সূরা বাকারা: আয়াত ১১-১৩, নিফাক বা কপটতা

অনলাইন ডেস্ক

সূরা বাকারা: আয়াত ১১-১৩, নিফাক বা কপটতা

পবিত্র কুরআনের গুরুত্বপূর্ণ সূরা আল-বাকারা আলোচনার আজকের পর্বে ১১ থেকে ১৩ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যা তুলে ধরা হবে। এই সূরার ১১ ও ১২ আয়াতে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেছেন -

وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ لَا تُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ قَالُوا إِنَّمَا نَحْنُ مُصْلِحُونَ (11) أَلَا إِنَّهُمْ هُمُ الْمُفْسِدُونَ وَلَكِنْ لَا يَشْعُرُونَ (12
‘‘তাদেরকে (মুনাফিকদেরকে) যখন বলা হয়-পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টি করো না, তখন তারা বলে আমরা তো কেবল সংস্কার সাধনকারী।’’ (২:১১) 

‘‘জেনে রাখ এরাই অশান্তি সৃষ্টিকারী। কিন্তু তারা তা বুঝতে পারে না।’’ (২:১২)

নিফাক বা কপটতা এক ধরনের সংক্রামক রোগ। যদি এ রোগের চিকিৎসা করা না হয়, তাহলে এ রোগে সমাজের বহু মানুষ আক্রান্ত হবে। সমাজ কলুষিত হয়ে পড়বে ভণ্ডামী, তোষামোদী, মিথ্যা বলা, পরচর্চা, কুৎসা রটনার মত নানা রকম ব্যাধিতে। মুনাফিক যেহেতু নিজে ধর্মীয় নির্দেশ মেনে চলে না, তাই চায় মুমিন ব্যক্তিরাও তার মত হয়ে যাক। বিভিন্নভাবে সে মুমিনদেরকে প্রভাবিত করার চেষ্টা চালায়। আল্লাহর নির্দেশকে অবিরাম তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে মানুষকে তাদের কর্তব্যের প্রতি অমনোযোগী করে তোলে। মুনাফিকদের এ ধরনের অন্যায় আচরণের কিছু উদাহরণ পবিত্র কোরআনের সূরা তওবায় উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে তুলে ধরা হয়েছে কিভাবে এ মুনাফিকরা ইসলামের দুশমনদের সাথে লড়াইয়ের সময় যুদ্ধ থেকে পালিয়ে যেত, মুজাহিদদের মনোবল দুর্বল করতো কিংবা দানের ক্ষেত্রে ঈমানদারদেরকে উপহাস করতো। সমাজে সব রকম অপরাধের উৎসই হলো নিফাক বা কপটতা। মুনাফিক আসলে সত্যকে দেখার শক্তি হারিয়ে ফেলে। তাই সে নিজের অন্যায় অপরাধকে সংস্কার বলে মনে করে। কপট ব্যক্তির দৃষ্টিতে শত্রুর সাথে আপোষ করে চলার মধ্যে সমাজের মঙ্গল নিহিত। তাই যেভাবেই হোক আন্দোলন কিংবা যুদ্ধের সূচনা যাতে না হয় সে দিকে তারা খেয়াল রাখে। এর ফলে যদি মুসলমানরা দুর্বল হয়ে পড়ে তাতেও মুনাফিকের কিছু আসে যায় না।

এই দুই আয়াত থেকে আমরা এই শিক্ষা নিতে পারি যে, নিফাকের প্রভাব শুধু ব্যক্তির মধ্যেই নয় বরং সমাজের ওপরও এর প্রভাব পড়ে এবং সমাজকে নিয়ে যায় অশান্তির দিকে। আর নিফাকের একটি বৈশিষ্ট্য হলো আত্মগর্ব। মুনাফিকরা বলে-আমরাই কেবল উপযুক্ত ব্যক্তি এবং সংস্কার সাধনকারী,অন্য কেউ নয়। কোন ব্যক্তির অন্তরে যদি নিফাক অনুপ্রবেশ করে তাহলে তার উপলব্ধি ক্ষমতা লোপ পায় এবং সত্য কথা শুনতে ও দেখতে চায় না।

আরও পড়ুন


শোকাবহ আগস্টের প্রথমদিন আজ

১৬ ঘন্টার জন্য গণপরিবহন চালু

৫ তারিখের পর কী হবে, সেটা প্রধানমন্ত্রী জানাবেন : জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী

যে কয় ঘন্টা চলবে লঞ্চ


এর পর সূরা বাকারার ১৩ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে-

وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ آَمِنُوا كَمَا آَمَنَ النَّاسُ قَالُوا أَنُؤْمِنُ كَمَا آَمَنَ السُّفَهَاءُ أَلَا إِنَّهُمْ هُمُ السُّفَهَاءُ وَلَكِنْ لَا يَعْلَمُونَ (13

‘‘যখন মুনাফিকদেরকে বলা হয় অন্যান্যদের মত তোমরাও ঈমান আনো, তখন তারা বলে আমরাও কি নির্বোধদের মত ঈমান আনবো? জেনে রাখ এরা নিজেরাই নির্বোধ, কিন্তু এরা তা বুঝতে পারে না।’’ (২:১৩)

গর্ব, অহঙ্কার, অন্য মানুষকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা, এ সবই নিফাকের বৈশিষ্ট্য। তারা নিজেদেরকে বুদ্ধিমান, প্রজ্ঞাবান ও চালাক মনে করে। আর মুমিনদেরকে ভাবে নির্বোধ,সহজ-সরল ও বোকা। তাই কপট বা মুনাফিক ব্যক্তিদেরকে যখন বলা হয়, কেন তোমরা নিজেদেরকে অন্যান্য মানুষ থেকে বিচ্ছিন্ন করে নিয়েছ এবং তাদের মত ঈমান আনো না? তখন তারা ঈমানদার ও বিশ্বাসীদেরকে বোকা বলে অভিহিত করে। যে মুমিন ব্যক্তিরা সুখ-দুঃখ, যুদ্ধ-বিগ্রহ, ঝড়-ঝঞ্ঝা সর্বাবস্থায় তাদের ধর্ম ও নেতার পাশে অতন্দ্র প্রহরীর মতো দায়িত্ব পালন করে, তাদেরকে মুনাফিকরা নির্বোধ বলে মনে করে। আর পবিত্র কোরআন তাদের এ ধরনের ঔদ্ধত্যপূর্ণ কথার জবাবে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেছে-যারা মুমিনদেরকে নির্বোধ মনে করে, তারাই আসল নির্বোধ। তবে সমস্যা হলো তারা তাদের এই মূর্খতা ও নির্বুদ্ধিতা সম্পর্কে জানে না। তারা তাদের অজ্ঞতা সম্পর্কেই কিছু জানে না। তাই তারা ভাবে অন্যরা কেউ কিছু জানে না আর তারা সব কিছু জানে বোঝে।

এই আয়াতের কয়েকটি শিক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, মুমিনদের খাটো করা, অপমান করা মুনাফিকদের একটি পন্থা। এভাবে তারা নিজেদেরকে অন্যদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করতে চায়। অহঙ্কারী ব্যক্তির সাথে তার মতো আচরণ করা উচিত। যে ব্যক্তি মুমিনদের হেয় করে তাকেও সমাজে হেয় করতে হবে যাতে তার মিথ্যা অহঙ্কার ও দর্প চূর্ণ হয়। আল্লাহপাক মুনাফিকদেরকে এ দুনিয়াতেই অপদস্ত করেন। এবং তাদের কদর্য চেহারা উন্মোচিত করেন।

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর

সোমবার যে আমলটি করলে মনের আশা পূরণ হবে!

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার যে আমলটি করলে মনের আশা পূরণ হবে!

আজ সোমবারের দিনে বা রাতে এই আমলটি করলে মনের আশা পূরণ হবে। সকল দুয়া কবুল হবে ইনশাআল্লাহ।সাপ্তাহিক আমল পেশ করা হয় সোমবার ও বৃহস্পতিবারে। হাদিসে এসেছে, এই দুই দিন রাসুল (সা.) রোজা রাখতেন। 

আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা মতে, রাসুল (সা.) বলেন, ‘প্রতি সপ্তাহে সোমবার ও বৃহস্পতিবার (আল্লাহ তায়ালার কাছে) আমল পেশ করা হয়। তখন আল্লাহ তায়ালা তার মুমিন বান্দাদের ক্ষমা করে দেন।

ফরজ ও ওয়াজিব রোজা ছাড়া অন্যান্য রোজাকে নফল রোজা বলা হয়। নফল মানে অতিরিক্ত, ফরজ বা ওয়াজিব নয়। মূলত এই নফল রোজা দুই প্রকার। প্রথম প্রকার হলো নির্ধারিত বা রাসূলুল্লাহ (সা.) কর্তৃক পালনকৃত, এই প্রকার রোজা সুন্নত। দ্বিতীয় প্রকার হলো অনির্ধারিত, এগুলো মুস্তাহাব। এই উভয় প্রকার রোজাকে সাধারণভাবে নফল রোজা বলা হয়ে থাকে।

নফল রোজার ফজিলত :

রোজার ফজিলত সম্পর্কে হাদিস শরিফে হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘প্রত্যেক বস্তুর জাকাত আছে, শরীরের জাকাত রোজা।’ (ইবনে মাজাহ, মিশকাত)। রাসূলুল্লাহ (সা.) আরো বলেন, ‘রোজা ঢালস্বরূপ এবং জাহান্নাম থেকে বাঁচার সুদৃঢ় দুর্গ।’ (নাসায়ি)।

হজরত ইবনে খুজাইমা ও হাকিম আবু ইমাম বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে তারা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (সা.)! আপনি আমাদের কিছু আমল করার উপদেশ দান করুন। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘রোজা অবলম্বন করো, এর সমকক্ষ কোনো আমল নেই।’ তারা পুনরায় বললেন, আমাদের কোনো আমল বলে দিন। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘রোজা অবলম্বন করো, এর সমতুল্য কোনো আমল নেই।’ তারা পুনরায় একই প্রার্থনা করলেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) পুনরায় একই আদেশ করলেন। (সুনানু নাসায়ি)।

হজরত মুআজ ইবনে আনাস (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন ‘যে ব্যক্তি রমজান মাস ছাড়া অন্য সময় আল্লাহ তায়ালার জন্য একটি রোজা রাখবে; দ্রুতগামী ঘোড়া ১০০ বছরে যত দূর রাস্তা অতিক্রম করতে পারে, দোজখ তার কাছ থেকে তত দূরে অবস্থান করবে।’ (তিরমিজি ও নাসায়ি)।

হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালার জন্য একটি রোজা রাখবে, আল্লাহ তায়ালা তার মুখমণ্ডল দোজখের আগুন থেকে ৭০০ বছরের রাস্তা দূরে রাখবেন।’ (বুখারি ও মুসলিম)।

হজরত আবু দারদা (রা.) ও হজরত আবু উমামা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ তায়ালার জন্য পালনকৃত একটি রোজার ফলে জাহান্নাম (ওই রোজাদার ব্যক্তি থেকে) আসমান-জমিনের দূরত্বে অবস্থান করবে।’ (তিরমিজি ও তাবরানি)।

সোমবারের নফল রোজা :

হজরত আয়িশা (রা.) বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ (সা.) সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখতেন। (তিরমিজি ও নাসায়ি)। সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ, আপনি সোমবার রোজা রাখেন কেন? তিনি বললেন, এই দিনে আমার জন্ম হয়েছে; তাই এই দিন রোজা রাখি। এখনো মদিনা শরিফে ব্যাপকভাবে এই আমল প্রচলিত আছে; প্রতি সোমবার মসজিদে নববীতে ইফতারের বিশেষ আয়োজন করা হয়, যা স্থানীয় জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে আয়োজন করে থাকেন।

রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কিয়ামতের দিন আমার সঙ্গী হওয়ার সবচেয়ে অধিক উপযুক্ত ওই ব্যক্তি যে আমার প্রতি সবচেয়ে বেশি দরুদ পাঠ করে। (তিরমিজী শরিফ) ওই সাহাবি হতে বর্ণিত, হজরত রসুলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহপাকের মনোনীত কিছুসংখ্যক ফেরেস্তা রয়েছে যারা জমিনের বুকে সফর করছেন। তাদের কাজ হলো উম্মতের দরুদ আমার নিকট পৌঁছে দেওয়া। (নাসায়ী শরিফ)। খতিব আরও বলেন, আপনারা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সম্মানে বেশি বেশি দরুদ শরিফ পাঠ করবেন। কেননা দরুদ শরিফ বান্দার জন্য বিরাট উপকারী এবাদত, অধিক ছওয়াব ও বরকতের কারণ এবং বান্দার সম্মান ও ইজ্জত বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অধিক সহায়ক। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি আমার প্রতি একবার দরুদ পাঠ করে, আল্লাহপাক তার প্রতি দশটি রহমত নাজিল করেন, তার দশটি গুনাহ মিটিয়ে দেওয়া হয় এবং তার জন্য দশটি মর্তবা বুলন্দ করা হয়। (নাসায়ী শরিফ)। হজরত ওমর বিন খাত্তাব (রা.) বলেন, নিশ্চয় বান্দার দোয়া-মোনাজাত আসমান ও জমিনের মাঝখানে ঝুলানো থাকে, তার কোনো কিছু আল্লাহপাকের নিকট পৌঁছে না যতক্ষণ না বান্দা তোমার নবীর প্রতি দরুদ পাঠ করবে। (তিরমিজী শরিফ)। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত হজরত রসুলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, দরুদ শরিফের আমল কাল কিয়ামতের পুলসিরাতের অন্ধকারে আলোর কাজ করবে।

সারাদিন রোজা রেখে আসরের নামাজের পর ১০০ বার দরুদ ইব্রাহিম পড়বেন,

আল্লাাহুম্মা সল্লি ‘আলাা মুহাম্মাদ, ওয়া ‘আলাা আালি মুহাম্মাদ, কামাা সল্লাইতা ‘আলাা ইবরাাহীমা ওয়া ‘আলাা আালি ইবরাাহীম, ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ। আল্লাাহুম্মা বাারিক ‘আলাা মুহাম্মাদ ওয়া ‘আলাা আালি মুহাম্মাদ, কামাা বাারকতা ‘আলাা ইবরাাহীমা ওয়া ‘আলাা আালি ইবরাহীম, ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ।,,,,,১০০ বার পড়লে অনেক ফজিলত এরপর
সাইয়েদুল ইস্তেগফার পড়বেন।

اَللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّىْ لآ إِلهَ إلاَّ أَنْتَ خَلَقْتَنِىْ وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ، أَعُوْذُبِكَ مِنْ شَرِّمَا صَنَعْتُ، أبُوْءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَىَّ وَأَبُوْءُ بِذَنْبِىْ فَاغْفِرْلِىْ، فَإِنَّهُ لاَيَغْفِرُ الذُّنُوْبَ إِلاَّ أَنْتَ-

সাইয়েদুল ইস্তেগফার বাংলা উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা আনতা রাববী, লা ইলা-হা ইল্লা আনতা, খালাক্বতানী ওয়া আনা ‘আবদুকা, ওয়া আনা ‘আলা ‘আহদিকা, ওয়া ওয়া‘দিকা মাসতাত্বা‘তু, আ‘ঊযুবিকা মিন শার্রি মা ছানা‘তু। আবূউ লাকা বিনি‘মাতিকা ‘আলাইয়া ওয়া আবূউ বিযাম্বী, ফাগফিরলী ফাইন্নাহূ লা ইয়াগফিরুযুনূবা ইল্লা আনতা।

সাইয়েদুল ইস্তেগফার অর্থ: ‘হে আল্লাহ! তুমি আমার পালনকর্তা। তুমি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। তুমি আমাকে সৃষ্টি করেছ। আমি তোমার দাস। আমি আমার সাধ্যমত তোমার নিকটে দেওয়া অঙ্গীকারে ও প্রতিশ্রুতিতে দৃঢ় আছি। আমি আমার কৃতকর্মের অনিষ্ট হ’তে তোমার নিকটে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আমি আমার উপরে তোমার দেওয়া অনুগ্রহকে স্বীকার করছি এবং আমি আমার গোনাহের স্বীকৃতি দিচ্ছি। অতএব তুমি আমাকে ক্ষমা কর। কেননা তুমি ব্যতীত পাপসমূহ ক্ষমা করার কেউ নেই’। (১০৫)(১০৫) . বুখারী, মিশকাত হা/২৩৩৫ ‘দো‘আ সমূহ’ অধ্যায়-৯, ‘ইস্তিগফার ও তওবা’ অনুচ্ছেদ-৪।

এই আমলগুলো করার পর রাব্বুল আলামিনের কাছে খুব বেশি কান্নাকাটি করবেন দুয়া করবেন ইনশাআল্লাহ রাব্বুল আলামিন আপনার সকল দুয়া কবুল করবেন সকল আশা পূরণ করবেন।

আরও পড়ুন:

------------------------------------------------------------

চাকরির জন্য আল্লাহর কাছে যে দোয়া পড়বেন

যে দোয়া পড়লে মনের আসা কবুল হয়

যারা বিনা হিসাবে জান্নাতে যাবে

যে দোয়া পড়লে কখনো বিফলে যায় না!

যে সময় দোয়া পড়লে দ্রুত কবুল হয়

কঠিন বিপদ থেকে রক্ষা পেতে যে দোয়া পড়বেন!

জ্বর ও ব্যথা হলে যে দোয়া পড়বেন!

-----------------------------------------------------------------

NEWS24.TV / কামরুল

পরবর্তী খবর

জ্বর জাহান্নামের আগুনের একটি অংশ

মাওলানা সাখাওয়াত উল্লাহ

জ্বর জাহান্নামের আগুনের একটি অংশ

জাহান্নামের আগুনের তীব্র তাপদাহ ও উষ্ণতা অত্যন্ত প্রখর হবে। সেখানে আছে আগুন থেকে প্রস্তুতকৃত পোশাক, বিছানা, ছায়া, ভারী বেড়ি এবং আগুনের জিঞ্জির, আগুনে উত্তপ্ত ও প্রজ্বলিত কোটি কোটি টন ভারী লোহা ও গুর্জ, আগুনে উত্তপ্ত করা আসন প্রভৃতি। আর যার সৃষ্টি লেলিহান অগ্নিশিখা হবে, তার অভ্যন্তরস্থ বায়ুর ধ্বংসলীলা কত ভয়ংকর হতে পারে—তা ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর বাম দিকের দল কত হতভাগ্য, বাম দিকের দল! তারা থাকবে অত্যুষ্ণ বায়ু ও উত্তপ্ত পানিতে, কৃষ্ণবর্ণের ধূম্রের ছায়ায়, যা শীতলও নয়, আবার আরামদায়কও নয়।’ (সুরা ওয়াকিয়া, আয়াত : ৪১-৪৪)

জাহান্নামিরা জাহান্নামের আজাবে অতিষ্ঠ হয়ে এক ছায়াকর বৃক্ষের দিকে ছুটে আসবে। যখন সেখানে পৌঁছবে তখন বুঝতে পারবে যে এটা কোনো ছায়াদানকারী বৃক্ষ নয়; বরং এটা জাহান্নামের ঘনকালো ধোঁয়া। জাহান্নামের ছায়ার বর্ণনা দিয়ে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা যাকে অস্বীকার করতে, চলো তার দিকে। চলো তিন শাখাবিশিষ্ট ছায়ার দিকে, যে ছায়া শীতল নয় এবং যে ছায়া অগ্নিশিখা থেকে রক্ষা করতে পারে না। তা উৎক্ষপণ করবে অট্টালিকাতুল্য বৃহৎ স্ফুলিঙ্গ, তা পীতবর্ণ উষ্ট্রশ্রেণিসদৃশ। সেই দিন দুর্ভোগ মিথ্যারোপকারীদের জন্য।’ (সুরা মুরসালাত, আয়াত : ২৯-৩৪)

জাহান্নামের অগ্নিবায়ুর উষ্ণতা এত প্রখর, যা সব জাহান্নামিকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেবে। যে আগুন মানুষকে জীবিত থাকতেও দেবে না, আবার মরতেও দেবে না। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তুমি কি জানো সাকার কী? তা (মানুষকে) অক্ষতও রাখবে না, আবার ছেড়েও দেবে না। মানুষকে দগ্ধ করবে।’ (সুরা মুদ্দাসসির, আয়াত : ২৭-২৯)

এ ব্যাপারে আল্লাহ বলেন, ‘কখনো না। সে অবশ্যই নিক্ষিপ্ত হবে পিষ্টকারীর মধ্যে। আপনি কি জানেন পিষ্টকারী কী? এটা আল্লাহর প্রজ্বলিত আগুন, যা হৃদয়ে পৌঁছবে। এতে তাদের বেঁধে দেওয়া হবে লম্বা লম্বা খুঁটিতে।’ (সুরা হুমাজা, আয়াত : ৪-৯)

জাহান্নামের আগুন অনবরত প্রজ্বালন করা হবে। তাপ কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আবার জ্বালানো হবে। তা কখনো নির্বাপিত হবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর যার (নেকির) পাল্লা হালকা হবে তার স্থান হবে হাবিয়া। আপনি কি জানেন হাবিয়া কী? তা হলো জ্বলন্ত আগুন।’ (সুরা কারিয়া, আয়াত : ৮-১১)

আরও পড়ুন:


পাঁচ বিভাগে বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টির আশঙ্কা

এই হচ্ছে বিএনপি, আর সব দোষ আওয়ামী লীগের?

রাজপথে নামার আহ্বান মোশাররফ-মান্নার

বাগেরহাটে ৩ ঘণ্টা পর প্লাইউড ফ্যাক্টরির আগুন নিয়ন্ত্রণে


গ্রীষ্মকালে গরমের তীব্রতা জাহান্নামের আগুনের উষ্ণ বাষ্পের কারণেই হয়ে থাকে এবং জ্বরও জাহান্নামের আগুনের একটি অংশ। হাদিসে এসেছে, আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘যখন গরম বৃদ্ধি পায় তখন সালাত (বিলম্বে আদায়ের) মাধ্যমে তা ঠাণ্ডা করো। কারণ গরমের তীব্রতা জাহান্নামের নিঃশ্বাসের কারণে হয়। আর জাহান্নাম আল্লাহর কাছে অভিযোগ করল যে হে আমার রব! আমার এক অংশ অন্য অংশকে খেয়ে ফেলছে (অতএব আমাকে নিঃশ্বাস ত্যাগের অনুমতি দিন)। অতঃপর আল্লাহ তাকে বছরে দুবার নিঃশ্বাস ত্যাগের অনুমতি দেন। একটি শীতকালে আর অন্যটি গ্রীষ্মকালে। তোমরা গ্রীষ্মকালে যে কঠিন গরম অনুভব করো, তা এ নিঃশ্বাস ত্যাগের কারণে আর শীতকালে যে কঠিন শীত অনুভব করো, তাও ওই নিঃশ্বাস ত্যাগের কারণে হয়ে থাকে।’ (বুখারি, হাদিস : ৫৩৬-৫৩৭)

news24bd.tv রিমু

পরবর্তী খবর

দুঃস্বপ্ন দেখলে যে দোয়া পড়বেন

অনলাইন ডেস্ক

দুঃস্বপ্ন দেখলে যে দোয়া পড়বেন

সুন্দর স্বপ্ন মানুষকে হয়তো আনন্দ দেয়। কিন্তু দুঃস্বপ্ন মানুষকে অস্থির করে রাখে।যদি কেউ ভীতি-জাগানিয়া স্বপ্ন দেখে, তাহলে তার কয়েকটি করণীয়। হাদিসে এসব কাজ করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে-

এক. স্বপ্নের অনিষ্ট ও ক্ষতি থেকে মহান আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করা। তিনবার ‘আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম’ পড়া। তাহলে এ স্বপ্ন তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। (মুসলিম, হাদিস : ২২৬২)।

দুই. শরীরের বাঁ দিক করে তিনবার (বাতাসে আদ্র ধরনের) থুথু  নিক্ষেপ করবে। (মুসলিম, হাদিস : ২২৬১)

তিন. যে কাত হয়ে ঘুমিয়ে খারাপ স্বপ্ন দেখেছে, সে কাত পরিবর্তন করে অন্য দিকে মুখ ফিরিয়ে শোবে। (মুসলিম, হাদিস : ২২৬২) অবস্থা বদলে দেওয়ার ইঙ্গিতস্বরূপ এটা করা হয়ে থাকে।

চার. খারাপ স্বপ্ন দেখলে কারও কাছে বলবে না। আর নিজেও এর ব্যাখ্যা করতে চেষ্টা করবে না। (বুখারি, হাদিস : ৬৫৮৩)

পাঁচ. নামাজ পড়বে। (মুসলিম, হাদিস : ২২৬৩)

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

যে খাবার খেয়ে মসজিদে যাওয়া উচিত নয়

সাআদ তাশফিন

যে খাবার খেয়ে মসজিদে যাওয়া উচিত নয়

পবিত্র কোরআনে বিভিন্ন মসলাজাতীয় উদ্ভিদের নাম আছে। সেগুলোর মধ্যে একটি হলো পেঁয়াজ। এর বৈজ্ঞানিক নাম এলিয়াম সেপা। কোরআনের ভাষায় ‘বাসল’। পেঁয়াজ মানুষের খাবারের অংশ।

বনি ইসরাঈল জান্নাতের খাবার ‘মান্না-সালওয়া’র পরিবর্তে যেসব খাবার চেয়েছিল, তার একটি ছিল পেঁয়াজ। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘যখন তোমরা বলেছিলে, হে মুসা! আমরা এ ধরনের খাদ্যে কখনো ধৈর্য ধারণ করব না। সুতরাং তুমি তোমার প্রতিপালকের কাছে আমাদের জন্য প্রার্থনা করো। তিনি যেন ভূমিজাত দ্রব্য শাক-সবজি, কাঁকুড়, গম, মসুর ও পেঁয়াজ আমাদের জন্য উৎপাদন করেন। মুসা বলল, তোমরা কি উত্কৃষ্টতর বস্তুকে নিকৃষ্টতর বস্তুর সঙ্গে বদল করতে চাও? তাহলে কোনো নগরে অবতরণ করো। তোমরা যা চাও, নিশ্চয়ই তা সেখানে আছে। তারা লাঞ্ছনা ও দারিদ্র্যগ্রস্ত হলো এবং তারা আল্লাহর ক্রোধের পাত্র হলো। এটি এ জন্য যে তারা আল্লাহর আয়াতকে অস্বীকার করত এবং নবীদের অন্যায়ভাবে হত্যা করত। অবাধ্যতা ও সীমা লঙ্ঘন করার জন্যই তাদের এই পরিণতি হয়েছিল।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ৬১)

উক্ত আয়াতে অন্য খাবারের সঙ্গে পেঁয়াজকে নিকৃষ্টতর বলার কারণ হলো, জান্নাতের ‘মান্না-সালওয়া’র তুলনায় দুনিয়ার এসব খাবার তুচ্ছ। তবে এর মানে এই নয় যে এসব খাবার মুসলমানদের জন্য বর্জনীয়। তবে হ্যাঁ, মসজিদে কিংবা কোনো সমাবেশে যাওয়ার আগে কাঁচা পেঁয়াজ ও রসুন খাওয়ার ব্যাপারে নিষেধ করা হয়েছে। কেননা, এর মাধ্যমে মুখে দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়, যা অন্য মানুষ ও মসজিদে থাকা ফেরেশতাদের জন্য কষ্টের কারণ হবে। হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) বলেন, নবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রসুন বা পেঁয়াজ খায় সে যেন আমাদের থেকে দূরে থাকে আর নিজ ঘরে বসে থাকে।’ (বুখারি, হাদিস : ৮৫৫)

তবে তরকারি ইত্যাদির সঙ্গে পাকানো পেঁয়াজ খেলে যেহেতু তেমন দুর্গন্ধ হয় না, তাই সে ক্ষেত্রে পেঁয়াজ খেয়ে মসজিদে আসার অনুমতি আছে।

মাদান ইবনে আবু তালহা (রহ.) থেকে বর্ণিত, ওমর ইবনে খাত্তাব (রা.) বলেছেন, ‘হে মানুষ! তোমরা দুই ধরনের সবজি খেয়ে থাকো। আমি এতদুভয়কে নিকৃষ্ট মনে করি। তা হলো (কাঁচা) পেঁয়াজ ও রসুন। আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে দেখেছি, যখন তিনি কারো থেকে এর গন্ধ পেতেন, তখন তাকে বের করে দেওয়ার নির্দেশ দিতেন। এরপর তাকে ‘বাকি’ (একটি জায়গার নাম)-এর দিকে বের করে দেওয়া হতো। অতএব যে ব্যক্তি তা খায়, সে যেন তা পাকিয়ে গন্ধমুক্ত করে ফেলে।’ (নাসায়ি, হাদিস : ৭০৮)

তাই প্রত্যেকের উচিত মসজিদে কিংবা কোনো সমাবেশে যাওয়ার সময় কাঁচা পেঁয়াজ, রসুন ও মুখে দুর্গন্ধ সৃষ্টি করে এমন খাবার গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকা।

news24bd.tv রিমু

পরবর্তী খবর

সূরা বাকারা: আয়াত ৮০-৮৪, ইহুদীদের ধারণাকে আল্লাহর মিথ্যা ঘোষণা

অনলাইন ডেস্ক

সূরা বাকারা: আয়াত ৮০-৮৪, ইহুদীদের ধারণাকে আল্লাহর মিথ্যা ঘোষণা

পবিত্র কুরআনের গুরুত্বপূর্ণ সূরা আল-বাকারা আলোচনার আজকের পর্বে সূরাটির ৮০ থেকে ৮৪ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যা তুলে ধরা হবে। বনী ইসরাইলীদেরকে উদ্দেশ্য করে আল্লাহপাক সূরা বাকারা’র ৮০ নম্বর আয়াতে বলেছেন -

وَقَالُوا لَنْ تَمَسَّنَا النَّارُ إِلَّا أَيَّامًا مَعْدُودَةً قُلْ أَتَّخَذْتُمْ عِنْدَ اللَّهِ عَهْدًا فَلَنْ يُخْلِفَ اللَّهُ عَهْدَهُ أَمْ تَقُولُونَ عَلَى اللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ (80)

‘‘বনী ইসরাইল বলল : দোজখের আগুন আমাদেরকে অল্প কয়েক দিন ছাড়া কখনো স্পর্শ করবে না। হে নবী! আপনি তাদের বলে দিন, তোমরা কি আল্লাহর কাছ থেকে কোন অঙ্গীকার পেয়েছ যে, আল্লাহ তার অঙ্গীকার ভঙ্গ করবেন না। কিংবা তোমরা আল্লাহ সম্পর্কে এমন কিছু বলছো যা তোমরা জানো না।’’ (২:৮০)

গত পর্বে বলা হয়েছে, সাধারণ ইহুদীদের অনেকেরই ঐশী কিতাব সম্পর্কে কোন জ্ঞান ছিল না, অথচ তারা অযথাই ভাবতো যে, ইহুদী জাতি বুঝি শ্রেষ্ঠ জাতি এবং আল্লাহর প্রিয়। তারা ভুল ধারণার বশবর্তী হয়ে বলতো, 'ইহুদীরা কোন গুনাহ করলেও আল্লাহ অন্যদের চেয়ে তাদেরকে কম শাস্তি দেবেন এবং শুধু অল্প কয়েক দিনের জন্যে তারা শাস্তি ভোগ করবে।' এ আয়াত ইহুদীদের ওই অলীক ধারণাকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে বলা হয়েছে, এটা আল্লাহর প্রতি তোমাদের মিথ্যা অপবাদ। কারণ তিনি শাস্তি বা পুরস্কারের ক্ষেত্রে তাঁর বান্দাদের ক্ষেত্রে কোন পার্থক্য করেন না। প্রকৃতপক্ষে বংশ ও গোত্রের ভিত্তিতে কোন রকম মর্যাদার দাবি করা কোন যুক্তিতেই গ্রহণযোগ্য নয়। শুধু মাত্র তাকওয়া ও সৎকাজ মানুষের মর্যাদার মাপকাঠি। পরকালেও আল্লাহ মানুষকে পুরস্কৃত বা সাজা দেবেন খোদাভীরুতা ও সৎ কাজের ভিত্তিতে।

এরপরের দুই আয়াত অর্থাৎ ৮১ ও ৮২ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে -

بَلَى مَنْ كَسَبَ سَيِّئَةً وَأَحَاطَتْ بِهِ خَطِيئَتُهُ فَأُولَئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ (81) وَالَّذِينَ آَمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ أُولَئِكَ أَصْحَابُ الْجَنَّةِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ (82

‘‘যে পাপ কাজ করে এবং সে পাপ তাকে পরিবেষ্টন করে ফেলেছে, তারাই আগুনের অধিবাসী, আর সেখানে তারা স্থায়ী হবে।’’ (২:৮১) 

‘‘আর যারা বিশ্বাস করে ও সৎকাজ করে তারা বেহেশতবাসী এবং সেখানেই তারা চিরদিন থাকবে।’’ (২:৮২)

ইহুদীরা দোজখে যাবে না বলে যে ধারণা করত, এর আগের আয়াতে তা উল্লেখ করে বিষয়টিকে আল্লাহর প্রতি ইহুদীদের অপবাদ বলে বর্ণনা করা হয়েছে। আর এই দুই আয়াতে পরকালে আল্লাহর সাজা ও পুরস্কারের মাপকাঠির বর্ণনা দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, ইচ্ছাকৃতভাবে কেউ পাপ করলে এবং পাপের মধ্যে নিমজ্জিত হলে, তার অবস্থান যেন আগুনের মধ্যে, ফলে ওই আগুন থেকে পালানোর কোন উপায় তার নেই। আর এই শাস্তির ক্ষেত্রে ইহুদী জাতির সাথে অন্যান্য জাতির কোন পার্থক্য নেই। আর চিরস্থায়ী বেহেশতে প্রবেশের জন্য শর্ত হলো ঈমান ও সৎকাজ। শুধু ঈমান কিংবা শুধু সৎকাজের মাধ্যমে বেহেশতে যাওয়া সম্ভব নয়,বরং দু'টিই থাকতে হবে।

এবারে সূরা বাকারা’র ৮৩ নম্বর আয়াতের দিকে যাচ্ছি। এ আয়াতে বলা হয়েছে -

وَإِذْ أَخَذْنَا مِيثَاقَ بَنِي إِسْرَائِيلَ لَا تَعْبُدُونَ إِلَّا اللَّهَ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا وَذِي الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينِ وَقُولُوا لِلنَّاسِ حُسْنًا وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآَتُوا الزَّكَاةَ ثُمَّ تَوَلَّيْتُمْ إِلَّا قَلِيلًا مِنْكُمْ وَأَنْتُمْ مُعْرِضُونَ (83

‘‘স্মরণ কর যখন বনী ইসরাইলের কাছ থেকে অঙ্গীকার নিয়েছিলাম যে, তোমরা আল্লাহ ছাড়া আর কারো এবাদত করবে না। বাবা-মা, আত্মীয়-স্বজন, এতিম ও দরিদ্রদের প্রতি সদাচরণ করবে,মানুষের সঙ্গে সদালাপ করবে, নামাজ কায়েম করবে এবং যাকাত দেবে। কিন্তু অল্প কিছু লোক ছাড়া তোমরা সবাই বিরুদ্ধ ভাবাপন্ন হয়ে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলে।’’ (২:৮৩)

এর আগে কয়েকটি আয়াতে বনী ইসরাইল আল্লাহর সাথে যে অঙ্গীকার করেছিলো, শুধু সে কথাই বলা হয়েছিল। কিন্তু অঙ্গীকারের বিষয়বস্তুর বর্ণনা দেয়া হয়নি। তবে এ আয়াতে এবং এর পরের আয়াতগুলোয় বনী ইসরাইলীদের অঙ্গীকারের কিছু অংশ তুলে ধরা হয়েছে। ইহুদীরা তাদের ওয়াদা লঙ্ঘন করায় এসব আয়াতে আল্লাহপাক তাদেরকে কঠোরভাবে ভর্ৎসনা করেন। নবীদের মাধ্যমে আল্লাহর প্রেরিত নির্দেশ, মানুষের বিবেক ও প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আল্লাহ প্রত্যেক মানুষের প্রকৃতির মধ্যেই সঁপে দিয়েছিলেন ধর্মীয় মূল্যবোধ ও প্রবণতা। সব নবীর মূল কথা তৌহিদ ও এক আল্লাহর উপাসনা করা। অর্থাৎ মানুষের কাজ যদি আল্লাহকেন্দ্রীক হয় তবেই তা কল্যাণ বয়ে আনবে। আল্লাহর এবাদতের পর তার দ্বিতীয় নির্দেশ হলো পিতা-মাতার আনুগত্য এবং তাদের প্রতি উত্তম আচরণ করা। কারণ তাদের মাধ্যমেই আমরা জন্মলাভ করি এবং আল্লাহর দয়া ও অনুগ্রহ আসে তাদের মাধ্যমে। বাবা-মায়ের প্রতি সদাচরণের পাশাপাশি সমাজের দুঃস্থ বিশেষ করে আত্মীয়-স্বজনদেরকে সাহায্যের কথাও বলা হয়েছে। যাতে মানুষ শুধু নিজের কথা এবং পরিবারের কথাই না ভাবে এবং সমাজের প্রতিও লক্ষ্য রাখে। মানব সেবার পাশাপাশি বিশেষ উপায়ে আল্লাহর উপাসনা অর্থাৎ নামাজের কথা বলা হয়েছে। কারণ স্রষ্টার সাথে মানুষের নিরবচ্ছিন্ন সম্পর্কের প্রয়োজন উপেক্ষা করা সম্ভব নয়। শুধু আচার-আচরণেই নয়,একজন খোদাভীরুকে কথা বার্তায়ও হতে হবে সুন্দর। শুধু নিজ ধর্মের ও গোত্রের লোকদের সাথেই নয় বরং মুমিন, কাফের নির্বিশেষে সবার সাথে তাকে সদালাপী হতে হবে।

আরও পড়ুন


বিদ্যুৎ উৎপাদনের মেগা হাব হচ্ছে মহেশখালীর মাতারবাড়ী

ইভ্যালীর এমডিকে জিজ্ঞাসাবাদে মিলেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য

ঢাবির হল খুলছে ৫ অক্টোবর

রূপগঞ্জে ৬ হাজার পরিবার পেল বসুন্ধরা গ্রুপের সহায়তা


এরপর ৮৪ নম্বর আয়াতে আল্লাহ পাক বলেছেন -

وَإِذْ أَخَذْنَا مِيثَاقَكُمْ لَا تَسْفِكُونَ دِمَاءَكُمْ وَلَا تُخْرِجُونَ أَنْفُسَكُمْ مِنْ دِيَارِكُمْ ثُمَّ أَقْرَرْتُمْ وَأَنْتُمْ تَشْهَدُونَ (84

‘‘সেই সময়ের কথা স্মরণ কর, যখন তোমাদের নিকট থেকে অঙ্গীকার নিয়েছিলাম যে,তোমরা কেউ কারো রক্তপাত করবে না এবং পরস্পরকে নিজেদের মাতৃভূমি থেকে বহিষ্কার করবে না। এরপর তোমরা ত্রুটি স্বীকার করেছিলে এবং এ ব্যাপারে তোমরাই তার সাক্ষী।’’ (২:৮৪)

এর আগের আয়াতে আল্লাহর ৬টি নির্দেশ বর্ণনার পর এ আয়াতে আরো দু'টি নির্দেশের কথা বলা হয়েছে। একটি মানুষের প্রাণের নিরাপত্তা সংক্রান্ত এবং অন্যটি হলো মাতৃভূমি ও ঘর-বাড়ির ওপর মানুষের অধিকার সংক্রান্ত। একটা সমাজের ন্যূনতম প্রাথমিক চাহিদাগুলোর একটি হলো জনগণের প্রাণের নিরাপত্তা। সকল ঐশী ধর্মে প্রাণের নিরাপত্তা ও মাতৃভূমিতে বসবাসের অধিকারের কথা বলা হয়েছে। বেঁচে থাকার অধিকার প্রত্যেক মানুষের। সে যে জাতি, ধর্ম বা গোত্রেরই হোক না কেন কেউ মানুষের এ অধিকার হরণ করতে পারে না। তাই হত্যা করা কবিরা গুনাহ এবং দুনিয়াতে এর শাস্তি মৃত্যুদণ্ড আর পরকালের শাস্তি হলো চিরস্থায়ী জাহান্নাম। মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসা মানুষের স্বভাবজাত ও প্রবৃত্তিগত ব্যাপার। তাই ধর্মও এ অনুভূতির প্রতি সম্মান দেখিয়ে থাকে। এজন্য মাতৃভূমিতে বসবাসের অধিকার থেকে কেউ কাউকে বঞ্চিত করতে পারে না।

৮০ থেকে ৮৪ নম্বর আয়াতের প্রধান শিক্ষণীয় বিষয়গুলো হল -

১. ধর্মের দৃষ্টিতে বর্ণবাদ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং পৃথিবীর সব মানুষ আল্লাহর কাছে সমান।

২. আল্লাহর দেয়া পুরস্কার ও শাস্তির মাপকাঠি হলো মানুষের ঈমান ও কাজ। সৎকাজ ছাড়া কেউ যদি নিছক আশা করে তাতে কোন লাভ হবে না।

৩. অনেক সময় পাপ মানুষের অস্তিত্বে এমনভাবে প্রবেশ করে যে, তার হৃদয় ও আত্মাকে পুরোপুরি ঢেকে ফেলে এবং তার কথা-বার্তা ও কাজ-কর্মে মন্দ ছাড়া কিছু থাকে না।

৪. মানুষের কল্যাণের জন্য আল্লাহপাক মানুষের কাছ থেকে যেসব অঙ্গীকার নিয়েছেন তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো- তওহীদ ও এক আল্লাহর উপাসনা, পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণ, দুঃস্থ লোকজন, আত্মীয়-স্বজন ও এতিমদের সাহায্য, মানুষের সাথে সদালাপ, নামাজ কায়েম, যাকাত দান, হত্যা ও রক্তপাত পরিহার এবং অন্যের ঘর-বাড়ি ও মাতৃভূমির ওপর আগ্রাসন চালানো থেকে বিরত থাকা।

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর