শিক্ষিত কে?

হারুন আল নাফিস

শিক্ষিত কে?

শিক্ষিত কে? যে শিখেছে বা শিক্ষা সম্পন্ন করেছে সে? না যে পড়ালেখা করেছে বা জানে সে? বাংলায় যে পড়ালেখা করেনি তাকে বোঝানোর জন্য একটি শব্দ আছে- আনপড় বা আনপড়া। হিন্দিতেও আছে শব্দটি। আগে গ্রামে-গঞ্জে এই শব্দটি বেশি ব্যবহার হত। পরে পরে অশিক্ষিত শব্দটি এর জায়গা দখল করে নিয়েছে।

আধুনিক যুগে, অক্ষর বা লিখিত শিক্ষা পদ্ধতি আবিষ্কার ও চালুর পর অক্ষর না চেনা বা লিখতে না পারা মানুষদের নিরক্ষর বলার চল হয়েছে। তবে অশিক্ষিতই বলা হয় বেশি। ‘শিক্ষা’ প্রসারের সাথে স্বল্প শিক্ষিত মানুষদের আমরা তাচ্ছিল্য ভরে অশিক্ষিত বলে তৃপ্তি বোধ করি।

প্রশ্ন হলো এর আগে কি সব মানুষ অশিক্ষিত ছিল? নিশ্চিয়ই না। তবে তারা আনপড় ছিলো। মানুষ জন্মের পর থেকেই, এমনকি মায়ের পেটে থাকতেই শিখতে শুরু করে। এটা বৈজ্ঞনিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে। আর আমৃতু সে শিখতে থাকে। কাজেই কোনো মানুষকে সত্যিকার অর্থে অশিক্ষিত বলার কোনো সুযাগ নাই।

আনপড় হলেই বা পড়ালেখা না জানলেই মানুষ অশিক্ষিত হয় না, অজ্ঞানীও হয় না। জানাশোনার মাধ্যমে পরোক্ষ পাঠ, অভিজ্ঞতা, পর্যবেক্ষণ ইত্যাদি বিভিন্ন উপায়, সর্বোপরি ‘বিশ্বজোড়া পাঠশালা’ মানুষকে শিক্ষিত ও জ্ঞানী করে তুলতে কার্পণ্য করে না।

আবার পড়ালেখা জানলেই মানুষ জ্ঞানী হয় না। শুধু তাই নয়, নামে হলেও সত্যিকার শিক্ষিতও হয় না। তবু বারবার হতাশ হওয়ার পরও কেন জানি আমরা শিক্ষিত নামধারী হলেই তার কাছ থেকে শিক্ষা ও জ্ঞান লাভের মিছে আশা করা থেকে বিরত হতে পারি না।

পড়ালেখা একটা বিদ্যা মাত্র। আর দশটা বিদ্যার মতোই। যেমন, চুলকাটা বিদ্যা, জুতা সেলাই বিদ্যা, রিকশা চালানো বিদ্যা, আসবাবপত্র বানানোর বিদ্যা আরও কত কী! আর ঠিক মতো পড়ালেখা না করে বিকল্প পদ্ধতিতে পাস করলে শিক্ষা দূরে থাক বিদ্যাই আয়ত্ত হয় না।

তবে হ্যাঁ, পড়ালেখা জানলেই কেউ জ্ঞানী না হলেও তার জন্য হওয়াটা সহজ হয়ে যায়। জ্ঞানী হওয়ার পথ খুলে যায় পড়ালেখা জানা মানুষের সামনে। কিন্তু এ পথে জ্ঞান লাভ করতে উদ্বুদ্ধ হয় এবং পরিশেষে সফল হয় এমন মানুষের সংখ্যা সবসময়ই বিরল।

মনে রাখা দরকার সনদধারী হলেই কাউকে ভাল মানের পড়ালেখা জানা মানুষ বলে মনে করারও কোনো কারণ নেই, শিক্ষিত বা জ্ঞানী হওয়া তো নয়ই। কেননা সনদের শ্রেণি এবং তা লাভ করার উপায় সম্পর্কে আমরা সবাই কম-বেশি জানি।

পরীক্ষায় প্রক্সি দেওয়া, প্রশ্নপত্র ফাঁস, চুরি বা নকল করে অথবা বেঞ্চের ওপর পিস্তল রেখে বই দেখে লেখা, পরীক্ষার পর ঘরে বসে উত্তরপত্র লেখা এবং টাকা দিয়ে সার্টিফিকেট কেনা এ রকম বেশ কিছু পদ্ধতিতে পরীক্ষা পাসের বা শিক্ষিতের সনদ লাভের বিষয় ভুলে থাকলেই তো আর এসব মিথ্যা হয়ে যায় না!

শিখতে গিয়ে ভুল বা উল্টা শেখা মানুষের সংখ্যাও সমাজে একেবারে কম নয়। এ ছাড়া শিক্ষার অপব্যবহার তো আছেই। খেয়াল করলে দেখা যাবে মানুষ সুযোগ পেলে শিক্ষার অপব্যবহার করতে কসুর করে না। নীতি-নৈতিকতাহীন মানুষ শিক্ষার ব্যবহার নয়, অপব্যবহার করতেই আগ্রহী হয় বেশি।

আমরা দীর্ঘদিন থেকে সনদের ভারবাহী কিংবা গলায় সনদের ট্যাগ ঝুলিয়ে রাখা লোকদেরই কেবল শিক্ষিত বলার যে রেওয়াজ চালু করেছি তাতে করে শিক্ষিত নামধারী মূর্খরা যে সমাজের বিশাল ক্ষতি করে যাচ্ছে তা বুঝতে তো নিশ্চয়ই জ্ঞানী বা শিক্ষিত হওয়ার প্রয়োজন নেই।

(মত-ভিন্নমত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

পরবর্তী খবর

বাড়ি কোথায়?

মনিজা রহমান

বাড়ি কোথায়?

ওই দিন ছোট ছেলেকে নিয়ে নদীর ধারে গিয়েছি। পার্কের লম্বা বেঞ্চে বসতে গিয়ে দেখলাম- একজন বয়স্ক বাঙালি আগে থেকে বসে আছেন। ভদ্রতাবশত আমি ওনাকে সালাম দিলাম। উনি আমার দিকে তাকিয়ে প্রথমেই জানতে চাইলেন, আপনার বাড়ি কোথায়? 

পার্কের এই বেঞ্চটাতে সাধারণত পাড়া প্রতিবেশীরাই বসে। সেই হিসেবে ওনাকে আমার বাসার স্ট্রিট নম্বর ও এভিনিউ বললাম। উনি তখন বললেন, বাংলাদেশে আপনার বাড়ি কোথায়? 

এটাই নিউইয়র্কে বাঙালির স্বভাব ও বৈশিষ্ট্য। কাউকে প্রথম দেখা হলে কুশল বিনিময় নেই, কি করেন, কোথায় থাকেন, জানতে চাইবে না, আচমকা জিজ্ঞাসা করবে- ‘আপনার বাড়ি কোথায়?’ 

আমি শুরুতে ভাবতাম, বয়স্ক লোকজন বুঝি প্রশ্নটা বেশী করে। পরে দেখলাম, সব বয়সীরাও করে। আমার বড় ছেলে একাদশ শ্রেণিতে ওঠার পরে স্কুল থেকে অনুমতি পেয়েছে লাঞ্চ এর সময়ে বাইরে গিয়ে খাওয়ার। 

ব্রুকলিনে ওর স্কুলের কাছে এক ডানকিন ডোনাটে গিয়ে দেখে অনেক বাঙালি নারী কাজ করছে সেখানে। ও তাদের দেখে, বাংলায় কথা বলতে, তাদের একজন প্রশ্ন করল- ‘তোমার বাড়ি কোথায়?’ আমার ছেলে উত্তর দিল- ‘এস্টোরিয়া’। ভদ্রমহিলা ওকে বলল, ‘বাংলাদেশে তোমার বাড়ি কোথায়’?

বাড়ি কোথায়, এই প্রশ্নটা আলাপের সূত্রপাত হিসেবে কেউ কেউ ব্যবহার করতে পারে। যদিও আমি কখনই এই প্রশ্নটা পরিচিত-অপরিচিত কাউকে করি না। আমার বর প্রায়ই করে। কেউ তার জেলার বা থানার নাম বললে, ওখানকার একাধিক এলাকার নাম, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যাক্তিদের নাম বলে চমকে দেয়। এতে করে সদ্য পরিচিত ব্যক্তিটিকে বেশ আনন্দে বিগলিত হতে দেখা যায়। 

আমেরিকানরা সাধারণত পরিচিত-অপরিচিত কারো সঙ্গে দেখা হবার শুরুতে ‘আবহাওয়া’ নিয়ে কথা বলে। কারণ এখানকার আবহাওয়া খুব ওঠানামা করে। তাই বলে সাধারণ আমেরিকানদের কি আঞ্চলিক প্রীতি নেই। খুব আছে। যে যার স্টেট বা সিটির, সেটার নাম উল্লেখ করার সময় এক ধরনের গর্ব প্রকাশ পায়। কেউ যদি বলে- ‘আই এম ম্যান ফ্রম বস্টন’, তার মানে সে বোঝাতে চায় আমি অন্যদের চেয়ে ওপরে। 

আরও পড়ুন:


ডিসেম্বরেই চালু হবে ৫জি নেটওয়ার্ক: মোস্তাফা জব্বার

দেশে বিনিয়োগ করুন: প্রধানমন্ত্রী

যানজট নিরসনের উদ্যোগ আটকে থাকে মহাপরিকল্পনার নথিতেই

মক্কা-মদিনার মসজিদে কাজ করবেন নারীরা


রোড আইল্যান্ডের দুই শহর নিউপোর্ট ও প্রভিডেন্সে মাস খানেক আগে বেড়াতে গিয়ে কয়েকটি দর্শনীয় স্থানে গিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে দেখলাম, ওখানে দীর্ঘদিন ধরে যারা বাস করছেন, তারা অর্থ-সময়-মেধা দিয়ে এই স্থানগুলোকে অতিথিদের জন্য সুন্দর ও আকর্ষণীয় করে রাখতে সদা তৎপর। 

-মনিজা রহমান, নিউইয়র্ক (ফেসবুক থেকে নেয়া)

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

মনে পড়ে আমি ছিলাম...

জসিম মল্লিক

মনে পড়ে আমি ছিলাম...

আজকাল কোনো কিছুই আর ঠিকঠাকমতো ঘটে না আমার। যা কিছু করি মনে হয় কিছুই ঠিকমতো হয় নি। লেখা ঠিকমতো হয়নি, বলা ঠিকমতো হয়নি, যোগাযোগ ঠিক মতো হয়নি। মনে হয় কোথায় যেনো একটা গ্যাপ তৈরী হচ্ছে। মনে হয় কোথায় যেনো ভুলের চিণ্হ থেকে গেছে। কলেজে পড়ার সময় থেকেই নীহার রঞ্জন গুপ্তের বই পড়তে শুরু করি। তার রহস্য বইগুলোতে কিরীটি রায় ছিল একজন ঝানু গোয়েন্দা। অপরাধী যত বড় সেয়ানাই হোক না কেনো কিরীটি বাবু ঠিকটাক ধরে ফেলতেন। অপরাধী কোথাও না কোথাও একটা চিন্হ রেখে যায়। গোয়ান্দারা সবসময় মনে করেন, কোথাও না কোথাও একটা ক্লু থাকবেই। আমার ভুলগুলো অবশ্য ভিন্ন মাত্রার, একান্ত নিজের। আমি আমার নিজের ভুলে নিজেই জর্জরিত। আমার ভুলগুলো অন্য কেউ সহজে শুধরে দেয় না, কোনো গোয়েন্দাগিরিও নেই হয়তবা। আমার গোয়েন্দা আমি নিজেই। আমি যেমন ভুল করি, আবার একা একা ভুল স্বীকার করি, ভুল শোধরাতেও চেষ্টা করি। একই ভুল বার বার করি বলে নিজের উপর নিজেই ক্ষুব্ধ।

কেনো ভুল করলাম এইসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজি। ভাবি একই ভুল আর করব না। বড় অপরাধীরা বড় বড় ক্রাইম করে। আমি চুনোপুটি টাইপ মানুষ। বড় অপরাধ করতে বুকের পাটা লাগে, সবাই পারে না। আমি আমার ক্ষুদ্র জীবন নিয়ে জেরবার। অন্যে কে কি করল সেসব নিয়ে লিখতে সাহস পাই না। কি থেকে কি হয়। শুনেছি আমরা যে যাই লিখি না কেনো সবকিছু সিস্টেমে থেকে যায়। কিছুই মুছে যায় না। হারিয়ে যায় না। লেখা সঠিক না হলে একদিন ধরা হবে। জাল পাতা আছে। তাই ওসবের ধারে কাছে নাই আমি। শুভাকাঙ্খিরা সবসময় বলে নিজেকে সেভ করে চলতে। সত্য কথা বলার দরকারটা কি। সত্যবাবুর মা মইরা গেছে। যেমনে আছ তেমনে থাক। জেসমিনও বলে, তুমি হইছ দুই পয়সার মানুষ, কে কি করলো তা নিয়া এতো চিন্তা করতে হবে না। নিজেরে নিয়া চিন্তা করো।

কথা সত্য। আমি তাই করি। নিজেরে নিয়া চিন্তা করি। আজকাল এমন হয়েছে একটা না একটা কিছু ভুল হয়েই যায়। নিজের উপর কন্ট্রোল কমে যাচ্ছে। যা করা দরকার তা করি না, অদরকারি কাজ নিয়ে সদা ব্যস্ত। আৱ ভুলগুলোও খুউব হাস্যকর। মোটা দাগের।  কাউকে বলাও যায় না। অন্য কেউ আমার মতো করে কিনা জানি না। আমার মতো কারো না হওয়াই বাঞ্চনীয়। আমার এখন যে বয়স তাতে আমার আরো চিন্তাশীল, শান্ত, স্থির, ধৈর্য্য থাকার কথা। কিন্তু তা না হয়ে অপ্রত্যাশিত সব কান্ড করি। যাকে যা বলার কথা না তাকে তা বলি, যার সাথে যে আচরন করা উচিত না, তার সাথে সে আচরন করি, যা করা শোভন না তা করি, যাকে সম্মান করা উচিত তাকে যোগ্য সম্মান না দিয়ে অযোগ্যকে সম্মান দিয়ে বসি।

আরও পড়ুন


ভোটের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলার শুরু জিয়ার আমলে

কোহিলির বেঙ্গালুরুকে হারিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে চেন্নাই

কানাডার সিটি নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী বাংলাদেশি মিজানুর রহমান

শতবর্ষী মায়ের অপেক্ষা, ৭০ বছর পর কুদ্দুস খোঁজ পেলেন পরিবারের


পক্ষান্তরে আমার সাথেও অন্যেরা এমন আচরন করে। যার উপকার করি সেই দেখি চোখ উল্টে ফেলে। এসব কারনে একসময় গভীর বেদনায় আচ্ছন্ন হতাম। এখন হইনা তেমন। এখন সবকিছু স্বাভাবিকভাবে নিতে শিখেছি। আমার উদারতার সুযোগ নিয়েও কেউ কেউ আমাকে ব্যবহার করে। তাই এসব ভেবে কখনও একটু এলোমেলো হই বটে, নিজের উপর নিয়ন্ত্রণও হারাই। কিন্তু মেনে নেই, ভাবি এমনটাই হওয়ার কথা। প্রতিটি জীবন তার আপন নিয়মে চলবে। কেউ আমাকে নিয়ন্ত্রণ করুক, অভিযোগে জর্জরিত করুক আমি তা চাই না। আমি কখনো কারো উপর অভিযোগ করি না। কত আপনজন আমাকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে! আমি কখনো জানতে চাইনি কেনো এমন করেছে। আমার জানতে চাইতে ইচ্ছে করে না। যে হারায় সে এমনি হারায়, আর যে থাকে সে এমনি থাকে। এইসব যখন ভাবি তখন আউলা ঝাউলা লাগে। রাস্তায় নেমে পথ হারিয়ে ফেলি। এক জায়গায় যাব বলে পথে বেরিয়েছি চলে যাই অন্য জায়গায়। হঠাৎ মনে হয় আরে আমার তো এখানে আসার কথা না! অন্য কোথাও যাওয়ার কথা ছিল!

অসুস্থ্য অবস্থায় এলেবেলে ভাবনায় জর্জরিত হয়ে এমন সব কথা মাথায় আসে।

জীবনানন্দের কবিতার লাইন দিয়ে শেষ করছি…
”আবার আকাশে ঘন হয়ে উঠেছেঃ
আলোর রহস্যময় সহোদরার মতো অন্ধকার। 
যে আমাকে চিরদিন ভালোবেসেছে
অথচ যার মুখ আমি কোনোদিন দেখিনি, 
সেই নগরীর মতো ফাল্গুন আকাশে অন্ধকার নিবিড় হয়ে উঠেছে।
মনে হয় কোন্‌ বিলুপ্ত নগরীর কথা
সেই নগরীর এক ধূসর প্রাসাদের রূপে জাগে হৃদয়ে..”

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর

‘ফেইল্ড ক্যাম্পেইন’টা সেপ্টেম্বরে ‘উইন ক্যাম্পেইন’ হয়ে গেলো

শওগাত আলী সাগর

‘ফেইল্ড ক্যাম্পেইন’টা সেপ্টেম্বরে ‘উইন ক্যাম্পেইন’ হয়ে গেলো

নির্বাচনের ঘোষনা দিয়ে মাঠে নেমেই জাস্টিন ট্রুডো টের পেয়ে গিয়েছিলেন- বড্ড ঝুঁকিপূর্ণ জুয়ায় নেমে গেছেন তিনি। সপ্তাহখানেকের মাথায়  দল আর ক্যাম্পেইন মিলে পর্যালোচনায় বসলো- কতোটা ঝুঁকির মধ্যে তারা, সেখান থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব কী না- তা খতিয়ে দেখতে। তাদের সব ধরনের পর্যালোচনাই লিবারেল পার্টিকে ১৪০টির বেশি আসনের নিশ্চয়তা দিলো না। 

কিন্তু জাস্টিন ট্রুডো সেটি কাউকে বুঝতে দিতে চাইলেন না। সতর্ক হলেন- তার কথায়, চেহারায়, বডি ল্যাঙ্গুয়েজে- কোনোভাবেই যেনো পার্টির এই দুরাবস্থার প্রকাশ না পায়, তিনি উদ্বিগ্ন- সেটি যেনো কেউ ক্ষুণাক্ষরেও টের না পায়। ‘মেজরিটি’ শব্দটি ভুল করেও উচ্চারণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন নীতিনির্ধারকরা। পুরো প্রচারণায় জাস্টিন ট্রুডো একবারের জন্যও ‘মেজরিটি’ শব্দটি উচ্চারণ করলেন না- অথচ মেজরিটির জন্যই তিনি হঠাৎ নির্বাচনের ঘোষনা দিয়েছিলেন। লিবারেল পার্টি নিরবে নিজেদের মূল্যায়নের খাতায় টুকে রাখলো ‘ আগষ্ট- ফেইল্ড ক্যাম্পেইন’।

’ফেইল্ড ক্যাম্পেইন’টা  সেপ্টেম্বরে এসে ‘উইন ক্যাম্পেইন’ হয়ে গেলো। সেপ্টেম্বরের শুরু থেকেই টের পাওয়া যাচ্ছিলো নতুন কৌশলটা কাজ করছে। শেষ দুই সপ্তাহে এসে তারা বুঝে গেলেন- এই যাত্রা রক্ষা পাওয়া গেছে। দলের মূল্যয়ন খাতায় এবার লেখা হলো- ‘ সেপ্টেম্বর- উইন ক্যাম্পেইন’। 

আরও পড়ুন:

অবশেষে ব্রিটেনের লাল তালিকা থেকে বাদ পড়ছে বাংলাদেশ

বেড়াতে গিয়ে অতিরিক্ত মদ পানে দুই ছাত্রলীগ কর্মীর মৃত্যু

আর কোনো তত্ত্বাবধায়ক সরকার হবে না, জানালেন কৃষিমন্ত্রী

ইভ্যালির সঙ্গে আর সম্পর্ক নেই তাহসানের


 

ভোট হয়ে যাবার পর বিজয়ী লিবারেল পার্টি এখন সেইসব কথা নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে। নতুন করে পর্যালোচনা করছে। তবে ‘একটি ‘ফেইল্ড ক্যাম্পেইন’কে ‘উইন ক্যাম্পেইনে’ রুপান্তরিত করে ক্ষমতায় ফিরে আসার ম্যাজিক কৌশলটা নিঃসন্দেহে উদ্দীপনামূলক এবং কৌতূহলোদ্দীপক। পার্টি কখনো সেই কৌশলটা খোলামেলা প্রকাশ করলে কিংবা কোনো অনুসন্ধানী সাংবাদিক খুঁজে বের করে রিপোর্ট করলে রাজনীতি বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী এবং রাজনীতিতে আগ্রহীদের সেটি নতুন ভাবনার খোরাক যোগাবে নিঃসন্দেহে।

লেখক- শওগাত আলী সাগর, প্রধান সম্পাদক, নতুনদেশ, কানাডা।

(মত-ভিন্নমত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

বলছি না, প্রবাসীরা আওয়ামী লীগ বা বিএনপির রাজনীতি করবেন না

আনোয়ার সাদী

বলছি না, প্রবাসীরা আওয়ামী লীগ বা বিএনপির রাজনীতি করবেন না

বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত প্রবাসীরা যদি স্থানীয় রাজনীতি মনযোগ দিয়ে করতেন তাহলে আখেরে তা দেশের মানুষেরই কাজে দিতো। 

যুক্তরাজ্যে কিছু মানুষ আছেন যারা সেদেশের রাজনীতিতে ভালো করছেন, তাদের পূর্ব পুরুষ বাংলাদেশের। তাদেরকে আপনারা সবাই চেনেন, আমি আর নাম লিখলাম না। তারা দেশের যতোটা উপকার করতে পারবেন, সেদেশের আওয়ামী লীগ বা বিএনপি শাখার সভাপতি কী এতোটা কাজে আসবেন?  

আমেরিকা, কানাডা, অষ্ট্রেলিয়াসহ যেসব দেশ বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, সেসব দেশে প্রবাসীরা এখন স্থানীয় রাজনীতিতে যোগ দিতে পারেন। ক্ষমতার রাজনীতির সঙ্গে যার যোগাযোগ যতোটা নিবিড়, সে ততবেশি মানুষের উপকার করতে পারে, এ বিষয়ে নিশ্চয়ই কারো দ্বি-মত নেই? ফলে, বাংলাদেশের পক্ষে পলিসি সুবিধা নিশ্চিত করতে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী দেশের ক্ষমতার বলয়ে যোগাযোগ রাখা দরকার। সে কাজ শুধু আমাদের কূটনীতিবিদরাই করবেন কেন, দেশের মানুষরাও, বাংলাদেশি বংশোদ্ভুতরাও কূটনীতিবিদের কাজটি করে দিলে, ক্ষতি কী? 

আমি বলছি না প্রবাসীরা আওয়ামী লীগ বা বিএনপির রাজনীতি করবে না। বলছি না, জেলা সমিতি বা উপজেলা সমিতি করবে না। এসবেরও দরকার আছে। তবে এসব কাজে সব সময় বিলিয়ে দিলে, আরো বড় পরিসরে নিজেকে নিয়ে যাওয়ার কাজটি ব্যহত হয়ে বলেই অনেকের ধারণা। 

অনেক সময়, রাজনীতিবিদরা এক দেশে বসে আরেক দেশের রাজনীতি পরিচালনা করেন। কেউ কেউ নিজ দেশ থেকে নির্বাসিত থাকেন, প্রবাসে থেকে দল গুছিয়ে, ক্ষমতা দখল করে ফিরে আসার স্বপ্ন দেখেন। ইতিহাসে আমরা প্রবাসী সরকার গঠন করতেও দেখি। তারা বিদেশে থাকলেও তাদের জগত স্বদেশ নিয়ে থাকে। পরিষ্কার বলে রাখি, এই আলোচনা তাদেরকে নিয়ে নয় বা তাদের জন্য নয়। এই আলোচনা তাদেরকে নিয়ে করছি, যারা স্থায়ীভাবে অন্য একটি দেশে বসবাস করতে স্বদেশ ছেড়েছেন।  

আরও পড়ুন:

অবশেষে ব্রিটেনের লাল তালিকা থেকে বাদ পড়ছে বাংলাদেশ

বেড়াতে গিয়ে অতিরিক্ত মদ পানে দুই ছাত্রলীগ কর্মীর মৃত্যু

আর কোনো তত্ত্বাবধায়ক সরকার হবে না, জানালেন কৃষিমন্ত্রী

ইভ্যালির সঙ্গে আর সম্পর্ক নেই তাহসানের


 

একটি কথা প্রচলিত আছে, প্রবাসীদের প্রথম জেনারেশন শারীরিকভাবে বিদেশে থাকে, কিন্তু তারা মানসিকভাবে বাস করে বাংলাদেশে। দ্বিতীয় জেনারেশন দেশের জন্য কিছুটা টান অনুভব করে। তৃতীয় জেনারেশন নাকি পুরোপুরি বিদেশি হয়ে যায়। এটাই আমাদের ভাবনায় রাখতে হবে। শেকড়ের প্রতি টান যেনো প্রবাসীদের মাঝে প্রজন্মের পর প্রজন্ম বজায় থাকে, সে পরিবেশ তৈরি করে রাখতে হবে।  

যারা রেমিট্যান্স পাঠায় তাদের প্রতি শ্রদ্ধা রাখছি। এটা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ কাজ। তবে বাংলাদেশের পক্ষে অপর একটি দেশের নীতি সহায়তা নিশ্চত করা কোনোভাবেই ছোট কাজ নয়।

লেখাটি নিউজ টোয়েন্টিফোর টিভির সিনিয়র নিউজ এডিটর, আনোয়ার সাদী-এর ফেসবুক থেকে নেওয়া। 

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

'এই লোকটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লাশ ফেলতে চেয়েছিল না?'

মোহাম্মদ আলি আরাফাত

'এই লোকটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লাশ ফেলতে চেয়েছিল না?'

এই লোকটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লাশ ফেলতে চেয়েছিল না? লাশ ফেলার ষড়যন্ত্র করতে গিয়ে ধরা খেয়ে জেলও খেটেছে। এ আবার বড় বড় নীতি বাক্য শোনায় জাতিকে। লজ্জাও নাই এদের!

আমরা কোন একটা কথা বলা বা লেখার আগে দশ বার চিন্তা করি, কোন ভুল কিছু না বলে ফেলি বা লিখে ফেলি। অথচ এরা নিয়ত করে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যাচার করে। 
এরা মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলে, অথচ মত প্রকাশের স্বাধীনতা তো পরের কথা, এরা মিথ্যাচার করার স্বাধীনতাও ভোগ করছে। এই লোককে যদি শুধু মিথ্যা অপপ্রচারের জন্য আইন অনুযায়ী জবাবদিহিতার আওতায় আনা হতো তাহলে সে বার বার সাজা পেত। 

রও পড়ুন:

জন্মদিনে সৃজিতের কাছে কী চাইলেন মিথিলা?

বায়ু দূষণের তালিকায় বাংলাদেশ প্রথম, ঢাকা তৃতীয়

৪৫ মিনিট পর হাসপাতালে অলৌকিকভাবে বেঁচে উঠলেন নারী!

গাড়ি সাইড দেয়ায় ব্যবসায়ীকে মারধর করলেন এমপি রিমন!


আওয়ামী লীগের এবং সরকারের সহিষ্ণুতা ও উদারতার সুযোগ নিয়ে এরা যা ইচ্ছা তাই মিথ্যাচার করে যাচ্ছে। তাও না কি এদেশে মত প্রকাশের স্বাধীনতা নাই!

(মত-ভিন্নমত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv/ নকিব

পরবর্তী খবর