নফল নামাজের গুরুত্ব

অনলাইন ডেস্ক

নফল নামাজের গুরুত্ব

মহান আল্লাহর একান্ত সান্নিধ্য লাভের জন্য ফরজ ইবাদাতগুলো আদায় করা যেমন অত্যাবশ্যক তেমনি ফরজ ইবাদতের ঘাটতি পূরণ করে অধিক মর্যাদা প্রাপ্তির প্রত্যাশায় নফল নামাজ আদায় ও রোজা পালন করা অতি জরুরি।

নফল নামাজ: ফরজ ইবাদাতের কোনো বিকল্প নেই। ফরজ নামাজ আদায়ের পর যারা নফল নামাজ আদায় করেন তাদের প্রতি রয়েছে মহান আল্লাহর বিশেষ রহমত। নফল নামাজ ও রোজার মাধ্যমে আল্লাহ ও রাসূল (সা:)-এর সন্তুষ্টি অর্জন করা যায়। ফরজ, ওয়াজিব ও সুন্নাত ছাড়া অন্যান্য নামাজকে নফল নামাজ বলে। নফল নামাজের কোনো সীমা নেই। যে যত বেশি পড়বে, সে তত বেশি সওয়াব লাভ করবে।

পাঁচ ওয়াক্তের ফরজ, ওয়াজিব ও সুন্নত নামাজের বাইরেও কিছু নফল নামাজ রয়েছে। হাদিসে যেসব নামাজের ব্যাপারে বিশেষভাবে তাগিদ দেওয়া হয়েছে, যেমন এক সাহাবি প্রশ্ন করেন, আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় কাজ কী? উত্তরে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন : ‘তুমি আল্লাহর জন্য বেশি বেশি সিজদা করবে (বেশি বেশি নফল নামাজ পড়বে); কারণ তুমি যখনই আল্লাহর জন্য একটি সিজদা করো তখনই তার বিনিময়ে আল্লাহ তোমার একটি মর্যাদা বৃদ্ধি করেন এবং তোমার একটি পাপ মোচন করেন।’ (সহিহ মুসলিম : ১/৩৫৩)

তাহাজ্জুদ

ফরজ নামাজের পর সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ নামাজ হলো তাহাজ্জুদ। পবিত্র কোরআনে তাহাজ্জুদ আদায়ের প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘তারা শয্যা ত্যাগ করে তাদের প্রতিপালককে ডাকে আশায় ও আশঙ্কায়। আর আমি তাদের যে রিজিক দিয়েছি, তা থেকে তারা ব্যয় করে।’ (সুরা সিজদা, আয়াত : ১৬)

মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘রমজানের পর সর্বশ্রেষ্ঠ রোজা হলো আল্লাহর মাস মহররমের রোজা। আর ফরজ নামাজের পর সর্বশ্রেষ্ঠ নামাজ হলো রাতের (তাহাজ্জুদের) নামাজ।’ (মুসলিম, হাদিস : ১১৬৩)

ইশরাক

সূর্য পরিপূর্ণভাবে উদিত হওয়ার পর ইশরাকের নামাজ আদায় করতে হয়। রাসুল (সা.) ফজরের নামাজের পর থেকে সূর্য উদিত হওয়া পর্যন্ত মসজিদে অবস্থান করতেন। এ সময় দোয়া, তাসবিহ পাঠ ও দ্বীনি আলোচনা করতেন। সূর্যোদয়ের পর তিনি দুই রাকাত নামাজ আদায় করতেন। এই আমলের প্রতি রাসুল (সা.) অন্যদেরও উৎসাহিত করেছেন।

আনাস ইবনে মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি জামাতের সঙ্গে ফজরের নামাজ আদায় করল এবং সূর্যোদয় পর্যন্ত আল্লাহর জিকিরে বসে থাকল; অতঃপর দুই রাকাত নামাজ আদায় করল, সে একটি পরিপূর্ণ হজ ও ওমরাহর সওয়াব পাবে।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ৫৮৬)

দুহা

সূর্য মধ্য আকাশে স্থির হওয়ার আগ মুহূর্তে ‘দুহা’র নামাজ আদায় করা হয়। পৃথকভাবে আদায় করার অবকাশ থাকলেও অনেকেই এটাকে ইশরাকের নামাজ হিসেবেই উল্লেখ করেছেন। তারা বলেছেন, সময়ের শুরুতে আদায় করলে সেটা ইশরাক আর সময়ের শেষে আদায় করলে দুহা। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আমার প্রিয়তম (রাসুল সা.) আমাকে তিনটি বিষয়ে অসিয়ত করেছেন, যেন আমি তা মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ত্যাগ না করি। প্রতি মাসে তিন দিন রোজা রাখা, দুহার নামাজ ও ঘুমানোর আগে বিতর আদায় করা।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১১৭৮)

আউয়াবিন

মাগরিব ও এশার নামাজের মধ্যবর্তী সময়ে আদায়কৃত ছয় রাকাত নামাজ ‘আউয়াবিন’ নামে পরিচিত। আল্লামা মাওয়ার্দি এই মতকে প্রাধান্য দিয়েছেন। (মুগনির মুহতাজ : ১/৩৪৩)। তবে কেউ কেউ ‘দুহা’ নামাজকেই আউয়াবিনের নামাজ বলেছেন। নাম নিয়ে মতভিন্নতা থাকলেও এই সময় নামাজ আদায়ের গুরুত্ব হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি মাগরিবের পর ছয় রাকাত নামাজ আদায় করবে এবং এগুলোর মধ্যে কোনো মন্দ কথা বলে না, তার আমলনামায় বারো বছর ইবাদতের সওয়াব লেখা হবে।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১১৬৭)

তাহিয়্যাতুল অজু

অজুর মাধ্যমে অপবিত্র অবস্থা থেকে পবিত্র হওয়ার কৃতজ্ঞতাস্বরূপ দুই রাকাত নামাজ আদায় করা হয়। এই নামাজকে বলা হয় তাহিয়্যাতুল অজু। নিষিদ্ধ সময়ের বাইরে যেকোনো সময় এই নামাজ আদায়ের অবকাশ রয়েছে। রাসুলে করিম (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি উত্তমরূপে অজু করল এবং নিষ্ঠার সঙ্গে দুই রাকাত নামাজ আদায় করল তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৩৪)

তাহিয়্যাতুল মসজিদ

মসজিদে প্রবেশ করার পর আদায় করার নামাজ। আল্লাহ মসজিদে আসতে পারার কৃতজ্ঞতা ও মসজিদের সময়টুকু ফলপ্রসূ হওয়ার প্রার্থনা হিসেবে এই নামাজ পড়া হয়। নিষিদ্ধ সময় ছাড়া অন্য সময়ে মসজিদে প্রবেশের পর তাহিয়্যাতুল মসজিদ পড়া যায়। তবে নামাজের জামাত ও ওয়াক্তের নির্ধারিত সুন্নত ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকলে তাহিয়্যাতুল মসজিদ পড়বে না। মহানবী (সা.) বলেন, ‘তোমাদের কেউ মসজিদে প্রবেশ করলে সে যেন দুই রাকাত নামাজ আদায় করার পর বসে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১১৬৭)

তওবা

নামাজের সময় বান্দা আল্লাহর সবচেয়ে নিকটবর্তী হয়। তাই হাদিসে নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনার নির্দেশনা রয়েছে। আবু বকর সিদ্দিক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘যখন কোনো বান্দা পাপ করে ফেলে, এরপর সে ভালোভাবে অজু করে এবং দাঁড়িয়ে দুই রাকাত নামাজ আদায় করে। তারপর আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেন।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ১৫২১)

 

পরবর্তী খবর

নারীর অধিকার রক্ষায় কোরআনে যা বলা আছে

আলেমা মারিয়া মিম

নারীর অধিকার রক্ষায় কোরআনে যা বলা আছে

পবিত্র কোরআনে পুরুষের পাশাপাশি নারীদের অধিকার নিশ্চিতে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। নারীর অধিকার রক্ষায় পুরুষকেই নির্দেশনা ও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কোরআন নারীদের যেসব সম্মান ও অধিকার দিয়েছে নিম্নে তার কয়েকটি তুলে ধরা হলো।

বেঁচে থাকার অধিকার

ইসলাম-পূর্ব নারীরা ছিল চরম অবহেলিত, ঘৃণিত। কন্যাসন্তান জন্মের সংবাদ শোনামাত্র তাদের মুখ অন্ধকার ও মলিন হয়ে যেত। এমনকি কন্যাসন্তানকে জীবিত মাটিতে পুঁতে ফেলার নির্মম ঘটনাও ঘটেছিল সে সময়। বর্তমানেও কোনো কোনো অঞ্চলে এ ধরনের দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়। মেয়েদের প্রতি তাদের এই ঘৃণ্য আচরণের নিন্দা জানিয়ে কোরআন মজিদে ইরশাদ হয়েছে, ‘তাদের কাউকে যখন কন্যাসন্তানের সুসংবাদ দেওয়া হয়, তখন তার মুখমণ্ডল কালো হয়ে যায় এবং সে অসহনীয় মনস্তাপে ক্লিষ্ট হয়। তাকে যে সংবাদ দেওয়া হয়, তার থেকে বাঁচতে সে নিজ সমপ্রদায় থেকে আত্মগোপন করে; সে চিন্তা করে যে হীনতা সত্ত্বেও সে তাকে রেখে দেবে, না মাটিতে পুঁতে দেবে। সাবধান! তারা যা সিদ্ধান্ত করে, তা কতই না নিকৃষ্ট।’ (সুরা : নাহল, আয়াত : ৫৮-৫৯)

উপার্জিত সম্পদে মালিকানার অধিকার

তৎকালীন সময়ে নারীদের অবস্থা সংক্ষেপে তুলে ধরে মোহাম্মদ রশিদ রেজা (রহ.) বলেন, সে সময় নারীদের জন্তু-জানোয়ারের মতো কেনাবেচা হতো। স্বামীরা তাদের দিয়ে দেহ ব্যবসা করাত। মিরাস (উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পত্তি) তো পেতই না; উপরন্তু তারাও মিরাস হিসেবে বণ্টিত হতো। তারা অধিকারী ছিল না; ছিল অধীনস্থ। এমনকি স্বীয় উপার্জিত সম্পদে তাদের মালিকানা ছিল না, উপার্জন করে আনলেও স্বামীরা লুট করে নিত। অথচ পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘পুরুষ যা অর্জন করে সেটা তার অংশ এবং নারী যা অর্জন করে সেটা তার অংশ। আর আল্লাহর কাছে তাঁর অনুগ্রহ প্রার্থনা করো। নিঃসন্দেহে আল্লাহ তাআলা সর্ব বিষয়ে জ্ঞাত।’ (সুরা: নিসা, আয়াত : ৩২)

হালাল-হারামের বিধানে বৈষম্য পরিহার

জাহিলি যুগের পুরুষরা মনে করত নারী হলো অনুভূতিহীন প্রাণীর মতো। যার নিজস্ব কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই; কিন্তু দায়িত্ব আছে অনেক। তার জন্য মতামত  কিংবা কথা বলার অধিকার নেই। নির্বাক প্রাণীর মতো সর্বদাই মুখ বুঝে সহ্য করতে হবে তাদের। পুরুষের জন্য যা জায়েজ নারীর জন্য তা হারাম। নারীর প্রতি বিদ্বেষমূলক এ আচরণ বর্তমানেও দেখা যায়। কোরআনুল কারিমে তাদের এ বিদ্বেষমূলক আচরণের বর্ণনা এভাবে এসেছে, ‘তারা বলে, এসব চতুষ্পদ জন্তুর পেটে যা আছে, তা বিশেষভাবে আমাদের পুরুষদের জন্য এবং আমাদের মহিলাদের জন্য হারাম। যদি তা মৃত হয়, তবে তার প্রাপক হিসেবে সবাই সমান। অচিরেই তিনি তাদেরকে তাদের বর্ণনার শাস্তি দেবেন। তিনি প্রজ্ঞাময়, মহাজ্ঞানী।’ (সুরা : আনআম, আয়াত : ১৩৯)

ইবাদত ও পুণ্যের ক্ষেত্রে নারীও সমান

জাহিলি যুগের পুরুষরা মনে করত ইবাদতের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের ভিন্নতা আছে। তাদের ধারণা ছিল, পুরুষের ইবাদত আল্লাহর কাছে পছন্দনীয়, এর বিনিময়ে আছে সওয়াব। তবে নারীরা এর ব্যতিক্রম, তাদের ইবাদতে সওয়াব নেই। মহান আল্লাহ তাদের এ ধারণাকে মিথ্যা প্রমাণ করে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেছেন, ‘অতঃপর তাদের পালনকর্তা তাদের দোয়া (এই বলে) কবুল করে নিলেন যে আমি তোমাদের কোনো পরিশ্রমকারীর পরিশ্রমই বিনষ্ট করি না, তা সে পুরুষ হোক কিংবা স্ত্রীলোক। তোমরা পরস্পর এক।’(সুরা : আল ইমরান, আয়াত : ১৯৫)

পিতার সম্পত্তিতে নারীর অংশের অধিকার

বর্তমানে নারীদের অবহেলিত একটি অধিকার হলো পিতার সম্পত্তিতে নারীর অংশ না দেওয়া বা ছলচাতুরি করে সম্পদের অংশের ভাগ থেকে তাকে দূরে রাখা। অথচ এই সম্পত্তিতে পুরুষ-নারীর উভয়েরই অংশ রয়েছে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনদের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে পুরুষদেরও অংশ আছে এবং পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনদের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে নারীদেরও অংশ আছে; অল্প হোক কিংবা বেশি। এ অংশ নির্ধারিত।’ (সুরা: নিসা, আয়াত : ৭)

মোহরের মাধ্যমে সম্মান প্রদান

জাহেলি যুগে নারীদের মনে করা হতো সস্তা পণ্য। যেভাবে ইচ্ছা সেভাবেই ব্যবহার করা হতো। কিন্তু ইসলাম তাদের দিয়েছে অনন্য সম্মান। কেউ যদি তাদের পেতে চায় তাহলে ওই ব্যক্তিকে সম্পদের কিছু অংশ ব্যয় করতে হবে তথা মোহর দিয়ে তাকে ব্যবহারের সুযোগ পাবে। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তোমরা স্ত্রীদের তাদের মোহর দিয়ে দাও খুশিমনে। তারা যদি খুশি হয়ে তা থেকে অংশ ছেড়ে দেয়, তবে তা তোমরা স্বাচ্ছন্দ্যে ভোগ করো।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ৪)

নারীর সম্পদে হস্তক্ষেপ করা নিষিদ্ধ

পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে ঈমাণদাররা, বলপূর্বক নারীদের উত্তরাধিকার গ্রহণ করা তোমাদের জন্য হালাল নয় এবং তাদের আটক রেখো না, যাতে তোমরা তাদের যা প্রদান করেছ তার কিয়দংশ নিয়ে নাও। আর যদি তোমরা এক স্ত্রীর স্থলে অন্য স্ত্রী পরিবর্তন করতে ইচ্ছা করো এবং তাদের একজনকে প্রচুর ধন-সম্পদ প্রদান করে থাক, তাহলে তা থেকে কিছুই ফেরত গ্রহণ করো না। তোমরা কি তা অন্যায়ভাবে ও প্রকাশ্য গুনাহর মাধ্যমে গ্রহণ করবে?’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ১৯-২০)

তালাকপ্রাপ্তা নারীর খরচ বহন

বিচ্ছেদের পর পুরুষকে তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীর মানসিক ও সামাজিক দিক বিবেচনা করে তার ওপর ইহসান করতে উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে। কারণ এটা নারীর অধিকার। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তালাকপ্রাপ্তা নারীদের জন্য প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী খরচ দেওয়া পরহেজগারদের ওপর কর্তব্য।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ২৪১)

দুগ্ধদানকারিণী মায়েদের পারিশ্রমিক

বিচ্ছেদের পর দুগ্ধদানকারিণী মায়েদের দুধ পান করানোর যথাযথ পারিশ্রমিক দেওয়া—এটা তাদের প্রাপ্য অধিকার। এ প্রসঙ্গে কোরআন মজিদে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘যদি তারা তোমাদের সন্তানদের স্তন্যদান করে, তবে তাদের প্রাপ্য পারিশ্রমিক দেবে এবং এ সম্পর্কে পরস্পর সংযতভাবে পরামর্শ করবে। তোমরা যদি পরস্পর জেদ করো, তবে অন্য নারী স্তন্যদান করবে।’ (সুরা : তালাক, আয়াত : ৬)

আরও পড়ুন:


জান্নাত লাভের দোয়া

কেমন হবে কিয়ামতের ময়দান


সার কথা, এমন কোনো সভ্যতা, ধর্ম বা আইন-কানুন নেই, যা নারীকে এতটা অধিকার দিতে পেরেছে। পবিত্র কোরআনের মাধ্যমে ইসলামই তাদের অধিকার যথাযথ নিশ্চিত করেছে। ইসলামের মহত্ব ও সৌন্দর্য এখানেই।

মহান আল্লাহ আমাদের নারীদের যথাযথ অধিকার রক্ষার তাওফিক দান করুন।

news24bd.tv রিমু  

পরবর্তী খবর

বিষধর প্রাণী থেকে বাঁচার দোয়া

অনলাইন ডেস্ক

বিষধর প্রাণী থেকে বাঁচার দোয়া

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি বিকেল বেলা এই দোয়াটি তিন বার পড়বে, সে রাতে কোনো বিষধর প্রাণী তার ক্ষতি করতে পারবে না।’ 

উচ্চারণ: ‘আউজু বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন শাররি মা খালাক।

বাংলা অর্থ: আল্লাহর পরিপূর্ণ কালেমাসমূহের ওসিলায় আমি তার কাছে তার সৃষ্টির ক্ষতি থেকে আশ্রয় চাই।’ -সুনানে তিরমিজি: ৩৬৬৫

আরও পড়ুন:


জান্নাত লাভের দোয়া

কেমন হবে কিয়ামতের ময়দান


মহান আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক বান্দাকে উক্ত আমলটি নিয়মিত করার তাওফিক দান করুন এবং বিষধর প্রাণী থেকে রক্ষা করুন। আমিন।  

news24bd.tv রিমু  

 

পরবর্তী খবর

পরকালে যারা আল্লাহর সুদৃষ্টি থেকে বঞ্চিত থাকবে

অনলাইন ডেস্ক

পরকালে যারা আল্লাহর সুদৃষ্টি থেকে বঞ্চিত থাকবে

এমন কিছু মানুষ আছে, যারা কিয়ামত দিবসে দয়াময় আল্লাহর সুদৃষ্টি থেকে বঞ্চিত থাকবে, তিনি তাদের দিকে তাকাবেন না, আর না তাদের প্রতি সুনজর দেবেন।

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর সঙ্গে কৃত অঙ্গীকার এবং নিজেদের শপথকে তুচ্ছ মূল্যে বিক্রয় করে, এরা আখিরাতের কোনো অংশই পাবে না এবং আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাদের সঙ্গে কথা বলবেন না, তাদের প্রতি দৃষ্টিপাত করবেন না এবং তাদের পবিত্র করবেন না, বস্তুত তাদের জন্য আছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত : ৭৭)।

আবূ যার্র রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তিন ব্যক্তির সাথে কিয়ামতের দিন আল্লাহ কথা বলবেন না, তাদের দিকে (দয়ার দৃষ্টিতে) তাকাবেন না, তাদেরকে পবিত্র করবেন না এবং তাদের জন্য থাকবে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।

বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উক্ত বাক্যগুলি তিনবার বললেন। আবূ যার্র বললেন, তারা ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত হোক! তারা কারা? হে আল্লাহর রসূল!

আরও পড়ুন: 

১০ মিনিটের সংঘর্ষে রণক্ষেত্র নয়াপল্টন

এনআইডি নিয়ে সরকারের নতুন পরিকল্পনার কথা জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

টসে জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ


তিনি বললেন, (লুঙ্গি-কাপড়) পায়ের গাঁটের নীচে যে ঝুলিয়ে পরে, দান করে যে লোকের কাছে দানের কথা বলে বেড়ায় এবং মিথ্যা কসম খেয়ে যে পণ্য বিক্রি করে। তাঁর অন্য বর্ণনায় আছে, যে লুঙ্গি ঝুলিয়ে পরে।[মুসলিম ১০৬, তিরমিযি ১২১১, নাসায়ি ২৫৬৩, ২৬৫৪, ৪৪৫৮, ৪৪৬৯, ৫৩৩৩, আবু দাউদ ৪০৮৭, ইবন মাজাহ ২২০৮, আহমদ ২০৮১১, ২০৮৯৫, ২০৯২৫, ২০৯৭০, ২১০৩৪, দারেমি ২৬০৫]

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

সামনাসামনি কেউ প্রশংসা করলে যা করণীয়

মাওলানা সাখাওয়াত উল্লাহ

সামনাসামনি কেউ প্রশংসা করলে যা করণীয়

কারো সামনে কিংবা পেছনে অতিরিক্ত প্রশংসা করতে নিষেধ করেছেন রাসুল (সা.)। তিনি বলেন, ‘কারো সামনে তার প্রশংসা করা তার পিঠে ছুরি মারা বা তার গলা কেটে ফেলার সমান।’ (আদাবুল মুফরাদ, হাদিস : ৩৩৫)

অন্য একটি হাদিসে নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘কেউ তোমাদের সামনাসামনি প্রশংসা করলে তার মুখে তোমরা পাথর ছুড়ে মারো।’ (আদাবুল মুফরাদ, হাদিস :  ৩৪০)

একজন সাহাবি রাসুল (সা.)-এর কাছে অন্য এক সাহাবি সম্পর্কে উচ্চ প্রশংসা করেন। তা শুনে রাসুল (সা.) বলেন, ‘আফসোস, তুমি তো তোমার সঙ্গীর গর্দান কেটে ফেললে! কথাটি নবীজি (সা.) তিনবার বলেন। অতঃপর বলেন, যদি কারো প্রশংসা করতেই হয়, তাহলে সে যেন এভাবে বলে যে আমি তার ব্যাপারে এমন এমন ধারণা পোষণ করি। কারণ তার প্রকৃত হিসাব মহান আল্লাহ জানেন।’ (মুসলিম, মিশকাত : ৪৮২৭)

সামনাসামনি কেউ প্রশংসা করলে করণীয় হলো, প্রশংসিত ব্যক্তি নিম্নের দোয়াটি পাঠ করতে পারেন—‘আল্লাহুম্মা লা তুআখিজনি বিমা ইয়াকুলুন, ওয়াগফিরলি মা লা ইয়ালামুন। অর্থ : হে আল্লাহ, তারা যা বলছে সে ব্যাপারে আমাকে পাকড়াও কোরো না এবং যে বিষয়ে তারা জানে না, সে বিষয়ে আমাকে ক্ষমা করে দাও।’ জনৈক সাহাবি এ দোয়াটি পাঠ করতেন।’ (আল-আদাবুল মুফরাদ, হাদিস : ৭৬১)

আরও পড়ুন:


জান্নাত লাভের দোয়া

কেমন হবে কিয়ামতের ময়দান

উল্লেখ্য যে প্রশংসাকৃত ব্যক্তির ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা না থাকলে এবং এতে তার কল্যাণের সম্ভাবনা থাকলে প্রশংসা করা যেতে পারে। (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা : ২৬/১২৪)

news24bd.tv রিমু  

পরবর্তী খবর

জান্নাত লাভের দোয়া

অনলাইন ডেস্ক

জান্নাত লাভের দোয়া

জান্নাত পাওয়ার জন্য যে দোয়াটি পড়তে হয় জেনে নিন।

হজরত শাদ্দাদ বিন আওস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হজরত মুহাম্মদ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে দিনের শুরুতে সাইয়িদুল ইস্তিগফার পাঠ করবে, সে ওই দিন ইন্তেকাল করলে জান্নাতি হবে, আর যদি সন্ধ্যায় পাঠ করে এবং রাতে তার ইন্তেকাল হয়, তাহলে সে জান্নাতি হবে।’

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আনতা রাব্বি, লা ইলাহা ইল্লা আনতা খালাকতানি ওয়া আনা আবদুকা ওয়া আনা আলা আহদিকা ওয়া ওয়াদিকা মাস্তাতাতু আউজুবিকা মিন শাররি মা সানাতু আবুউ লাকা বিনিমাতিকা আলাইয়্যা ওয়া আবুউ বিজাম্বি ফাগফিরলি ফাইন্নাহু লা ইয়াগিফরুজ জুনুবা ইল্লা আনতা।

আরও পড়ুন:


কেমন হবে কিয়ামতের ময়দান

বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি আমার প্রতিপালক। আপনি ব্যতীত আর কোনো উপাস্য নেই। আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন। আর আমি আপনার গোলাম। আমি আপনার ওয়াদা-প্রতিশ্রুতির ওপর আছি যথাসম্ভব। আমি আমার কৃতকর্মের অনিষ্টতা থেকে আশ্রয় চাচ্ছি। আমি আমার ওপর আপনার অনুগ্রহ স্বীকার করছি। আবার আমার গোনাহের কথাও স্বীকার করছি। অতএব, আমাকে ক্ষমা করে দিন। কারণ, আপনি ব্যতীত আর কেউ গোনাহসমূহ ক্ষমা করতে পারবে না। -সহিহ বোখারি: ৬৩০৬

আল্লাহ তা'আলা সকলকে জান্নাত লাভ করার তাওফিক দান করুন। আমিন। 

news24bd.tv রিমু  

পরবর্তী খবর