মাস্ক পরানোর শেষ চেষ্টা হিসেবে আমার কিছু প্রস্তাব

সাইফুদ্দিন আহমেদ নান্নু

মাস্ক পরানোর শেষ চেষ্টা হিসেবে আমার কিছু প্রস্তাব

আমরা যা করতে পারি:

০১. আমরা আমাদের টেলিভিশনগুলোতে সকল রাজনৈতিক দলের পরিচ্ছন্ন সিনিয়র নেতা বলে এখনও যাঁরা পরিচিত তাঁদের স্পেস দিতে পারি। তাঁরা এক মিনিট, দু’মিনিট সময় নিয়ে নিজ নিজ রাজনৈতিক দলের কর্মী, সমর্থকসহ সাধারণ মানুষকে মাস্ক পরার আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য রাখবেন। আর সেসব বক্তব্য দেশের সকল টিভিস্টেশন, পত্রিকা বাধ্যতামূলকভাবে এই রেকর্ডকৃত, মুদ্রিত বক্তব্য প্রতিদিন নিয়মিত বিরতিতে বারবার প্রচার করবে, প্রকাশ করবে।

০২. একইভাবে বায়তুল মোকাররমের খতিবসহ দেশের বিভিন্ন জেলা, বিভিন্নপ্রান্তের শ্রদ্ধেয় আলেম, নামকরা মসজিদের ইমাম, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, পীরসাহেবসহ মন্দির, আশ্রম, উপাসনালয়ের শ্রদ্ধেয় পুরোহিত, ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের দিয়ে মাস্ক পরার আহবান সম্বলিত বক্তব্য প্রচার করতে পারি।

০৩. দেশের শ্রদ্ধেয় শিক্ষাবিদ, বুদ্ধিজীবী, সাহিত্যিক সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, শিল্পী, ক্রীড়াবিদ, চিকিৎসকদেরও একইভাবে কাজে লাগাতে পারি।

০৪. মাস্কপরার আহবান সম্বলিত লাখ লাখ ছোট ছোট লিফলেট বিমান থেকে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে, শহরে শহরে ছড়িয়ে দিতে পারি। আকাশ থেকে ফেলা এসব লিফলেটে মাস্কপরার আহবানের সাথে গণস্বাক্ষরের মত রাজনীতিক, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, সামাজিক, সাংস্কৃতিব্যক্তিত্বদের নাম উল্লেখ থাকবে। স্বাধীনতাপূর্ব এবং স্বাধীনতা পরবর্তীকালে বিভিন্ন ইস্যুতে হালকা সেসনা বিমান থেকে এমন লিফলেট ছড়িয়ে দেয়ার বিষয়গুলো আমরা দেখেছি। মানুষকে এসব লিফলেট দারুণভাবে প্রভাবিতও করেছে। 

পাশাপাশি

০৫. বাড়ির বাইরে যারা মাস্ক পড়বে না তাদের বিরুদ্ধে কোন ধরনের অনুকম্পাহীন আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ। 

কেন এমন চেষ্টা এবার সেটা একটু বলা দরকার...

করোনাকালের দেড় বছরেও আমাদের দেশের শিক্ষিত-অশিক্ষিত, বৃদ্ধ, তরুণ-তরুণী সব মিলে ৮০ থেকে ৮৫ ভাগ মানুষকে মাস্ক পরতে অভ্যস্ত করানো যায় নি। নানা কারণ, যুক্তি, কুযুক্তি, অজুহাতে মানুষ মাস্ক পরেনি।

এই মাস্ক না পরা মানুষের অনেকগুলো ক্যাটাগরি আছে। এর মধ্যে অন্ধ, গোড়া ধর্মবিশ্বাসী, কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানুষ যেমন আছে, ঠিক তেমনি চলতি হাওয়ায় বড় হওয়া তরুণের দলও আছে।

আরও পড়ুন


করোনা আক্রান্তকে সমাজচ্যুত করার মানসিকতা বন্ধ করি

অপহরণের ৪ দিন পর শিশু উদ্ধার, অপহরণকারী গ্রেপ্তার

আগস্টের শোককে আমরা শক্তিতে রূপান্তরিত করবো: আব্দুর রহমান

চার মাস ধরে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন নায়ক ফারুক


এই যে ৮০/৮৫ ভাগ মানুষ মাস্ক পরেনি বা আমরা তাদের মাস্ক পরতে উদ্বুদ্ধ কিংবা বাধ্য করতে পারিনি তারই খেসারত দিচ্ছি  প্রতিদিন লাশের মিছিল বাড়িয়ে, অসুস্থ মানুষে হাসপাতালের আঙিনা ভরিয়ে।

আমরা পারিনি। টিভির বিজ্ঞাপন, টকশোর তুমুল বক্তা, মুখচেনা রাজনীতিক, ডাক্তার, বিশেষজ্ঞদের কথা তারা শুনেনি, আমলেই নেয়নি, বিশ্বাস করেনি, আস্থা রাখেনি আমাদের উপর। কারণ আমরা তাদের বিশ্বাস, আস্থা অনেক আগেই নানা কারণে হারিয়েছি। তাই বলে হালতো ছেড়ে দেয়া যাবে না। হাল ছেড়ে দেয়ার মানে হারিয়ে যাওয়া।

আন্তরিক ইচ্ছা থাকলে এসব কাজ খুব অনায়াসেই করা সম্ভব এবং আমার বিশ্বাস এমন উদ্যোগ বর্তমান প্রচারণার তুলনায় মানুষকে শতগুন প্রভাবিত করবে।

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর

সংশপ্তকের জন্য জন্মদিনের শ্রদ্ধাঞ্জলি

ড. বেনজীর আহমেদ, বিপিএম (বার)

সংশপ্তকের জন্য জন্মদিনের শ্রদ্ধাঞ্জলি

‘হাসিনা: আ ডটারস টেল’। মধ্যবিত্ত গার্হস্থ্য আবহে হাসি আনন্দে ভরা পরিবারে বেড়ে ওঠা এক নারীর অকস্মাৎ সব স্বজন হারিয়ে সর্বহারা হয়ে যাওয়া, সেই অবস্থা থেকে ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ানো এবং অবশেষে দিগন্তবিস্তারী মহিমায় ১৭ কোটি মানুষের ত্রাতা হিসেবে নিজের অস্তিত্ব ঘোষণার গল্প নিয়ে এই ছবি।

পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ার পর আপন দেহভস্ম থেকে গ্রিক পুরাণের ফিনিক্স পাখির পুনরুত্থান, এই গল্প যেন সেই পৌরাণিক আখ্যানের বাস্তব প্রকাশ। যেন এক জাদুবাস্তবতানির্ভর পরাবাস্তব গল্প। এই ছবির সবচেয়ে বড় আকর্ষণীয় দিক হলো, এখানে একেবারে হারিয়ে যাওয়ার মতো পর্যায় থেকে স্বমহিমায় যাঁর ফিরে আসার গল্প বলা হয়েছে, তিনি নিজেই সেই গল্পের মূল কথক। তিনি হলেন বাংলার ‘ফিনিক্স পাখি’, বিশ্বনন্দিত রাজনীতিক আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আজ ২৮ সেপ্টেম্বর সেই মহীয়সী নারী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন। এই ঐতিহাসিক উচ্ছ্বাসের মুহূর্তে লেখাটি শুরু করেছি। ‘হাসিনা: আ ডটারস টেল’ ছবিতে আত্মকথনের একপর্যায়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তাঁর ছোট বোন শেখ রেহানা বলেন, ১৯৮১ সালের ৯ এপ্রিল তাঁরা দুই বোন দিল্লির নিজামউদ্দিন আউলিয়ার দরগায় গিয়েছিলেন। সেখানে একজন খাদেম অনেক পুরোনো একটা খাতা এনে তাঁদের সামনে মেলে ধরলেন। সেই খাতায় বঙ্গবন্ধুর স্বাক্ষর। তারিখ ৯ এপ্রিল, ১৯৪৬।

ওই প্রামাণ্যচিত্রে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘দেখলাম তারিখটা ৯ এপ্রিল। ১৯৪৬ সালে আব্বা ওখানে গিয়েছিলেন। আর আমি গেলাম ৮১ সালের ৯ এপ্রিল। ৪৬ সাল, আমার জন্মের আগে উনি গিয়েছেন। আর আমি পাচ্ছি ৮১ সালের একই তারিখ। তখন আমার মনে একটা সাহস এল। মনে হলো আমাকে যেতে হবে। মানুষের জন্য কিছু করতে হবে। বোধ হয় এই বার্তাটাই আমি পাচ্ছি।’

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর ছোট বোন শেখ রেহানা বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে ছিলেন। নিয়তি নির্ধারিত সেই অনুপস্থিতি সেদিন তাঁদের গণহত্যা থেকে বাঁচিয়ে দিয়েছিল। বিদেশে বসে জানলেন, তিনি আক্ষরিক অর্থে এতিম হয়ে গেছেন।

ব্রাসেলস থেকে প্রথমে জার্মানিতে এবং পরে ভারতে এসেছিলেন। দিল্লিতে থাকার সময় খুনিরা তাঁকে হত্যার চেষ্টা করছিল। আত্মরক্ষার্থে তখন দিল্লিতে দুই বোনকে নাম-পরিচয় পর্যন্ত গোপন করতে হয়েছিল। কিন্তু দেশে ফেরার ইচ্ছা তাঁকে তাড়া করে ফিরছিল। তিনি জানতেন, দেশে ফেরার পর তাঁর পায়ে-পায়ে বিপদ থাকবে, কিন্তু সেই বিপদকে সরিয়ে দেশবাসীকে স্বৈরাচারমুক্ত করতেই হবে। ফলে পরের মাসেই, অর্থাৎ ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশের মাটিতে পা রাখেন তিনি।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরা যেন বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ঘটনারই এক পুনর্মঞ্চায়ন। ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি লন্ডনের ক্ল্যারিজেস হোটেলে বঙ্গবন্ধুকে যখন সাংবাদিকেরা প্রশ্ন করেছিলেন, যুদ্ধে সব শেষ হয়ে যাওয়া দেশে ফিরে তিনি কী করবেন? জবাবে তিনি বলেছিলেন, ‘আমার দেশের মাটি আছে, আমার জনগণ আছে। আমরা আবার ঘুরে দাঁড়াব’। মানুষ এবং মাটিই যে তাঁর শক্তির উৎস ছিল, দেশবাসী সেটি জানতেন, সেদিন তিনি তা বিশ্বকে জানিয়ে দিয়েছিলেন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে বঙ্গবন্ধুকেই ধারণ ও বহন করে চলেছেন, যত দিন যাচ্ছে, তত তা স্পষ্ট হচ্ছে।

১৯৮১ সালে শেখ হাসিনা যখন দেশের মাটিতে পা রেখেছেন, সে মুহূর্তে ঘাতকেরা রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আসন দখল করে আছে। ‘জয় বাংলা’, ‘বঙ্গবন্ধু’—এ শব্দগুলো তখন নিষিদ্ধ পঙ্ক্তিমালা। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে জাতিকে কলঙ্ক থেকে মুক্ত করেছেন। দীর্ঘ যাত্রায় নানা চড়াই-উতরাই পার হয়ে, কারাভোগ করে, একাধিকবার গৃহবন্দি হয়ে, হত্যাচেষ্টা থেকে বেঁচে গিয়ে তিনি চারবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার রেকর্ড গড়েছেন।

প্রায় চার দশক ধরে আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব দিয়ে যাওয়া এই মহীয়সী ১৯৪৭ সালের এই দিনে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মেছিলেন। মধুমতি নদী, বাঘিয়ার বিল আর বর্নির বাঁওড়ের জলকল্লোল স্নাত পরিবেশে শৈশব কেটেছে তাঁর। মাটি আর মৃত্তিকাসংলগ্ন মানুষের মধ্যে বেড়ে ওঠা। সেই কোমল মাটির মতো মানুষটিকে জাতির বৃহত্তর প্রয়োজনে কখনো কখনো কঠোর হতে হয়েছে। কোমলে-কঠোরে মিলে এক অনন্য চরিত্রে আজ তিনি জাতির স্বপ্ন ও আশার ধ্রুব নক্ষত্র। বলা হয়ে থাকে, জওহরলাল নেহরু ছিলেন একজন ভিশনারি, আর তাঁর কন্যা ইন্দিরা গান্ধী ছিলেন মিশনারি। বঙ্গবন্ধু ও তাঁর কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্পর্কে একই কথা বলা যায়।

বঙ্গবন্ধুর স্মরণশক্তি ছিল অত্যন্ত প্রখর। প্রচলিত আছে, তিনি কারও নাম শুনলে সচরাচর সেই নাম ভুলতেন না। দেশের কোথায় কী হচ্ছে, তা বঙ্গবন্ধুর নখদর্পণে ছিল। সব খোঁজখবর তিনি রাখতেন। এই গুণগুলো মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে স্পষ্ট।

আমার মনে পড়ছে, ঢাকায় ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের অল্প কয়েক দিন আগে আমি তখন র‌্যাবের মহাপরিচালক হিসেবে একটা কাজে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে গিয়েছিলাম। তিনি আমাকে কথা প্রসঙ্গে ঢাকায় ক্যাসিনো থাকার কথা বললেন। অতঃপর জিজ্ঞেস করেন, ‘তাহলে তুমি কী করছ? তুমি এগুলো দেখছ না কেন?’ আমি বেশ অবাক হলাম। তাঁর নলেজের বাইরে যে কিছুই নেই, সেটা আরও একবার উপলব্ধি করলাম।

আমি বললাম, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, ব্রিটিশ আমলে প্রণীত জুয়া আইনটি খুব দুর্বল। তা ছাড়া, প্রয়োগের বিষয়টা জেলার অধিক্ষেত্রে দেখেন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আর মেট্রোপলিটন এলাকায় এ বিষয়টি দেখেন পুলিশ কমিশনার। মানে জুয়া আইন বাস্তবায়নে সরাসরি র‌্যাবের তেমন কিছু করার নেই।’ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বললেন, ‘আমি যদি তোমাকে নির্দেশ দিই?’ আমি বললাম, ‘আপনি নির্দেশ দিলে তো আমি অবশ্যই করতে পারি—ইন নো টাইম’। পরে আমি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে র‌্যাবকে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান চালানোর নির্দেশ দিই। এর ফলে যা হলো, সেটি এই অঞ্চলে সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে অনন্য উদাহরণ এবং বাকিটা ইতিহাস।

এর কিছুদিন পরে র‌্যাবের ‘রেইজিং ডে’ ছিল। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সেখানে গিয়েছিলেন। ওই সময় সুন্দরবনে জলদস্যু দমন অভিযানের কারণে আমরা জানতে পারি, বঙ্গোপসাগরে ছোট ছোট অনেকগুলো দ্বীপ জাগতে শুরু করেছে। তখন আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বললাম, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গোপসাগরে নতুন কিছু দ্বীপ ভেসে উঠছে। আমরা আমাদের কল্যাণ ট্রাস্টের জন্য কি এ রকম একটা দ্বীপ নিতে পারি, যেখানে বিদেশি পর্যটক ও দেশের মানুষের জন্য কিছু উন্নয়নমূলক কাজ করা যেতে পারে’। তিনি তাঁর মোবাইল ফোন খুললেন।

মুহূর্তের মধ্যেই তিনি মোবাইলের স্ক্রিন আমার সামনে ধরে জেগে ওঠা দ্বীপগুলোর নাম ধরে বলতে লাগলেন, ‘এই দেখো, এটা এই আইল্যান্ড, ওটা হলো ওই আইল্যান্ড।’ দ্বীপগুলোর কোনটাতে কোন ধরনের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবেন, সেটাও তিনি বলে দিচ্ছিলেন। দেখলাম, তিনি ওই দ্বীপগুলো সম্পর্কে আগাগোড়া পরিচ্ছন্ন ধারণা নিয়ে বসে আছেন। আমি হতভম্ব ও হতবাক! দেশকে এগিয়ে নিতে হলে, আগে দেশকে ভালোভাবে জানতে হবে—এই সত্যটা তাঁর কাছ থেকে আমি সবচেয়ে বেশি জেনেছি।

তাঁর অর্থনৈতিক প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতার ফলে উত্তরবঙ্গের দুর্ভিক্ষের শব্দকোষ থেকে আজ ‘মঙ্গা’ নামের শব্দটি চিরস্থায়ীভাবে বিলুপ্ত হয়েছে। আমি পুলিশের মহাপরিদর্শক হওয়ার পর যখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গেলাম, তখন তিনি আমাকে বললেন, ‘দেখো, পুলিশকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করতে হলে প্রশিক্ষণকে প্রাধান্য দিতেই হবে। তোমাদের মধ্যে র‌্যাংকের পরিবর্তন হলেই মাঝে মাঝে প্রশিক্ষণ হয়। এটা কিন্তু ঠিক না। বছরব্যাপীই কিন্তু তোমাদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চলমান থাকতে হবে। সকল অফিসারসহ প্রতিটি সদস্যকে প্রতিবছরই প্রশিক্ষণে থাকতে হবে, সে যে র‌্যাংকেরই হোক না কেন।’

আমার আবারও চমকানোর পালা। দেখলাম, পুলিশ বাহিনীর অতি খুঁটিনাটি বিষয়গুলো সম্পর্কেও তিনি বিশেষজ্ঞের মতো বলে যাচ্ছেন। প্রশিক্ষণ ছাড়া যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাহিনী এগোতে পারে না, সেটি তিনি কতটা উপলব্ধি করেন!

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সেই পরামর্শের ধারাবাহিকতায় আমরা এ বছর ৫ সেপ্টেম্বর সকল র‌্যাংকের অফিসারসহ সব সদস্যের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করেছি। পুলিশ বাহিনী গঠিত হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত এটি একটি বিরল ঘটনা যে, সকল র‌্যাংকের সবার জন্য প্রতিবছর নিয়মিত প্রশিক্ষণ নেওয়ার যাত্রা শুরু হলো। এইভাবে রাজনীতি, অর্থনীতি, কূটনীতি—প্রতিটি ক্ষেত্রে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঈর্ষণীয় প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়ে আসছেন।

৮০-র দশকে তৎকালীন বিশ্বরাজনীতির প্রেক্ষাপটে বিশ্বসভায় বাংলাদেশের অবস্থান ছিল খুবই দুর্বল। বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে অনেকটা নতজানু হয়ে থাকতে হতো আমাদের। মাত্র ৭০ মিলিয়ন ডলার ঋণের জন্য ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে আমাদের তদানীন্তন অর্থমন্ত্রীদের প্যারিস কনসোর্টিয়ামের বৈঠকে দুর্বল চিত্তে হাজির হতে হতো। আজ আমাদের দেশ অন্যদের ২০০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ঋণ দিচ্ছে। সেই জায়গা থেকে বাংলাদেশ আজ যে উচ্চতায় উঠে এসেছে, তার পেছনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদূরপ্রসারী ও সাহসী ভূমিকা প্রধান নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে।

আজ পৃথিবীর সর্বত্র শেখ হাসিনাকে নিয়ে আলোচনা হয়। ২০১৯ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সদর দপ্তরে তাঁকে ‘ভ্যাকসিন হিরো’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছিল। নারী ও কন্যাশিশুদের শিক্ষা প্রসারে স্বীকৃতি স্মারক ‘শান্তি বৃক্ষ’ দেওয়ার সময় তাঁর নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন ইউনেসকোর প্রধান। তাঁকে ‘সাহসী নারী’ অভিহিত করে জাতিসংঘের এ সংস্থাটির প্রধান বলেছেন, ‘নারী ও কন্যাশিশুদের ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বিশ্বমঞ্চের জোরালো এক কণ্ঠ।’ গত সপ্তাহে জাতিসংঘের সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট সল্যুশনস নেটওয়ার্ক (এসডিএসএন) মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘এসডিজি অগ্রগতি পুরস্কার’-এ ভূষিত করেছে। পুরস্কার প্রদানকালে অনুষ্ঠানের সঞ্চালক এসডিএসএন-এর প্রতিষ্ঠাতা বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও উন্নয়ন কৌশলবিদ প্রফেসর জেফরি স্যাকস শেখ হাসিনাকে উন্নয়নশীল দেশের অগ্রযাত্রার ক্ষেত্রে ‘জুয়েল ইন দ্য ক্রাউন অব দি ডে’ হিসেবে তুলে ধরেন, যা প্রতিটি বাংলাদেশি বাঙালির জন্য অত্যন্ত গর্বের।

আরও পড়ুন


কুষ্টিয়ার খোকসায় দুই শিক্ষার্থী করোনায় আক্রান্ত

মুফতি কাজী ইব্রাহীমকে আটক করেছে ডিবি

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে সাকিব আল হাসানের আবেগঘন স্ট্যাটাস

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে দেশব্যাপী গণটিকা কার্যক্রম


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মহাকাব্যিক অর্জন ও সাফল্যগাথা কোনো ছোট একটি প্রবন্ধে কিংবা পুস্তকে তুলে আনা অসম্ভব আস্পর্ধা। ১৯৯৬-২০০১ সালে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকালে পার্বত্য চুক্তি ও গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি তাঁর সরকারের অন্যতম সাফল্য হিসেবে এখনো বিবেচিত হয়ে আসছে। দীর্ঘকাল ছিটমহলের বাসিন্দারা নাগরিকত্বহীন অবস্থায় মানবেতর জীবন যাপন করে আসছিলেন। তিন বিঘা করিডরে সন্ধ্যা নামার আগেই সেখানে যাওয়ার রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হতো। স্বাধীনভাবে মানুষ নিজের ঘরে ঢুকতে পারত না। ভারতের সঙ্গে ছিটমহল বিনিময় চুক্তি করে, ছিটমহলগুলোকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে একীভূত করে সেই কষ্টের, সেই যন্ত্রণার অবসান ঘটিয়েছেন শেখ হাসিনা।

বর্তমানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন সরকার ২০২১ সালের মধ্যে ক্ষুধা, দারিদ্র্যমুক্ত ও মধ্যম আয়ের আধুনিক ডিজিটাল বাংলাদেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য পূরণে কাজ করে যাচ্ছে। এর বাইরে তাঁর নেতৃত্বে ‘ডেলটা প্ল্যান’ নামের একটি এক শ’ বছরের উন্নয়ন পরিকল্পনা এগিয়ে চলছে। সড়ক যোগাযোগ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের ক্ষেত্রে তিনি যে অবদান রেখেছেন, তা অভাবনীয়। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র উড়িয়ে দিয়ে তাঁর বজ্রকঠিন মনোবলের কারণেই আজ পদ্মা সেতু বাস্তবে রূপ নিয়েছে। মেট্রোরেল ও কর্ণফুলী টানেলের মতো মহাপ্রকল্প বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে তিনি যোগাযোগব্যবস্থায় এক বিপ্লব ঘটিয়ে ফেলেছেন।

তিনি সাধারণ মানুষের অন্তরের কতটা গভীরে যেতে পেরেছেন, তার প্রমাণ গফরগাঁওয়ের রিকশাচালক হাসমত আলী। হতদরিদ্র হাসমত আলী নিজের সব সঞ্চয় দিয়ে জমি কিনে তা শেখ হাসিনার নামে লিখে দিয়েছিলেন। অথচ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর কোনো দিন দেখাই হয়নি।

এই রকম দেশের অগণিত হাসমত আলীর দোয়ার বরকতেই কমপক্ষে ১৯ বার হত্যাচেষ্টার হাত থেকে বেঁচে প্রধানমন্ত্রী মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছেন। ৭৫তম জন্মদিনের এই শুভ মুহূর্তে বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁকে প্রাণঢালা অভিনন্দন। তাঁর জন্য শুভকামনা-শতায়ু হোন সংশপ্তক মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।

লেখক: ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ, বাংলাদেশ।

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর

বাঙালি জাতির ‘‘মুকুট মণি” শেখ হাসিনা

মাহাবুবউল আলম হানিফ

বাঙালি জাতির ‘‘মুকুট মণি” শেখ হাসিনা

উপমহাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র শেখ হাসিনা। একজন সংগ্রামী রাজনৈতিক নেত্রী, একজন সাহসী যোদ্ধা, বাঙালি জাতির অর্থনৈতিক, সামাজিক মুক্তির আলোকবর্তিকা, একজন মমতাময়ী মানবিক নেত্রীর নাম শেখ হাসিনা।

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ট বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের গর্বিত সন্তান। বঞ্চিত বাঙালির একমাত্র আশ্রয়স্থল। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পতাকাবাহী দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী এবং স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই সর্বজনমান্য নেত্রীর জন্মদিন আজ। বারবার মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে জীবনের ৭৪ টি ঝড়ো বসন্ত পেরিয়ে আজ ৭৫ এ পা দিলেন তিনি।

ছাত্র জীবন হতে পিতার হাত ধরে রাজনীতিতে হাতেখড়ি। পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের রাজনীতিকে ছায়ার মতো অনুসরণ করেই রাজনীতির দীক্ষা নিয়েছিলেন তিনি। পাকিস্তানি শাসকগোষ্টীর স্বৈরশাসনে বঙ্গবন্ধুকে বারবার কারাবরণ করতে হয়েছিলো। মায়ের সংগে জেলখানায় পিতাকে দেখতে যেতে যেতে এক কঠিন সংগ্রামী ও দৃঢ়চেতা হয়ে উঠেছিলেন তিনি।

১৯৭৫-এ কলংকজনক আগষ্ট হত্যাকান্ডের সময় ঘটনাক্রমে দেশের বাইরে থাকায় বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা ১৫ আগস্টের অনিবার্য মৃত্যুর হাত থেকে প্রাণে বেঁচে যান। কিন্তু মৃত্যুযন্ত্রণার চেয়েও দুঃসহ যন্ত্রণা ও কষ্ট নিয়ে গত চারটি দশক তাঁকে ‘জীবন জয়ের’ যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হয়েছে। ‘৭৫ এ বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে সামরিক শাসক জিয়া ক্ষমতা দখল করে  ইনডেমনিটি আইন করে বঙ্গববন্ধু  হত্যাকান্ডের বিচারের পথ বন্ধ করার পাশাপাশি খুনিদের পুরস্কৃত করেছিলেন। জোর করে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য আওয়ামীলীগের নেতা কর্মিদের উপর  দমন পীড়ন, জেল জুলুম, হত্যা করার পাশাপাশি দলকে ভেংগে খন্ড -বিখন্ড করেছিলো। স্বাধীনতা বিরোধি রাজাকারদের নিয়ে সরকার গঠন করে  মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও চেতনাকে পদদলিত করে পাকিস্তানি ভাবধারায় দেশ পরিচালনা করে  বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছিলো।

দেশের এমন পরিস্থিতির মধ্যে মাত্র ৩৪ বছর বয়সে দলের দায়িত্বভার গ্রহণের পরই তাঁর ৪১ বছরের ক্লান্তিহীন পথযাত্রা। এই যাত্রাপথ কখনই কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না। গত ৪১ বছরে কমপক্ষে ২০ বার তাঁকে মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়াতে হয়েছে। হত্যা প্রচেষ্টা থেকে বাঁচলেও স্বৈরাচারী শাসকদের জেল-জুলুম-অত্যাচারের হাত থেকে তিনি রক্ষা পাননি। এরশাদের স্বৈরশাসনের আমল থেকে শুরু করে সর্বশেষ ১/১১ সরকারের আমলে বেশ কয়েকবার তাঁকে কারাবরণ এবং দীর্ঘ কারা নির্যাতন ভোগ করতে হয়। মোকাবিলা করতে হয় অসংখ্য মিথ্যা মামলা ও হয়রানির।

কিন্তু কিছুই তাঁকে দমাতে পারেনি। অশুভ শক্তির সকল ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত মোকাবিলা করেই তিনি লক্ষ্যের দিকে অবিচল পদক্ষেপে এগিয়ে গেছেন। তাঁর নেতৃত্বেই এরশাদ স্বৈরাচারের পতন হয়েছিলো। পরবর্তীকালে বিএনপি-জামায়াত জোটের দুঃশাসন এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অবিমৃশ্যকারী কান্ডকারখানা থেকে তিনি বাংলাদেশকে পুনরুদ্ধার করেন।

এই সময়ের মধ্যে যথাযথ প্রক্রিয়ায় বঙ্গববন্ধুর হত্যাকারীদের বিচার করে জাতিকে কলংকমুক্ত করার পাশাপাশি জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার বন্ধ করে দেশে বিচারহীনতার যে সংস্কৃতি চালু করে আইনের শাসন বন্ধ করেছিলেন তা থেকে জাতিকে মুক্ত করেন।

মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ৩০ লক্ষ শহীদ এবং দুই লক্ষের বেশি মা -বোনের সম্ভ্রমহানির সংগে যারা জড়িত সেই যুদ্ধপরাধীদের বিচারের মাধ্যমে ৩০ লক্ষ শহীদের আত্মার অভিশাপ থেকে জাতিকে মুক্ত করার পথ সুগম করেছেন ।

দলীয় প্রধান হিসাবে এই দীর্ঘ সময় চলার পথে অনেক চড়াই- উৎরাই , ঘাত -প্রতিঘাত পেরিয়ে তিনি আওয়ামী লীগকে আজকের এই অবস্থানে দাঁড় করিয়েছেন। তাঁর সফল নেতৃত্বের কারণেই আওয়ামী লীগ চারবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসার সুযোগ পেয়েছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের এই শাসন আমলেই দেশের আর্থ সামাজিক উন্নয়নের নতুন মাত্রা সূচিত হয়েছে। তিনি দেশের আর্থ সামাজিক উন্নয়ন এবং সকল শ্রেণীপেশার মানুষের কল্যাণে যুগান্তকারী অবদান রেখে চলেছেন। দরিদ্র দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে পরিনত করেছেন । ‘রূপকল্প ২০২১’ এর মাধ্যমে মধ্যম আয়ের বাংলাদেশকে ‘রূপকল্প ২০৪১’ এর বাস্তবায়ণের মাধ্যমে একটি উন্নত, আধুনিক, সমৃদ্ধ, অসাম্প্রদায়িক কল্যাণকামী রাষ্ট্র গঠনে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা দৃঢ প্রতিজ্ঞ।

কেবল রাজনীতিবিদ বা রাষ্ট্রনায়ক হিসেবেই তিনি অনন্য নন, তাঁর রয়েছে অসাধারণ মানবিক গুণাবলি। লাখ লাখ নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের কাছে তিনি স্নেহময়ী ভগ্নী-জায়া-জননী। বিলাস-বাহুল্যবর্জিত সাধাসিধে জীবনযাত্রা এবং পোশাকেআশাকে তাঁর অতুলনীয় বাঙালিয়ানা তাঁকে মাটির মানুষের, দুঃখী মানুষের প্রিয় নেতা হিসেবে অসামান্য শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার আসনে বসিয়েছে।

বর্ণাঢ্য সংগ্রামী রাজনৈতিক জীবনের পাশাপাশি তাঁর ধীশক্তি এবং সৃজনশীল লেখালেখি তাঁকে রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যেও অনন্য আসনে বসিয়েছে। রাজনীতিবিদ শেখ হাসিনা যেমন, তেমনি লেখক-চিন্তক শেখ হাসিনাও বাংলাদেশের ইতিহাসে নিজের জন্য শিখরস্পর্শী অক্ষয় আসন সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছেন। জাতির পিতার যোগ্য উত্তরসূরী হিসেবে জননেত্রী শেখ হাসিনা পরিব্যাপ্ত হয়ে থাকবেন বাংলাদেশের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের প্রতি অধ্যায়ে, প্রতি পাতায় ।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিশ্ব উন্নয়নের মহাসড়কে বাংলাদেশ তার অবস্থানকে আরো সুদৃঢ়ভাবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ এবং এর নেতা হিসেবে শেখ হাসিনা বিশ্ব পরিমন্ডলে ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছেন। একটি পশ্চাৎপদ দেশকে উন্নয়নের কাতারে শামিল করার মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা বিশ্ব নেতৃত্বের মাঝে নিজের অবস্থানকে একটা অনন্য ধারায় প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছেন। বিশ্বের বিভিন্ন জোটে বাংলাদেশের অন্তর্ভূক্তি অবশ্যই আর্থ-সামাজিক ও কৌশলগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ, যা অভ্যন্তরীণ অবস্থার উল্লেখযোগ্য উৎকর্ষের ফল। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির জন্য বিশেষভাবে তাৎপর্য পূর্ণ। বাংলাদেশ ও তার নেতা হিসেবে শেখ হাসিনার গুরুত্ব বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ আঞ্চলিক সহযোগিতা ও মৈত্রীর ক্ষেত্রে তাঁর  দৃঢ় অবস্থান। তিনি নানা আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক জোট এবং সহযোগিতা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ অব্যাহত রেখেছেন। এর মাধ্যমে তিনি দেশের বাইরে আঞ্চলিক পর্যায়ে নেতৃত্বের যে ভূমিকা রেখে চলেছেন তা তাঁকে বিশ্ব পরিমণ্ডলে নেতৃত্বের আসন লাভে অনেকখানি এগিয়ে দিয়েছে। জাতিসংঘ, জি-সেভেনের মতো আসরে তাঁর বিশেষ মর্যাদা এ কারণেই। এসব কারণেই তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান প্রণীত প্রভাবশালী নেতা হিসেবে তালিকাভূক্ত হচ্ছেন।

বস্তুত দারিদ্র্য হ্রাস, আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, সন্ত্রাসবাদ নিয়ন্ত্রণ, আঞ্চলিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ প্রভৃতি কারণেই বাংলাদেশ বিশ্ব পরিমন্ডলে স্বাতন্ত্র্য অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। সর্বোপরি লাখ লাখ রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুকে বাংলাদেশে আশ্রয় দান এবং সাহায্য-সহযোগিতা প্রদানের জন্য বাংলাদেশ বিশ্বমহলে প্রশংসিত হয়ে আসছে। নিজ দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পরিবেশগত সমস্যার মধ্যেও যেভাবে রোহিঙ্গাদের প্রতি মানবিক সহানুভূতি প্রদর্শন করে আসছে, তাতে বিশ্ববাসী বিস্মিত হলেও শেখ হাসিনার দৃঢ়চেতা, সাহসী ভূমিকা এক অনন্য উচ্চমাত্রা এনে দিয়েছে।

আরও পড়ুন


ভারত থেকে কেজি দরে কেনা চুল আসছে দেশে

৫ ঘণ্টা পর মিলল ড্রেনে পড়ে নিখোঁজ সেই তরুণীর মরদেহ

হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ইনজামাম

আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন


শেখ হাসিনা নিজে যেমন স্বপ্ন দেখেন, সেই স্বপ্ন পূরণের জন্য যা যা করণীয় সবই তিনি করছেন। বাঙালির আশা-আকাঙ্খার স্বদেশী চৌহদ্দি ছাড়িয়ে তিনি এখন বিশ্বসভায় পৌঁছে গেছেন। জিডিপির প্রবৃদ্ধি এবং আর্থ-সামাজিক সূচকে ‘উন্নয়ন বিস্ময়’ হিসেবে সত্যিকারার্থেই উত্থান ঘটেছে বাংলাদেশের। যে কারণে উন্নয়নের ‘রোল মডেল’ হিসেবে আন্তর্জাতিক বিশ্বে পরিচিতি পেয়েছে বাংলাদেশ। আর এই উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশের মানুষ বিশ্বাস করে শেখ হাসিনা স্বপ্ন দেখেন, স্বপ্ন দেখান এবং স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেন। শুধু বিশ্বাস নয়, এটি এখন প্রতিষ্ঠিত সত্যও।

তাঁর এই সফলতা এবং বিচক্ষণতার জন্য বারবার আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে তিনি পুরস্কৃত হয়েছেন। এ পর্যন্ত প্রায় ৪০ টা আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা’র নেতৃত্বে জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য মাত্রা (এসডিজি) অর্জনে বাংলাদেশ বরাবরই সফলতার সাথে এগিয়ে চলেছে। এরই ধারাবাহিকতায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা জাতিসংঘের এসডিজি অগ্রগতি পুরস্কার অর্জন করেছে ২১ সেপ্টেম্বর ,২০২১ তারিখে। ২০৩০ সালের মধ্যে জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন নিয়ে নবম বার্ষিক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানানোর সময় ইউএন সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট সল্যুশনস নেটওয়ার্কের প্রেসিডেন্ট ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশিষ্ট উন্নয়ন অর্থনীতিবিদ কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক জেফ্রি স্যাক্স শেখ হাসিনার ভূয়সী প্রশংসা করে  শেখ হাসিনাকে “Jewel in the Crown ( মুকুট মণি)” হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন । সত্যিকার অর্থেই শেখ হাসিনা আজ বাঙালি জাতির ‘মুকুট মণি’। 

পিতার মতো বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনাও রাজনীতিকে গ্রহণ করেছেন সেবা ও ত্যাগের আদর্শ হিসেবে। তাঁর সৎ, যোগ্য, দক্ষ ও দৃঢ় নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সংগ্রাম, সাফল্য আর বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী জীবন্ত কিংবদন্তী জননেত্রী শেখ হাসিনা দীর্ঘজীবী হোন। বাঙালি জাতিকে আরও দীর্ঘদিন উন্নত, সমৃদ্ধ জীবন গড়ার কর্মযজ্ঞে নেতৃত্ব দিন, সুস্থ থাকুন -৭৫ বছরে পদার্পণের মাহেন্দ্রক্ষণে এটাই আমাদের প্রত্যাশা, জাতির প্রত্যাশা।

জয়তু শেখ হাসিনা, শুভ জন্মদিন।

লেখক: মাহবুবউল আলম হানিফ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর

মানবতার আলোকবর্তিকা বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা

অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান

মানবতার আলোকবর্তিকা বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা

অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান

বিভ্রান্ত দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে বিভাজিত ভারতবর্ষের পাকিস্তান অংশের প্রথম রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হচ্ছে ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ পর্যন্ত চলা পূর্ব বাংলার ভাষা আন্দোলন । দ্বিতীয় তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনাটি হচ্ছে ছয় দফা আন্দোলন । ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি লাহোরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক ছয় দফা ঘোষণা করেন । ছয় দফাকে বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়। 

৬ দফাকে কেন্দ্র করেই ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান , ১৯৭০ এর নির্বাচন,১৯৭১ এর ৭  মার্চের ভাষণ, ২৬ মার্চের স্বাধীনতা ঘোষণা এবং মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে ১৬ ডিসেম্বর রেসকোর্সের মাঠে হানাদার পাকিস্তানী বাহিনীর আত্মসমর্পণের মাধ্যমে বিজয় অর্জন । বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাঙালি জাতি ইতিহাসে এই প্রথম 'বাংলাদেশ' নামক একটি স্বাধীন সার্বভৌম  আধুনিক রাষ্ট্রের মালিকানা লাভ করল । কিন্তু মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বাঙালি তাঁর রাষ্ট্রের মালিকানা হারিয়ে ফেলে । ১৫আগস্ট ১৯৭৫ জাতির জনককে সপরিবারে হত্যার পরে যা অবশিষ্ট থাকল সেটাকে কোনভাবেই আর বাংলাদেশ বলা যাবে না । দেশটাকে পূর্ব পাকিস্তানে রূপান্তর করা হয়েছিল।

একটা ঘটনা উল্লেখ করলেই পুরো বিষয়টি পরিষ্কার হবে-   স্থান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, তারিখ ৭ মার্চ; শুধু সালটা ১৯৭৬ । যেই রেসকোর্সের ময়দানে বঙ্গবন্ধু ঘোষণা করেছিলেন, "এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম ।" যেখানে হানাদার পাকিস্তানী বাহিনী আত্মসমর্পণ করেছিল, ঠিক সেখানটাতেই সিরাত সম্মেলনে মাওলানা দেলোয়ার হোসেন সাঈদী ছয় দফা ঘোষণা করলেন । দফার সংখ্যা, স্থান এবং তারিখ লক্ষ্য করলে দেখা যাবে দফার বিরুদ্ধে দফাকে দাঁড় করানো হয়েছিল । অত্যন্ত হিসাব-নিকাশ করেই এমনটি করা হয়েছিল।

স্বাধীনতাবিরোধীরা মনে করত মুসলমান এবং পাকিস্তান সমার্থক । মুসলমানের পরাজয় হতে পারে না । মুসলমানের পরাজয়ের স্মৃতিচিহ্ন মুছে ফেলতেই জিয়াউর রহমান পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের জায়গাটিতেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে শিশু পার্ক তৈরি করেছিলেন । কবি নির্মলেন্দু গুণের ভাষায়: "... এই শিশু পার্ক সেদিন ছিল না,/... জানি, সেদিনের সব স্মৃতি মুছে দিতে/ হয়েছে উদ্যত কালো হাত । / তাই দেখি কবিহীন বিমুখ প্রান্তরে আজ/ কবির বিরুদ্ধে কবি,/ মাঠের বিরুদ্ধে মাঠ,/ বিকেলের বিরুদ্ধে বিকেল, / উদ্যানের বিরুদ্ধে উদ্যান,/ মার্চের বিরুদ্ধে মার্চ..."।

সীরাত সম্মেলনে ঘোষিত ছয় দফার প্রথম দফাই ছিল "বাংলাদেশকে ইসলামী প্রজাতন্ত্র হিসেবে ঘোষণা করতে হবে ।" অন্যান্য দফার মধ্যে ছিল পতাকা বদলাতে হবে, শহীদ মিনার ভাঙতে হবে ইত্যাদি (অবশ্য এই রেসকোর্স ময়দানেই ১৯৪৮ সালে ২১ মার্চ পাকিস্তানের জাতির পিতা কায়েদে আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেছিলেন, "উর্দু এবং উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা")।

ওই সীরাত সম্মেলন উপপ্রধান সামরিক আইন প্রশাসক বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল এম জি তোয়াব জিয়াউর রহমান সরকারের  প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সীরাতে উপস্থিত পাকিস্তানের সমর্থক গোষ্ঠী স্লোগান তুলেছিল "তোয়াব ভাই তোয়াব ভাই, চাঁদ-তারা পতাকা চাই" । এমন একটি বিভীষিকাময় পরিস্থিতি তৈরি করেছিল বঙ্গবন্ধুর নামটিও কেউ মুখে নিতে পারত না। ৪ আগস্ট ১৯৭৬, তথাকথিত বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক জিয়াউর রহমান পিপিআর ঘোষণা করে । তাতে বলা হয়, "কোন ব্যক্তি বিশেষের প্রতি ভক্তি বা বিশ্বাস গড়ে তুলতে পারে এমন কোন নাম দল গঠনের প্রস্তাবিত গঠনতন্ত্রে উল্লেখ থাকতে পারবে না ।"  ৪ নভেম্বর ১৯৭৬, জিয়াউর রহমান সরকার বঙ্গবন্ধুর  নাম কেটে দিয়ে আওয়ামী লীগকে দল করার অনুমতি নিতে বাধ্য করে । ৩১ আগস্ট ১৯৭৬, খাঁন আতা ও আমজাদ হোসেনের নেতৃত্বে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা জেনারেল জিয়ার সাথে দেখা করতে গেলে সিনেমা থেকে শেখ মুজিবের নাম মুছে ফেলার প্রস্তাব আসে । তৎকালীন তথ্য সচিব এবিএম গোলাম মোস্তফা তা দ্রুত কার্যকরের জন্য তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেন । বঙ্গবন্ধুর ছবি ও নামের উপর কালি লেপনের নির্দেশনা জারি করেন । 

এমন পরিস্থিতিতে ১৯৮১ সালের ১৭ মে  পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট বিদেশে অবস্থান করায় ভাগ্যক্রমে বেঁচে যাওয়া বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসেন । শুরু হয় রূপান্তরিত পূর্ব পাকিস্তানকে আবার বাংলাদেশের ধারায় ফিরিয়ে আনার সংগ্রাম । বাঙালির বুকে আশার সঞ্চার হয় বাংলাদেশকে আবার ফিরে পাওয়ার । এর মধ্যেই সহস্রাধিক সেনা সদস্যকে সামরিক বিচারিক প্রহসনের মাধ্যমে হত্যাকারী জিয়াউর রহমান একদল সেনা সদস্য কর্তৃক চট্টগ্রামে নিহত হন । কয়েকদিন ধানাই-পানাই করে বিচারপতি সাত্তারকে তাড়িয়ে ক্ষমতা দখল করেন অপর স্বৈরশাসক হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদ । শুধু পীর বদল হয়-  "শর্ষিনা থেকে আটরশি", বাকি সবই আগের মত । "সাফারি- সানগ্লাস -খাল কাটার" জায়গায় চলে এলো "মেরি (লেডি)-হেলিকপ্টার-গতরাতে স্বপ্ন দেখা মসজিদে জুম্মার নামাজ আদায়।" এরশাদ এক ধাপ এগিয়ে রাষ্ট্রের ভিত্তি ধর্মনিরপেক্ষতাকে চিরতরে বিতাড়িত করার জন্য রাষ্ট্র ধর্ম ইসলামকে সামনে নিয়ে আসলেন । শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে এরশাদের পতন এবং ১৯৯১ সালের নির্বাচন । কিন্তু ১৯৯১ এর নির্বাচনে গণতন্ত্র মুক্তি পেল না । ‌ সামরিক শাসক জিয়া এরশাদের মতোই গণতন্ত্র অবরুদ্ধ থাকলো ক্যান্টনমেন্টে । শহীদ নূর হোসেনের বুকে লেখা গণতন্ত্র পুরোপুরি মুক্তি পেল না । গণতন্ত্র থেকে গেল সেনানিবাসই ।সেনানিবাসে থেকে গেলেন আমাদের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ।  রয়ে গেল পাকিস্তানি ভাবধারা । একটা উদাহরণ দিলে বিষয়টি আরো স্পষ্ট হবে । ৮ জানুয়ারি ১৯৯৩, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আফিস নওয়াজ জানজুয়া আকস্মিক মৃত্যুতে নজিরবিহীন শোক বাণী পাঠান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া । জানজুয়া ১৯৭১ সালে হানাদার  হিসেবে বাংলাদেশে গণহত্যা পরিচালনা করে । স্বৈরশাসক এরশাদের পতন হলেও গণতন্ত্র মুক্তি পেল না।
 
বিচারপতি শাহাবুদ্দিন এর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনে এদেশের মানুষ দীর্ঘ দেড় দশক পর গণতন্ত্রের অন্যতম একটি অনুষঙ্গ স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারলেও কুশীলবদের সূক্ষ্ম কারচুপির কারণে গণতন্ত্র ক্যান্টনমেন্টেই থেকে গেল । সেনানিবাস থেকেই গণতান্ত্রিক দেশের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী দেশ শাসন করতে লাগলেন । সামরিক গোয়েন্দাদের খবরদারি থেকে গেল সরকার ব্যবস্থায় । পরবর্তী সময়ে আরো দুটি নির্বাচনে ১৯৯৬ এ আওয়ামী লীগ ও পরে ২০০১ এ বিএনপি ক্ষমতায় এলেও বিরোধীদলের নেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী সেনানিবাসে থেকে গেলেন।

পাকিস্তানি কায়দায় সামরিক গোয়েন্দারা সবকিছুতেই খবরদারি করছিল । এই সময়ে ঘটে ইতিহাসের আরেকটি নিশংস হত্যার ঘটনা, একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলা । রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তে, সকল গোয়েন্দা সংস্থার যোগসাজশে তৎকালীন সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনাকে সদলবলে হত্যায়ই ছিল এই গ্রেনেড হামলার উদ্দেশ্য । নারী নেত্রী বেগম আইভি রহমান সহ অসংখ্য নেতাকর্মী নিহত আহত হন এই গ্রেনেড  হামলায় । আল্লাহর অসীম কৃপায় বেঁচে গেলেন জননেত্রী শেখ হাসিনা । ক্যান্টনমেন্টে বসে গোয়েন্দা সংস্থার লোকেরাই দেশ চালাতেন তার প্রমাণ মেলে ১/১১ এর ষড়যন্ত্রের সময়ও । প্রকাশ পেতে থাকে ব্রিগেডিয়ার আমিন-বারীদের হাতেই বন্দী ছিল গণতন্ত্র।

সেনানিবাসের মইনুদ্দিনরাই জোগাড় করেছিল ফকরুদ্দিনদের । এদেশের গণতন্ত্র বিনাশী ষড়যন্ত্রের সঙ্গে সেনানিবাসে জন্মগ্রহণ ও নেতৃত্বের সেনানিবাসে অবস্থানকারী রাজনৈতিক দলটির সম্পৃক্ততা সন্দেহাতীত । বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে সবচেয়ে বড় একটি টার্নিং পয়েন্ট হচ্ছে ২০০৯ সালের পরবর্তী সময়ে দেশের সেনানিবাসে জন্মানো  রাজনৈতিক দলটির নেতৃত্বকে আইনসম্মতভাবে সেনানিবাসের বাইরে নিয়ে আসা । এখানে আমি বাংলাদেশের রাজনীতির একটি স্থায়ী ভবিষ্যৎ দেখতে পাচ্ছি । এখন 'সংসদে -রাজপথে-মিডিয়ায়' যেভাবে গণতন্ত্র চর্চা হচ্ছে তা নিয়ে অনেক সমালোচনা হতে পারে; কিন্তু আজ থেকে ১০ বছর আগেও কিছু হলেই যেমনটি শোনা যেত,  'উত্তর পাড়ার (সেনানিবাসের) খবর কি' ? ,  এখন আর তেমনটি শোনা যায় না।

একসময় একজন পান বিক্রেতা,  রিক্সাওয়ালাও সেনাবাহিনী প্রধান , পরবর্তী এবং তার পরবর্তী প্রধানের নাম পর্যন্ত জানতো । এমনকি সাভার সেনানিবাসের জিওসি কে, ট্যাংক রেজিমেন্টের দায়িত্বে কে ইত্যাদি খবর সাধারণ মানুষের মুখে মুখে থাকতো । এখন সেদিন আর নেই। (সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিদেশে পলাতক কিছু সাংবাদিক এবং সাজাপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তার ইউটিউব সংলাপকে দেশের মানুষ পাগলের প্রলাপ হিসেবেই গণ্য করে) । আর সেটা সম্ভব হয়েছে সেনানিবাসে অবস্থানকারী  দলটির নেত্রীকে সেনানিবাস থেকে বের করে আনার মধ্য দিয়ে । এর আগ পর্যন্ত পাকিস্তানি ভাবধারায় যে দেশ চলছিল তার আর একটি উদাহরণ দেয়া যায় । ২০০৫ সালের ৩ মে মৃত্যুবরণ করেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা । সে সময় বেগম খালেদা জিয়া ক্যান্টনমেন্টে অবস্থান করেই প্রধানমন্ত্রিত্ব চালাচ্ছিলেন ।  যার নেতৃত্বে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পণ করেছিল তাঁর মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী কোন শোক বার্তা দেননি, এর বিপরীতটাই করেছিলেন জানজুয়ার ক্ষেত্রে।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের ক্ষমতা গ্রহণের মধ্য দিয়েই মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গণতান্ত্রিকতা, ধর্মনিরপেক্ষতা, বাঙালিত্ব,অসাম্প্রদায়িকতা, সাম্যভিত্তিক মানবিক বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয় । আর সেটার নেতৃত্বে অবশ্যই  দিচ্ছেন আজকের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা । যে দেশটি অস্তিত্বের সংকটের মধ্যে পড়েছিল,  ৪০ শতাংশেরও বেশি মানুষের দারিদ্র্য  নিয়ে জঙ্গিগোষ্ঠী উত্থানের মধ্য দিয়ে  ব্যর্থ রাষ্ট্রের ধারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছিল, সেটাই আজকে বিশ্বে উন্নয়নের বিস্ময় । ১৯৭২-৭৩ থেকে শুরু করে ২০০৬-৭ সাল পর্যন্ত ৩৪  বছর সময় লেগেছিল মাথাপিছু আয় ৫৩২ ডলারে আসতে । ২০০৭-৮ থেকে ২০১৯-২০ এসে মাথাপিছু আয় দাঁড়ায় ২০৬৪ ডলারে । ১১ বছরে প্রায় চারগুণ হয়েছে । ২০২১ সালে আমাদের মাথাপিছু আয় দাঁড়িয়েছে ২২২৭ডলার । এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ব্যাপারটি হচ্ছে নেতৃত্তের দূরদর্শিতা । নেতৃত্বের দূরদর্শিতা কিভাবে একটা জাতিকে উন্নয়নের পথ দেখায় তা বুঝার জন্য একটা উদাহরণ দিচ্ছি।

১৯৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পঞ্চগড় সফরে গেলেন । নেত্রীর অগ্রগামী দল  হিসাবে আমরা যারা যুবলীগের নেতৃত্বে ছিলাম আগেই সেখানে পৌঁছে গিয়েছিলাম । বিকেলে সবাই যখন চা খাচ্ছিলাম তখন প্রধানমন্ত্রী হঠাৎ করেই বলে বসলেন, "ভারতের দার্জিলিং এ যদি  চা  চাষ হতে পারে, তাহলে পঞ্চগড়ে কেন হবেনা" । সেখানে উপস্থিত ছিলেন পঞ্চগড়ের তৎকালীন জেলা প্রশাসক মোঃ রবিউল হোসেন । সম্ভাবনা যাচাই করতে তিনি মৌলভিবাজার থেকে চারা সংগ্রহ করে টবে লাগালেন । ২৫ বছর পর এখন পঞ্চগড়ে প্রায় ৩০০০ হেক্টর জমিতে চা চাষ হচ্ছে । ২০১৭ সালে উৎপাদন ছিল ৫৫ লক্ষ কেজি । বছরে তিন কোটি কেজি চা উৎপাদন সম্ভব। 

শেখ হাসিনার মনোবল কত দৃঢ় এবং সিদ্ধান্তে কতটা অবিচল তার প্রমাণ পাওয়া যায় বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের  এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন করার মধ্য দিয়ে । দেশী-বিদেশী সকল চাপ উপেক্ষা করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে তিনি ছিলেন আপোষহীন । এছাড়াও মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনকে মুখের উপর গ্যাস রপ্তানির সুযোগ নাকচ করে দিয়েও তার অদম্য সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছিলেন । শেখ হাসিনার নেতৃত্বের দৃঢ়তার অন্যতম উদাহরণ হচ্ছে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ । দেশি-বিদেশি চক্রান্তে কাল্পনিক দুর্নীতির অভিযোগ এনে বিশ্বব্যাংক ও অন্যান্য দাতা সংস্থা যখন অর্থায়ন থেকে সরে দাঁড়ালো তখন কাল বিলম্ব না করে শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত নিলেন পদ্মাসেতু হবে নিজস্ব অর্থায়নে এবং হয়েছেও তাই । পদ্মা সেতু এখন বাস্তবতা । জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন, "সাড়ে সাত কোটি বাঙ্গালীরে কেউ দাবায়া রাখতে পারবে না"। বঙ্গবন্ধুর এই উক্তির স্থাপত্য রূপ হচ্ছে পদ্মা সেতু । ১৯৯৬ সালে  দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে একই ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ তোলে 'সিউল থেকে বুসান' হাইওয়ে নির্মাণে অর্থায়ন থেকে সরে দাঁড়ায় বিশ্ব ব্যাংক । তখন দক্ষিণ কোরিয়া মহাসড়কটি নিজস্ব অর্থায়নে তৈরি করে দেখিয়ে দেয়, "আমরাও পারি"। এরপর থেকে বিশ্বব্যাংকের নির্ভরতা কমিয়ে আনে । ১৯৯৬ সালের পরে দক্ষিণ  কোরিয়া আর  বিশ্বব্যাংকের কোন ঋণ গ্রহণ করেনি।

 
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা তাঁর সততা এবং দুর্নীতিমুক্ত থাকার কারণে বিশ্ব দরবারে অনন্য এক উচ্চতায় আসীন হয়েছেন ।সম্প্রতি ইউরোপের একটি গবেষণা সংস্থা "পিপলস এন্ড পলিটিক্স" বিশ্বের ৫ সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানকে চিহ্নিত করেছেন যাদের কোনো দুর্নীতি স্পর্শ করেনি । এদের বিদেশে কোন ব্যাংক একাউন্ট নেই, উল্লেখ করার মত সম্পদও নেই । ১৭৩ দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদেরকে ১০০ নম্বরের ভিত্তিতে স্কোর করা হয় । এই তালিকায় প্রথম স্থান অধিকার করেন জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল, তাঁর স্কোর ৯০ । দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লি সিয়েন লুং , স্কোর ৮৮ ।  বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৮৭ স্কোর পেয়ে তালিকায় তৃতীয় স্থান অর্জন করেন। নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইরনা সোলবার্গ  এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানী যথাক্রমে চতুর্থ ও পঞ্চম স্থান অধিকার করেন, তাঁদের স্কোর ছিল যথাক্রমে ৮৫ এবং ৮১ । এই প্রতিবেদনে আরও বলা হয় দেশের ৭৮ শতাংশ মানুষ মনে করে শেখ হাসিনা দুর্নীতিমুক্ত এবং লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে । ছোটখাটো দুর্নীতিও তাঁকে স্পর্শ করতে পারেনি।
 
জননেত্রী শেখ হাসিনাকে আমরা দেখি বঙ্গবন্ধুর সমস্ত মানবিক গুণাবলীকে উত্তরাধিকার হিসেবে নিয়ে আত্মমানবতার সেবায় নিবেদিত হতে । ১৯৮৮ সালের প্রলয়ংকারী বন্যায় নিজ হাতে বন্যার্তদের জন্য রুটি বানাতে আমরা দেখেছি । একইভাবে নিমতলীর অগ্নিকাণ্ডে পরিবারের সকল সদস্যদের হারানো তিন কন্যাকে নিজের কন্যা হিসেবে গ্রহণ করে তাঁদের বিয়ের আয়োজন করতে দেখেছি ।  এরকম আরো অসংখ্য উদাহরণ দেয়া যাবে  যার মধ্য দিয়ে দিয়ে শেখ হাসিনার মানবিকতার পরিস্ফুটন ঘটেছে । চলমান করোনা মহামারীর গত এক বছরেও সারাদেশে ৫০ লাখ পরিবারকে আর্থিক মানবিক সহায়তার নতুন রেকর্ড তৈরি করেছেন শেখ হাসিনা ।পৃথিবীর ইতিহাসে এটি বিরল। পূর্ব থেকেই আরো ৫০ লাখ পরিবারের দুই কোটি সদস্য সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে ছিল।

এর আওতায় ভিজিএফ কার্ড, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, শিক্ষা ভাতা, প্রতিবন্ধী  ভাতা, স্বামী পরিত্যাক্তাদের জন্য ভাতা ইত্যাদি চালু করে একটি উন্নয়নশীল দেশে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আদর্শ মডেল হিসেবে বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই স্থান করে নিয়েছে । জননেত্রী শেখ হাসিনার মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির সর্বশেষ মাইলফলক উদাহরণ হচ্ছে গৃহহীনদের গৃহদান। আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে এই মুজিববর্ষে সাড়ে ৮ লক্ষ গৃহহীন মানুষকে পাকা ঘর তৈরি করে দিচ্ছেন । পৃথিবীর ইতিহাসে খুব সম্ভবত এটাই সবচেয়ে বড় দুস্থদের জন্য গৃহায়ন প্রকল্প । বর্তমান বিশ্বের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের মধ্যে বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা  মানবিক রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে ইতিমধ্যেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন । জাতিসংঘের চলতি সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, "বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে যে মানবতা দেখিয়েছেন তা মনে রাখবে বিশ্ববাসী"। জাতিসংঘের কার্যক্রমে বিশ্ব শান্তি রক্ষায়, জলবায়ু পরিবর্তন ও নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের ভূমিকা প্রশংসা করেন জাতিসংঘের মহাসচিব । বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা কতটা মানবিক এর একটা উদাহরণ দিচ্ছি , ১২সেপ্টেম্বর ২০১৭ প্রধানমন্ত্রী উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যান । সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশে আশ্রয়গ্রহণকারী নির্যাতিত নারী ও শিশুর  মুখে নির্বিচারে হত্যা, লুণ্ঠন, ধর্ষণ ও বর্বরোচিত অত্যাচারের কথা শুনে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন প্রধানমন্ত্রী।


আরও পড়ুন

স্মার্টফোনে আগুন লাগে যেসব কারণে

হোয়াটসঅ্যাপ বন্ধ হয়ে যাবে যেসব মোবাইলে

সতর্ক না হলে আইনি পদক্ষেপ নেব: শাবনূর

যেসব নির্দেশনা মানতে হবে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের


এই রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শনের উপর একটি সংবাদচিত্র লন্ডনের আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম "চ্যানেল ফোর" কর্তৃক প্রচারিত হয় । চ্যানেলটির এশিয়ান করেসপন্ডেন্ট জনাথান মিলার তার প্রতিবেদনে প্রধানমন্ত্রী হাসিনার মমত্ববোধ, মানবিকতা, মহানুভবতা ও উদারনৈতিক মানসিকতার জন্য "মাদার অব হিউম্যানিটি" অভিধায় অভিহিত করেন । জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা চারবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশকে দারিদ্র্য মুক্ত করে সমৃদ্ধির দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন জনসাধারণের ক্ষমতায়ন ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে যুগান্তকারী পরিবর্তনের পাশাপাশি বিশ্ব  জলবায়ু ও পরিবেশ রক্ষা , শান্তি ও স্থিতিশীলতা, সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদ দমন, মাদক নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি বিষয়ে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে  তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। এর স্বীকৃতি হিসেবে বিশ্বের বহু খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান তাঁকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রী প্রদান করেছে এবং পদকে ভূষিত করেছেন । এই ধারাবাহিকতায় এবছর জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন সংক্রান্ত নবম বার্ষিক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে 'জুয়েল ইন দি ক্রাউন অফ দি ডে' (মুকুট মণি) হিসাবে আখ্যায়িত করেছে । প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই সাফল্য দেশ ও জাতির জন্য বয়ে এনেছে গৌরব, আমরা হয়েছি মর্যাদাবান।

(মত-ভিন্নমত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv/এমি-জান্নাত 

পরবর্তী খবর

বিশ্ববিদ্যালয় চায় অনুগত গাধাদের

ফাহমিদুল হক

বিশ্ববিদ্যালয় চায় অনুগত গাধাদের

অপুকে ধারণ করার যোগ্যতা সিস্টেমের নেই। মাসুদ আল মাহাদী (অপু) মেধাবি ছাত্র ছিল, সত্যিকারের মেধাবি। ফলাফল ভালোও করতো। তবে গতানুগতিক ভালো ফলাফল করাদের মতো সে ক্লাসে খুব নিয়মিত ছিল না। সে প্রশ্ন করতো, প্রতিবাদ করতো। 

ষাটের দশক কিংবা নিদেনপক্ষে আশির দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যেসব শিক্ষার্থী নিয়ে গর্ব করতো, যাদের কারণে ছাত্র আন্দোলন বিষয়টা একটা স্বর্ণালী এক রোমান্টিসিজম এখন, অপু ছিল সে ধরনের শিক্ষার্থী।

অনার্সে সে থার্ড হয়েছিল। অনার্সের রেজাল্টের পর একদিন অপুকে বললাম, মাস্টার্সের এক বছর বাড়তি একটু মনোযোগ দিলেই তুমি প্রথম হতে পারবা। সে বললো, আমি তো প্রথমই হতাম অনার্সে। হিসেব করে দেখেছি, একজন মাত্র শিক্ষক সেই প্রথম বর্ষ থেকে যে পরিমাণ কম নম্বর দিয়ে আসছেন, ওনার কোর্সে এভারেজ নম্বর পেলেই প্রথম হতাম। 

অপু আত্মহত্যা করেছে শুনছি। সিস্টেম কীভাবে প্রখর এক তরুণকে এদিকে ঠেলে দিতে পারে, তার একটিমাত্র উদাহরণ দিলাম। যেসব শিক্ষার্থী নিজে চিন্তা করতো, প্রশ্ন করতো ওই শিক্ষক সাধারণত তাদের অপছন্দ করেন, এবং বেছে বেছে ভিক্টিমাইজ করেন।  

তিনি আবার সব ধরনের ভিসির প্রিয়পাত্র থাকেন, ফলে তিনি এসব করে পারও পেয়ে যান। আমি প্রসঙ্গটি একবার বিভাগে শিক্ষকদের মধ্যে তুলেছিলাম। ওই শিক্ষক বললেন, এখানে আদর্শের ভিত্তিতে কোনো কোনো স্টুডেন্টকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে! 

আরও পড়ুন:


ছেলের জন্মদিনে শাকিব খানের আবেগঘন স্ট্যাটাস

দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দুঃসময় যাচ্ছে: ফখরুল

অনিবন্ধিত সুদের ব্যবসা বন্ধের নির্দেশ

জার্মানিতে মেরকেলের দলকে হারিয়ে মধ্য বামপন্থী দলের বিজয়


অবশ্য বিভাগের সেই সামর্থ্য বা ইচ্ছে কোনোটাই তেমন ছিল না, যে একজন শিক্ষক একজন শিক্ষার্থীকে কিভাবে টার্গেট করে ক্ষতিগ্রস্ত করে, তার তদন্ত করার বা ব্যবস্থা নেবার। আমাদের সিস্টেম অপুদের হতাশ হতে বাধ্য করে। সেই সিস্টেম, সেই শিক্ষককে আরো বেশি ক্ষমতাবান করেছে পরে। 

ওই প্রসঙ্গটা এনেছিলাম এজন্য যে, ওই সময় নতুন চেয়ার বিভাগে এসে বেশ কিছু নন-কলিজিয়েট শিক্ষার্থীর পরীক্ষায় অংশ না নিতে দেবার ব্যাপারে একটা কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন (অবশ্যই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি মোতাবেক)। 

তার বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছিল অপু, আরশাদরা। হাওয়ায় আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ ভাসছিল যে, আমি ওদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলাম (সোজা বাংলায় উস্কানি দিচ্ছিলাম)। আমি ওদের সত্যি একবার ডাকি, ডেকে বোঝানোর চেষ্টা করি, চেয়ার কিন্তু আইনানুযায়ী ঠিক আছেন। তোমরা সবটা বুঝে আন্দোলন করো। যাহোক, ওইবার সিদ্ধান্ত হয়, কঠোর সিদ্ধান্তটি, পরের সিমেস্টার থেকে কার্য়কর হবে।   

ডাকসু নির্বাচন চাই বলে যে আন্দোলন হয়েছিল, তার নেতৃত্বে অপু ছিল। আবার হলে হলে এবং ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ যে নিপীড়ন করতো তার বিরুদ্ধে যে নিপীড়নবিরোধী শিক্ষার্থীদের মোর্চা ছিল, তা অর্গানাইজ করতো সামান্তা আর অপুরা। 

অপু বামপন্থী ছিল কিন্তু তার কোনো সংগঠন সম্ভবত ছিল না। নিপীড়নবিরোধী আন্দোলনই তার রাজনৈতিক চর্চার স্থান ছিল। আন্দোলন করতে গিয়ে সে নিজেও নিপীড়নের শিকার হয়েছে। রেজিস্ট্রার বিল্ডিংয়ের সামনে অপুর নিপীড়িত হবার মুহূর্তের ছবি প্রথম আলোর প্রথম পাতায় প্রকাশিত হয়েছে, গায়ে তার ট্রেডমার্ক কালো টিশার্ট। আমরা কয়েকজন শিক্ষক তখন নিপীড়নবিরোধী শিক্ষক নামে কাজ করতাম, যা পরে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক নামে থিতু হয়।   

বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করে, সে সাংবাদিকতা করতো, ইত্তেফাকে গেলে দুয়েকবার দেখা হয়েছে। শেষমুহূর্তে কী করতো, আমার জানা নেই, শুনছি বিসিএসের প্রস্তুতি নিচ্ছিলো। সে আসলে আমার সঙ্গে কেন, সম্ভবত কোনো শিক্ষকের সঙ্গেই যোগাযোগ রাখতো না। যদিও আমার বিরুদ্ধে ৫৭ ধারায় মামলা হলে, কিংবা আমি পুলিশী হামলার শিকার হলে, ক্যাম্পাসে যে প্রতিবাদ হয়েছে, তার নেতৃত্বেও সে ছিল।
 
সে নিশ্চয় শিক্ষক হতে চাইতো। একাই ১০ জন শিক্ষকের কাজ করার মতো ক্ষমতা তার ছিল। কারণ সে পড়তো গভীরভাবে, শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন করতে শেখাতে পারতো, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ। কিন্তু সে বা আমি বা অনেকেই জানতো, তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে নেয়া হবে না। এসময়ে এধরনের কাউকে বিশ্ববিদ্যালয় নেয় না। বিশ্ববিদ্যালয় চায় অনুগত গাধাদের। 

তবুও আমি চাইতাম তার সঙ্গে যোগাযোগ থাকুক, তাকে কিছু পরামর্শ তো দেয়া যেত। কিন্তু খবর দিলেও সে আসতো না, ফেসবুকও ডিঅ্যাক্টিভেট করে রেখেছে বহুদিন।      

বলছিলাম সে সিস্টেমের বঞ্চনার শিকার। সাংবাদিকতার যে অবস্থা, সেখানেও নিশ্চয় সে হতাশ হয়েছে। নিরাপদ চাকরির জন্য সে বিসিএসের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তা অপুর স্বভাববিরোধী। তার স্বভাব ধারণ করার একমাত্র জায়গা হতে পারতো বিশ্ববিদ্যালয়। কিন্তু সেখানে ঢোকার সুযোগ তার নেই। সে পৃথিবীকে তার নিজের যোগ্য মনে করে নি। 
তাই সে অন্য কোথাও চলে গেল।

লেখাটি ফাহমিদুল হক-এর ফেসবুক থেকে সংগৃহীত। (মত-ভিন্নমত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

ঘটা করে কন্যা দিবস পালন নিরর্থক প্রহসন

মারুফ কামাল খান

ঘটা করে কন্যা দিবস পালন নিরর্থক প্রহসন

‘কন্যা দিবস।’ নামটি আসলে ‘জাতীয় কন্যা দিবস।’ এ উপলক্ষে ছবি ও আবেগ-সঞ্জাত স্ট্যাটাসে সয়লাব ফেসবুকের নিউজ ফিড। কবে এটা? ২৫ সেপ্টেম্বর। আবার কেউ সেপ্টেম্বর মাসের চতুর্থ রবিবারে দিবসটি উদযাপন করে। কিছু দেশে এই কন্যা দিবস পালিত হয় পয়লা অক্টোবর। ২৮ সেপ্টেম্বর পালন করা হয় ‘বিশ্ব কন্যা দিবস’ হিসেবে। কাজেই ১ অক্টোবর পর্যন্ত এর রেশ ও আমেজ থাকে, উদযাপন করা চলে।

এই দিবস পালন কোত্থেকে এলো? সেটা বলবার আগে বলে রাখি জাতিসংঘ ঘোষিত আলাদা ‘আন্তর্জাতিক কন্যা শিশু দিবস’ আছে। এটা বিশ্বজুড়ে পালিত হয় প্রতিবছর ১১ অক্টোবর।

জাতীয় কন্যা দিবস-এর প্রচলন হয় ইন্ডিয়ায়। অবশ্য সেটা সরকারিভাবে নয়। আর্চিজ লিমিটেড নামে ইন্ডিয়ার একটা নামকরা কোম্পানি আছে। গ্রিটিং কার্ড, স্টিকার ও উপহার সামগ্রী বিক্রি করে তারা। ওরাই প্রথম ইন্ডিয়ায় এই কন্যা দিবস উদযাপনের প্রচলন করে। আরবে প্রাক-ইসলাম যুগে ছিল জাহেলিয়া বা মূর্খতার অন্ধকার যুগ। অনেক পরিবারে কন্যা সন্তানকে জীবন্ত কবর দেওয়া হতো তখন সেখানে। ইন্ডিয়ায় পরিস্থিতি ততোটা শোচনীয় না হলেও মেয়েদের অবস্থা খুবই খারাপ ছিল।

বিংশ শতাব্দিতে পর্যন্ত কুখ্যাত ও নিষ্ঠুর সতীদাহ বা সহমরণ প্রথা চালু ছিল। বিধবা বিয়ে, মেয়েদের লেখাপড়া ও সম্মানজনক পেশা ছিল নিষিদ্ধ। ‘ষাটের দশকেও অনেক অঞ্চলে কন্যা সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য মা-কে হেনস্তা ও নির্যাতনের শিকার হতে হতো। এসবের বিরুদ্ধে মানুষের চিন্তায় একটা পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে কোম্পানি এই প্রচারাভিযান শুরু করে। এ আন্দোলন প্রসারের ইতিবাচক সুফল তারা বাণিজ্যিক দিক দিয়েও পায়। কন্যা দিবসে প্রচুর শুভেচ্ছা কার্ড, স্টিকার ও অন্যান্য গিফট বিক্রি বাড়তে থাকে। ভারতে আর্চিজ লিঃ প্রবর্তিত এই কন্যা দিবস ধীরে অন্যান্য দেশেও ছড়ায়।

আরও পড়ুন: 


বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ নির্মাণে সময় বাঁচবে ৩ ঘণ্টা

দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দুঃসময় যাচ্ছে: ফখরুল

প্রকাশ হলো এসএসসি ও এইচএসসির পরীক্ষার রুটিন

নিজের মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দিলেন বাইকার


কন্যা দিবস উপলক্ষে আমি আমার ও আমাদের সকলের কন্যাদের প্রতি অফুরন্ত শুভেচ্ছা ও আন্তরিক ভালোবাসা জানাই।

তবে এ আনুষ্ঠানিকতা তখনই অর্থবহ হবে যদি আমরা প্রতিটি পরিবারে কন্যাদের অধিকার ও মর্যাদা সমুন্নত রাখতে পারি। কন্যাদের লেখাপড়া করিয়ে যোগ্য ও স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে পারি। বাস্তবে ও ভাবনায় পুত্র ও কন্যার মধ্যকার বৈষম্য দূর করতে পারি। আলাদা চোখে দেখা বন্ধ করতে পারি। এখন আমাদের দেশে মেয়েদের কোথাও কোনো নিরাপত্তা নেই। রোজ যে-সব মর্মন্তুদ ঘটনা ঘটে, হত্যা, বলাৎকার, অপহরণ, দৈহিক নিগ্রহ, হেনস্তা, অসম্মানের যত খবর পাওয়া যায় এবং বিচারের বাণী যে-ভাবে নীরবে-নিভৃতে কাঁদে, তাতে ঘটা করে কন্যা দিবস পালন এক নিরর্থক প্রহসন। মেয়েদেরকে পিছিয়ে রেখে, তাদের ন্যায্য অধিকার ও উপযুক্ত সম্মান না দিয়ে কোনো দেশ-জাতি কখনো উন্নত ও অগ্রসর হতে পারেনি। কন্যা দিবস উপলক্ষে তাই অঙ্গীকার করুন, আপনার আদরের কন্যা সন্তানটির জন্য যেন একটি নিরাপদ সমাজ, রাষ্ট্র ও দেশ গড়তে পারেন। তবেই আপনি সফল পিতা। তবেই হবে কন্যার প্রতি কর্তব্য পালন।

(মত-ভিন্নমত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv তৌহিদ

পরবর্তী খবর