পরিমনির কথিত অপরাধের পুরুষসাথীদের চেহারা উন্মোচিত হোক
পরিমনির কথিত অপরাধের পুরুষসাথীদের চেহারা উন্মোচিত হোক

পরিমনির কথিত অপরাধের পুরুষসাথীদের চেহারা উন্মোচিত হোক

Other

কোন নারীর সামান্য অপরাধে এরা চোখ কান বন্ধ করে এভাবেই ঘৃনা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এমনকি অপরাধ না করে অপরাধের শিকার হলেও এভাবেই তাকে কোনঠাসা করে। ধর্ষণের শিকার হলেও ধর্ষকের দিকে আঙ্গুল না তুলে নারীটিকে তার পোশাক, পারিবারিক পরিচয়সহ তার ঘরের(পড়বেন খাাঁচায়) বাইরে থাকার যুক্তিযুক্ততা নিয়েও প্রশ্ন করে। এভাবেই একটা যৌনবাদী, ধর্ষকামী সমাজকে আমরা পেলে পুষে লালন করি নারীর বিরুদ্ধে খড়গ ধরার জন্য।

তবে পরিমনির ইস্যুতে যা ঘটছে তা সব উদাহরনকে ছাড়িয়ে গেছে।  

আমি লজ্জিত পরিমনির উপরে ঘৃন্যতম অবিচার নিয়ে আমরা সোচ্চার হইনি। নিজেরা গা বাচিয়ে চলেছি। কিন্তু এ যেন থামছেইনা। পুরো ঘটনাতে আমি স্তব্ধ, ভীত, শংকিত। সোশাল মিডিয়াতে তাকে নিয়ে মানুষের যে যৌনবাদী কমেন্ট, গালাগালি চলছে তাতে আমার খুব ভয় হচ্ছে। এরা সংখ্যায় এতো বেশি, পিঁপড়ের দলের মত অগনিত। আমার শুধু মনে হয় আমার সন্তান সমতুল্য বোনের মেয়েরা, বন্ধুদের মেয়েরা, সবার মেয়েরা এবং আরো মেয়েরা, এমনকি আমি, আমরা সবাই, কেউ নিরাপদ নই। অপরাধের বিচারের হবেনা, বিচার হবে শুধু নারী বলে।  

পরিমনিকে যারা সোশাল মিডিয়াতে ছিড়ে খাচ্ছে তাদের মাঝে আছে  নানান বয়সের পুরুষ, এমনকি যে ছেলেটির এখনো ঠিকঠাক গোঁফ হয়নি সেও পরিমনিকে শুধু ছিবড়ে খেয়ে ফেলতে চায়। নারীরাও কম যায়না।  

পরিমনির ঘটনায় আমি অসম্ভব এক দুস্বপ্নের ঘোরের মাঝে আছি। প্রতিটি গালি, হুমকি ধামকি, মিডিয়া ট্রায়াল মনে করিয়ে দিচ্ছে আমাদের সমাজের নারীরা কতটা নিষ্পেষিত, কতটা অস্তিত্ববিহীন। পরিমনি নারী বলেই আজকে তার শরীর ও চরিত্রের ব্যবচ্ছেদ হচ্ছে, আর যারা তাকে ব্যবহার করেছে, তার সাথে প্রমোদ বিহারে গিয়েছে তারা কত সুরক্ষিত, তাদের টিকিটিও কেউ ছুঁতে পারছেনা, মিডিয়া ট্রায়ালে তাদের নিয়ে কোন আগ্রহ নেই। উল্টো পুলিশ ঘোষনা দিয়ে আশ্বস্ত করছে তাদের নাম প্রকাশ করা হবেনা।

বাহ! কি গর্ব আমাদের! আমাদের দেশে রাজনীতিতে, ব্যবসায়, কর্পোরেশন, বিভিন্ন পেশায় নারীর অনেক ক্ষমতায়ন হয়েছে। এই তার নমুনা। তাই যদি হতো, তাহলে এদের লজ্জা হয়না কেন? আমারতো লজ্জা, রাগে, ক্ষোভে মাথা ফেটে যাচ্ছে। অথচ এরা যৌননিপীড়নকারী পুরুষের সাথে নিজেদের কোন পার্থক্য তৈরী করতে পারেনা।  

সোশাল মিডিয়া ট্রায়ালের প্রতিটি নায়ক এক একটা পটেনশিয়াল যৌন নিপীড়ক, এরাই বেশ্যাদের সম্ভাব্য খদ্দের। আর এদের আস্ফালন দেখলে মনেই হয়না এদেশে বেচে থাকার কোন অধিকার আছে নারীদের।

পরিমনির প্রতি বিশেষ অবিচার বন্ধ হোক, পরিমনির কথিত অপরাধের পুরুষসাথীদের চেহারা উন্মোচিত হোক, পরিমনির তথাকথিত অপরাধের চাইতে ঐসব ক্ষমতাবান পুরুষদের অপরাধ বেশি হওয়ার কথা। সে ব্যাপারে তদন্ত হোক। পক্ষপাতবিহীন আইনী প্রক্রিয়ায় তার ন্যায্য  অধিকার নিশ্চিত করা হোক।  

আজ আদালতে পরিমনির পিতৃমাতৃ সমতুল্য বৃদ্ধ নানা এসেছিলেন তার আইনী লড়াইয়ে শামিল হতে। তার প্রতিও যারা ট্রল করেছে তাদের প্রতি ধিক্কার জানাই।  

(মত-ভিন্নমত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়। )

news24bd.tv/আলী