মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর, ২০১৯ | আপডেট ২৪ মিনিট আগে

যে সুবিধা দেবে বঙ্গবন্ধু-১

নিউজ টোয়েন্টিফোর ডেস্ক

যে সুবিধা দেবে বঙ্গবন্ধু-১

দেশের প্রথম ও পূর্ণাঙ্গ স্যাটেলাইট ‘বঙ্গবন্ধু-১’ উৎক্ষেপণের পর নিজ কক্ষপথে পরিচালিত হওয়ার পর সম্প্রচার যোগাযোগে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। প্রত্যন্ত এলাকায় ইন্টারনেট সেবা বিস্তৃত করতেও এর ভূমিকা থাকবে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

আকাশে বালাদেশের স্যাটেলাইটটির ফলে টেলিভিশন সম্প্রচার পদ্ধতি আরও সহজ হবে। পাশাপাশি খরচও কমবে। ফলে খরচ কমবে বেসরকারি টেলিভিশনগুলোর। আবার বিদেশি স্যাটেলাইট ভাড়া নিতে হয় বলে যে বিদেশি মুদ্রা দেশের বাইরে চলে যায়, সেটিও আর যাবে না।

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা থেকে আজ স্থানীয় সময় বিকাল ৪.১২ থেকে ৬.২২ টা এর মধ্যে মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হবে স্যাটেলাইটটি। এটি বাংলাদেশ সময় ১১ মে ভোর ২.১২ টা থেকে ৪.২২ টা। উৎক্ষেপণ বিটিভিসহ বিভিন্ন চ্যানেল সরাসরি সম্প্রচার করবে।

৩ দশমিক ৭০ টন ওজনের স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করছে যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ফ্যালকন এক্স।

স্যাটেলাইট উৎক্ষেপিত হলে নিজস্ব স্যাটেলাইটের অধিকারী বিশ্বের ৫৭ তম দেশ হিসেবে বাংলাদেশের আত্মপ্রকাশ ঘটবে।

২০১৫ সালের ২১ অক্টোবর সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এই ‘স্যাটেলাইট সিস্টেম’কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। এরপর প্রায় দুই হাজার কোটি টাকায় এটি কিনতে থালেসের সঙ্গে চুক্তি করে বিটিআরসি।

সরকার আশা করছে, এ উপগ্রহ উৎক্ষেপণের পর বিদেশি স্যাটেলাইটের ভাড়া বাবদ বছরে ১৪ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ১১৩ কোটি টাকা) সাশ্রয় হবে বাংলাদেশের।

এটি থেকে বিদেশি মুদ্রাও আসবে। স্যাটেলাইটে ৪০টি ট্রান্সপন্ডার থাকবে, যার ২০টি বাংলাদেশের ব্যবহারের জন্য রাখা হবে। বাকিগুলো ভাড়া দেয়া হবে।

স্যাটেলাইটির নিয়ন্ত্রণ ও তদারক করার জন্য গাজীপুর জেলার জয়দেবপুর ও রাঙ্গামাটির বেতবুনিয়ায় গ্রাউন্ড স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে।

এই স্যাটেলাইট কী পরিবর্তন আনবে-এ নিয়ে এরই মধ্যে শুরু হয়েছে আলোচনা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর কারিগরি যে সুবিধা পাওয়া যাবে, তার বাইরেও এটি বাংলাদেশের জন্য বিশেষ সম্মানের। সেই সঙ্গে এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এই বিষয়ে জ্ঞানার্জনে উৎসাহী করবে।

মহাকাশ বিজ্ঞান ও নাসার বিভিন্ন আবিষ্কার নিয়ে কাজ করা স্পেস অ্যাপস বাংলাদেশের প্রধান আরিফুল হাসান অপু ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘এই স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের মাধ্যমে আমরা এক নতুন যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছি।’

‘স্যাটেলাইটটির গ্রাউন্ড স্টেশন যেহেতু বাংলাদেশেই তাই এটিকে নিয়ন্ত্রণ করাও সহজ হবে। এই স্যাটেলাইটকে কেন্দ্র করে আমাদের দেশের শিক্ষার্থীরা মহাকাশ বিজ্ঞান শিক্ষায় উৎসাহী হবে। যার ফলশ্রুতিতে ভবিষ্যতে মহাকাশে এই ধরনের আরও স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ সহজতর।’

ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ন্যানো স্যাটেলাইট ‘ব্র্যাক অন্বেষা’র সহ-উদ্যোক্তা আবদুল্লা হিল কাফি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটটি মহাকাশে উৎক্ষেপণের পর আমরা প্রধান তিনটি সুবিধা পাব। এর প্রথমটা হলো, ডাইরেক্ট টু হোম(ডিটিএইচ) সুবিধা। এই ডিটিএইচ সুবিধার আওতায় ডিশ অ্যান্টেনার মাধ্যমে তার ছাড়াই ঘরে বসে স্যাটেলাইট টেলিভিশন দেখা যাবে।’

‘এর বড় সুবিধাটা পাবে টেলিভিশন চ্যানেলগুলো ব্রডকাস্টিং করার ক্ষেত্রে। এখন দেশি টেলিভিশন চ্যানেলগুলো বিদেশি স্যাটেলাইটের ব্যান্ড ব্যবহার করছে। এতে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে চলে যাচ্ছে। কিন্তু আমাদের চালু হলো টেলিভিশন চ্যানেলগুলো তাদের অনুষ্ঠান সম্পচার করার ক্ষেত্রে খরচ অনেকটাই কমে যাবে। একই ভাবে তারা যখন কোনো একটি স্পট থেকে দর্শকদের জন্য সরাসরি কোনো অনুষ্ঠান, ঘটনা সম্প্রচার করে ক্ষেত্রেও সহায়তা করবে এই স্যাটেলাইট। যেহেতু বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ‘সি’ ব্যান্ড ‘কেইউ’ ব্যান্ডের তাই টেলিভিশন সম্প্রচার আরো সহজতর হবে।’

‘স্যাটেলাইটের মাধ্যমে আমরা ইন্টারনেট সেবাটাও পেতে পারব। বিশেষ করে প্রত্যন্ত এলাকায় স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ইন্টারনেট পরিষেবা বিস্তৃত করা যাবে।’

‘ধরুন বান্দরবানে আমরা ব্রডব্যান্ড কেবলের মাধ্যমে ইন্টারনেট পরিষেবা দিতে পারছি না। সেক্ষেত্রে পাহাড়ি এলাকায় যদি স্যাটেলাইট রিসিভার থাকে তবে আমাদের স্যাটেলাইট থেকে ইন্টারনেট রিসিভ করে ওই এলাকায় বিস্তৃত করতে পারব।’


(নিউজ টোয়েন্টিফোর/তৌহিদ)

মন্তব্য