অধ্যাপক ড. গাজী সালেহ উদ্দিন স্মরণে আলোচনা সভা
অধ্যাপক ড. গাজী সালেহ উদ্দিন স্মরণে আলোচনা সভা

অধ্যাপক ড. গাজী সালেহ উদ্দিন স্মরণে আলোচনা সভা

Other

বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ড. গাজী সালেহ উদ্দিন স্মরণে এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সমাজতত্ত্ব একুশ ব্যাচের আয়োজনে কানাডা সময় সোমবার সকাল দশটায় এ সভা হয়।

বিশিষ্ট কলামিস্ট, উন্নয়ন গবেষক ও সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষক মো. মাহমুদ হাসানের স্বাগত বক্তব্য ও উদীচী কানাডা সংসদের সাধারণ সম্পাদক মিনারা বেগমের সঞ্চালনায় স্মরণ সভায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আজন্ম অনুসারী এই দেশপ্রেমিকের জীবন ও কর্মের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।

মরহুম গাজী সালেহ উদ্দিনের সন্তান সালেহীন তানভীর গাজী, সানজিদা শারমিন গাজী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সমাজতত্ত্ব বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক লুৎফুন্নাহার সুরমা, ড. আবু সিনা সৈয়দ তারেক, আজিম গ্রুফ অফ ইন্ডাস্ট্রিজের নির্বাহী পরিচালক আহসানুল কাদের জাহেদ, কবি ও লেখক মেরিনা সুলতানা, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী হালিম আকবর, রিফাত জাহান, টরেন্টো প্রবাসী কামরুল আলম চৌধুরী, কাজী তোফায়েল আহমেদ জুয়েল, মইনুল ইসলাম খান, অধ্যাপক হাফিজুর রশিদ, শিক্ষা কর্মকর্তা রুহুল সগীর, অ্যাডভোকেট পাপড়ী দাশগুপ্ত, ইন্দ্রাণী সেন মুন্না, রফিকুল ইসলাম রোকন সহ অনেকেই আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রয়াত শিক্ষাবিদের আলোকিত জীবনের নানা গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস ও দেশপ্রেমের ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্তসমূহ তুলে ধরেন।

সানজিদা শারমিন গাজী তাঁর পিতার স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আবেগতাড়িত হয়ে বলেন, পরিবারের প্রয়োজনে নয় চট্টগ্রাম ও দেশের প্রয়োজনে ড. গাজী সালেহ উদ্দিনের আরও কয়েকটি বছর বেঁচে থাকা বড় বেশি প্রয়োজন ছিল। এ প্রসঙ্গে তিনি চট্টগ্রামের পাহাড়তলীর বদ্যভূমির দখল হওয়া জমি পুনোরুদ্ধার, নৈতিক স্কুল প্রতিষ্ঠা ও যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে ড. গাজীর ইস্পাত-দৃঢ় অবস্থানের কারণে তাদের পরিবার কীভাবে চরম হুমকির মুখে পতিত হয়েছিল সেসব বিষয় তুলে ধরেন।

বাংলাদেশ সরকারের উপসচিব সালেহীন তানভীর গাজী বলেন, সত্য ও ন্যায়ের পথে সুদৃঢ় থেকে কীভাবে দায়িত্ব পালন করতে হয়, সেটিই পিতার কাছ থেকে পাওয়া সবচেয়ে বড় শিক্ষা। পরিবারের চরম দুঃসময়েও হাজার হাজার অচেনা শুভাকাঙ্ক্ষীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি ড. গাজীর অসমাপ্ত কাজকে সমাপ্ত করতে সকলের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।

অধ্যাপক  লুৎফুন্নাহার বলেন, শিক্ষক হিসেবে তিনি যেমন ছিলেন নিবেদিত প্রাণ, তাঁর দেশপ্রেমও ছিল মহীরুহসম। অবসর জীবনেও বিভাগের উন্নয়ন ও ছাত্রছাত্রীদের কল্যাণে কাজ করেছেন। জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে তিনি সমাজের কল্যাণেই ব্যয় করেছেন।

ড. তারেক তার প্রিয় শিক্ষকের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, ড. গাজী সালেহ উদ্দিন ছিলেন শিক্ষক সমাজের আদর্শ। একজন সম্মুখ সমরের বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন বলেই হয়তো তিনি শুধু শিক্ষকই ছিলেন না, একটি পশ্চাৎপদ সমাজ ব্যবস্থাকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য তিনি ছিলেন একজন মহান দার্শনিক।

আহসানুল কাদের জাহেদ বলেন, একজন শিক্ষক হিসেবে তিনি যেমন ছিলেন মহান, প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলায়ও তিনি ছিলেন একজন সুদক্ষ ক্রাইসিস ম্যানেজার। উপস্থিত সকলেই এই কৃতি বাঙালির অসমাপ্ত কাজকে সফল করতে পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

উল্লেখ্য চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের সাবেক ডীন, শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান অধ্যাপক ড. গাজী সালেহ উদ্দিন কোভিড-১৯এ আক্রান্ত হয়ে ৬ আগস্ট ঢাকার সিকদার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এই বীর মুক্তিযোদ্ধা ও কৃতি অধ্যাপকের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সহ দেশের বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ও ব্যক্তি গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

সম্পর্কিত খবর