শাহজাহান চেয়েছিলেন বড় ছেলে দারা শিকোহ তাঁর উত্তরাধিকারী হোক

শান্তা আনোয়ার

শাহজাহান চেয়েছিলেন বড় ছেলে দারা শিকোহ তাঁর উত্তরাধিকারী হোক

শান্তা আনোয়ার

১৬৫৮ সালের ৩১ শে জুলাই সম্রাট আওরঙ্গজেব মোঘল সাম্রাজ্যের সিংহাসন আরোহণ করেন।  তিনি বাদশাহ আলমগীর নামেও পরিচিত ছিলেন। তার জীবদ্দশায়, দক্ষিণ ভারত বিজয় মুঘল সাম্রাজ্যকে ৪ মিলিয়ন বর্গমাইল পর্যন্ত বিস্তৃত করে এবং আনুমানিক ১৫৮  মিলিয়ন মানুষকে মোঘল সাম্রাজ্যের প্রত্যক্ষ শাসনে নিয়ে আসে।

সেই সময় মোঘল সাম্রাজ্যের  বার্ষিক রাজস্ব আয় ছিলো ৪৫০ মিলিয়ন ডলারের সমতুল্য সেই সময় ফ্রান্সের সম্রাট চতুর্দশ লুইয়ের রাজস্ব আয়ের চাইতে বাদশাহ আলমগিরের রাজস্ব আয় ছিলো দশগুণ বেশি।  তার শাসনামলে, মুঘল সাম্রাজ্য চীনকে ছাড়িয়ে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিনত হয় যার মুল্য ছিলো ৯০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি, ১৭০০ সালে বিশ্বের জিডিপির প্রায় এক চতুর্থাংশ ছিলো মোঘল সাম্রাজ্যের।

বাদশা আলমগীর ১৬১৮ সালের ৪ নভেম্বর গুজরাটের দহোদ শহরে জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলা থেকেই তিনি মহত প্রাণ এবং গৌরবদীপ্ত ছিলেন এছাড়াও তিনি ছিলেন এক দুর্দান্ত ও সাহসী অশ্বারোহী।
তিনি জ্ঞান এবং ধর্মকে ভালোবাসার মধ্যে দিয়ে বয়োপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। এমনকি ছোটবেলায়, তিনি বিলাসবহুল জীবন থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করতেন। তিনি দ্রুত ভারতের মধ্যবর্তী অঞ্চলে তাঁর শাসিত প্রদেশ -দাক্ষিণাত্য রাজ্য পরিচালনার প্রত্যক্ষ জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।

তিনি তার জীবনের ৫২ বছরই যুদ্ধ করে কাটিয়েছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত না তার শাসনামলে মোঘল সাম্রাজ্য উল্লেখযোগ্যভাবে প্রসারিত হয়। তার শাসনামলে মুঘলরা ৩০০ টিরও বেশি যুদ্ধ করেছে যার মধ্যে ১১ টি যুদ্ধ আওরঙ্গজেবের ব্যক্তিগত ও প্রত্যক্ষ কমান্ডে করা হয়েছিল, তিনি যুদ্ধক্ষেত্রে স্বশরীরে উপস্থিত থেকে সৈন্য পরিচালনা করেছিলেন।

আওরঙ্গজেবের একক নেতৃত্বে ভারতীয় উপমহাদেশকে মুসলিম মুঘল প্রদেশে রূপান্তরিত করতে সফল হন। তিনি তার শাসনামলে ইসলামী ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং ৮০ টি কর বাতিল করেন এবং অমুসলিমদের উপর জিজিয়া কর আরোপ করেন যা তাঁর পূর্বপুরুষরা বাতিল করেছিলো।

উনার শাসনামলে মঠ, স্কুল, মসজিদ, স্নানাগার অসংখ্য বাগান গড়েছিলেন এবং হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি লাহোর শহরে বাদশাহি মসজিদ নামে অপরুপ এক মসজিদ নির্মান করেছিলেন। সম্রাট আওরঙ্গজেব সম্পর্কেও মন্দির ধংসের অপবাদ শোনা যায়। এখানেও বিস্ময়কর ভাবে কারণটা রাজনৈতিক। আওরঙ্গজেব রাজপুতদের মন্দির ভেঙ্গেছিলেন, যেই রাজপুত মোঘলদের অনুগত ছিল কিন্তু আওরঙ্গজেবের আনুগত্য মানতে অস্বীকার করে বিদ্রোহ করে। সেই বিদ্রোহ দমনের পরে মন্দির গুলো ভাঙা হয়।

রিচার্ড এম ইটন লিখেছেন, বাঙলায় সম্রাট আওরঙ্গজেব যে কোন মোঘল শাসকদের চেয়ে বেশী মন্দির নির্মাণ করে দিয়েছিলেন। মার্কিন ইতিহাসবিদ অড্রে ট্রাশকা তাঁর বই 'আওরঙ্গজেব - দ্যা ম্যান অ্যান্ড দ্যা মিথ' বইয়ে লিখেছেন যে আওরঙ্গজেব হিন্দুদের ঘৃণা করতেন আর তাই মন্দির ধ্বংস করেছেন বলে যে দাবী করা হয়, তা ভুল।

ব্রিটিশদের শাসনের সময় তাদের 'ডিভাইড অ্যান্ড রুল' অর্থাৎ জনগোষ্ঠীকে 'বিভাজন আর শাসন করো' নীতির আওতায় ভারতে হিন্দু বর্ণবাদী ধারণা উস্কে দেয়ার কাজটি করেছিলেন যেসব ইতিহাসবিদরা, তারাই মূলত: আওরঙ্গজেবের এমন একটি ইমেজ তৈরির জন্য দায়ী। ট্রাশকার মতে, "এটা একটা ভুল ধারণা যে আওরঙ্গজেব হাজার হাজার হিন্দু মন্দির ধ্বংস করেছিলেন। ডজনখানের মতো মন্দির তাঁর সরাসরি আদেশে ভাঙ্গা হয়েছিল। তাঁর সময়ে এমন কোন ঘটনা ঘটেনি যাকে হিন্দুদের গণহত্যা হিসেবে বর্ণনা করা যেতে পারে। সত্যিকার অর্থে আওরঙ্গজেব হিন্দুদেরকে সরকারের অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়েছিলেন।”

আওরঙ্গজেবকে নিষ্ঠুর আর ভাতৃহন্তারক হিসেবেও ধরা হয়। এমনকি এটাও বলা হয় সিংহাসনের লোভে পিতা সম্রাট শাহজাহানকে বন্দি করার মতো হৃদয়হীন কাজও তিনি করেছেন। কিন্তু আদতে, একেবারে তরুণ বয়স থেকে শাহ জাহানের চার ছেলেই মুঘল সাম্রাজ্যের সিংহাসনে বসার চেষ্টা চালাচ্ছিলেন। মুঘলরা মধ্য এশিয়ার ওই প্রথায় বিশ্বাস করতেন যে রাজনৈতিক ক্ষমতা পাওয়ার ক্ষেত্রে সব ভাইদেরই সমান অধিকার রয়েছে। আওরঙ্গজেবের সিংহাসনে স্বাভাবিক অধিকার ছিলো। 

দারা শিকোহ আওরঙ্গজেবকে খুব অপছন্দ করতেন। একবার দারা শিকোহর সামনে এক মত্ত হাতি আওরঙ্গজেবকে পিষে মারা চেষ্টা করলেও দারা তার ভাইকে বাচাতে বিন্দুমাত্র চেষ্টা করেনি। দারা ছিলো ভয়ানক প্রতিহিংসাপরায়ন। যেদিন দারা মারা গেলেন, সেদিন আওরঙ্গজেব তাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন যে যদি নিয়তি উল্টোটা হতো, তাহলে ঠিক কী ঘটতো? দারার উত্তর ছিল যে তিনি আওরঙ্গজেবের শরীরকে চার ভাগ করে একেকটি ভাগ দিল্লির প্রধান চার সিংহ-দরজায় ঝুলিয়ে রাখতেন। 

শাহজাহান চেয়েছিলেন বড় ছেলে দারা শিকোহ তাঁর উত্তরাধিকারী হোক। কিন্তু আওরঙ্গজেব বিশ্বাস করতেন মুঘল সালতানাতে তাঁর চেয়ে যোগ্য আর কেউ নেই। ভারতীয় ইতিহাসের একটি বড় প্রশ্ন হলো কট্টর আওরঙ্গজেবের বদলে যদি উদারপন্থী দারা শিকোহ ৬ষ্ঠ মুঘল সম্রাট হতেন, তাহলে কী হতো?

বাস্তবতা হলো মুঘল সাম্রাজ্য চালানো কিংবা জয় করার ক্ষমতা দারা শিকোহ'র ছিলো না। ভারতের সিংহাসন নিয়ে চার ভাইয়ের মধ্যে যখন প্রতিযোগিতা চলছিলো, তখন অসুস্থ্য সম্রাটের সমর্থন ছিলো দারার প্রতি। কিন্তু আওরঙ্গজেবের মতো রাজনৈতিক প্রজ্ঞা তাঁর ছিলো না।

আওরঙ্গজেব ছিলেন একজন নিষ্ঠাবান মুসলিম, তিনি নিয়মিত রোজা রাখতেন, নিয়মিত মসজিদে নামাজ পড়তেন এবং কোরআন তেলাওয়াতও করতেন। আওরঙ্গজেবের প্রিয় খাবারের মধ্যে  ছিলো আম।  কয়েকটা আমের হিন্দি নামকরণও করেছিলেন তিনি, যেমন সুধারস আর রসনাবিলাস।

তিনি এমন কর্মী সদস্যদের নিযুক্ত করেন যারা মানবসম্পদ নিয়ে গবেষণা করেন। তিনি তাঁর দরবারে দিনে তিনবার কোন প্রহরী ছাড়াই বসতেন এবং সরাসরি মানুষের সমস্যা শুনতেন। তিনিই প্রথম রাজা যিনি আইনের উৎস হিসেবে ব্যবহারের জন্য পাণ্ডুলিপিতে ইসলামী আদেশ লিপিবদ্ধ করেন।

যখন তিনি মৃত্যু শয্যায়, তখন তিনি নির্দেশ দিয়েছিলেন যে তার কফিনের দাম যেন ৫ টাকার বেশি না হয় 

১৭০৭ সালের মার্চ মাসের ৩ তারিখ বাদশাহ আওরঙ্গজেব ৫২ বছর ভারত শাসন করার পর মারা যান; মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৯০ বছর। আওরঙ্গজেবকে দাফন করা হয়েছিল মহারাষ্ট্রের খুলদাবাদে একটি কাঁচা কবরে, সেটাই তার শেষ  ইচ্ছা ছিলো। তার মৃত্যুর পর ভারতের মহৎ ইসলামী সাম্রাজ্যেরও অবসান ঘটে। এর পরেই আসে দুর্বল শাসক, তার পরে ব্রিটিশরা।

লেখাটি শান্তা আনোয়ার- এর ফেসবুক থেকে নেওয়া (সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv/এমিজান্নাত 

পরবর্তী খবর

পার্কের জায়গায় মার্কেট হচ্ছে, ভবিষ্যত নিশ্চয়ই দারুন হবে আমাদের!

জুলহাস আলম

পার্কের জায়গায় মার্কেট হচ্ছে, ভবিষ্যত নিশ্চয়ই দারুন হবে আমাদের!

জুলহাস আলম

মাঝে মাঝে ভাবি। উত্তরা একটা বড় এলাকা। কিম্তু এখানে কোনও পাবলিক লাইব্রেরি নাই, শিশু একাডেমির কোনও শাখা নাই, শিল্পকলা একাডেমির কোনও কার্যক্রম নাই,  সেই রকম কোনও গ্যালারি নাই, একটা সিনেপ্লেক্স নাই, মুক্ত হাওয়া নেবার মতো, রমনা পার্কের মতো কোনও পার্ক নাই, সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক কোনও আয়োজন নাই। 

আছে কেবল মার্কেট আর মার্কেট, নতুন নতুন শপিং মল হচ্ছে, লেক দখল করে বা তথাকথিত অনুমোদনের মাধ্যমে ক্ষমতাশীলীদের নতুন এপার্টমেন্টের প্রকল্প হচ্ছে, পার্কের জায়গায় মার্কেট হচ্ছে। 

ধানক্ষেত ধ্বংস করে, জলাশয়ের উপর বহুতল তৈরি করে, যা ইচ্ছা তেমন করে একটা উপশহর তৈরি হয়তো সময়ের দাবী ছিল, কিন্তু মননের চর্চা করার কোনও আয়োজন না থাকার দায় তবে কার? আমাদের লোভ আমাদের ধ্বংস করে চলেছে। 
 
কী দারুন আয়োজন করে আমরা একটা মু্ক্তমনা, উদারনৈতিক, সহনশীল প্রজন্ম তৈরি করছি! তাইনা? 

ভবিষ্যত নিশ্চয়ই দারুন হবে আমাদের!

জুলহাস আলম, ব্যুরো চিফ, এপি।

লেখাটি জুলহাস আলম-এর ফেসবুক থেকে সংগৃহীত ( লেখাটির আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

কার্বন ফুটপ্রিন্ট বা ব্যষ্টিক কার্বন দায়

হারুন আল নাসিফ

কার্বন ফুটপ্রিন্ট বা ব্যষ্টিক কার্বন দায়

কার্বন ফুটপ্রিন্ট বলতে কোন একক ব্যক্তি, কোনও ঘটনা, সংস্থা, সেবা, স্থান বা পণ্য উৎপাদনের কারণে সৃষ্ট মোট গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণকে বোঝায়। এটিকে সমতুল্য কার্বন-ডাই-অক্সাইড এককে প্রকাশ করা হয়।

কার্বন ফুটপ্রিন্টকে ইংরেজির অনুকরণে বাংলায় কার্বন পদছাপ, কার্বন পদচিহ্ন বা কার্বন পদাঙ্ক বলা যায়। এটিকে কার্বন অভিঘাত বা ব্যষ্টিক কার্বন দায় হিসেবেও বিবেচনা করা যেতে পারে।

গ্রীনহাউস গ্যাস নির্গমনের অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে মানুষের কার্যক্রম। এগুলো পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার এবং উৎপাদনের অন্যান্য উপজাতগুলো থেকে নির্গত হয়। এর প্রভাবে জলবায়ু পরিবর্তন হয়।

জীবাশ্ম জ্বালানির দহন, বৃক্ষাবৃত ভূমি পরিষ্কাকরণ, এবং খাদ্য, শিল্পজাত পণ্য, উপাদান, কাঠ, সড়ক ও ভবন নির্মাণ, পরিবহন ও অন্যান্য সেবার সময়ে কার্বন-ডাই-অক্সাউড ও মিথেনের মতো কার্বনবাহী গ্যাসসহ অন্যান্য গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ হয়।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মোট কার্বন সঠিকভাবে হিসেব  করা সম্ভব হয় না, কেননা এসব গ্যাস উৎপাদনকারী প্রক্রিয়াসমূহের মধ্যকার জটিল আন্তঃক্রিয়াগুলো সম্পর্কে জ্ঞান ও উপাত্ত অপর্যাপ্ত। 

যেসব প্রাকৃতিক প্রক্রিয়াতে কার্বন ডাই-অক্সাইড মজুদ বা নিঃসরণ হয়, সেগুলোর প্রভাবও ঠিকমত হিসেব করা দুরূহ। এ কারণে রাইট, কেম্প ও উইলিয়ামস বলেন, কার্বন ফুটপ্রিন্ট  হলো কোন নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠী, ব্যবস্থা বা কর্মকাণ্ডের ফলে সৃষ্ট কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) ও মিথেন (CH4) নিঃসরণের মোট পরিমাণ।

যেখানে যে জনসমষ্টি, ব্যবস্থা বা কর্মকাণ্ডটি আগ্রহের বিষয়বস্তু, সেটির স্থানকালিক সীমানার ভেতরে অবস্থিত সমস্ত প্রাসঙ্গিক উৎস, কুণ্ড (সিংক) ও মজুদ হিসেবে ধরা হয়। এটিকে প্রাসঙ্গিক ১০০-বছরের বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বিভব ব্যবহার করে সমতুল্য কার্বন ডাই-অক্সাইড হিসেবে গণনা করতে হবে।

আরও পড়ুন:


ডিসেম্বরেই চালু হবে ৫জি নেটওয়ার্ক: মোস্তাফা জব্বার

দেশে বিনিয়োগ করুন: প্রধানমন্ত্রী

যানজট নিরসনের উদ্যোগ আটকে থাকে মহাপরিকল্পনার নথিতেই

মক্কা-মদিনার মসজিদে কাজ করবেন নারীরা


২০১৪ সালে বৈশ্বিক পর্যায়ে জনপ্রতি বার্ষিক কার্বন অভিঘাত ছিল প্রায় ৫ টন সমতুল্য কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2eq)। নেচার কনজারবেটরির মতে প্রতিটি মার্কিন নাগরিকের গড় কার্বন দায় ১৬ টন।

খনিজ তেল ও গ্যাস কোম্পানি ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম প্রায় ২৫ কোটি মার্কিন ডলার অর্থব্যয়ে একটি বিপণন অভিযানের দ্বারা কার্বন ফুটপ্রিন্ট পরিভাষাটি জনপ্রিয় করে তোলে। 
মানুষের মনোযোগ জীবাশ্ম জ্বালানি কোম্পানির কর্মকাণ্ডের ওপর থেকে সরিয়ে জলবায়ু পরিবর্তন সমস্যা সমাধানে ব্যক্তিগত দায়িত্বের ওপর নিবন্ধ করতে এটি কর হয়।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

কালো আপেল, লাল কলা এবার আসেন আমরা কালো মোরগ দেখি

শান্তা আনোয়ার

কালো আপেল, লাল কলা এবার আসেন আমরা কালো মোরগ দেখি

শান্তা আনোয়ার

এই কালো মোরগ পাওয়া যায় ইন্দোনেশিয়াতে। ইন্দোনেশিয়াতে এই মোরগকে ডাকা হয় Ayam Cemani বলে। এদের আদি নিবাস ছিলো জাভা দ্বীপপুঞ্জে। ইন্দোনেশিয়ার ভাষায় ayam মানে মুরগী আর জাভা ভাষায় cemani অর্থ সম্পূর্ন কালো। ইন্টারনেটে একে গথ মুরগীও বলা হয়। এই মুরগীর এমন একটা জিন আছে যার ফলে পুরো শরীরে হাইপারপিগমেন্টেশন হয়। শুধু পালক আর চামড়া না এই মুরগীর মাংসও কালো।

১৯৯৮ সালে প্রথম ইউরোপে এ জাতের মোরগ আনা হয়। সৌখিনদের কাছে এই জাতের মোরগ খুবই জনপ্রিয়। তবে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে অপ্রতুলতার কারণে এক একটি মোরগের দাম পড়ে প্রায় আড়াই হাজার ডলার বা বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ২ লাখ টাকা।

দেখতে যাই হোক অথবা দাম যেমনই হোক খেতে কেমন লাগে জানার ইচ্ছা থাকলো। যে সমস্ত ভাই বোনেরা ইন্দোনেশিয়া থাকেন, তারা একটু আওয়াজ দিবেন এই কালা মুর্গির স্বাদ কেমন তা নিয়ে।
 
আর হ্যাঁ একটা তথ্য আমরা অনেকেই  হয়তো জানি না। মোরগের কেন ঝুঁটি হয়?  মোরগের ঝুঁটিতে তাকে খুব সুন্দর লাগে। অনেকেরই ধারণা  সৌন্দর্যের জন্যে ঝুঁটি আছে মোরগের কিন্তু এই ঝুঁটির কাজ কী?
 
মোরগের শরীরে কোন ঘামের গ্রন্থি নাই। তাই সে ঘাম ঝরিয়ে তার শরীরকে ঠাণ্ডা করতে পারেনা। যখন মোরগের শরীর গরম হয় তখন মোরগের শরীরের রক্ত এই ঝুটিতে আসে। এই ঝুটি রক্ত ঠাণ্ডা করতে পারে। রক্ত আসে জন্যই ঝুটির রঙ থাকে উজ্জ্বল লাল।

লেখাটি শান্তা আনোয়ার-এর ফেসবুক থেকে সংগৃহীত ( লেখাটির আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv/এমি-জান্নাত   

পরবর্তী খবর

সমাজকে বেশি বদলানো বা রাতারাতি বদলে দেয়ার চেষ্টা- ঠিক না

মিল্লাত হোসেন

সমাজকে বেশি বদলানো বা রাতারাতি বদলে দেয়ার চেষ্টা- ঠিক না

সমাজকে বেশি বদলানো বা রাতারাতি বদলে দেয়ার চেষ্টা- ঠিক না। একে গ্রহণ-বর্জনের ধারাবাহিকতার ভেতর দিয়ে organically বিকশিত বা বিলীন হয়ে যেতে দেয়াটাই ভাল। 

এদেশে ১৯৫৬ সালে জমিদারি বিলোপ করা হলেও সমাজের শরীর ও মন থেকে সামন্তবাদ ও প্রভু-ভৃত্যের সম্পর্কের সুতো ছিন্ন হয়নি, গন্ধ মুছে যায়নি আজো। 

পশ্চিমা, সমাজতান্ত্রিক, উদারনৈতিক, গ্রিন, পুঁজিবাদী ইত্যাদি সমাজের মানবাধিকার, সমতা, গণইচ্ছা, নারীবাদ, সুষম বণ্টন, ভোট, স্বচ্ছতা, সুশাসন, যুদ্ধ ও শান্তির আইন, ফেয়ার ট্রায়াল, শিশু অধিকার-এসবের হাজারো হাবিজাবি তত্ত্ব এই সমাজে সরাসরি ও আকস্মিকভাবে অনুপ্রবেশ করানোটা আখেরে বরং ক্ষতিই ডেকে আনে। 

আমরা ভুলে যাই যে, কতো হাজার যুদ্ধবিগ্রহ, কতো কোটি মানুষের প্রাণ, সম্পদের কী ভীষণ অপচয়, ঔপনিবেশিক শোষণ, জাতিগত নির্মূলাভিযান আর চরম লুঠতরাজের পরই ওসব অর্জন করেছে পশ্চিমারা। 

শোষণ-লুণ্ঠনের মাধ্যমে অর্জিত উন্নতি ও প্রাযুক্তিক ঔৎকর্ষের পাটাতনে দাঁড়িয়েও সেই পশ্চিমাদের এখনও নিজেদের জনগণকে এসব সুখশান্তির নিশ্চয়তা দিতে কতো হিমশিম খেতে হয়! 

কৃত্রিমভাবে এসব কথিত "ভাল-ভাল" জিনিস সমাজে-রাষ্ট্রে ঢোকানোর ফল ব্যাকফায়ার করে।

লেখাটি মিল্লাত হোসেন-এর ফেসবুক থেকে সংগৃহীত ( লেখাটির আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

মিল্লাত হোসেন, বিচারক

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

কীভাবে বিশ্ব পেলো সৌদী আরব

শান্তা আনোয়ার

কীভাবে বিশ্ব পেলো সৌদী আরব

আজ বৃহস্পতিবার, সৌদি আরবের ৯১ তম জাতীয় দিবস।  দিনটি মূলত সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠা দিবস।

১৯০২ সালের ১৫ জানুয়ারি সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠাতা বাদশাহ আব্দুল আজিজ আব্দুর রহমান আল সৌদ এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে তার পৈত্রিক শহর রিয়াদ দখল করেন। দীর্ঘ প্রায় ৩২ বছর সংগ্রামের পর ১৯৩২ সালের ২১ মে এক রাজকীয় ফরমানের মাধ্যমে আরবের বিভিন্ন অংশের একত্রিকরণের ঘোষণা দেয়া হয়। পরবর্তীতে একই বছর ২৩ সেপ্টেম্বর আধুনিক সৌদি আরব গঠিত হয়।

সেই থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর দিনটিকে সৌদি আরবের জাতীয় দিবস হিসেবে  করা হয়।
সৌদি আরবের সম্পূর্ণ  নাম হচ্ছে, আল মামলাকাতুল আরবিয়্যাতুস সৌদিয়া ( রাজকীয় সৌদি আরব ( Kingdom of Saudi Arabia (KSA)
প্রতিষ্ঠাতা :  আবদুল আযীয বিন আবদুর রহমান।

স্বীকৃতি লাভ করে, ২০শে মে ১৯২৭ ঈসায়ি। ১৯৩২ সালের ২৩শে সেপ্টেম্বর সব গোত্র ও প্রদেশ একত্রীকরণ করা হয়। সে জন্য প্রতি বছর ২৩শে সেপ্টেম্বরই সৌদি আরবের জাতীয় দিবস উদযাপন করা হয়। এটি হিজরি সনের প্রথম দিন।
রিয়াদ ছাড়াও সৌদি আরবে ১৩টি প্রাদেশিক প্রশাসনিক রাজধানী আছে।
সৌদি আরবে একচ্ছত্র রাজতন্ত্র চলে। বর্তমান রাষ্ট্রপ্রধান হচ্ছেন খাদিমুল হারামাইন বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আযীয আল-সৌদ ও মোহাম্মদ বিন সালমান।

সৌদি আরবের সংস্কৃতি মূলত ইসলামি শরিয়া ও ইসলামি শিক্ষার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ ভূমি মক্কা ও মদিনা উভয়টি সৌদি আরবে অবস্থিত হওয়ায় ইসলামি সংস্কৃতি খুবই শক্তিশালী। ইসলামি আইন অনুযায়ী বিচারব্যবস্থা পরিচালিত হয়।

পতাকার রঙ সবুজ। এতে তাওহিদের মর্মবাণী “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ” (আল্লাহ ছাড়া আর কোনো সত্যিকারের ইলাহ নেই, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর রাসূল) এই কালিমা আরবিতে লেখা রয়েছে। কালিমার নিচেই একটি কোষমুক্ত তরবারি আঁকা আছে, যা দ্বারা ন্যায়বিচারকে বোঝানো হয়েছে। এ কালিমা লেখা থাকায় সৌদি আরবের পতাকা কখনো অর্ধনমিত করা হয় না। এবং সবুজ রঙ ইসলামের ঐতিহ্যের দিকে ইঙ্গিতবহ। আড়াআড়ি দুইটি তরবারির ওপর একটি খেজুরগাছ হলো সৌদি আরবের জাতীয় প্রতীক। খেজুরগাছ দ্বারা বোঝানো হয়েছে সমৃদ্ধি ও প্রবৃদ্ধি।
 
ভৌগোলিক সীমারেখা : উত্তরে- জর্ডান ও ইরাক, দক্ষিণে ওমান ও ইয়ামন, পূর্বে কুয়েত, কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও আরব সাগর, পশ্চিমে লোহিত সাগর। আয়তনে প্রায় ২২,৫০,০০০ বর্গকিলোমিটার বা ৮,২৯,৯৯৬ বর্গমাইল।

news24bd.tv/এমি-জান্নাত   

পরবর্তী খবর