দারাশিকো ভাইকে বাঁচানোর কোন চেষ্টাই করেননি
দারাশিকো ভাইকে বাঁচানোর কোন চেষ্টাই করেননি

শান্তা আনোয়ার

দারাশিকো ভাইকে বাঁচানোর কোন চেষ্টাই করেননি

Other

১৫ বছর বয়সী শাহজাদা আওরঙ্গজেব (পরে মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেব আলমগীর) সুধাকর নামে একটি যুদ্ধ হাতির মুখোমুখি হয়ে সেই হাতির সাথে বর্শা নিয়ে একাই যুদ্ধ করেছিলেন।

মুঘল সম্রাট শাহজাহান তার জেষ্ঠ্য পুত্র দারা শিকোর বিয়ের একদিন পর, বিনোদনের উদ্দেশ্যে, তিনি দুইটি হাতির মধ্যে প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন। দুই হাতির একটার নাম ছিলো সুধাকর এবং আরেকটার নাম সুরত সুন্দর।

প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ার সাথে সাথে দর্শকরা দেখলেন যে হঠাৎ 'সুধাকর' ঘোড়ায় আসীন ১৫ বছর বয়সী যুবরাজ আওরঙ্গজেবের দিকে তেড়ে আসছে।

শাহজাদা আওরঙ্গজেব সাহসের সাথে সেই মত্ত হাতির মুখোমুখি হয়েছিলেন এবং হাতির মাথায় বর্শা ছুড়ে মেরেছিলেন। বর্শার আঘাতে  হাতিকে আরও ক্ষুব্ধ করে তুলেছিল।

হাতিটি ক্ষুব্ধ হয়ে আওরঙ্গজেবের ঘোড়াকে এত জোরে আঘাত করেছিলো যে আওরঙ্গজেব মাটিতে লুটিয়ে পড়েছিলেন।   কাছাকাছি থাকা আওরঙ্গজেবের ভাই সুজা এবং রাজা জে সিংহ শাহজাদাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু খুব কাছে থাকার পরেও দারাশিকো ভাইকে বাঁচানোর কোন চেষ্টাই করেননি।

news24bd.tv
  শিল্পীর দৃষ্টিতে সেদিনের সেই হাতির সাথে আওরংগজেবের যুদ্ধের পেইন্টিং পোষ্টের সাথে যুক্ত করে দিলাম।

২৮ মে ১৬৩৩ সালে আওরঙ্গজেব অল্পের জন্য হাতির পায়ের নিচে পদদলিত হয়ে মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে যান। তিনি অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে উন্মত্ত হাতিটির মোকাবেলা করেছিলেন। তার এই সাহসিকতায় সম্রাট অত্যন্ত খুশি হয়ে তাকে বাহাদুর খেতাবে ভূষিত করে দুই লাখ রুপি পুরস্কার প্রদান করেছিলেন।
 
এই ঘটনার স্মরণে ফারসি এবং উর্দু ভাষায় পংক্তিমালার মাধ্যমে আওরঙ্গজেব বলেছিলেন।
"যদি সেদিন হাতির সাথে যুদ্ধটা আমার মধ্য দিয়ে শেষ হতো তাহলে কোন লজ্জা ছিল না।  
লজ্জা তো এমন কি কোন সাম্রাজ্যকেও ঢেকে দিতে পারে। এতে কোন অগৌরবের কিছু নেই।  
লজ্জা সেখানে যা ভাইয়েরা আমার সাথে করেছে। "

অনেকে মনে করেন, এই ঘটনাই আওরঙ্গজেব আর দারাশিকোর মধ্যে দ্বন্দ্বের মুল কারণ ছিলো।
 

news24bd.tv/এমি-জান্নাত