গরীবের বিনা পয়সার মফিজুল ডাক্তার

সরকার হায়দার, পঞ্চগড়:

গরীবের বিনা পয়সার মফিজুল ডাক্তার

পঞ্চগড়ের তেতুলিয়া উপজেলার ভজনপুর ইউনিয়নের প্রায় অর্ধশতাধিক গ্রামে বিনা পয়সায় চিকিৎসা দিয়ে আসছেন পল্লি চিকিৎসক মফিজুল ইসলাম। ওই এলাকার হাজার হাজার দরিদ্র থেকে উচ্চ বিত্ত মানুষের চিকিৎসার ভরসা তিনি। রাত দিন ২৪ ঘন্টা অসুস্থ রোগীর ফোন পেলেই ছুটে আসেন তিনি। চিকিৎসা দেন বিনা পয়সায়। কারও কাছে তিনি কোন ভিজিট চান না। 

রোগির পরিবারের ইচ্ছে অনুযায়ি যা দেন তাতেই তিনি খুশি। করোনা ভাইরাসের মহামারিতেও জীবন বাজি রেখে তিনি চিকিৎসা দিয়ে চলেছেন গ্রামে গ্রামে। অনেক দিন আগে ৮০র দশকে তিনি কলেরা মহামারিতেও এই এলাকায় চিকিৎসা সেবা দিয়েছেন। মফিজুল ডাক্তারের বাড়ি ওই ইউনিয়নের গিতাল গজ গ্রামে।

তিনি মৃত বশিরউদ্দিন আহমেদের ছেলে। তিনি গিতালগজ উচ্চবিদ্যালয়ে শিক্ষকতাও করেছেন। বর্তমানে এই এলাকায় ঘরে ঘরে সর্দি, কাশি জ্বর বিরাজ করছে। বাড়ছে করোনা আক্রান্ত রোগি। কিন্তু এখনো তিনি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন।

এলাকাবাসি জানান, মফিজুল ডাক্তার শুধু চিকিৎসা সেবাই নয় এলাকার শিক্ষানুরাগি ব্যাক্তি তিনি। তার উদ্যোগে এই এলাকায় তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ডাক্তার মফিজুল দীর্ঘকাল ধরে বিনা পয়সায় চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছেন। যে কোন সময় ডাকলেই তাকে পাওয়া যায়। ঝড় বৃষ্টি, গভীর রাত উপেক্ষা করে তিনি রোগির বাড়িতে চলে আসেন। 

তারপর অভিজ্ঞতা অনুযায়ি চিকিৎসা দেন। রোগিকে নানা ধরনের পরামর্শ দেন। শুধু এটাই নয় কিভাবে স্বাস্থ্য ভালো রাখা যায় তার পরামর্শও দেন তিনি। প্রায় কয়েকযুগ থেকে তিনি এই সেবা দিয়ে আসছেন। মফিজুল ডাক্তার জানান, ১৯৮০ সালের দিকে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এর আওতায় পল্লি চিকিৎসকের প্রশিক্ষণ নেন তিনি। 

এরপর চিকিৎসা সংক্রান্ত নানা বই-পত্র পড়ে নিজের অভিজ্ঞতাকে শানিত করেন। ৮০’র দশকে কলেরা রোগ মহামারি আকারে দেখা দেয় এই অঞ্চলে। অনেকে মারা যায়। এ সময় তিনি জীবন বাজি রেখে কলেরা রোগিদের বিনাপয়সায় চিকিৎসা সেবা দেন। তিনি বলেন সেইসময় ঘরে ঘরে অভাব ছিল। 

দারিদ্রতার কারণে মানুষ চিকিৎসা নিতে পারতেন না। সেই সময় চোখের সামনে কলেরায় আক্রান্ত মানুষের মৃত্যু দেখেছি। তারপর থেকেই চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছি। এই এলাকাটি অত্যন্ত প্রত্যন্ত এলাকা। হাসপাতাল বা ক্লিনিকে চিকিৎসা নেয়ার মতো এখনো অনেকের সামর্থ্য নাই। তাই পারিশ্রমিক চাই না। যার যার ইচ্ছে মতো দেয়। জ্বর,সর্দি,গ্যাষ্ট্রিক সহ সাধারণ রোগের চিকিৎসা দেন তিনি। 

ডাক্তারপাড়া গ্রামের ছালাম উদ্দিন জানান, অসুস্থতায় আমাদের একমাত্র ভরসা মফিজুল ডাক্তার। যখন খুঁজেছি তখনি পেয়েছি। ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি তিনি গরীব মানুষকে বিনাপয়সায় চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছেন। 

মাঝিপাড়া মহিলা কলেজের অর্থনিতী বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আব্দুল খালেক জানান, তিনি আমাদের গ্রামের গর্ব। তার উদ্দিপনায় আমি উচ্চ শিক্ষা লাভ করেছি। তিনি গরীবের ডাক্তার। একজন সংস্কৃতি পিপাসু মানুষ।

উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী মাহমুদুর রহমান ডাবলু জানান, দীর্ঘকাল ধরে ডাক্তার মফিজুল বিনা পয়সায় বাড়িতে বাড়িতে চিকিৎসা প্রদান করেন। ওই এলাকার দরিদ্র মানুষের ভরসার ডাক্তার তিনি। 

আরও পড়ুন


মেয়াদ শেষ হওয়া মোবাইল ডাটা ফেরত দিচ্ছে অপারেটররা

জাপানে এত বেশি ভূমিকম্প কেন হয়?

জাপানে অলিম্পিক আসরের মধ্যেই ভয়াবহ ভূমিকম্প

সাকিব-মোস্তাফিজ আইপিএল খেলতে পারবেন


news24bd.tv / কামরুল 

পরবর্তী খবর

মোটরসাইকেল কিনে না দেওয়ার স্কুলছাত্রের আত্মহত্যা

অনলাইন ডেস্ক


মোটরসাইকেল কিনে না দেওয়ার স্কুলছাত্রের আত্মহত্যা

মোটরসাইকেল কিনে না দেওয়ায় পরিবারের সঙ্গে অভিমান করে রাইয়ান (১৫) নামে এক স্কুলছাত্র আত্মহত্যা করেছে।

আজ সকালে বরিশালে নগ‌রের ব্রাউন কম্পাউন্ডের বাসভবন থেকে তার মর‌দেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। রাইয়ান বরিশাল জেলা স্কুলের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল।

প্রতিবেশীরা জানান, বেশ কয়েকদিন ধরেই রাইয়ান তার মা-বাবার কাছে মোটরসাইকেল কিনে দেওয়ার বায়না করছিল। তা না পেয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে সে আত্মহত্যা করেছে।

আরও পড়ুন:


ফুটবলে ক্যারিশমা দেখিয়ে অষ্টমবারের মতো গিনেস বুকে বাংলাদেশের ফয়সাল

ইসরায়েলের আয়রন ডোমের জন্য ১০০ কোটি ডলার দেবে যুক্তরাষ্ট্র

বিশ্বব্যাপী স্থিতিশীল খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

সাত ঘণ্টা বৈঠক শেষ যা বললেন মির্জা ফখরুল!


কোতোয়ালি থানার এসআই সুলতান মাহমুদ বলেন, ব্রাউন কম্পাউন্ডের বাসিন্দা মো. শাহজাদার ছেলে রাইয়ান। গতকাল রাত ৩টার দিকে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে সে। মর‌দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ (শেবামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

দেশের সবখানে উন্নয়নের ছোঁয়া পৌঁছে গেছে: খাদ্যমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক

দেশের সবখানে উন্নয়নের ছোঁয়া পৌঁছে গেছে: খাদ্যমন্ত্রী

খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেছেন, দেশের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তার কল্যাণে দেশের সবখানে উন্নয়নের ছোঁয়া পৌঁছে গেছে।

আজ সকালে নিয়ামতপুর উপজেলার স্থায়ী মঞ্চে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের মধ্যে প্রণোদনা বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার জন্য যত রকম প্রণোদনা দেওয়ার দরকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার তার সব কিছু দিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান সরকার কৃষককে প্রণোদনার পাশাপাশি সার, বীজ ও কৃষি উপকরণও দিচ্ছে। ফলে আমাদের কৃষিতে বিপ্লব ঘটেছে। দেশে খাদ্যের কোনো অভাব নেই।

আরও পড়ুন:


ফুটবলে ক্যারিশমা দেখিয়ে অষ্টমবারের মতো গিনেস বুকে বাংলাদেশের ফয়সাল

ইসরায়েলের আয়রন ডোমের জন্য ১০০ কোটি ডলার দেবে যুক্তরাষ্ট্র

বিশ্বব্যাপী স্থিতিশীল খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

সাত ঘণ্টা বৈঠক শেষ যা বললেন মির্জা ফখরুল!


নিয়ামতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়া মারিয়া পেরেরার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে নিয়ামতপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ফরিদ আহম্মেদ, ভাইস চেয়ারম্যান আইউব হোসেন মণ্ডল, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

জয়পুরহাটে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নিহত ২

অনলাইন ডেস্ক


জয়পুরহাটে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নিহত ২

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি ও কালাই উপজেলায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুইজন নিহত হয়েছেন। আজ দুপুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, পাঁচবিবি উপজেলার ভিমপুরে সুবোধ রায় নিজ বাড়িতে বিদ্যুতের সংযোগ মেরামত করছিল। অসাবধানতার কারণে বিদ্যুতের তার শরীরে স্পর্শ করলে, বৈদ্যুতিক শকে তিনি গুরুতর আহত হন। পরিবারের সদস্যরা তাৎক্ষণিক তাকে দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত সুবোধ রায় পাঁচবিবি উপজেলার ভীমপুর গ্রামের শ্রী তরনী কান্ত রায়ের ছেলে।

আরও পড়ুন:


ফুটবলে ক্যারিশমা দেখিয়ে অষ্টমবারের মতো গিনেস বুকে বাংলাদেশের ফয়সাল

ইসরায়েলের আয়রন ডোমের জন্য ১০০ কোটি ডলার দেবে যুক্তরাষ্ট্র

বিশ্বব্যাপী স্থিতিশীল খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

সাত ঘণ্টা বৈঠক শেষ যা বললেন মির্জা ফখরুল!


এদিকে গোলাম আজম নামে এক নির্মাণ শ্রমিক কালাই উপজেলার ঝামুটপুর গ্রামের সামিউল ইসলামের নির্মাণাধীন ভবনে নির্মাণ শ্রমিক হিসাবে কাজ করছিলেন। এ সময় অসাবধানতাবশত নির্মাণাধীন ভবনের বৈদ্যুতিক সংযোগকৃত ছেঁড়া তারের সঙ্গে জড়িয়ে গুরুতর আহত হন গোলাম আজম। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কালাই উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নেয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পাঁচবিবি থানার ওসি পলাশ চন্দ্র দেব ও কালাই থানার ওসি সেলিম মালিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

নরসিংদীতে ১২ হাজার দুস্থ পরিবারের পাশে মজিদ মোল্লা ফাউন্ডেশন

মো. হৃদয় খান, নরসিংদী:

নরসিংদীতে ১২ হাজার দুস্থ পরিবারের পাশে মজিদ মোল্লা ফাউন্ডেশন

নরসিংদীর মনোহরদীতে ১২ হাজার অসহায়, দুস্থ পরিবারের মাঝে এক বস্তা করে চাল সরবরাহ করেছে মজিদ মোল্লা ফাউন্ডেশন। এ সময় চালের বস্তার পাশাপাশি প্রত্যেক পরিবারের জন্য ৪ টি করে মাস্ক ও যাতায়ত ভাড়া বাবদ দুইশত করে নগদ টাকা প্রদান করা হয়। 

আজ শুক্রবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার মনোহরদী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এই বিতরণকার্য অনুষ্ঠানের উদ্ধোধন করা হয়।

মজিদ মোল্লা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও থার্মেক্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল কাদির মোল্লার আয়োজনে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, শিল্পমন্ত্রী এ্যাডভোকেট নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন এমপি। সভাপতিত্ব করেন নরসিংদীর জেলা প্রশাসক আবু নইম মোহাম্মদ মারুফ খান। এছাড়া, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, নরসিংদীর পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজীম, মনোহরদী পৌরসভার মেয়র আমিনুর রশিদ সুজন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এম এ কাসেম প্রমুখ।

মজিদ মোল্লা ফাউন্ডেশনের প্রশাসনিক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, প্রত্যেক পরিবারে ২৫ কেজির এক বস্তা চাল বিতরণ কার্যক্রমের আওতায় মনোহরদীতে ২,০১৫ বস্তা, নরসিংদী সদরে ২,৫৩০ বস্তা, বেলাবতে ১,২৪০ বস্তা, রায়পুরায় ৩,৮৭৫ বস্তা, পলাশে ১,২৪০ বস্তা ও শিবপুরে ১,৫৫০ বস্তাসহ মোট ১২,৪৫০ বস্তা চাল বিতরন করা হয়। 

পাশাপাশি চাল নিতে আসা প্রত্যেক পরিবারকে যাতায়াত ভাতা বাবদ ২০০ টাকা করে মোট ২৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া, স্বাস্থ সুরক্ষার জন্য প্রত্যেক পরিবারের মধ্যে চারটি করে মাস্ক মিলিয়ে মোট ৪৯, ৮০০ মাস্ক বিতরণ করা হয়েছে। 

মজিদ মোল্লা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও থার্মেক্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল কাদির মোল্লা বলেন, আমি এই মাটির সন্তান। এখানকান মানুষের প্রতি আমি ঋনী। ইতিপূর্বে করোনার মহামারির শুরুর দিকে মজিদ মোল্লা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে নরসিংদী ১০০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেন সাপ্লাই সিষ্টেম ও হাইফো নজেল কনোলা স্থাপন করেছি আমরা। এছাড়া ওইসময় জেলার ৫০ হাজার পরিবারের মধ্যে খাদ্য সামগ্রী ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণও করেছি। আজও চেষ্টা করেছি সকলের জন্য কিছু করতে। 

চাল ও মাস্ক বিতরণ কার্যক্রমে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন এমপি বলেন, করোনাকালে  আওয়ামী লীগ সরকার জনগনের পাশে ছিল। মজিদমোল্লা ফাউন্ডেশনকে ধন্যবাদ জানাই এই মহৎ উদ্যোগ নেয়ার জন্য। আশাকরি এই সহায়তা অনাথ ও নিম্ন আয়ের মানুষদের কষ্ট একটু হলেও লাঘব করবে।

পরবর্তী খবর

সংস্কারের অভাবে বেহাল রাঙামাটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট

ফাতেমা জান্নাত মুমু, রাঙামাটি

সংস্কারের অভাবে বেহাল রাঙামাটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট

সংস্কারের অভাবে বেহাল রাঙামাটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট। করোনার জন্য দীর্ঘ দিন বন্ধ থাকায় এখন একে বারে স্থবির ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট। জরাজীর্ণ ভবনের খসে পড়ছে প্ল্যাস্টার। এরই মধ্যে ভেঙ্গে পরেছে সিলিংও। শেওলা জমে রঙ নষ্ট হয়েছে ভাস্কর্যগুলোর।

বাইরের অবস্থা ভালো হলেও ভেতরের অবস্থা একেবারে শোচনীয়। কর্তৃপক্ষের নজড়দাড়ি না থাকায় নষ্ট হচ্ছে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের সংরক্ষিত সংস্কৃতির ও ঐতিহ্য। তাই উদ্বিগ্ন সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, ১৯৭৮ সালে পার্বত্যাঞ্চলের ১০ভাষাভাষীর ১১টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও
বিকাশ সাধনের লক্ষ্যে রাঙামাটিতে উপজাতীয় সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট (বর্তমান নাম- ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট) প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০১০ সালে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন-২০১০ পাস হওয়ার পর ইনস্টিটিউট একটি সংবিধিবদ্ধ স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানে রূপ লাভ করে। আইনের আলোকে ইনস্টিটিউটের বর্তমান নাম রাঙামাটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট।

আরও পড়ুন:


চাকরিচ্যুত সংবাদিকদের কাজে ফিরিয়ে নিতে আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর

কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে এল মৃত ডলফিন

জাফরুল্লাহ এরশাদের দোসর: রিজভী

গুলশান লেকে নৌকাডুবি, যাত্রীরা সাঁতরে উঠে গেল পাড়ে


বর্তমানে তা সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনস্ত দপ্তর এবং রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের নিকট হস্তান্তরিত একটি
বিভাগ হিসাবে পরিচালিত হচ্ছে। রাঙামাটি-চট্টগ্রাম প্রধান সড়কের পাঁশে ভেদভেদী নামক স্থানে ৭.৬৫ একর জমির উপর এ ইনস্টিটিউট অবস্থিত। ইনস্টিটিউটের দু’তলা বিশিষ্ট একটি প্রশাসনিক ভবন, ত্রিতলবিশিষ্ট দৃষ্টিনন্দন একটি জাদুঘর ভবন, একটি ত্রিতলবিশিষ্ট ট্রেনিং সেন্টার কাম  আর্টিস্ট হোস্টেল ভবন এবং ২৫০ আসন বিশিষ্ট ০১টি অডিটরিয়াম রয়েছে। ইনস্টিটিউটের ৪টি শাখা রয়েছে।

শাখা গুলো হলো- প্রশাসন ও অর্থ শাখা, সংস্কৃতি শাখা, গবেষণা ও প্রকাশনা শাখা ও জাদুঘর ও লাইব্রেরি শাখা। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন-২০১০ এর ৬ এবং ৭ ধারা মোতাবেক সরকারের ইনস্টিটিউটের সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ৯ সদস্য বিশিষ্ট একটি নির্বাহী পরিষদ রয়েছে।

একটা সময় বছর জুড়ে এ ইনস্টিটিউটে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীসহ অন্যান্য সংষ্কৃতি গোষ্ঠীর বিভিন্ন আয়োজনে মাতোয়া থাকলেও এখন ভিন্ন চিত্র। করোনার জন্য দীর্ঘ দিন ধরে স্থবির। আনাগোনা কমেছে সংষ্কৃতি কর্মীদের। তাই অযত্ন-অবহেলায় পরিত্যক্ত ভবনে পরিণত হয়েছে ইনস্টিটিউট।

রাঙামাটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) রুনেল চাকমা বলেন, অডিটোরিয়ামটির ভেতরে কিছু কিছু জায়গায় সিলিং ভেঙে পরছে কথাটা সত্য।

এছাড়া আরও বেশ কিছু সমস্যা রয়েছে। বিষয়টি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অবগত করা হয়েছে। ইনস্টিটিউটে এখন আগের মতো কোনো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হচ্ছে না। তবে যখন সংস্কৃতিক প্রোগ্রাম শুরু হবে তখন শঙ্কা দেখা দেবে। তাই আপাতত অডিটোরিয়াম ভাড়া দেওয়া বন্ধ রয়েছে। তবে ইনস্টিটিউটে বন্ধ করে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি হয়নি এখনো।

রাঙামাটি জেলা পরিষদের সদস্য ও রাঙামাটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইন্সটিটিউটের আহ্বায়ক রেমলিয়ানা পাংখোয়া
বলেন, ‘অডিটোরিয়ামটি ভেঙ্গে নতুন করে সেখানে ‘অফিস কাম মাল্টিফাংসনাল ভবন’ নির্মাণ করা হবে। সে কারণে
অডিটোরিয়াম ভবনটি সংস্কার না করে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে একজন সচিব আসার কথা রয়েছে। তিনি এসে পরিদর্শন করার পর পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

news24bd.tv তৌহিদ

পরবর্তী খবর