নদী গিলে খেয়েছে কোম্পানীগঞ্জ চরএলাহী ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের বৃহদাংশসহ ১, ৩ ও ৪ ওয়ার্ডের অংশ বিশেষ। ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড পূর্ব চরলেংটা, চরলেংটা, চরএলাহী এবং দক্ষিণ চরএলাহী এ ৪টি গ্রামের অধিকাংশ ঘর-বাড়ি, ফসলী জমি, মৎস্য-গবাদী পশু খামার, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বিলিন হয়ে গেছে নদী গর্ভে। 

ইতিমধ্যে দুইবার ভাঙ্গণের কবলে পড়ে চরলেংটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি কোনরকম কাঠটিনের ভবন করে পাঠদান করছে। ভাঙ্গনের কবলে পড়ে ইতিমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে চরলেংটা আশ্রয়ন কেল্লা, হাতিয়া কলোনী, এরশাদ কলোনী এবং হাসনা মওদুদ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কয়েকটি মসজিদ।

নদী ভাঙ্গন কবলিত হয়ে নিঃস্ব মানুষেরা ঠাই নিয়েছে এক ওয়ার্ড থেকে অন্য ওয়ার্ড কিংবা উপজেলার অন্য কোন ইউনিয়নে। এতে ইউনিয়নের কোন কোন ওয়ার্ডে জনসংখ্যার আনুপাতিক হারেও ব্যাপক তারতম্য দেখা দিয়েছে।

৫নং ওয়ার্ডে ৪টি গ্রামে ভোটার সংখ্যা ছিল ১৭শ জন। ভাঙ্গণের কবলে পড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ায়, এখন এখানে মাত্র ২শ জন ভোটার এই ওয়ার্ডে বসবাস করছে। ইউনিয়নটির ৬নং ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা ৩৬১জন অপরদিকে ৯নং ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা ৩ হাজার ৩শ ৪৪জন। 

চরএলাহী ইউনিয়নে জনসংখ্যা অনুপাতে ওয়ার্ড বিভক্তি করণ না করায় উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাপকভাবে ব্যহত হচ্ছে। 

সরকারি ভাবে প্রাপ্ত দান-অনুদান বিতরণে জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয়দের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে জনগণকে। এসব অসামঞ্জস্যপূর্ণ অবস্থায় জনপ্রতিনিধিরাও সমস্যায় পড়ছেন, প্রশ্নের সম্মূখীন হচ্ছেন সরকারি দান-অনুদান বিতরণে।

চরএলাহী ইউনিয়নের জনসাধারণ এতই দুর্ভাগা যে, চরএলাহী “স্টিল ব্রিজ” ভেঙ্গে যাওয়ায় কার্যত উপজেলা সদর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে রয়েছে তারা। 

ইউনিয়নের বিস্তির্ণ চরাঞ্চলে উৎপাদিত সকল কৃষিপণ্য সরবরাহ, ক্রয়-বিক্রি, পরিবহণ চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ইউনিয়নবাসীকে। 

নতুন ভাবে নির্মিয়মান ব্রীজের কাজ করতে গিয়ে আবারও নদীর জোয়ারের পানিতে ভাঙ্গণের কবলে পড়ে নতুন ব্রীজ নির্মাণ কাজ বর্তমানে বন্ধ হয়ে আছে। 

চরএলাহী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাক বলেন, আশঙ্কাজনক হারে নদী ভাঙ্গণ কবলীত ৮নং চরএলাহী ইউনিয়নের ওয়ার্ড বিভক্তি করণের জন্য ২০১৫ সালের ২৬ এপ্রিল তারিখে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে রেজুলেশন সহকারে আবেদন করা হয়েছিল নোয়াখালী জেলা প্রশাসক বরাবরে। 

এরপর ২০১৬ সালে সর্বশেষ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ যাবত কয়েক বার সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরে লিখিত ভাবে আবেদন-নিবেদন করার পরও ওয়ার্ড বিভক্তি করণ করা হয়নি। ওয়ার্ড বিভক্তিকরণ কাজ সম্পন্ন না করায় আসন্ন ইউপি নির্বাচনে এর বিরুপ প্রভাব পড়বে বলে চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাক ছাড়াও আরও অনেকে মতামত প্রকাশ করেছেন। 

আরও পড়ুন


জেলেদের জালে ২ কেজি ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ মাছ

পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা

প্রচণ্ড গরমে দেড় লিটার ঠাণ্ডা পানীয় পান করে যুবকের মুত্যু

ডিসেম্বরে পাকিস্তান সফরে আসবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ


তিনি আরও বলেন, নদী ভাঙ্গণ রোধকল্পে ক্রস ড্যাম নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে এবং সাময়িক ভাবে দ্রুত ব্লক ফেলে নদী ভাঙ্গণ প্রতিরোধের পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। 

বারবার ভাঙ্গনের কবলে পড়া স্থানীয় অধিবাসী ও এনজিওকর্মী আবদুল করিম ও আবদুর রহিম জানান, ইউনিয়নের এই অংশটি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে নদী ভাঙ্গন কবলিত তিন কিলোমিটার এলাকায় ব্লাক ফেলে কিংবা জিও ব্যাগ দিয়ে বাঁধ নির্মাণের কোন বিকল্প নাই। তারা এই এলাকাটিকে নদী ভাঙ্গনের হাত থেকে রক্ষায় স্থানীয় সাংসদ সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন। 

স্থানীয়রা জানান, ২০১২ সালে কোম্পানীগঞ্জ সূবর্ণ চরের ভাঙ্গন কবলিত এলাকাকে রক্ষা করতে চর ক্লার্ক- চর বালুয়া ক্রস ডেম নির্মানের প্রস্তাব করা হয়েছিল। কিন্তু অজানা কারনে তা বাস্তবায়িত না হওয়ায় চর এলাহীর বিস্তৃর্ণ এলাকা এবং ২৩ ভেন্ট স্লুইসগেট সহ মুছাপুর ক্লোজার ও ভাঙ্গনের করাল গ্রাসে তলিয়ে যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। তাই যতদ্রুত সম্ভব ক্রসডেম নির্মান অত্যাবশ্যক।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.জিয়াউল হক মীর জানান, নদী ভাঙ্গণ রোধ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে অবহিত করা হয়েছে।

NEWS24.TV / কামরুল

পরবর্তী খবর

প্রায় দুইশো বছর পর প্রাণ ফিরেছে মরা তিস্তায়

রেজাউল করিম মানিক, রংপুর

প্রায় দুইশো বছর পর প্রাণ ফিরেছে রংপুরের বদরগঞ্জের মরা তিস্তা নদীতে। পুনঃখননের পর যুক্ত হয়েছে চিকলী ও যমুনেশ্বরী নদীর মূল ধারার সাথে। 

জীব-বৈচিত্র্য, পরিবেশ, কৃষি ও জনজীবনে এরইমধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে মরা তিস্তা। হারিয়ে যেতে বসা নদীগুলো উদ্ধার এবং প্রবাহ নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন নদী বিশেষজ্ঞরা। 

কালের বিবর্তনে ধানি জমি, গো-চারণভূমিতে পরিণত হওয়া মরা তিস্তার বুকে এখন পানি। নদীর পাড়ে পাখিদের কিচিরমিচির। খরা মোকাবেলায় জলের বিশাল আধারে পরিণত এই নদী সেচ সুবিধাও নিশ্চিত করছে।

বরেন্দ্র বহুমূখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের তথ্য বলছে, ১৭৮৭ সালের ভূমিকম্পের পর এই শাখা নদী বিলুপ্ত হতে শুরু করে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ইআইআরপি প্রকল্পের মাধ্যমে নদীর প্রবাহ এলাকা শনাক্ত করে খনন করা হয়।

বরেন্দ্র অঞ্চলে খরার প্রভাব দূর করতে হারিয়ে যাওয়া ছোট নদীগুলোর প্রবাহ নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করেন পরিবেশবাদীরা।

আরও পড়ুন:


ডিসেম্বরেই চালু হবে ৫জি নেটওয়ার্ক: মোস্তাফা জব্বার

দেশে বিনিয়োগ করুন: প্রধানমন্ত্রী

যানজট নিরসনের উদ্যোগ আটকে থাকে মহাপরিকল্পনার নথিতেই

মক্কা-মদিনার মসজিদে কাজ করবেন নারীরা


মরা তিস্তা নদীর পানি প্রায় ২০টি গ্রামের ৫ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ দিতে কাজে লাগবে বলে জানান প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।

রংপুরের বদরগঞ্জের মরা তিস্তা নদীর উৎস মুখ চিকলী নদী। ৯টি গ্রামের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত সাড়ে ১৩ কিলোমিটার দৈর্ঘের নদীটি মিলিত হয়েছে যমুনেশ্বরী নদীতে।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

ফেসবুকের কল্যাণে ৭০ বছর পর নিজের মাকে খুঁজে পেলেন কুদ্দুছ

অনলাইন ডেস্ক

ফেসবুকের কল্যাণে ৭০ বছর পর নিজের মাকে খুঁজে পেলেন কুদ্দুছ

১০ বছর বয়সে রাজশাহীর আত্রাই উপজেলায় হারিয়ে যান কুদ্দুছ মুন্সী। ৭০ বছর পর সেই কুদ্দুছ ফিরলেন নিজ মায়ের কাছে। মূলত এক ফেসবুক পোস্টের কল্যাণে ৭০ বছর পর নিজের মা ও পরিবারকে খুঁজে পেয়েছেন কুদ্দুছ মুন্সী।

দিন দশেক আগে আইয়ূব আলী নামের পরিচিত একজনের ফেসবুক আইডিতে হারিয়ে যাওয়ার গল্প বলেন আব্দুল কুদ্দুছ।

সেখানে তিনি শুধু পিতা-মাতা ও নিজ গ্রাম বাড্ডার নাম বলতে পারেন। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে থাকা বাড্ডা গ্রামের বাসিন্দারা সাড়া দিতে থাকেন। একপর্যায়ে আব্দুল কুদ্দুছকে খুঁজে পান তার পরিবারের সদস্যরা।

শনিবার সকাল সাড়ে ১১টায় পার্শ্ববর্তী উপজেলার বাঞ্ছারামপুরের আশ্রাফবাদ গ্রামের বোন ঝড়না বেগমের বাড়িতে মা ছেলের দেখা হয়। 

আরও পড়ুন


জেলেদের জালে ২ কেজি ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ মাছ

পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা

প্রচণ্ড গরমে দেড় লিটার ঠাণ্ডা পানীয় পান করে যুবকের মুত্যু

ডিসেম্বরে পাকিস্তান সফরে আসবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ


এ সময় আবেগে আপ্লুত হয়ে ছেলেকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন মা। কান্না জনিতকণ্ঠে তিনি বলেন, ‘কুদ্দুছ তুই একদিন ফিরে আসবি এটা আমি বিশ্বাস করতাম, আল্লার কাছে এই দোয়াই করেছি। আল্লাহ আমার দোয়া কবুল করেছেন। ১০ বছরের কিশোর কুদ্দুছ মুন্সি এখন ৮০ বচর বয়সী প্রবীণ। তার তিন ছেলে ও ৫ মেয়ে রয়েছেন। তার গ্রামের বাড়ি নবীনগর উপজেলার সলিমগঞ্জ ইউনিয়নের বাড্ডা গ্রামে। তবে গ্রামে কেউ বাস করেন না। মা মেয়ের সঙ্গে থাকেন।’ 

কুদ্দুছ মুন্সীরও দৃঢ় বিশ্বাস ছিল একদিন মাকে খুঁজে পাবেন। তিনি জানান,‘হারিয়ে যাওয়ার পর রাজশাহী জেলার আত্রাই উপজেলার সিংশারা গ্রামের সাদিক মিয়ার বাড়িতে বড় হয়েছেন তিনি। পরবর্তীতে বিয়ের পর থেকে শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করছেন।  

তিনি আরও বলেন, আমার মা ও বোনদের খোঁজার অনেক চেষ্টা করেছি। আমার বিশ্বাস ছিল একদিন আমার মার সন্ধান আমি পাব। মায়ের বুকে ফিরতে পেরে পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ আমার আমাকে মনে হচ্ছে। বাকি জীবনটা মার সঙ্গেই থাকব।’ 

ভাইকে পেয়ে মায়ের মতোই খুশি কুদ্দুছের বোন ঝরনা বেগম। তিনি বলেন, আমার মা সবসময় বলতেন একদিন আমার ছেলে ফিরে আসবে। আল্লাহ আমার মায়ের প্রার্থনা কবুল করেছেন। আমরা আমার ভাইকে ফিরে পেয়েছি।

NEWS24.TV / কামরুল

পরবর্তী খবর