হেলেনা জাহাঙ্গীর আওয়ামী লীগ 'নেত্রী' ছিলেন না

আশরাফুল আলম খোকন

হেলেনা জাহাঙ্গীর আওয়ামী লীগ 'নেত্রী' ছিলেন না

হেলেনা জাহাঙ্গীর কখনো আওয়ামীলীগ “নেত্রী” ছিলেন না। ঢাকা শহর ব্যাপী রং বেরঙের পোস্টার ছাপিয়ে আর ফেসবুকে উদ্ভট লাইভ করে তিনি অনেক আগেই আলোচিত।

বছর দুয়েক হলো আওয়ামীলীগের উপ কমিটিতে হয়তো কোনো কায়দা কানুন(!) করে তিনি ঢুকেছেন। এর মানে কি হেলেনা জাহাঙ্গীর “নেত্রী” হয়ে গেলেন? উনি রাজনীতি কবে কোথায় করেছেন? তিনি নিজেও দাবী করেন, তিনি সোশ্যাল ওয়ার্ক করতেন।
 
“নেত্রী” অনেক বড় ও ওজনদার শব্দ। সুতরাং কেউ যদি সংবাদে কিংবা লেখায় সাবেক আওয়ামীলীগ “নেত্রী” লিখেন একটু সিক্সথ সেন্স কাজ করানো উচিত। কেউ লটারিতে অনেক অনেক টাকা পেয়ে গেলে যেমন আমরা তাকে ব্যবসায়ী বলিনা, ভাগ্যবান বলি। ঠিক তেমনি কোন অনুকম্পায় হঠাৎ মন্ত্রী এমপি কিংবা পদপদবী পেয়ে গেলেই তিনি “নেতা কিংবা নেত্রী” হবেন না। “নেতা-নেত্রী” খেতাব অনেক সাধনার ফসল। হুদাই লিখে লিখে কাউকে এই খেতাব দিয়েন না।

আরও পড়ুন


ক্ষমতার দাপট ও ফেরাউনের শেষ পরিণতি

স্বামীর পর্নকাণ্ড: এবার শিল্পা শেঠির সমর্থনে বলি-অভিনেত্রী

ফল খাওয়ার উপযুক্ত সময় কোনটি জেনে নিন

যাকে তাকে নেতা-নেত্রী বানিয়ে প্রকৃত নেতা নেত্রীকে ছোট করা হয়।

লেখাটি আশরাফুল আলম খকন- এর ফেসবুক থেকে নেওয়া (সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv রিমু 

পরবর্তী খবর

অন্যের দৌঁড়ঝাপ দেখার মধ্যেও সুখ আছে, ঠিক কিনা?

মুম রহমান


অন্যের দৌঁড়ঝাপ দেখার মধ্যেও সুখ আছে, ঠিক কিনা?

মুম রহমান

শেকসপিয়রের রোমিও জুলিয়েটের কথা মনে আছে? মনে না থাকলেও অসুবিধা নাই। এ কাহিনী নিয়ে শত শত নাটক, সিনেমা, গল্প হয়েছে। 

বিবাদমান দুই পরিবারের সন্তান রোমিও জুলিয়েটের করুণ মৃত্যুই তাদের প্রেমের পরিণতি। কিন্তু এই পরিণতির জন্য অল্প বয়মের আবেগ আর তাড়াহুড়াই দায়ী। ফ্রায়ার লরেন্স কিন্তু রোমিওকে বলেছিলো, 'ধীরে আর বুদ্ধি করে চলো। যারা দ্রুত দৌঁড়ায় তারা হোচট খায়।' 

আকস্মিক তীব্র প্রেম, তাড়াহুড়ায় সিদ্ধান্ত নেয়া এইসবই রোমিও জুলিয়েটের করুণ পরিণতি টেনে এনেছে। ভালোবাসা বা ঘৃণা যতো তীব্রই হোক তাকে সামাল দিতে হবে ধীরে সুস্থে। নইলে দুর্ঘটনা অনিবার্য। 

আদতে বড়বড় দুর্ঘটনা হয় তাড়াহুড়ার কারণেই। আপনি হয়তো জানেন, আপনি খুব দক্ষ চালক, কিন্তু রাস্তা পার হতে যাওয়া গরু, ছাগলটা তো আর ট্রাফিকস আইনও জানে না, আপনাকেও চেনে না। 

ড্রাইভিংয়ের ক্ষেত্রে একটা আন্তর্জাতিক নিয়ম হলো, এমন গতিতে গাড়ি চালানো যে চাইলে মুহূর্তে ব্রেক কষা যায়। কাজেই উদ্দাম গতিতে চললে হয়তো আপনি আগেই যাবেন, তবে একেবারে পরে পারেও যেতে পারেন সবার আগেই। অতএব মুম বলছে, ধীরে চলো বন্ধু। পরপারে আগে যাওয়ার চেয়ে ধীরেসুস্থ্যে ঘরে ফেরা ভালো। 

আমাদের অনুজ গল্পকার মোজাফফরের একটা গল্প আছে, 'শেষ মাথাটি কাটা পড়ার আগে'।  ভীষণ প্রাসঙ্গিক অথচ স্যুরিয়াল এই গল্প আমরা দেখি চারিদিকে মাথাহীন মানুষের অনাচার। আমার খুব প্রিয় একটা গল্পের বই রবার্ট ওলেন বাটলারের 'সেভারেন্স'। 

সেভারেন্স মানে হলো পৃথকীকরণ, বিভাজন, আলগা করা, বিচ্ছিন্ন করে। বলা হয়ে থাকে একজন মানুষের মাথা কেটে ফেললেও সে দেড় মিনিট পর্যন্ত সচেতন থাকে। মানুষের তার আবেগের চূড়ান্ত সীমায় মিনিটে ১৬০টা শব্দে বলতে পারে। সেই হিসাব থেকে ওলেন বাটলার গুণে গুণে ২৪০ শব্দে ৬২টা গল্প লিখেছেন। 

পুলিৎজার জয়ী এই লেখকের গল্পগুলো আমি যতোবার পড়েছি ততোবার শিউড়ে উঠেছি। শুধু নানা বিখ্যাত মানুষ নয় তিনি মাথাকাটা মুরগির গল্পও বলেছেন। আমি চারপাশের তাড়াহুড়া করা, উদ্দাম ছুটে চলা মানুষগুলোকে দেখলেও শিওড়ে।উঠি। মনে হয় যেন একদল মুরগীর মাথাকেটে পফেলেছে আর তারা মৃত্যুর আগে শেষ দৌঁড়ে ব্যস্ত! 

আসলে আমাদের মাথাটা ঘাড়েই আছে। তাকে যদি ব্যবহার করি, বুঝতে পারবো, সেই কচ্ছপ আর খরগোসের গল্প মান্ধাত্তা আমলের হলেও উন্নত আর সুশিক্ষিত দেশের মানুষেরা কিন্তু এখন ধীর আর সরল জীবনেই ফিরছে বা ফিরতে চাইছে। সত্যিকার ভ্রমণ পিপাসু কি দেখলাম, কি দেখলাম না সেই ব্যস্ততায় না থেকে একটা জায়গাকে উপভোগে মন দেয়। 

কোন রকমে ৫০০ বই পড়ার চেয়ে ধীরে সুস্থে ৫০টা বই পড়া বেশি উপকারী। দিশেহারার মতো ছোটাছুটি করলেই যে সুখ সাফল্য আসবে তা নয়। আর সুখ তো অস্থিরতায় নেই, সাফল্য তো গতিতে নেই। 

সমগ্র বাংলাদেশ পাঁচটন ওজন বয়ে বেড়ানোর ঠেকা কেবল ট্রাকের। আপনি আমি কিন্তু ট্রাক নই। তবে খামাখা সড়ক দাঁপিয়ে বেড়ানোর কি দরকার? 

কম চাহিদা, কম উত্তেজনা, কম জটিলতা, কম দেনাপাওনা, কম জিনিসপত্রে তো জীবন কাটানো যায় সরলভাবে। আমার টিভি নষ্ট হয়ে গেছে আরো বছর তিনেক আগে। সেই টিভিটাও ছিলো ওয়ালটনের একটা বাক্স টিভি। ঠিক করা হয়নি, নতুন টিভি কেনাও হয়নি। 

লাভের লাভ হয়েছে ভালো কিছু দেখার আশায় প্রতিদিন ব্যর্থ আর অহেতুক সময় কাটানো থেকে বেঁচে গেছে। টিভি গেছে। ঝামেলাও গেছে। কোন কিছুই অনিবার্য নয়। আজকের জীবনযাত্রায় এসি, টিভি, ফ্রিজ, মাইক্রোওয়েভ দরকারী, কিন্তু যাদের জীবনে এ সব নিয়ে তারা কেউ মরে যায়নি। 

এগুলো কেবলই কিছু বস্তু, কাজের বা অকাজের সেটা নির্ভর করে মানুষভেদে। আমাদের দাদী নানীরা খড়ির চুলাতে বাটা মসলায় প্রতিদিনের মাছ, শাক, ভাত রাঁধতেন, তারা যে খুব অসুখী ছিলেন এমন কিন্তু মনে হয়নি কখনো। হ্যাঁ এসব পেলে আরাম হয় বটে। 

তবে নিয়মিত তাজা রান্নার শুধু স্বাদই নয়, পুষ্টিগুণও বেশি। কাজেই এটা আপনার পছন্দ। কোন জীবন বেছে নিবেন। যে টিভি, মোবাইল, ডিশ ইত্যাদি আবিষ্কার করেছে, এগুলোর ব্যবসা করে সে বা তারা কিন্তু বিজ্ঞাপণ দিয়েই প্রমাণ করবে এ সব ছাড়া আপনার জীবনই বৃথা। আজ থেকে দুযুগ আগেও আমাদের জীবন দিব্যি চলেছে মোবাইল ফোন ছাড়াই। এখন মোবাইল ছাড়া একদিন তো দূরের কথা এক ঘণ্টাও পার করতে পারে না কেউ কেউ। 

আরও পড়ুন:


একবার বিদ্রোহী হলে আজীবন নৌকা থেকে বঞ্চিত

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ পাঁচে নেই আর্জেন্টিনা

করোনায় স্কুল বন্ধ থাকায় শ্রেণিকক্ষে সপরিবারে বসবাস

রোহিঙ্গা ইস্যুতে কমনওয়েলথের সহায়তা চাইলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী


নোমোফোবিয়া বলে একটা নতুন মানসিক রোগই হয়েছে। এ রোগটা হলো মোবাইলের অভাবে দিশেহারা, আতঙ্কগ্রস্থ হয়ে যাওয়া। নোমোফোবিয়া হলো No mobile Phobia. দেখুন এমন কতো ফোবিয়া আমরা যন্ত্রের কল্যাণে পেয়ে গেছি। আমি নিজে হাতে লেখা ভুলে গিয়েছিলাম। দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি কম্পিউটারে লিখছি। হঠাৎ একদিন পুরনো ডায়েরি পেয়ে নিজের হাতের লেখার প্রতি মায়া হলো। খুঁজে দেখি অন্তত গোটা বিশেক অব্যবহৃত ডায়রি আছে, নানা রকম কাগজ, খাতা রয়েছে। শুরু করলাম হাতে লেখা। সাথে বোনাস হিসাবে যোগ করলাম রঙ তুলি। কোন রকম ডিভাইস ছাড়াই লেখা আর আঁকা আমাকে অদ্ভূত মেডিটেশনের আনন্দ দিলো, দিচ্ছে। 

জীবনকে দ্রুতগতির আর আরামের করতে নানা যন্ত্রপাতির আবিষ্কার হয়েছে। এ সব যন্ত্র আমাদের সহকারী হতেই পারে, কিন্তু কোনভাবেই যন্ত্র নির্ভর বা যন্ত্রের দাস হয়ে গেলে বিপদ। যন্ত্রসভ্যতা আপনাকে কথিত সুবিধা দেবে, বিনিময়ে পূুঁজির রেসের ঘোড়াও বানাবে। 

সবসময় আপনাকে ইনসিকিউরিটিতে ভোগাবে। এই মনে হবে পিছিয়ে গেলাম, হেরে গেলাম। ভাইয়েরা আমার, বোনেরা তোমার, আগানোর দরকার নাই, পেছানোর দরকার নাই, নিজের জায়গা থাকো। খেলা দেখো। অন্যের দৌঁড়ঝাপ দেখার মধ্যেও সুখ আছে। ঠিক কিনা? 

লেখাটি মুম রহমান-এর ফেসবুক থেকে নেওয়া। (সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

তবে কী বদলে যাচ্ছে গ্ল্যামারের সংজ্ঞা?

আনোয়ার সাদী

তবে কী বদলে যাচ্ছে গ্ল্যামারের সংজ্ঞা?

সাই পল্লবি

আপনি যখন সিনেমায় কোনো নায়িকাকে দেখেন, তখন আসলে কী দেখেন? এক. নায়িকার চেহারা ও ফিগার, দুই. তার অভিনয়। যদি প্রশ্নের জবাব এক হয়, তাহলে অভিনয় দেখার চোখ আপনার তৈরি হয়নি। যদি আপনার জবাব দুই হয়, তাহলে অভিনয়ের জন্য চেহারা ও ফিগারের খুব একটা দরকার আছে কী? 

জানি, এখন অনেকেই সেই প্রবাদ মনে করিয়ে দেবেন, আগে দর্শনধারী তারপর গুণবিচারী। কারো কারো হয়তো শেখ সাদীর সেই গল্প মনে পড়ে যাচ্ছে, যেখানে পোশাকের সম্মান বেশ ভালোভাবেই বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

আনোয়ার সাদী

হাজারেরও বেশি ওয়াটের আলোতে শক্তিশালী ক্যামেরা রোমকূপের গর্ত অবধি ছবিতে ফুটিয়ে তোলে। ফলে, গ্ল্যামার জগতে প্যানকেক ও কড়া ম্যাপআপের কদর আছে। হলিউডে স্ক্রিনের টিউনের সঙ্গে মিলিয়ে প্যানস্টিক ও প্যানকেক ব্যবহার করা হয়, তাই নায়িকাদের চেহারা আসলের কাছাকাছি থাকে। অন্য অনেকে চেহারা বদলে দেয়, কিংবা লালচে করে দেয়। সম্প্রতি আমাদের দেশে বিয়েতে এই ম্যাপআপ প্রচলিত হয়েছে পার্লারের কর্মীদের হাত ধরে। ফলে, অনেকেই বিয়ের ছবির সঙ্গে পরে নিজেকে মেলাতে পারেন না। মনে হয় অন্য কারো বিয়ের ছবি দেখছেন।

                                    সাই পল্লবি

সাজগোজ নিয়ে অবস্থা যখন এমন, তখন ভারতের দক্ষিণে গালে ব্রুনের লালদাগ ও কম ম্যাপআপ নিয়ে দর্শকের হৃদয়ে ঢুকে গেছেন সাই পল্লবি নামের এক অভিনেত্রী। পেশায় তিনি চিকিৎসক। খুব বেশি সিনেমায় অভিনয় না করেই জিতে নিয়েছেন দুই্ দুইটি ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড। ৫ ফুট ৪ থেকে ৫ ইঞ্চি লম্বা সাই এখন ভারতের সবেচেয়ে বেশি পারিশ্রমিক নেওয়া অভিনেত্রীদের একজন।

আরও পড়ুন:

শর্টস পরে পরীক্ষাকেন্দ্রে তরুণী, পরীক্ষা দিতে হল পর্দায় পা ঢেকে!

হ‌্যাকারদের কবলে অভিনেত্রী প্রসূন, ছাড়া হচ্ছে অশ্লীল ছবি

নুসরাতকে আর সমর্থন দেবেন না তসলিমা নাসরিন

অবশেষে মৃত্যুর ৫ বছর পর ‘ছাড়পত্র’ পেল দিতির শেষ সিনেমা


তাহলে, বদলে যাচ্ছে কী গ্ল্যামারের সংজ্ঞা। একটু খানি কাজলে প্রিয়ের মনে বেঁধে রাখার ষাটের দশকের অনুভূতি কী ফিরে আসছে আবারো?

আনোয়ার সাদী, সিনিয়র নিউজ এডিটর, নিউজটোয়েন্টিফোর।

(এই বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv/ নকিব/তৌহিদ

পরবর্তী খবর

হে মাবুদ, তোমার অসীম করুনায় আমাদের সবাইকে রাখো

পীর হাবিবুর রহমান

হে মাবুদ, তোমার অসীম করুনায় আমাদের সবাইকে রাখো

পীর হাবিবুর রহমান

একদিকে আইসোলেশনের নি:সঙ্গতা,একাকিত্ব। অন্যদিকে কেমোর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় মুখের ভিতরে যন্ত্রণা! কি যে অসহনীয়! কি যে কষ্টের বুঝানোর নয়। ডাক্তার ঋতু ও ফরহাদ এসেছিলেন। তাদের বললাম, এই যন্ত্রণা আর নিতে পারছি না।

তারা বললেন, এটা প্রত্যাশিত। আপনি ভাগ্যবান যে জ্বর হয়নি, বমি সহ আরও কিছু উপসর্গ দেখা দেয়নি। চমৎকারভাবে বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট হয়েছে। ৩/৪দিন পর প্লাটিলেট ও হোয়াইট সেল বাড়তে শুরু করলেই মুখের ঘা ও পেইন কমে যাবে।

কেবল খাবার রুচি আসতে তিন সপ্তাহ। আমি বলি রুচির দরকার নেই, ঘা ও পেইন সেরে গেলেই খুশি। আজ প্লাটিলেট নেমে ৪০ হাজারে, হোয়াইটসেল ৫০! ডাক্তাররা যখন যা করার করছেন। নার্সরাও সর্বেচ্চ সেবা দিচ্ছেন। চিকিৎসা সেবা অসাধারণ।

আরও পড়ুন:


একবার বিদ্রোহী হলে আজীবন নৌকা থেকে বঞ্চিত

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ পাঁচে নেই আর্জেন্টিনা

করোনায় স্কুল বন্ধ থাকায় শ্রেণিকক্ষে সপরিবারে বসবাস

রোহিঙ্গা ইস্যুতে কমনওয়েলথের সহায়তা চাইলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী


পেশাদারিত্বে তারা অতুলনীয়। আর পানি পানে যেখানে কষ্ট সেখানে খাবার বন্ধ। স্যালাইন চলছে। লেবুর শরবত আর ফলের জুস ও চা পান করি। এত কিছুর পরেও সর্বশক্তিমান  আল্লাহর কাছে শোকরিয়ার শেষ নেই যে, তিনি বারবার আমার জীবন রক্ষা করেছেন। হে মাবুদ কেমো নিতে হয় এমন অসুখ শত্রুকেও দিও না। তোমার অসীম করুনায় আমাদের সবাইকে রাখো।

লেখাটি দেশবরেণ্য সাংবাদিক ও বাংলাদেশ প্রতিদিনের নির্বাহী সম্পাদক পীর হাবিবুর রহমান-এর ফেসবুক থেকে নেওয়া।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

পুরনো দিন গেছে, পুরনো লোকেরাও কবরে

মুম রহমান

পুরনো দিন গেছে, পুরনো লোকেরাও কবরে

বাসার সামনে একটা বিরাট আম গাছ, নারকেল গাছ। এখানে পাখি বসতো। বাসা বানাতো। মূল সড়কের শেষ বাড়িটা আমাদের। অপার সুখে শান্তিতে ছিলাম। আব্বা চলে গেলো। পাশের বাড়ির আঙ্কেল, আন্টিও চলে গেলো দুনিয়া থেকে। পাশের বাড়ির বিরাট চারতলাটিও ভাঙা শুরু হলো। রাস্তার ওপারে বাসার মুখোমুখি চারতলা দুটোও ভাঙা হয়ে গেছে। এখন সেখানে অট্টালিকা উঠছে। ঢাকা শহরে জমির দাম কোটি কোটি টাকা। সেই জমিতে চারতলা পুরনো বাড়ি মানায়? বিশেষত আগের দিনের ডিজাইনের। যারা বানিয়েছেন তারাও তো নেই।

অতএব বিদায় পুরনো স্মৃতি। নতুন করে সাততলা, আটতলা আর দশতলা উঠবে। ঠিক পাশে আর মুখোমুখি কাজ চলছে সারা দিনরাত। হ্যাঁ, সারাদিন রাত। দিনে বিশাল দালানটি ভাঙে, রাতে ট্রাক এসে এইসব ভাঙা টুকরা নিয়ে যায়। অন্যপাশে ট্রাক আসে ইট, রড নিয়ে। ধুমধাম শব্দে জব্দ থাকি সারাদিন রাত।

আরও পড়ুন: 


রাসেলের বাসায় র‌্যাবের অভিযান চলছে

স্ত্রী হত্যার অভিযোগ, স্বামী-শ্বশুর পলাতক

চীনে ১০ কি.মি. গভীরতার শক্তিশালী ভূমিকম্পের হানা

দুবলার চর থেকে খুলনা কাঁকড়া পরিবহনে বাধা নেই: হাইকোর্ট


মাথার ভেতরে সারাদিন রাত হাতুড়ি, গ্রিল কাটার, সিমেন্ট মিক্সার নানা রকম মেশিনের শব্দ। টনটন তরে মাথা ব্যথা করে। মনে হয় বাসা ছেড়ে পালাই। কোনো কোনো রাতে শব্দে মনে হয় পাগল হয়ে যাবো।

একরাতে ৯৯৯ এ ফোন দিলাম। ফোন দিতে চাইনি। কে যাবে ঝামেলায় জড়াতে। যারা এ সব দালানকোঠা বানায় মানে ডেভলাপাররা তারা বড় প্রভাবশালী। তবু না-থাকতে পেরে ভোর চারটায়  ৯৯৯ এ ফোন দিলাম। তারা সদয় হয়ে স্থানীয় থানার ডিউটি অফিসারের ফোন নাম্বার দিলো। কল করলাম, কেউ ধরলো না। সবাই তো আমার মতো ভোররাত নাগাদ জেগে থাকতে বাধ্য নয়। শব্দ দূষণের মতো তুচ্ছ জিনিস নিয়ে কেইবা ভাবে।

আরেকরাতে ২টার দিতে পূর্বের সেই নাম্বারে ফোন দিলাম। এবার ডিউটি অফিসারের দয়া হলো। তিনি টহল পুলিশকে আমার নাম্বার দিলেন। টহল পুলিশ চলে এলো পাঁচমিনিটে। ধমক দিয়ে কাজ বন্ধ করলো। ট্রাক চলে গেলো। আমি আইনের শাসন দেখে তৃপ্ত মনে শুতে গেলাম। পাঁচ মিনিটের মাথায় আবার বিকট শব্দ! আমি বারান্দায় এসে দেখি ট্রাক ফিরে এসেছে। পূর্ণোদ্যমে ভাঙা ইট, শুড়কি, ঢালাইয়ের চাপড় ধুমধাম ফেলা হচ্ছে। টহল পুলিশের নাম্বারে ফোন দিয়ে বললাম, ভাই, আপনারা চোখের আড়াল হতেই তো তারা আবারুরু করেছে। টহল পুলিশ বললেন, বেশিক্ষণ চলবে না। ওদের একটু কাজ জমে আছে। তাড়াতাড়ি করে সরে যাবে। ওরা তাড়াতাড়ি ভোর পার করেই চলে গেলো। আলহামদুলিল্লাহ। শুতে গেলাম। ঘড়িতে পাঁচটা বাজে। শুতে না শুতেই উঠে পড়লাম। দেয়াল, মেঝে ভাঙার শব্দ, আমার দালানটাও কেঁপে উঠছে। ওরা আমার মতো ফাঁকিবাজ নয়, ঠিক সকাল আটটায় কাজ শুরু করেছে। দিনরাত কাজ না করলে তো উন্নতি হয় না। আমার যেমন হয়নি।

কিন্তু আমি বোধহয় উন্নতির বিরুদ্ধে। আমি বোধহয় স্বাভাবিক নই। চলতি হাওয়ার নই। স্মার্ট নই। আমার ভালো লাগে না এই বাড়িগুলো ভাঙন দেখতে। কতো স্মৃতি এখানে। একসাথে এসব বাড়ির মানুষগুলো আমরা বড় হয়েছি। আমাদের বাড়িটাও ভেঙে ফেলবে। এতো এতো আধুনিক ফ্লাটের পাশে আমাদের ছোট্ট বাড়িটাকে বড় বেমানান লাগছে সবার। আমি বাদে সবাই চায় এ বাড়িটাও আধুনিক হোক।

ভাবছি, আমিও আধুনিক হয়ে যাবো। উন্নয়নের রসগোল্লা খাবো। চোখ, কান, মন বন্ধ রাখতে শিখবো। এই দেশে থেকে শব্দ দূষণ, পরিবেশ দূষণ, প্রতিবেশীর সুবিধা-অসুবিধা, বাড়ি নির্মাণ আইনকানুন ইত্যাদিকে বুড়ো আঙুল দেখাতে শিখে যাবো। বেঁচে থাকলে আমিও নির্বিকার জীবন বেছে নেবো। সে জীবনে একটা আমগাছ, একটা নারকেল গাছ, ছোট্ট বারান্দার কী মূল্যই বা আছে! আধুনিক মানুষের জীবন চলুক পার স্কয়ার ফিটের হিসেবে। এখন তো আর সামনের বাড়ি বা পাশের বাড়ি থেকে ইফতারি, হালুয়া, গোস্ত, রুটি আসে না। ও সব পুরনো দিন গেছে। পুরনো লোকেরাও কবরে।

নতুনরা পার স্কয়ারে কতো হাজার পাওয়া যাবে, গ্যােজ সহ ফ্ল্যাট কতো তাই নিয়ে ভাবছে। আমি ভাবছি আমার বাবা, পাশের বাড়ির কাকারা এতো উন্নয়নের ব্রেকিং নিউজ কী কবরে শুয়ে শুনতে পাচ্ছেন!

এ এলাকাটা পানিতে ডোবা ছিলো। বাঁশের সাঁকো পার হয়ে আসতাম। এখানে জমি কেনায় আমার বাবাকে অনেকেই বেকুব বলতো। আব্বা, তুমি বেকুব ছিলে বলেই ঢাকা শহরে নিজের বাড়িতে বাস করতে পারছি। আর জাতি বুদ্ধিমান বলেই নিজের বাড়িতে আমি বিশ্রাম নিতে পারছি না, দুপুরে, রাতে, বিকেল।

নাদের আলি, আর কতো দালান উঠলে আমাদের উন্নতির শেষ হবে?

লেখাটি মুম রহমান-এর ফেসবুক থেকে নেওয়া। (সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv তৌহিদ

পরবর্তী খবর

রেফারেন্সের পাওয়ার!

পারমিতা হিম

রেফারেন্সের পাওয়ার!

খুব সুন্দর, দেখতে দামি জামা পরে, চুলে শ্যাম্পু করে, ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে, ভালো করে সেজেগুজে, আমার সবচেয়ে দামি ব্যাগ, ঘড়ি আর জুতা (যার কোনোটাই আমার কেনা নয়-অবশ্যই) নিয়ে বের হচ্ছি, বুয়া আমার দিকে হাঁ করে চেয়ে আছে।

শেষে আর থাকতেই পারল না, বলেই ফেলল— আপা, আপনি কই যান? কারো বিয়ে নাকি? বলে আবার চুপ মেরে গেল। কারণ বান্ধবীর বিয়েতে আমি যে একটা সোয়েটার পরে চলে গেছিলাম সেইটা উনার নিজের চোখে দেখা। যেহেতু ওই ব্যাপারটা তার একদম ভালো লাগে নাই তাই উনি ওইটা ভুলতেও পারেন না। 

আমি উনার ভুল ভাঙায়ে দিলাম। বললাম, সরকারি অফিসে যাবো তো, এজন্য ভালো জামা কাপড় পরে যাচ্ছি। না হলে তো পাত্তাই দিবে না। সঙ্গে একটা ফ্রি টিপস দিয়ে দিলাম— কখনো ব্যাংক, পোস্ট অফিস, পাসপোর্ট অফিস কিংবা যে কোনো সার্ভিস সেক্টরের অফিসে যাওয়ার আগে আপনার সবচেয়ে দামি জামা কাপড় পরে যাবেন।

উনি বললেন, আমি ব্যাংকে যাব কী জন্যে? আমি তো পড়ালেখাই জানি না! আমি পড়ালেখা জানি, তাতে কোনো লাভ হয় না। আমি চাই যে কোনো কাজ যেটা বাংলাদেশে বৈধ, সেটা বৈধভাবে করতে। সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে, কিংবা মামা চাচার পরিচয় দিয়ে কোনো কাজ করা— এইটা আমাকে একটা মানসিক নিপীড়নের মধ্যে ফেলে।

কিন্তু কোনো কাজ আমাদের দেশে সোজাভাবে করা যায় না। ভার্সিটির সার্টিফিকেটের জন্য ৯ বছর ঘুরলাম। কত হাইকোর্ট দেখলাম। তারপর রেফারেন্সে একদিনের মাথায় সার্টিফিকেট পাইছি। কোনো হল-ডিপার্টমেন্ট-রেজিস্ট্রার বিল্ডিং গমন ছাড়াই। পাসপোর্ট অফিসেও তাই। যে ই-পাসপোর্ট করাই যাবে না, টাইম স্লট খালি নাই ওয়েবসাইটে, সেটাও হয়ে গেল কিছু ছাড়াই— রেফারেন্সে। 

আমার বান্ধবীর কথা শুনেন। সে সচিবের ছেলের বউ। সে ইন্টারন্যাশনাল ড্রাইভিং লাইসেন্স করছে বাড়ির ড্রাইভারকে টাকা দিয়ে। ড্রাইভিং এর ড না জানলেও সে লাইসেন্স পেয়ে গেছে, কারণটা আর নাইবা বললাম। 

বান্ধবী পর্যন্ত যাওয়া লাগবে না আমার নিজের বোনের পাসপোর্ট ৩ বার সংশোধন করতে হইছে। ওর নাম সুচিস্মিতা তিথি। বারবার পাসপোর্টে নাম আসে সুস্মিতা তিথি। নাম সংশোধন করা চাট্টিখানি ব্যাপার? তার উপর রেফারেন্স ছাড়া! তৃতীয়বার সংশোধনের লাইনে দাঁড়ানো আমরা দুই বোন। কাউন্টারে আমি ইচ্ছা করে ওর পিছনে দাঁড়ালাম। বললাম, তুমি কথা বল। ও কাউন্টারের লোককে বলল, আমার নাম আবারও ভুল আসছে। নাম হবে সুচিস্মিতা, লেখা হইছে সুস্মিতা। আপনারা এতবার একই ভুল করেন কেন? 

আরও পড়ুন


আশ্রয়ণ প্রকল্প: এটা তো দুর্নীতির জন্য হয়নি, এটা কারা করলো?

আগের স্ত্রীকে তালাক না দিয়েই মাহিকে বিয়ে করেছে রাকিব

আমরা কখনো জানতামও না যে এই সম্পদ আমাদেরই ছিলো

নাশকতার মামলায় নওগাঁর পৌর মেয়র সনিসহ বিএনপির ৩ নেতা কারাগারে


লোকটা ওকে এমন ধমক দিল! বলল, এগুলা আবার কী নাম! মানুষের নাম সুস্মিতাই না হয়, সুচিস্মিতা আবার মানুষের নাম হয় নাকি? এগুলা আবার কী নাম? আমার ছোটবোন তো একদম ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেল। এবার আমি সামনে গিয়ে বললাম, আপনার নাম আকরাম কেন, মানুষের নাম মফিজই না হয়, আপনার নাম মফিজ কেন না, আকরাম আবার কেমন নাম? (তার নেমপ্লেটে নাম লেখা ছিল আকরাম)।

লাইনের লোকসব হাহা করে হাসতে শুরু করল। আমার ধমকে সে লোক লবণ পড়া কেঁচোর মত গুটায়ে গেল। সে হয়ত ভাবছিল আমি ওকে ধমক দিচ্ছি মানে আমি কোনো কেউকেটা। তাই আর ঘাটায়নি। ক্ষমতা কাঠামো থেকে দূরের লোকদের কী পরিমাণ হেনস্তা এরা করে সেটা ক্ষমতাবানদের জন্য অকল্পনীয়।

শুধু সরকারি কেন, যে কোনো সার্ভিস সেক্টরে কাজ করা লোকজন এখনো স্পষ্ট ভাষায় কথা বলা, কী কী কাগজ লাগবে সেটা একবারে জানানো আর কাজ শেষে থ্যাংকু বলা— এগুলি একেবারেই শেখে নাই। 

একটা ৫০ বছর বয়সী দেশ, এত ধনী, এত রেস্টুরেন্ট, এত বিল্ডিং, এত গাড়ি অথচ সার্ভিস এখনো এরকম— খুবই দুঃখজনক।

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর