বাগদাদ মধ্যযুগীয় বিশ্বের বৃহত্তম নগরকেন্দ্র!

শান্তা আনোয়ার

বাগদাদ মধ্যযুগীয় বিশ্বের বৃহত্তম নগরকেন্দ্র!

৭৬২ খিস্টাব্দের ৩০ জুলাই আব্বাসিয় খলিফা আল মনসুর টাইগ্রিস নদির পশ্চিম পারে বাগদাদ নগরী প্রতিষ্ঠা করেন। বাগদাদ  দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে মধ্যযুগীয় বিশ্বের বৃহত্তম নগরকেন্দ্র হয়ে ওঠে এবং একটি অর্থনৈতিক ও বৌদ্ধিক কেন্দ্রে পরিণত হয়।

এই শহরটিতে ছিল অসংখ্য বইয়ের দোকান এবং পাবলিক লাইব্রেরি যেখান থেকে তৈরি হয়েছিল এক বুদ্ধিবৃত্তিক সমাজ ফলে বাগদাদ জ্ঞানের সন্ধানকারী সকল শিক্ষার্থীদের একটি গন্তব্য হয়ে উঠেছিল।

নতুন আব্বাসীয় শহরটির আনুষ্ঠানিক নামকরণ করা হয়েছিল মদিনাত আল-সালাম। এই নামটিই পরবর্তীকালে শহরের সমস্ত সরকারী রেফারেন্সে প্রকাশিত হয়েছিল, মুদ্রার শিলালিপি থেকে শুরু করে রাজকীয় কারখানায় বোনা কাপড়ের লেখাগুলিতে  পর্যন্ত এই নাম ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে কোন এক অজানা কারণে বাগদাদ নামটি জনপ্রিয় হয়ে যায়।

একাদশ শতাব্দীর খতিব আল-বাগদাদী বাগদাদকে ঘিরেই তাঁর বিস্ময়ের অনুভূতিটিকে দারুণভাবে বর্ণনা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন: “সমগ্র বিশ্বে এমন কোন শহর নেই যার সাথে বাগদাদের আকার ও জাঁকজমকের তুলনা করা যেতে পারে। শুধু তাই নয়, আপনি এই শহরে বিদ্বানদের সংখ্যা বা মহান ব্যক্তিত্ব, নগরের অসংখ্য রাস্তা, বাজার, লেন, মসজিদ, স্নানাগার এবং দোকানগুলি বিবেচনা করুন - এসবই অন্য শহর থেকে বাগদাদ শহরকে আলাদা করে দেয়  ""

সেই সময়, বাগদাদ হাউজ অফ উইজডম সহ বিশ্বের বৃহত্তম একাডেমিক প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছিল এবং 'সেন্টার অফ লার্নিং' হিসাবে বিশ্বব্যাপী খ্যাতি অর্জন করেছিল। 

হিউ কেনেডির মতে, বাগদাদে নতুন রাজধানী স্থাপনের জন্য বেশ কয়েকটি কারণ ছিল। এগুলির মধ্যে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ কারণ ছিল সুরক্ষা। সুরক্ষাকে কেবল দুর্গ-প্রাসাদ নির্মাণের মাধ্যমে নিশ্চিত করা যায়। 

দ্বিতীয়ত, এই অঞ্চলটিতে ইসলামিক ও প্রাক-ইসলামী বহু রাজবংশের পরিচয় ও প্রতিপত্তি প্রদর্শনের জন্য নতুন রাজধানী নির্মানের খায়েশ ছিল। আব্বাসীয়দেরও এমন একটি জায়গার দরকার ছিল যেখানে তারা তাদের সরকার এবং আমলাতন্ত্রের কেন্দ্র হিসেবে কাজ করতে পারে।

নতুন রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রটি ছিল রাউন্ড সিটি যেখানে প্রাসাদ, প্রধান মসজিদ এবং কিছু প্রশাসনিক ভবন এবং সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার ছিল। রাজ প্রাসাদ এবং মসজিদটি একসাথে কেন্দ্রীয় উদ্যানের মাঝখানে ছিল এবং প্রাসাদটিতে ছিল একটি সবুজ গম্বুজ যা এই ছবির শেষ প্রান্তে দেখা যাচ্ছে।

বাইতুল হিকমাহ ছিল আব্বাসীয় আমলে ইরাকের বাগদাদে প্রতিষ্ঠিত একটি গ্রন্থাগার, অনুবাদকেন্দ্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এটিকে ইসলামি স্বর্ণযুগের একটি প্রধান বুদ্ধিবৃত্তিক কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। মোঙ্গলদের বাগদাদ অবরোধের সময় শহরের পতন হলে এই গ্রন্থাগারটিও ধ্বংস হয়ে যায়।

আরও পড়ুন:


জলাবদ্ধতার সাথে মশা, ব্যাঙ বিষাক্ত প্রাণীর সাথে বসবাস

দক্ষিণের পথে পথে ঢাকামুখি মানুষের স্রোত

বগুড়ায় করোনা ও উপসর্গে ৯ জনের মৃত্যু

বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর ১২ দিন পর চালু


news24bd.tv / কামরুল 

পরবর্তী খবর

ভুবন চিল নামেই বেশি পরিচিত, পৃথিবী জুড়েই এদের বসবাস

আব্দুল লতিফ লিটু, ঠাকুরগাঁও

ভুবন চিল নামেই বেশি পরিচিত, পৃথিবী জুড়েই এদের বসবাস

ছবি: রেজাউল হাফিজ রাহী, ছবিটি তোলা হয়েছে মহিপুরব্রীজ, গংগাচড়া, রংপুর

চিল নামেই এই পাখিকে আমরা চিনি তবে এই পাখির আরো কিছু বাংলা নাম আছে যেমন, ভুবন চিল, বাদামি চিল, গোদা চিল, ডোম চিল, চিলা। আর এই পাখিকে ইংরেজিতে বলা হয় ব্লাক কাইট/Black Kite এবং বৈজ্ঞানিক নাম Milvus migrans

অনেক উপরে আকাশে কোন পাখি উড়তে দেখলেই আমরা ভাবি এটা চিল। তবে এই চিল পাখির অনেক প্রজাতি আছে আমাদের দেশে। শুধু দুই মেরু আর দুই আমেরিকা মহাদেশ বাদে প্রায় পুরো পৃথিবী জুড়ে এদের দেখা পাওয়া যায়।

তবে বিগত কয়েক বছরে এই চিল এর সংখ্যা কি হারে কমছে বা বাড়ছে সে সম্পর্কে তেমন কিছু জানা যায়নি। এখনো এরা সন্তোষজনক সংখ্যায় রয়েছে। সে কারণে আইইউসিএন এই প্রজাতিটিকে নূন্যতম বিপদগ্রস্থ বলে ঘোষণা করেছে। পৃথিবীতে মোট ভুবন চিলের সংখ্যা আনুমানিক ১০ লক্ষ থেকে ৬০ লক্ষটি বলে বার্ডলাইফ ইন্টারন্যাশনাল উল্লেখ করেছে।

খোলা বিস্তীর্ণ এলাকা ভুবন চিলের প্রিয় এলাকা। এছাড়া ঘন বন, পাতলা বন, পার্বত্য অঞ্চল, নদীর পাড়, বেলাভূমি, বন প্রান্ত, ঘাসবন, সাভানা প্রভৃতি অঞ্চলে দেখা যায় এদেরকে। মাঝে মাঝে বড় বড় বন্দর, শহরাঞ্চল ও গ্রামাঞ্চলেও দেখা যায়। Govinda উপ-প্রজাতিটি নগর এলাকায় বেশি দেখা যায়। lineatus উপ-প্রজাতি আর্দ্র ও জনহীন এলাকায় ঘুরে বেড়ায়। বড় বড় গাছে এরা দলবদ্ধভাবে রাত কাটায়। ভোরে সূর্য উঠলে এরা দল বেঁধে আকাশে ওড়ে আর অনেক্ষণ ঝাঁক বেঁধে চক্রাকারে উড়ে বেড়ায়। তারপর খাদ্যের সন্ধানে বিভক্ত হয়ে যায়। সন্ধ্যা বেলায় এরা তাদের আবাসে ফিরে আসে এবং পুনরায় ভোর বেলার মত চক্রাকারে কিছুক্ষণ ওড়ে। তারপর গাছে এসে বসে পড়ে।

শীতে বিপুলসংখ্যক পরিযায়ী ভুবন চিল এসে বাংলাদেশে আবাসিক পাখির দলে যোগ দেয়। ভুবন চিল সুযোগসন্ধানী খাদক। এর খাদ্যতালিকা বেশ বিশাল। এর খাদ্যতালিকা স্থানীয় খাদ্যের যোগানের উপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। পানির আশেপাশে আবাস হলে মাছই এদের প্রধান শিকার হয়। অনেকসময় এরা মৃত বা রুগ্ন মাছও খায়। আহত, মৃত বা অপ্রাপ্তবয়স্ক পাখি, স্থন্যপায়ী, ব্যাঙ, সরিসৃপ ও পোকামাকড়ও খায়। অন্য ভুবন চিল, পাখি বা প্রাণীর কাছ থেকে এরা খাবার ছিনিয়ে খায়। গ্রামে হাঁস-মুরগির ছানা ছিনতাই করতে এরা ওস্তাদ। বর্জ্যভূক পাখি হিসেবে কসাইখানা, বর্জ্যস্থুপ, ময়লাপোঁতা, মাছবাজার ও পোতাশ্রয়ে ওরা উচ্ছিষ্ট ও বর্জ্য খায়। প্রায়ই শকুনের সাথে মিলে উচ্ছিষ্ট বা পশুর মৃতদেহ খায়।

খাদ্যের সন্ধানে এরা আকাশে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অলস ভঙ্গিমায় চক্কর কেটে বেড়ায়। এরা খুব কমই ডানা ঝাপটায়। ডানার তুলনায় শরীর হালকা হওয়ায় এরা অনেক্ষণ ডানা না ঝাপটে ভেসে বেড়াতে পারে। নৌকার হালের মতো লেজ ব্যবহার করে ঝটপট দিক বদল করতে পারে। উড়তে পারে বাতাসের প্রতিক‚লেও। খাদ্যের সন্ধান পেলে এরা ডানা গুটিয়ে ফেলে ও ঝাঁপ দিয়ে শিকার ধরে।

আরও পড়ুন


রাজধানীর মুগদা হাসপাতালের আগুন নিয়ন্ত্রণে

একটি অশুভ মহল জনগণকে বিভ্রান্ত করতে গুজব ছড়াচ্ছে: ওবায়দুল কাদের

মাদককাণ্ড: শাহরুখ খানের বাড়ি ‘মান্নাতে’ এনসিবি’র অভিযান

আপত্তিকর অবস্থায় প্রেমিকার সঙ্গে ধরা শিক্ষক, প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে বিয়ে


মার্চ থেকে মে ভুবন চিলের প্রধান প্রজনন ঋতু। এ সময় পুরুষ চিল আকাশে চক্রাকারে উড়তে থাকে এবং হঠাৎ ঝাঁপ দিয়ে ডালে বসে থাকা স্ত্রী চিলের পিঠে এসে নামে। স্থানভেদে প্রজনন মৌসুমে বিভিন্নতা দেখা যায়।

উঁচু গাছে কাঠি, ডালপালা ও কাঠি দিয়ে এলোমেলো মাচার মত বাসা বানায়। উঁচু দালানে পানির ট্যাঙ্কেও বাসা করতে পারে। বাসায় নষ্ট কাগজ, পাখির পালক, ছেঁড়া কাপড়, শুকনো গোবর, কাদা, উজ্জ্বল প্লাস্টিকের বস্তুও থাকে। বাসার উচ্চতা ভূমি থেকে ৫ মিটার থেকে ৩০ মিটার পর্যন্ত হয়। বাসা বানানো হয়ে গেলে ২-৪টি ডিম পাড়ে। ডিমের রঙ পাটল-সাদা। ডিমের মাপ ৫.৩ দ্ধ ৪.৩ সেন্টিমিটার। ৩০ থেকে ৩৪ দিনে ডিম ফুটে ছানা বের হয়। ছানারা প্রায় দুই মাস বাসায় থাকে। স্ত্রী ও পুরুষ উভয় চিলই বাসা বানায়, ডিমে তা দেয় ও সন্তান লালন-পালনের ভার নেয়। দুই বছর বয়সে ছানারা প্রজননক্ষম হয়।

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর

হারিয়ে যাচ্ছে ডেড সী, সাগরতীরে ২০০ নারী-পুরুষের নগ্ন ফটোশ্যুট (ভিডিও)

অনলাইন ডেস্ক

হারিয়ে যাচ্ছে ডেড সী, সাগরতীরে ২০০ নারী-পুরুষের নগ্ন ফটোশ্যুট (ভিডিও)

নাটকীয়ভাবে ইসরাইলের মৃত সাগরের (Dead Sea) উপকূল হারিয়ে যেতে থাকায় সচেতনতা সৃষ্টিতে একটি নগ্ন ফটোশ্যুটে প্রায় ২০০ জন অংশ নিয়েছেন। মার্কিন ফটোগ্রাফার স্পেন্সার টিউনিকের একটি প্রকল্পের অংশ হিসেবে এ ফটোশ্যুটে অংশ নেন তারা। খবর বিবিসির।

স্পেন্সার টিউনিক পরিবেশগত পরিবর্তনকে তুলে ধরার জন্য বিশ্বব্যাপী বেশ পরিচিত একজন ফটোগ্রাফার। জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে জড়িত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করেন স্পেন্সার। বিশেষ করে চলমান পরিবেশগত সমস্যা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে চান বলে বিবিসিকে জানান তিনি।

তিনি বলেন, "২০১১ সালে ডেড সীতেই আমার প্রথম কাজটা করি। মিনারেল বিচ নামে যে উপকূলে আমি কাজটা করেছিলাম সেটি এখন আর নেই। এটি বিশালাকার সিঙ্কহোলের (sinkhole) কারণে ধ্বংস হয়ে গেছে। সিঙ্কহোলগুলো বাস্কেটবল কোর্টের মতো বড়। এটা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।"

ডেড সী পৃথিবীর সবচেয়ে নিচু জায়গায় অবস্থিত। এর উপকূলে রয়েছে জর্ডান, ইসরাইল ও এর অধিকৃত পশ্চিম তীর।

স্পেন্সার বলেন, ডেড সী হারিয়ে যাওয়ার বিষয়টি একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং এটা খুবই দ্রুত ঘটছে। 

ফটোশ্যুটে অংশগ্রহণকারী ২০০ জনের শরীরে সাদা রঙ করা হয়। এগুলো ডেড সীতে অবস্থিত সামুদ্রিক লবণের কলামের মতো করে আঁকা হয়েছে।

তিনি বলেন, নগ্ন ব্যক্তি খুবই শক্তিশালী একটি সত্তা। এটি মানুষের দুর্বলতা ও ভঙ্গুরতাকে প্রকাশ করে। এটি একটি শক্তিশালী বার্তা দিতে পারে। আমরা পরিবেশ থেকে শুরু করে রোগ, সুপেয় পানি সবকিছুর দ্বারাই প্রভাবিত।

আরও পড়ুন:

মেয়াদ-বেতন দুটোই বাড়ছে টাইগার কোচ রাসেল ডমিঙ্গোর

পরের দুই ম্যাচ জিতলেও মূল পর্ব অনিশ্চিত টাইগারদের

নবীর ভবিষ্যদ্বাণী, বৃষ্টির মতো বিপদ নেমে আসবে

ডেলিভারি বয় থেকে বিশ্বকাপে অঘটনের নায়ক


তবে এই ফটোশ্যুটে স্থানীয় ইহুদী জনগোষ্ঠীর কিছু ব্যক্তি আপত্তি জানায়। এর আগেই স্পেন্সার ছবি তুলতে গিয়ে এমন আপত্তির মুখে পড়েছিলেন। এমনকি তার চিত্রকর্ম নিষিদ্ধের দাবিতে আদালতে বিল উত্থাপন করা হয়।

এর জবাবে তিনি বিবিসিকে বলেন, আমাকে থামানোর জন্য বিল উত্থাপন করা হয়েছে। এটা আমার জন্য একটি সম্মান। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি এমন একটি বিল থাকা উচিত যেখানে আমার কাজে অংশ নেয়ার জন্য আপনাকে জীবনে অন্তত একবার নগ্ন হওয়া প্রয়োজন।

news24bd.tv/ নকিব

পরবর্তী খবর

বিলুপ্তপ্রায় মাছ সংরক্ষণে কাজ করছে অ্যাকুয়াটিক বায়োডায়ভার্সিটি মিউজিয়াম

রিপন হোসেন

সহজেই মাছের সঙ্গে পরিচিতি, বিলুপ্ত ও বিলুপ্তপ্রায় সব স্বাদু পানির মাছ ও সামুদ্রিক মাছ এবং অন্যান্য জলজ প্রাণি সংরক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও গবেষণা উন্নয়নে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে  তৈরি করা হয়েছে ‘অ্যাকুয়াটিক বায়োডায়ভার্সিটি মিউজিয়াম’। 

কর্তৃপক্ষ বলছেন, মিউজিয়ামটির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়সহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ও দর্শনার্থীরা খুব সহজেই সহজেই বিচিত্র সব মাছের সঙ্গে পরিচিত হতে পারবে। 

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে এ ধরণের কোনো মিউজিয়াম নেই । মাছ সংরক্ষণের জন্য ফরমালিন, ইথানল, রেজিনসহ কয়েকটি রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে ফরমালিন কম মূল্যের হলেও ইথানল ও রেজিনে মাছের নমুনা সংরক্ষণ করা তুলনামূলক ব্যয়বহুল। এমন মিউজিয়াম পেয়ে খুশি শিক্ষক-শিক্ষার্থী

পূজা বৈদ্য, সহকারী অধ্যাপক, ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন বায়োসায়েন্স যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় 

বাংলাদেশে প্রায় ৩০০ প্রজাতির স্বাদু পানির মাছ ও ৪৭৫ প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ পাওয়া যায়। কিন্তু বাস্তবে একশয়ের বেশির দেখা মেলে না। দেশীয় বহু  প্রজাতির মাছ এরই মধ্যে হারিয়ে গেছে। আর অনেকগুলো এখন বিলুপ্তির পথে। 

প্রায় ১০ শতাংশ মাছ প্রতি বছর হারিয়ে যাচ্ছে। মিউজিয়ামে সংগৃহীত নমুনা মাছের তথ্য হতে মাছের বিলুপ্তিরোধে সচেতনতা তৈরি এবং পূর্বে বিলুপ্ত বা বিলুপ্তপ্রায় মাছের প্রজাতির পরিসংখ্যান জানা সম্ভব হবে।

আরও পড়ুন:


ইভ্যালিকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব: বিচারপতি মানিক

করোনা: দেশে ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু কমলেও বেড়েছে শনাক্ত

প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় কলেজছাত্রকে অপহরণ করে বিয়ে করলো তরুণী!

ডিএমপি কমিশনার ও র‍্যাব ডিজি’র পদোন্নতি


মিউজিয়ামটির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়সহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ও দর্শনার্থীরা খুব সহজেই সহজেই বিচিত্র সব মাছের সঙ্গে পরিচিত হতে পারবে।

অ্যাকুয়াটিক বায়োডায়ভার্সিটি মিউজিয়ামে বর্তমানে স্বাদু পানি ও সামুদ্রিক পানির মোট ২৫০ প্রজাতির মাছ সংরক্ষিত রয়েছে এবং মাছের অন্যান্য প্রজাতি সংগ্রহের কাজ চলমান রয়েছে।

news24bd.tv/ কামরুল 

পরবর্তী খবর

রাঙামাটির সড়ক যোগাযোগের উন্নতি হওয়ায় আমূল পরিবর্তন

ফাতেমা জান্নাত মুমু:

রাঙামাটির রাজস্থলীর গাইন্দ্যা ইউনিয়নের সড়ক উন্নয়নের ফলে উন্নতির ছোঁয়া লেগেছে পাহাড়বাসীর জীবনে। জুম চাষীদের জীবনেও এসেছে পরিবর্তন। এ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা বিদ্যালয়মুখী করেছে ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠীদেরও। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে এ সড়ক উন্নয়ন করেছে রাঙামাটি জেলা পরিষদ।

রাঙামাটির দুর্গম উপজেলা রাজস্থলী। এ উপজেলার গাইন্দ্যা ইউনিয়নে ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠীদের একটি অংশের বাস পাইন্দং, শ্মশানঘাট, তুরগুপাড়া, ইসলামপুর, বালুমুড়া, কেচি পাড়া ও কমলছড়ি পাড়ায়। কিন্তু সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা নাজুক থাকায় ভোগান্তির কমতি ছিলনা এ অঞ্চলের মানুষের। 
সম্প্রতি এ অঞ্চলে সড়ক যোগাযোগের উন্নতি হওয়ায় আমূল পরিবর্তন এসেছে এখানের পাহাড়ে বাস করা মানুষের জীবনে। 

আরও পড়ুন:


শেরপুরে শিশু ধর্ষণ মামলায় একজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

টানা পাঁচ দিন ছুটির ফাঁদে ভোমরা স্থলবন্দর

অনলাইনে চালু হচ্ছে বিয়ে-তালাক নিবন্ধন!

আবারও ফেরি চলাচল বন্ধ


৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে এ সড়ক উন্নয়নে এখন পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে মাত্র ২৫শতাংশ।  ২০১৯-২০ অর্থবছরে শুরু হওয়া এ সড়কটির উন্নয়নের কাজ শেষ হলে এর সুফল ভোগ করবে স্থানীয়রা, দাবি  জেলা পরিষদের।

পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের জীবন মান্নোয়নের জন্য সড়ক উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে জেলা পরিষদ।
তাদের মতে, রাজস্থলীর পাশাপাশি রাঙামাটির অন্যান্য দুর্গম উপজেলাগুলোর সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন করা হলে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধশালী হয়ে উঠতো পাহাড়ে বসবাসরত মানুষেরা। 

news24bd.tv/ কামরুল 

পরবর্তী খবর

নগ্ন শরীরে পাথরের ঘরে বিচিত্র স্নান চিকিৎসা

অনলাইন ডেস্ক

নগ্ন শরীরে পাথরের ঘরে বিচিত্র স্নান চিকিৎসা

উনিশ শতক পর্যন্ত পশ্চিম আয়ারল্যান্ডে চালু ছিলো এক অদ্ভুত চিকিৎসাব্যবস্থা। মানুষজন অসুস্থ হলে গায়ের জামাকাপড় খুলে ইগলুর মত দেখতে পাথরের ঘরের মধ্যে গিয়ে চুপচাপ বসে থাকতো। ঘরগুলো ছিলো কোন জলাশয় বা পাশ দিয়েই পানি প্রবাহিত হচ্ছে এমন কোন জায়গায়। ফলে বদ্ধ জায়গায় শব্দহীন এক ছোট্ট অন্ধকার ঘরে আক্ষরিকভাবেই তারা ঘেমে-নেয়ে উঠতো!

এই চিকিৎসা নিতে যেয়ে অনেকেই মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়তো, কেউবা আবার হ্যালুসিনেশনেরও শিকার হতো। দেশটিতে '১৬ থেকে '১৯ শতক পর্যন্ত প্রায় তিনশ' বছর এই চিকিৎসা পদ্ধতি চালু ছিল। সম্প্রতি হারিয়ে যাওয়া এই ঘরগুলোকে আবার কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে এবার আর চিকিৎসার জন্য নয়, একে বিশ্বব্যাপী টুরিস্টদের আকর্ষণের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে তোলার জন্য।

এক প্রতিবেদনে প্রত্নতত্ত্ববিদ এইডেন হারটে পাথরের ঘরগুলোতে এই বিচিত্র চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে বিবিসিকে বলেন, অনেকেই মনে করে এই পদ্ধতিতে রোগের চেয়ে রোগের চিকিৎসা বেশি মারাত্মক ছিলো। 

চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে হারটে বলেন, স্নানাগারগুলোতে প্রবেশের জন্য উপরে ছোট একটি রাস্তা থাকতো। রোগী ভেতরে ঢুকলে পাথর চাপা দিয়ে রাস্তাটি বন্ধ করে দেয়া হতো। কয়েক ঘণ্টা পর এর ভেতরে ধোঁয়া প্রবেশ করানো হতো। এর ফলে ভেতরে থাকা রোগী গরমে পুরো ঘেমে উঠতো। অনেক সময় সে সহ্য করতে না পেরে চিৎকার করে ও হামাগুড়ি দিয়ে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করতো। 

রোগী যতক্ষণ সহ্য করতে পারতো, ততোক্ষণ চলতো এই চিকিৎসা ব্যবস্থা। এরপর সেখান থেকে বের করে তাকে পাশের ঝর্না বা প্রস্রবণ থেকে শরীর ঠান্ডা ও পরিষ্কার করানো হতো। 

তবে কখনো কখনো এই চিকিৎসায় কাজ হতো। আয়ারল্যান্ডের ম্যায়নুথ ইউনিভার্সিটির একজন বিশেষজ্ঞ ড. রোনান ফলি অবশ্য এটাকে 'প্লাসিবো ইফেক্ট' বলে মনে করেন।

আরও পড়ুন:

পরকীয়ার জেরে শ্যালিকার বিয়ে ভাঙলেন দুলাভাই, আপত্তিকর ছবি!

গাঁজা সেবনে অভ্যস্তদের করোনায় মৃত্যুঝুঁকি বেশি: গবেষণা

অবশেষে যশের সঙ্গে বিয়ের কথা স্বীকার করলেন নুসরাত!

পল্লবী থেকে উধাও হওয়া সেই ৩ বান্ধবীকে দেওয়া হল পরিবারের জিম্মায়


দেশটির লেইট্রিম কাউন্টি কাউন্সিল হেরিটেজ অফিসার সারা ম্যালোনি জানান, ১৬০০ থেকে ১৯০০ সাল পর্যন্ত আয়ারল্যান্ডের প্রান্তিক অঞ্চলে পাথরের এমন অসংখ্য স্নানাগার দেখতে পাওয়া যায়। শুধুমাত্র লেইট্রিম অঞ্চলেই ১০০-এর বেশি স্নানাগার রয়েছে। আর প্রায় লন্ডনের সমান আয়তনের এই রাজ্যটির জনসংখ্যা মাত্র ৩৫ হাজার।

news24bd.tv/ নকিব

পরবর্তী খবর