বিশ্বনবী হয়রত মুহাম্মদ (সা.)-এর ২০টি সেরা উপদেশ

অনলাইন ডেস্ক

বিশ্বনবী হয়রত মুহাম্মদ (সা.)-এর ২০টি সেরা উপদেশ

বিশ্বনবী হয়রত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদর্শ মানুষের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ কল্যাণকর। তার আদর্শ অনুসরণই হতে পারে মুক্তির একমাত্র উপায়। আল্লাহ তাআলা বিশ্ববাসীর জন্য তাঁকে সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ ও রহমত করে পাঠিয়েছেন। কুরআনুল কারিমে মহান আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন-

‘আমি আপনাকে বিশ্ববাসীর জন্য রহমতস্বরূপ পাঠিয়েছি।’ (সূরা আম্বিয়া: আয়াত ১০৭)
‘তাদের জন্যে রাসুলুল্লাহর জীবনে উত্তম আদর্শ রয়েছে; যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহকে বেশি স্মরণ করে।’ (সূরা আহজাব: আয়াত ২১)

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সব কথা ও কাজ ছিল শান্তি, শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও আন্তরিকতায় পরিপূর্ণ। দুনিয়ার জীবনের উন্নত দিকনির্দেশনা। তাঁর অসংখ্য আদর্শের মধ্যে জীবনঘনিষ্ঠ কিছু আদর্শ তথা উপদেশ তুলে ধরা হলো-

১. সালাম দেয়া

প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অন্যতম গুণ ছিল - তিনি সবাইকে আগে আগে সালাম দিতেন। সাধারণ কেউ তাকে আগে সালাম দিতে পারতেন না। এটি ছিল বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অন্যতম শিক্ষা। এ কারণেই তিনি বলেছেন - ‘কথা বলার আগে সালাম দাও।’

২. আল্লাহকে বেশি স্মরণ করা

আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন বাস্তবায়নই ছিল বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মিশন। তিনি সব সময় সব কাজে মহান আল্লাহকে স্মরণ করতেন এবং আল্লাহ স্মরণ করতে বলতেন। আল্লাহর নির্দেশ-
‘সুতরাং তোমরা আমাকে স্মরণ কর; আমিও তোমাদের স্মরণ রাখবো আর আমার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর; অকৃতজ্ঞ হয়ো না।’ (সূরা বাকারা: আয়াত ১৫২)
হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে বেশি পরিমাণে স্মরণ কর।’ (সূরা আহজাব: আয়াত ৪১)
হে ঈমানদারগণ! তোমরা যখন কোনো বাহিনীর সঙ্গে সংঘাতে লিপ্ত হও, তখন সুদৃঢ় থাক এবং আল্লাহকে বেশি পরিমাণে স্মরণ কর; যাতে তোমরা উদ্দেশ্য কৃতকার্য হতে পার।’ (সূরা আনফাল: আয়াত ৪৫)

৩. তাহাজ্জুদ নামাজ

যারা বিনা হিসাবে জান্নাতে যেতে চায়, তাদের উচিত যত্নের সঙ্গে তাহাজ্জুদ নামাজ নিয়মিত পড়া। কুরআনের বিভিন্ন সুরায় এ নামাজের প্রতি তাগিদ দেয়া হয়েছে। তাই প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পর সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়ি, তাবে-তাবেয়িসহ সব যুগের ওলি ও বিদ্বানরা তাহাজ্জুদ নামাজে রাত কাটিয়ে দিয়েছেন।
আল্লাহ তাআলা প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহ ওয়া সাল্লামকে বিশেষভাবে (রাতে) তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। আল্লাহ তাআলা বলেন-
‘হে চাদর আবৃত, রাতের সালাতে দাঁড়াও; কিছু অংশ ছাড়া।’ (সুরা মুজাম্মিল : আয়াত ১-২)

৪. নামাজ পড়া

নামাজ ছিল প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনের শ্রেষ্ঠ ইবাদাত ও আদর্শ। এমনকি তিনি যখন কোনো বিপদে পড়তেন সঙ্গে সঙ্গে তিনি নামাজে দাঁড়িয়ে যেতেন। আবার কোনো কারণে কষ্ট বা হতাশা বা চিন্তাগ্রস্ত হলেও তিনি তাৎক্ষণিক নামাজে দাঁড়িয়ে যেতেন।

৫. নীরবতা পালন

তিনি দীর্ঘ সময় নীরব থাকতেন। আল্লাহর কাছ থেকে ওহি ছাড়া কোনো কথা তিনি বলতেন। এ কারণেই নীরব থাকা বিশ্বনবির অন্যতম সুন্নাত ও ইবাদত।

৬. কম হাসা

তিনি কম হাসতেন। কেননা বেশি হাসলে মুমিনের অন্তর নিস্তেজ হয়ে যায়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলতেন বেশি বেশি কাঁদো; অল্প অল্প হাসো। এটি কুরআনুল কারিমেরও নির্দেশনা-
‘অতএব, তারা সামান্য হেসে নিক এবং তারা তাদের কৃতকর্মের বদলাতে অনেক বেশী কাঁদবে।’ (সুরা তাওবাহ : আয়াত ৮২)

৭. মুচকি হাসি

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুচকি হাসি হাসতেন। এ হাসি অনেক উপকার বয়ে আনে। হাদিসে এসেছে-
হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, সৎ আমলের কোনো কিছুকেই তুচ্ছ মনে করো না, যদি তা (সৎ আমলটি) তোমার নিজের ভাইয়ের সঙ্গে মুচকি হাসি দিয়ে মিলিত হওয়ার দ্বারাও হয়। (মুসলিম) মুসলমানের জন্য এটাও একটা সদকা।

৮. প্রতিশোধ পরায়ন না হওয়া

কারো প্রতি প্রতিশোধ না নেয়া ছিল বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অন্যতম আদর্শ। হদযোগ্য কোনো অপরাধ না থাকলে অপরাধীকে ক্ষমা করে দেয়া। কেউ অপরাধ করে থাকলে ধৈর্যধারণ করাও শ্রেয়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজের জন্য কখনোই প্রতিশোধ গ্রহণ করতেন না।

৯. আঘাত না করা

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কখনো কাউকে আঘাত করতেন না। শারীরিক আঘাত তো দূরের কথা তিনি কথা বা আচরণ দিয়েও কাউকে কষ্ট দিতেন না। তবে যুদ্ধের ময়দানে কিংবা হদযোগ্য অপরাধের কথা ভিন্ন।

১০. শিশুদের স্নেহ করা

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোমলমতি শিশুদের বেশি স্নেহ করতেন এবং ভালোবাসতেন। হাদিসে এসেছে-
হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, এক ব্যক্তি একটি শিশু নিয়ে বিশ্বনবীর খিদমতে এসে শিশুটিকে চুমু দিতে লাগলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ দৃশ্য দেখে তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, শিশুটির প্রতি কি তোমার দয়া জেগে উঠেছে? সে বলল, ‘হ্যাঁ’, হে আল্লাহর রাসুল! তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘আল্লাহ তাআলা তোমার প্রতি এর চেয়েও অধিক দয়া করেন। কেননা তিনি দয়ালুদের শ্রেষ্ঠ দয়ালু। (বুখারি)

১১. পরিবারের সঙ্গে কোমল আচরণ

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কোমল আচরণ করতেন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কোমল ও উত্তম আচরণের নির্দেশ দিয়েছেন। খাবার-দাওয়া, কেনা-কাটা, সাংসারিক কাজে পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতা ও উত্তম জিনিস দেয়াকে উত্তম ইবাদত ও খরচ বলে উল্লেখ করেছেন। সুতরাং হাদিসের দিকনির্দেশনা হলো-
- প্রথমেই পরিবার পরিজনের চাহিদা মেটানো। যাতে তারা সব সময় অভাবমুক্ত থাকে। যা পরিবারের দায়িত্বশীল ব্যক্তির ওপর ওয়াজিব।
- মৃত্যুর সময় ওয়ারিশদেরকে স্বচ্চল অবস্থায় রেখে যাওয়া। যাতে করে অভিভাবকের মৃত্যুর পর কারো মুখাপেক্ষী হতে না হয়।

১২. রোজা পালন

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রতি সপ্তাহে দুই দিন (সোম ও বৃহস্পতিবার) রোজা রাখতেন। মাসে ৩ দিন (আইয়্যামে বিজ) চন্দ্র মাসের ১৩-১৫ তারিখ রোজা রাখতেন।

১৩. মেসওয়াক করা

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘুম থেকে ওঠে মেসওয়াক করতেন। প্রত্যেক ওজুতে মেসওয়াক করতেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছন, ‘জিবরিল আলাইহিস সালাম বিশ্বনবিকে এতবেশি মেসওয়াক করার তাগিদ দিয়েছেন যে, তিনি মেসওয়াক ওয়াজিব হয়ে যাওয়ার আশংকা করতেন।

আরও পড়ুন


সূরা বাকারা: আয়াত ৫-৭, প্রধান দুটি শিক্ষা

হেলেনার বাসায় মদের সাথে আর যা পেল র‌্যাব

টি-টোয়েন্টিতে ভারত ৮১ রানে অলআউট!

হেলেনা আটক, নেয়া হচ্ছে র‍্যাব সদর দফতরে


১৪. মিথ্যা পরিহার করা

মিথ্যা সব পাপের জননী। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সব সময় মিথ্যা থেকে বিরত থাকার কথা বলেছেন। তিনি মিথ্যাকে সবচেয়ে বেশি ঘৃণা করতেন।

১৫. উপহার গ্রহণ করা

উপহার দেয়া এবং নেয়া সুন্নাত। কেউ কাউকে উপহার দিলে তা গ্রহণ করার উৎসাহ দিয়েছেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদিয়া বা উপহার গ্রহণ করতেন এবং নিজে ব্যবহার করতেন। কেননা তিনি সাদকা খেতেন না।

১৬. সাদকা বা দান করা

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বেশি বেশি সাদকা করতেন। ইসলামের জন্য সাদকা করতে হজরত খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহা তার সমূদয় সম্পদ প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দিয়েছিলেন। আর তিনি তা দ্বীনের পথে ব্যয় করেছেন। বেশি বেশি সাদকা বা দান করার নির্দেশ দিয়েছেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে যখন কোনো সাদকা আসতো তিনি তা সবার মাঝে বিলিয়ে দিতেন।

১৭. খাবারের দোষ না ধরা

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কখনো খাবারের দোষ ধরতেন না। কোনো খাবার খেতে ভালো না লাগলে তিনি তা খাওয়া থেকে বিরত থাকতেন। হাদিসের এসেছে-
হজরত আনাস ইবনে মালেক রাদিয়াল্লাহ আনহু বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কখনোই কোনো খাবারের দোষ-ত্রুটি বর্ণনা করতেন না। খাবার পছন্দ ও রুচি হলে তিনি তা খেতেন। আর পছন্দ ও রুচি না হলে তা খাওয়া থেকে বিরত থাকতেন।’

১৮. ক্ষমা করা

ক্ষমা মহান আল্লাহ তাআলার অন্যতম গুণ। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও ক্ষমা করতে ভালোবাসতেন। তিনি অন্যদের ক্ষমা করে দেয়াকে বেশি পছন্দ করতেন। হাদিসে পাকে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ক্ষমার ব্যাপারে এভাবে দোয়া করতেন এবং তাঁর উম্মতেকে দোয়া করতে বলতেন-
اللَّهُمَّ إِنَّكَ عُفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي
উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুওয়ুন; তুহিব্বুল আফওয়া; ফাফু আন্নি।
অর্থ : হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল; ক্ষমা করতে ভালো বাসেন; অতএব আমাকে ক্ষমা করে দিন। (মুসনাদে আহমাদ, ইবনে মাজাহ, তিরমিজি, মিশকাত)

১৯.  কাউকে অবহেলা না করা

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কখনো কাউকে অবহেলা করতেন না। কারো মর্যাদা বিনষ্ট হোক এটা তিনি কামনা করতেন না। সবার প্রতি তিনি উদার ছিলেন। বিশেষ করে তার কাছে আসা সব ব্যক্তিকেই তিনি সমাদর করতেন। গুরুত্ব দিতেন। তাদের কথা শুনতেন। সুতরাং কাউকেই অবহেলা করা ঠিক নয়।

২০. সুস্পষ্ট কথা বলা

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন সুস্পষ্টভাষী। তিনি ছিলেন সত্যমিথ্যার পার্থক্যকারী। সত্যের মানদণ্ডে তিনি ছিলেন স্পষ্টবাদী। কথা বলার সময় তিনি সুস্পষ্টভাষায় কথা বলতেন। তার কথা ছিল প্রাঞ্জল ও সুস্পষ্ট। এমন কেউ ছিলেন না যিনি প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কথা বুঝতেন না। সুতরাং কথা বলার ক্ষেত্রে সবার উচিত, সুস্পষ্ট ভাষায় কথা বলা।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এ গুণগুলো যথাযথভাবে মেনে চলার তাওফিক দান করুন। বিশ্বনবীর আদর্শে নিজেকে রাঙিয়ে তোলার তাওফিক দান করুন। আমিন।

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর

যেসব স্থানে নামাজ পড়া নিষিদ্ধ

মাওলানা সাখাওয়াত উল্লাহ

যেসব স্থানে নামাজ পড়া নিষিদ্ধ

মিসজিদ শব্দটি আরবি। এর অর্থ সিজদা করার স্থান বা নামাজ পড়ার স্থান। পবিত্র কোরআনে এ শব্দ ১৭ বার এসেছে। আভিধানিক অর্থে—যেখানে মানুষ আল্লাহর ইবাদতের উদ্দেশ্যে সিজদা করে সেটাই মসজিদ। রাসুল (সা.) বলেন, ‘আমার (উম্মতের) জন্য ভূপৃষ্ঠকে মসজিদ (ঘোষণা দেওয়া হয়েছে) ও পবিত্র করা হয়েছে।’ (বুখারি, হাদিস : ২৯৭৭)

পৃথিবীর সব পবিত্র স্থানে পড়া গেলেও নিম্নের স্থানগুলোতে নামাজ পড়া নিষিদ্ধ—

কবরস্থান ও গোসলখানা : আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘গোটা জমিন মসজিদ (তথা সালাতের স্থান) শুধু কবরস্থান ও গোসলখানা ছাড়া।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৯২)

উট বাঁধার স্থান :  উট বাঁধার স্থানে সালাত আদায় করা যাবে না। বারা ইবনে আজিব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে উট বাঁধার স্থানে সালাত আদায় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ‘তোমরা উট বাঁধার স্থানে সালাত আদায় করবে না। কারণ সেটি শয়তানের আড্ডাখানা। অতঃপর তাঁকে ছাগল বাঁধার স্থানে সালাত আদায় করার কথা জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ‘তোমরা তাতে সালাত আদায় করতে পারবে। কারণ তা বরকতময়।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৯৩)

আজাবের স্থান : আগের জাতির ওপর আজাবের স্থানে সালাত আদায় করা যাবে না। আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা এসব আজাবপ্রাপ্ত সম্প্রদায়ের লোকালয়ে ক্রন্দনরত অবস্থা ছাড়া প্রবেশ করবে না। কান্না না এলে সেখানে প্রবেশ করো না, যেন তাদের ওপর যা আপতিত হয়েছিল তা তোমাদের প্রতিও আসতে না পারে।’ (বুখারি, হাদিস : ৪৩৩)

ইবনে ওমর (রা.) বলেন, যখন নবী করিম (সা.) হিজর (সামুদ গোত্রের বস্তি) অতিক্রম করেন, তখন তিনি বলেন, যারা নিজ আত্মার ওপর অত্যাচার করেছিল তাদের আবাসস্থলে কান্নাকাটি ছাড়া প্রবেশ কোরো না, যেন তোমাদের প্রতি শাস্তি আপতিত না হয়, যা তাদের প্রতি হয়েছিল। তারপর তিনি তাঁর মস্তক আবৃত করেন এবং অতি দ্রুতবেগে চলে ওই উপত্যকা অতিক্রম করেন। (বুখারি, হাদিস : ৪৪১৯)

বিদ্বানগণের মতে, আজাবের স্থানে সালাত আদায় করা নিষিদ্ধ। ইমাম নববি (রহ.) বলেন, আজাবের স্থানে নামাজ পড়া সবার ঐকমত্যে হারাম।

রও পড়ুন:

মাদক মামলায় নারীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

নতুন করে স্নায়ুযুদ্ধ চায় না যুক্তরাষ্ট্র

নারী ক্ষমতায়নে আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ফ্রান্সের পাশে ইউরোপীয় ইউনিয়ন


ব্যস্ত রাস্তায় নামাজ পড়া : ব্যস্ত রাস্তা, যেখানে যানবাহন চলাচল করে, সেখানে মানুষকে কষ্ট দিয়ে নামাজ না পড়া উত্তম। তবে যদি রাস্তার এক পাশে হয় এবং মানুষের চলাচলে অসুবিধা না হয় তাহলে সেখানে সালাত আদায় করা যাবে। এ ছাড়া পরিত্যক্ত রাস্তায় সালাত আদায় করা যাবে। তা ছাড়া জরুরি প্রয়োজন যেমন—জুমা ও ঈদের সালাতে জায়গা সংকুলান না হলে রাস্তায় আদায় করা যাবে।

জনগণের চালাচলে বিঘ্ন না ঘটলে রাস্তায় নামাজ পড়া যাবে। আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা রাস্তায় বসা সম্পর্কে সতর্ক হও। সাহাবিরা বলেন, হে আল্লাহর রাসুল, তাতে না বসে তো আমাদের উপায় নেই। আমরা তথায় (বসে) আলোচনা করে থাকি। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যদি তোমাদের একান্ত বসতেই হয়, তাহলে তোমরা রাস্তার হক আদায় করবে। সাহাবিরা প্রশ্ন করেন, হে আল্লাহর রাসুল, রাস্তার হক কী? তিনি বলেন, দৃষ্টি সংযত রাখা, কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকা, সালামের জবাব দেওয়া, সৎকাজের আদেশ দেওয়া এবং অসৎ কাজ হতে নিষেধ করা।’ (বুখারি, হাদিস : ৬২২৯)

news24bd.tv রিমু     

পরবর্তী খবর

আল্লাহর প্রিয় জায়গা

অনলাইন ডেস্ক

আল্লাহর প্রিয় জায়গা

কিছু আমল আছে, যেগুলো আল্লাহর কাছে বেশি প্রিয়। তন্মধ্যে অন্যতম আমল হলো, গুরুত্বসহ সময়মতো নামাজ আদায় করা। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে প্রশ্ন করলাম, আল্লাহর কাছে সর্বাধিক প্রিয় আমল কোনটি? তিনি বলেন, ‘সঠিক সময়ে নামাজ আদায় করা।’ 

আল্লাহর প্রিয় জায়গা

পৃথিবীতে কিছু জায়গা মহান আল্লাহর বেশি প্রিয়। আর তা হলো মসজিদ, যেখানে মহান আল্লাহকে সিজদা করা হয়। এটি মহান আল্লাহকে সিজদা করার জায়গা হওয়ায় একে মসজিদ বলা হয়। বান্দা মহান আল্লাহর সবচেয়ে কাছাকাছি থাকে সিজদারত অবস্থায়। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ তাআলার কাছে সবচেয়ে প্রিয় জায়গা হলো মসজিদ আর সবচেয়ে খারাপ জায়গা হলো বাজার।’ (মুসলিম, হাদিস : ১৪১৪)

রও পড়ুন:

মাদক মামলায় নারীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

নতুন করে স্নায়ুযুদ্ধ চায় না যুক্তরাষ্ট্র

নারী ক্ষমতায়নে আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ফ্রান্সের পাশে ইউরোপীয় ইউনিয়ন


মহান আল্লাহ তাআলা সকল মুমিনদের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া এবং আল্লাহর বেশি প্রিয় কাজগুলো করার তাওফিক দান করুন। আমিন। 

news24bd.tv রিমু     

পরবর্তী খবর

সূরা বাকারা: আয়াত ৮৫-৮৮, শুধু পাপ নয়, পাপীকে সহযোগিতাও নিষিদ্ধ

অনলাইন ডেস্ক

সূরা বাকারা: আয়াত ৮৫-৮৮, শুধু পাপ নয়, পাপীকে সহযোগিতাও নিষিদ্ধ

পবিত্র কুরআনের গুরুত্বপূর্ণ সূরা আল-বাকারা আলোচনার আজকের পর্বে সূরাটির ৮৫ থেকে ৮৮ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যা তুলে ধরা হবে। বনী ইসরাইলীদেরকে উদ্দেশ্য করে আল্লাহপাক সূরা বাকারা’র ৮৫ নম্বর আয়াতে বলেছেন -

ثُمَّ أَنْتُمْ هَؤُلَاءِ تَقْتُلُونَ أَنْفُسَكُمْ وَتُخْرِجُونَ فَرِيقًا مِنْكُمْ مِنْ دِيَارِهِمْ تَظَاهَرُونَ عَلَيْهِمْ بِالْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ وَإِنْ يَأْتُوكُمْ أُسَارَى تُفَادُوهُمْ وَهُوَ مُحَرَّمٌ عَلَيْكُمْ إِخْرَاجُهُمْ أَفَتُؤْمِنُونَ بِبَعْضِ الْكِتَابِ وَتَكْفُرُونَ بِبَعْضٍ فَمَا جَزَاءُ مَنْ يَفْعَلُ ذَلِكَ مِنْكُمْ إِلَّا خِزْيٌ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ يُرَدُّونَ إِلَى أَشَدِّ الْعَذَابِ وَمَا اللَّهُ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعْمَلُونَ (85

‘‘অতঃপর সেই তোমরাই প্রতিশ্রুতি দেয়া সত্ত্বেও তোমাদের একে অন্যকে হত্যা করছ এবং তোমরাই একদলকে তাদের মাতৃভূমি থেকে বের করে দিচ্ছ, তোমরা তাদের প্রতি অন্যায় ও সীমা লঙ্ঘনে পরস্পরকে সাহায্য করছ এবং তারা বন্দী হয়ে তোমাদের কাছে আসলে তোমরা মুক্তিপণ নাও। অথচ তাদেরকে বহিষ্কার করাই তোমাদের জন্য অবৈধ ছিল। তবে কি তোমরা গ্রন্থের কিছু অংশ বিশ্বাস কর এবং কিছু অংশ অবিশ্বাস কর? সুতরাং তোমাদের মধ্যে যারা এরূপ করে তারা পার্থিব জীবনে দুর্গতি ছাড়া অন্য কিছু পাবে না এবং পুনরুত্থান বা কিয়ামতের দিনে তারা কঠোর শাস্তির দিকে নিক্ষিপ্ত হবে। আর তোমরা যা কিছু করছ আল্লাহ সে সম্পর্কে উদাসীন নন।’’ (২:৮৫)

এ আয়াতে বনী ইসরাইলকে তিরস্কার করে বলা হয়েছে যে, তারা আল্লাহকে দেয়া ওয়াদা ভঙ্গ করে একে অন্যকে হত্যা করেছে এবং তাদেরই একদলকে মাতৃভূমি থেকে বহিষ্কার করেছে। অথচ অদ্ভুত বিষয় হলো, তারা তাওরাত গ্রন্থের বিধান অনুযায়ী বন্দীদের মুক্তি দেয়ার জন্য মুক্তিপণ নেয়। মুক্তিপণ নিয়ে মুক্তি দেয়া যেমন তাওরাতের বিধান তেমনি হত্যা না করা ও কাউকে তার ঘর বাড়ী থেকে তাড়িয়ে না দেয়াও তাওরাতের বিধান। প্রকৃতপক্ষে তোমরা আসমানী গ্রন্থের পরিবর্তে প্রবৃত্তির দাসে পরিণত হয়েছিল। তারা খোদার যেসব বিধানকে নিজেদের রুচি ও ইচ্ছের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ মনে করতো শুধু সেগুলোকেই মান্য করতো, আর নিজেদের মনমত না হলে আল্লাহর বিধানকে অবজ্ঞা করতে।

এই আয়াত অনুযায়ী মানুষের প্রকৃত ঈমানের পরিচয় পাওয়া যায় তার কাজে-যেসব কাজের জন্য আল্লাহই নির্দেশ দিয়েছেন। ঈমানের পরিচয় সে ধরনের কাজে পাওয়া যায় না যেসব কাজ মানুষ তার ব্যক্তিগত স্বার্থ ও পছন্দ অনুযায়ী করে থাকে। কারণ এ ধরনের কাজ আল্লাহর ইবাদত নয় বরং নিজেরই পূজা বা উপাসনা। শুধু পাপ করা নয়, পাপীকে সহযোগিতা করাও নিষিদ্ধ। রাসূল (সা.)-এর আহলে বাইত হযরত ইমাম কাজেম (আ.) একজন মুসলমানকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, আব্বাসীয় খলিফা হারুনুর রশীদের দরবারের জন্য উট ভাড়া দেয়া জায়েজ নয়। যদি তারা হজ্বে যাবার জন্যেও ভাড়া নিতে চায় তবুও উট ভাড়া দেয়া জায়েজ হবে না। কারণ তারা সফর থেকে নিরাপদে ফিরে এসে তোমাকে ভাড়ার অর্থ পরিশোধ করুক এটাই তুমি চাইবে। কিন্তু কোন অত্যাচারী বেশি দিন বেঁচে থাকুক এই কামনা করাও তো পাপ।

এবারে সূরা বাকারা'র ৮৬ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে -

أُولَئِكَ الَّذِينَ اشْتَرَوُا الْحَيَاةَ الدُّنْيَا بِالْآَخِرَةِ فَلَا يُخَفَّفُ عَنْهُمُ الْعَذَابُ وَلَا هُمْ يُنْصَرُونَ (86

‌‌‘‘এরাই পরকালের বিনিময়ে পার্থিব জীবন ক্রয় করেছে। সুতরাং তাদের শাস্তি হ্রাস করা হবে না এবং তারা কোন সাহায্যও পাবে না।’’ (২:৮৬)

এই আয়াতে আল্লাহকে দেয়া ওয়াদা ভঙ্গ করা, হত্যা করা এবং অন্যদেরকে ঘর-বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, বনী ইসরাইলীরা শুধু দুনিয়ার জীবনের পিছনেই ছুটছে এবং শুধু নিজেদের স্বার্থ রক্ষাকারী বিধানগুলোই পালন করছে। কিন্তু আখেরাতের সাথে সম্পর্কিত বিষয়ের প্রতি তারা উদাসীন। এত দুনিয়া পূজা ও পাপ করা সত্ত্বেও ইহুদীরা পরকালে শাস্তি পাবে না বলে দাবি করতো। কিন্তু এই আয়াতে বলা হয়েছে যে,তাদের এই দূরাশার বিপরীতে অন্যান্য পাপীদের মত তারাও তাদের পাপের জন্য শাস্তি ভোগ করবে এবং কেউই তাদের সাহায্য করবে না।

এরপর ৮৭ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে -

وَلَقَدْ آَتَيْنَا مُوسَى الْكِتَابَ وَقَفَّيْنَا مِنْ بَعْدِهِ بِالرُّسُلِ وَآَتَيْنَا عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ الْبَيِّنَاتِ وَأَيَّدْنَاهُ بِرُوحِ الْقُدُسِ أَفَكُلَّمَا جَاءَكُمْ رَسُولٌ بِمَا لَا تَهْوَى أَنْفُسُكُمُ اسْتَكْبَرْتُمْ فَفَرِيقًا كَذَّبْتُمْ وَفَرِيقًا تَقْتُلُونَ (87)

‘‘অবশ্যই আমি মূসাকে কিতাব দিয়েছি। এবং তার পরে পর্যায়ক্রমে রসূল পাঠিয়েছি। আমি মরিয়ম তনয় ঈসাকে সুস্পষ্ট মোজেযা দান করেছি এবং পবিত্র রূহের মাধ্যমে তাকে শক্তিদান করেছি। অতঃপর যখনই কোন রসূল এমন নির্দেশ নিয়ে তোমাদের কাছে এসেছে, যা তোমাদের মনে ভাল লাগেনি, তখনই তোমরা অহংকার করেছ। শেষ পর্যন্ত তোমরা একদলকে মিথ্যাবাদী বলেছ এবং একদলকে হত্যা করেছ।’’ (২: ৮৭)

এ আয়াতে মানুষের পথ প্রদর্শনের জন্য আল্লাহর অবিরাম অনুগ্রহের কথা বলা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে মহান আল্লাহ মূসা (আঃ)এর পর বনী ইসরাইলের কাছে অন্যান্য নবীদের পাঠিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে হযরত ঈসা (আঃ) ছিলেন অন্যতম। কিন্তু ইহুদীরা দুনিয়াপূজা ও আত্মপূজার কারণে নিজেদের অবাধ্যতার চিরাচরিত রীতি অনুসরণের মাধ্যমে ঐসব নবীদের অস্বীকার করেছে, এমনকি তাদের অনেককে শহীদ করেছে। কারণ নবীরা ইহুদীদের অবৈধ দাবি মেনে নিতে রাজি হননি।

আরও পড়ুন


করোনার ভ্যাকসিনকে ‘বৈশ্বিক জনস্বার্থ পণ্য’ ঘোষণার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ই-কমার্স নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ গঠন করবে সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী

চলতি বছরের শেষে ৫জি চালু হবে : সজীব ওয়াজেদ জয়

সিরাজগঞ্জশপের প্রতারণা ফাঁস, সুরক্ষিত ১৮ হাজার ‘নগদ’ গ্রাহকের অর্থ


বাকারা’র ৮৮ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে -

وَقَالُوا قُلُوبُنَا غُلْفٌ بَلْ لَعَنَهُمُ اللَّهُ بِكُفْرِهِمْ فَقَلِيلًا مَا يُؤْمِنُونَ (88)

‘‘তারা (নবীদেরকে) বলেছিল, আমাদের হৃদয় আচ্ছাদিত, (আমরা তোমাদের বক্তব্যের কিছুই বুঝি না)। আসলে তা নয় বরং অবাধ্যতার জন্য আল্লাহ তাদের অভিশাপ দিয়েছেন (আর এ জন্যই তারা বুঝতে পারছে না) এবং তাদের অল্প সংখ্যকই বিশ্বাস করে।’’ (২:৮৮)

দাম্ভিক ও অবাধ্য ইহুদীরা নবীদের আহ্বানের জবাবে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করে বলতো আমরা এসব কথা বুঝি না এবং যা আমরা বুঝতে পারি না তা গ্রহণও করতে পারব না। পবিত্র কোরআন তাদের এই বিদ্রুপের জবাবে বলেছে, নবীদের বক্তব্য জনগণের জন্য দুর্বোধ্য নয়। আসলে গোয়ার্তুমি ও সত্যকে ঢাকা দেয়ার চেতনার কারণেই একদল ইহুদী সত্যকে বুঝতে পারছে না এবং তারা খুব কমই বিশ্বাস করে। নফস বা কুপ্রবৃত্তির অনুসরণের ফলে আত্মপূজার প্রবল চেতনা তাদের চিন্তাধারা ও হৃদয়কে আচ্ছন্ন করে ফেলেছে এবং তারা সত্য ও বাস্তবতাকে পার্থিব বা বৈষয়িক দৃষ্টি দিয়ে দেখে বলে শুধু বাহ্যিক দিকই দেখতে পায়। আর এ জন্যেই তারা ঐশী জ্ঞানকে অগ্রাহ্য করে।

এ আয়াতগুলোর শিক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে -

১. আমাদেরকে আল্লাহর সকল বিধান মেনে নিতে হবে। যেসব বিধান আমাদের পছন্দের বা মনপুত শুধু সেসব মানলেই হবে না। যদি আমরা আল্লাহর বিধান মানার ক্ষেত্রে শুধু পছন্দনীয় বিধানগুলো মানি আর অপছন্দনীয় বিধানগুলো না মানি তাহলে তা হবে আল্লাহর অনুগত্যের পরিবর্তে নিজেদের প্রবৃত্তির অনুসরণ।

২. আমরা যা-ই করি না কেন আল্লাহ যে তা দেখছেন তা আমাদের মনে রাখতে হবে এবং এটা মনে রাখতে হবে যে আমরা আল্লাহর ব্যাপারে উদাসীন হলেও আল্লাহ আমাদের ব্যাপারে কখনো উদাসীন নন। আমরা যা কিছু করছি সে সম্পর্কে আল্লাহ সবই জানেন।

৩. আল্লাহর বিধান অনুযায়ী সকল মানুষ সমান। অনেকে মনে করেন তাদের জাতি সেরা এবং আল্লাহর কাছে বেশী প্রিয়। কিন্তু এ ধারণা সম্পূর্ণ ভ্রান্ত ধারণা। আর এ ধরনের ভুল ধারণার বা দূরাশার জন্য অপরাধীদের শাস্তি মোটেও হ্রাস পাবে না।

৪. আল্লাহ মানুষের মুক্তির জন্য অনেক নবী পাঠিয়েছেন। কিন্তু মানুষ কৃতজ্ঞতার পরিবর্তে নবীদেরকে অস্বীকার করেছে এবং অনেক নবীকে শহীদও করেছে।

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর

দোয়া কুনুত উচ্চারণ ও অনুবাদ

অনলাইন ডেস্ক

দোয়া কুনুত উচ্চারণ ও অনুবাদ

বিতর নামাজের যে দোয়া পড়া হয় তা দোয়া কুনুত হিসেবে পরিচিত। অনেক অর্থসমৃদ্ধ একটি শব্দ কুনুত। এ শব্দ দ্বারা নিরবতা, সালাত, কিয়াম ও ইবাদত ইত্যাদি বুঝায়। এখানে উদ্দশ্য হলো নামাজে দাঁড়ানো অবস্থায় আল্লাহর কাছে দোয়া করা।

মানুষ যখন বিপদ ও মুসিবতে পড়ে তখনই এ দোয়া করে থাকে। বিতরের নামাজের তৃতীয় রাকাআতে সুরা ফাতেহা পড়ে অন্য সুরা মেলানোর পর তাকবিরের মাধ্যমে এ দোয়া পড়তে হয়।

দোয়া কুনুত আরবি :

اَللَّهُمَّ اِنَّ نَسْتَعِيْنُكَ وَنَسْتَغْفِرُكَ وَنُؤْمِنُ بِكَ وَنَتَوَكَّلُ عَلَيْكَ وَنُثْنِىْ عَلَيْكَ الْخَيْرَ وَنَشْكُرُكَ وَلاَ نَكْفُرُكَ وَنَخْلَعُ وَنَتْرُكُ مَنْ يَّفْجُرُكَ-اَللَّهُمَّ اِيَّاكَ نَعْبُدُ وَلَكَ نُصَلِّىْ وَنَسْجُدُ وَاِلَيْكَ نَسْعَى وَنَحْفِدُ وَنَرْجُوْ رَحْمَتَكَ وَنَخْشَى عَذَابَكَ اِنَّ عَذَابَكَ بِالْكُفَّارِ مُلْحِقٌ

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্না নাসতায়িনুকা ওয়া নাসতাগ ফিরুকা, ওয়ানু’মিনু বিকা ওয়া নাতাওয়াক্কালু আলাইকা ওয়া নুছনি আলাইকাল খাইর। ওয়া নাসকুরুকা ওয়ালা নাক ফুরুকা, ওয়ানাখলাউ উয়ানাত রুকু মাইয়্যাফযুরুকা। আল্লাহুম্মা ইয়্যাকানা’বুদু ওয়ালাকা নুছল্লি, ওয়ানাস জুদু ওয়া ইলাইকা নাসয়া; ওয়া নাহফিদু ওয়া নারজু রাহমাতাকা, ওয়া নাখশা আজাবাকা; ইন্না আজাবাকা বিলকুফফারি মুলহিক্।

আরও পড়ুন:


পাঁচ বছরে বাংলাদেশকে ১২০০ কোটি ডলার দেবে এডিবি

লোহাগড়ায় বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার

বিচারের কাঠগড়ায় অং সান সুচি

‘বিসমিল্লাহ’র ফজিলত


অনুবাদ : হে আল্লাহ! আমরা তোমারই সাহায্য চাই। তোমারই নিকট ক্ষমা চাই, তোমারই প্রতি ঈমান রাখি, তোমারই ওপর ভরসা করি এবং সকল মঙ্গল তোমারই দিকে ন্যস্ত করি। আমরা তোমার কৃতজ্ঞ হয়ে চলি, অকৃতজ্ঞ হই না। হে আল্লাহ! আমরা তোমারই দাসত্ব করি, তোমারই জন্য নামাজ পড়ি এবং তোমাকেই সিজদাহ করি। আমরা তোমারই দিকে দৌড়াই ও এগিয়ে চলি। আমরা তোমারই রহমত আশা করি এবং তোমার আযাবকে ভয় করি। আর তোমার আযাবতো কাফেরদের জন্যই র্নিধারিত।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

যেভাবে পড়বেন ইস্তেখারার নামাজ

মাওলানা সাখাওয়াত উল্লাহ

যেভাবে পড়বেন ইস্তেখারার নামাজ

প্রখ্যাত হাদিসবিশারদ ইবনে হাজার (রহ.) লিখেছেন, ইস্তেখারা মানে কোনো বিষয় বাছাই ও নির্বাচন করার ক্ষেত্রে আল্লাহর সাহায্য চাওয়া। উদ্দেশ্য হচ্ছে, যে ব্যক্তিকে দুটি বিষয়ের মধ্যে একটি বিষয় বাছাই করে নিতে হবে, সে যেন উত্তমটি বাছাই করে নিতে পারে। এমন প্রার্থনা করাই হলো ইস্তেখারার মূল উদ্দেশ্য। ইস্তেখারার নামাজের দোয়া জাবের বিন আবদুল্লাহ আল-সুলামি (রা.) বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, রাসুল (সা.) তাঁর সাহাবিদের সব বিষয়ে ইস্তেখারা করার শিক্ষা দিতেন; যেভাবে তিনি তাদের কোরআনের সুরা শিক্ষা দিতেন। তিনি বলতেন, ‘তোমাদের কেউ যখন কোনো কাজের উদ্যোগ নেয়, তখন সে যেন দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ে।

অতঃপর বলে, “আল্লাহুম্মা ইন্নি-আস্তাখিরুকা বি-ইলমিকা ওয়া আস্তাকদিরুকা বি-কুদরাতিকা ওয়া আসআলুকা মিন ফাদলিকাল আজিম, ফা-ইন্নাকা তাকদিরু ওয়ালা আকদিরু, ওয়া তা’লামু ওয়ালা আ’লামু ওয়া আন্তা আল্লামুল গুয়ুব। আল্লাহুম্মা ইনকুন্তা তা’লামু আন্না হাজাল আমরা” (এখানে নিজের কাজের কথা মনে মনে উল্লেখ করবে) খাইরুন লি ফি- দ্বীনী ওয়া মা’আশি ওয়া আক্বিবাতি আমরি (অথবা বলবে : আ-জিলি আমরি ওয়া আজিলিহি) ফাকদিরহু লি, ওয়া ইয়াসসিরহু লি, সুম্মা বা-রিকলি ফিহি, ওয়া ইন কুনতা তা’লামু আন্না হাজাল আমরা (এখানে নিজের কাজের কথা মনে মনে উল্লেখ করবে) শাররুন লি ফি দ্বীনী ওয়া মা’আশি ওয়া আক্বিবাতি আমরি (অথবা বলবে: আ-জিলি আমরি ওয়া আজিলিহি) ফাসরিফহু আন্নি ওয়াসরিফনি আনহু ওয়াকদির লিয়াল খাইরা হাইসু কানা সুম্মা আরদিনি বিহি।” (এর পর নিজের কাজের কথা উল্লেখ করে দোয়া করবে)।

অর্থাৎ হে আল্লাহ, আমি আপনার জ্ঞানের সাহায্যে আপনার কাছে কল্যাণ প্রার্থনা করছি। আমি আপনার শক্তির সাহায্যে শক্তি ও আপনার অনুগ্রহ প্রার্থনা করছি। কেননা আপনিই ক্ষমতাবান; আমি ক্ষমতা রাখি না। আপনি জ্ঞান রাখেন, আমার জ্ঞান নেই এবং আপনি অদৃশ্য বিষয়ে সম্পূর্ণ পরিজ্ঞাত।

হে আল্লাহ, আপনার জ্ঞানে আমার এ কাজ (এখানে নিজের প্রয়োজনের নাম উল্লেখ করবে অথবা মনে মনে স্মরণ করবে) আমার বর্তমান ও ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য (কিংবা বলবে আমার দ্বীনদারি, জীবন-জীবিকা ও কর্মের পরিণামে) কল্যাণকর হলে, আপনি তা আমার জন্য নির্ধারণ করে দিন। সেটা আমার জন্য সহজ করে দিন এবং তাতে বরকত দিন।

হে আল্লাহ, আর যদি আপনার জ্ঞানে আমার এ কাজ আমার দ্বীনদারি, জীবন-জীবিকা ও কর্মের পরিণামে (কিংবা বলবে, আমার বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্য) অকল্যাণকর হয়, তবে আপনি আমাকে তা থেকে ফিরিয়ে দিন এবং সেটাকেও আমার থেকে ফিরিয়ে রাখুন। আমার জন্য সর্বক্ষেত্রে কল্যাণ নির্ধারণ করে রাখুন এবং আমাকে সেটার প্রতি সন্তুষ্ট করে দিন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬৮৪১, তিরমিজি, হাদিস : ৬৪৮)

রও পড়ুন:

যশ-নুসরাতকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন নিখিল!

ব্রিটিশ রাজকুমারী বিট্রিস ও মোজ্জির ঘরে এল কন্যা সন্তান

রাজ্য সভাপতির পদ হারালেন দিলীপ ঘোষ

শেষ মুহুর্তের গোলে মান বাঁচালো বার্সেলোনা


ইবনে আবু জামরা (রহ.) বলেন, ইস্তিখারা শুধু ‘মুবাহ’ (করলে অসুবিধা নেই) বিষয়ের ক্ষেত্রে এবং এমন মুস্তাহাবের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ, যে মুস্তাহাব অন্য একটি মুস্তাহাবের সঙ্গে সাংঘর্ষিক; সুতরাং দুইটির কোনটি আগে পালন করবে কিংবা কোনটি বাদ দিয়ে কোনটি পালন করবে সে ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

ইস্তেখারার মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর কাছে কল্যাণের প্রার্থনা করে। অনেকে মনে করে, স্বপ্ন দেখলেই ইস্তেখারা পূর্ণ হবে। আসলে ইস্তেখারার জন্য স্বপ্ন দেখা জরুরি নয়। মনের ধাবমান হওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।

news24bd.tv রিমু  

পরবর্তী খবর